অনিরুদ্ধ বসু
রোশনের ফোন পেয়ে অবাক হল স্নেহাশিস “অব মুঝে বাঙ্গাল মে তেরে পাস জানা পড়েগা”
“কোই নই খবর?”
“এক নেহি, বহত সারে”
“ফির চলা আ”
রোশনকে আনতে যাওয়ার সময় স্নেহাশিস ভাবছিল, কী এমন ব্যাপার, ফোন-ফ্যাক্স-ইমেল ফেলে রোশন কলকাতায় আসছে?
গাড়িতে রোশন বলল “কুছ গেহেরাই চক্কর হ্যায়”
“কিউ? বাত কেয়া হ্যায়?”
“লালবাজারকে অফিস মে বৈঠ কর সব বতাউঙ্গা। তেরা রিপোর্ট ফাইল মুঝে দেখনা হ্যায়”
লালাবাজারে মধুসূদন মুখুজ্জের ঘরেই স্নেহাশিস ঢুকল রোশনকে নিয়ে। ওখানেই সব রিপোর্ট।
ওদের ঢুকতে দেখে মধুসূদন বলল “কী ব্যাপার?”
রোশনকে মধুসূদন মুখুজ্জের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে স্নেহাশিস বলল “আমরা এখানেই বসে কথা বলব। আপনার অসুবিধা হবে না তো?”
“একেবারেই নয়। তবু আপনারা এলেন। এ ঘরে তো কোনও পুলিস অফিসার ঢোকেন না। আর্দালি দিয়ে ফাইল পাঠিয়ে দেন। আমি বেরিয়ে যাব?”
স্নেহাশিস চেয়ার বসে রোশনকে অন্যটা এগিয়ে দিল। মধুসূদনকে বাধা দিয়ে বলল “না, না। আপনিও বসুন। আপনার সাহায্য লাগবে। বাত কেয়া রোশন?”
“থোরা পানি” ঢকঢক করে জল খেল “ম্যায় সন্নিধি কো লিলাভতি মে পুছতাছ করনে কে লিয়ে গয়া থা। উসনে কহা ম্যাথেরনওয়ালা অ্যাকসিডেন্ট ডেলিবারেট থা”
মধুসূদন হাতে স্বর্গ পেল। যা ভাবছিল, সেটা ঠিক। লিঙ্ক আছে। সিবিআই-এর ডেপুটি কমিশনার অনঙ্গ দত্তের আশ্বাস সত্ত্বেও লাল সুতোর মারপ্যাঁচে যে খবর তার কাছে পৌঁছয়নি, সেই জলজ্যান্ত মানুষটাই ফার্স্ট হ্যান্ড ইনফরমেশন নিয়ে এসেছে। পল্টুর দোকানের আড্ডা কেমন উদ্দেশ্যহীন ধোঁয়ার দিকে যাচ্ছিল। এবার ধড়ে প্রাণ এল।
স্নেহাশিস জিজ্ঞেস করল “বাই হুম?”
“দ্যাটজ দ্য মিলিয়ান ডলার কোয়েশ্চেন। সন্নিধি কো পুছা ‘উস রাত কাঁহা যা রেহে থে?’ ও বোলা ‘ভওয়ানিশঙ্করকা আশ্রম মে’ ফির পুছা ‘অঙ্কুর জিন্দা হ্যায়?’
“অঙ্কুর কৌন?”
“জো লড়কা উস রাত গাড়ি মে থা। ওহ লোগ মুম্বাইকে ইনসমনিয়া সে নিকল কর ভওয়ানিশঙ্করকে আশ্রম মে যা রহে থে। সবহি থোরা বহত পিয়ে হুয়ে থে। সোফি গাড়ি চলা রহি থি। পাস মে বৈঠা থা অঙ্কুর। পিছে শিবানী করঞ্জোয়ালা ঔর সন্নিধি” রোশন থামল।
“কেয়া সন্নিধি ঔর অঙ্কুর কা কোই চক্কর থা?”
“হাঁ। বাদ মে ঐসি হি কুছ শুনা। ঔর ইয়ে ভি শুনা তেরা সুনেত্রা আগারওয়াল সে ভি তালুক থা”
“উসকে পোস্ট মর্টেম সে কুছ মিলা?”
“সয়েদ খুদকুশি। উসকে ভিসেরা সে কই ড্রাগ মিলা। ইয়ে কমবক্ত মেডিক্যাল ড্রাগ ইয়াদ নেহি রহতা...” পার্স থেকে চিরকূট বার করে পড়ল “রোহিপনল ঔর মেটামফেটামাইন কে ট্রেস মিলা”
আকাশ থেকে পড়ল স্নেহাশিস। এ আবার কী? মধুসূদন তড়িঘড়ি কাগজে ওষুধের নামগুলো লিখছিল।
“ওহ কেয়া?”
“হমে পতা নেহি। ডক্টর লোগ সে পুছতাছ করনে কে বাদ মালুম চলা রোহিপনল আজকে বচ্চে পার্টি মে ইউজ করতে। পার্টি ড্রাগস। রোহিপনল বাজার মে রুফি ইয়া রসে নাম সে চলতি”
“কিসিকো খতম কর সকতা হ্যায়?”
“উনলোগ বোলে, নেহি। ইসকে কোই কলর ভি নেহি, টেস্ট ভি নেহি। কোক ইয়া পেপসি সে মিলা কর লেনে মে কনফিউশন হোতা হ্যায়”
“দুসরাওয়ালা?”
“মেটেমফেটামাইন বাজার মে চলতা ‘স্পিড’, ‘আইস’, ‘চক’, ইয়া ‘মেথ’ নাম সে। ইয়ে ড্রাগ লেনে সে ভায়োলেন্ট সাইকোটিক বিহেভিয়ার ঔর সোচনা বিগর সকতা”
“ফির তো ইয়ে সুইসাইড” স্নেহাশিস মন্তব্য করল।
নামটা কাগজে লিখে মধুসূদন শুনছে। কোনও মন্তব্য করছে না।
স্নেহাশিস “ইয়ে লড়কি সুনেত্রা কেয়া পার্টি মে যাতি থি?”
“কেয়া মালুম? পুছতাছ করনে মে কোই বোল নেহি সকা”
“উসকে কম্পিউটার মে সন্ত লোগকে পিকচার। লেকিন কোই পার্টিকে তসভির নেহি। হাঁ, কই ব্লু ফিল্ম ভি থা। হো সকতা। লড়কি একেলা মুম্বাই মে। উমর ভি জাদা নেহি। ব্লু ফিল্ম দেখনা কোই বড়ি বাত নেহি। সন্নিধি সে পুছা উনলোগ পার্টি মে যাতে থে ইয়া নেহি?”
“পুছা থা। সুনেত্রাকে বারে সন্নিধি ইনকার কিয়া”
মধুসূদনের অদ্ভুত লাগছে। যে মেয়েকে কেউ কোনও পার্টিতে দেখেনি, সে পার্টি ড্রাগ খেয়ে ঝাঁপ দিল - ঠিক মিলছে না। তার পরেও ওরা বলছে সুইসাইড। হঠাৎ সুসাইড করতেই বা যাবে কেন? মেয়েটি কী ডিপ্রেশনে ভুগছিল? পার্টি ড্রাগ খেয়ে সুসাইড করা যায়, জানবেই বা কী করে? হিসেবে ঠিক মিলছে না। এটা যদি হোমিসাইড হয়, কে করাল? তাহলে কী এটা আইসোলেটেড ইনসিডেন্ট? অন্য মার্ডারগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আছে? সুনেত্রাকে অন্য মৃত্যুগুলোর সঙ্গে ফিট করাতে পারছে না।
স্নেহাশিস বলে চলেছে “লড়কি কো মালুম থা ওহ লোগ ম্যাথেরন যা রহে থে। ঔর কোই জানতা থা?”
“সন্নিধি বোলে, ঔর কিসে পতা নহি থা। শিরিফ ভওয়ানিশঙ্কর ঔর চতুর্বেদী। শিবানী করঞ্জোয়ালাকো ভওয়ানিশঙ্কর সে কুছ বাত হুয়া”
“শিবানী করঞ্জোয়ালা কৌন?”
“হাই সোসাইটি মৌসি”
“রাতকো মৌসি নাইট ক্লাব সে কুছ লড়কি লে কর ভওয়ানিশঙ্করকে আশ্রম মে যা রহি থি। ডাল মে কুছ কালা লাগতা হ্যায় রোশন”
“হো সকতা। ডেলিবারেট অ্যাকসিডেন্ট সে ইসকা রিস্তা এস্টাবলিস করু কৈসে?”
“ভওয়ানিশঙ্কর কো পুছতাছ কর”
“কিয়া থা”
“কেয়া বোলা?”
“ম্যাথেরনমে উসকা বড়া আশ্রম। ওহ বোলা উসে মালুম থা ওহ লোগ উধর আনেওয়ালে থে। বাদ মে অ্যাকসিডেন্টকে খবর শুনা”
“ইস মে ভওয়ানিশঙ্করকে কোই চক্কর নেহি তো?”
“কেয়া মালুম? সাধু-সন্ত আদমি। লাখো ভক্ত। হাজারো আশ্রম মে হর দিন আতে। উনলোগ ভি আনেকা ইচ্ছা প্রাকাশ কিয়া হোগা। ইসমে গলতি ইয়া বুড়াই তো নেহি”
“ভওয়ানিশঙ্কর কিসিসে ইয়ে কাম ভি করা সকতা”
“উসকে খিলাপ কোই এভিডেন্স নেহি”
“ইয়ে চতুর্বেদী কাঁহা সে আয়া?”
“পুছ তেরে শিরিনকো। ইসলিয়ে হমে ইহা আনা পড়া” আশিক বলতে গিয়েও থেমে গেল। পাশে যে মধুসূদন বসে! স্নেহাশিসের মাথায় বজ্রাঘাত। শিরিনও কী এই চক্করে? শিরিন কী পালটে গেছে? স্নেহাশিস কলেজ জীবনের স্মৃতি আঁকড়ে ওর যৌবনকে আলিঙ্গন করেছিল, যদি মেহুলির মৃত্যুর নতুন তথ্য পাওয়া যায়। মাথায়ও খেলেনি, শিরিনও চত্রেুর জড়িয়ে থাকতে পারে। ভুল একটা হয়েছে। সাহেবরা ঠিকই বলে ‘নেভার মিক্স বিজনেস উইথ প্লেজার’। অজান্তেই ভুলটা করেছে।
মেহুলি বিজনেসের সঙ্গে শিরিনের হৃদ্যতাকে মিশিয়ে, প্লেজারে পুলিসি স্ক্যানারের বাইরে রেখেছে। কেন শিরিন অনেক কিছু চেপে গেছে? অনুমান করেছিল, সুনেত্রার কম্পিউটারে ওর ছবি দেখে। তবুও আসার আগে কেন প্রশ্ন করেনি। প্রশ্ন করলে যথোপযুক্ত জবাব পেত কি না সন্দেহ। আষাঢ়ে গল্প তৈরি করে বলত। বাস্তব প্রমাণ রোশন। শিরিনকে পুলিসের চোখে ছানবিন করতে হবে, ঘাঁটিয়ে দেখতে হবে, সে এই চত্রেু কোথায়।
রোশন কিছু বলতে যাচ্ছিল, মধুসূদন বাধা দিল “থোরা চায় বোলে?”
“জরুর” রোশনের সম্মতিতে চায়ের অর্ডার “জো তুনহে সুনেত্রাকা কম্পিউটার মে দেখা, ওহ আদমি স্যানট্রো লে কর শিরিনকে উহা আয়া। উসিকে টুটি তসভির মেহুলিকে সিন অফ ত্রুাইম সে মিলা। কম্পিউটার এক্সপার্ট গ্রফিক্স মে সুপারইমপোজ কর কে কনফার্ম কিয়া, দো পিকচার একহি আদমিকে। লেকিন মুম্বাইকে রেকর্ডস মে কুছ নেহি। ফির উধর কেয়া কর রহা থা?”
মধুসূদন কান খাড়া চোখ বড় করে শুনছে। মানে মেদিনীপুরের খুনের সঙ্গে মুম্বাইয়ের একটা যোগসূত্র আছে। আজ যদি রোশন না আসত, জানতেও পারত না। রিপোর্ট পড়ে কী সব তথ্য পাওয়া যায়?
রোশন বলে চলেছে “উস আদমিকে সিলসিলে মে ডিপার্টমেন্ট মহারাষ্ট্র ছান মারা। কহিঁ ভি ট্রেস নেহি”
“ফির ওহ কাঁহা সে আয়া?”
“সয়েদ বঙ্গাল সে। ইসলিয়ে ম্যায় ইহা”
“মধুসূদনবাবু, মেহুলি মার্ডার আর মানিকতালা খালের ধারের খুনের ফাইল দুটো বার করুন”
অনাদি চা রাখতে, মধুসূদন ওকে বলল “মেদিনীপুর মার্ডার কেস আর মানিকতলার মার্ডার কেসের ফাইল দুটো বার কর”
“চতুর্বেদী?”
“শিরিন সে পুছ। চতুর্বেদী শো-বিজ ওয়ার্ল্ডকা বড়া ডন হ্যায়” অ্যাটাচি থেকে একটা ছবি এগিয়ে বলল “ইয়ে আদমি কো পহেচানতা? ইসকে সাথ সুনেত্রাকে ডেথ কা গহেরা তালুক হ্যায়। এহি উসদিন স্যানট্রো মে আয়া থা। উসকা পতা লাগানা পড়েগা। ইয়ে আদমি মেহুলিকে মার্ডারকে টাইম উঁহা থা”
“পুছতাছ মে তো ঐসে কোই এভিডেন্স নেহি মিলা। কেয়েরটেকারকে রেজিস্ট্রি বিনা”
ফাইলের পাতা উল্টিয়ে মধুসূদন বলল “একটা কথা বলব স্যার। ভালো হিন্দি বলতে পারি না। বাংলায় বলব?”
রোশন সম্মতি দিল “হাঁ”
“রিপোর্টের ইন্টারোগেশনে অসিত বলে রিসর্টের ছেলেটি বলেছিল, ধুতি ফতুয়া পরা একজনকে ওখানে দেখেছিল। সে কে আমরা জানি না। যদিও মেহুলি টাটা ইন্ডিকা নিয়ে আসে, পরে কিন্তু গাড়িটা কেউ ক্লেম করেনি। ড্রাইভারকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। গাড়ির মালিক কে সেটা কী খোঁজ নিয়েছিলেন মোটর ভেহিকেলস থেকে? কে ভাড়া নিয়েছিল ট্রেস করেছেন?”
সত্যি তো। স্নেহাশিসের ভীষণ ভুল হয়ে গেছে। শিরিনের ফোনের পর থেকেই শিরিনের সঙ্গে মেহুলির লিংক নিয়ে এত ভাবছিল, যে এটা দেখাই হয়নি। এখন বুঝছে, একটা বড় লুপহোল থেকে গেছে। যেহেতু মেহুলি মুম্বাইয়ের, মাথায় কেবল মুম্বাইয়ের চিন্তা। বেঙ্গলের কথা মাথায় আসেনি।
“আরও দুটো জায়গা আমাদের দেখা দরকার। থিয়েটার রোডের ক্যাশ টিল থেকে টাকা তোলা মানে মেহুলি থিয়েটার রোড চত্বরে ছিল। মেহুলি কবে কলকাতায় এসেছিল, ফ্লাইট রেকর্ড চেক করেছিলেন? কলকাতায় কোথায় উঠেছিল বা কার কার সঙ্গে দেখা করেছিল, সেটাও জানা দরকার”
বয়স মধুসূদনকে চিন্তাশীল করেছে। ফাইলের মধ্যে সারাদিন আর কিই বা করার আছে? রিপোর্ট পড়ে ভাবনা-চিন্তা শুরু করে দেয়। মধুসূদনের অভিজ্ঞতাকে অস্বীকার করা যায় না। বয়স মানুষকে অনেক কিছুই শেখায়। বাইরে দেখার আগে, ত্রুটিগুলো বিশ্লেষণ করা। সেলফ অডিট।
“আরেকটা ব্যাপার... রিপোর্ট অনুযায়ী, শের-ই-পাঞ্জাব ধাবার রিসিটে ডেট আছে ৯ মার্চ। অথচ মেহুলি রিসর্টে চেক ইন করেছিল ১১ মার্চ। মাঝের দুদিন কোথায় ছিল?”
“অব সমঝা কেঁও ম্যায় কলকাত্তা আয়া? ইহা ঔর ভি বহত লুজ এভিডেন্স হ্যায়। সয়েদ মেহুলিকে মার্ডারকে সাথ, পুনেওয়ালে অ্যাকসিডেন্ট, ইয়া সুনেত্রাকে খুদকুশিকা তালুক হ্যায়”
স্নেহাশিসের এতিদন ধারণা ছিল, সে একটা ইন্ডিভিজুয়াল মার্ডার কেসের ইনভেস্টিগেশন করছে। এখন মনে হচ্ছে, হয়ত ঠিক নয়। আইসোলেটেড খুন নয়। এই খুন কোনও বিশাল চত্রেুর বৃন্তে ফুলমাত্র। মালার মতো জড়িয়ে। অনেক কাজ এখনও অসম্পূর্ণ। সেগুলো গোছাতে হবে। এখন দেখতে পাচ্ছে সমস্যাটা অনেকটাই জটিল।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইনএই বইয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
পড়া চালিয়ে যেতে নিশ্চিত করুন যে আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি।