অনিরুদ্ধ বসু
খুনের পর খুন!
যদিও দিলওয়ান সিং নীলকান্থের মৃত্যুর কিছু লিডস পেয়েছে, অবচেতনে সন্দেহ, এই যুবকের মৃত্যু পলিটিক্যাল ইস্যু নয় তো? নির্বুদ্ধিতায় মাথা চাপড়াল। পলিটিক্যাল হলে, চিফ সেত্রেুটারির ছেলেকে খুন করবে কেন? হোক না রঙ্গনাথন চিফ মিনিস্টারের পেয়ারের। সে কোনও ব্যবসায়ীকে অসন্তুষ্ট করে থাকতে পারে। তাই এই জিঘাংসা। রাজাপ্পার থেকে নীলকান্থের সঙ্গে সোফির হৃদ্যতার কথা শোনার পর, চিন্তা নতুন মোড় নিয়েছে। জয়ন্ত রাজার কথামতো ব্যাঙ্গালুরু থেকেই অপারেশনটা। খুনের আসল সূত্র ব্যাঙ্গালুরুতে নয়, মুম্বাইতে।
মুম্বাই পুলিসের ডিজিকে সোফির বিষয়ে জানাতে উদ্যোগী হল। উত্তর আসার সঙ্গে সঙ্গেই আর একটা খুন। যে সে নয়, দক্ষিণের খ্যাতনামা অভিনেত্রী পৌরভি। ঘটনাটা মহাবালিপুরমে ঘটলেও মেয়েটা চেন্নাইয়ের। শেষ পর্যন্ত মহাবালিপুরম থেকে তদন্তের ভার দিলওয়ানের ওপরই পড়বে। একজন নামজাদা লোকের ছেলে, অন্যজন নামী হিরোইন। মিডিয়া আবার ছেঁকে ধরবে। হোম সেত্রেুটারি থেকে ঘনঘন ফোন আসবে। বিধানসভায় রাজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে ঝড় বয়ে যাবে। একাংশ যে দিলওয়ানের ওপর ঝাপটে পড়বে না, সে কথা ভাবাও বাতুলতা। তার আগেই আদা-জল খেয়ে নামতে হবে। না হলে পদচ্যুতি অনিবার্য। এতদিনে বুঝেছে কাজ যাই করুক, রুলিং পার্টি বিপদে পড়লে, তার ঝড় সেত্রেুটারিয়াল ও আইপিএস লেভেলে পড়তে বাধ্য। ওদেরও দোষ দেওয়া যায় না। গদি রক্ষা করতে হবে।
মুম্বাই থেকে ফোন “দিস ইজ রোশন, অ্যাডিশনাল কমিশনার অফ পুলিস, মুম্বাই। আর ইউ দ্য এসি অফ চেন্নাই?”
“ইয়েস?”
“দ্য ডিজি হ্যাস পাসড অন দ্য ইনফরমেশন, ইউ আর ইন্টারেস্টেড ইন এ গার্ল নেমড সোফি। হোয়াই?”
“ইউ প্রব্যাবলি নো আওয়ার চিফ সেত্রেুটারিস সন নীলকান্থ ওয়াজ সাইলেন্টলি মার্ডারড ইন লেডি ফ্লোরেন্স হসপিট্যাল। ইন দ্য প্রসেস অফ ইনভেস্টিগেশন, আই হ্যাভ কাম টু নো, নীলকান্থ হ্যাড এ ক্লোজ অ্যাসোসিয়েশন উইথ এ গার্ল ফ্রম কোলাবা হুজ ফাদার ইজ এ ডায়মন্ড মার্চেন্ট”
“ইফ আই অ্যাম নট মিস্টেকেন, দিস ইস দ্য সেম গার্ল। হার পারটিকুলার্স ম্যাচ ইওর কোয়ারিস”
“হোয়াট ডু ইউ নো অ্যাবাউট হার?”
“সি ইজ ডেড”
বিস্ফোরণটা মহাবালিপুরমে বিচে নয়, দিলওয়ানের উর্বর চিন্তায়।
“হো... য়া... ট?”
“সি ডায়েড ইন এ লরি অ্যাক্সিডেন্ট নিয়ার ম্যাথেরন, এ ফিউ কিলোমিটার্স ফ্রম মুম্বাই”
“অ্যাকসিডেন্ট?” প্রশ্ন ছুড়ল দিলওয়ান সিং।
“ইনিসিয়ালি উই থট ইট ওয়াজ অ্যান অ্যাকসিডেন্ট। ফোর ওয়ার ইন দ্য কার। ওয়ান নেমড সন্নিধি সারভাইভড। সি ওয়াজ ইন কোমা, সো লং। উই কুডন্ট গেট দ্য প্রপার স্টোরি। রিসেন্টলি সি রিগেইনড্ কনশাসনেস। ইন হার কনফেশন, সি কমিটেড ইট ওয়াজ নট অ্যান অ্যাকসিডেন্ট। ইট ওয়াজ ডেলিবারেট। হুইচ পুটস দিস আন্ডার ৩০২ আইপিসি”
যা বাবা। কেঁচ খুড়তে সাপ!
দিলওয়ান ভাবছে, নীলকান্থ কী সোফির মৃত্যুর খবর জানত? বাবাকে না জানানো স্বাভাবিক। বলেইনি সোফির সঙ্গে হৃদ্যতার কথা। কিন্তু রাজাপ্পা? তাকেও জানায়নি। ব্যাপারটা সন্দেহজনক। এমন কিছু কী ভেতরে চলছিল, যা গোপন করেছে। গোপন তথ্যটাই হতে পারে খুনের রহস্য। কী সেই তথ্য? যে জবাব দিতে পারত, সেই সোফি বেঁচে নেই।
“হোয়াই ওয়ার দে গোয়িং টু ম্যাথেরন?”
“টু মিট এ প্রিস্ট নেমড ভওয়ানিশঙ্কর”
“হু ইজ হি?”
"হি রানস অ্যান আশ্রম ইন ম্যাথেরন। ওয়েল রেস্পেক্টেড। উই হ্যাভ অলরেডি ইনটারোগেটেড হিম। হি সিমস টু বি লাইক এনি আদার প্রিস্ট”
দিলওয়ান সিং ভওয়ানিশঙ্করকে নিয়ে ভাবছে না। মাথায় সন্নিধির নাম। অগতির গতি, এখনও বেঁচে থাকা সন্নিধি।
“আই হ্যাভ টু ইনটারোগেট সন্নিধি এএসএপি। আফটার অল, ইটস চিফ সেত্রেুটারিস সন। লট অফ থিংস টু আন্সার ইন দ্য অ্যাসেম্বলি”
“হোয়েন আর ইউ কামিং?”
“টুনাইট। আই ওয়ান্ট মিট হার টুমরো মর্নিং”
পরের দিন সন্নিধির বেডের পাশে। আগে রোশনকে বলে রেখেছে “আই ওয়ান্ট টু টক উইথ হার অ্যালোন। সিন্স ইউ হ্যাভ অলরেডি ইন্টারোগেটেড হার, ইফ ইউ আর অ্যারাউন্ড সি মে নট টক। আই উইল অ্যাপ্রোচ হার অ্যাস নীলকান্থস ফ্রেন্ড, এ ফ্রেন্ড অফ রাজাপ্পা অ্যাজ ওয়েল ইন সিভিলিয়ান ড্রেস”
“অ্যাস ইউ প্লিজ” রোশন হাসপাতালের বাইরে তাকে নামিয়ে চলে গেল।
সন্নিধিকে দেখে মায়া হল। ফ্যাকাসে মুখ। চাদরে ঢাকা সাদা গাউন পরে শুয়ে। একটুও উত্তাপ নেই। প্রাণহীন জীবন্ত কায়া হাসপাতালের বেডে। পায়ে প্লাস্টার, হাতে ব্যান্ডেজ। বহুদিন ভেন্টিলেটারের জন্য ট্র্যাকিওস্টমি এখন বন্ধ, সেলাই করা। বেডের কাছে বসে বলল “লেট মি ইনট্রোডিউস মাইসেলফ। আই অ্যাম দিলওয়ান সিং। এ কমন ফ্রেন্ড অফ নীলকান্থ অ্যান্ড রাজাপ্পা। ডু ইউ নো নীলকান্থ?”
অতীতের স্মৃতি হাতড়াচ্ছে। নীলকান্থ? নামটা চেনা চেনা। কোথায় শুনেছে?
সন্নিধিকে ভাবতে দিয়ে বসে রইল। অঙ্কুরের মৃত্যুর বিষণ্ণতা এখনও আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে। দেহ দেওয়া যায় অনেককে। মন কী দেওয়া যায়? অঙ্কুর যখন নেই, কী হবে লুকিয়ে? সেও মারা যাতে পারত? মনে হয়েছিল এটা অ্যাকসিডেন্ট নয়। ডেলিবারেট অ্যাকসিডেন্ট। মানে পরিকল্পিত খুন। যে বা যারা এটা করেছে, তারা ক্ষমার অযোগ্য।
ফ্যাকাসে চাহনি “নীলকান্থ? দ্য নেম রিংস এ বেল” মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে।
“আই হ্যাভ হার্ড দ্য নেম ফ্রম সোফি। ইজ হি দ্য সন অফ সাম সেত্রেুটারি ইন চেন্নাই?”
“ইয়েস” মাথা নাড়ল দিলওয়ান সিং।
“সোফি ইউসড টু সে দে ওয়ার স্টেডি। আই গ্যাদার সি ডায়েড ইন দ্য অ্যাকসিডেন্ট। আই শুডন্ট বি সেইং দিস, দো সোফি ওয়াজ মাই ফ্রেন্ড। সি হ্যাড সো মেনি ফ্লিংস, ইটজ ডিফিকাল্ট টু সে হু সি ওয়াজ স্টেডি উইথ? এভরি ইয়ং গাই হু কেম অ্যাত্রুস হার থট, হি ওয়াজ দ্য ওনলি ওয়ান। হ্যভিং নোন হার, সি কুড নেভার বি ফর ওয়ান”
“নীলকান্থ?”
“ওয়ান অফ হার মেনি ফ্লিংস। ডিড নীলকান্থ সে হি ওয়াজ ইন লাভ?”
“ইয়েস” মিথ্যে বলল।
“হি মাস্ট হ্যাভ বিন ইন এ ফুলস প্যরাডাইস। দো সোফি ওয়াজ ফ্রম এ রিচ ব্যাকগ্রাউন্ড, হ্যাভিং লস্ট হার মাদার অ্যাট এ ভেরি টেন্ডার এজ অ্যান্ড ফাদার বিয়িং আওয়ে মোস্ট অফ দ্য টাইম, সি হার্ডলি গট এ টাচ অফ লাভ। ফরগেট নোয়িং হোয়াট ইট মেন্ট। হোয়াই ডোন্ট ইউ আস্ক নীলকান্থ?"
“নীলকান্থ ইজ নো মোর। হি ইজ ডেড। হি ওয়াজ মার্ডার্ড”
সন্নিধি বাক্যহীন। ভাবছে এবারে বেঁচে গেছে, পরে কী পারবে? অঙ্কুর মৃত, সোফি মৃত, এখন এ বলছে নীলকান্থও মৃত। এরপর নিশ্চয়ই তার পালা। কবে? মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচেও মৃত্যুপ্রতীক্ষা।
কোনো চত্রেু জড়িয়ে সে?
কী ভাবেই বা পরিত্রাণ?
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইনএই বইয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
পড়া চালিয়ে যেতে নিশ্চিত করুন যে আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি।