জ্যান্ত পিশাচ

ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বিক্রমাদিত্য সেই গাছ থেকে শব নামিয়ে কাঁধে ফেলে যথারীতি শ্মশানের দিকে নীরবে এগোতে লাগলেন। তখন শব থেকে বেতাল বলল, 'রাজা, অতীতের ক্ষমতা ভিত্তিতে মানুষের অহংকার বেড়ে যায়। প্রমাণ স্বরূপ আমি তোমাকে একটি কাহিনি বলব। এই কাহিনি শুনে তুমি বুঝতে পারবে যে আমার কথা সত্য। পথ চলতে চলতে প্রবীণের এই কাহিনি শুনলে তোমার পরিশ্রমও লাঘব হতে পারে।' বলে বেতাল প্রবীণের কাহিনি শুরু করল

প্রাচীন কালে সুবর্ণগিরির শাসক রাজসিংহ অত্যন্ত অযোগ্য রাজা ছিল। রাজার যা করা উচিত, যেসব কাজ নিজের দেখা উচিত তার কোনোটাই সে করত না। সব কাজ বড়ো বড়ো রাজকর্মচারীদের উপর চাপিয়ে নিজে আনন্দে ডুবে থাকত। ফলে সেইসব কর্মচারীরা প্রজাদের উপর অত্যাচার করে নিজেদের অর্থ বাড়াত। নিজেদের আত্মীয়স্বজনদের রাজকর্মচারী হিসাবে নিয়োগ করত। দেখতে দেখতে সুবর্ণগিরির অবস্থা এমন হয়ে গেল যে রাজার ঝাড়ুদার থেকে মন্ত্রী পর্যন্ত প্রত্যেকে প্রজাদের পীড়ন ও শোষণ করত। অর্ধমও মাথাচাড়া দিয়েছিল। কিন্তু দেশে যে এত অত্যাচার, এত অধর্ম হচ্ছে সে বিষয় রাজা কিছুই জানত না। বড়ো বড়ো রাজকর্মচারীরা যা বোঝাত রাজা তাই বিশ্বাস করত। ওরা দিন বললে রাজা দিন মনে করত। ওরা রাত বললে রাজাও রাত মনে করত।

সুবর্ণগিরিতে এক গরিব ব্রাহ্মণের প্রবীণ নামে এক ছেলে ছিল। অল্পবয়স থেকে প্রবীণের জ্ঞান অর্জনের প্রবল ইচ্ছা ছিল। তাই প্রবীণের বাবা সমস্ত শাস্ত্রে বিজ্ঞ করে তুলেছিল। বড়ো হয়ে প্রবীণ দেশে দেশে ঘুরে বিভিন্ন বিদ্যানিকেতনে ঘুরে যতটা পারল শিক্ষালাভ করে সুবর্ণগিরিতে ফিরে এল। বিরাট পাণ্ডিত্য অর্জন করে ছেলে যখন ফিরে এল তখন প্রবীণের বাবা ভাবল দেশে ছেলে কদর পাবে। পাণ্ডিত্যের মর্যাদা পাবে। কিন্তু চারদিকের অবস্থা দেখে প্রবীণের বাবা অত্যন্ত দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে একদিন ছেলেকে বলল, 'বাবা আমরা খুব গরিব লোক। এত জ্ঞান অর্জন করলে, দেশে দেশে ঘুরে এত পাণ্ডিত্য অর্জন করলে এই পোড়া দেশে তার কি যে মর্যাদা পাবে ভেবে পাচ্ছি না। মর্যাদা না পেলে অর্থ আসবে না। অর্থ না এলে আমাদের এই দারিদ্র ঘুচবে না।'

'কী বলছ বাবা, যত দিন যাচ্ছে, দেশের অবস্থা যত দেখছি তত আমার মন ভেঙে যাচ্ছে। আমি কার কাছে সম্মান পাব। আমাকে সম্মানিত করার লোক কি এই দেশে আছে? তুমি বলছ পোড়া দেশ। কিন্তু আমি দেখছি এটা জ্ঞানহীনদের দেশ। বোকাদের দেশ।' প্রবীণ বলল।

ছেলের কথা শুনে প্রবীণের বাবা ক্ষুণ্ণ হল। বুঝল, প্রবীণের মধ্যে অহংকার ঢুকেছে। তার সেই অহংকার দূর করার জন্য প্রবীণের বাবা বেছে বেছে ভালো ভালো পণ্ডিতদের আনিয়ে তাদের সঙ্গে ছেলেকে তর্ক করতে বসাল। ওরা প্রবীণের সঙ্গে তর্ক করে যাওয়ার সময় তার বাবাকে বলে যেত, 'আপনার গর্বিত হওয়া উচিত। আপনার পুত্র একটি রত্নের সমান। তার পাণ্ডিত্য সীমাহীন।' এইভাবে বিভিন্ন পণ্ডিতের মুখে ছেলের প্রশংসা শুনতে লাগল প্রবীণের বাবা।

গুণীর গুণ চাপা থাকে না। আগুন কখনো ছাই চাপা থাকতে পারে না। তাই প্রবীণের নাম, তার গুণের কথা, তার শিক্ষার কথা, লোকের মুখে মুখে প্রচারিত হতে লাগল।

কথাটা ঘুরে ঘুরে রাজার কানেও প্রবীণের বিষয় গেল। রাজা প্রবীণকে ডেকে পাঠাল। তাতে প্রবীণের বাবা খুব আনন্দিত হল কিন্তু প্রবীণ রাজার কাছে যেতে আগ্রহী ছিল না। শেষে একরকম জোর করে ছেলেকে নিয়ে রাজার কাছে গেল প্রবীণের বাবা। প্রবীণের বাবা যে আশঙ্কা এতক্ষণ করছিল তাই শেষপর্যন্ত হয়ে গেল। অত বোঝানোর পরেও প্রবীণ রাজপ্রাসাদের নিয়মকানুন মানতে পারল না। প্রবীণ রাজার কাছে গিয়ে বলল, 'আপনি আমাকে ডেকে পাঠালেন কেন?'

রাজাকে এভাবে প্রশ্ন করা রীতিবিরুদ্ধ। তাই প্রবীণের বাবা এবং রাজসভার প্রত্যেকে অবাক হয়ে গেল।

রাজা কিন্তু রাগ করল না। বলল, 'তোমার পাণ্ডিত্যের খবর পেয়ে তোমাকে সম্মান দানের জন্য ডেকে পাঠিয়েছি।'

প্রবীণ তাচ্ছিল্যের ভাব দেখিয়ে হো হো করে হেসে উঠল। রাজা মনে মনে ভীষণ বিরক্ত হয়ে বলল, 'তুমি ওভাবে হাসছ কেন? এতে হাসির কী হল?'

'আপনার দেশের প্রজারা খেতে না পেয়ে মারা যাচ্ছে। আপনার কর্মচারীরা ওদের রক্ত চুষে চুষে খাচ্ছে। অক্ষম এক কুশাসক রাজার কাছ থেকে সম্মান পাওয়া কি আনন্দের কথা? আসলে আমার কাঁদা উচিত ছিল, কিন্তু হেসে ফেললাম।' রাজার ভীষণ রাগ হল। বলল, 'মূর্খ কোথাকার। তুমি জানো কার সঙ্গে কথা বলছ? স্থান-কাল-পাত্র জ্ঞান যার নেই তাকে আমি পণ্ডিত মনে করি না। আমি যদি অক্ষম রাজা হই তোমার মতো পণ্ডিত কি ঘাস কাটছে! কোথায় কী হচ্ছে, কীভাবে কী করা যায়, কী করলে কুশাসন দূর হয় তা কোনোদিন আমাকে জানিয়েছ? অবিলম্বে আমাকে জানাতে হবে। তা না হলে তোমাকে দেশ থেকে দূর করে দেব। কি জানাবে?'

প্রবীণ এ-কথার কোনো জবাব দেয়নি।

তাকে নীরব থাকতে দেখে রাজা বলল, 'এই কে আছিস, এর পিঠে পঞ্চাশটি ঘা মেরে দেশ থেকে দূর করে দে।'

চাবুক খেয়ে প্রবীণ দেশ ছেড়ে চলে গেল। মনের দুঃখে ভেঙে পড়ল প্রবীণ। এত কষ্ট করে যে জ্ঞান সে অর্জন করেছে তার প্রতি অশ্রদ্ধা জাগল। শেষে মারা যাবে ঠিক করল।

যেতে যেতে অনেকখানি পথ চলার পর তার সামনে পড়ল একটি শ্মশান। চিতা জ্বলছে। আস্ত একটি মানুষের দেহ পুড়ছে দেখে তার ইচ্ছে করল ওই আগুনে ঝাঁপ দিতে। চিতার কাছে যেতেই নজরে পড়ল পিশাচরা কী যেন করছে!

প্রবীণ পিছনের দিকে সরে গিয়ে ওদের কাজ লক্ষ করল। ওরা বিয়ে বিয়ে খেলছে। কয়েকটা পিশাচ সানাই বাজাচ্ছে। কয়েকটা পিশাচ মাটির হাঁড়ি বইছে। বাকি পিশাচগুলো নাচছে। ওদের কাণ্ড দেখে প্রবীণের হাসি পেল। তার নিজের অবস্থার চেয়েও পিশাচদের অবস্থা অনেক ভালো মনে হল। আরও বিরক্তি জাগল নিজের উপর। আবার সে এগিয়ে গেল চিতায় ঝাঁপ দিতে। কোত্থেকে ঝাঁপ দিয়ে পড়ে দুই পিশাচ প্রবীণকে জিজ্ঞেস করল, 'আগুনে ঝাঁপ দিতে চাইছ কেন?'

'আমি এই আগুনে পুড়ে মরতে চাই। তোমাদের মতো পিশাচ হতে চাই। আনন্দে নাচতে চাই।' প্রবীণ বলল।

'পাগল কোথাকার। তুমি ভাবছ এই আগুনে পুড়ে মরলেই আমাদের মতো পিশাচ হতে পারবে। তুমি জানো না, সবার উপরে মানুষ। মানুষের জন্ম শ্রেষ্ঠ জন্ম। তুমি কেন মরতে চাইছ বিস্তারিত বল। তোমার মরতে চাওয়ার পেছনে যদি সঠিক কারণ থাকে তাহলে আমরা তোমাকে মরতে দেব।' ওদের মধ্যে একটি পিশাচ বলল।

'মানুষের চেয়ে হীন জন্ম আর নেই। মানুষের চেয়ে জঘন্য জীব আর নেই। কোনো প্রাণী স্বজাতিকে খায় না। একমাত্র মানুষ মানুষের রক্ত খায়। মানুষের কোনো নীতি নেই। চুরি থেকে শুরু করে যত রকমের অপকীর্তি সে করতে পারে। রাজা প্রজাদের রক্ত শোষণ করে। ধর্ম চাপা পড়ে যায় মানুষের অত্যাচারের দাপটে। পণ্ডিতরা নিজেদের পাণ্ডিত্য রাজাদের কাছে বিক্রি করে। নারী তার ইজ্জত বিক্রি করতে বাধ্য হয়।

বৈদ্য আজেবাজে ওষুধ দিয়ে রুগিকে সারায় না, মারেও না। ওর কাছ থেকে অর্থ নেয় প্রত্যেক দিন। ওষুধেও আজকাল ভেজাল দেয়। এমনকী শিশুও ভালো ওষুধ পায় না।

এসব দেখে আমি আর সহ্য করতে পারছি না। এবং এইজন্যই আমি চিতার আগুনে নিজেকে পুড়িয়ে শেষ করে তোমাদের মতো পিশাচ হতে চাই।' প্রবীণ বলল।

পিশাচ হেসে বলল, 'তুমি যে অত্যাচারীদের কথা বলছ ওরাই তো মরে পিশাচ হয়। তোমার মতো লোকের তো পিশাচ হওয়ার কোনো উপায় নেই। আমরা বেঁচে থাকতে অনেক পাপ কাজ করেছি। সেইজন্যই পিশাচ হয়েছি। এই দেখ, এ ছিল সুদের কারবারি। লোকের সোনাদানা অল্প টাকায় হাতিয়ে নিত। এর সঙ্গে রাজকর্মচারীদের যোগাযোগ ছিল। আর এই যে পিশাচ তোমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে এ ছিল বৈদ্য। আজেবাজে জিনিস ওষুধ বলে চালাত। এর হাতে অনেক লোক মারা গেছে। এখন আমরা সব পিশাচ হয়ে এক হয়ে গেছি। এখন আমাদের মধ্যে আর ভেদবুদ্ধি নেই। একে অন্যকে ছোটো করা, নষ্ট করার ইচ্ছা নাই। সব যখন ছিল হারানোর ভয় ছিল। এখন আমাদের কিছুই নেই, অতএব হারাবারও ভয় নেই।'

'তাহলে তো আরও ভালোই হল, আমাকেও তোমাদের মধ্যে এক করে নাও।' প্রবীণ বলল।

একটি পিশাচ তার কথার জবাবে বলল, 'তুমি কখনোই পিশাচ হতে পারবে না। ওই দু-জনের দিকে তাকিয়ে দেখ ওরা জাতিভেদ না মেনে একে অন্যকে ভালোবেসেছিল। ওদের বিয়েতে বাবা-মার আপত্তি ছিল। টাকার লোভে পড়ে এক বৈদ্য ওদের বিষ দিল। বিষ দিয়ে সে অনেক অর্থ পেল। যে বৈদ্য অর্থের লোভে এই দু-জনকে বিষ দিয়েছিল তার দেহ এখন ওই চিতায় পুড়ছে। আর যাদের বিয়ে আমরা দিচ্ছিলাম তারাই সেই প্রেমিক যুগল।'

'আমি যদি মরে পিশাচ নাও হই তবুও আমার কাছে মৃত্যুই শ্রেয়। আর আমার বেঁচে থাকার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা নেই।' বলে প্রবীণ চিতায় উঠতে গেলেই চিতার ওই দেহ পুড়ে পিশাচ হয়ে প্রবীণকে বাইরে ঠেলে ফেলে দিল।

'দেখ এখন আমার মধ্যে কোনো পাপবুদ্ধি নেই। তোমার বয়স কম। তুমি একজন বিরাট পণ্ডিত। তুমি লোভী নও। তুমি চরিত্রবান। তোমার পক্ষে আত্মহত্যা করা উচিত নয়।' বৈদ্য-পিশাচ বলল। কিছুক্ষণ ভেবে প্রবীণ বলল, 'এক শর্তে আমি আত্মহত্যা থেকে বিরত থাকতে পারি। আমি যে কাজ করতে যাব সেই কাজে আমি তোমাদের সাহায্য চাই।'

'কী বল, করতে রাজি আছি।' পিশাচ সানন্দে বলল।

'দেশে যত পিশাচ আছে সবাইকে এখানে ডেকে পাঠাও। ওদের সামনে বলব।' প্রবীণ বলল।

কিছুক্ষণের মধ্যেই সারা দেশের পিশাচ ওই শ্মশানে জমা হল। ওদের সামনে প্রবীণ জোরে জোরে বলল, 'তোমরা প্রজাদের উপর দিনের পর দিন অত্যাচার করেছ। এখন তোমরা প্রত্যেকে আমার সঙ্গে রাজার কাছে চল। যা যা করেছ প্রত্যেকে রাজার কাছে সত্য কথা বল। যে মিথ্যা কথা বলবে তাকে এখানকার পিশাচরা কঠিন শাস্তি দেবে।'

প্রবীণের কথামতো প্রত্যেকটি পিশাচ রাজসভায় হাজির হল। শত শত পিশাচকে রাজসভায় ঢুকতে দেখে রাজা ভয়ে কাঁপতে লাগল। রাজার বড়ো বড়ো কর্মচারীরা ভীষণভাবে ঘাবড়ে গেল। এত পিশাচদের দেখে রাজসভার প্রত্যেকে ভয়ে কাঁপতে লাগল।

মন্ত্রী ভাবতে লাগল, পিশাচরা কী করতে এসেছে রাজপ্রাসাদে! কোতোয়াল ভাবতে লাগল পণ্ডিত প্রবীণ এতদিন ডুব দিয়ে থেকে শেষে এদের নিয়ে এল কোন উদ্দেশ্যে!

প্রবীণ রাজসভায় দাঁড়িয়ে জোরে জোরে বলল, 'আপনারা যে অপকর্ম করেছেন তা বিস্তারিতভাবে রাজার সামনে বলুন। যে মিথ্যা কথা বলবে তাকে এই পিশাচরা ধরে নিয়ে যাবে।' তখন একে একে উঠে রাজার সামনে নিজেদের অপকীর্তির কথা কাঁপতে কাঁপতে বলতে লাগল। রাজা ওইসব পাপীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করল। তারপর প্রবীণকে বলল, 'প্রবীণ, এখন থেকে তুমি যদি আমার কাছে থাক তাহলে আমি ভালোভাবে দেশ শাসন করতে পারব।'

প্রবীণ তাতে রাজি হয়ে গেল।

প্রবীণ পণ্ডিত যে এত তাড়াতাড়ি রাজি হয়ে যাবে তা কেউ ভাবতে পারেনি। মন্ত্রী ও সেনাপতি ভাবতে লাগল, এরকম লোক রাজার কাছে থাকলে তো বিপদ। যখন-তখন পিশাচদের নিয়ে আসবে। আর পিশাচদের ক্ষমতার তো কোনো সীমা পরিসীমা নেই। ওদের অসাধ্য কোনো কাজ নেই। সবাই আতঙ্কিত হল।

বেতাল এই কাহিনি শুনিয়ে বলল, 'রাজা, যে প্রবীণ মরে পিশাচ হতে চাইল সেই প্রবীণ আবার পিশাচদের সাহায্য নিয়ে নতুনভাবে বাঁচার চেষ্টা করল কেন? যে প্রবীণ রাজার সম্মান গ্রহণ করল না সেই প্রবীণ রাজার কাছে থেকে গেল কেন? শেষে কি সে নিজের পাণ্ডিত্য রাজার কাছে বিক্রি করল? আমার এই প্রশ্নের জবাব জানা সত্ত্বেও যদি না দাও তাহলে তোমার মাথা ফেটে চৌচির হয়ে যাবে।'

জবাবে বিক্রমাদিত্য বললেন, 'প্রবীণ সত্যিকারের একজন পণ্ডিত। বিক্রি করার ইচ্ছা থাকলে আগেই করতে পারত। কিন্তু তখন করলে উপযুক্ত মর্যাদা পেত না। কারণ কুশাসনের ফলে চরম অরাজকতা দেশে বিরাজ করছিল। পাণ্ডিত্যের প্রতি অপমান সহ্য করতে না পেরে প্রবীণ একদিন আত্মহত্যা করতে গেল। কিন্তু পিশাচদের সাহায্য নিয়ে সে সারা দেশের অপরাধীদের রাজার সামনে হাজির করিয়ে তাদের অপরাধ স্বীকার করাল। দেশ থেকে ওই পাপী অত্যাচারী দুরাত্মাদের বিতাড়িত হওয়ার পর প্রবীণ রাজার কাছে থেকে দেশে সুশাসনের কাজে সাহায্য করতে রাজি হল। প্রবীণ এক মুহূর্তের জন্যও নিজের পাণ্ডিত্য রাজার কাছে বিক্রি করেনি। প্রবীণ প্রথম থেকেই চেয়েছিল দেশবাসীর কাছে নিজের পাণ্ডিত্য প্রকাশ করতে। বিক্রি করতে সে কোনোদিন চায়নি।'

রাজা এইভাবে মুখ খোলার সঙ্গে সঙ্গে বেতাল শব নিয়ে আবার সেই গাছে উঠল।

সকল অধ্যায়
১.
গোড়ার কথা
২.
হেরফের
৩.
অন্যায় শাস্তি
৪.
বন্ধুত্ব
৫.
শাসক
৬.
চোরের সম্মান
৭.
সাধনা
৮.
রাক্ষস বিবাহ
৯.
প্রাণদান
১০.
পিতার ধর্ম
১১.
গরিবের দম্ভ
১২.
পরিবর্তন
১৩.
ঘুমন্ত রাক্ষস
১৪.
জনতার শক্তি
১৫.
ধর্মস্থাপনা
১৬.
প্রদর্শনী
১৭.
বিজয় চিহ্ন
১৮.
হারানাে সুযােগ
১৯.
কথা না রাখা
২০.
আসল কারণ
২১.
দেবতার রাগ
২২.
পুরুষদ্বেষিণী
২৩.
পরিবেশের প্রভাব
২৪.
মনের পরিবর্তন
২৫.
পরিশ্রমের ফল
২৬.
বন্ধুবিচ্ছেদ
২৭.
রাজকুমার
২৮.
সােনার অলংকার
২৯.
পর্দার আড়ালে
৩০.
বাপের ব্যাটা
৩১.
চোর ধরা
৩২.
যার ভাগ্যে যা
৩৩.
জ্যান্ত পিশাচ
৩৪.
কর্তব্য
৩৫.
তিন জন তিরন্দাজ
৩৬.
যখন যা হওয়ার
৩৭.
নরক থেকে ফেরা
৩৮.
চোখের ফাঁড়া
৩৯.
কে বড়ো দাতা
৪০.
রূপ লাগি
৪১.
ক্ষত্রিয়ের ধর্ম
৪২.
পরমাসুন্দরী
৪৩.
অযোগ্য ছেলে
৪৪.
বিরূপাক্ষের অবস্থা
৪৫.
গীতার কথা
৪৬.
প্রস্তাব
৪৭.
সাক্ষী
৪৮.
পাত্র বাছাই
৪৯.
সাধুর দণ্ড
৫০.
মণির ফল
৫১.
প্রতিশোধ
৫২.
অবিশ্বাস
৫৩.
বন্দি মুক্তি
৫৪.
সাধুর কৌটো
৫৫.
নকল সুধীর
৫৬.
পরিবর্তন

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%