অনিরুদ্ধ বসু
রাজেন্দ্র চতুর্বেদী ওরফে রাজু তার ঐতিহ্যময় বেদিক পরম্পরার কলঙ্ক। জীবনের শুরু দালালি দিয়ে। বাসভূমি মথুরার কাছে, বাবা সংস্কৃতের অধ্যাপক। পণ্ডিত বাবা যতই মনে করাক না কেন, ওরা সম্রাট অশোকের নবরত্নের অন্যতম বীরবলের বংশধর, যে চতুর্বেদী ছিল। কোনওদিনই বিশ্বাস করেনি বাবাকে। গোঁড়া রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম। অ্যালেকজান্ডার দ্য গ্রেটের জমানা থেকে চতুর্বেদী পরিবারের পরম্পরা। এরা যুগ-যুগান্ত শ্রদ্ধার পাত্র চারটি বেদের পাণ্ডিত্যের জন্য।
রাজু অন্য ধাতুতে গড়া। মহিলা সংগ্রহ করে খদ্দেরের কাছে বেচায় পারদর্শী। মুম্বাইয়ের নিষিদ্ধ পল্লিতে তার অবাধ বিচরণ। মাফিয়া, আন্ডারওয়ার্ল্ড গ্যাং, উঠতি তারকা, জাল সাধু, নেশাখোর, দালালদের পীঠস্থান যে দুনিয়ায় অপরাধ ও শাস্তির সহাবস্থান। এখানেই রাজু স্বাভাবিক, সক্রিয়, তৎপর। মক্কেলদের প্রতি কর্তব্যপরায়ণ। তাই কেউ রাজুর ক্ষতি করে না। মথুরার রংহীন জীবনের চেয়ে মুম্বাইয়ের এই এলাকা অনেক প্রাণবন্ত। পরিবারের মুখে চুনকালি লেপে, বাবার ছত্রছায়া থেকে পালিয়ে, নিজের ভাগ্য গড়তে তার এখানে পদার্পণ। প্রথমে কষ্ট হলেও একগুঁয়েমির জেরে পাকাপাকি নিজের জায়গা করে নিতে সক্ষম এই দয়াহীন দুনিয়ায়। ধীরে ধীরে জাল বুনে একদল চ্যালাও জুটিয়েছে। ভালো কামাই। কিছুদিনের মধ্যে মেয়েছেলের দালালিতে আভিজাত্য আনতে নিজের অফিসও খুলেছে। ক্রমশ মক্কেলদের ক্লাসের পরিবর্তন। রাজুরও উঁচু সোসাইটিতে বিচরণ।
নিঃস্ব থেকে সর্বস্ব। এই রাজুর কাহিনি।
প্রেগন্যান্ট হয়ে ঘেঁটে দিল অনুস্কা। শালা কন্ডমও ফুটো হয়ে যায়, ভাবতে পারেনি রাজু। অনুস্কা ধারভির। ‘ভাই’ দাগি ধমাকা কাম্বলের রখেল। ভয় ওর সাগরেদরা না পিছু ধাওয়া করে। আসল নাম দিলীপ কাম্বলে। বোম বানাতে ওস্তাদ বলে ‘ধমাকা’ উপাধি। প্রেগেন্সিতে অনুস্কার বিবর্তন। রাখেলের থেকে সংসার করে শান্তির পক্ষপাতী। নিরন্তর ঘ্যানঘ্যানানি ‘সাদি করো। মুঝসে সাদি করো’ মৌমাছির আওয়াজের মতো বিরক্তিকর। রাজু অথৈ জলে। বোকা মেয়ে কোথাকার। কে বলেছিল তার সঙ্গে শুতে? মাগি ইচ্ছে করেই ফাঁসিয়েছে। ওই তো কন্ডমের সাপ্লায়ার। নিশ্চয়ই ফুটো মাল লাগিয়ে বাগে এনেছে।
আশ্চর্যভাবে ধমাকা সাগরেদদের পাঠাল না রাজুর মোকাবিলা করতে। কাম্বলে জানত। মনে মনে রাজুকে অভিনন্দন দিল অনুস্কাকে ঘাড় থেকে নামাবার জন্যে। রাখেল তো। তার কি একটা রাখেল? অন্যদের কে দেখবে? সুন্দরী হলেও অনুস্কা টাইম-পাস মস্তির জন্য। তার আসল ভালোবাসা বোম। রাগে ফুঁসছে রাজু। কী করতে পারে? মাগিটা তাকে চুনা লাগিয়েছে। ভীত রাজু কোণঠাসা বন্দি বাঘের মতো। বাঘ জালে ফাঁসলে আত্মরক্ষা করে। এটাই জঙ্গলের নিয়ম। রাজুও ওদের মতো ভাবতে লাগল বেরোবার উপায়। এ কাঁটা গলায় লটকালে শুধু ধান্দার ক্ষতি নয়, তার অবাধ জীবনেরও ইতি।
অনুস্কাকে ডেকে পাঠাল। সূর্য মুম্বাইয়ের ঝাপসা স্কাইলাইনের পেছনে অস্ত যাচ্ছে। দামি সোফায় বসিয়ে কাঁধের ওপর হাত রেখে বিগলিত দৃষ্টি। গভীর আবেগে চোখ বুজে অনুস্কার মাথা তার বুকে।
“চল না কাহি ঘুম আয়ে”
আহ্লাদে গদগদ অনুস্কা “কাহাঁ?”
“হরদোয়ার”
“তু যাঁহা যাঁহা চলেগা, মেরা সায়া সাথ হোগা” ফিল্মি সুরে গুনগুনিয়ে উঠল অনুস্কা।
মনে মনে রাজু হাসল। ইয়ে মুম্বাইওয়ালা ফিল্মকে আলওয়া ঔর কুছ সোচ নেহি সকতা। উসে জো ভি করনা হ্যাঁয়, মুম্বাই সে বহত দূর। হরিদ্বার যেতে যেতে ভাবল ওকে কোথায় ফেলা যায়। উৎকণ্ঠার ঘূর্ণিঝড়।
হরিদ্বার। ঈশ্বরের মর্ত্যনিবাস। হিন্দুদের পীঠস্থান। গঙ্গার উৎস স্রোতস্বিনী আলকানন্দা আর ভাগীরথীর সংযোগস্থল দেবীপ্রয়াগে। সেখানে থেকে তীব্রতা হ্রাস করে ইন্ডো-গ্যাঞ্জেটিক প্লেনে ভারতীয় সভ্যতার মানচিত্র এঁকে গঙ্গার অবরোহণ বেলাভূমি হরিদ্বারে। পবিত্র গঙ্গা যদি হিন্দুত্বের কেন্দ্রবিন্দু হয়, হরিদ্বার তারই সিংহদ্বার। হরির অর্থ বিষ্ণু। দ্বারের অর্থ দরজা। তাই হরিদ্বার বিষ্ণুর প্রবেশদ্বার। আবার হরদোয়ার শিবেরও দরজা। কোটি লোক হরিহরের এই একাত্ম পুণ্যস্থানে গঙ্গায় ডুব দিয়ে পাপ ধুতে ছুটে আসে মোক্ষলাভের আশায়। আসে শান্তি, প্রার্থনা, প্রায়শ্চিত্ত করতে।
রাজুর এখানে আসা অবশ্য এসবের জন্য নয়। অনুস্কার ঠিকানা লাগাতে। যদিও জানে না কীভাবে। দিল্লি পর্যন্ত উড়ানে। সেখান থেকে ছ-ঘণ্টা গাড়িতে হরিদ্বার। অনুস্কা যদিও এই ধকলে ক্লান্ত তবুও মন প্রসন্ন। যাত্রার উৎকর্ষতায় উৎফুল্ল। যদিও জানে না তার পরিণতি। মুম্বাইয়ের লোকাল ট্রেনে চড়তেই অনীহা। রাজু দ্বন্দ্বে। জানে না, এরপরে কী? যাত্রার বেশিরভাগ সময় ভাবলেও কোনও সদুত্তর মাথায় এল না।
“কিতনা দিন ইধর?”
“জো তুমহারি মর্জি” নিজেও তো জানে না।
উদ্দেশ্যহীনভাবে হরিদ্বারের মন্দির থেকে পীঠস্থানে ঘুরে বেড়ানো। অনুস্কার ভালো লাগলেও রাজু অধৈর্য। এভাবে তো চলতে পারে না। মুম্বাইতে ঝা চকচকে ব্যবসা যে মার খাচ্ছে। হঠাৎ ঈশ্বর মুখ তুলে চাইলেন। ঘুরিয়ে দিলেন ভাগ্যের চাকা। হর-কি-পৌরিতে স্নান করতে গিয়ে এক সাধুর সঙ্গে পরিচয় - গোবিন্দ মাহারজ।
হরিদ্বারের কোলাহল থেকে দূরে, দেরাদুন হাইওয়ের ওপাশে, পাহাড়ের পাদদেশে গোবিন্দ মহারাজের আশ্রম। প্রার্থনা, ধ্যানে মানসিক জড়তা কাটিয়ে ঈশ্বরের কোলে শান্তির বাতাবরণ। এই নির্জনতায় পাহাড়ি বাতাসের ভাষা শোনা যায় পাখিদের কলকাকলির মধ্যে। তার-ই কেন্দ্রবিন্দুর বেদিতে বসে গোবিন্দ মহারাজ উদাত্ত দরাজ কণ্ঠে ভক্তদের ঈশ্বরের বাণী শোনাচ্ছেন। অনুস্কা তাকে দেখে অভিভূত। ওরা দুজনেই চুপচাপ শেষের সারিতে গিয়ে বসল।
কী কণ্ঠস্বর এই সুপুরুষের! সব সাধুরাই কী এত মোহিত শক্তির অধিকারী? গৌরবর্ণ, ছয় ফিট কোমরবন্ধ অবধি গেরুয়ায়র ছোঁয়া। চওড়া কাঁধ, ঘন কালো চুল, গোবিন্দ মহারাজের খোলা ওপরাংশের মাংসপেশি যেন পাথর খোদাই। চোখের শ্যেন দৃষ্টি সাধারণ কাউকে বিদ্ধ করে ছিঁড়ে ফেলতে পারে। অনুস্কা মুগ্ধ, অভিভূত। বাবাকে দেখে তার নিম্নভাগের সিংহদ্বার, হরিদ্বারে আবার দ্বার খুলতে আগ্রহী। যদি সুযোগ মেলে। বাবার আকর্ষণ অবহেলার নয়। বয়স? কী হবে জেনে? রাজু লক্ষ করল বাবার সব শিষ্যই মহিলা। ভাবল দুজনের মধ্যে এখানেই মিল। দুজনেরই মহিলামহলে বিচরণ। যদিও বাবার দৈববাণী বুঝতে অপারাগ, মহিলা ভক্তবৃন্দ বিহ্বল, মন্ত্রমুগ্ধ। বাণীর অন্তে করতালি, বাবার কণ্ঠে ছন্দ মিলিয়ে সমুজ্জ্বল দৃষ্টিতে শূন্যতার দিকে চেয়ে। বাবার দুপাশে কাঙ্ক্ষিত দুই সুন্দরী। প্রয়োজনে বাবার খিদমতের জন্য প্রস্তুত। রাজুও মুগ্ধ।
গোবিন্দ মহারাজের শ্যেনদৃষ্টি চোখ এড়ায়নি রাজু আর অনুস্কার প্রবেশ।
হাত তুলে অনুস্কাকে আহবান “ইধর আও বেটি। মেরে পাস বৈঠ”
হতচকিত অনুস্কা। বাবা তাকে ডাকছে! সে ধন্য। অনুস্কা রাজুর সম্মতি চেয়ে তাকাতে, রাজু মাথা নাড়ল। উঠে লাজুকভাবে মহারাজের কাছে গিয়ে বসল। তার সান্নিধ্যে মুগ্ধ। তাই দেখে রাজুর বিকৃত বুদ্ধির নতুন ফোয়ারা।
“ক্যায়সে লাগা?” বাণীর শেষে রাজুর প্রশ্ন।
“ক্যায়সা? স্বরগ কে তরাহ”
“তুমহারে ইয়ে হালত মে, আশ্রম মে কুছ দিন বিতানে সে শান্তি ঔর বিশ্রাম দোনো হি মিলেগা” ধূর্ত রাজু বোঝাল।
অনুস্কা আর কী বেশি চাইতে পারে? তৎক্ষণাৎ রাজি। রাজু বোঝাল ব্যবসার কাজে তাকে কিছুদিনের জন্য মুম্বাই যেতে হবে। ফেরত এসে অনুস্কাকে নিয়ে যাবে। অনুস্কা রাজি। সেইমতো বাবার সঙ্গে ভেটের অভিপ্রায়। বাবার সানন্দ সম্মতিতে রাজু স্তম্ভিত।
“নাম কেয়া বেটি?”
অনুস্কা গোবিন্দ মহারাজের পদদেশে ষষ্টাঙ্গে প্রণাম সেরে নাম বলল।
“ও কুছ দিন আপকে চরনো মে বিতানা চাহতি হ্যায়” রাজুর মহারাজের কাছে আবদার “শান্তিকে লিয়ে। পোয়াতি হ্যায়...”
বাবার বুঝতে অসুবিধা হল না “বেটে, ইয়ে মহিলাওকে আশ্রম। জিতনা দিন খুশ রহে। লেকিন গর্ভবতী ঔরতকে লিয়ে মুস্কিল হো সকতা হ্যায়”
“কুছ দিনও কি তো বাত হ্যায়। রাখ লিজিয়ে। মুম্বাই সে লৌট কর ম্যায় লে জাউঙ্গা। আখরি সময় তো উহা বিতানেই হোগা”
“ঠিক হ্যায়” বাবার সম্মতি।
অনুস্কা ঘোরাচ্ছন্ন। খুশি। ভাবছে কী ভাবে এই সুপুরুষের শয্যাসঙ্গী হওয়া যায়। জানে না, ভণ্ড বাবা মহিলাদের সঙ্গমের আনন্দযজ্ঞে পারদর্শী।
ব্যাবসার খাতিরে রাজুর মুম্বাইতে প্রত্যাবর্তন। প্রতিজ্ঞা, কোনও কিছুতেই আর এমুখো হবে না। অনুস্কা ভাবল, ভালোই তো। রাজু যাতে আর এ পথ না মাড়ায়। সানন্দে রাজুকে বিদায়। গোবিন্দ মহারাজের আশ্রমের লীলাক্ষেত্রে আরেক নারী সংযোজন। অনুস্কা বাবাকে বোঝাতে সক্ষম হল, এই মুহূর্তে গর্ভস্থ সন্তানের অনাবশ্যকতা। শান্তি, ধ্যানই তার কাম্য বাবার তত্বাবোধনে। খালাস করা হল ভ্রূণকে দেরাদুনের এক ঘিঞ্জি ক্লিনিকে। অন্যান্য মহিলাদের বারবার গর্ভবতী করার জন্য বাবা এই ক্লিনিকের নিয়মিত ক্লায়েন্ট। সিদ্ধহস্ত।
মিলনাত্মক ধর্মচর্চা হরিদ্বারে সম্ভব নয় বলেই বসতি থেকে দূরে, পাহাড়ের পাদদেশে, জঙ্গলের মধ্যে এই আশ্রম। আশ্রমের গতিবিধির ওপর ছানবিন করা ব্যক্তিরা নিমেষে উধাও। আর খোঁজ পাওয়া দুষ্কর বাবার স্বরচিত জালে।
অনুস্কার পুরনো অভ্যাসে প্রত্যাবর্তন - সেক্স আর ঠগবাজি বাবার সম্মতিতে চোখের সামনে। বাবাও সেই পথের পথিক। মধুর এই জীবনে, অনুস্কা বাবার কাছের লোক হয়ে উঠল। আশ্রমের ছত্রছায়ায় তার ক্রিয়াকলাপের ব্যাপ্তি একদা বাবার প্রিয় দীপার প্রতিবাদী বিষদৃষ্টি উপেক্ষা করে। বাবার কাছে প্রতিবাদ করে বিফল। বাবার আনুস্কাকেই পছন্দ। পুরনো মাল দীপাকে নিয়ে সেও বীতশ্রদ্ধ, ক্লান্ত।
আশ্চর্যভাবে রাজুর সঙ্গে এই ভণ্ডের যোগাযোগে কিন্তু ছেদ পড়েনি। দুজনেই নারীর পূজারি। বিনিময় অবশ্যম্ভাবী।
বছর দুয়েকের মধ্যে দীপার বিস্ফোরণে বাবা গোবিন্দ মহারাজ বীতশ্রদ্ধ। অনেক হয়েছে। আর নয়। দীপা কী ভুলে গেছে বাবা তাকে কত করেছে? মুজাফফরনগরের এঁদো ঘিঞ্জি বস্তি থেকে আশ্রমে শুধু স্থানই দেয়নি, কল্পনাতীত নির্মল আনন্দও তো দিয়েছে। অনুস্কার নখের যোগ্য নয়। অনুস্কা বহ্নিশিখা। আগুন জ্বালাতে পারে নিম্নাঙ্গ থেকে সারা দেহে। নতুন রূপে আঁকতে পারে কামসূত্র। দীপা শুধু সহ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে নয়, বোঝাও বটে। এর আগে এমন কোনও ধূর্ত নারীর সংস্পর্শে আসেনি।
গোধূলি রাতের দিকে ঢলে পড়েছে। ভক্তরা ডেরায় ফিরে গেছে। বাবা দীপাকে নিয়ে গেল আশ্রম থেকে দূরে পাহাড়ের গা ঘেঁষা ঝর্নার ধারে। একাকী দুজনে সবুজ ঘাসের গালিচায় বসে। হাতে হাত। কাছে টেনে নিল দীপাকে।
আলিঙ্গনে বিহ্বল দীপাকে প্রশ্ন “বাত কেয়া দীপা? কেয়া চাহিয়ে তুমহে?”
“আপকো। সিরফ আপকোই চাহিয়ে। বিচ মে অনুস্কা কিউ?”
“ম্যায় তো সবকে লিয়ে। হর কোই মেরে পেয়ার কা হকদার। ঈশ্বরকে মাফিক” বাবার মিথ্যে সান্ত্বনা।
বিশ্বাস হল না দীপার। বাবাকে হাড়েহাড়ে চেনে। বারবার বিরক্তিকর অভিব্যক্তি অনুস্কাকে বহিষ্কারের জন্য। বাবাও দৃঢ় সংকল্প। অনুস্কাই শ্রেষ্ঠ। যত বাক বিতণ্ডা বাড়ছে, ততই অধৈর্য হয়ে পড়ছে বাবা।
“ইয়ে নেগি চলেগা। ম্যায় কভি ইয়ে হোনে নেহি দুঙ্গি। ম্যায় আশ্রমকে হর কে সাথ ইসকা বিরোধ করুঙ্গি”
দীপার চিৎকার কী শান্ত পাহাড়ের বুক চিরে কোথাও পৌঁছচ্ছে? একমাত্র বাবার ধমনি থেকে মস্তিষ্কে। রাগে কাঁপছে। হিংস্র হায়নার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল দীপার ওপর। টানতে টানতে নিয়ে গেল ঝর্নার ধারে। পাইথনের মতো গলা চিপে মুখটা ডুবিয়ে দিল ঝর্নার জলে। কিছুক্ষণ পরে দাপাদাপি শেষ। শিথিল হয়ে গেল দেহটা। চোখ দুটো ঠিকরে বেরিয়ে আসছে। থেমে গেছে জীবনের স্পন্দন।
বাবা তখনও চেয়ে আছে ওর ঠিকরে বেরনো চোখে। প্রাণহীনের আকাশের শূন্যতায় দৃষ্টি। কুড়ি বছর আগের পেয়ারের ঝিমলিকে নতুন রূপে দেখছে দুর্গা প্রাসাদ। আজকের গোবিন্দ মহারাজ।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইনএই বইয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
পড়া চালিয়ে যেতে নিশ্চিত করুন যে আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি।