অতু

দীনেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

ক্ষিতীন্দ্রনারায়ণ ভট্টাচার্য

বীতশোক বাবু রাত্রে খাওয়াদাওয়া সেরে সাধারণত: ছাদে একটু পায়চারি করেন—বহুদিনের অভ্যাস। আজ গরমটা একটু বেশী, তাই পায়চারির পরেও ঘরে ঢুকতে আর ইচ্ছে হ'ল না, ঈজি-চেয়ারটা ছাদে টেনে এনে তাতেই গা এলিয়ে দিলেন তিনি।

আকাশে একটুও মেঘ নেই। পরিষ্কার আকাশ ঝলমল করছে তারায় আলোয়। বীতশোক বাবু শুয়ে শুয়ে তাই দেখছেন আর ভাবছেন কবে মানুষ ওই সব তারার রাজ্যে—অন্তত: পক্ষে গ্রহান্তরে পৌঁছতে পারবে। কে জানে ওখানকার পরিবেশ কি রকম! সত্যিই কি কোন জীবন্ত প্রাণী ঐ সব গ্রহলোকের কোনটায় বহাল তবিয়তে বাস করছে? কে জবাব দেবে এ প্রশ্নের?

হঠাৎ হাউই বাজীর মত আকাশের এক কোণে কি একটা ঝলক দিয়ে নিমেষে মিলিয়ে গেল আর তার কয়েক সেকেন্ড পরেই একটা বিকট শব্দে চমকে উঠলেন তিনি। কি হ'ল? তারা খসে পড়ল? অর্থাৎ উল্কা জ্বলে গেল? কিন্তু তাতে শব্দ হবে কেন?

শহরতলীতে অনেকখানি জায়গা নিয়ে বীতশোক বাবুর বাড়ী। বাড়ীর পেছনে মস্ত বাগান, আর তার পরেই একটা খাল এঁকেবেঁকে চলে গিয়েছে! ওদিকটা নির্জন, লোকজনের বসতি নেই বললেই চলে। কিন্তু মনে হ'ল শব্দটা ওদিক থেকেই এল যেন।

বীতশোক বাবুর কৌতূহল হ'ল খুব—ব্যাপারটা কি জানতে, কিন্তু অত রাত্রে জঙ্গলের দিকে যাওয়া ঠিক হবে কিনা ভেবে ইতস্তত: করতে লাগলেন তিনি। বিশেষত: শব্দটা হবার পর আর কোন সোরগোল বা সাড়াশব্দ কানে এল না তাঁর।

রাত্রে ভাল ঘুম হ'ল না। কেমন একটা অস্বস্তিকর অবস্থায় রাতটা কাটিয়ে ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতে বেরিয়ে পড়লেন তিনি। বাগান পার হয়ে খুঁজতে খুঁজতে খালের কাছাকাছি এসে হঠাৎ থমকে দাঁড়ালেন।

একটা হিজল গাছের পাশে খানিকটা ঝোপঝাড়। কয়েকদিন থেকেই লক্ষ্য করেছেন তিনি। জায়গাটা একটু পরিষ্কার করিয়ে ওখানে কয়েকটা কলমের গাছ লাগিয়ে দেবেন মনে মনে এই রকম ইচ্ছে ছিল। কিন্তু একী কাণ্ড! জায়গাটা এমনিই পরিষ্কার হয়ে গেছে মনে হচ্ছে, ঝোপঝাড়গুলো তো দেখা যাচ্ছে না আর! কাছে গিয়ে দেখেন ঝোপগুলো পুড়ে গেছে, পুড়ে গেছে হিজল গাছেরও কয়েকটা ডালও। আর সেইখানটায় মাটির কাছে বিরাট একটা গর্ত দেখা যাচ্ছে। শুধু গর্তই নয়, গর্তের ভিতর দিয়ে উঁকি মারছে একটা কালো পাথরের চাঁই।

বীতশোক বাবু সন্তর্পণে এগিয়ে এসে সেটা স্পর্শ করলেন। অল্প অল্প গরম মনে হ'ল। একটু নেড়েচেড়ে দেখলেন ভীষণ ভারী। তাঁর একার পক্ষে তোলা অসম্ভব। তা হলে—তা হলে সত্যিই কি কোন বড়গোছের উল্কাপাত হয়েছিল গত রাত্রে। আর সে উল্কা পড়েছে তাঁরই বাগানে! আকাশের গায়ে সেই চকিত আলোর ঝলক আর তার পরেই বিকট শব্দের কারণ এবার তাহলে বোঝা গেল। বিরাট আকারে ছিল এই উল্কাটা, তাই আকাশপথে ছুটবার সময় পুরোটা পুড়তে পারেনি। তারই খানিকটা জ্বলন্ত টুকরো ছিটকে এসে পড়েছে এই বাগানে। আশপাশের গাছপালা পুড়িয়ে, মাটিতে গর্ত করে ঢুকে গেছে তার মধ্যে। তারপর সারা রাত ধরে ঠাণ্ডা হয়েছে কিন্তু, তবু, এতক্ষণেও তার গরম ভাবটা যায় নি।

বীতশোক বাবু তাড়াতাড়ি ছুটে ফিরে গেলেন বাড়ীতে। লোকজন ডেকে এনে এখনই তুলতে হবে ওটাকে।

বিরাট ভারী উল্কাপিণ্ডটা, ওজন পাঁচ-ছ মণ তো হবেই, বেশীও হতে পারে। আর হবেই বা না কেন? এগুলোর মধ্যে লোহাই যে থাকে বেশী, নিকেল প্রভৃতি অন্য ধাতুও থাকতে পারে। অবশ্য তা ছাড়াও অল্প পরিমাণে থাকে এটা-ওটা-সেটা। তবে এত বড় উল্কাপিণ্ড সচরাচর পাওয়া যায় না। কাজেই বীতশোক বাবু যে খুব কৌতূহলী হয়ে উঠবেন এ তো সহজেই বোঝা যায়।

সবাই মিলে অনেক কসরৎ করে ওটাকে তুলে উল্টে ফেলা হল। বীতশোক বাবু ঝুঁকে পড়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগলেন।

জমাট কালো রং-এর মাঝে মাঝে ছাই রং-এর ছোপ, একটা দিক দেখতে অনেকটা গ্র্যানাইট পাথরের মত। আর তারই মধ্যে—

হঠাৎ চমকে উঠলেন বীতশোক বাবু। কি একটা জিনিস যেন নড়ে বেড়াচ্ছে!

বাগানের গর্ত থেকেই কিছু বেরিয়ে এসেছে কি? না:, দেখে তো তা মনে হয় না। যে ভাবে উল্কাপিণ্ডটার সঙ্গে লেপ্টে ছিল এতক্ষণ তাতে তো মনে হয় বরাবর ওটা ওরই মধ্যে ছিল। অবশ্য আগে নড়ছিল না। কোন জীবন্ত প্রাণী কি? কিন্তু জ্বলন্ত উল্কার আগুনের মধ্যে থেকেও কোন প্রাণী বেঁচে থাকবে—পুড়ে ছাই হয়ে যাবে না এ তো আর সম্ভব নয়! ব্যাপারটা বেশ রহস্যজনক মনে হচ্ছে তা হলে।

ততক্ষণে সূর্য উঠেছে। তারই খানিকটা আলো এসে পড়েছে ওর গায়। এবারে বেশি চকচক করছে জিনিসটা। প্রথম প্রথম পাঁশুটে মনে হচ্ছিল, এখন রোদ পড়ে সাদাটে লাগছে। আশেপাশের রং থেকে একেবারেই আলাদা, কি হতে পারে ওটা?

বীতশোক বাবু এবার সাহসে ভর করে আঙ্গুল দিয়ে জিনিসটা টিপে দেখলেন। নিরেট পাথরের মতই শক্ত মনে হ'ল। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে আর একটা কাণ্ড ঘটল। ঐ সাদা জিনিসটার গায়ে হাত দিতেই ওটা স্প্রিং-এর মত লাফিয়ে উঠল, আর সঙ্গে সঙ্গে দুপা এগিয়ে গেল।

এবার আর চিনতে ভুল হ'ল না। সত্যি একটা জ্যান্ত প্রাণী, কিন্তু কিম্ভূতকিমাকার তার চেহারা। পরিচিত কোন প্রাণীর সঙ্গেই মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। আকারে বড় জোর একটা চড়াই পাখীর মত হবে; মুখটা ঈষৎ ছুঁচলো, তার ভিতর চকচক করছে দুসারি খুদে খুদে দাঁত। গোল গোল দুটি চোখও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে কিন্তু তাতে দৃষ্টিশক্তি আছে কিনা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। ছোট ছোট অনেকগুলি পা, কিন্তু দেখতে সেগুলো পায়ের মত নয়—ঠিক যেন ট্যাঙ্কের চাকা— এবড়োখেবড়ো জায়গা দিয়ে চলে বেড়াবার মত করেই তৈরি হয়েছে সেগুলো। পৃথিবীর কোন জীব যে সে নয় সে বিষয়ে কোন সন্দেহই থাকতে পারে না। সেই পায়ের নীচে আবার কতগুলি ছোট ছোট গোল গোল গুটির মত কি লেগে রয়েছে!

বীতশোক বাবু জীবটিকে সযত্নে তুলে বাড়ীতে নিয়ে এলেন। সুরু হ'ল তার তোয়াজ। বিরাট মহাকাশের কোন অজানা গ্রহের বাসিন্দা ছিল সে কেউ জানে না, কিন্তু পৃথিবীতে সে একটা পরম বৈজ্ঞানিক বিস্ময়। তাকে যে ভাবেই হোক বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কাগজে কাগজে খবরটা রাষ্ট্র হয়ে গেল। নানা জায়গা থেকে টেলিগ্রাম আসতে লাগল। বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে, চিড়িয়াখানার কর্তাদের কাছ থেকে। 'যে করেই হোক এই আশ্চর্য জীবটিকে বাঁচিয়ে রাখুন। আমরা সাধ্যমত সাহায্য করছি।' বীতশোক বাবু সকলেরই সাহায্য নেবার প্রতিশ্রুতি দিলেন কিন্তু জীবটিকে কাছ ছাড়া করতে রাজী হলেন না।

জন্তুটার একটা নাম তো দিতেই হবে। বীতশোক বাবু বললেন, 'ও হচ্ছে মহাকাশ থেকে আসা আমাদের পৃথিবীর অতিথি, ওকে ওই রকম একটা নাম দেওয়াই ঠিক হবে।'

বীতশোক বাবুর ছোট শালা জু-লজিতে অনার্স নিয়ে বি, এস-সি পড়ে, সে বললে, 'না জামাইবাবু, ওর একটা বৈজ্ঞানিক নাম দিতে হবে— যেমন নিয়ম,—ল্যাটিন নাম। আমি আমাদের স্যারের সঙ্গে পরামর্শ করে আপনাকে বলে দেব; দু'দিন সবুর করুন।'

ওঁর বড় ভায়রা ভাই রসিক লোক, তিনি বললেন, 'আবার স্যারের কি দরকার, আমিই বলে দিচ্ছি। নাম রাখা যাক ম্যোহাকাশিয়াম অ্যাটিঠেয়াম। ল্যাটিনঘেঁষাও হবে, আবার বীতশোকের ইচ্ছাও পূরণ হবে।'

'তার মানে?'

'মানে খুব সোজা। মহাকাশকে —ল্যাটিনের মত উচ্চারণ করে ম্যোহাকাশিয়াম বলা যেতে পারে সহজেই, আর ঠিক ওই ভাবেই অতিথি হবে অ্যাটিঠেয়াম। ব্যস, এক ঢিলে দু'পাখী মরবে। কেমন না?'

বীতশোক বাবুর স্ত্রী সাদাসিধে মানুষ, তিনি বললেন, 'আমি বাবা, অত বড় নাম উচ্চারণ করতে পারব না। আমি ওকে ডাকব স্রেফ অতু বলে। যেমন সতীন লাহাকে বলি সতু লাহা, বীরেন চাটুজ্যেকে বলি বীরু চাটুজ্যে, সেই রকম অতিথি থেকে অতু।'

কিন্তু নামকরণ যা হয় একটা হলেও গোল বাধল এই ম্যোহাকাশিয়াম অ্যাটিঠেয়াম ওরফে অতুকে খাওয়ানো নিয়ে। কিছু-ই সে খায় না। ঘাস, পাতা, গাছের ফল, ছোলা মটর থেকে সুরু করে মাছ, মাংস, লুচি হালুয়া—মায় ভীম নাগের সন্দেশ এনে তার সামনে ধরা হল, কিন্তু কিছুই সে মুখে দেবে না। অথচ না খেলে কি কেউ বাঁচে? হোক না সে অন্য গ্রহের জীব। বাঁচতে হলে তাকে কিছু না কিছু খেতেই হবে।

বিজ্ঞানীরা এসে চেষ্টা করতে লাগলেন। তাঁদের জ্ঞান আর অভিজ্ঞতায় যত রকম খাওয়াবার পদ্ধতি তাঁদের জানা ছিল সব রকম নিয়ে পরখ করা হ'ল। এমন কি গ্লুকোজ ইনজেকশন দিয়ে টিকিয়ে রাখা যায় কিনা সে চেষ্টাও বাদ গেল না। কিন্তু ইনজেকশন দেবে কি করে? পাথরের মত শক্ত ওর গা, ইনজেকশনের ছুঁচ ভেঙ্গে গেল, কিন্তু ওর গায়ের চামড়া 'ফুটো' করে তা ঢোকানো গেল না। শেষে সবাই হতাশ হয়ে পড়লেন।

অবশেষে একজনের মাথায় বুদ্ধি এল, তিনি বললেন, 'ওকে ছেড়ে দিয়ে দেখা যাক না চরে খাবার জন্য। নিজের খাবার ও হয়তো নিজেই খুঁজে বার করে নেবে।'

শেষ পর্যন্ত তাই করা হ'ল আর আশ্চর্য, তাইতেই সমস্যা মিটে গেল। দেখা গেল অতুকে বাগানে নিয়ে ছেড়ে দিতেই ও ট্যাঙ্কের মত গড়াতে গড়াতে চলল খালের দিকে। খালের ধারে ছিল স্তূপাকার বালি আর রাস্তা বাঁধাবার পাথর। সেইখানেই গিয়ে থেমে গেল ও তারপর খুদে খুদে ধারাল দাঁত দিয়ে কুরে কুরে খেতে লাগল সেই পাথর। বালির দানাগুলোও মুখে নিয়ে চিবুতে লাগল পরম তৃপ্তির সঙ্গে।

তা হলে পাথর আর বালি খাইয়েই ওকে বাঁচিয়ে রাখা যাবে!

কিন্তু এর চেয়েও আশ্চর্য কাণ্ড দেখা গেল পরদিন। একদিনেই, মনে হ'ল, অতু যেন অনেকটা মোটা হয়ে গেছে। কয়েক দিনের মধ্যেই সে অস্বাভাবিক রকম মোটা হয়ে পড়ল, দেহের আকারও বেড়ে চলল সমান তালে। মাস খানেকের মধ্যেই সেই ছোট্র চড়াই পাখীর আকারের জন্তুটি একটা পূর্ণবয়স্ক মোটাসোটা বিড়ালের মত বড় হয়ে উঠল। বীতশোক বাবু রোজ তাকে পরীক্ষা করেন। পিঠে হাত বুলিয়ে দেখেন ওর গা আগের মতই শক্ত রয়েছে। শরীরে এত মাংস গজালেও তার সেই পাথুরে ভাব একটুও কমে নি। উপরন্তু, মনে হ'ল ওর গায়ে যেন রোজই খানিকটা করে কি জমছে—কিন্তু সেও ঐ রকম দানা দানা এবং পাথরের মতই শক্ত। মনে হয় শরীরটা অসম্ভব বেড়ে ওঠার প্রধান কারণও হয়তো এই। না হলে স্বাভাবিক নিয়মে কোন জীব যে এত তাড়াতাড়ি এত বড় হয়ে যেতে পারে এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।

বীতশোক বাবু এবার ওকে পোষ মানাবার চেষ্টা করতে লাগলেন সেই সঙ্গে শুরু হ'ল ওকে দিয়ে নানা কসরৎ দেখানো। অতু কিন্তু কড়মড় করে পাথর চিবুনো ছাড়া আর কোন ব্যাপারে বিশেষ বাহাদুরী দেখাতে পারল না। তবে হ্যাঁ, একবার একটা লোহার ছুরি ওর মুখের কাছ ধরতে সেটাও ও মুহূর্তের মধ্যে দাঁত দিয়ে চিবিয়ে গুঁড়ো গুঁড়ো করে ফেলেছিল, তবে খায় নি। ওর ঐ খুদে খুদে দাঁত যে লোহার চেয়েও অনেক শক্ত তারই প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল তাই থেকে। আর একবার বীতশোক বাবুর স্ত্রী কি কারণে ওর ওপর রেগে গিয়ে ওকে একটা লম্বা লাঠি দিয়ে কয়েক ঘা বসিয়ে দেবেন ঠিক করেছিলেন, কিন্তু এক ঘা দিতেই ওর তো কিছুই হ'ল না, লাঠিই ভেঙ্গে দু'টুকরো হয়ে গেল। তিনি তখন আরও চটে গিয়ে একটা লোহার খুন্তি নিয়ে ওর পিঠে ঘষে দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও ওর গায়ের চামড়া একটুও ছড়ে যায়নি, উল্টে লোহার খুন্তি কয়েক জায়গায় ভেঙ্গে এবড়োখেবড়ো হয়ে গিয়েছিল, আর ওর পিঠে আঁচড় না পড়ে আঁচড় পড়েছিল খুন্তির গায়ে। শিরীস কাগজ দিয়ে লোহা ঘষলে যেমন আঁচড় পড়ে অনেকটা সেই রকম। দেখেশুনে তাজ্জব বনে গিয়েছিল সবাই।

কিন্তু এর চেয়েও তাজ্জব কাণ্ড ঘটেছিল আর একদিন।

সেদিন সারা দিন বৃষ্টি হচ্ছে, সেই সঙ্গে বইছে ঠাণ্ডা কনকনে বাতাস। সবাই মুড়িসুড়ি দিয়ে ঘরে বসে আছে। এরই মধ্যে হঠাৎ দেখা গেল অতু নেই—হাওয়া! কোথায় গেল —কোথায় গেল—খোঁজ—খোঁজ—খোঁজ। অনেক খোঁজাখুঁজি করে শেষে সন্ধান পাওয়া গেল রান্নাঘরে। দাউ দাউ করে উনুন জ্বলছে আর সেই উনুনের মধ্যেই বসে অতু দিব্যি আরামে আগুন পোহাচ্ছে। আগুনের গনগনে আঁচে তার গা পুড়ে যাওয়া দূরের কথা, একটু ছ্যাঁকাও লাগছে না। জন্তুটা কি তা হলে হঠযোগও জানে?

এইভাবে অতুকে নিয়ে সমস্যার পর সমস্যা দেখা দিতে লাগল কিন্তু কোন সুরাহা হ'ল না। শেষে পৃথিবীর নানা জায়গা থেকে বিজ্ঞানীরা ওকে দেখতে আসতে শুরু করলেন, পৃথিবীর নামকরা সব চিড়িয়াখানার কর্তারা ওকে কিনে নেবার জন্য অজস্র টাকা দেবার প্রস্তাব করে পাঠালেন। কিন্তু বীতশোক বাবু রাজী হলেন না। অতু ক্রমাগত বহরে বেড়ে চলল। তার গায়ে সেই শক্ত পাথুরে দানা ক্রমাগত জমতে লাগল। রোদে দাঁড়ালে মনে হত ওর চকচকে গা থেকে যেন আলো ঠিকরে পড়ছে।

বেশ চলছিল, কিন্তু হঠাৎ যে ঐ রকম একটা দুর্ঘটনা ঘটবে তা কেউ কল্পনা করতে পারেনি। কিন্তু তাই ঘটল শেষে।

ঘরের কয়েকটা জানালার সার্সি ভেঙ্গে যাওয়ায় একজন মিস্ত্রী এসেছিল কাচ লাগাতে। পুটিং দিয়ে কাচ বসাবার সময় অনেক সময়েই দেখা যায় যে কাচ একটু বড় হয়ে যাচ্ছে, তখন তাকে কেটে একটু ছোট করে নিতে হয়। এজন্য মিস্ত্রীরা এক রকম কাচ কাটা অস্ত্র বা ছুরি ব্যবহার করে। অস্ত্রটা আর কিছুনা, একটা লম্বা হ্যান্ডেলের মাথায় ছোট্ট এক টুকরো হীরে বসানো। পৃথিবীর মধ্যে হীরে হচ্ছে সবচেয়ে শক্ত জিনিস। তাই হীরে দিয়ে সব কিছু কাটা যায়, —কিন্তু হীরেকে কাটা, সম্ভব হলেও, অত সহজ নয়। কাচ কাটতে হলেও ওই হীরে বসানো ছুরিই ব্যবহার করে মিস্ত্রীরা। বীতশোক বাবুর বাড়ীতেও এই মিস্ত্রীটি ঐ রকম একটা হীরে বসানো ছুরি নিয়ে এসেছিল। ছুরিটা পাশে রেখে মিস্ত্রী গজ কাঠি দিয়ে কাচ মাপছে এমন সময় গড়াতে গড়াতে অতু এসে হাজির, আর পাশেই অমন একটা নতুন জিনিস দেখে তার বোধ হয় শখ হ'ল জিনিসটা চিবিয়ে দেখতে। সে অম্লান বদলে ছুরিটা মুখে তুলে নিয়ে দাঁত দিয়ে চাপ দিল আর সঙ্গে সঙ্গে খটাস—হ্যান্ডেল ভেঙ্গে দু'টুকরো।

অমন একটা দামী অস্ত্র এভাবে ভাঙ্গতে দেখে মিস্ত্রী আর নিজেকে চেপে রাখতে পারল না, সেই ভাঙ্গা টুকরোটা তুলে নিয়ে তার ঐ হীরের ফলা দিয়ে সজোরে অতুর পিঠে কয়েক বার আঁচড়ে দিল সে —ঠিক যেমন করে কাচ কাটে। আর সঙ্গে সঙ্গে অতু লাফিয়ে ছিটকে পড়ল মেঝেতে। তার পাথরের মত শক্ত পিঠ থেকে ফিনকি দিয়ে গড়িয়ে পড়তে লাগল রক্ত। লাল রক্ত নয়, ঈষৎ বাদামী রং-এর ঘন রসের মত একটা জিনিস; কিন্তু তা আর বন্ধ হ'ল না। বার কয়েক লুটোপুটি খেয়ে দাপাদাপি করতে করতে হঠাৎ নি:সাড় হয়ে গেল অতু, আর উঠল না। তার গা থেকে গড়িয়ে আসা চাপ চাপ রস জমাট কাচের মতই জমে রইল মেঝের ওপর।

বীতশোক বাবু খবর পেয়ে ছুটে এলেন, কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গেছে।

অতুর প্রাণহীন দেহটা নিয়ে আর কিছু করার ছিল না। বীতশোক বাবু সেটা পাঠিয়ে দিলেন বিজ্ঞানীদের কাছে—এবার যদি মহাকাশের ঐ অদ্ভুত জীবের রহস্যের কিছুটা মীমাংসা করতে পারেন তাঁরা।

অতুর দেহ নিয়ে পোষ্ট মর্টেম পরীক্ষা করা হ'ল, রাসায়নিক পরীক্ষা করা হ'ল এবং অবশেষে এক বিশেষজ্ঞ কমিটি সমস্ত পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে একটা রিপোর্ট তৈরি করলেন। সেই অদ্ভুত রিপোর্ট থেকে খানিকটা এখানে তুলে দিয়ে অতুর কাহিনী শেষ করছি।

''মহাকাশ থেকে খসে-পড়া উল্কাপিণ্ডের সঙ্গে যে অদ্ভুত প্রাণীটি পৃথিবীতে এসে হাজির হয়েছিল সেটিকে আমরা তার মৃত্যুর পর ভাল করে পরীক্ষা করে দেখেছি। প্রথমেই আমাদের পরিচিত পৃথিবীর যাবতীয় প্রাণীর সঙ্গে তার মূলগত পার্থক্যের কথা বলা দরকার।

''পৃথিবীর সমস্ত জীবদেহের —তা সে প্রাণীই হোক আর গাছপালাই হোক—প্রধান উপাদান হচ্ছে কার্বন বা অঙ্গার। এজন্য বিজ্ঞানীরা জৈব পদার্থ বলতে সেই সব পদার্থকেই বোঝেন যার মধ্যে কার্বন আছে। আর এইজন্যেই জৈব রসায়ন বিজ্ঞানের আধুনিক নামই হচ্ছে কার্বন রসায়ন বা 'কেমিস্ট্রি অব দি কার্বন কম্পাউন্ডস।'

''এখন, কথা হচ্ছে, পৃথিবীর বাইরে মহাকাশের অগণিত গ্রহ-নক্ষত্রের মধ্যে এমন কোন জগৎ থাকা বিচিত্র নয় যেখানে এই কার্বন একেবারেই পাওয়া যায় না। যদি তাই হয়, তা হলে কি সেখানে কোন জীবিত প্রাণী থাকতে পারে?

''আমাদের পরিচিত প্রাণীজগৎ নিয়ে বিচার করলে এর উত্তর হবে—এক কথায় 'না'। কিন্তু আমাদের পরিচিত প্রাণীজগৎ ছাড়া অন্য কোন প্রাণীজগতের কথা ভাবতে গেলে অতটা জোরের সঙ্গে না বলা উচিত হবে কি? রসায়ন বিজ্ঞানে কার্বনের অনেকটা সমগোত্রীয় আর একটি মৌলিক পদার্থের সঙ্গেও আমরা পরিচিত—তার নাম সিলিকন। এই সিলিকন পৃথিবীতে প্রচুর পরিমাণে ছড়িয়ে আছে, এমন কি এক অক্সিজেন ছাড়া আর কোন মৌলিক পদার্থই অত বেশি পরিমাণে পাওয়া যাবে না। আমাদের পরিচিত বালি এই সিলিকন আর অক্সিজেনের সংযোগে তৈরি—বিজ্ঞানের ভাষায় ওর নাম সিলিকনডাইঅক্সাইড বা সিলিকা, এ ছাড়া নানা রকম পাথর আর মিনারেলের মধ্যেও প্রচুর পরিমাণে মিশে আছে সিলিকন। কোয়ার্টজ, ফ্লিনট ইত্যাদি নামে যে সব মিনারেল বা পাথর সচরাচর আমাদের চোখে পড়ে সেগুলি প্রায় খাঁটি সিলিকা। এ ছাড়া অভ্র (মাইকা), কেয়োলিন, ট্যালক, চীনে মাটি এদেরও উপাদানে সিলিকা খুব বেশী।

''যাঁরা একটু-আধটু রসায়ন বিজ্ঞান চর্চা করেছেন তাঁরাই জানেন পৃথিবীর জীবদেহে এত অধিকসংখ্যক কার্বনঘটিত পদার্থ ছড়িয়ে থাকার প্রধান কারণ হচ্ছে কার্বনের একটি বিশেষ গুণ—কার্বনের পরমাণুগুলি একটার সঙ্গে একটা মিশে বিরাট শিকল গড়তে পারে। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন সিলিকনেরও এই রকম পরমাণু এবং অণু শিকল গড়ার গুণ রয়েছে অক্সিজেনকে নিয়ে। সুতরাং কার্বনের মত অজস্র সিলিকনঘটিত পদার্থ তৈরি হওয়াও কিছু অসম্ভব নয়।

''আমাদের ধারণা যে উল্কাপিণ্ডটি বীতশোক বাবুর বাগানে পড়েছিল সেটি এসেছিল এমন কোন গ্রহ থেকে যেখানে কার্বন নেই, কিন্তু সিলিকন আছে প্রচুর। এবং সেখানে যে সব জীব বাস করে তাদের দেহ কার্বনের বদলে এই রকম সিলিকনঘটিত পদার্থ দিয়ে তৈরি। মহাকাশের রাজ্য এগিয়ে গেলে দেখা যাবে মঙ্গল গ্রহ আর বৃহস্পতি গ্রহের মাঝখানে ছড়িয়ে আছে অনেকগুলি ছোট ছোট গ্রহের কণা—যাদের বলা হয় গ্রহাণুপুঞ্জ। এই গ্রহাণুপুঞ্জের উপাদান সম্বন্ধে আমরা এখনও বিশেষ কিছু জানি না। এই উল্কাটি হয়তো ঐ রকম কোন গ্রহাণুপুঞ্জ থেকেই ছিটকে এসেছিল।

''কার্বন দিয়ে তৈরি জৈব পদার্থগুলির মধ্যে শক্ত, তরল এবং গ্যাস সব রকম পদার্থই আছে। প্রাণিদেহের মধ্যে হাড় ছাড়া সবই ঐ রকম নরম পদার্থ দিয়ে তৈরি। কিন্তু সিলিকন দিয়ে তৈরি প্রায় সমস্ত পদার্থই শক্ত—পাথরের মত শক্ত। সুতরাং আমরা যদি সিলিকন দিয়ে তৈরি কোন জৈব পদার্থের সন্ধান পাই তাহলে তার দেহ নিশ্চয়ই পাথরের মত শক্ত হবে। উল্কাপিণ্ডের মধ্যে পাওয়া অদ্ভুত প্রাণী অতুর দেহ তাই ঐ রকম পাথরের মত শক্ত হওয়াই স্বাভাবিক।

''নি:শ্বাস নেবার সময় পৃথিবীর জীবেরা বাতাস থেকে অক্সিজেন টেনে নেয়, আর ছেড়ে দেয় কার্বনডাইঅক্সাইড। কার্বন আর অক্সিজেন মিশে যা তৈরি হয় এই কার্বনডাইঅক্সাইড হচ্ছে গ্যাস, তাই ছেড়ে দেবার সঙ্গে সঙ্গে তা বাতাসে মিশে যায়। কিন্তু সিলিকন যখন অক্সিজেনের সঙ্গে মিশবে—যা অতুর নি:শ্বাস নেবার সময় ঘটছিল, তখন সেই অক্সিজেন আর সিলিকন মিলে তৈরি হবে সিলিকন ডাইঅক্সাইড, যা হচ্ছে বালি, অর্থাৎ যা মোটেই গ্যাস নয়। এই শক্ত বালি বা সিলিকা প্রতিনিয়তই নি:শ্বাসের সঙ্গে তৈরি হচ্ছিল ওর শরীরে আর শক্ত বলে তা বেরিয়ে যেতে পারছিল না—ক্রমাগত জমা হচ্ছিল ওরই দেহের ওপর। তাই ওকে অত তাড়াতাড়ি মোটা হতে দেখা যাচ্ছিল আর আকারেও ও অত তাড়াতাড়ি বাড়ছিল। মনে হয় এ বাড়ার আর শেষ হত না—যদি না ওভাবে ওর মৃত্যু হত। তখন সেও হত একটা নতুন সমস্যা।

''আমরা যে সব খাদ্য খাই,—আমিষই হোক আর নিরামিষই হোক, —তার মধ্যে প্রচুর কার্বন থাকে, আর থাকে নাইট্রোজেন। অতুর খাবারে কার্বনের প্রয়োজন ছিল না—প্রয়োজন ছিল সিলিকনের। কাজেই বালির দানা আর পাথরের কুচি খেয়েই সে তা সংগ্রহ করে নিত, সেগুলো খাবার মত ধারাল দাঁতও তার ছিল। নাইট্রোজেনও হয়তো তার দরকার হত। সেটা সে কোথায় পেত —আমিষ বা নিরামিষ কোনটাই যদি সে না খায়? ওর পায়ের তলায় গোল গোল গুটি দেখে সে রহস্যেরও খানিকটা মীমাংসা আমরা করেছি। আমাদের আশপাশের বাতাসে ছড়িয়ে আছে প্রচুর নাইট্রোজেন, কিন্তু বেশীর ভাগ গাছপালাই সেখান থেকে নাইট্রোজেন নিতে পারে না— নেয় মাটি থেকে। কেবল মাত্র কতকগুলি শুঁটি জাতীয় গাছ যাদের বলা হয় লেগুমিনাস প্ল্যান্টিস,— বাতাস থেকে নাইট্রোজেন নিতে পারে। ওদের শিকড়ে একরকম জীবাণু এসে গুটি বাঁধে তারাই ওদেরকে এই নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে দেয়। অতুর পায়ের নীচেও ঐ রকম গুটি দেখে ঐ রকম একটা কিছুই ঘটত বলে আমরা ধরে নিতে পারি।

'জ্বলন্ত উল্কার প্রচণ্ড উত্তাপেও অতু মরে নি কেন আর উনুনের আগুনের মধ্যে বসেও ও এত আরাম পেল কেন —এ প্রশ্নেরও জবাব দেওয়া খুব কঠিন নয়। সিলিকন ঘটিত পদার্থগুলি খুব বেশী উত্তাপ সহ্য করতে পারে। দেড় হাজার ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড উত্তাপেও ওদের কিছুই হয় না—কোন কোনটা ২০০০-২২০০ ডিগ্রী উত্তাপও সইতে পারে। কাজেই ওই সিলিকনঘটিত পদার্থে তৈরি দেহের জন্য অতুর আগুনকে ভয় করার বিশেষ কারণ ছিল না। হয়তো ঐ কারণেই উল্কাপিণ্ড আকাশে জ্বলে উঠবার সময়েও তার কোন ক্ষতি হয় নি। কিংবা হয়তো ওর জন্মই হয়েছে ঐ উল্কাপিণ্ডের পতনের পর। হয়তো ডিমের মত কোন খোলে ও বন্ধ ছিল, আগুনের আঁচে সে ডিম ফুটে গেছে—যেমন ফোটে ইনকিউবেটর যন্ত্রের আঁচে হাঁসের ছানা, আর আমরা ওকে জন্মের পরেই দেখতে পেয়েছি।

''অবশেষে এর মৃত্যুর কারণ সম্বন্ধেও আমাদের যা ধারণা তা ব্যক্ত করেছি। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে শক্ত পদার্থ হচ্ছে হীরে, তার পরেই স্থান হচ্ছে কোরান্ডামের—যা নাকি সিলিকন আর অক্সিজেন দিয়ে তৈরি। কোন শক্ত জিনিস তার চাইতে নরম জিনিসের ওপর আঁচড় কাটতে পারে, তাকে ভেঙ্গেও দিতে পারে। এই জন্যই বীতশোক বাবুর স্ত্রীর লাঠি অতুর গায়ে লেগে ভেঙ্গে গিয়েছিল, ভেঙ্গে গিয়েছিল লোহার খুন্তিও। শুধু ভাঙ্গেই নি, তার ওপর আঁচড়ও পড়েছিল ওর গায়ের ঘষা লেগে। ওর গা-টাও তো কোরান্ডামের মতই শক্ত ছিল কিনা! লোহার ছুরি দাঁতে গুঁড়ো করে দেওয়াও এই কারণেই ওর পক্ষে খুবই সহজ ছিল। আবার ঠিক ওই কারণেই যখন ওর পিঠে আঁচড়ে দেওয়া হল তখন হীরের চেয়ে নরম বলে ওর পিঠ আর সে আঘাত সহ্য করতে পারলো না। সেই আঁচড়ে ক্ষত হয়ে ওর গা থেকে ফিনকি দিয়ে বেরিয়ে এল রক্ত। সে রক্ত লাল না হলে ঈষৎ বাদামী হওয়া খুবই স্বাভাবিক এবং তা জমে গেলে কাচের মত শক্ত হয়ে যাওয়াও কিছু বিচিত্র নয়—কারণ সে রক্তের উপাদানেও নিশ্চয়ই সিলিকন অনেকখানি জায়গা জুড়ে ছিল—যেমন থাকে কাচে। তা ছাড়া আমাদের পৃথিবীর প্রাণিদেহে রক্তক্ষরণ শুরু হলে তা আপনি বন্ধ হয়ে যাবার যে ব্যবস্থা আছে— অতু জাতীয় প্রাণীর রক্তে সম্ভবত: সে ব্যবস্থা ছিল না। কারণ ঐ রকম শক্ত দেহ থেকে রক্তক্ষরণ কদাচিৎ ঘটতে পারে। কাজেই, ওর রক্তক্ষরণ শুরু হলে আর তা বন্ধ হওয়া সম্ভব হয়নি। আর তাই হয়েছে শেষ পর্যন্ত ওর কাল।''

হাসলে মানিক! হাসো খানিক!!

হর্ষবর্ধন

আমাদের হোসটেলের সরস্বতী পূজোয় পুরুতের অভাবে সবাই মিলে ধরে হোসটেলেরই ছাত্র একটি বামুনের ছেলেকে মায়ের পূজোয় লাগিয়ে দিয়েছিল। ছেলেটি পূজো করতে বসে ধ্যানেই একেবারে তন্ময়। কিছুতেই তার ধ্যানভঙ্গ হয় না আর, এদিকে আমরাও সবাই পুষ্পাঞ্জলি না দিতে পেরে প্রসাদে ভাগ বসাতে পারছিনে। অস্থির হয়ে উঠেছি সবাই।

অবশেষে আর থাকতে না পেরে আমি চেঁচিয়ে উঠলাম—নমোনম:!

তখন পুরুতের বিকল্প সেই ছেলেটি ধ্যান ভেঙ্গে মুচকি হেসে বলল—ভাই, ওই নমোনম:টাই আমি ভাবছিলাম। কিছুতেই এতক্ষণ মনে আসছিল না আমার।

তারপর সবাইকার নমোনম: করে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে প্রসাদ পাবার আর বিলম্ব হল না!

সকল অধ্যায়
১.
মাটি
২.
ভুতের গল্প
৩.
হর্ষবর্ধনের অশ্বরোগ
৪.
সেই মেয়েটি
৫.
বিদ্যাসাগরের ছেলেবেলা
৬.
গোয়েন্দা
৭.
ইতিহাস ছাড়িয়ে
৮.
যমালয়ে জীবন্ত মানুষ
৯.
ডাকিনীর ডাক
১০.
শত্রুতা
১১.
রেলে
১২.
অতু
১৩.
এক যে ছিল বাঘিনী
১৪.
দাওয়াই
১৫.
বিশ্বের বিস্ময় হেলেন কেলার
১৬.
ফুলের বিবাহ
১৭.
মংলুফলায় সোনা
১৮.
একটি গল্প করার মত গ্রাম
১৯.
লালমণি পাখি
২০.
প্লাবন
২১.
ছাত্র-সঙ্গীত
২২.
জয়-পরাজয়
২৩.
এখন শিউলি-বেলা
২৪.
আশ্বিনে
২৫.
ছড়া
২৬.
পোড়ো কুঁড়ে
২৭.
মা (উপন্যাস)
২৮.
গোর্কির ছেলেবেলা
২৯.
সেয়ানে সেয়ানে
৩০.
সুড়ঙ্গের রহস্য
৩১.
এক ঝাঁক গল্প
৩২.
কঙ্কাল
৩৩.
নতুন করে জাগো মা
৩৪.
বেতাল-পঞ্চবিংশতি
৩৫.
ভবঘুরের চিঠি
৩৬.
নিলাম দামী চশমা
৩৭.
শরৎ এল
৩৮.
কৈশোর
৩৯.
আলোর ডাকে
৪০.
অগ্রদূত
৪১.
টাকার কথা
৪২.
সাহস চাই!
৪৩.
ভোজবাড়ীর ব্যাপার
৪৪.
আবাহনী
৪৫.
এবার পূজায়
৪৬.
বামুনের স্বর্গবাস
৪৭.
মজার ধাঁধা
৪৮.
আংটির পাথর
৪৯.
মনমঞ্জুষা
৫০.
নিখিল বঙ্গ গরু সম্মেলন
৫১.
মিকি ডাক আর দিসনে
৫২.
মেঘনাদবধ
৫৩.
চৌধুরী-বাগ
৫৪.
জাদু বিদ্যা
৫৫.
বাবার চিঠি
৫৬.
গানের কথা
৫৭.
আমার প্রথম শিকার আভিযান
৫৮.
বিশ্বক্রীয়া ওলিম্পিক
৫৯.
বাংলার বন্যা
৬০.
শরতে
৬১.
আনন্দ আশ্বিনে
৬২.
টোটকা কিছু
৬৩.
জলদি করুন দাদা
৬৪.
কিশোর বিজ্ঞানীর আসর
৬৫.
সঙ্গীতের মৃত্যু
৬৬.
ছত্রপতি
৬৭.
মেঘ ও বৃষ্টি
৬৮.
মধুপালের আবির্ভাব

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%