অনিরুদ্ধ বসু
এয়ারপোর্টের লবিতে শিরিনকে দেখে চমকে উঠল স্নেহাশিস। কী দেখতে হয়েছে শিরিন। আটপৌরে কলকাতার সাবেকি বনেদি মুসলমান বাড়ির মেয়েটার কী পরিবর্তন। পরিচ্ছন্ন এলোকেশী শিরিনের এখন বব ছাঁট। শাড়ির বদলে, কালো জিনস সাদা টপস। গাঢ় খয়েরি লিপস্টিক। বাঁ হাতে সোনার ঘড়ি। সোনার বালা পরা, ডান হাতে মোবাইল।
“ইউ আর লাকি। ফ্লাইট লেট করেনি”
“ইউসুয়ালি লেট হয়?”
“কম করে আধঘণ্টা। মাঝে-মাঝে তিন চার ঘণ্টাও”
শিরিনের মতো স্নেহাশিসের অত সৌভাগ্য হয় না প্লেনে নিয়মিত যাতায়াতের। আগে বরাদ্দ ছিল ফার্স্ট ক্লাস এসি। এখন সিনিয়রিটির জোরে ইকনমি ক্লাসে ফ্লাইট। যাতায়াতে সময় কম লাগে।
শিরিনকে বলল “তুমি অনেক পালটে গেছ”
“তুমি কিন্তু ঠিক আগের মতোই” স্নেহাশিসকে আপাদমস্তক ছেঁচে বলল “আগের মতোই হ্যান্ডসাম। একটু অবশ্য ভুঁড়ি হয়েছে। হবেই তো। অভ্রদিতা ভালোমন্দ খাওয়াচ্ছে”
স্নেহাশিস কথা বাড়াল না। মুম্বাই পুলিসের জয়েন্ট কমিশনার রোশন শেঠ ও চ্যালাচামুণ্ডারা ওকে নিতে এসেছে।
“এক মিনিট” এগিয়ে গেল রোশনের দিকে।
“কৈসে হো ভাই? বহতদিন বাদ কাম কে সিলসিলে মে ফির মুলাকাত”
“দাদা কিতনা দিন বিত গয়া। দেহরাদুন মে ট্রেনিংকে বাদ”
রোশনকে জড়িয়ে ধরল “ভুলু কৈসে? ও সব দিনকা কাহানি”
স্নেহাশিসের কানে ফিসফিস করে রোশন বলল “ইয়ে মডেল তুমহারা জান পেহচান?”
“ছোটে উমর কে দোস্ত”
“পেয়ার?”
“রোশনি চাঁদ সে আতি, সিতারো সে নেহি। মোহাব্বত এক সে হোতি, হাজারো সে নেহি”
“তুম বাঙ্গালি লোগ সায়রি বিনা বাত নেহি করতা”
শিরিন স্নেহাশিসকে বলল “তোমার জন্য পুরো উইকটা অফ নিয়ে নিয়েছি। শুধু তোমার জন্য”
“রোশনের সঙ্গে ফোর্ট হেডকোয়াটার্স-এ রিপোর্ট করে আসছি”
“আমার সঙ্গে লাঞ্চ। অ্যাট ব্যান্ড্রা হলিডে ইন। ওকে?”
“সিওর”
শিরিন হাত নেড়ে বেরিয়ে গেল। স্নেহাশিস চেয়ে রইল শিরিনের দোদুল্যমান নিতম্বের দিকে। আগের থেকে একটু মেদ জমেছে। সেটা বয়েসের ভারে, না কনট্রাসেপটিভের এফেক্ট বোঝা মুস্কিল। ওর নিতম্বের ছন্দেই মুম্বাইয়ের রোশনাইতে সাকসেস। একদিন স্বপ্ন দেখত স্নেহাশিসও। শিরিনের নিতম্ব থেকে মেহুলির বিবস্ত্র গ্ল্যামার বিকিকিনির হাটে। সেখানে স্নেহাশিস নেই। বাসরসজ্জা অন্যত্র। দেহের সজ্জায় মুখরিত হোর্ডিং। পেছনে অর্থের ঝলকানি। মাস মাইনের গোলামি নয়। অর্থ দেহের যুগলবন্দি। তাই চার হাজারের সুইটে মেহুলি। মুম্বাই-দিল্লি-সিঙ্গাপুর শিরিন। ওদের দুনিয়া থেকে স্নেহাশিস বহুদূর। তবুও, প্রথম যৌবনের অনুভুতির রেশ সঙ্গোপনে কোথাও বর্তমান। তারই ভরসায় মুম্বাই আসা। না হলে কি শিরিন এক সপ্তাহ ছুটি নিয়ে অ্যাসাইনমেন্ট ক্যানসেল করে? লাখ টাকার লোকসান সত্ত্বেও।
এয়ারপোর্টের বাইরে কার পাকের্র দিকে যেতে প্রাণ ভরে শ্বাস নিল শিরিন। কতকাল প্রাণ ভরে বাতাসের ঘ্রাণ নেয়নি। বাক্সবন্দি স্বপ্নের মায়াপুরী মুম্বাইয়ের আকাশটাকেও ভালো করে দেখা যায় না। দিনের প্রথম আলো ফোটার আগেই সুটের জন্য তোড়জোড়। নিজেকে আরও মোহময় করার অদম্য স্পৃহা। দশ মিনিটের সুটের জন্য দু-ঘণ্টা ধরে মেক আপ। আরও দু-ঘণ্টা টেক-রিটেক বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে। পার্টি, লৌকিকতা সেরে মধ্যেরাতে যখন বাড়ি ফেরে, বিবস্ত্র দেহটাকে শাওয়ারের জলে ভিজিয়ে ক্লান্তি মোছা। দু-পেগ সাঁটিয়ে ঘুম।
এ আরেক জীবন। যার নাম সাকসেস।
সকালের আকাশটা তখনও ঘামে ভিজিয়ে দেয়েনি মুম্বাইকে। ঝরঝরে লাগছে। দেহ থেকেও মনটা। তবে কী মনটা আজও কলেজের দিনের স্নেহাশিসের রোমাঞ্চে বন্দি? না পাওয়াটা কী আজও তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে চঞ্চল মনটাকে? চাওয়াটা কী বাক্সবন্দি কুঠরিতে এক টুকরো আকাশ খুঁজছে? যেমন খুঁজত সেই সময় প্রিন্সেপ ঘাটে, দিনশেষে স্টিমারের ভেঁপুর আওয়াজে। মুছে যাওয়া রং কী আত্মপ্রকাশ করছে এই মুহূর্তে?
“মুলাকাত হুয়া?” মোবাইলে চতুর্বেদী।
“হাঁ” মৃদু জবাব।
“বাত হুয়া?”
“নেহি। উধর বহত পুলিস থে”
“ফির?” চতুর্বেদী নাছোড়বান্দা।
“সামকো আকেলে মে বাত কর লুঙ্গা”
শিরিন ফোনটা কেটে দিল। কথা বাড়াতে চায় না। ঝরঝরে দিনের ঘ্রাণটা নষ্ট করতে চায় না চতুর্বেদীর সঙ্গে কথা বাড়িয়ে। এদের জীবনে প্রাণের অভাব। হিসেবের দাঁড়িপাল্লায় চলছে। মেহুলির মৃত্যুতে কেন চতুর্বেদীর এত আগ্রহ? শিরিনের জানা নেই। চতুর্বেদীর কথা না শুনলে মুম্বাইতে তাকে করে খেতে হবে না। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। ফোনটা স্ল্যাক্সের ডান পকেটে গুঁজে, বাঁ পকেটের রুমাল দিয়ে ঘাম মুছল। চতুর্বেদীর মতিগতি একটু তো জানা। সো-বিজ জগতে চতুর্বেদীর হাত সর্বত্র। সিনেমা, সিরিয়াল থেকে মডেলিং। বাছাই সুন্দরীদের নিয়ে রাতের অভিসার। মেহুলিও কী সে পথে? ঘরের ভেতরে মাঝরাতের খেলা বাইরের আলোয় কি প্রকাশ পায়? কানা-ঘুষায় আসে। ব্যস্, ওটুকুই। কতটা সত্যি, কতটা বানানো, কে জানে? রাতের কাহিনি হারিয়ে যায় দিনে। এমনি নেশার ঘোরে মুখ ফস্কে বেরিয়ে এসেছিল স্নেহাশিসের কথা। সে কবেকার। মনেও ছিল না।
“তুম তো বাঙ্গালকে ছোকরি। উধর কোই জান-পহেচান হ্যায়?”
“কেও নেহি? বহত। কলকাত্তা মে বড়া হুয়া। বহত সারি জান-পেহচান”
“জইসে?” হুইস্কির নেশায় শিরিনের কোমর জড়িয়ে চতুর্বেদী।
“পুলিস সে ছোটে-বড়ে কই স্টার। দো-একঠো মন্ত্রী ভি” শিরিনও সেদিন নেশাগ্রস্ত। মাপা পৃথিবীতে আস্ফালনের বহিঃপ্রকাশ।
স্মিত হেসে চতুর্বেদী বলেছিল “পুলিসকে সাথ কৈসে পেহচান? উধর কোই চোরি-ডাকায়তি কিয়া?”
বুড়োর দিকে হেলে বলেছিল “নেহিতো। মেরে কলেজকে দোস্ত অব বড়া পুলিস অফিসার”
কান শিরিনের কথায় সজাগ। চোখ উপারাংশের ক্লিভেজে।
মেহুলির আবির্ভাবে কথা হারিয়ে যায়। চতুর্বেদীর চোখ শিরিনের ক্লিভেজ থেকে মেহুলির স্তনে। সুউচ্চ ভরাট স্তন পরিত্রাণ খুঁজছে ভাগ্যবানের করযুগলে।
“আজকল কাঁহা ঘুমতি-ফিরতি? দিখাই নেহি। কভি ভি হামে ইয়াদ করো”
মেহুলি চতুর্বেদীর পাশে বসে দেহের অর্ধেকাংশ লুটিয়ে বলেছিল “আপ তো মেরে দিল মে হমেসা বসা হ্যায়। সিরিফ ম্যায় হি বদকিসমত আপকে ইয়াদ মে কভি নেহি আয়া”
“মেরে খোয়াবো মে হর খুবসুরত লড়কি হর ওয়ক্ত রহেতা। তুম নেহি জানে, ম্যায় জানু”
মেহুলি চতুর্বেদীর কাঁধের ওপর স্তন ঘসে, ঝুঁকে বলেছিল “হম আপকে দিল মে কৈসে জানু ইয়াদ নেহি করনে?”
“করুঙ্গা... জরুর করুঙ্গা। আজ রাতকে মেহেফিল তুমহি সে। ফির তো বিসওয়াস হোগা তুম সিরিফ খোয়াব মে নেহি, জিন্দগি মে ভি”
বসে থাকতে পারেনি শিরিন। থাকাটাও ঠিক নয়। এখানে সে কাবাব মে হাড্ডি। চতুর্বেদীর বিরিয়ানি আজ মেহুলি। খুশিই হয়েছিল। চতুর্বেদীর খপ্পর থেকে পালাবার এর থেকে ভালো উপায় আর কী? মেহুলি সুন্দরী স্বাস্থবতী, দিতেও প্রস্তুত। মুম্বাইতে পাড়ি শুধু একটাই স্বপ্ন নিয়ে। হাজারও মেয়ের স্বপ্ন। সবাই ছুটছে স্বপ্নের পথে। কজন-ই বা পৌঁছতে পারছে মোহনায়? মেহুলি যদি অন্যদের টপকে মোহনায় পৌঁছতে পারে, সে তো বাঙালির গর্ব। অনসূয়া বসু থেকে মেহুলি। যেদিকে তাকাও সেদিকেই বাঙালি। মেহুলির মতো হাজার সুন্দরী পরিবেষ্টিত চতুর্বেদী।
হঠাত মেহুলি সম্পর্কে এত আগ্রহ? কেনই বা শিরিনকে তার সম্বন্ধে খোঁজ নিতে বলা? অনেক প্রশ্ন থেকে যায় পর্দার আড়ালে। উত্তর খোঁজা শিরিনের মতো সেলিব্রিটির বৃথা প্রচেষ্টা। এ লাইনে বেশি প্রশ্ন করলে বিপদ। কখন যে কী হয়ে যায়। প্রশ্ন নয়। নীরবে কাজ করে যাও।
কাঠি কাবাব মুখে পুরে শিরিনকে স্নেহাশিস বলল “কেমন লাগছে মুম্বাই জীবন?”
“কী বলব? ভালো না খারাপ?” সানগ্লাস খুলে ব্যাগে ঢোকাল।
“যেমন তাই বলবে”
“জীবন তো অনেক বড়। মুহূর্তটাকে আমি ভালোমন্দের ছাঁচে ফেলি না। এ মুহূর্তটা আমার একার। হিসেব-নিকেশের মধ্যে তাকে কুরবান দিতে চাই না”
এই হচ্ছে মহিলাদের নিয়ে মুস্কিল। স্নেহাশিস এখনও বুঝতে পারে না, কী জাদু আছে ওর, যা নগ্ন বিস্ময়ে উপভোগ করতে চায়। দেহসৌষ্ঠব না আন্তরিকতা? অভ্রদিতাও কি জানে? যদি জানত অন্যরা কীভাবে দেখে তাহলে ছোটখাটো বিপ্লব হয়ে যেত। অত ভাবার সময় নেই অভ্রদিতার।
“ভী...ষ...ণ...ভালো। কতদিন পর তোমায় কাছে পেলাম। ভাবতেও পারিনি”
“কী ভাবতে পারনি?” বলতে গিয়েও থেমে গেল। কেঁচ-খুঁড়তে সাপ না বেরিয়ে পড়ে। প্রথম যৌবনের উচ্ছ্বাস না আবার উড়তে চায়। রক্ষণশীল কলকাতার পরিবেশ অন্য। আর মুম্বাইয়ের ছুটে চলা মাদকতার রং ভিন্ন।
শিরিনের কথায় গুরুত্ব না দিয়ে, সুইমিং পুলের দিকে তাকিয়ে বলল “এই আর্টিফিশিয়াল পৃথিবী ভালো লাগে?”
উষ্ণ আকাশের প্রখর আলোয় শূন্যে চেয়ে স্নেহাশিস অন্য জগতে। যেখানে মুম্বাইয়ের মেকি উষ্ণতা নেই, প্রলুব্ধ কাম, অর্থের পিপাসা নেই। স্বপ্নের ললিপপ হাতছানি দিয়ে কলুষিত করে না। কিং খান, বিপস বা ক্যাটস আলোকিত করে না জীবন। বিরাট সাংস্কৃতিক ব্যবধান। সেখানে টিমটিমে টিউবে মেদিনীপুরের বাংলোয় ঋজুর হোমটাস্ক গাইড করা আরেক পৃথিবী। কোনটা কবিতা, কোনটা সোনাটা, কে জানে? যেটা জীবন সেটাই মধ্যাকর্ষণ শক্তি। ব্যাপ্তির বাইরে প্রযুক্তি। শিরিন বা অভ্রদিতা অবান্তর। শিরিনের তালে তাল মিলিয়ে প্রশ্নের উত্তর খোঁজা। যে কাজের জন্য কলকাতা থেকে মুম্বাই পাড়ি।
“এখানে মেহুলি এসেছিল?”
“মানে? ঠিক বুঝলাম না”
ব্যান্ড্রার হলিডে ইনের সুইমিং পুলে তাকিয়ে মনে পড়ল দ্য হেভেনে মেহুলির নগ্ন মৃতদেহ। কে জানে? এতবছর পরে দেখা শিরিনকে এখনও চেনা বাকি।
“এটা কী তোমাদের স্বর্গের পীঠস্থান?”
“না না এ সে জায়গা নয়। সে সব ঠেক অন্য জায়গায়” টম কলিনসে চুমুক।
“কোথায়?”
“তা দিয়ে তোমার কী? তুমি তো আর হিরো হতে আসনি। সেসব বড়লোকদের ফার্মহাউসে”
স্নেহাশিসের মনে পড়ল, বাবুদের বাগানবাড়িতে বাইজি নাচানো। যুগ পাল্টাতে পারে, কিন্তু একই পথে, অন্য রূপে আমোদ-আহ্লাদের ব্যঞ্জনা।
ফেলে আসা স্বপ্ন এখন অন্য গতে। শুধু কাজ। ঠিকমতো করে যাওয়া। মানে এখন মেহুলির মৃত্যুর কূল-কিনারা।
“হঠাৎ মেহুলির খোঁজে সেদিন ফোন?” কোনও ভণিতা নেই স্নেহাশিসের।
প্রশ্নটা অবশ্যম্ভাবী জেনেও উত্তর তৈরি করে রাখা হয়নি। চতুর্বেদীর কাহিনি বললে কেঁচো খুড়তে সাপ বেরবে। মুম্বাইয়ের পাট ইতি করে পার্ক সার্কাসের দরগা রোডের বাড়িতে ফেরত।
“আমার কলিগ। ইন্ডাস্ট্রিতে সবাই বলাবলি করছিল। শুনেছিলাম কলকাতায় গেছে। চেনা বলতে তুমি। হয়ত হদিস দিতে পারবে। তোমার তো ওখানে অনেক চেনা-জানা। সত্যি বলতে কি, তোমার সঙ্গে কথা বলার একটা অজুহাতও খুঁজছিলাম”
স্নেহাশিস বুঝতে পারছে, শিরিন মেহুলির কথা ঘুরিয়ে রোমান্সের দিকে নিতে চাইছে। পুলিসের শ্যেনদৃষ্টি শিরিনকে পরখ করছে বাগে আনতে।
“মেহুলি কী এখানে একাই থাকত?”
“না, ওর বাবা মায়ের সঙ্গে। কিছুদিন আগে বাবা মারা যায়। এখন মায়ের সঙ্গে”
সিরিয়ালের মতো অর্থহীন কথোপকথন। এসব তো কাঁথি থেকে জেনেই এসেছে। ভেতরের খবর বার করার পথ স্নেহাশিসের জানা। তার জন্য কী সে প্রস্তুত? অভ্রদিতা অলিখিত কাচের দেওয়াল তৈরি করে দিয়েছে। ভাবছিল, ও পথ না মাড়িয়ে শিরিনকে পথে আনবে।
শিরিনের হাতের ওপর হাত। আলতো চাপ আবেগে “তুমি সাহায্য না করলে আমার ট্র্যন্সফার কোনও মফসসলে দেবে। কী মুখে ফেরত যাব?”
শিরিনের দোটানা। একদিকে চতুর্বেদী। অন্যদিকে হার্টথ্রব। কোনটা ছেড়ে কোনটা ধরবে? দুটোকেই অস্বীকার করা যায় না। ভবিষ্যৎ না হৃদয়।
“মেহুলির একজন বয়ফ্রেন্ড ছিল। সায়ন। আমাদের লাইনের নয়। স্টেটস-এ কীসের বিজনেস। মুম্বাইতে আদিবাড়ি”
“মডেলিং থেকে বিজনেস। যোগসূত্র কীভাবে?”
“কী করে বলব? প্রায়শই একসঙ্গে দেখা যেত। আমার সঙ্গেও আলাপ করিয়ে দিয়েছিল। ভালো ছেলে। আসলে কী জান স্নেহাশিস, কাজের সূত্রে অনেকের সঙ্গেই আমাদের লটঘট করতে হয়। মন কিন্তু পড়ে থাকে মনের খোঁজে। এত বছর মুম্বাইতে। বিয়ে তো করিনি। এখানে কেউ কারও নয়। সবই ধান্দার সম্পর্ক। কাউকে সেভাবে আপন করতে পারলাম না”
দুটো পৃথিবীকে আলাদা করে দিল শিরিন। দুটো পৃথিবী এক নয়। কাজের বাইরে মন আজও তাকে খোঁজে। আইপিএস অফিসারের সে বোঝার বুদ্ধি আছে।
“কতটা কেরিয়ারিস্ট ছিল মেহুলি?”
“এখানে কে নয়? আমরা সবাই। আমরা মডেলিং-এ খুশি। মেহুলি মডেলিং-এ নাম করেছিল বটে। হিরোইন হওয়ার স্বপ্ন দিনকে দিন বাড়ছিল”
স্নেহাশিসের সব কেমন গোল পাকিয়ে যাচ্ছে। যে হিরোইন হতে চায়, তার বিচরণ মুম্বাইয়ের দুনিয়ায়। মেদিনীপুরের রিসর্টে কেন?
“মেদিনীপুরে রিসর্টে কী কোনও প্রডিউসার...”
বাজোরিয়ার কথা মনে পড়ে গেল। মেহুলির পরের ২০৯ নম্বর ঘরে উঠেছিল। ওর লেনদেন করতে গেছিল? বাজোরিয়ার ‘মিসেস’ তবে ওখানে কেন?
“সেটা তো আমাদেরও প্রশ্ন” লেদার পার্স থেকে আয়না বার করে লিপস্টিকের প্রলেপ লাগিয়ে মেনু কার্ড এগিয়ে দিল “কী খাবে? অর্ডার দিয়ে দাও। ভুলো না, রাতে কিন্তু আমার ফ্ল্যাটে। নিজে হাতে রান্না করব। না বলতে পারবে না। সারাদিন চড়ে বেড়াও কিছু বলব না। মনে রেখ, রাতে আমার সঙ্গে ডিনার। পাক্কা”
মেনু কার্ড হাতে নিয়ে ভাবছিল, ডিনারে না গেলে আসল কথা বার করতে পারবে না। পেটে কয়েক পেগ না পড়লে, মহিলাদের থেকে কথা বার করা মুস্কিল। বিশেষ করে যদি পেশাদার হয়। ডিনারে যেতেই হবে।
তারপর। কদ্দূর?
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইনএই বইয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
পড়া চালিয়ে যেতে নিশ্চিত করুন যে আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি।