আমার প্রথম শিকার আভিযান

দীনেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

তুষারকান্তি বসু

তখন আমি আই. এ. প্রথম বার্ষিক শ্রেণীর ছাত্র। কোলকাতার কলেজে ভর্তি হয়েছি। বড়দিনের ছুটিতে ডুয়ার্সে চলে এলাম বাবার কাছে।

কয়েক বছর আগে থেকেই বন্দুকে হাত দিতে আরম্ভ করেছিলাম। কিন্তু লুকিয়ে। বাবা চা-বাগানে কাজ করতেন। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় আঠার ঘণ্টাই 'টি-টেস্টিং', 'প্রাোডাকশন' ইত্যাদি নিয়েই বাবা ব্যস্ত থাকতেন। কাঁহাতক আর আমাকে বা বন্দুকটাকে চোখে চোখে রাখবেন! সব সময় বন্দুকে তালা-চাবি এঁটে রাখাও সম্ভব নয়।

বাবার এই সতর্কতার অবশ্য কারণও ছিল। কিছুদিন আগে আমার বয়সের একটি ছেলে এভাবে লুকিয়ে বন্দুক নিয়ে শিকার করতে গিয়ে একটি বাচ্চা ছেলেকে গুলি করে ফেলে। অবশ্য দুর্ঘটনা তেমন মারাত্মক হয়নি। ছেলেটি বনে এসেছিল কাঠ কুড়োতে তার মা'র সাথে। গুলি সরাসরি তার গায়ে না বিঁধে গাছে প্রতিহত হয়ে পায়ে লেগেছিল। তবু থানা-পুলিশ এড়ান যায় নি। ঘটনা অনেকদূর গড়িয়েছিল।

বাবা ঐ ভয়েই আমাকে সহজে বন্দুক ধরতে দিতেন না। তবু, ঐ যে বললাম, বন্দুক বা আমাকে তিনি সব সময় চোখে চোখে রাখতেও পারতেন না।

এ ব্যাপারে তাই মনে আমার ক্ষোভ গুমরে মরত। নিজের ওপর খুব আস্থা এসে গিয়েছিল। দু'চারটে পাখি ছাড়া আর কিছু না মারতে পারলেও, আমার মনে এই ধারণা বদ্ধমূল হয়েছিল যে, বন্দুকে আমার যা হাত পেকেছে তা মোটেই কম নয়। তাই বাবার এ ধরনের অবিচারের বিরুদ্ধে তখন আমি নিরুচ্চার প্রতিবাদ জানিয়ে যাচ্ছি আমার প্রতি পদক্ষেপে।

এবার কিন্তু কলেজে ওঠার জন্যেই বোধ হয় দেখা গেল বাবার কাছ থেকে সুযোগ সুবিধা কিছুটা পাওয়া যাচ্ছে। অবশ্য পুরোপুরি নয়। শিকারে যাওয়ার সময় শনিচর নামে এক সাঁওতাল ল্যাং-বোটের মত লেপটে থাকত আমার সঙ্গে। তবে শনিচরের সাহস, হাতের টিপ এবং বন-জঙ্গল সম্বন্ধে জ্ঞান ছিল অসাধারণ। কোন পায়ের ছাপ কোন জানোয়ারের কিংবা সেই ছাপ কত দিনের পুরোনো এসব ছিল তার নখদর্পণে। আমার প্রথম জীবনে তার এই অভিজ্ঞতা আমাকে পরে অনেক সাহায্য করেছিল।

শুনেছি, ভগবান নাকি কানে খাটো। কিন্তু ঠিকমত প্রার্থনা জানাতে পারলে ভগবানের কানে তা ঢুকবেই। তাই বোধ হয় আমার মনের কথা শুনতে পেয়ে তিনি সেজো জ্যাঠামশাই এবং ছোট জ্যাঠামশাইকে আমাদের ওখানে পাঠিয়ে দিলেন। সেজো জ্যাঠামশাই ছিলেন আসামের এক চা-বাগানের ম্যানেজার। ছোট জ্যাঠামশাই ছিলেন মধ্যপ্রদেশে এক কফি বাগানের ম্যানেজারী নিয়ে। ছুটিতে তিনি আসামে সেজো জ্যাঠামশাইয়ের কাছে গিয়েছিলেন।

তিন দিন আমাদের ওখানে কাটিয়ে আসামে ফিরে যাওয়ার সময় তাঁরা আমাকেও সঙ্গে নিয়ে গেলেন। ঠিক হল, ওখানে সপ্তাহ খানেক থেকে, শিকার-টিকার করে ছোট জ্যাঠামশাইয়ের সঙ্গে রূপশী থেকে প্লেনে কোলকাতায় যাব।

অতএব, মনে আর আনন্দ ধরে না। দুই জ্যাঠামশাই-ই আমাকে কথা দিয়েছেন, ওখানে তাঁরা আমাকে ইচ্ছেমত শিকার করবার সুযোগ দেবেন। এর আগে কোনদিন আসামে যাইনি। শুনেছি জ্যাঠামশাইয়ের বাগানের পাশেই গৌরীপুর এস্টেটের ফরেস্ট। ওখানে নাকি সব ধরনের শিকারই পাওয়া যায়। তা ছাড়া ডুয়ার্স থেকে আসাম পর্যন্ত গোটা পথই আমরা যাব জ্যাঠামশাইয়ের জীপে। এটাও কম আনন্দের কথা নয়।

যাই হোক, একদিন সকালে ব্রেকফাস্ট খেয়ে ডুয়ার্স থেকে রওনা দিলাম। সঙ্গে ট্রেলারে মালপত্র। জীপে দুই জ্যাঠামশাই ছাড়া জ্যাঠাইমা (ছোট), দুটি ছোট বোন এবং ডাক্তার কাকা। দুপুরে কুচবিহারে হোটেলে খাওয়া সেরে আবার রওনা দিলাম।

পথে পরপর কয়েকটা নদী পড়ল। এখন ওসব নদীতে চমৎকার পুল হয়েছে। তখন পুল ছিল না। ফেরী নৌকায় পার হতে হত। নদীতে স্রোত বেশী বলে নৌকা শক্ত মোটা ইস্পাতের তার দিয়ে বেঁধে রাখা হত নদীর উপর আড়াআড়ি ভাবে টানানো আরও মোটা শক্ত ইস্পাতের কাছির সঙ্গে। মাথায় কপিকলের মত চাকা লাগালো থাকত। নৌকা যখন ওপারে যেত, তখন কপিকলের সঙ্গে লাগানো তারটাও কাছির উপর দিয়ে গড়িয়ে যেত ওপারে।

জ্যাঠামশাইয়ের বাগানে যখন পৌঁছলাম, তখন রাত প্রায় ৯টা। একে শীতের রাত তায় আবার আসাম। বড়দিনের উৎসব-মত্ত চা-বাগানের সাঁওতাল শ্রমিকদের মাদলের আওয়াজ মাফলারের ফাঁক দিয়ে কানে আসছে। এক অদ্ভুত পরিবেশ!

তার পরদিন বাগান বন্ধ। পরের দিনও। আগের দিন শরীরের উপর দিয়ে রাস্তার ধকল যাওয়ায় উঠতে দেরি হয়ে গেল। যখন ঘুম থেকে উঠলাম, দেখলাম বাংলোতে ছোট দুটি বোন এবং জ্যাঠাইমা ছাড়া আর কেউ নেই।

জ্যাঠাইমার কাছে শুনলাম, জ্যাঠামশাইরা ভোর রাতে বন্দুক নিয়ে সঙ্কোষ নদীতে হাঁস মারতে গেছেন। আমি ক্লান্ত মনে করে তাঁরা আমাকে ডাকেন নি।

এই ঘটনায় আমার মন ভীষণ খারাপ হয়ে গেল। আরও খারাপ লাগল, যখন দেখলাম ওঁরা গোটা আষ্টেক হাঁস এবং একটা চখা মেরে এনেছেন। রাগে, অভিমানে ওঁদের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক কথাই বললাম না। জ্যাঠাইমাকে একবার বললাম আমাকে স্টেশনে পৌঁছে দিতে, ওখান থেকে ট্রেন ধরে ডুয়ার্স চলে যাব। যে সব বড়রা ছোটদের মনে কষ্ট দেন, তাঁদের কাছে না থাকাই ভাল।

কিন্তু অভিমান আমার ঘণ্টা খানেক পরেই দূর হল। দুপুর বেলা খাবার টেবিলে বসে সেজো জ্যাঠামশাই সবাইকে শুনিয়ে শুনিয়ে বললেন, পরদিন বিকেলে আমার সম্মানে একটা শিকারের আয়োজন করা হবে। সেই অভিযানে প্রথম যে শিকার দেখা যাবে, সেটা আমিই প্রথম নিশানা করব।

অতএব অভিমান দূর হওয়া স্বাভাবিক। বইতে পড়েছি, কোন রাজার রাজ্যে অথবা ধনীর বাড়িতে অতিথি শিকারী এলে প্রথম শিকার করবার অধিকার অতিথির। আমাকেও অনেকটা সেই ধরনের সম্মান দেওয়ার কথায় আনন্দ হবে না কেন?

এরপর থেকে সময় যেন আর কাটতেই চায় না। বিকেল তিনটের সময় ঘড়ির দিকে তাকালাম। মনশ্চক্ষে দেখতে পেলাম, কাল ঠিক এই সময়ে জ্যাঠামশাইয়ের ওই ভারী বন্দুকটা নিয়ে জীপের সামনে আমি গ্যাঁট হয়ে বসে আছি। সামনের কাঁচটা খোলা আছে। বসে বসেই আমি গুলি চালিয়েছি। ছ'জোড়া চোখ আমার আর শিকারের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। তারপর যখন দুম করে শিকার গড়িয়ে পড়ছে, তখনো আমি কিন্তু উঠছি না; যেন বড় কিছু হয় নি এমনি ভাব নিয়ে গম্ভীর মুখে গাড়ীর মধ্যে বসেই ব্যারেলের মধ্যে ফুঁ দিয়ে চলেছি। বড়রা দৌড়ে গিয়ে শিকার টেনে নিয়ে আসছেন। আ:! দৃশ্যটা কল্পনা করতেও শরীর রোমাঞ্চিত হয়ে উঠছে।

কিন্তু—ইস!—ঘড়িটা কী আস্তে আস্তেই না চলছে! হিসেব করে দেখলাম ঘড়ির কাঁটা আরও দুপাক ঘুরে এলে তবে কাল বিকেল তিনটে হবে।

রাতে ভাল করে ঘুম হল না। বার বার ঘুম ভেঙে যায়। কতক্ষণে রাত পোহাবে!

পরদিন দুপুরে খাওয়ার পর একটু বিশ্রাম নিয়ে আমরা সবাই তৈরী হয়ে নিলাম। আমরা মানে, আমি বাদে সবাই। আমি তো খাওয়ার পরই তৈরী হয়ে বসেছিলাম। গায়ে মিলিটারী ডিসপোজালের খাকী কোট চাপিয়ে বার বার জ্যাঠাইমার ড্রেসিং টেবিলের সামনে দিয়ে যাওয়া-আসা করি আর আড় চোখে নিজেকে জরিপ করি। কতটা শিকারী-শিকারী মনে হচ্ছে নিজেকে, বুঝবার চেষ্টা করি। অনেক সময় ব্যস্ততার ভাব দেখিয়ে আয়নার সামনে অদৃশ্য কোন বস্তু খোঁজাখুঁজি করি। উদ্দেশ্য ভালভাবে নিজের রূপ দর্শন করা।

গোটা আড়াইটার সময় গাড়ী-বারান্দার নীচে সবাই জীপে চেপে বসলাম। সামনে জ্যাঠামশাই দুজন এবং আমি। পেছনে জ্যাঠাইমা, ছোট বোন দুটি এবং কাকা। জ্যাঠাইমার সামনে একটা খাবার ঝুড়ি। ওতে রয়েছে আগের দিনে মারা হাঁসের মাংস আর পাউরুটি। আগের দিনেই ওগুলি ছাড়িয়ে ফ্রীজের মধ্যে রেখে দেওয়া হয়েছিল। ফ্লাসকে নেওয়া হয়েছে যথেষ্ট পরিমাণ চা।

সেজো জ্যাঠামশাই আমার হাতে তাঁর বি. এস. এ. বারো বোরের বন্দুকটা এগিয়ে দিলেন। স্পোর্টসে চ্যাম্পিয়ান কাপ নিতে যেমন আমার স্কুলের বন্ধু অলক ভট্টাচার্য হাত বাড়িয়ে দিত, ঠিক তেমনি সোনা-সোনা মুখ করে বন্দুকটা আমি নিলাম। ছোট জ্যাঠামশাই এগিয়ে দিলেন গুলিভরা থলিটা। ওর দুটি খোপের একটিতে ছররা আর অন্যটিতে ছিল এল, জি ইত্যাদি। ছোট জ্যাঠামশাই নিলেন তাঁর প্রিয় .৪০৫ রাইফেলটা।

.৪০৫ রাইফেল খুবই উচ্চশক্তিসম্পন্ন। পরবর্তী জীবনে দেখেছি, ওর এক গুলিতে দুর্দান্ত বাইসন কী করে কাটা গাছের গুঁড়ির মত মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এক সাহেবকে ওই রাইফেল সম্বন্ধে বলতে শুনেছি, 'লেজ বাদ দিয়ে বাঘের যে কোন জায়গায় গুলি কর; শিকার তুমি পাবেই।' কথাটা অতটা সত্যি না হলেও, কিছুটা সত্যি সন্দেহ নেই।

সেদিন ছোট জ্যাঠামশাই কেন ওই রাইফেল নিয়েছিলেন, তা বলা শক্ত। তবে সেদিন তিনি ওটা সঙ্গে না নিলে আমরা কেউ বোধ হয় আর ফিরে আসতে পারতাম না। বাংলোতে আরও একটা শটগান ছাড়া দুটো রাইফেল ছিল। হাল্কা ধরনের ওই তিনটির একটিও না এনে কেন ওই ভারী রাইফেলটা এনেছিলেন, তিনি নিজেও তার সদুত্তর খুঁজে পান নি। হয়ত হাতের কাছে থাকায় ওটা টেনে নিয়েছিলেন, অথবা নেহাৎ ভাগ্য তাঁকে বাধ্য করেছিল।

বাগানের রাস্তা ছেড়ে আমরা ফরেস্টের দিকের রাস্তা ধরলাম। তামাহাট—মোরনাই-এর দিক থেকে এই রাস্তা বড়বাঁধা ফরেস্টের ভেতর দিয়ে টিপকাই রেলস্টেশন হয়ে ধূবড়ি—গৌহাটি—পাকা সড়কের সঙ্গে গিয়ে মিশেছে। ফরেস্টের রাস্তাটা প্রায় ১ ফুট ধুলোয় ঢাকা। জ্যাঠামশাই গাড়ী দাঁড় করিয়ে গাড়ীর কাঁচ নামিয়ে নিলেন, উপরন্তু উপরের হুড খুলে পেছন দিকে ঘুরিয়ে রাখলেন।

ফরেস্টের ভেতরটায় তেমন ধুলো নেই। বনের ঘনত্বের জন্য সরাসরি সূর্যের আলো মাটিতে পড়ে না। ফলে বনের মাটি, পথ ইত্যাদি সব সময়েই ভেজা-ভেজা। তাই ফরেস্টের বাইরে ধুলোর জন্য খুব অসুবিধা হলেও ভেতরে তেমন কোন অসুবিধা নেই।

আমার এই সময়কার মনের অবস্থা যে কোন লোক অনুমান করতে পারেন। টিকটিকি শিকার ধরবার আগে যে নিষ্ঠা নিয়ে শিকারের দিকে তাকিয়ে থাকে, আমিও ঠিক তেমনি নিষ্ঠা নিয়ে তাকিয়ে আছি বনের সব কটি গাছ, ঝোপ-ঝাড় আর পথের দিকে। একটা ছোট পাতা নড়ে উঠলেও ভাবি, ওই বুঝি কোন বাঘ-ভালুক বা কোন কেষ্ট-বিষ্টু জানোয়ার। মনে মনে ভগবানকে ডাকছি, আমাকে যেন সত্যিকারের বড় কিছু একটা পাইয়ে দেন। সেটা যেন রাস্তার ধারে পাথরের মূর্তির মতো পরিষ্কার জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে। সময় সময় ভাবছি, ঐ গাছের নীচে একটা নিরীহ গোছের বাঘ (যে দাঁতের পোকায় কষ্ট পাচ্ছে) যদি আমার দিকে পেছন ফিরে দাঁড়িয়ে থাকত, তবে কি চমৎকারই না হত। কখন কখন মনে হচ্ছে, পাশের গাছটার দু'ডালের মাঝখানে যদি একটা ভালুক আটকে থাকত, তাহলেও মন্দ হত না।

সত্যি কথা বলতে কি, ভগবান নামক ভদ্রলোকটি বাবা জ্যাঠাদেরই মত। আমি যখন যা চাইব, তখন তা হবে না। যখন কিছু চাইব না, তখন কিন্তু দুম করে তিনি কিছু একটা করে বসবেন।

আড়াআড়ি ভাবে প্রায় গোটা বনটাই আমরা পার হয়ে এলাম। মনে হল, বনের সব পশু-পাখী তীর্থ করতে গেছে। নয়ত সব ওলাওঠা অথবা ওই ধরনের কোন মহামারীতে সাফ হয়ে গেছে। আশ্চর্য! বনের মধ্য দিয়ে প্রায় চার মাইল পথ এত সুবিধাজনক ভাবে পার হয়ে এলাম, অথচ আমার হিম্মৎ দেখাবার জন্য একটাও কিছু নেই।

নদীর ধারে এসে জ্যাঠামশাই গাড়ী দাঁড় করালেন। বিকেল তখন প্রায় ৪টা। আমরা সবাই গাড়ী থেকে নেমে দাঁড়ালাম। এখানে নাকি বিকেলে ঝাঁকে ঝাঁকে হাঁস নাকের ডগায় সাঁতরে বেড়ায়। সেই জন্য এখানে আসা। আমার কপাল মন্দ। নইলে যে কটা হাঁস দেখা গেল, তারা বন্দুকের পাল্লার বাইরে কেন থাকবে? বন্দুকই শুধু নয়, মনে হয় দৃষ্টির পাল্লার বাইরে থাকাই ওদের ঝোঁক।

মনের দু:খে অনেকটা মাংস ও রুটি খেয়ে ফেললাম। চা খেতে খেতে ছোট জ্যাঠামশাই বললেন,—'তুমি আর কি করবে? ভয়ে কেউ তোমার সামনেই আসতে চায় না। যাই হোক ফেরার সময় কিছু একটা পেয়ে যাবেই। আর কিছু না হোক দু-একটা খরগোশ পাবেই।'

মনে তবু বল এল। শুনেছি রাত্রে খরগোশের চোখ বাঘের চোখের মত জ্বলে। ওদের নাকি শিকার করা খুব সুবিধে।

হাঁসের পেছনে দৌড়াদৌড়ি করে পাঁচটা বাজবার আগেই অন্ধকার হয়ে এল। শীতের বিকেল, নদীর ধারে শীত-শীত করছে। সব কিছু গাড়ীতে গুছিয়ে আবার বনের দিকে রওনা দিলাম। এর আগে আমি গাড়ীর ধারে ছিলাম। এবার আমাকে মাঝখানে দিয়ে ছোট জ্যাঠামশাই ধারে বসলেন। ছোট জ্যাঠামশাইয়ের নির্দেশে আমি বন্দুকে একটা ছররা ও একটা এল, জি ভরে নিলাম। বন্দুকের ব্যারেলটা কাঁচের উপর দিয়ে সামনের দিকে অনেকটা বের করে রাখলাম। খরগোশ দেখলেই যেন গুলি করতে পারি।

ফরেস্টের মধ্যে ঢুকে সরাসরি বনের দিকে না গিয়ে আমরা উল্টো দিকে কিছুটা ঘুরে এলাম। ও দিকে নাকি মাঝে মাঝে হরিণ-টরিণ পাওয়া যায়।

বনের মধ্যে রাতটা যেন আরও গভীর। নিশ্ছিদ্র অন্ধকারের মধ্যে জীপের উজ্জ্বল আলো ছুরির ফলার মত অন্ধকার কেটে ফালা ফালা করে দিচ্ছে। সামনের রাস্তা ছাড়াও বনের দুপাশের অনেকটা সেই আলোতে দেখা যাচ্ছে। আশে পাশে যদি কোন জানোয়ার লুকিয়ে থাকে, তবে তাকেও ঠাহর করা তেমন কিছু অসম্ভব নয়।

এপাশে ওপাশে তাকাতে আমার নজরে এল...

ছোট বোন দুটো হাই তুলছে। বাড়ী ফেরা দরকার। জ্যাঠামশাই গাড়ী ঘুড়িয়ে নিলেন।

সমস্ত উত্তেজনা, আনন্দ যেন ঝিমিয়ে পড়েছে। কেমন এক অবসাদ এসে ঘিরে ধরেছে। যেন যন্ত্রের মত বন্দুক সামনে ধরে বসে আছি।

এখানে বনটা একটু ফাঁকা, অর্থাৎ পাতলা। রাস্তার দু পাশেই গভীর নালা। নালা চওড়া হবে দশ থেকে বারো ফুট। গভীরতা কম করে দশ ফুট। নালার মধ্যে সস্তা ধরনের কিছু গাছ জন্মেছে। আর আছে প্রচুর বেতগাছ। কোন কোন বেতগাছের লতা অন্য সব গাছের মাথা ছুঁই-ছুঁই করছে। এই অঞ্চল থেকে প্রচুর পাকা বেত কোলকাতা এবং অন্যান্য স্থানে চালান যায়।

আমার বন্দুকে তখন একটা ছররা (৪নং) এবং অন্য ব্যারেলে এল. জি. ভরা। মাঝে মাঝে রাস্তার ওপর থেকে চোখ সরিয়ে আশপাশের দিকেও লক্ষ্য রাখছি। এখানে রাস্তার ওপর কোন কিছু না পাওয়াই সম্ভব।

রাস্তা যেখানে শেষ হয়েছে সেখানেই আরম্ভ হয়েছে নালা। তাই কোন জানোয়ার যদি থাকে, তবে তারা থাকবে নালার ওপারে। এপারে নয়। তবু রাস্তার দিকেও চোখ রাখতে হচ্ছে।

আমার ঠিক পেছনেই ৮।৯ বছর বয়সের ছোট বোন অতসী দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ ও আমার কাঁধ খামচে ধরে 'ওই যে, ওই যে' করে কানের কাছে ফিসফিস করে উঠল।

বোনের কথাটা জ্যাঠামশাই দুজনও শুনতে পেয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে সেজো জ্যাঠামশাই গাড়ীর গতি কমিয়ে দিলেন।

এপাশে ওপাশে তাকাতে আমার নজরে এল নালার ওপারে বাঁদিকে ঝোপঝাড়ের মাঝে এক জোড়া চোখ। সেজো জ্যাঠামশাই চোখ দুটি দেখতে পান নি। তবু গাড়ির মুখ রাস্তা থেকে ইঞ্চি দুতিন বাঁয়ে ঘুরিয়ে দিলেন তিনি।

আমি ততক্ষণে বন্দুক তুলে ধরেছি। একটা ছোট খরগোশ মারার জন্য ৪নং ছররাই যথেষ্ট। আর তা ছাড়া দূরত্ব যখন বিশ ফুটের মত।

কাঁধের কাছে বন্দুক ঠেকিয়ে ভালভাবে নিশানা ঠিক করে নিলাম। চোখ দুটোর একটু পাশেই ঘন বেতের বন উঠে গেছে মাথায়। নিশানা করতে অসুবিধা হলেও সামনের সীমানা পরিষ্কার। ছোট জ্যাঠামশাই আমার ডানদিকে বসে আছেন বলে চোখ দুটো দেখতে পাচ্ছেন না। রাইফেল ধরে আমার কাঁধের পাশ থেকে উঁকি ঝুঁকি মারছেন। আমি সময় নষ্ট না করে ঘোড়া টিপে দিলাম।

সঙ্গে সঙ্গে ভয়ঙ্কর ব্যাপার। বন-পথ-ঘাট কাঁপিয়ে বিকট ও রক্তজলকরা তীব্র গর্জন কানে এল। গর্জনের সঙ্গেই শুরু হল নালার ওপারে সেই ঘন বেত বনের উপর তীব্র এক আলোড়ন। মাটি থেকে মানে রাস্তা থেকে সাত-আট ফুট উপরে কী যেন একটা ভারী পদার্থ ঝাঁপিয়ে পড়েছে। গাড়ীর আলোয় চোখের পলকে কি যেন একটা দেখা গেল। আর সেই মুহূর্তেই আমার ডান পাশ থেকে জ্যাঠামশাইয়ের .৪০৫টা গর্জন করে উঠল। আর পরক্ষণে সেজো জ্যাঠামশাই গাড়ীর গীয়ার বদলে উল্কা বেগে চালিয়ে দিলেন গাড়ীটা।

বাঘ!

ঘটনাটা খুব বেশী হলেও ১০।১২ সেকেণ্ডের বেশী সময় লাগে নি—আমার নিশানা করা থেকে জ্যাঠামশাইর উল্কা বেগে পলায়ন পর্যন্ত।

ব্যাপারটা অনুধাবন করতে আমার সময় লাগল। অনুভূতিটা যেন কয়েক সেকেণ্ডের জন্য মরে গিয়েছিল। গাড়ীর গতি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চিন্তাশক্তি ফিরে পেলাম।

বাংলোতে ফিরে আসার পর ঘটনাটা পর্যালোচনা করে জানা গেল, সেজো জ্যাঠামশাই বাঘটার চোখ ভাল ভাবে দেখতে পান নি। ভয়ঙ্কর গর্জন শুনে আর বেত ঝোপের ফাঁক দিয়ে আবছামত যেটুকু দেখা গেছে তাতেই তিনি বুঝতে পারেন যে, ওটা বাঘ। ছোট জ্যাঠামশাই তো দেখতেই পান নি। তাঁর ধারণা আমার গুলিতে ভড়কে গিয়ে আমাদের গাড়ী লক্ষ্য করে সে ঝাঁপ দেয়। কিন্তু সামনের বেতবনে আটকে যায়। বেতের কাঁটায় আটকে গিয়ে বের হয়ে আসবার জন্য যখন সে প্রাণপণ চেষ্টা করছিল, তখন ছোট জ্যাঠামশাই গুলি করেন। তিনি ঠিক বলতে পারেন না, গুলি বাঘের গায়ে লেগেছে কিনা।

তবে একটা ব্যাপার বোঝা গেল। ওই বেত ঝোপ যদি না থাকত, তাহলে বাঘ যে সরাসরি আমাদের জীপের উপর লাফিয়ে পড়তে পারত, তাতে কোন সন্দেহ নেই।

রাত্রে খেতে বসে ঠিক হল, পরদিন সকালে অন্তত: ১০।১২টা মোষ নিয়ে ওই অঞ্চলটা খুঁজে দেখতে হবে। আমার বন্দুকের গুলি অথবা ছোট জ্যাঠামশাইয়ের রাইফেলের গুলি বাঘকে আহত করলেও করতে পারে।

অস্বস্তিতে রাতে ভাল করে ঘুমোতে পারলাম না। বার বার কেবল বাঘের সেই তীব্র গর্জন কানে ভেসে আসছিল। ছোটবোনটার জ্বর-ভাব হয়েছে। মনে হয় বাঘের গর্জনে ভয় পেয়ে হয়েছে। বছর চারেক মাত্র বয়েস! মাঝে মাঝে ঘুমের ঘোরে কেঁদে উঠছে। সেজো জ্যাঠামশাই সেই রাতেই বাংলোর চৌকিদার ডেকে মজুর বস্তিতে সর্দারের কাছে খবর পাঠিয়েছেন সকালে বড়বাঁধা ফরেস্টের বাইরে গোটা দশেক মোষ এবং জন পঁচিশেক লোক রাখবার জন্য।

মনে মনে ভাবছি, যদি এমন হয় যে, জ্যাঠামশাইয়ের গুলি বাঘের গায়ে একেবারেই লাগে নি, শুধু লেগেছে আমার বন্দুকের গুলি, আর তার ফলে বাঘ ওখানে, আশেপাশে কোথাও মরে পড়ে আছে, তাহলে কি হবে? খবরের কাগজে ছবি ছাপা হবে আর ফলাও করে লেখা থাকবে ''কিশোরের অপূর্ব কৃতিত্ব'' ইত্যাদি। ভাবতেও রোমাঞ্চ জাগে। স্বপ্ন কি সত্য হয় না?

অতিকষ্টে জ্যাঠাইমার অনুমতি সংগ্রহ করে সকালে ব্রেকফাস্ট খেয়ে বের হলাম। জীপের পরিবর্তে বাগানের ট্রাক নেওয়া হল। আমি ছাড়াও অনেক লোক তীর, ধনুক, বর্শা নিয়ে এসেছে।

মোষ তৈরী ছিল। আমরা দল বেঁধে রাস্তার উপর দিয়ে হেঁটে এগিয়ে গেলাম কাল রাতের জায়গায়। ফার্লং খানেক আগে মোষগুলোকে নামিয়ে দেওয়া হল নালার মধ্যে।

মোষগুলো নালা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ সেই বেতঝোপ থেকে ১৫।২০ ফুট দূরে তারা কান খাড়া করে লেজ তুলে মাথা সোজা করে দাঁড়িয়ে পড়ল।

এদিকে আমি দুজন সাঁওতাল কুলির সঙ্গে বেশ কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আছি। হাতে সেই বারো বোরের বন্দুক। ওখান থেকে নালার ভেতরটা কিছুই দেখা যায় না।

দু'জ্যাঠামশাইয়ের হাতে রাইফেল। এছাড়া ইঞ্জিনিয়ার মণ্ডল সাহেবের হাতে তাঁর বন্দুক।

জ্যাঠামশাইয়ের কথামত পরপর কয়েকটা ঢিল ছুঁড়ে মারা হল নালার ভেতরে। একজন সাহসী সাঁওতাল বল্লম বাগিয়ে নালার মধ্যে কিছুটা নেমেই সঙ্গে সঙ্গে মারলে এক লাফ। আর সেই লাফেই ওপরে।

একটা চাপা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। সাঁওতালটি বাঘ দেখতে পেয়েছে। কিন্তু জ্যান্ত না মরা বুঝতে পারে নি।

ছোট জ্যাঠামশাই সাঁওতালটিকে সঙ্গে নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলেন। আমার বুকের মধ্যে ঢিপ ঢিপ করছে। শীতের সকালে বনের ছায়ায় দাঁড়িয়ে আছি, তবু ঘামতে লাগলাম। একমনে ভগবানকে ডাকছি—হে ভগবান, বাঘটা যেন মরে গিয়ে থাকে, এবং আমারই গুলিতে।

ছোট জ্যাঠামশাই একটু বাদে উঠে এলেন। দুহাত তুলে ডাকলেন সবাইকে। বেশ উঁচু গলায়। তাঁর মুখেই শোনা গেল যে, বাঘটি মরে পড়ে আছে।

জয় ভগবান! আমার ডাকের একটু অংশ তবে শুনতে পেয়েছ! কি যে আনন্দ হচ্ছিল! দ্বিতীয় অংশটাও নির্ঘাত তাঁর কানে গেছে।

সবাই টেনে তুলল বাঘটাকে।

তারপর দেখা গেল—সবাই দেখল—মনস্তাপের সঙ্গে আমিও দেখলাম—জ্যাঠামশাইয়ের রাইফেলের গুলি ওর গলার নিচে ঢুকে পিঠ ফুঁড়ে বের হয়ে গেছে। আমার ছররার কোন চিহ্নই তার দেহে নেই। শুধু বেতের কাঁটায় তার শরীরের অনেক জায়গা ক্ষতবিক্ষত হয়েছে।

ঘটনাটা পরে আমরা আঁচ করে নিলাম। বাঘটা বসেছিল ওখানে। গাড়ীর আলোয় তার চোখ ধাঁধিয়ে যায়। আচমকা বন্দুকের আওয়াজ শুনে সে লাফ দেয় গাড়ীর আলো লক্ষ্য করে। আলোর জন্য গাড়ীটা অবশ্য সে দেখতে পায় নি। তার লক্ষ্য ছিল গাড়ীর আলোর দিকে। বেতের কাঁটায় বাঘটা যদি কয়েক সেকেণ্ডের মত আটকে না যেত, তাহলে আমাদের কপালে যে কি দুর্ভোগ লেখা ছিল তা বলবার নয়। আর ছোট জ্যাঠামশাইয়ের হাতে যদি সেদিন ভারী রাইফেল না থেকে হালকা রাইফেল দুটির একটা থাকত, তাহলেও আমরা দুর্ঘটনা এড়াতে পারতাম না।

বাঘটা পরে মেপে দেখা হল লম্বায় সাত ফুট এগার ইঞ্চি।

আর দুদিন মাত্র ওখানে ছিলাম। আমার খরগোশ মারা নিয়ে ছোট বোনটাও ঠাট্টা আরম্ভ করেছিল। মানের শেষ রেশটুকুও বুঝি আর থাকে না। তাই সঙ্গে সঙ্গে কোলকাতায় আমার প্রচণ্ড কাজের চাপের কথা মনে পড়তেই কাতর হয়ে পড়লাম। তারপরেই মার মার শব্দে ছোট জ্যাঠামশাইয়ের সঙ্গে কোলকাতায় পাড়ি।

হাসলে মানিক! হাসো খানিক!!

হর্ষবর্ধন

রাম ডাক্তারের কাছে এক ফিরিওলা এসে নমস্কার ঠুকলো—'আপনাকে একটা নার্ভটনিক দেব মশাই?' বলল সে। 'খুব উপকারী ওষুধ। খেলে দারুণ সাহস বাড়ে। দামও তেমন বেশী নয়। মাত্র দশ টাকা বোতল।'

'আমার কাছে তুমি দশ টাকা বোতলের ওষুধ বেচতে এসেছো? জানো আমি ডাক্তার? তোমার সাহস তো কম নয় দেখছি।'

'আজ্ঞে, সেও ওই ওষুধের গুণ। আমি নিয়মিত ওটা খাই কিনা!'

সকল অধ্যায়
১.
মাটি
২.
ভুতের গল্প
৩.
হর্ষবর্ধনের অশ্বরোগ
৪.
সেই মেয়েটি
৫.
বিদ্যাসাগরের ছেলেবেলা
৬.
গোয়েন্দা
৭.
ইতিহাস ছাড়িয়ে
৮.
যমালয়ে জীবন্ত মানুষ
৯.
ডাকিনীর ডাক
১০.
শত্রুতা
১১.
রেলে
১২.
অতু
১৩.
এক যে ছিল বাঘিনী
১৪.
দাওয়াই
১৫.
বিশ্বের বিস্ময় হেলেন কেলার
১৬.
ফুলের বিবাহ
১৭.
মংলুফলায় সোনা
১৮.
একটি গল্প করার মত গ্রাম
১৯.
লালমণি পাখি
২০.
প্লাবন
২১.
ছাত্র-সঙ্গীত
২২.
জয়-পরাজয়
২৩.
এখন শিউলি-বেলা
২৪.
আশ্বিনে
২৫.
ছড়া
২৬.
পোড়ো কুঁড়ে
২৭.
মা (উপন্যাস)
২৮.
গোর্কির ছেলেবেলা
২৯.
সেয়ানে সেয়ানে
৩০.
সুড়ঙ্গের রহস্য
৩১.
এক ঝাঁক গল্প
৩২.
কঙ্কাল
৩৩.
নতুন করে জাগো মা
৩৪.
বেতাল-পঞ্চবিংশতি
৩৫.
ভবঘুরের চিঠি
৩৬.
নিলাম দামী চশমা
৩৭.
শরৎ এল
৩৮.
কৈশোর
৩৯.
আলোর ডাকে
৪০.
অগ্রদূত
৪১.
টাকার কথা
৪২.
সাহস চাই!
৪৩.
ভোজবাড়ীর ব্যাপার
৪৪.
আবাহনী
৪৫.
এবার পূজায়
৪৬.
বামুনের স্বর্গবাস
৪৭.
মজার ধাঁধা
৪৮.
আংটির পাথর
৪৯.
মনমঞ্জুষা
৫০.
নিখিল বঙ্গ গরু সম্মেলন
৫১.
মিকি ডাক আর দিসনে
৫২.
মেঘনাদবধ
৫৩.
চৌধুরী-বাগ
৫৪.
জাদু বিদ্যা
৫৫.
বাবার চিঠি
৫৬.
গানের কথা
৫৭.
আমার প্রথম শিকার আভিযান
৫৮.
বিশ্বক্রীয়া ওলিম্পিক
৫৯.
বাংলার বন্যা
৬০.
শরতে
৬১.
আনন্দ আশ্বিনে
৬২.
টোটকা কিছু
৬৩.
জলদি করুন দাদা
৬৪.
কিশোর বিজ্ঞানীর আসর
৬৫.
সঙ্গীতের মৃত্যু
৬৬.
ছত্রপতি
৬৭.
মেঘ ও বৃষ্টি
৬৮.
মধুপালের আবির্ভাব

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%