দীনেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

মনোজিৎ বসু
কিশোর মংলুর মা নেই, বাবা নেই, আত্মীয়-স্বজন বলতে কেউ নেই। এতদিন সে কাজ করছিল চন্দনা গাঁয়ের ধনী এক বিধবার বাড়িতে। কিন্তু ক'দিন হ'লো সেখান থেকেও জবাব হয়েছে তার। কিশোর মংলুর আজ তাই কোনো চাকরিও নেই। নি:সম্বল অবস্থায় তাই সে চলেছে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে।
দু'দিন পেটে একটি দানাও পড়েনি মংলুর।
শরীর বড় ক্লান্ত। অনাহারে পথশ্রম, তাই সে পরিশ্রান্ত।
পথের ধারে ছায়াশীতল বিরাট এক বটগাছ। মংলু গিয়ে তার নিচে পা ছড়িয়ে বসে।
চন্দনা গাঁয়ের কথা মনে প'ড়ে যায়। মংলু ভাবে, কেন এমন হ'লো। যে ধনী বিধবার বাড়িতে সে এতদিন ছিল, তাঁর স্বামী ছিলেন গাঁয়ের এক জোতদার। চাষের অনেক জমি ছিল তাঁর। তিনি যতদিন বেঁচে ছিলেন, ততদিন সে সব জমিতে নাকি সোনা ফলতো। অথচ, এখন! মংলুর মনে প'ড়ে যায় সব কথাই। চাষীর ছেলে সে। একেবারে বালক বয়স থেকেই বাপের সঙ্গে থেকে থেকে চাষের কাজে সে বেশ রপ্ত হয়েছিল। বিধবার খামারে চাষের কাজেই নিযুক্ত হয়েছিল সে। কিন্তু যেদিন থেকে মংলু নামলো চাষের কাজে, সেদিন থেকেই ফলন গেল কমে। আগে যেখানে এক বিঘে জমির ধান থেকে আট মণ চাল হ'তো, মংলু কাজে নামবার পরেই প্রথম বার সে-জমির ধান থেকে চাল হ'লো মোটে চার মণ। পরের বছর দু'মণ। তার পর ক'মে ক'মে এ বছর মাত্র আট সের। মংলু অবাক, গাঁয়ের লোকেরা অবাক; আর বিধবা বুড়ী? তিনি তো রেগে একেবারে কাঁই। মংলুকে গালাগালও দিলেন যাচ্ছেতাই। বললেন, হাড়হাবাতে হতচ্ছাড়া, তোর জন্যেই এই দশা। যেদিন থেকে তুই নামলি মাঠে, সেদিন থেকে কপাল আমার ফাটে। অলক্ষুণে পাজি, যা চলে যা আজই। এই বলে মংলুকে তিনি বের করে দিলেন বাড়ি থেকে।
গাঁয়ের লোকেরা ভাবলো, হবেও বা! ছোঁড়াটাই বুঝি অনিষ্টের মূল। কিন্তু, আসল ব্যাপারটা কেউ জানতো না, সেটা জানা গেল অনে—ক পরে।
সূয্যি প্রায় ডোবে ডোবে। গাছতলা থেকে উঠে পড়লো মংলু। সন্ধ্যার আগেই সামনের গাঁয়ে পৌঁছুতে হবে। রাতের মতো একটা আশ্রয় তো চাই।
হাঁটতে হাঁটতে মল্লিকা গাঁয়ে গিয়ে যখন সে হাজির হ'লো তখন ভরসন্ধ্যা। সবার আগে যে ছোট্ট বাড়িটা নজরে পড়লো তার, সেই বাড়িতে গিয়েই সদর দরজার কড়া নড়ালো মংলু। এক গরিব বুড়ী দরজা খুলে বললেন, কী চাই বাছা?
মংলু তখন ক্ষুধাতৃষ্ণায় কাতর, তার ওপরে পথশ্রমে ক্লান্ত। ক্ষীণকণ্ঠে সে বললে, রাত্রের মতো একটু আশ্রয়।
প্রদীপের আলোয় বুড়ী তার চেহারাটা একবার ভালো করে দেখে নিলে। তারপর বললে, এসো বাছা, ভেতরে এসো। হাত-পা ধুয়ে দাওয়ায় ব'সো।
বুড়ীর স্নেহমাখা কথা শুনেই মংলুর প্রাণটা যেন জুড়িয়ে গেল। কই, সেই ধনী বিধবা তো এমন সুরে কথা কইতেন না!
মংলু হাত-পা ধুয়ে দাওয়ায় এসে বসলে, বুড়ী তাকে খেতে দিলে। ভাত ডাল আর একটা তরকারি। কোনো কথা না ব'লে মংলু তখন গোগ্রাসে খেতে লাগলো। তার খাওয়ার ধরন দেখেই বুড়ী বুঝতে পারলো, ক'দিন কিছুই খাওয়া হয়নি মংলুর। তাই সে আরও ভাত-ডাল আর তরকারি এনে দিলে তার পাতে। মংলু পেট ভ'রে বেশ তৃপ্তি ক'রেই সব খেলে।
খাওয়া-দাওয়ার পর গল্প।
বুড়ী বললে, হ্যাঁ বাছা। তোমার পরিচয়টা এবারে দাও। কোত্থেকে আসছ, আবার কোথায় যেতে চাও?
মংলু তার চাকরিতে জবাব হওয়ার কাহিনীটা সবিস্তারেই বললে। বুড়ী তো শুনে অবাক। সে বললে, কী জানি, বাপু, এমন কাণ্ড যে হ'তে পারে তা কখনও শুনিনি। ফলন কমে কি শুধু মানুষের দোষে? জমির দোষে, চাষের দোষেও তো হ'তে পারে। হয়তো বীজই ভালো ছিল না, ভগবান তাই ফসল দিল না।
মংলু বললে, কিসের জন্য যে এমনটা হ'লো, আজও আমি তা বুঝতে পারিনি। অথচ, আমি তো চেষ্টার কোনো ত্রুটি করিনি। খেটেখুটে জমি চষেছি, মই দিয়েছি, কাদা করেছি, চারা রুয়েছি। গাছও হয়েছে ভালো, ধানও হয়েছে অনেক। কিন্তু সবই প্রায় খোসা! খোসা ছাড়িয়ে দেখা গেছে তার মধ্যে চালের দানা নেই। কিন্তু, আমি কী করতে পারি? আমি তো আর জোর ক'রে চাল বার করতে পারি না। বোধকরি তাঁর কথাই ঠিক। আমি অলক্ষুণে, আমি অপয়া!
কথা বলতে বলতে মংলুর দু'চোখ জলে ভ'রে ওঠে।
বুড়ী তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলে, কেঁদো না বাছা কেঁদো না। নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ো না। কথায় বলে, চেষ্টার অসাধ্য নেই, যে যত চেষ্টা করবে তার ফল পাবে সেই। তুমি তো বললে, তোমার মা-বাবা নেই, নেই আত্মীয়-স্বজন। তা বাছা, আমার এখানেই থাক না কেন? আমিও একা মানুষ। তবে, মাইনে দিয়ে রাখতে পারব না, আমার টাকাপয়সা নেই। আমি গরিব মানুষ। আমার যদি দুবেলা জোটে, তাহ'লে তোমারও জুটবে। আমার বিঘে দুই জমি আছে। কিন্তু চাষবাস করাতে পারি না তেমন। হালের বলদও নেই আমার। তবে, কত্তার আমলের পুরনো একটা লাঙল আছে, ধানের কিছু বীজ আছে, সারও আছে কিছু। তুমি যদি কোনোভাবে এই জমি চষে ফসল ফলাতে পারো, তাহ'লে ফসলের অর্ধেকই তোমার।
বুড়ীর কথা শুনে মংলুর দু'চোখ চিকচিক ক'রে ওঠে। সে যেন আশার আলো দেখতে পায়। বুড়ীর প্রস্তাবে সে তখুনি রাজী হয়ে যায়। সবচেয়ে বড় কথা, বুড়ী যে তাকে অলক্ষুণে অপয়া ব'লে মেনে নেয়নি, এই তার বরাতজোর!
পরদিন থেকেই মংলু বুড়ীর জমিতে চাষের কাজে লেগে যায়। বলদ নেই, কিন্তু তাতে সে ভয় পায় না। কোদাল দিয়ে জমি কোপায়, তারপর নিজেই তাতে লাঙল ঠেলে ঠেলে জমির মাটি ওলট পালট করে। তারপর যথাসময়ে সার দিয়ে মই দেয়, জমি কাদা করে বীজতলা বানায়। বীজতলা থেকে চারাগাছ তুলে আষাঢ় মাসে জমিতে লাগায়। ধীরে ধীরে গাছ বড় হ'য়ে ওঠে। মংলু নিড়েন দেয় ধানের জমিতে। গাছ আরও বাড়তে থাকে, শীষ দেখা দেয়। কার্তিক মাসেই ধান বেশ পেকে ওঠে। আর ক'দিন বাদেই ফসল কাটবার পালা। কিন্তু—
ধান কাটবার দিন যতই এগিয়ে আসতে থাকে, মংলু মনে মনে ততই অস্থির হয়ে ওঠে, তার কেমন ভয় ভয় করে। সে ভাবে, সেই ধনী বিধবার ক্ষেত্রে যেমনটা হয়েছিল, এ গরিব বুড়ীর বেলাতেও না জানি যদি তেমনটা হয়। তাহ'লে? তাহ'লে তো আর মুখই দেখানো যাবে না। অলক্ষুণে অপয়া অপবাদটাই যে তাহ'লে সত্যি হয়ে উঠবে! মংলু ভাবলো, আমি হয়তো ধান কেটে বাড়ি নিয়ে এলাম, কিন্তু ধান ভানতে গিয়ে বুড়ী হয়তো দেখলো ধানের মধ্যে চালের দানা নেই, শুধুই ধানের খোসা, তাহ'লে?
মাদুরের ওপরে এ-পাশ ও-পাশ করতে করতে মংলু অস্ফুট গলায় ব'লে উঠলো, না: তাহ'লে আর এ গাঁয়ে থাকাই যাবে না। তার চেয়ে পালিয়ে যাই।
ভোর হবার অনেক আগেই মংলু পা টিপে টিপে বুড়ীর বাড়ি থেকে পথে নেমে এলো। তারপর, হনহন ক'রে এগিয়ে চললো সামনের দিকে। পথেই পড়লো বুড়ীর জমি। সারাটা জমি সোনালী ধানে ছেয়ে আছে। সেই আলো-আঁধারিতেও স্পষ্ট দেখতে পেলো মংলু। চোখ যেন জুড়িয়ে গেল তার। সে ভাবলে, এতদিনের মেহনতে যে ফসল ফললো, যাবার আগে একবার না-হয় একটু পরখ ক'রেই দেখা যাক।
পুব আকাশে তখন সূর্যোদয়ের আভাস।
সূর্য ওঠেনি, তবে আলো ফুটেছে।
মংলু জমিতে নেমে পড়লো।
ভয়ে ভয়ে ধানের একছড়া শীষ সে তুলে নিলে নিজের হাতে। একটি ধানের খোসা ছাড়িয়ে দেখলে। আঁৎকে উঠলো মংলু। চাল কই? হাত থেকে ধানের ছড়াটা গেল মাটিতে প'ড়ে। কিন্তু হাতের তালুতে এটা কি? মংলু অবাক হয়ে হাতটা তুললে চোখের সামনে। আনন্দে আর উত্তেজনায় সারাটা শরীর কেমন যেন শিরশির ক'রে উঠলো।
মংলু দেখলে, তার হাতের তালুতে ছোট্ট একটি সোনার দানা। সে তখন প'ড়ে-যাওয়া ধানের ছড়াটা তুলে নিয়ে একটি একটি করে খোসা ছাড়াতে লাগলো। কী আশ্চর্য, প্রত্যেকটি খোসার মধ্যেই একটি ক'রে সোনার দানা। প্রভাতী আলোয় কেমন চকচক করছে।

বুড়ী অবাক হয়ে দেখে। চালের দানা কোথায়...
মংলু তখন ছুটতে ছুটতে বুড়ীর বাড়িতে ফিরে এলো। এসেই চেঁচিয়ে ডাকতে লাগলো, ও বুড়ী-মা তুমি কোথায়? দেখবে এসো, কাণ্ড হোথায়।
—কী হ'লো, কী হ'লো? সাত-সকালে ডাকাত পড়লো? বুড়ী এলো ছুটে। এতক্ষণ সে গোবরের ছড়া দিচ্ছিল উঠোনে।
মংলু কোনো কথা না ব'লে বুড়ীর হাত ধরে টেনে নিয়ে চললো। বুড়ী যেতে যেতে বললে, ও বাছা, ব্যাপার কী? কাটবে এবার ধান? তা, আমায় কেন টানাটানি, বেরিয়ে যে যায় প্রাণ!
মংলু জবাব দেয় না। কিন্তু তার সারা মুখচোখে আনন্দ যেন উপচে পড়ে। অবশেষে, তারা জমিতে গিয়ে পৌঁছয়।
মাঠভরা ধানের ফলন দেখে দু'চোখ জুড়িয়ে যায় বুড়ীর। হাতজোড় করে কপালে ঠেকায় সে। মংলু তখন একছড়া ধানের শীষ কেটে আনে। তারপর খোসা ছাড়িয়ে একটি একটি ক'রে দানা তুলে দেয় বুড়ীর হাতের তালুতে।
বুড়ী অবাক হয়ে দেখে। চালের দানা কোথায়, এ যে সব সোনার দানা! বুড়ী ভাবে, মংলু কি সত্যিই মানুষ, না, কোনো দেবদূত! মংলু বলে, দেখেছ বুড়ী-মা, কী কাণ্ড! এ তো ভাবতেই পারিনি। 'আবাদ করলে ফলতো সোনা'—কথাটা এতদিন শুনেই এসেছিলাম। এবারে তা স্বচক্ষে দেখলাম।
বুড়ী বললে, সবই ভগবানের দয়া। তাঁকে প্রণাম জানাও। বুড়ী নিজে মাটির ওপরে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম জানালো ভগবানের উদ্দেশে। দেখাদেখি মংলুও তাই করলে।
ধান কাটা শেষ হ'লে বুড়ী তা গাঁয়ের লোকজনের সামনেই সমান দু'ভাগ করালে। একভাগ রাখলো নিজের, অন্য ভাগ দিলে মংলুকে।
মংলু সে-রাত্রে ঘুমোতেই পারলে না।
বারবার তার মনে হ'লো কোথায় এর রহস্য। ধনী বিধবার জমিও সে চষেছিল, ফসল ফলিয়েছিল। কিন্তু সেখানে সবই খোসা। আবার, গরিব বুড়ীর জমিও সে চষলো, ফসল ফলালো। কিন্তু, এখানে সবই সোনার দানা। কেন এমনটা হ'লো—সারারাত সে-ই কথাই তোলপাড় করলো তার মনের মধ্যে।
ভোরের দিকে ঘুমিয়ে পড়লো মংলু।
স্বপ্ন দেখলো সে। গাঁয়ের এক বুড়ো চাষী যেন তাকে ডেকে বলছে, কী গো, ধাঁধাঁর জবাব পেলে না? তবে, শোনো। চন্দনা গাঁয়ের সেই যে ধনী বিধবা, টাকার অহঙ্কারেই সে গেল। অন্যের মেহনতে সে খেতে চায়, লাভ করতে চায়, অথচ কাউকে তার ভাগ দিতে রাজী নয়। তোমাকে দিয়ে খাটিয়ে নিল, অথচ কী দিল! দু'বেলার খোরাকি ছাড়া ফসলের ভাগ দিতে কি রাজী ছিল? উঁহু! উনি বড়লোক, আরও বড়লোক হ'তে চান! কাউকে কিছু দান করেন না, অন্যের মেহনতের ওপরেই মুনাফা করেন। দেবদ্বিজে ওঁর ভক্তি নেই, ভক্তি শুধু টাকায়—শাস্তি দিলেন তাই ভগবান, পড়েন কেমন ফাঁকায়! তুমি কেন অলক্ষুণে অপয়া হতে যাবে বাছা, সেই ধনী বিধবা নিজেই অপয়া।
আর, মল্লিকা গাঁয়ের এই গরিব বুড়ীকে দেখ। নিজে গরিব, দু'বেলা ভালো ক'রে খেতে পায় না,—অথচ, তোমাকে না খাইয়ে নিজে কিছু খায় না। অন্যের মেহনতের ওপরে সে লাভ করে না, তাই সে ফাঁকে পড়ে না। তোমাকে দিয়ে জমি-চাষের প্রস্তাব করে, সঙ্গে সঙ্গে ফসলের প্রাপ্যটাও ধরে। জমি ওর, মেহনত তোমার, তাই ফসলের দু'ভাগ সমান সমান। কোথায় পাবে, তুমিই বলো, এমন খাঁটি মহৎ প্রাণ? দেবদ্বিজে অগাধ ভক্তি, নেইকো মনে অহঙ্কার, তাই ভগবান সোনাদানা দিলেন তারে পুরস্কার।
মংলু সেই থেকে বুড়ীর বাড়িতেই থেকে যায়। বুড়ীও তাকে নিজের ছেলের মতোই দেখাশোনা করে। সেবার ভগবানের দয়ায় তারা যে সোনা পেয়েছিল তা দিয়ে আরও অনেক জমি কিনেছিল। তারপর গাঁয়ের লোকদের মধ্যেই সে-সব জমি তারা বিলিবন্দোবস্তও করে দিয়েছিল। যা ফসল উঠতো, তার অর্ধেক পেতো গাঁয়ের যে-সব চাষী সে-সব জমিতে চাষ-আবাদ করতো, বাকী অর্ধেক পেতো বুড়ী আর মংলু। শোনা যায়, সেই থেকে গাঁয়ের লোকেদের আর দু:খ ছিল না।*
_____
* একটি ইন্দোনেশীয় রূপকথার ছায়া নিয়ে লেখা।
—
তমাল চট্টোপাধ্যায়
বিনা ছড়া-ছবিতে
গাধাটাকে মানুষ করতে নেইক দুখের অন্ত,
পড়তে দিলেই চিবিয়ে খেল ছড়া-ছবির গ্রন্থ।
এক মাসে ঠিক হজম করে গণ্ডা তিনেক বই,
আগের মতই রইল গাধা মানুষ হল কই!
ব্যাজার হয়ে টুটুন তাতে ছেড়েই দিল মাস্টারি,
ভাবল সে তো ভুল করেছে খোদার উপর খোদকারি।
ছাত্র ভাল ঘোঁতন বরং হয়না আদৌ পড়াতে,
এমনি কেমন হচ্ছে গাধা বিনা ছবি-ছড়াতে!
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন