অনিরুদ্ধ বসু
দু-বছর পর...
ইন্দ্রাক্ষি রায়চৌধুরীকে কারাদণ্ড দিল দিল্লি হাই কোর্ট আন্দ্রেয়া গুলাটিকে ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডারের জন্য এবং সাত মাস ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অন্য বিরলের থেকেও বিরলতম খুনের পরিকল্পনা কার্যকরী করায়। ইন্দ্রাক্ষি ওর উকিল অঞ্জন মিত্রকে সুপ্রিম কোর্টে অ্যাপিল করতে বলল। সে এখনও বিশ্বাস করে, তার চিন্তা, দর্শনের ব্যাবহারিক প্রয়োগে।
ডাঃ আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে দশখানা খুনের পরিকল্পনা কার্যকরী করার জন্য ১০ বছরের ক্ষমাহীন রিগারাস ইমপ্রিজনমেন্ট। ওর ক্লিনিক বন্ধ করে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে নেওয়া হল। ক্লিনিক থাকলেও পেশেন্ট তো আসত না।
অতীন রায়ের ইন্দ্রাক্ষি রায়চৌধুরী ও ডাঃ আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাহায্য করার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। যেহেতু সে অ্যাবেটার, তার ভবিষ্যৎ কার্যকলাপের কথা মাথায় রেখে মহামান্য জজ সাহেব ক্ষমার প্রভিশন রাখলেন।
তার জন্মভিটে মথুরার কাছে গণ্ডগ্রামে লুকিয়ে থাকা রাজু চতুর্বেদীকে পাঁচ মাস পর গ্রেপ্তার করা গেল। ওকেও ভওয়ানিশঙ্করকে খুনের দায় ও অন্যান্য ন-খানা খুনের পরিকল্পনার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হল, শাস্তিতে কোনও ছাড়ের প্রভিশন না রেখে।
রাজু চতুর্বেদীর বয়ানের ভিত্তিতে দিলীপ ‘ধমাকা’ কাম্বলের কেস এখনও চলছে।
রিপাবলিক ডেতে পুলিসদের এক্সেমপ্লারি সার্ভিসের জন্য সম্মানিত করে মেডেল দেওয়া হলঃ
মধুসূদন মুখুজ্জে
স্নেহাশিস চ্যাটার্জি
দিলওয়ান সিং
বিনোদ রাঠোড
মধুসূদন এখন তৃপ্ত রিটায়ার্ড পুলিস। চিনি আর বিস্কুটে গিন্নির কোনও কার্পণ্য নেই।
ইন্দ্রাক্ষির ‘দ্য নিউ এজ ইনস্টিটিউট অফ ত্রিুয়েটিভিটি অ্যান্ড হিউম্যান পোটেনশিয়াল’ তামিলনড়ুর চিফ মিনিস্টারের হস্তক্ষেপে আর বাস্তবের আলো দেখল না। নেগেটিভ পাবলিসিটি পলিটিক্সের পক্ষে ক্ষতিকারক।
দ্য নিউ এজের রেজিস্টার অফ কোম্পানিজ থেকে নাম কেটে, খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়ে, তার বিভিন্ন শাখা বন্ধ করে দেওয়া হল। কর্মীদের পরিবার দুঃখ পেলেও আইনকে সম্মান দিয়ে মেনে নিল। ন্যায়বিচার শেষ পর্যন্ত হয়েছে।
সন্নিধি সুস্থ। ভুলতে চায় অতীতকে।
শিরিন এখনও মডেলিং করে যাচ্ছে, স্নেহাশিসের প্রতি ফল্গু প্রেম নিয়ে।
অ্যামেরিকাতে ঐত্রেয়ী এক বছরের ফুটফুটে মেয়ে নিয়ে ঘর-সংসার করছে।
শেষে...
মেহুলি রায়, সোহম সান্যাল, সোফি চৌধুরী, অঙ্কুর জয়েসোয়াল, শিবানী করঞ্জওয়ালা, সুনেত্রা আগারওয়াল, নীলকান্থ রঙ্গনাথন, পৌরভি কান্নান, লোকেশ চাঢার অতৃপ্ত আত্মা হয়ত ঘুরে বেড়াচ্ছে স্বপ্নের আঁধারে।
মজফফরনগরের দীপা আর মির্জাপুরের ঝিমলির আত্মা বোধহয় শান্তি পেয়েছে।

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইনএই বইয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
পড়া চালিয়ে যেতে নিশ্চিত করুন যে আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি।