অনিরুদ্ধ বসু
দ্য মার্ডর অফ পৌরভি আনভিল্ড বাই কাভিয়াঞ্জলি রঙ্গবাসম।
দ্য হেরল্ড অফ ইন্ডিয়ার হেডলাইনস সব মিডিয়াকে ছাড়িয়ে। রিলিসের দু-ঘণ্টার মধ্যে অল প্রিন্টেড কপিস সোল্ড আউট। দক্ষিণী ছবির নামকরা নায়িকার মৃত্যুরহস্য। এটা খাবে না, তো কী খাবে? ইলেক্ট্রিনিক মিডিয়া জানতে পারেনি। অন্য প্রেসও নয়। এডিটরকে ফ্রন্ট পেজের হাফ খালি রাখতে বলেছিল রামাসোয়ামি। এডিটর, রামাসোয়ামি আর কাভিয়া জানত। প্রিন্টে যাওয়ার আগে পর্যন্ত ডিটিপিরাও নয়। পাছে লিক হয়ে যায়। ইলেভেন্থ আওয়ারে কাভিয়ার চনমনে লেখাটা ঢ়ুকে গেছে স্লটে। কালকের টিভির বাসি খবর নয়। সকালের টাটকা খবর। যা অন্য কোথাও বেরোয়েনি।
কাভিয়া সব কিছুই লিখেছে। খালি মধুস্করার অনুরোধে ওর নামটা বাদ দিয়ে গেছে। র্কপূরের মতো মিলিয়ে যাওয়া গোবিন্দকে দিয়ে কাহিনি শেষ করেছে।
কাভিয়া রামাসোয়ামির ঘরে বসে ছিল।
“ওয়েল ডান কাভিয়া”
মুচকি হাসল “আর ইউ সিওর আই ওন্ট লুজ মাই জব?”
রামাসোয়ামি কিছু বলতে যাচ্ছিল। ফোনটা বেজে উঠল। দ্য হেরাল্ড অফ ইনডিয়ার চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন দুজনকে ডাকছে। বিরাট ঘরের মাঝখানে বড় সেত্রেুটারিয়েট টেবল। গোটা চারেক ফোন। চারদিকে সাজানো চেয়ার। টেবলের ডান দিকে এক্সটেনশনে কম্পিউটার রাখা। বাঁ পাশে দরজা। রামসোয়ামি জানে দরজার ওপাশে বিশাল কনফারেন্স রুম। পেছনের দেওয়ালে একটা ছবি। বোধহয় শ্রীনিবাসনের পিতা, পিতামহ কিংবা প্রপিতামহের হবে। অন্যান্য দেওয়ালে বিভিন্ন গুণিজনের সঙ্গে শ্রীনিবাসন।
ঢ়ুকতেই বলল “কফি?”
রামাসোয়ামি মাথা নাড়ল। ফোনে সেত্রেুটারিকে বলল “থ্রি কফিস প্লিজ”
ওপাশের টেবলে একজন প্রৌঢ়। সাদা সার্ট। সাদা ধুতি।
কাভিয়া শ্রীনিবাসনকে আগে কখনও দেখেনি । শুধু নাম শুনেছে। এই কাগজের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা।
“ইউ আর কাভিয়াঞ্জলি রঙ্গবাসম?” মাথা নাড়ল।
“ওয়েল ডান মাই গার্ল। আই ওয়াজ ওয়ান্ডারিং হাউ ইউ ম্যানেজড ইট?”
“আই হ্যাড ভাওড টু স্যার, ইফ আই ফেল, হি ক্যান কিক মি আউট অফ দ্য জব। হ্যাড নো আদার চয়েস”
মুচকি হাসল শ্রীনিবাসন “আই হ্যাভ গন থ্রু ইওর সিভি। ইউ ওয়ার ফার্স্ট অ্যাট দ্য ইউনির্ভাসিটি। আই অ্যাম প্রাউড অফ ইউ। হোয়াট ক্যান আই ডু ফর ইউ?"
“প্লিজ স্যার, ডোন্ট কিক মি আউট অফ দ্য জব”
হেসে ফেলল শ্রীনিবাসন “আফটার সাচ এ মাস্টার স্কুপ? ডু ইউ নো, দিস ইজ এ হিস্ট্রি ইন আওয়ার মার্কেটিং অ্যারিনা। ইন দ্য লাস্ট টেন ইয়ার্স উই হ্যাভ নেভার সোল্ড অল আওয়ার লট অ্যাট ওয়ান গো। মে গড ব্লেস ইউ মাই গার্ল”
“স্যার, আই হ্যাভ নট ম্যানেজড টু রিচ দ্য এন্ড। ইট নিডস ফারদার ইনভেস্টিগেশন”
“দ্যাটজ হোয়াই আই কলড্ ইউ। দ্য হোম সেত্রেুটারি রাং মি। ওয়ান অফ হিস এবল অফিসার্স দ্য অ্যাডিশনল কমিশনার অফ পুলিস উইল শর্টলি বি হিয়ার টু গেট দ্য ডিটেইলস”
বলতে না বলতেই ফোন “সেন্ড হিম ইন” হেসে বলল “টক অফ দ্য ডেভিল অ্যান্ড দ্য ডেভিল অ্যারাইভস... ওয়েলকাম মিঃ দিলওয়ান সিং। প্লিজ মেক ইওরসেলফ কমফর্টেবল” উলটো চেয়ারে ইঙ্গিত করে কাভিয়াকে দেখিয়ে বলল “হিয়ার ইজ দ্য ব্রাইট ইয়ং গার্ল হুস হার্ড ওয়ার্ক লেড টু দ্য স্টোরি... কফি?”
মাথা নাড়ল দিলওয়ান সিং “ক্যান আই টক টু হার হোয়াইল ইউ ক্যারি অন উইথ ইওর ওয়ার্ক?”
পাশের দরজা দেখিয়ে বলল “প্লিজ টেক হার টু দ্য বোর্ড রুম অ্যান্ড গেট অল দ্য ডিটেলস। রামাসোয়ামি ইউ ক্যান গেট ব্যাক টু ইওর ওয়ার্ক”
কফি শেষ করে যখন কাভিয়া দিলওয়ান সিং-এর সঙ্গে উঠে যাচ্ছে, তাকে বলল “প্লিজ মিট মি বিফোর ইউ গো”
মাথা নেড়ে দিলওয়ানের সঙ্গে বোর্ড রুমে “সো, হোয়ার শ্যাল উই স্টার্ট?”
“স্যার আই উইল টেল ইউ এভরিথিং। বাট ওয়ান রিকোয়েস্ট। আই উইল কিপ অ্যালুফ দ্য মেইন সোর্স অফ ইনফরমেশন। দ্যাট উইল বি এ ব্রিচ অফ ট্রাস্ট” মধুস্করার ভালোবাসাকে পাবলিক করতে চায় না। ওর ব্যাবসা ও ফিউচার কেরিয়ারের ক্ষতি হতে পারে।
“ফাইন। অ্যাজ ইউ লাইক”
একে একে কাভিয়া বলে গেল দ্রক্সার মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্টে রুক্সার গান থেকে চন্দ্র নাইডুর হাতে এমপিথ্রি প্লেয়ার যাওয়ার কথা। রামোজি ফিল্ম সিটিতে কেষ্টকে খুঁজে বার করা। কেষ্ট গোবিন্দকে প্লেয়ার শুনতে দিয়ে হিরোকে চা দিতে গেছিল। গোবিন্দর ইন্ডাস্ট্রি থেকে ভ্যানিস হওয়া। সব-ই। শেষ হতে বলল “গোবিন্দ গট দ্য জব ইন দ্য ইন্ডাস্ট্রি বাই রেকমেন্ডশন অফ এ ডক্টর ফ্রম ক্যালকাটা নেমড আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। আই থিংক, ইনটারোগেটিং হিম মাইট থ্রো মোর লাইট অন দ্য ম্যাটার”
নীলকান্থ মার্ডার কেসেও নামটা উঠে এসেছিল। এই ডাক্তারই তো কলকাতা থেকে ইনসুলিনের প্রেসক্রিপশন দিয়েছিল। ওই ডাক্তারকে সিরিয়সলি ক্লোজ-ইন করতে হবে। মনে হচ্ছে দুটো খুন আলাদা ইনসিডেন্ট নয়। এর মধ্যে এক বিরাট চত্রু জড়িয়ে। দিলওয়ান সিং শ্রীনিবাসন ও কাভিয়াকে ধন্যবাদ দিয়ে বেরিয়ে গেল।
কাভিয়াও বেরিয়ে যাচ্ছিল। শ্রীনিবাসন ডাকল “ওয়ান মিনিট কাভিয়া” ড্রয়ার থেকে খাম বার করে বলল “দ্য হেরাল্ড অফ ইন্ডিয়া ইজ গ্রেটফুল ফর ইওর সার্ভিস। হিয়ার ইজ এ স্মল টোকেন অফ অ্যাপ্রিসিয়েশন ফর ইউ। আই উড অলসো সি ইউ গেট এ কুইক প্রমোশন। কিপ আপ দ্য গুড ওয়ার্ক” মুচকি হেসে চোখ টিপল।
বেরিয়ে খামটা খুলে দেখল দশ হাজারের চেক। আনন্দে চোখে জল এসে গেল। এমন আনন্দে কাঁদেনি আগে। কুন্নুরের ছোট্ট মেয়ে আজ বড় শহরে রাতারাতি স্টার। আব্বা অ্যান্ড আম্মা উইল বি প্রাউড অফ হার।
ঘুরেফিরে বারবার ডাঃ অশিস বন্দ্যোপাধ্যয়ের দিকে মন চলে যাচ্ছে দিলওয়ানের। গোবিন্দর চাকরি ব্যাপারটা খুবই তুচ্ছ। তবুও গোবিন্দর হদিস পেতে গেলে ডাঃ বন্দ্যোপাধায়কে প্রশ্ন করতে হবে। একটা জিনিস অদ্ভুত। কী ভাবে বারবার আশিসের নাম জড়িয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কোনওভাবে ওর ওপর আঙুল তোলা যাচ্ছে না। ইন্দ্রজিৎকে একটু চাঙ্গা হতে বলতে হবে।
ফোন শুনে ইন্দ্রজিৎ বলল “লাস্ট টাইম আই ডিডন্ট ইন্টারোগেট দ্যাট ডক্টর বিকস আই ওয়াজ ট্রাইং টু ফাইন্ড দ্য পার্সন হু ডেলিভারড দ্য প্রেসক্রিপশন ইন ব্যাঙ্গালুরু। হি উড হ্যাভ প্লেনলি সেড হি কান্ট রিমেম্বার। অর দ্য লেডি ওয়াজ ইন ক্যালকাটা। হি ইজ নট সাপোসড টু কিপ এ ট্র্যাক অফ অল দ্য পেসেন্টস হু হ্যাভ ভিজিটেড হিম। সামথিং অফ দ্যাট সর্ট”
“দিস টাইম ইউ হ্যাভ টু”
“ইজ দেয়ার অ্যান এভিডেন্স টু দ্য ফ্যাক্ট হি রেকমেন্ডেড?”
“দেয়ার ইস। দ্য জার্নালিস্ট হু ক্যারেড দ্য ইনভেস্টিগেশন হ্যাস সেড সি উডন্ট রিভিল দ্য সোর্স”
“ইট মাইট বি দ্য সোর্স ইজ আলসো ইনভলভড ইন দ্য গেম?”
“ডোন্ট থিংক সো। সি উডন্ট হ্যাভ কনফাইডেড। আই সাপোস, দ্য পার্সন ইজ এ নোন পারসন্যালিটি হুস ত্রেুডিবিলিটি উড হ্যাভ বিন পুট টু কোয়েশ্চেন”
“মে বি। লেট মি চেক হিম আউট”
ডাঃ আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় পেশাদারি কায়দায় ইন্দ্রজিৎকে বলল “বসুন”
“গোবিন্দ বলে কাউকে আপনি চাকরি দিয়েছেন?”
“কে গোবিন্দ?”
“সাউথ ইন্ডিয়ান ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে একজন বেল-বয়”
“ঠিক মনে করতে পারছি না”
“ভেবে দেখুন। আমাদের কাছে এনাফ এভিডেন্স আছে আপনি ওকে রেকমেন্ড করেছিলেন”
“করে থাকতে পারি। অনেককেই তো করি”
“গোবিন্দর হদিস বলতে পারবেন?”
“এসব প্রশ্ন আমায় করছেন কেন?”
“সাউথ ইন্ডিয়ান ফিল্মস্টার পৌরভির মার্ডারের পেছনে গোবিন্দর হাত আছে। ওকে দিয়ে কেউ কাজটা করিয়েছে। আপনি যদি ঠিক কথা না বলেন ফেঁসে যাবেন। আমাদের কাছে এও এভিডেন্স আছে আপনি শঙ্খমালা মুখার্জিকে কলকাতা থেকে একটা ইনসুলিনের প্রেসক্রিপশন লিখেছিলেন, যা দিয়ে তামিলনাডুর চিফ সেত্রেুটারির ছেলেকে খুন করা হয়”
বুঝতে পারছে এরপর সত্যি না বললে খুনের দায় তার ঘাড়ে পড়বে। খুনের দায় না হলেও কনসিলমেন্ট অফ এভিডেন্সে আদালতের চক্কর ঘুরিয়ে ছাড়বে। ডাক্তারি রেজিস্ট্রেশন নিয়ে টানাটানি। এখন খুনের চত্রু থেকে নিজেকে মুক্ত করার সময় “হ্যাঁ, মনে পড়েছে। অতীন ওকে নিয়ে এসছিল। গ্রামের ছেলে। যদি কোনও হিল্লে করে দিতে পারি। প্লাস্টিক সার্জন হওয়ার জন্য ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক যোগাযোগ আছে। তাই ওকে চাকরির বন্দোবস্ত করে দিই। বাকিটা আমি জানি না”
“অতীনের হদিস দিতে পারবেন?”
রিসেপসনিস্টকে নেম-এড্রেস ডিরেক্টরি নিয়ে আসতে বলল। পাতা উল্টিয়ে বলল “লিখে নিন, অতীন রায়” বলে কাঁথির ঠিকানা দিল।
“ফোন নম্বর?”
“নেই। নিজেই ফোন করে দরকার হলে”
ঠিকানাটা লিখে বেরিয়ে যাচ্ছিল। পেছন ফিরে বলল “অতীনের সঙ্গে আপনার কী সম্পর্ক?”
“অতীন মেদিনীপুর কাঁথি এরিয়ার অনেক পেশেন্ট পাঠায়”
চেম্বার থেকে বেরিয়ে মনে হল, হয়ত গোবিন্দ এ-কাজ করেছে। কারও ইন্সট্রাকশনে। অতীন রায়? এই কী সেই অজ্ঞাত পুরুষ, যাকে ইনসুলিনের জন্য খুঁজে বেড়াচ্ছে? যদি তাই হয়, ডাঃ বন্দ্যোপাধ্যায় ধোয়া তুলসিপাতা নয়। এরা কি নিছক বাহক বা কারক? না কি, এদের পেছনে কোনও বিশাল চত্রু আছে?
দিলওয়ান সিং নিজস্ব ভঙ্গিমায় আগেই কিছুটা ছানবিন করে ফেলেছে। আগে তো শুধু একটা, এখন দু-দুটো মৃত্যু কাঁধে ঝুলছে। একজন চিফ সেত্রেুটারির ছেলে। অন্যজন সাউথ ইন্ডিয়ার নামী-দামি নায়িকা। খবর নিয়ে জেনেছে, পৌরভি অবনিরতনমের সিনেমায় জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার আগে অভাবের তাড়নায় ব্লু-ফিল্ম করেছিল। পৌরভির আদি পাড়ায় খোঁজ নিয়ে জানল একসময়কার পাড়ার বখাটে ছেলে মুনিয়া, এখন ওই চত্বরে বিরাট প্রোমোটার। পৌরভিরা যে অঞ্চলে থাকত সেটা এখন আর বস্তি নয়। মুনিয়ার কৃপায় এখন ওখানে অনেক মাল্টিস্টোরিড বিল্ডিং। মুনিয়া এখন কোটিপতি।
মুনিয়ার সঙ্গে একবার কথা বলে দেখা যাক।
মুনিয়ার বাড়িটা ছোটখাটো প্রাসাদ। সামনে লনের পাশে ড্রাইভ-ইন। ড্রাইভ-ইনের পাশ দিয়ে শ্বেতপাথরের সিঁড়ি বেয়ে উঠে ড্রয়িং রুমে। দামি সোফা, আসবাবে ছেয়ে আছে বিশাল হলঘর। ঈশ্বর সমস্ত জাগতিক ঐশ্বর্য লুটিয়ে দিয়েছে মুনিয়ার পাদদেশে। রুচির সামঞ্জস্য না থাকলেও আসবাবগুলো যে খুব দামি বুঝতে একটুও অসুবিধা হল না।
কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘরে ঢুকল ধুতি-গিলে করা পাঞ্জাবি পরা বছর চল্লিশের একজন “বৈঠিয়ে সাব। কেয়া পিয়েঙ্গে, কফি ইয়া লস্যি?”
“জো আপকি মর্জি”
বেয়ারাকে ইঙ্গিতে বলল “কমিশনার সাবকো লস্যি। নারিয়েল মিলাকর। আপকে লিয়ে কেয়া কর সকু?”
“আপকা নাম মুনিয়া?”
গলার কয়েক ভরি সোনার চেনে হাত বুলিয়ে বলল “থা। অব সব হমে পহেচানতা মনিশঙ্কর আইয়ার নাম সে”
“আপ পৌরভিকো পেহচানতে থে?”
“হাঁ। উসকে সারে পরিবারকো। ইহাকে রেহনেওয়ালা”
“কিতনে করিব সে জানতে থে?”
“ঐসে হি। এক জগা মেঁ রহনে সে জিতনা”
“শুনা আপ পহলে কুছ নেহি করতে থে। অব বড়ে ধনওয়ান হো গয়ে”
“সব হি ইশ্বরকে মেহেরবানি”
“প্রোমোটারি বিজনেস কিতনে দিনকে?”
“করিব দশ-বারা বরস। রেজিস্টার্ড কোম্পানি। আপ চেক কর সকতে হো”
“জরুরত নেহি”
“পহেলে আপ জব ইধর রহতে থে তো ইয়ে জগাহ বস্তি থা। অব ইধর বহত সারি মাল্টিস্টোরিড বিল্ডিং”
“ইয়ে তো সব হামনে কিয়া। আপলোগকে মাফিক উতনা পড়েলিখে নেহি। ফির ভি তমান্না থা জিন্দেগি মে কুছ করনা”
“আপ হি নে কহা আপকে পয়েসে নেহি থে। ফির ইয়ে প্রোমোটারি বিজনেস শুরু কে লিয়ে রূপয়ে কাঁহা সে মিলা?”
“মেরা পুরানি দুখভরি জিন্দেগিকে বারে মে পুছা। আচ্ছা কিয়া। ইয়াদ তো হর ওয়াক্ত দিল মে আতা হ্যায়। কৈসে ভুলু ওহ দিন?”
“বোলনে মে ইতরাজ হ্যায়?”
“নেহি। কাহানি পৌরভি সে শুরু। পৌরভি হিরোইন বন গয়ি। বহত কামানে লাগি। একদিন পৌরভি সে মুলাকাত করনে গয়া, পুরানে পরোসিকে রিস্তেকে খাতির একঠো নোকরি দে। উসে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি মে কই জান-পেহচান হো চুকি। নোকরি নেহি দিয়া, মুঝে পহেচানে ভি নেহি। ভগা দিয়া। ঔর ম্যায় হি উসে ফিল্ম মে পহেলা কাম দিয়া”
“কেয়া কাম?”
“কোই বড়া কাম নেহি। উসকা পিতাজি গুজরনে কে বাদ দো ওয়াক্ত কে রোটি ভি উসে ভারি পড় যাতা থা। ম্যায় নে উসে এক জগহ লে কর ব্লু ফিল্ম খিচোয়াই। ওহি উসকা পহেলা ফিল্ম। উসদিন উসে ইয়ে কামকে লিয়ে দশ হাজার রূপয়ে মিলা। উস দিন মে কাফি রকম। মুঝে ভি আচ্ছা কমিশন মিলা। হো সকতা ব্লু ফিল্ম। পরন্তু রকম তো ভারি। পহেচাননে মে ইনকার কর দেনে পর মুঝে বহত গুসসা আয়া। খবর লে কর জানা রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পানে কে বাদ ওহ মুম্বাই মে কুছ ফিল্ম কে চক্কর মে চতুর্বেদী নামকা আদমিকে এজেন্সিকে সাথ বাতচিত কর রহি থি। সয়েদ উসকে সুপারিশ মে এক-দো হিন্দি ফিল্ম ভি কর চুকি থি। পরন্তু মুম্বাই মে উসকা নসিব নেহি লগা। ওহ চেন্নাই লৌট আয়ি ঔর বহত নাম কামায়ে”
“চতুর্বেদী কৌন?”
“মুম্বাই মে শো-বিজ দুনিয়াকে অসলি বাদশা। দুখ কে মারে ম্যায় মুম্বাই গয়া উসে ভেট করনে। ইয়াদি মেরা তকদির উধর খুলে। সাথ মে পৌরভিকে ব্লু ফিল্মকে ভিডিও। ইয়াদি কুছ কাম মে আয়ে”
মুনিয়াকে থামিয়ে বলল “ব্লু ফিল্ম কাঁহা বিকতা?”
“স্যার ইঁহা নেহি। ইধর বিকনে কোর্ট কেস মে ফস জায়েগা। ইন্ডিয়াকে বাহার। আমেরিকা, দুবাই, বাহারেন, ইনলোগকে অপনা চেন হ্যায়। তভি তো ইতনা মালুম নেহি থা। সিরিফ দালালিকে কামাই কে লিয়ে পৌরভিকো লে গয়া থা উনলোগকে পাস”
“উনলোগ কৌন?”
“সব ছোটেমোটে ফটোগ্রাফার। জিসকা দুসরা কোই কামাই নেহি। ইনলোগ বস্তি সে লড়কি লাকর ভিডিও খিঁচতে। ফির উনসে কোই বড়ে আদমি খরিদ কর সারে দুনিয়া মে ধন্দে করতে”
“উসে পহেচানতে?”
“নেহি। ইয়ে তো দশ-বারা বরস কি পুরানি কাহানি। উনলোগ সে হমে কুছ তালুক নেহি। মালুম ভি নেহি কাঁহা হ্যায়। ম্যায় তো সিরিফ দালালি কে কাম কিয়া। লেকিন ইয়ে দালালি মেরা নসিব ঘুমা দিয়া। পৌরভি হমে পেহচাননে মে ইনকার কিয়া। লেকিন চতুর্বেদী হমে বড়ি মেহেরবানি সে বৈঠায়া, বাতচিত কিয়া। হামে কেয়া মালুম থা চতুর্বেদী পৌরভিকে ব্লু ফিল্মকে লিয়ে মু মাঙ্গে কিমত দেগা? উসকো ফিল্ম দিয়া, পৈসে লিয়া, চেন্নাই চলা আয়া। উস রূপয়ে সে প্রোমোটারি বিজনেস শুরু” দিলওয়ানকে বলল “ঔর একঠো লস্যি?”
“নেহি কাফি হ্যায়। আপ বোলিয়ে”
“তভি জানা ব্লু ফিল্মকে ধন্দেকে বারে। পৌরভি না সহি, পৌরভিকে ইয়ে ফিল্ম হি মেরে নসিব খুল দিয়া। ইশ্বর জব দে, কিসিকো কৈসে দে, কৌন জানে?”
“পৌরভিকা মর চুকি হ্যায় আপ জানতে?”
“হাঁ, টিভি মে দেখা। বড়ে লোগকে মামলা। হমে কেয়া লেনা-দেনা?”
মনে হচ্ছে কাভিয়া যে কাহিনিটা এত কষ্ট করে হেডলাইনস করেছে, সেটা আসল সূত্র নাও হতে পারে। আসল সূত্র হয়ত চতুর্বেদী। ডাক্তারের থেকে এসব লোক-ই বেশি সন্দেহজনক। এই ব্লু ফিল্ম নিয়ে চতুর্বেদীর সঙ্গে পৌরভির কিছু হয়ে থাকতে পারে? তার থেকেই মৃত্যু। অন্য অজ্ঞাত কারণে নীলকান্থের মৃত্যুর পেছনেও চতুর্বেদীর হাত থাকতে পারে। এই ধোঁয়াশা পৃথিবীর লোকগুলোকে অতটা সহজে উড়িয়ে দিতে পারে না। চতুর্বেদীর সঙ্গে ডাক্তারের যোগাযোগ থাকলেও থাকতে পারে। কে জানে? চতুর্বেদীর এজেন্সি বাইরের পৃথিবীটারও ঠিকানা লাগাতে হবে।
মনিশঙ্কর আইয়ারের বাড়ি থেকে বেরিয়ে হোম সেত্রেুটারিকে দিয়ে ফোন করাল মহারাষ্ট্রের পুলিস হেড-কোয়াটার্সে। চতুর্বেদীর নাড়ি-নক্ষত্র জানতে হবে। জানতে হবে পৌরভির সঙ্গে তার কী সম্পর্ক? মনে হচ্ছে চত্রেুর উৎস বাঙ্গালে নয়, মহারাষ্ট্রে।
গন্তব্য যেখানেই হোক না কেন, সব খুঁটিয়ে দেখতে হবে। চিফ সেত্রেুটারির ছেলে আর দক্ষিণের নামকরা হিরোইন বলে কথা।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইনএই বইয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
পড়া চালিয়ে যেতে নিশ্চিত করুন যে আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি।