অনিরুদ্ধ বসু
দিলওয়ান সিং নেটে সেদিনের ব্যাঙ্গালুরু-চেন্নাই ফ্লাইট রেকর্ড চেক করছিল। ইন্ডিগোর সব প্যাসেঞ্জারের নাম। বোর্ডিং পাস কী ভাবে ইশুড। সিনিয়র অফিসার-অন-ডিউটি নায়ারের সঙ্গে লিস্টটা কম্পিউটারে ত্রুস ভেরিফাই করছে। চিফ সেত্রেুটারির ছেলের ডেথ বলে কথা। ইন্ডিগোও যথাসম্ভব সাহায্য করছে।
নায়ার হঠাৎ বলল “স্যার, জাস্ট লুক হিয়ার”
মোবাইলে কথা বলছিল। নায়ারের কথায় ‘টক টু ইউ লেটার’ বলে ফোন কেটে দিল। নায়ার স্ক্রিনে পয়েন্টারটা নিয়ে বলল “দ্য ব্যাঙ্গালুরু-চেন্নাই আফটারনুন ফ্লাইট অ্যান্ড চেন্নাই-ব্যাঙ্গালুরু ইভিনিং ফ্লাইট হ্যাস এ কমন নেম”
ঠিক ধরেছে নায়ার। দুপুরে একজন ব্যাঙ্গালুরু থেকে চেন্নাই এসেছে। আবার সেদিন সন্ধেবেলাই চেন্নাই থেকে ব্যাঙ্গালুরু ফেরত চলে গেছে। কে? নামটা দেখল। বাঙালি - শঙ্খমালা মুখার্জি। এই কী সেই মহিলা যার কথা জয়ন্ত রাজা বলছিল? চান্স বেশি। যে টাইমে মহিলা লেডি ফ্লোরেন্স হসপিট্যালে ট্যক্সি নিয়ে এসেছে, সেটা ফ্লাইট ল্যান্ডের দেড়-ঘণ্টা পর। মিলে যাচ্ছে। ভিসিটিং আওয়ার্সের একঘণ্টা পর ফ্লাইটে ব্যাঙ্গালুরু। তাহলে কী এই শঙ্খমালা মুখার্জি ইনসুলিন পুশ করার জন্যই ব্যাঙ্গালুরু থেকে চেন্নাই এসেছিল? একটু আলো দেখছে। দুটো বোর্ডিং পাস ইন্টারনেট থেকে প্রিন্ট, ব্যাঙ্গালুরু থেকে। আইপি অ্যাড্রেস থেকে খুঁজে বার করতে হবে, কোত্থেকে? এই মহিলা ব্যাঙ্গালুরু থেকে আসার আগেই রির্টান জার্নি প্ল্যান করে এসেছে। ওয়েল ক্যালকুলেটেড। এই সেই মহিলা যার কথা জয়ন্ত রাজা বলছিল। লোকটাকে পাগল মনে করলেও ওর সব কথা উড়িয়ে দেওয়ার নয়।
“ক্যান ইউ কনফার্ম হোয়ার দ্য বুকিং ওয়াজ ফ্রম?”
“জাস্ট এ মিনিট স্যার”
নায়ার যখন বুকিং ডিটেলস চেক করছে, দিলওয়ান সিং ভাবছে কীভাবে শঙ্খমালার হদিস বার করবে? বুকিং ডিটেলসে তো থাকার কথা।
কিছুক্ষণ পর নায়ার বলল “স্যার, গট ইট। দ্য বুকিং ওয়াজ ফ্রম ডেলহি আইপি অ্যাড্রেস”
দিল্লি থেকে কেন? শঙ্খমালা মুখার্জি ফ্লাই করল ব্যাঙ্গালুরু থেকে। বুকিং হল দিল্লি থেকে! গড়বড় ঠেকছে। খুঁটিয়ে দেখার জন্য দিলওয়ান সিং আইপি অ্যাড্রেসটা নিল। পরে হদিস বের করতে হবে কেন দিল্লি থেকে ফ্লাইটের বুকিং।
“ইজ দ্য অ্যাড্রেস অফ শঙ্খমালা মুখার্জি দেয়ার?”
“ইয়েস। প্লিজ মেক এ নোট অফ ইট”
ব্যাঙ্গালুরুর ঠিকানা লিখে নিল। ত্রুস ভেরিফাই করতে হবে। উঠতে যাচ্ছিল। কী মনে হতে “ওয়াজ দ্য বুকিং ডান বাই কার্ড?”
“ইয়েস। ত্রেুডিট কার্ড”
“ইন হুস নেম?”
“মেহুলি রায়”
নামটা চেনা চেনা। এই কী খুনের আসল পান্ডা? উঠে পড়ল। একটা দিক পাচ্ছে। ব্যাঙ্গালুরুতে গিয়ে শঙ্খমালা মুখার্জিকে খুঁজে বার করতে হবে। জয়ন্ত রাজাকে খুঁজে বার করার জন্য লর্ড ভেঙ্কটেশ্বরকে ধন্যবাদ জানাল। যদি এই খুনের ঠিকানা লাগাতে পারে, ডবল প্রোমোশন কে আটকায়? অফিসে ফিরে এসি ঘরে ভাবছিল, ইনসুলিন দিয়ে খুন। ডাক্তার ছাড়া আর কার জানা সম্ভব? শঙ্খমালা মুখার্জি কি ডাক্তার? নাকি মেহুলি রায়? ফেরার পথে, জয়ন্ত রাজাকে ট্যাপ করলে যদি আরও নতুন হদিস মেলে...
জয়ন্ত রাজা বাসে উঠতে যাচ্ছিল। দিলওয়ানকে দেখে বলল “ইউ এগেন? ফরগট টু আস্ক ইউ হু আর ইউ?”
“ডোন্ট টেক দ্য বাস। আই উইল ড্রপ ইউ ইন মাই কার। আই অ্যাম দিলওয়ান সিং। অ্যাডিশনাল কমিশনার অফ পুলিস”
ঘাবড়ে গেল জয়ন্ত রাজা “হোয়াট রং হ্যাভ আই ডান? ইউ ওন্ট পুট মি টু প্রিজন, উইল ইউ?”
দিলওয়ান হেসে উঠল “নট অ্যাট অল। আই উইল ড্রপ ইউ ব্যাক হোম। জাস্ট হপ ইন মাই কার। ইউ হ্যাভ ডান মি এ গ্রেট ফেভার”
গাড়িতে বসে রাজা এদিক-ওদিক চাইছিল। একটা ওষুধের দোকান দেখে হঠাৎ বলে উঠল “অলমোস্ট ফরগট। আই ফাউন্ড দ্য রিসিট। আই হ্যাড নট থ্রোন ইট আওয়ে”
“হোয়ার ইজ ইট?” দিলওয়ান উৎসাহিত।
“অ্যাট হোম”
“হোয়েন আই ড্রপ ইউ, উইল ইউ গিভ ইট টু মি?”
“সিওর” মাথা নাড়ল জয়ন্ত রাজা।
জয়ন্ত রাজার বাড়িতে গাড়ি থেকে নামিয়ে চলে গেল না। উঠে এল তার দু-কামরার ফ্ল্যাটে। দুটো ঘরই অগোছালো। চারিদিকে কাগজের স্তূপ। একটা মোড়া টেনে বসল “ক্যান ইউ গিভ মি দ্য রিসিট?”
“লেট মি সি”
কাগজের স্তূপ তন্ন তন্ন করে খুঁজছে। দিলওয়ান চুপচাপ বসে ভাবছে, যদি পেয়ে যায়, অনেক তথ্য বার করতে পারবে রিসিটের ফার্মেসি নেম থেকে। প্রায় পনেরো মিনিট পর বিনে খুঁজে পেল “হিয়ার ইট ইজ”
দিলওয়ান দেখল ব্যাঙ্গালুরুর ফার্মেসির রিসিট। ক্যাশ ফার্মেসি, রেসিডেন্সি রোড, ব্যাঙ্গালুরু। পার্সে ঢুকিয়ে বলল “ইউ ডোন্ট নো হোয়াট হেল্প ইউ হ্যাভ ডান ফর মি। হোয়াট ক্যান আই ডু ফর ইউ?”
কান্নায় ভেঙে পড়ল “নাথিং। নোবডি ক্যান। ক্যান ইউ রিটার্ন মাই ওয়াইফ?”
দিলওয়ানের অনেক কিছুই জানা। এ প্রশ্নের উত্তর জানা নেই। জয়ন্ত রাজার পাশে বসে সান্ত্বনা দেওয়া ছাড়া।
চেন্নাই থেকে ব্যাঙ্গালুরুর ফ্লাইটে যেতে প্রফুল্লতা। পকেটে ক্যাশ ফার্মেসির রিসিট। ডায়েরিতে শঙ্খমালা মুখার্জির নাম, ঠিকানা, এমনকী বোর্ডিং পাস প্রিন্ট করা কমপিউটার থেকে আইপি রিসিট। এবার শুধু শঙ্খমালা মুখার্জিকে রাউন্ড আপ। কেল্লা ফতে।
আইপিএস পাশের পর দিল্লির ছেলে হয়েও, তামিলনাডু ক্যাডারে নাম লিখিয়েছিল। দিল্লিতে এত আমলা, উঁচু ক্যাচ। দিলওয়ান বারখাড়ার খুব সাধারণ পরিবারের। বুঝতে অসুবিধা হয়নি এসব রথী-মহারথীদের সঙ্গে কখনও পাল্লা দিতে পারবে না দৌড়ের মাঠে। যদিও বারখাড়াতে আদি বাসস্থান, বাবার চাকরির সূত্রে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় লেখাপড়া, বড় হওয়া। দিল্লিতে খুব একটা বন্ধু-বান্ধব যে ছিল, তাও নয়। তাই দিল্লিও যা, তামিলনাডুও তাই। প্রমোশনের জন্য অবনীকান্ত এর নামও ঝুলছে। যদিও এক্সপিরিয়েন্সের দিক থেকে দুজনেই এক স্থানে - একই আইপিএস ব্যাচ, একই সঙ্গে চাকরিতে জয়েন। শেষ ডিসিশন সিএম-এর। চিফ সেত্রুটারির ছেলের মৃত্যুরহস্যটা বার করতে পারলে, চিফ সেত্রেুটারি রঙ্গনাথন যে তার নাম কমিশনার অফ পুলিসের জন্য সুপারিশ করবেন, সেটা আন্দাজ করা মুস্কিল নয়।
ব্যাঙ্গালুরুর অ্যাডিশনাল কমিশনার অফ পুলিস কান্নন এয়ারপোর্টে রিসিভ করতে এসে হাত বাড়াল “ওয়েলকাম টু ব্যাঙ্গালুরু। আই উইল ট্রাই টু হেল্প ইউ অ্যাজ মাচ অ্যাজ আই ক্যান”
গাড়িতে ওঠার আগে কান্ননকে বোর্ডিং পাশ বুকিংয়ের প্রিন্ট আউটটা দিয়ে বলল “কুড ইউ আস্ক ওয়ান অফ ইওর অফিসার্স টু ট্রেস দিস আইপি অ্যাড্রেস ইন ডেলহি?”
ফোনে কথা বলে অ্যাড্রেসটা দিল “ডান। হোয়ার ডু ইউ ওয়ান্ট টু গো?”
শঙ্খমালা মুখার্জির ঠিকানাটা দিয়ে বলল “হিয়ার”
এত বছর ব্যাঙ্গালুরুতে। কান্নান মনে করতে পারল না ওই নামের কোনও রাস্তা আছে কি না। ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করল। সেও মাথা নাড়ল। দিলওয়ানকে বলল “আর ইউ সিওর ইউ হ্যাভ দ্য কারেক্ট অ্যাড্রেস?”
“পসিটিভ। দিস ইজ অ্যাজ ইটস ডকুমেন্টেড ইন দ্য ইন্ডিগো বুকিং লগ। হিয়ার ইজ দ্য প্রিন্ট আউট। লুক...”
“হোয়ার ওয়াজ দ্য বুকিং ফ্রম?”
“ডেলহি। দ্যাটস হোয়াই আই আস্কড ইউ টু গেট ওয়ান অফ ইওর অফিসার্স টু ট্রেস দ্য আইপি অ্যাড্রেস”
“আই থিংক দে হ্যাভ মেড এ মিস্টেক। নট টু মাই নলেজ। নেভার দ্য লেস, উইল আস্ক মাই ডির্পাটমেন্ট টু ফাইন্ড আউট” আবার মোবাইলে ইন্সট্রাকশন “এনি আদার ক্লু?”
“আই হ্যাভ এ রিসিট অফ ক্যাশ ফার্মেসি”
“দ্যাটস মোর ডাউন টু আর্থ। ইটজ ইন রেসিডেন্সি রোড”
ক্যাশ ফার্মেসি, ব্যঙ্গলুরুর নামকরা ওষুধের দোকান। রেসিডেন্সি রোডের এই ফার্মেসি ক্যাশ নামক এক সাহেব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তারপর এমএন মহাদেবন তার স্বত্ব কিনে নেয়। এখন মনুমেন্টের মতো দাঁড়িয়ে। ২৫০০ স্কোয়ার ফিট বিস্তৃতি। শঙ্খমালা মুখার্জির ব্যাগ থেকে পড়া প্রেসক্রিপশনটা এখানকার। কান্নান ম্যানেজারকে জিজ্ঞেস করতে কম্পিউটার রেকর্ডস খুঁজতে বসল। শঙ্খমালা মুখার্জির নামে ইনসুলিন কেনার ইতিবৃত্ত আছে। ঠিকানাও ওই ফ্লাইট বুকিং অ্যাড্রেসের। যার অস্তিত্ব অজানা।
“ইস দেয়ার হার ফোন নম্বর?”
ম্যানেজার রেকর্ড দেখে বলল “নো”
ব্যাপারটা পরিষ্কার। যে খুন করিয়েছে সে কি ঠিক নাম ঠিকানা দিয়ে সূত্র রাখবে? এতটা বোকা ভাবা ভুল। ওষুধ দিয়ে যখন খুন।
“হু প্রেসক্রাইবড?”
“এ প্লাস্টিক সার্জেন নেমড আশিস ব্যানার্জি ফ্রম ক্যলকাটা”
মাথায় ঘুরছিলই ইনসুলিন দিয়ে খুনে ডাক্তারের হাত। এখন সূত্র পেয়েছে। কিন্তু প্লাস্টিক সার্জেন ইনসুলিনের প্রেসক্রিপশন লিখেছে কেন? তবে কী সে জড়িত? দিল্লি থেকে বুকিং, কলকাতার প্রেসক্রিপশন, ব্যাঙ্গালুরু থেকে ওষুধ কেনা আর চেন্নাইতে খুন! এ কোন চত্রু? যেমন মাথায় ঘুরছিল দিল্লি থেকে বুকিং কেন, আবারও মাথায় কলকাতা থেকে প্রেসক্রিপশন কেন? দিলওয়ানের মাথায় ঢুকছে না। এটা কোনও ইনডিভিজুয়াল খুন নয়। বিরাট কোনও চত্রেুর অংশবিশেষ।
কী সেই চত্রু?
চত্রেুর ভেতরে প্রবেশ করতে গেলে এই অংশের নায়িকা শঙ্খমালা মুখার্জিকে যে করেই হোক খুঁজে বার করতে হবে। নামটা যে ঠিক নয়, সেটা সুনিশ্চিত। বুঝতে পারছে না কী করে কর্পূরের মতো মিলিয়ে যাওয়া শঙ্খমালা মুখার্জিকে খুঁজে বার করবে? একমাত্র ওই ডাক্তারই তার সূত্র। মানে ইনভেস্টিগেশনের সূত্র কলকাতায়।
কান্নান ততক্ষণে কিছুটা খোঁজ করে ফেলেছে। দিলওয়ানকে বলল “ইউ সিম টু বি চেসিং এ ফলস ট্রেল। উই নো দ্য নেম অ্যান্ড অ্যাড্রেস হ্যাস বিন কনকর্টেড। বাট দ্য ডেলহি বুকিং ইস ফ্রম অ্যান ইন্টারনেট কাফে”
“ওহঃ মাই গস!”
“টু অ্যাড টু ইওর ফলস ট্রেলস উই হ্যাভ চেকড আউট দ্য ত্রেুডিট কার্ড ডিটেলস। ইট ইজ মেহুলি রায়, দ্যাটস হোয়াট ইউ সেইড। ইজন্ট ইট? দিস লেডি লিভস ইন ব্যান্ড্রা রিক্লেমেশন এরিয়া অফ মুম্বাই। হিয়ার ইজ হার অ্যাড্রেস। সি হ্যাস বিন ইস্যুড দ্য কার্ড উইথ মডেলিং অ্যাজ হার প্রফেশন”
দিলওয়ান সূত্র একত্রিত করে বুঝেছে এটা একজনের খেলা নয়। যদি বা শঙ্খমালা মুখার্জি নামে কোনও মহিলা লেডি ফ্লরেন্স হাসপাতালে গিয়ে ইনসুলিন পুশ করেও থাকে, সে শুধু এই চত্রেুর অংশীদার মাত্র। পান্ডা কে? মেহুলি রায়? এখন তো শুধু দুটো সূত্রই পড়ে। ডাঃ আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় আর মেহুলি রায়। দুটোকে ধরেই এগোতে হবে।
হায় রে! যদি সে জানত মেহুলি রায় অলরেডি মৃত, প্রোমোশনের শেষ আশাটুকুও যা অন্ধকারে ফ্ল্যাশের মতো জ্বলে উঠেছিল, নিভে যেতে মুহূর্তও লাগত না।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইনএই বইয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
পড়া চালিয়ে যেতে নিশ্চিত করুন যে আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি।