দীনেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

দিলীপকুমার চট্টোপাধ্যায়
•নাটিকা•
[ অন্ধকারে ওড়না সরিয়ে ভোরের আলো সবে ফুটেছে। বসবার ঘর। একধারে একটি আলমারি, তার ওপর রেডিয়ো। পেছনের দেওয়াল ঘেঁষে চাদরে-ঢাকা একখানা তক্তাপোশ। টুকিটাকি আরো এক-আধটা জিনিসও রয়েছে, যেগুলো প্রায় সব বৈঠকখানাতেই থাকে। পাঁচটি ছেলেমেয়ে বেশ কিছুক্ষণ হল এখানে এসে জড় হয়েছে। রেডিয়োতে তারা শুনছে দেবী দুর্গার উপাখ্যান। প্রভাত উজ্জ্বলতর হচ্ছে—মহালয়ার মধুর প্রভাত। ]
রেডিয়োতে। 'গর্জ গর্জ ক্ষণং মূঢ় মধু যাবৎ পিবাম্যহম। ময়া ত্বয়ি হতে অত্রৈব গর্জিষ্যন্তাশু দেবতা:।।' এই বলে দেবী সবেগে মহিষাসুরের উপর আরূঢ়া হয়ে পদদ্বারা তার কণ্ঠ পেষণ করে শূলাঘাত করলেন তাকে। মহিষাসুর তখন তার মহিষমুখ হতে বহির্গত হবার চেষ্টা করল। অর্ধ-বহির্গত হতেই মহামায়া তাকে মহাতেজে সংবরণ করলেন। বাধা পেল মহাশূর মহিষাসুর। অর্ধ-নিষ্ক্রান্ত অবস্থায় সে দেবী চণ্ডিকার সঙ্গে ঘোরতর সংগ্রামে লিপ্ত হল। অবশেষে মহাদেবী কাত্যায়নী মহাখড়গ উত্তোলন করলেন। কালানল তেজে ঝলসে উঠল সেই খড়গ। তারপর মহিষাসুরের উদ্ধত শির ছেদন করে তাকে নিপাতিত করল। দৈত্যসৈন্যেরা 'হায় হায়' করে উঠল। দেবতারা...
'বড়বৌদি, মেজবৌদিরা সব কোথায়?'—বলতে বলতে সুটকেস-হাতে একজন বলিষ্ঠদেহী তরুণের প্রবেশ। তার পরনে ধুতি-সার্ট। উপস্থিত ছেলেমেয়েদের মধ্যে বেশ একটা সাড়া পড়ে গেল। টুটুন তৎপরতার সঙ্গে রেডিয়োটা বন্ধ করে দিল। 'মধুকাকু এসেছে! কি মজা!' বলে সবাই মধু পালকে ঘিরে ধরল।
ছোটন। (মধু পালের গলা জড়িয়ে ধরে) আমার জন্যে কি এনেছ, মধুকাকু?
মধু পাল। তোমার জন্যে? গলা ছাড়, বলছি।
ছোটন। (আরও ভালভাবে কণ্ঠ বেষ্টন করে ) ছাড়ছি। বল না, কি এনেছ?
মধু পাল। বলছি, বলছি। লক্ষ্মী মানিক, গলাটা আগে ছাড়, মারা পড়লাম যে! ও নোটন, কথা শোন।
ডবুল। ওর নাম নোটন নয় গো, মধুকাকু!
মধু পাল। নোটন নয়? তবে কি ঝোটন? ও নোটন না ঝোটন, গলা যে করে টনটন।
এবার আর সকলের সঙ্গে ছোটনও খিলখিল করে হেসে উঠল। মধু পালের গলা না ছাড়লেও হাত তার একটু আলগা হয়ে পড়েছিল। সেই সুযোগে মধু পাল দুই হাতে তাকে শূন্যে তুলে একটা পাক খাইয়ে মাটিতে নামাল। ছোটন অপ্রস্তুত।
মধু পাল। এইবার সবাই লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে যার যা পাওনা-গণ্ডা বুঝে নাও। উহুঁ, হল না। ছোটর থেকে বড়। সবার ছোট যে, সবার আগে সে।
ওরা সব বেঁধে দাঁড়াল। নতুন আইন অনুযায়ী সব আগে রইল ছোটন, তার পেছনে ডবলু, ডবলুর পেছনে রুরু, তার পেছনে যথাক্রমে টুটুন ও বুলবুল।
মধু পাল। অ্যাটেনশান!
আচমকা হুমকিতে ছোটন কাত, ডবলু মাথা চুলকোচ্ছে, রুরু ঘুরে গিয়ে টুটুনের মুখোমুখি হতেই টুটুনের দাঁত-খিঁচুনিতে ভড়কে গিয়ে বসে পড়েছে, কাণ্ড দেখে টুটনও বেসামাল। একমাত্র বুলবুলই অটল গাম্ভীর্য সহকারে উদাত্ত ভঙ্গীতে দণ্ডায়মান।
মধু পাল। নোটনচন্দ্র হাজির!
ডবলু ছোটনকে সামনে ঠেলে দিল।
মধু পাল। হরে কর কমবা রুদের কারখানা,। ছুঁচো-সাপ-মাকড়সা—এখন খুলো না! এই নাও।
সুটকেস থেকে একটি বড় প্যাকেট বের করে ছোটনকে দেওয়া হল।
মধু পাল। ইউ-ভি-ডবলু হা—ওরে বাবা! এ যে হা করতে না করতেই হাজির! ভিনমুলুকের রাজাগজার ছাপটি হেথায় মারা। ইতিহাসের পাতায় পাতায় ঘুমিয়ে আছে যারা। এই ধর।
ডবলুকে একটি মুখআঁটা বড় খাম দেওয়া হল।
মধু পাল। কই হে ভগ্ন-উরু কুরুরাজ! আর কতক্ষণ মাটি কামড়ে পড়ে থাকবে? ওঠ এবার।
রুরু উঠে কাছে এল।
মধু পাল। জলে নয়, এ ময়ূরপঙ্খী আকাশেতেই ভাসে। চৌরঙ্গী, মুখপোড়া, পেটকাটার পাশে।
মধু পাল এবার প্রকাশ্যেই রুরুকে খানকয়েক ঘুড়ি দিলে সে সেগুলো নিয়ে তক্তাপোশের ওপর উঠে দাঁড়িয়ে কাল্পনিক ঘুড়ি ওড়াতে লাগল।
মধু পাল। টুনটুনি আর বুলবুলি। তুমি নাও তুলি, তুমি বুলি।
টুটুনকে একখানা রঙবেরঙের ছবির বই বুলবুলকে একখানা গল্পের বই দেওয়া হল। ওরা পরমানন্দে সেগুলো দেখতে লাগল।
ডবলু। মধুকাকু, মধুকাকু!
মধু পাল। কি কাকু?
ডবলু। ম্যাজিক দেখাও না গো।
মধু পাল। ওরে ব্বাবা! ম্যাজিক! কি ম্যাজিক?
টুটুন। (অভয় দিল) কেন পি. সি. সরকারের ম্যাজিক দেখাও না।
ছোটন। (ছুটে গিয়ে মধু পালের গলা জড়িয়ে ধরে) পি. ছি. ছরকারের ম্যাজিক দেখাও! পি. ছি. ছরকারের ম্যাজিক দেখাও!
টুটুন। (দাদাসুলভ গাম্ভীর্য নিয়ে) কি হচ্ছেটা কি ছোটন? একটুক্ষণ সুস্থির হয়ে বসে থাকতে পারো না? ওরকম করলে মধুকাকু ম্যাজিক দেখাবেন না।
সঙ্গে সঙ্গে মধু পালকে রেহাই দিয়ে ছোটন টুটুনের কাছে গিয়ে উপস্থিত।
ছোটন। (টুটুনের কাঁধে হাত রেখে চোখ বড় বড় করে) তাই বুঝি?
টুটুন। (মাছি তাড়াবার মত ছোটনের হাতটা কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেলে) হুঁ। এখন ওখানে গিয়ে লক্ষ্মী হয়ে বসে থাক ত।
নির্দেশমত ছোটন তক্তাপোশে গিয়ে বসল। বুলবুল তখন সেখানে বসে গল্পের বইখানা দেখছিল। ছোটন আসায় আর দেখা নিরাপদ নয় ভেবে সঙ্গে সঙ্গে বইটি বন্ধ করল। বিনা সুতোয় অদৃশ্য ঘুড়ি ওড়াতে-ওড়াতে এই দৃশ্য রুরুর চোখে পড়ল।
রুরু। তুই ভারি সেলফিস ছোড়দি!
বুলবুল। (জ্বলে উঠল) কি রকম, আমি সেলফিস কি রকম?
রুরু। তা নয় তো কি? ছোটভাই পাছে দেখে ফেলে এই ভয়ে তুই ছোটন আসামাত্র বইখানা বন্ধ করলি। কেন, ও দেখলে কি তোর বইয়ের পাতা ক্ষয়ে যেত?
বুলবুল। থাক থাক, তোমাকে আর ওর হয়ে ওকালতি করতে হবে না! কে কত আনসেলফিস তা আমার জানা আছে!
রুরু। আছেই ত! জানলে মধুকাকু, কাল বিকেলে না লুডো খেলতে বসে, বলা নেই কওয়া নেই, ও আমার দু-দুটো পাকা লশলশে ঘুঁটি খেয়ে ফেললে! এত বড় ইয়ে!
টুটুন। ও কথা বল না রুরু। খেলার সময় নো দয়া-মায়া। অন্য সময় তুমি ভাই হতে পার, কিন্তু খেলতে বসে তুমি, কি বলে, প্রতি...প্রতি...
বুলবুল। প্রতিদ্বন্দ্বী।
টুটুন। হ্যাঁ, হ্যাঁ, প্রতিদ্বন্দ্বী।
বুলবুল। বল ভাই, টুটুন?
মধু পাল। যারা ম্যাজিক দেখতে চাও, হাত তোলো।
সকলেই হাত তুলল। সাবধানের মার নেই ভেবে ছোটন দুটি হাতই তুলেছে।
মধু পাল। ছোটন বাদে আর সবাই ওপাশে গিয়ে দাঁড়াও। ছোটনবাবু, তুমি আমার কাছে এস।
ছোটন একদৌড়ে মধু পালের কাছে গিয়ে তার গা ঘেঁষে দাঁড়াল।
মধু পাল। ইনি হচ্ছেন আমার অ্যাসিস্ট্যান্ট অর্থাৎ সহকারী। কি হে ছোটনবাবু, আমার সহকারী হতে রাজি ত?
ছোটন সবেগে মাথা নেড়ে পূর্ণ সম্মতি জ্ঞাপন করল।
মধু পাল। উপস্থিত ভদ্রমহোদয় ও ভদ্রমহোদয়াগণ! আমি এখন আপনাদের সামনে যে ম্যাজিকটি দেখাব, তার নাম 'শূন্যে অদৃশ্য হওয়া।' শূন্যে অদৃশ্য করা হবে সেই বালকবীরকে, যিনি আমার সহকারীরূপে আপনাদের চোখের সামনেই বিরাজ করছেন।
বুলবুল। কে, ছোটন?
মধু পাল। হ্যাঁ, আমি মহামান্য ছোটনচন্দ্রের কথাই বলছি।
বুলবুল। অদৃশ্য করে পরে আবার ফিরিয়ে আনবে ত?
মধু পাল। 'আগের কাজ আগে তো তুমি সারো। পরের কথা ভাবিও পরে আরো।' আগে অদৃশ্যই হোক, ফিরিয়ে আনার কথা পরে ভাবলেও চলবে। না কি বল, ছোটন?
ছোটনকে একটু বিচলিত মনে হলেও সে কিছু বলল না।
বুলবুল। ওকথা বললে শুনছি না। আগে কথা দিতে হবে, ফিরিয়ে আনবে।
টুটুন। মিছিমিছি কথা না বাড়িয়ে কথাটা দিয়েই ফেল না, মধুকাকু।
মধু পাল। কথা দিতে হবে? কি হে ডবলু, রুরু, তোমাদের মুখে কথা নেই কেন? তোমরা কি বল?
রুরু ও ডবলু। (শুকনো মুখ) হ্যাঁ।
মধু পাল। বেশ। ফিরিয়ে আনলেই যখন সবাই খুশী, অগত্যা সেই চেষ্টাই করতে হবে। রুরু।
রুরু। (সভয়ে) আবার আমাকে কেন? আমি বাপু অদৃশ্য হতে পারব না। (সরে পড়বার উদ্যোগ করল।)
মধু পাল। (হেসে) আরে দূর! তোর মত জাম্বুবানকে অদৃশ্য করে কার সাধ্যি? এক কাজ কর। ভেতর থেকে একখানা চাদর বা পুরনো শাড়ী নিয়ে আয় তো ধাঁ করে।
রুরু এবার পরম নিশ্চিন্তে ভেতরে গেল। একটু পরেই চাদর হাতে তার পুন:প্রবেশ। পিছনে-পিছনে ঢুকল বাড়ীর অল্পবয়সী চাকর ভগবান।
ভগবান। ও উরুবাবু, কথা শোন, ও চাদরখানা নিয়োনি! এতের বেলা বিছনা করতে লাগবে।
রুরু। এখন তো এতের বেলা নয়, সকাল বেলা।
ভগবান। বড়মা জানতে পেলে কুরুক্ষেত্তর হবেন গো! ও উরুবাবু! ওমা, মোদদাবাবু যে! কখন এলে আপনি? পেন্নাম হই।
মধু পালকে গড় হয়ে প্রণাম করল ভগবান।
মধু পাল। (হাতজোড় করে প্রতিনমস্কার জানিয়ে) এই কিছুক্ষণ। তারপর, ভালো আছ ত, ভগবান? দেশের সব ভালো?
ভগবান। হ্যাঁ ভালো। আপনকার আশীব্বাদে বিলকুল ভালো। গেল বচ্ছর খরা লেগে জমিজিরেত বেবাক জ্বলে গিইছিলো, এবারে মা দুগগা মুখ তুলে চেয়েছেন গো! জল হয়েছে খুব, ফলনও ভালো হয়েছে। তা, আপনকার গাঁয়ের খপর সব ভালো, মোদদাবাবু?
মধু পাল। (গাঢ় গলায়) আমার গাঁয়ের খবর ভালো নয় ভগবান। খবরের কাগজে ছবি হয়ত দেখে থাকবে, গোটা মেদিনীপুর বন্যার তলায় তলিয়ে গেছে। কোঠাদালান, জমিজমা, গরুবাছুর কিছুই রেহাই পায়নি। লক্ষ লক্ষ মানুষ আজ নিরাশ্রয়!...ওসব কথা পরে হবে'খন, ভগবান। এদিকে এরা সব ম্যাজিক দেখবার জন্যে অস্থির হয়ে উঠেছে।
ভগবান। ম্যাজিক? সেটা কি গো? হেথায় তো পাওয়া যায় না। নিত্যি বাজার যাই, ম্যাজিক তো দেখিনি।
ছেলেমেয়েরা হেসে উঠল।
মধু পাল। (হেসে ) না না, তুমি যা ভাবছ তা নয়। ম্যাজিক হচ্ছে গিয়ে যাকে বলা যায় ওই ভেলকি আর কি।
ভগবান। তাই বল। আমি বলি বুঝি—তা আপনি ভেলকি দেখাবে নাকি?
টুটুন। (বিরক্ত) হ্যাঁ, দেখাবেন। তুমি থামবে এখন? অত্যধিক বাচাল হয়েছে!
ভগবান। শোন কথা। আমায় আবার কখন বেচাল দেখলে গো? টুনটুনবাবুর যেমন কথা! বেচাল! হুঁ!
(প্রস্থান)
রুরুর হাত থেকে চাদরটি নিয়ে মধু পাল আঙুলের ইশারায় সবাইকে চুপ করতে বলল। তারপর ছোটনকে কানে কানে কি যেন বুঝিয়ে দিল সে। অবশেষে ছোটনকে আড়াল করে তার সামনে চাদরটি মেলে ধরল মধু পাল, ছড়া কাটল
লাগ ভেলকি লাগ ভেলকি লাগ ভেলকি লাগ!
পালকি চেপে দুলকি চালে মুলকিবাড়ি যাক!
কলকে হাতে বল কে সাথে মধ্যিখানে টাক?
ঘুমের ঘোরে বাজাও জোরে তাক ডুমাডুম তাক!
চাদর সরিয়ে নিয়েছে মধু পাল। সবাই অবাক। ছোটন অদৃশ্য।
টুটুন। তাই তো, গেল কোথায় বিচ্ছুটা?
বুলবুল। গেল কোথায় ছোটন?
মধু পাল। (অট্টহাসি হেসে) ছোটন শূন্যে—মহাশূন্যে অদৃশ্য হয়ে গেছে!
বুলবুল। (ব্যাকুলকণ্ঠে) ছোটন!
মধু পাল। কোথায় ছোটন? সে আর আসবেই না!
বুলবুল। যা:!
মধু পাল। যা: নয়, হ্যাঁ। আর আসবেই বা কেন? যে ছোড়দি তাকে দেখলেই গল্পের বই লুকিয়ে ফেলে, তার কাছে সে ফিরে আসবে কোন দু:খে?
বুলবুল। মিছিমিছি ভয় দেখিয়ো না বলছি! ছোটন? ছোটনভাই!
এক অদৃশ্য স্থান থেকে ছোটনের কণ্ঠ ভেসে এল—'এই যে আমি'। সকলে সচকিত।
বুলবুল। কোথায়, কোথায় তুমি ছোটনভাই?
'এই যে এখানে'—আবার ছোটনের কথা শোনা গেল। বুলবুল, টুটুন, রুরু, ডবলু—সবাই বেশ বিহ্বল। টুটুন খোঁজাখুঁজির চেষ্টা করল।
মধু পাল। বৃথাই খুঁজে মরছ! ছোটনকে কি আর খুঁজে পাওয়া যাবে? ও যে অদৃশ্য হয়ে গেছে!
এদের কারুরই চোখমুখের অবস্থা ভালো নয়। সকলেরই চোখ ছলছল, তবে টুটুনের অবস্থা এখনো কিছুটা ভদ্রস্থ। একজোড়া সন্ধানী চোখ মেলে বারান্দার প্রতিটি জায়গা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে সে। হঠাৎ 'পেয়েছি! পেয়েছি!' বলে এক লাফে সে তক্তাপোশের দিকে ধাবিত হল।
টুটুন। এতক্ষণে বাছাধনের টিকিটি মিলল! আর কেন, বেরিয়ে এস। ধরা যখন পড়েই গেছ, তখন আর মুখ লুকিয়ে কি লাভ?
গাময় ধুলোবালি, ছোটন হামাগুড়ি দিয়ে তক্তাপোশের তলা থেকে বেরিয়ে এল। মুখে তার বিজয়ীর গর্ব ও ধরা পড়ে যাওয়ার কুণ্ঠা একসঙ্গে ফুটে উঠেছে। বুলবুল আনন্দে ভাইকে জড়িয়ে ধরল।
বুলবুল। লাগেনি ত, ছোটনভাই? লাগেনি ত?
ছোটন। (দিদির কবল থেকে মুক্ত হবার চেষ্টা করে) লাগবে কেন? আমি যে গুটিগুটি চুপিচুপি খাটের নীচে চলে গেলাম! মধুকাকু শিখিয়ে দিয়েছিল কিনা!
বুলবুল। মধুকাকু শিখিয়ে দিয়েছিল! কি মধুকাকু, এবার হাতেনাতে ধরা পড়ে—একি মধুকাকু কোথায় গেল?
সবাই হকচকিয়ে গেল। তাইত? মধু পাল হাওয়া হয়ে গেছে।
টুটুন। যাবেন কোথায়? নিশ্চয়ই ভেতরে পালিয়েছেন! চল চল, এবার ভেতরে গিয়ে মধুকাকুকে গ্রেপ্তার করি গিয়ে।
হইহই করতে করতে ছেলেমেয়ের দল ভেতরে ছুটল। পর্দা নেমে এল।
যবনিকা
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন