বাইশ

অনিরুদ্ধ বসু

শীত শেষের আবছা আলোয় হাউস খাস এনক্লেভের দোতলার বারান্দার রকিং চেয়ারে, পড়ন্ত বিকেলে লাইম কর্ডিয়াল মেশান ভডকা খাচ্ছিল ইন্দ্রাক্ষি। রাস্তার ওপারে মাঠের দিকে চেয়ে মনে শীতের রেশটুকু মাদকতা ছড়িয়েছে। পাশ থেকে ভেসে আসছে গৌড়ীয় মঠের সান্ধ্যবন্দনা ‘ভজ গৌরাঙ্গ লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’। ভডকায় আরেক চুমুক।

ভাগ্যিস বাড়িটা জলের দামে পেয়েছিল। একটা বইয়ের ফার্ম, শরিকি কলহে তাড়াতাড়ি বিত্রিু করতে চাইছিল। দিল্লির পশ পাড়া। অনেক প্রোমটারের চোখ ছিল এই দোতলা বাড়িটার ওপর। দিল্লি মিউনিসিপালটির নিয়ম অনুসারে হেরিটেজ সাইট চোরমিনারের কাছে কোনও ফ্ল্যাট কমপ্লেক্স করা যাবে না। পঞ্চশীলে ফ্ল্যাট কেনা ঠিক। বাড়ির বদলে সাউথ দিল্লিতে ফ্ল্যাট? উত্তরটা মূর্খও দিতে পারে।

সারাজীবন এই ঘরটাকেই খুঁজেছে বারবার। হারিয়েছে, লড়েছে, জিতেছে, আবার হেরেছে, আবার জিতেছে। এই হার-জিতের সওনায় অনুভব করেছে, সংসারের বন্ধন তার ভাগ্যে নেই। সৌভিকের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর ঘর বাঁধবার স্বপ্ন কেউ দেখায়নি। দু-বার বিবাহ বিচ্ছেদের পর আশিসও বিবাহবন্ধনে জড়াতে চায়নি ‘আমার বিয়ে টেকে না। কপাল নিয়ে এসেছি। তোমাকে বিয়ে করলেও হারাব। তোমাকে হারাতে চাই না।’ ভালোবাসার পাত্রীকে দূরে ঠেলা দেওয়া। আশিস ছাড়া কারও কথা ভাবতে পারে না ইন্দ্রাক্ষি। তাই শুধু মনের বন্ধনে জড়িয়ে এতটা বছর। বিয়ে করলে সংসার হত, ছেলেপুলে হত। সে সামলে দ্য নিউ এজের বিশাল সাম্রাজ্য তৈরি হত না। দুঃখের সঙ্গী পেতে পারে, ঘর নয়। দ্য নিউ এজ-ই তার ঘর। তার স্বপ্নই জীবন। বেঁচে থাকার রসদ।

মরেই যেতে চেয়েছিল যৌবনে পা দিতে। রাগে, দুঃখে, বেদনায় মন ডুকরে কেঁদেছিল আশ্রয়ের খোঁজে। ভয় ছিল, সে আশ্রয় পাবে কি না। প্রতিটা ইন্দ্রিয় অনুভূতিহীন অস্তিত্বে, নিরাশায়।

মনে পড়ল বাবার বন্ধু সুব্রতকাকুর কথা। প্রায়শই বাড়ি আসত বাবার সঙ্গে আড্ডা মারতে। মা তো রাতের পাখি। ওদের আড্ডার ফাঁকে ডেকে নিত তাকে।

“বোস। না কি, পড়তে বসবি?”

অষ্টাদশী ইন্দ্রাক্ষি রাত নটার পরে পড়বে কী? বসে পড়ত আড্ডায়। গল্প শুনতেও ভালো লাগত। সিনেমা থেকে পলিটিক্স। ওদের আড্ডায় থেকে সেই বয়সেই অনেক কিছু জেনে ফেলেছিল। শিক্ষা কী শুধু বইয়ের পাতায়? সুব্রতকাকুর কথায় কত জীবন তত্ত্ব। কম কী?

সেদিন বেশ জোরেই বৃষ্টি পড়ছিল। কলকাতায় যেন প্লাবন। সন্ধ্যা থেকেই আকাশ কালো। সুব্রতকাকু বাড়িতে ঢোকার পরেই শুরু অশ্রুসিক্ত আকাশের অবারিত প্লাবন। ইন্দ্রাক্ষি ঘরে খাটে শুয়ে পড়ছিল। পাশের ঘরে সুব্রতকাকুর গলা “রুদ্রনীল দিনটা মাল খাওয়ার পক্ষে আইডিয়াল। বাড়িতে কিছু আছে?”

“দেখছি” বাবার চটির আওয়াজ। ড্রয়িং রুম থেকে ডাইনিং রুমে মাল খুঁজতে। আলমারি থেকে বোতল বের করার শব্দ। আবার চটির আওয়াজ।

“বাকার্ডি। চলবে?”

“যা দিবি। সফট্ ড্রিংকস্?”

“দেখছি” চটির শব্দ। ফ্রিজ খোলার আওয়াজ। বাবার গলা “ট্যাঙ্গো চলবে?”

“দৌড়বে” গ্লাসে ঢালার শব্দ। ট্যাঙ্গো মেশানোর আওয়াজ। “চিয়ার্স” গ্লাসের ঠোকাঠুকিতে বুঝতে অসুবিধা হয়নি সান্ধ্য আসর জমতে বসেছে। এ ছাড়া বাবার তো আর আসর নেই। সবসময় একা ঘরে বই পড়ছে, নয়ত ওয়েস্টার্ন ক্লাসিক্যাল বা ঘুম। ইন্দ্রাক্ষির ব্যাপারে হুঁশ নেই।

ইন্দ্রাক্ষির জীবনটা ছোটোবেলা থেকেই একা। ট্যালেন্টেড নিশাচর মায়ের সময় ছিল না ওর কথা ভাবার। মা নিজের পৃথিবীতে বয়ফ্রেন্ডদের নিয়ে শিল্পসৃষ্টির নিত্যনতুন বিন্যাসে।

ওরা থাকুক ওদের আসরে। ইন্দ্রাক্ষি পড়ায় মন দিল। সামনে উচ্চ মাধ্যমিক। ভালো রেজাল্ট করতে হবে। নইলে বাইরেও শূন্যতা। শূন্যতায় ভাসতে চায় না। পৃথিবীর বুকে দৃঢ় পদক্ষেপে হাঁটতে চায় নিজস্ব অস্তিত্ব সম্বল করে। ছোটবেলার কথা খুব একটা মনে নেই। মা-ই হাঁটতে, পড়তে, নিজেকে ভালোবাসতে শেখায়। মায়ের অদম্য জেদ। মায়ের কাছেই শুনেছে এমএতে শুধু প্রথমই হয়নি, দাদুর দোমনা সত্ত্বেও পিএইচডি করেছে। ভালো ছবিও আঁকত মা রত্নাবলি রায়চৌধুরী। সাত বছর বয়েসে মায়ের হাত ধরে অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসে ছবির প্রদর্শনীতে গেছে। কত পুরুষকে বাহাবা দিতে দেখেছে ‘ম্যাডাম আপনি দারুণ আঁকেন’

কেউ ঠাট্টা করত ‘রূপ আর গুণের যুগলবন্দি’

মা সুন্দরী কি না জানে না। স্বাস্থ্যবতী তো বটেই। তারই উত্তরাধিকার ইন্দ্রাক্ষির গড়ন। চুম্বকের মতো পুরুষকে আকর্ষণ করার ক্ষমতাটাও জেনেটিক। মায়ের আকর্ষণে মৌমাছির মতো চারপাশে ঘুরঘুর করবে, আশ্চর্য কী? নিশীযাপনে সক্ষম হবে, এ আর এমন কী? অবাক হয়েছিল বাড়ন্ত ইন্দ্রাক্ষি, মায়ের উচ্ছল জীবন বাবার ওপর প্রভাব ফেলেনি। বাবা সব সময়ই একা, নিজের দুনিয়ায়। বন্ধুদের দেখে ভাবত, তার জীবন ওদের থেকে কত আলাদা। এই জীবন তার কল্পনার বাইরে।

মনে আছে একজন বলেছিল “অ্যাট্র্যাকশনটা গুণ থেকে রূপে”

ব্যাপারটা বোঝেনি। চিত্রকলা থেকে কর্মক্ষেত্র, কোথাও বাবা-মাকে একসঙ্গে দেখেনি। মা সবসময় অন্য পৃথিবীতে। সেখানেও সে ছিল না। ছিল একাকী নিভৃতে। রাতের পর রাত বিনিদ্র কাটিয়েছে মায়ের প্রতীক্ষায়, কখন মা আসবে? কখন বুকে টেনে শোনাবে ঘুমপাড়ানি গান। কেউ ঘুম পাড়ায়নি। কাঁদতে কাঁদতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছে, নিজেও বোঝেনি। রাত কখন গড়িয়ে বৈচিত্রহীন সকাল। উঠে দেখেছে, মা তখনও বাড়ি ফেরেনি। শূন্যতায় বেঁচেছে। না-পাওয়া মাতৃত্বের স্নেহ আছে, তবু নেই। পেয়েও না-পাওয়া। সব থেকেও জীবন ফাঁকা। ছোট বয়সে সব বোঝার ক্ষমতা ছিল না। মন কাঁদত চাওয়ায়। হারিয়ে যেত একাকী।

আর পড়তে ইচ্ছে করছে না। বই বন্ধ করে খোলা জানলার পাশে। বৃষ্টির ছাঁট গায়ে। ভালোই লাগছে ভিজতে। মা আজও অন্য রাতের মতো ফিরবে না। প্রথমে বুঝতে পারত না। মা কোথায় রাত কাটায়? বাবাকে ছাড়া কেন? এগারো বছর বয়সে মাসিক শুরু। শুধু বসন্তের হদিস দেয়েনি, মায়ের রঙিলা ছোঁয়াও দিয়েছিল। ঘরের বাইরেই মায়ের রঙিন বসন্ত। আস্তে আস্তে সব পরিষ্কার। ঘরের বাইরেও অনেক না-জানা না-বলা ঘর আছে। সেখানেই মায়ের নিত্য বিচরণ। কেনই বা সে ওর চাওয়া-পাওয়ার মধ্যে জড়াবে? শিক্ষিত পূর্ণযৌবনা সুদর্শনা চিত্রশিল্পীর জন্যে কলকাতার অনন্ত অবকাশ।

“মেমসাহেব কিছু খাবেন?” কাজের মেয়ে ইরার কথায় ফিরে তাকাল।

“গরম পেঁয়াজি করতে পারবি? সিগারেটের প্যাকেট লাইটারটা দিয়ে যা”

ভডকায় চুমুক। সিগারেটে অগ্নিসংযোগ। নিভে যাওয়া সূর্যের রশ্মিতে খোলা মাঠের দিকে তাকাল। গৌড়ীয় মঠের স্তোত্র থেমে গেছে। খঞ্জনির আওয়াজও কানে আসছে না। চোখে নেশা। মিঠে আমেজে এক তীব্র ব্যাথার আলোড়ন। বেহাগের না-চেনা সুর। শীতের আমেজ মিশেছে অন্তরের দুঃখ স্রোতের প্লাবনে।

সেদিনও জানলার ধারে বৃষ্টির ছাঁটে এমনই আমেজ। খাবার খেয়ে ঘুমোতে যাবে ভাবছিল। লক্ষ করেনি পেছনের কায়া, ছায়ার মতো এগিয়ে আসছে। হঠাৎ দুটো হাত জাপটে ধরল বাড়ন্ত স্তন। গালে ঘষে দিল মুখ। বোঝার আগেই সুব্রতকাকু আঁকড়ে ধরেছে। সমস্ত শক্তি দিয়ে ঠেলে ফেলে দিতে চাইল প্রৌঢ়ের দেহটা। সুব্রতকাকুর শক্তি বুঝিয়ে দিল সে নাবালিকা।

“বা... বা...” আঁতকে চিৎকার। কোথায় বাবা?

আবার ডাকল “বা... বা...” কোনো উত্তর এল না ওঘর থেকে।

বাবা হারিয়ে গেছে বাইরের ঝরা প্লাবনের আঁধারে। ঘরে থেকেও নেই। ছোটবেলা থেকে উত্তাপহীন বাবাকে কাছে পাওয়ার আশা বৃথাই। কোনও সাড়া নেই। বাকাডির্র নেশায় স্নেহহীন মানুষটা পাশের ঘরের বিছানায়।

সুব্রতকাকু ওকে খাটে ফেলল। জোর করে তুলে দিল নাইটি। ব্রায়ের হুক শিথিল। হাত প্যান্টির ফাঁকে। শুনেছে বহুবার। দেখেনি। দেখতে হবে ভাবেনি। না-দেখা, না-চেনা, না-পাওয়া যৌবনে করাঘাত প্রৌঢ়ের। বিলীয়মান যৌনতার অন্তিম আস্ফালন। অগ্নিদগ্ধ করছে অসহায় অস্ফুরিত আগ্নেয়গিরি।

শেষবারের মতো ডাকল “বাবা...”

নিষ্পেষণে রক্তে ভিজে গেছে প্যান্টি। ব্যাথায় কাতর। পারছে না সহ্য করতে। যে করেই হোক মুক্তি। মুক্তি চাই এই অবাঞ্ছিত আত্রুমণ থেকে। মা নেই। বাবা আসবে না।

কাতর মিনতিতে অনুনয় “প্লিজ সুব্রতকাকু... প্লিজ...”

অনেক কসরতে বিদ্ধ করতে সক্ষম যৌবনের প্রথম আচ্ছাদন। এখন থামা? ভাবতেও মানা।

“আজ তোর কোনও কথাই রাখতে পারলাম না। কাল যা বলবি, রাখব”

পরে, অনেকদিন পরে, ব্যাপারটা স্বচ্ছ হয়েছিল। কেন জ্ঞানত বাবাকে দেখেনি মায়ের ঘরে? কেনই বা, মা আসক্ত টেকিলার রসে? কেনই বা মাকে দেখেছে ডেনড্রাইট শুঁকে মুহূর্তে পালটাতে রূপ? এ তো দশভুজা দুর্গার ভিন্ন রূপ। অনেকদিন পরে, মায়ের অনুপস্থিতিতে ড্রয়ারে অদ্ভুত ওষুধ পেয়েছিল। মিথাইল ফেনিডেট। এটা কী কাজে লাগে?

ছুটেছিল ডাঃ অশোক রায়ের কাছে “নন সিনড্রোমাল মুড সুইংস”

“এটা কী সাইকিয়াট্রিক ডিসঅর্ডার?”

“না। ত্রিুয়েটিভ লোকেদের নর্মাল ফেনমেনন। এদের একটা অদ্ভুত ক্যারেক্টারিস্টিক্স। ফ্রাস্ট্রেশন টলারেন্স ভীষণ কম”

ইরা পেঁয়াজি নামিয়ে বলল “আরও ভাজব?”

“ভাজ”

কামড় দিয়ে মনে পড়ল বাবা রুদ্রনীল রায়চৌধুরীর কথা। পেশায় বাবসায়ী। নামেই রত্নাবলির স্বামী। কখনও দেখেনি বহুলোকের ভিড়ে। পায়নি তাকে পিতৃত্বের নরম স্পর্শে। সেদিনও ছিল না, কোনওদিনও নয়। সেদিনের পর আর কখনও দেখেনি সুব্রতকাকুকে বাড়ির চৌহদ্দিতে।

সুব্রতকাকু এসেছে। সুব্রতকাকু গেছে।

দেবাশিসকাকু এসেছে। দেবাশিসকাকু গেছে।

অসীমকাকু এসেছে। অসীমকাকু গেছে।

বাবার বন্ধুর সংজ্ঞা খুঁজতে সংজ্ঞাহীন। বন্ধনের অভাব। নির্লিপ্ত বাবা শুধু একটা নাম। ধূসর তার অবয়ব। ধূসর পিতৃত্ব। নামেই শুধু কায়া রুদ্রনীল রায়চৌধুরী। মানুষটাকে খুঁজেছে বারবার। হাজার চেষ্টা করেও পায়নি একবার। মায়ের যদি হাজার ছেলেবন্ধু থাকতে পারে, সুপুরুষ বাবার কেন নেই? প্রশ্নটা বারবার ঊঁকি দিলেও কোনও সদুত্তর পায়নি। কেনই-বা মা রাত কাটায় অন্যখানে? কেনই-বা বাবা অন্ধ বিভোরে? বই আর সঙ্গীতে একাকী?

বোঝার বয়স হয়েছে। জানতে তো হবেই। আবার ডাঃ অশোক রায় “কেন এরকম?”

ডাঃ অশোক রায়ের পাল্টা প্রশ্ন “বাবাকে কখনও মায়ের সঙ্গে থাকতে দেখেছ?”

“না”

“বাবার কোনও গার্লফ্রেন্ড? মায়ের সঙ্গে অন্য পুরুষকে দেখেছ?”

“দেখিনি। মনে হয় অনেক”

“কী করে বুঝলে?”

“মা রাতে বাড়িই ফেরে না। নিশ্চয়ই পুরুষের সঙ্গে কাটায়...” বলতে লজ্জাই করছিল। হাজার হোক, মা তো। তবুও ডাক্তারের কাছে লুকনো যাবে না।

“বাবাকে কখনও আবেগাপ্লুত দেখেছ?”

“বাবার কোনও কিছুতেই আসে যায় না - না প্রশংসায়, না বিদ্রুপে। পড়ে আছে নিজের দুনিয়ায়”

ডাঃ অশোক রায় টাইয়ের নট ঠিক করে বলেছিল “তুমি ওনার মেয়ে। এসব তোমায় বলা ঠিক?”

“আই অ্যাম অ্যান অ্যাডাল্ট। আমায় বলতে পারেন”

কয়েক সেকেন্ড। কিছু ভাবছিল ডাঃ রায় “ওয়েল ইফ ইউ ওয়ান্ট টু নো দ্য ট্রুথ হিয়ার ইট ইজ। ইওর ফাদার প্রব্যাবলি হ্যাস সিজয়েড পারসোনালিটি ডিসঅর্ডার”

“সেটা কী?”

“ক্যান আই বি ফ্র্যাঙ্ক উইথ ইউ?”

“অফ কোর্স ইউ ক্যান”

“ডিড ইওর ফাদার এভার হ্যাভ এ গার্লফ্রেন্ড অর এ রিচ সোশাল লাইফ?”

“নট টু মাই নলেজ”

“হ্যাভ ইউ এভার সিন ইওর মাদার উইথ আনাদার পার্সেন? ইউ নো হোয়াট আই মিন”

“ইয়েস... অ্যান্ড... বাট...”

“প্লিজ ডোন্ট হেসিটেট। হোয়াটেভার ইউ সে উইল বি দ্য বেডরক অফ বোথ মাই আন্ডারস্ট্যান্ডিং অ্যান্ড ইন্টারভেনশন অফ ইওর প্রবলেমস”

“আই উইল ট্রাই টু বি অফ হেল্প অ্যাস মাচ অ্যাস আই ক্যান”

“ইয়েস। ইটজ ক্রুশিয়াল” ডাঃ রায় টেবলের ওপর পেনটা ঠুকে বলেছিলেন।

“আই হ্যাড ওয়ান্স ওভারহার্ড মাই মাদার ওভার দ্য ফোন ডেসত্রুাইবিং মাই ফাদার টু সামোয়ান অ্যাস সেক্সচুায়ালি সেলফিস। আই ইভস ড্রপড”

“কান পেতে কী শুনলেন?”

“মাই মাদার সেড সি ইজ সেক্সচুটালি হ্যাপিয়ার আউটসাইড ম্যারেজ দ্যান ফরনিকেটিং ইন অবলিভিয়ান উইথ ল্যফুলি ওয়েডেড হাসব্যান্ড। মা খুব কুৎসিত ভাষা ইউজ করেছিল। আই ওয়াজ সারপ্রাইজড”

“আপনি নির্দ্বিধায় বলতে পারেন। এই চিকিৎসায় কাজে লাগবে”

“মা বলেছিল, কিছু মনে করবেন না, রুদ্রনীলের নিম্নাঙ্গের স্পর্শের চেয়েও আমার কড়ে আঙুল ক্লাইটরিসকে বেশি সুখ দেয়”

“এবার ব্যাপারটা ক্লিয়ার”

“প্রব্যাবলি আপনার বাবার প্রিম্যাচিওর ইজ্যকুলেশন হত। যার জন্যে বাবা-মায়ের সেক্সচুয়াল ইন্টারকোর্সে বাবার অরগ্যাজম অনেক আগে হয়ে যেত। আপনার মা ক্ষুধিত পাষাণের মতো অতৃপ্ত”

“মা তো অভুক্ত থাকতেন না। পাষাণ তো নয়-ই। মাঝরাতে মায়ের দরজা খোলার শব্দে যখন আমি চমকে ছুটে যেতাম, তখন মায়ের চোখে দেখতাম সব-পেয়েছির পরিতৃপ্তি!”

গা ঘিন ঘিন করছে। এও শুনতে হয়? বাবার ইজ্যাকুলেশনের ইতিহাস। কটা মেয়েকে দেখতে হয়েছে মায়ের স্বেচ্ছাচারিতা? কটা মেয়েকে শুনতে হয়েছে, বাবার ব্যর্থতা? তবুও তো এই স্বেচ্ছাচারিতা, এই ব্যর্থতার মধ্যে কোথাও প্রেম ছিল। না হলে, ইন্দ্রাক্ষি কী করে হল?

প্রেমহীন রুগ্ন সংসারের কারাগার ভেদ করে আজ যে সে দ্য নিউ এজের স্বপ্ন রচনা করতে পেরেছে, এটাই সার্থকতা। এখন পেছন ফিরে তাকানো নয়, এগিয়ে যাওয়া। যা ছোটবেলায় পায়নি, তাই যেন খেলে তার নতুন স্বপ্নে, আগামীর মধ্যে।

“ইরা আজ কিছু খাব না। আরেকটু ট্যাঙ্গো দিবি?”

ইরা ট্যাঙ্গোর আরেকটা বোতল নামিয়ে রাখতেই ফোন “কেমন আছ?”

“হঠাৎ?”

“মন কেমন করছিল। মনে হল তুমি ঠিক নেই। তাই ফোন করলাম” আশিসের গলা।

কী করে আশিস বোঝে ইন্দ্রাক্ষির মনের ব্যথা? নিছক টেলিপ্যাথি? না, জন্ম-জন্মান্তরের অজানা মিলন ঘটিয়েছে দুই অতৃপ্ত আত্মায়।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%