অনিরুদ্ধ বসু
তখনও ভালো করে ভোরের আলো ফোটেনি। ভোরের কুয়াশা প্রথম আলোর অপেক্ষায়। মুম্বাই আরও কিছুক্ষণ মিঠে আমেজে আরেকটু ঘুমিয়ে নিচ্ছে। রোদ উঠলেই অসহ্য গুমোট। তার থেকে পরিত্রাণের জন্য শিরিন আধো ঘুমে পাশে শোয়া স্নেহাশিসকে জড়িয়ে ধরল। মোবাইলের আওয়াজে সেই রেশটা কেটে গেল। সাইড টেবল থেকে মোবাইলে নাম দেখে তিড়িং করে লাফিয়ে বিবস্ত্র শিরিন ছুটে গেল পাশের ঘরে। ছিটকিনিটা বন্ধ করে দিল। এত সকালে? দুরু দুরু বুকে সবুজ বোতাম টিপল।
“ও পোলিস অফিসার অভি তক তুমহারে ঘর মে কেয়া কর রহে হৈ? ইনভেস্টিগেশন ইয়া গুলছড়ি?” চতুর্বেদীর ধমকে বুক কেঁপে উঠল। স্বরে মদ্যপানের জড়তা থাকলেও দৃঢ়তা। সত্যি তো। সাত দিনের জন্য এসেছিল মেহুলির মৃত্যুর তদেন্তে। সুনেত্রা আগারওয়ালের মৃত্যুতে ঠেকেছে চৌদ্দ দিনে। সাত দিন ছুটি নিয়েছিল। আবার কাজে বেরতে হচ্ছে। তাতে অবশ্য স্নেহাশিসের কোনও অসুবিধা নেই। যদিও ওকে ডুপ্লিকেট কি দেওয়া আছে, বেশিরভাগ সময় বাইরে। ফেরে সন্ধ্যায় বা রাতে। ওর উপস্থিতিতে লেট নাইট পার্টিগুলো বাদ। আরও কাজের ঢলাঢলি বন্ধ। বাড়তি কনট্র্যাক্টগুলো হাতছাড়া। রাতের আসরেই ওগুলো আসে। চতুর্বেদীর সঙ্গেও দেখা হচ্ছে না। তাই বোধহয় ভোর রাতে চতুর্বেদী। একা দেখা করতে চায় না। কে জানে? পেছনে আবার পুলিসের খোচর ঘুরছে কি না? পার্টির হুল্লোড়ে কথা বলে নেওয়া সহজ।
তন্দ্রা ভাঙা গলায় নিচুস্বরে চতুর্বেদীকে শান্ত করতে বলল “গুলছড়ি কেও মানাউঙ্গা চতুর্বেদীজি? ঘর মে মেহমান, তো জানে কৈসে বোলে? পুলিস অফিসার্স কোয়াটারমে ঠহরেগা। উসে জাদা সক”
যুক্তিটা বুঝল চতুর্বেদী। নরম হয়ে বলল “জইসে হো উসকো বাঙ্গাল লউটা দো। মুঝে সিরফ মালুম করনা থা মেরা সাথ মেহুলি কা তালুককে বারে কেয়া জানতা? হো গয়া। অব উসে ইধর জরুরত নেহি”
“ন যায় তো কেয়া করু?”
“রঙ্গালি মানানা তো ঔর কভি। টিকিট ভেজ দেতা। উসে লেকর বাঙ্গাল চলা যাও কুছ দিনোকে লিয়ে”
“ইধরকা কাম...” শিরিন বোঝাবার চেষ্টা করল।
“তুমহে ভওয়ানিশঙ্করজি বুলায়া”
ভওয়ানিশঙ্করের নামটা অচেনা নয়। তবে সাক্ষাৎ হয়নি। শুনেছে পুনের রাস্তায় একটা আশ্রম। গোঁড়া মুসলমান পরিবারের হয়েও সাবেকি ইসলামিক প্রথায় কখনও চলেনি। মুম্বাইতে এসে তো সব প্রথারই বিসর্জন সাপ-লুডোর খেলায়। জীবনযাত্রায় ভোগ-বিলাসিতা থাকলেও, আধ্যাত্মিকতার আশেপাশেও যায়নি। সে বয়সও হয়নি। ভওয়ানিশঙ্করের নাম শুনলেও ওখানে যাওয়ার তাগিদ অনুভব করেনি।
তাকে ডেকেছে শুনে আশ্চর্য “মুঝে কেও?”
ইন্ডাস্ট্রিতে অনেকেই যায়। কেন? প্রশ্নের উত্তর খোঁজেনি। যার যেখানে শান্তি।
“ম্যায় নেহি জানে। বাবাজি তুমহে ইয়াদ কিয়া”
ইতস্তত করছিল কী করবে? ভোরে চতুর্বেদীর ফোন পেয়ে মনে হচ্ছে ব্যাপারটা সিরিয়াস। চতুর্বেদীকে চটালে মুম্বাইতে করে খেতে হবে না।
“আপ জো বোলে”
“শুটিং সিডিউল মে ফুরসত মিলে তো ফোন কর দেনা। ম্যায় লে যাউঙ্গা। জিতনা জলদি হো সকে। আউটডোর শুটিংকে বাহানা দিখা কর পুলিসকো লৌটা দে জলদি”
লাল বোতাম টিপে ফোনটা কেটে দিল। বিবস্ত্র শিরিন বিছানায় বসে, খাটের ওদিকে আয়নায় ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে। সব কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে। ঘুমভাঙা মাথাটা ঠিক কাজ করছে না। জানলা দিয়ে ভেসে আসা ভোরের আলো। আয়নায় দেখল সুঠাম দেহকে নানা মেক-আপ লাগিয়ে, নতুন রূপে পেশ করছে কম্পিটিটিভ ইন্ডাস্ট্রিতে। নাম পেয়েছে। টাকা আসছে। তবুও সব-ই কৃত্রিম। মানুষ নেই। এত বছর পর যৌবনের না-পাওয়া আকাঙ্ক্ষা এত কাছে। এই মুহূর্তটাকেও সর্বগ্রাসী অজগর গিলতে চাইছে। এর নাম বুঝি জীবন? মন যা চায়, সমাজ চায় না। মনকে বাক্সবন্দি করে তালে তাল মেলানো, টিকে থাকা? ছিটকিনিটা খুলে দিল। স্নেহাশিস জাগলে অন্য কিছু ভাবতে পারে। যদিও খাটেই শুয়ে রইল। বারবার প্রশ্নের উঁকিঝুকি। উত্তর পায়নি। খোঁজার প্রয়োজনও বোধ করেনি। মেহুলির মৃত্যুর ব্যাপারে চতুর্বেদীর এত আগ্রহ কেন? চতুর্বেদী কী এর সঙ্গে জড়িয়ে?
স্নেহাশিস আধো ঘুমে হাতটা পাশে ফেলতেই বালিশটা ফাঁকা ঠেকল। পাশের বিছানা ফাঁকা। শিরিন নেই। হয়ত বাথরুমে বা রান্নাঘরে। সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে হিসেব মেলাবার চেষ্টা। মধুসূদন মুখুজ্জে ছবিটা ফ্যাক্স করে পাঠিয়েছে। আধছেঁড়া ছবি আর সুনেত্রার কম্পিউটারের ছবির মধ্যে সামঞ্জস্য আছে। কম্পিউটার এক্সপার্ট কম্পিউটার গ্রাফিক্সে সুপার ইমপোজ করে সেই মতামত দিয়েছে। লম্বাটে মুখ। পরিষ্কার কামানো গাল। চোখের মধ্যে নমনীয় রুক্ষতা। কে এই লোকটি? এই কী সে, যাকে স্নেহাশিস স্যনট্রো গাড়ি নিয়ে বেরতে দেখেছে? মুম্বাই পুলিসের চিত্রকার, কম্পপ্লেক্সের সিকিউরিটি গার্ডের বিবরণ নিয়ে ছবি আঁকবে কনফার্ম করতে। মেহুলি আর সুনেত্রার মধ্যে যোগসূত্র। মৃত্যুর, না মুম্বাইয়ের? না কী মৃত্যুর পেছনের মোটিভ? মেহুলি মুম্বাইয়ের উঠতি মডেলদের অন্যতম। ব্যান্ড্রা রিক্লেমেশনে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। সেই তুলনায় সুনেত্রা অত্যন্ত সাধারণ চাকুরে। মা উমাশশীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেছিল। পরপর দুটো মৃত্যু। বছর খানেক আগে স্বামী বিপিনের। তারপর একমাত্র মেয়ে মেহুলির। শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি প্রৌঢ়া। বিশেষ ফল মেলেনি।
মধুসূদন মুখুজ্জে রেকর্ড-কিপার অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিস কমিশনার হলেও পরিতোষ সেনকে দিয়ে অনেক তথ্য বার করে পাঠিয়েছে। অনাড়ম্বর সুনেত্রার অনেক তথ্য। সুনেত্রারা আগে শিয়ালদহ চত্বরে থাকলেও বড় হয়েছে কাঁকুরগাছির মধ্যবিত্ত রক্ষণশীল শিক্ষিত মারোয়ারি পরিবারে। বাবা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের দোরগোড়ায় না পৌঁছলেও, শেয়ার মার্কেটের ব্যাবসায় পারিবারিক সচ্ছল। কাঁকুড়গাছিতে ফ্ল্যাট কিনতেও সক্ষম। তখন সুনেত্রার মাত্র ছ-বছর বয়েস। বৌবাজারের লরেটো থেকে সায়েন্স কলেজ। শিক্ষার আলো দেখার সৌভাগ্য হয়নি বলে, ছেলে ও মেয়েকে উচ্চশিক্ষায় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তার ফল কেমেস্ট্রিতে মাস্টার্স। সুনেত্রা ঐত্রেয়ী যখন কেমেস্ট্রিতে মাস্টার্স করছে, সোহম মিলন তখন ফিজিক্সে। দুটি যুবক, দুই যুবতী।
গল্পটা সাদামাটা হতেই পারত। জীবনের অঙ্ক তো অত সহজ নয়। সুনেত্রা ভালোবেসে ফেলল সোহমকে। তা বিকশিত হতেই পারত, যদি সোহমও ভালোবাসত সুনেত্রাকে। ঈশ্বর সেখানেই বাধ সেধেছিল। মনকে হিসেবের গণ্ডির মধ্যে বন্দি করা যায় না, সোহম ভালোবেসে ফেলল ঐত্রেয়ীকে। এই ভালোবাসার টানাপোড়েনের নীরব সাক্ষী হতে পারত মিলন চ্যাটার্জি। মিলনও আকৃষ্ট হল শান্ত সুনেত্রার প্রতি। ত্রিভুজের জ্যামিতিক ব্যাখ্যা অন্য আকার নিল। বারবার প্রেম নিবেদনে ব্যর্থ সুনেত্রা যখন হতাশ, বন্ধু হিসেবে পাশে দাঁড়াল মিলন। সুপ্ত বাসনাকে কোনও আকার না দিতে পেরে, দরদি বন্ধু হয়ে সুনেত্রার পাশে।
দুঃখ করে সুনেত্রা বলত “কী করি মিলন? ওকে যে ভালোবেসে ফেলেছি। ভালোবাসা তো ভেতর থেকে আসে। আমার জীবন ব্যর্থ”
মিলন সান্ত্বনা দিত “ব্যর্থ কেন? ভালোবাসা পাওয়ার থেকে দেওয়াটাই বড়”
এমএসসি-র পর সোহম আর মিলন পিএইচডি-র পথে। ঐত্রেয়ী সায়েন্স কলেজে রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট। সুনেত্রা একা কাঁকুড়গাছির ফ্ল্যাটে। বাড়ি থেকে বিয়ের তাগাদা। সোহমের প্রতি অগাধ প্রেম। মিলনের থেকে সোহম আর ঐত্রেয়ীর নিত্যনৈমিত্তিক প্রেমলীলার ফিরিস্তি। জীবন দুর্বিষহ। পালাতে চাইছিল সেই পরিবেশ থেকে, কলকাতা থেকে, চেনাজানা সব বাতাবরণ থেকে। অন্য কোথাও, অন্য কোনওখানে। এমন সময় সায়েন্স কলেজের এক অধ্যাপকের সাহায্যে দ্য নিউ এজের মুম্বাই অফিসে চাকরি। কেমিক্যাল রিপোর্ট ট্র্যান্সত্রিুপশন দেখা। মুম্বাইতে পাড়ি।
শিরিনকে ঘরে ঢুকতে দেখে বলল “কোথায় ছিলে?”
“পাশের ঘরে আলমারি গোছাতে” শিরিনের বিবস্ত্র দেহটা জানলা দিয়ে আসা একফালি আলোর ঝলকে দেখে মনে হল, রাতের উন্মাদনা তো দেহকে অনুভব করার মধ্যে সীমাবদ্ধ। ভোরের আলোয় শিরিনের নগ্ন দেহকে দেখার মধ্যে স্নিগ্ধতার আমেজ। মনে করতে পারল না, এভাবে অভ্রদিতাকে শেষ কবে দেখেছে। ঋজু হওয়ার পর তো নয়ই। আগেও কী অভ্রদিতা এরকমভাবে দাঁড়িয়েছে ওর সামনে? মনে পড়ছে না। তার কত লজ্জা।
নিরাবরণ কার্ভের মধ্যে প্রকৃতির জীবন্ত রূপ। তাই তো শিরিন সেরা। বাজারের পসরা। শ্বেতশুভ্র দেহে সকালের আলো-আঁধারি পাল্লা দিচ্ছে।
ড্রেসিং গাউন জড়িয়ে প্রশ্ন “কী দেখছিলে?”
“তোমাকে”
“সে তো দেখলাম। আগের থেকে মুটিয়েছি?”
পিলের ওপর জীবন কাটালে একটু মেদ তো হবেই। এদের সবসময়ই ভয়। যে দেহকে সম্বল করে লাখ-লাখ কামাচ্ছে সেটা অটুট না রাখলে, লাখ টাকার মোয়া হাওয়ায় অদৃশ্য হতে বেশি সময় লাগবে না। সত্যি কী শিরিনকে দেখছিল? না ভাবছিল সুনেত্রার সঙ্গে শিরিনের সম্পর্কের কথা?
“চা না কফি?”
“যেটা সুবিধে”
শিরিনের দোদুল্যমান নিতম্বের দিকে এক পলক তাকিয়ে চোখ পড়ল জানলার বাইরে। পাশে পড়ে থাকা ইজেরটা গলিয়ে, পাজামায় দড়ি বেঁধে জানলার সামনে দাঁড়াল। ভোরের আকাশের রক্তিম ত্রুমশ গ্রাস করছে কংক্রিটের বহুতলকে।
রোশন সুনেত্রার কম্পিউটারের ছবি আইডেন্টিফাই করেছে। কিছুদিন আগে ম্যাথেরনের পথে লরি দুর্ঘটনায় বেঁচে থাকা মেয়ের পরশু হুঁশ এসেছে লীলাবতী হাসপাতালে। নাম সন্নিধি। সন্নিধিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে স্নেহাশিসের দেখানো ছবিটা ভেসে উঠেছিল। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছিল সন্নিধি দ্য নিউ এজে কাজ করে। যে কোম্পানিতে কাজ করত সুনেত্রা আগারওয়াল। ছ্যাঁত করে উঠেছিল রোশনের বুকটা।
একটা সূত্র খুঁজছে - সন্নিধি জখম, সুনেত্রা মৃত। কোথাও কী লিঙ্ক আছে? রোশনের থেকে স্নেহাশিস জানতে পারে সন্নিধি আর সুনেত্রার কর্মসূত্রের বাইরেও বন্ধুত্ব। দুই বিপরীতধর্মী চরিত্র যে কী করে এক মেরুতে ঠেকল - সেটাই পরখ করতে গিয়ে অনেক তথ্য বার করে এনেছে রোশন। ধর্মপরায়ণা একাকী সুনেত্রা সঙ্গ খুঁজছিল। কাজের মধ্যে ডুবে নিজেকে ভুলতে। কাজ তো জীবন-যাপনের অঙ্গ। সম্পূর্ণ জীবন হতে পারে না। এর বাইরেও মন অবকাশ চায়। সেই অবকাশের বার্তা এনেছিল সন্নিধি। একসঙ্গে ঋষিকেশ, হরিদ্বার, লছমনঝুলা। টাঙায় ঘুরে বেরনো। হার-কি-পৌরিতে প্রদীপ ভাসানো। ঈশ্বর পাওয়ার অভিপ্রায় নয়। বন্ধুত্বের আনন্দে।
কিন্তু কেন?
সন্নিধি খুব ভালো করেই বুঝেছিল সুনেত্রাকে কাছে পাওয়ার মন্ত্র। ধর্ম! ধর্মই তাদের যোগসূত্র গড়তে পারে। তাই সুনেত্রার ভালোলাগাকে এক্সকার্সনে রূপান্তর। বোঝা গেল কম্পিউটারে ওদের ছবিগুলোর কাহিনি। মুনি-ঋষিদের ছবিও নয় সন্নিধির দাক্ষিণ্যে শোভা পেতে পারে। কিন্তু ব্লু ফিল্ম?
রাতের জীবন্ত ব্লু ঘরে ঢুকল কফি নিয়ে “অ্যাট ইওর সার্ভিস স্যার”
শিরিনের হাত থেকে কফির কাপ নিয়ে বলল “মুম্বাইতে কলকাতার চেয়েও ভ্যাপসা গরম। হিউমিডিটি ভেরি হাই”
কফির কাপে চুমুক দিয়ে উত্তর “মুম্বাই আর ভালো লাগছে না? অভ্রদিতা আর ঋজুর কথা মনে পড়ছে?”
“অনেকদিন তো হল। এবার কলকাতা ফেরত। তোমারও তো আউটডোর বন্ধ আমার জন্যে। আর কদ্দিন আটকে থাকবে?”
“কবে যেতে চাও?”
“এটা যে রাজলক্ষ্মী আর শ্রীকান্তর ডায়লগ হয়ে গেল”
“বনের পাখিকে কদ্দিন খাঁচায় বন্দি করে রাখব? বনে ফিরিয়ে দেওয়াই শান্তি” যেন গভীর ভালোবাসার কথা অকপটে বলে ফেলেছে।
স্নেহাশিসের সেই মুহূর্তে বাংলার কথা মনে হল “তোমার সোনার ধান তো নিয়ে গেলাম। সারা জীবনের পাথেয় হয়ে থাকবে এ’কটা দিন”
“সত্যি! মনে রাখবে তো?”
শিরিনকে জড়িয়ে গালে চুমু খেয়ে বলল “কী মনে হয়?”
“কী জানি? পুলিসরা কাকে কখন মনে রাখে? বোধহয় চোর দাগি আসামিকে ছাড়া আর কাউকে মনে রাখতে পারে না”
“তুমি তো, তা নও”
ইতস্তত করে শিরিন বলল “এটুকু জান বলেই আমার ফ্ল্যাটের দরজা তোমার জন্য কোনোদিনও বন্ধ হবে না”
স্নেহাশিস বুঝতে পারছে না, কোন শিরিন সত্যি? এই মুহূর্তের, না কি, সুনেত্রার সঙ্গে সম্পর্কের মায়াজালে জড়ানো কম্পিউটারের ছবির হাসিখুশি কৃত্রিম ‘হায়-হ্যালোর’ আবরণে ঢাকা অন্য শিরিন?
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইনএই বইয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
পড়া চালিয়ে যেতে নিশ্চিত করুন যে আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি।