ডাকিনীর ডাক

দীনেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

খগেন্দ্রনাথ মিত্র

সাত বছর পরে জটেদার সঙ্গে দেখা। সুতরাং আড্ডায় যে ক'জন উপস্থিত ছিলাম, সকলেই তাঁর দিকে প্রথমে জিজ্ঞাসু চোখে তাকালাম। কিন্তু পরক্ষণেই পুরনো দিনের স্পষ্ট ছবি মনে ফুটে উঠলো। সকলে সমস্বরে বলে উঠলাম, ''জটেদা—জটেদা—এস—এস। ও: কতদিন পরে এলে।''

কেউ বললে, ''কালো হয়ে গেছ।''

কেউ বললে, ''রোগা হয়েছো।''

কেউ বললে, ''বাংলার বাইরে থেকে তোমার চেহারায় বাঙালিত্ব আর নেই। তবে হ্যাঁ, বেশ বলিষ্ঠ আর শক্ত দেখাচ্ছে।''

আমি বললাম, ''দাদা, হিসেব করে দেখছি, সাত বছর তুমি দেশছাড়া। এইমুহূর্তে কোথা থেকে আসছো?''

জটেদা পকেট থেকে সিগারেট কেস বার করে আমাদের দিকে বাড়িয়ে ধরে বললে, ''এই মুহূর্তে আসছি বাড়ি থেকে মানে বাগবাজার থেকে।''

''বাগবাজারে এলে কোথা থেকে?''

''হিরনির জঙ্গল থেকে।''

''সে কোথায়?''

''ছোটনাগপুরে।''

''নাম শুনি নি তো।''

'আমিও প্রথমে শুনিনি। যাবার আগে জায়গাটা কেমন জানতামও না।'' বলে জটেদা সিগারেট ধরালো।

পাঁচটি সিগারেটের ধোঁয়ায় ঘরটি ততক্ষণে ধোঁয়াটে হয়ে গেছে।

বললাম, ''দাদা, এখনও ছবি তোলার বাতিক আছে, না, গেছে?''

''বাতিক কী সহজে যায় রে ভাই? ও একবার ধরলে আর ছাড়ে না। ঐ বাতিকই তো সেবার বিপাকে ফেলেছিল।''

সকলে সমস্বরে বলে উঠলো, ''কী রকম? ঘটনাটা কী? বল—বল—''

জটেদা বললে, ''আমি গল্প বলতে পারি না, এ কথার প্রমাণ ঐ হরিদাস।

''তোমার সে কথা মনে আছে, জটেদা? ও হতভাগাটার কথা ছেড়ে দাও। ও বিশ্বনিন্দুক! পেটভরে খেয়ে খেয়ে খুঁটি ধরে উঠতে উঠতে বলে, এতো খাওয়ানো ঠিক নয়।''

হরিদাস শুদ্ধ সকলেই হো হো করে হেসে উঠলো। হরিদাস বললে, ''দাদা, ভাল গল্প বড় একটা শোনা যায় না, তোমার মুখ থেকে ছাড়া। সত্যি বলছি। বিদ্রূপ করো না। বল তোমার ফটো তুলতে গিয়ে নাজেহাল হওয়ার গল্পটা।''

একে শীতকাল। তার ওপর তখন বাইরে টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়ছে, সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। আমি টেবিল ল্যাম্পটা জ্বেলে শেড আড়াল করে ব্র্যাকেটের উজ্জ্বল বিজলী আলোটা নিভিয়ে দিতেই ঘরখানা আলোআঁধারিতে ভরে গেল। এখন সব অস্পষ্ট, সব ধোঁয়াটে। গলির মধ্যে বাড়ি। গাড়ি ও লোক চলাচলের শব্দ নেই। বেশ একটা নিঝুম পরিবেশ।

জটেদা ফরাসে পা তুলে আসনপিঁড়ি হয়ে বসলো। আমরা আলোয়ান জড়িয়ে জড়সড় হয়ে বসেছি।

জটেদা বললে, ''তোমরা আমার জীবনের এই পর্যন্ত জানো যে, আমি সাত বছর আগে ছোটনাগপুরের এক ঠিকেদারের সহকারীর চাকরি নিয়ে চলে গেছি। তারপর থেকে যে সব ঘটনা আমার জীবনে ঘটেছে, সেগুলোর কিছু কিছু লোমহর্ষক হলেও মাত্র একটি বলবো। কারণ, ঘটনাটা আমার ছবিতোলা বাতিকের সঙ্গে জড়িত।

''শীতটা তখন পড়-পড়। বনের শ্রী বদলাতে শুরু করেছে। কোন কোন অঞ্চলে নেকড়ে, হায়েনা, ভালুক আর বাঘের উৎপাতের কথা শোনা যাচ্ছে। আমাদের এক মজুর তো একদিন দুপুরে জঙ্গলের মধ্যে ভালুকের চড় খেতে খেতে আশ্চর্য রকমে বলতে গেলে নিজ শৌর্যবলে বেঁচে গেল! যাক সে কথা।

''এমন সময়ে মনিব মশাই একদিন বললেন, 'দাস তোমাকে হিরনির জঙ্গলে একবার তদারকে যেতে হবে। নিজেই যেতাম। কিন্তু আমার কালই পাটনায় যাওয়ার দরকার। জান তো সেখানে একলাখ টাকা আটকে আছে। নিজে না গেলে টাকাগুলো তাড়াতাড়ি বার করা যাবে না। অথচ টাকার ভারি দরকার। ঐ জঙ্গলের পূবের অংশের পাহাড়ের ধার থেকে যে শাল বনটা, সেটা আমি কিনেছি। ওখানে কতগুলো গাছ আছে, গাছগুলোর অবস্থা কী, কতগুলো এখনই কাটা যাবে—এই সবের হিসেব নিয়ে এসো। জানই তো ব্যবসাদার সব সময়ে ঠিক কথা বলে না। এতবড় দায়িত্ব তুমি ছাড়া আর কারো ওপর দিতেও ভরসা পাই না। ঐ বন থেকে লাভ হলে তোমার কথা মনে থাকবে।' বলে মনিব আমার পিঠ চাপড়ালেন। তারপর আবার বললেন, 'দরকারমতো লোকজন, বন্দুক-বল্লম, টাকাকড়ি সঙ্গে নেবে।''

''জিজ্ঞেস করলাম, 'কবে যেতে বলেন?'

'কালই, জান তো কোল কাটিদারেরা আছে। ওরা গাছ কেটে নিয়ে পালায়। ঠিকেদারি এক ঝকমারির কাজ।' বলে মনিব আফিস থেকে বেরিয়ে গাড়িতে উঠলেন। গাড়ি চলে গেল।''

বলে জটেদা চুপ করলেন।

নিন্দুক হরিদাস বললে, ''দিব্যি জমে উঠছে। তারপর?''

জটেদা আবার একটা সিগারেট ধরিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে বললেন, ''পরদিন লোকজন, দরকারি জিনিস-পত্তর নিয়ে সকাল সাতটায় রেলে চাপলাম। পৌঁছলাম হিরনি-হলটে বেলা ঠিক দুটোয়। দেখলাম, উত্তর দিকটায় একটা মস্ত পাহাড় মেঘের মতো আকাশ জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর দক্ষিণ দিকটায়, মানে রেলপথের ডাইনে সীমাহীন জঙ্গল। তার শেষে দূরে—বহুদূরে একসারি ধোঁয়াটে পাহাড় দেখা যাচ্ছে। আমরা ছাড়া আর কোন যাত্রীকে ট্রেন থেকে নামতে দেখলাম না। ট্রেন মিনিট খানেক দাঁড়িয়েই হুস হুস করে চলে গেল।

''জনমানবহীন হলট। না, ভুল বলছি, নীলকুর্তা গায়ে, মাথায় পাগড়ি, পরনে ধুতি, পায়ে নাগরাই সবুজ নিশান হাতে খট খট করে আমাদের দিকে আসছিল একটি ঘোর কৃষ্ণবর্ণ লোক। সেই বোধ হয় হলট-ইন-চার্জ।

''সে কাছে এলে জিজ্ঞাসা করলাম, 'সর্দার হিরনি কোন দিকে? কতদূর?'

''সে আমার আপাদ-মস্তক দেখে নিয়ে 'ই বা!' বলে নিশান দিয়ে পাহাড়টা দেখিয়ে দিলে। তারপর আবার বললে, 'হিঁ সে পাঁচ মিল।'

''সে আর আমার সঙ্গে কথা কইলে না, কথা কইলে আমার কোল সহকারী কইরুর সঙ্গে। সেই তার হাতে আমাদের টিকিটগুলো দিলে।

''আমরা হলট থেকে বেরিয়ে পড়লাম। শুনলাম, হলট থেকে মাইলখানেক দূরে হিরনি-গ্রাম, গ্রামের ধার দিয়ে নতুন জাতীয় সড়ক চলে গেছে উত্তরে দিল্লী, দক্ষিণে কোলকাতা। এই পথে দিবারাত্র ট্রাক, লরি, টেম্পো ও মোটর চলাচল করে।

''হিরনি-গ্রাম ও হলটের মাঝে একটা পথ—কাঁচাপাকা। তার দুপাশে জলা আর ধানক্ষেত। জলায় তখনও অজস্র শালুক ফুটে আছে, দাম-বন গজিয়েছে, কলমী-হিঞ্চেও দেখা গেল। আর দেখা গেল, জায়গায় জায়গায় পানি-ফল বা সিঙ্গাড়ার আবাদ। দৃশ্যটা আমার ভারি ভাল লাগছিল। বিশেষ করে ভাল লাগলো, জলার কূলে শালুকপাতার আড়ে, দামবনের কোলে ধ্যানস্থ বকগুলোকে। দেখলাম, এখান-ওখানে পাঁচ্ছটা টীল, যাকে তোমরা বাংলায় বল ভিড়েভিড়ে, হাঁসের মতো ডুব দিয়ে গুগলি, শামুক, ছোট মাছ ধরে গিলছে। আর মাঝে মাঝে ডাকছে—চিটির চিট। কাঁধ থেকে ক্যামেরাটা খুলে ফোকাস করতে যাবো, হঠাৎ পিছন থেকে বন্দুকের আওয়াজ। চমকে উঠলাম। ফিরে দেখি আমার সহকারী একটি টীলকে টিপ করছে।

''বললাম, 'করছো কী? কেন মারছো ওদের?''

''সে বললে, 'হজুর! রাত্তিরে খাবেন কী? মাংসের যোগাড় করছি।' বলেই দড়াম করে গুলি ছুড়ে সেটাকে মেরে ফেললো।

''বকগুলো বন্দুকের শব্দে ইতিমধ্যে সাদা ডানা মেলে কঁক কঁক করতে করতে উড়ে গেছে। এই ঘটনার পর আমার আর ছবি তোলবার উৎসাহ হলো না। জলা পার হয়ে হিরনি-গ্রামে পৌঁছলাম।

''গ্রামে ঢোকবার মুখেই সুখলাল শেঠের মস্ত মুদির দোকান। সুখলালই স্থানীয় রেস্টহাউসের ইন-চার্জ। আমার কোল সহকারীর সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। সে সুখলালকে আমাদের সে অঞ্চলে যাওয়ার উদ্দেশ্য জানালো। তবু সুখলাল রেস্টহাউসের চাবি তার হাতে দিলে না। তার লোক গিয়ে রেস্টহাউস খুলে দিলে।

''রেস্টহাউসে উঠলাম। রাতখানা সেখানেই কাটাতে হবে, যদিও বেলা ডুবতে তখনও প্রায় তিনঘণ্টা দেরি। সামনেই বড় সড়কটার ওপর থেকে শালবন শুরু হয়ে পাহাড় পর্যন্ত চলে গেছে। আমাদের গন্তব্যস্থানে পৌঁছতে হলে ঐ বনের মধ্যে দিয়ে পায়ে-চলা সরু পথে চলতে হবে। শুনলাম, স্থানটি সেখান থেকে পাকা দেড় মাইল। সেই জঙ্গলেভরা দেড়মাইল পাহাড়ী পথে যেতে-আসতে যে কতটা সময় লাগতে পারে, আর সন্ধ্যার পরই যে সে পথ কী রকমের ভীষণ হয়ে ওঠে তা তোমরা এই শহরে বসে ধারণা করতে পারবে না। তার ওপর শীতের গোড়ায় ও অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টি হয়। সেদিনও আকাশে চাপ চাপ কালো মেঘ ভেসে যাচ্ছে; জোর বাতাস উঠেছে। তাতে বাদলার আমেজ। বন থেকে কেমন একটা সর সর শব্দ উঠছে। সূর্যের আলো এক একবার নিভে যাচ্ছে।

''আমার সহকারী কইরু খুব বিশ্বাসী ও দক্ষ। সে সব গোছ-গাছ করতে লাগলো। আমি ক্যামেরা নিয়ে 'বিউটি স্পটের' খোঁজে বার হলাম। সড়কের ধারে আধমাইলের মধ্যে দুটি জায়গার দুখানি ছবি নিয়ে একখানা পাথরের ওপর কিছুক্ষণ বসে যখন রেস্টহাউসে পৌঁছলাম, তখন আকাশ কটাসে মেঘে ঢেকে গেছে, চারধারে অন্ধকার।

''আমাকে দেখেই যেন স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলে কইরু বললে, 'কোথা গিয়েছিলেন হুজুর?'

'কী হয়েছে?'

'সাঁঝের পর এদিকে সেরের উৎপাত।'

'এতো গাড়ি চলাচলের মধ্যেও সের?'

'ওরা গাড়ি পর্যন্ত রুখে দেয়। সুখলালের লোক বললে, কাল থানাদারের গাড়ির সামনে একটা সের পথ আগলে বসে ছিল। থানাদারের কাছে পিস্তল ছিল, বন্দুক ছিল না। পিস্তলে মানুষ মরে সের মরে না। 'হরন' দিয়ে হৈ-হল্লা করে, পিস্তল ছুড়েও বাঘটাকে তাড়াতে পারে না। উল্টো দিক থেকে খুব বড় একখানা লরি এসে পড়লে বাঘটা আস্তে আস্তে উঠে পাশের জঙ্গলে ঢুকে যায়। থানাদারের 'ডেরাইভার' আজ সকালে সুখলালকে জানিয়ে গেছে। আমি কুঠির সব দরজা-জানলা বন্ধ করে দিয়েছি। আমার লোক চারজন ওধারের ঘরে আছে। ওরা আজ রাতে ছাতু খেয়ে থাকবে পাক করবে না। আমি আপনার জন্যে চা-পানি বানিয়ে দিয়ে মাংসভাত পাক করবো।'' বলে জটেদা চুপ করলেন।

বললাম, ''থামলে কেন? বলে যাও।''

''বলছি। সে রাতে বার দুই ঘুম ভেঙে গেল। একবার যেন মনে হলো, কোথায় বাঘ ডাকছে। অবশ্য ঠিক করে বলতে পারবো না, সেটা চলতি মোটরের হর্নের আওয়াজ, না, বাঘের ডাক। আবার আধঘুমঘোরের মধ্যে স্বপ্ন হওয়াও বিচিত্র নয়।

''যা হোক, পরদিন ফর্সা হতেই কইরু চা-পাঁউরুটি হাজির করলে, বললে, রুটিখানা সে সুখলালের দোকান থেকে সংগ্রহ করেছে। এক প্যাকেট বিস্কুটও এনেছে। লোকটা সব রকমের সওদা রাখে। বলছিল, ছবি তোলবার ফিলম-ও নাকি শীঘ্র আনবে। চলতি মোটরগুলোর যাত্রীদের কার কী দরকার পড়ে, কে জানে। লোকটা পাকা ব্যবসাদার যে।

''তাকে থামিয়ে দিয়ে বললাম, 'তোমার লোকেরা খেয়েছে তো? তৈরি সব?'

'হ্যাঁ। একজনকে এখানে রেখে যাচ্ছি। ও আমাদের জন্যে ডাল-ভাত-আলুর তরকারি পাকিয়ে রাখবে। আমরা তো দেড়টা-দুটোয় ফিরবো?'

'তাই তো মনে হয়।'

''পাঁচ জনে রওনা হলাম। আকাশ তেমনি মেঘাচ্ছন্ন। সকলের আগে বন্দুক কাঁধে কইরু। তার পিছনে ক্যামেরা কাঁধে আমি। আমার পিছনে পরপর তিনজন। শেষের লোকটির হাতে বল্লম, তার আগের দুজনের হাতে টাঙি।

''আমরা সড়ক পার হয়ে বনে ঢুকলাম। সে বনের বেশির ভাগ গাছই তেওড় মানে চারা শাল। তার মাঝে মাঝে পলাশ, বয়ড়া, আমলকি প্রভৃতির গাছ গজিয়েছে। তার মাঝে দিয়ে একটি সরু পায়েচলা পথ এঁকে-বেঁকে চলে গেছে বনের গভীরে। প্রথমে প্রায় আধমাইল সমতলভূমি। তারপর থেকেই শুরু হলো চড়াই-উৎরাই ও নির্জন বন। একে তো মেঘে মেঘে অন্ধকার, তাঁর ওপর বড় বড় শাল, মহুয়া, আমলকি, পলাশের ছায়ায় আরও অন্ধকার হয়েছে। সে বনে না শুনি একটি পাখির ডাক, না পাই কোন পশুর সাড়া। সব নিঝুম রহস্যময়। কেবল বড় বড় বুনো ঘুণ ও ঝিঁঝিঁ চারধার থেকে একটানা শব্দ তুলছে চী-ই-ই—। থেকে থেকে গাছপালা দুলিয়ে ঝোড়োবাতাস বনের মধ্য দিয়ে ছুটে যাচ্ছে।

''কইরু হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়ে কাঁধ থেকে বন্দুকটা হাতে নিয়ে ইশারায় পথের ডানধারে ঢালু জায়গাটা দেখালো। তাকিয়ে দেখি একটা কালো রঙের ভালুক এক ঝাড় বুনো কচুর গোড়া খুঁড়ছে। কইরুর ইচ্ছা তাকে গুলি করে। আমার ইচ্ছা তার ছবি নিই। কিন্তু অমন বে-কায়দা জায়গায়, আবছা আলোয় তা সম্ভব নয় দেখে কইরুকে ইশারায় বললাম, 'এগিয়ে চলো।'

''আমরা প্রায় নি:শব্দে জায়গাটা ছাড়িয়ে আরও খানিকটা ওপরে উঠতেই কানে এলো এমন একটানা একটা শব্দ যাকে তিন-চারখানা রেলগাড়ি ছুটে চলার শব্দ বলেও ভুল হতে পারে।

''কইরু এ অঞ্চলেরই লোক। জিজ্ঞেস করলাম, 'ও কিসের শব্দ?'

'ঝরনার। ওই বড় পাহাড়টার এক জায়গায় হিরনিঝরনা। আশিহাত ওপর থেকে জল সোজা নিচে পড়ছে। জায়গাটা ভারি সুন্দর, হুজুর। এখানে চারটে ঝরনা আছে। ঐ যে সামনে ওপর দিকে ঘর দেখছেন, ওটা ডাক-বাংলো। ওর দু'ফারলং তফাতে 'ডাকনী ঝরনা'। বর্ষা থেকে শীতের শেষ অবধি ওটার জল পড়ে। তখন তলা থেকে একটা শব্দ ওঠে, শুনে মনে হয়, 'আঁ—আঁ' করে ডাক ছাড়ছে। তাই ওর ওই নাম।'

'শব্দটা কেন হয়, জানো?'

'ওখানে কোন দেওতা হয়তো আছে।'

''এই অঞ্চলের লোকদের, বিশেষ করে, কোল, মুণ্ডা, ওঁরাওদের খুব ভূত-প্রেতের ভয়। আদিবাসীদের এই এক বিশেষত্ব।

''জিজ্ঞাসা করলাম, 'কেউ জায়গাটা দেখেছে?'

''কে যাবে? দেওতার জায়গায় কি যাওয়া যায়? আর যাবার কী দরকার আছে? অনেক বচ্ছর হলো, আপনার মতো এক সাহেব গিয়েছিল। নামতে নামতে সে পা হড়কে কোথায় পড়েছিল তার পাত্তা পাওয়া গেল না। ওর পশ্চিম দিকে একখানা পাথর বেরিয়ে আছে। সেখানে দাঁড়িয়ে কেউ কেউ ছবি তুলে নেয়। ঝরনাটা খুব সুন্দর দেখতে কিনা। এই যে আমরা হিরনি-জঙ্গলে এসে পড়েছি। সবটার নামই হিরনির জঙ্গল। ওটাকে বলে উত্তরী হিরনি। ঐ জঙ্গলটাই আমাদের বড় সাহেব কিনেছেন। আরে বাপ। কী বড় বড় গাছ। ওই দেখুন—'

''দেখলাম, সামনে ঘন শালের বন—এমন বন জীবনে দেখিনি। জায়গাটা মালভূমির মতো। কিন্তু কী গম্ভীর। তারমধ্যে ঝিঁঝি ও বুনো ঘুণ বুকফাটা চীৎকার করছে। বাতাস স্থির। বনতল অন্ধকার। স্থির হয়ে দাঁড়ালাম, বা বলতে পারো যে সে গাম্ভীর্যে তলিয়ে গেলাম। হঠাৎ মনে হলো, মৃত্যুলোক কী এর চেয়েও নিস্তব্ধ? এর চেয়েও একঘেয়ে?

''কইরুর ডাকে চমক ভাঙলো; সে বললে, 'চলুন হুজুর ভেতরে যাই।' সে কাঁধ থেকে বন্দুকটা হাতে নিলে।

''বনে ঢুকে ঘুরে ফিরে দেখলাম, অন্তত: দেড়শ'টা গাছ কাটবার মতো। তাদের গুঁড়ির ঘের পঞ্চাশ ইঞ্চির কাছাকাছি, আর খাড়াই হবে পঁয়ত্রিশ থেকে চল্লিশ ফুট। তারপর থেকে ডালপালা। হাঁ, লাভের সম্পত্তি বটে!

''সব যথারীতি নোটবইয়ে টুকে নিয়ে একটা গাছের গোড়ায় গুঁড়িতে হেলান দিয়ে মিনিট পনেরো বসে বিশ্রাম করতে করতে খান কয়েক বিস্কুট আর ফ্লাস্কের জল খেলাম। আমার লোক কজনও চানাভাজা আর মুড়ি খেল। আমি একটা সিগারেট, ওরাও প্রত্যেকে এক একটা বিড়ি ধরিয়ে বন থেকে বেরিয়ে ঘড়িতে দেখি, বেলা আড়াইটে! হিসেব করে দেখলাম, হিরনির রেস্টহাউসে পৌঁছতে অন্তত: দেড় ঘণ্টা লাগবে। কিন্তু সেখানে আমার যেতে মন চাইছিল না, ঐ 'ডাকনী ঝরনা' আমার মনে ডাক পাঠিয়েছিল। কইরুকে বললাম, 'কইরু তোমরা ফিরে যাও। আমি ঐ ডাকবাংলোয় আজ রাত কাটিয়ে কাল সকালে 'ডাকনী ঝরনার' ছবি তুলে নিয়ে ফিরে যাবো।'

''সে চোখ দুটো কপালে তুলে বললে, 'কী বলছেন হুজুর? ওখানে একা থাকবেন? মারা যাবেন যে! কেউ ওখানে রাত কাটায় না।'

''বললাম, 'বেশ। ওরা ফিরে যাক। তুমি বন্দুক নিয়ে আমার সঙ্গে থাকো। ঐ ডাকিনীকে আমি দেখবো। ওর ছবি নিয়ে গিয়ে সকলকে দেখাবো। দেখবো, রাক্ষসীর রূপ কেমন! কইরু, তুমি না কোল? তোমাদের সাহস— আচ্ছা, না থাক, বন্দুক, টর্চ, বিস্কুটের প্যাকেট, জলের ফ্লাস্ক আর ঐ পলিথিন সীটখানা আমায় দিয়ে তোমরা ফিরে যাও। ডাকিনীর ছবি আমি তুলবোই। দাও—ওগুলো আমার হাতে।'

''সে বিড় বিড় করে বললে, 'সাহেব পাগল হয়ে গেছেন! এ ডাকনীর কাজ।'

''সে জিনিসগুলো আমার হাতে দিয়ে সকলকে নিয়ে যেন অগত্যা চলে গেল।

''চীৎকার করে বললাম, 'কইরু, কাল বেলা দশটার মধ্যে যদি না ফিরি থানায় খবর দিও। লোকজন এনে আমার দেহটার খোঁজ কোরো।'

''সে উত্তরে কী যেন বললে, বুঝতে পারলাম না।

''সাত বছর জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরে বন্দুক বল্লম চালাতে শিখেছি। আমার লক্ষ্যও অনেকটা অব্যর্থ। টর্চ, বিস্কুট, জলের ফ্লাস্ক ভরা কিট-ব্যাগটা কইরু আমায় দিয়েছিল। ক্যামেরাটাকে তার ভেতর পুরে ব্যাগটা এক কাঁধে আড়াআড়ি ঝুলিয়ে নিলাম। তার নিচে নিলাম পলিথিনের সীটখানা। অন্য হাতে নিলাম টোটা ভরা দো-নলা বন্দুকটা। ডাক বাংলোটা সেখান থেকে প্রায় দুশ' ফুট উঁচুতে। সরু পথটা পাথরের ওপর দিয়ে, তলা দিয়ে, কখন খাড়া কখন এঁকে-বেঁকে উঠে ঝোপের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেছে। উঠতে উৎসাহ-কষ্ট দুই-ই বোধ হতে লাগলো। ঐ দশ ফুট উঠতে আমার লাগলো প্রায় বিশ মিনিট! শেষ অবধি ডাক-বাংলোটার একেবারে সামনে পৌঁছলাম আর ডাকিনীর ডাক কানে এল—একটানা নয়, থেকে থেকে। সে এক অদ্ভুত শব্দ! বাংলোটা পাহাড়টার চূড়ার ওপর। চার ধারের দৃশ্য মনোরম। দুদিকে সবুজ হিরনি উপত্যকা, এক দিকে বনাচ্ছন্ন হিরনি পাহাড় আর একদিকে ঢালু নির্জন বনভুমি।'' বলে জটেদা গুম হয়ে গেল।

''কী ভাবছো? চালাও—চালাও—''

''হাঁ! বন্ধ বাংলোটার দিকে তাকিয়ে মনে পড়লো চাবির কথা। তাছাড়া এখানে থাকতে গেলে কর্তৃপক্ষের অনুমতির দরকার। শেষেরটা না হয় একটা অজুহাতে কাটানো যাবে, কিন্তু চাবি? কী করে ঘরে ঢুকি? গোল চাতালের সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠলাম। সামনেই সার্সিআঁটা দরজা। তার পিতলের কড়ায় একটি মরচে ধরা ছোট তালা আটকানো। সেটাকে ধরে কয়েকটা জোর ঝাঁকি দিয়ে মোচড় দিতেই কট করে খুলে গেল। দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলাম। অন্ধকার ঘর। ভেতর থেকে ঠাণ্ডা বাতাস ও এঁদো গন্ধ বেরিয়ে এলো। পকেট থেকে দেশলাই বার করে জ্বেলে দেখলাম, মাঝখানে একখানি মাত্র চওড়া টেবিল। তার কাছে দুখানি বেতের ছাউনিহীন কাঠের চেয়ার। এ ছাড়া আর কোন আসবাব-পত্র চোখে পড়লো না। বন্দুক আর তল্পিটা টেবিলের ওপর রেখে বাইরে চাতালে এসে দাঁড়ালাম। দেখলাম, ডানধারে একঝাড় পাহাড়ী বাঁশ, বাঁ-ধারে কতকগুলো বুনোগাছের ঝোপ। আর ঐ যে ডাক, হাঁ, ডাকই বটে—শোনা যাচ্ছে। কইরু বলেছে, 'আঁ—আঁ' শব্দ ওঠে। আমি শুনছি, 'আও—আও' ডাক। নিচে থেকে, বন থেকে পাহাড়ের ফাটল বা গহ্বর, কোথা থেকে এই ডাক আসছে? কে ডাকছে? যেখান থেকেই আসুক, যেই ডাকুক ও ডাকছে। সময় থাকলে তখনই তার কাছে নেমে যেতাম। কিন্তু মেঘ আরও গাঢ় হয়ে এসেছে; হঠাৎ বাতাস উঠলো; ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়তে লাগলো। ভেতরে গিয়ে টেবিলে পলিথিন সীট বিছিয়ে বসলাম। বৃষ্টি ও বাতাসের বেগ বাড়লো। ভেতরে ছাট আসতে লাগলো। সার্সিআঁটা দরজা বন্ধ করে দিলাম। খিল ও ছিটকিনি ঠিকই ছিল।

''বাইরে থেকে দরজায় বাতাস ধাক্কা মারে, বৃষ্টি টোকা দেয়, বিদুৎ চমকায়, মেঘ ডাকে। অন্ধকার নেমে এসেছে। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা বলছে, বেলা পাঁচটা। সময় যে এতো আস্তে চলে তা আগে কোনদিন বুঝতে পারিনি। ওদিকে বৃষ্টি-বাতাসের হুড়োহুড়ি সমানে চলছে। সেই শব্দ চিরে ডাকিনীর তীক্ষ্ণ ডাক আসতে লাগলো, 'আও—আও।' শিউরে উঠলাম। সেই সময়ে মনে হলো, ঘরের মধ্যে অন্ধকারে কারা যেন খিল খিল করে হাসতে হাসতে এধার থেকে ওধারে ছুটে গেল। বাইরে কে সার্সির ফ্রেম আঁচড়াচ্ছে, কেঁউ কেঁউ করে কাঁদছে। বোধ হয়, বুনো কুকুর, কিম্বা কোন গ্রাম্য কুকুর আমাদের সঙ্গে এসেছিল। সে আর ফিরে যায় নি। আমার পিছু পিছু এখানে উঠে এসেছে—জানতেও পারিনি। ও ভেতরে আশ্রয় চাইছে। সার্সির গায়ে টর্চের আলো ফেলে দেখবার চেষ্টা করলাম, কিছুই দেখতে পেলাম না। বন্দুকটা কোলের ওপর তুলে ট্রিগারে আঙুল দিয়ে নিলাম। আবার সেই খিল খিল হাসি। সেই আঁচড়ানোর শব্দ—খস খস। কোন ক্ষুধার্ত হায়েনা বা নেকড়ে নয় তো? ও মানুষের গন্ধ পেয়ে থাকবে। তবে দরজা বেশ শক্ত করে আঁটা! কিন্তু ঘরের মধ্যে ও কারা হাসছে? পাশের বন্ধ ঘর দুটোতে কী আছে দেখবার উপায় ছিল না। ওধার থেকে মাঝে মাঝে ধাক্কাও পড়ছে। আমি সার্সির গায়ে টর্চের আলো ফেলে বন্দুক কোলে নিয়ে সতর্ক হয়ে বসে রইলাম।

''ঘণ্টাখানেক পরে বৃষ্টি থামলো তো বাতাস একেবারে থামলো না। আর ডাকিনীর ডাক আরও স্পষ্ট হয়ে উঠলো। ঘড়িতে দেখলাম, রাত আটটা। সকাল হতে তখনও ন'ঘণ্টা! এই দীর্ঘ সময় আমায় এইভাবে বসে কাটাতে হবে। কিন্তু একবারও মনে হলো না, কেন এমন দু:সাহস করলাম। বরং মনে জেদ চাপলো, সকালে ঐ রাক্ষসীটাকে দেখবো। ওর ছবি নেবো। আজকের বৃষ্টিতে ও নিশ্চয়ই ফুলে উঠেছে। তাই এমন ডাক ছাড়ছে। কিন্তু ঘরের মধ্যে ও কারা হাসতে হাসতে ছুটোছুটি করছে? শব্দ লক্ষ্য করে বন্দুক চালাবো কী? এমন সময়ে বাইরে কোথায় যেন একটা অট্টহাসি শুনতে পেলাম। সে হাসি আমি চিনি। ও হায়েনার হাসি। ওরা দলবেঁধে খাবারের খোঁজে বেরিয়েছে।

''আমিও প্যাকেট থেকে খানকয়েক বিস্কুট নিয়ে চিবিয়ে কয়েক ঢোক জল গিললাম। তারপর একটা সিগারেট ধরিয়ে বসতে বসতেই দরজায় জোর ধাক্কা—পরপর তিনবার। তারপর ঘরের হাসি, বাইরের শব্দ সব শান্ত। সারা রাতের মধ্যে আর কিছু শোনা গেল না, কেবল রাত দুটোয় একবার বাঘের ডাক কানে এলো।

''বোধ হয় তখন একটু তন্দ্রা এসে থাকবে। টেবিলের ওপর একটা কনুইয়ে ভর দিয়ে একটু কাৎ হয়েছি, হঠাৎ দরজায় কয়েকটা ধাক্কা ও বাইরে ফোঁস-ফোঁস শব্দে চট করে উঠে বসলাম। আমার হাতে বন্দুক, চোখে সতর্ক তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। ও যেই হোক পাঁচ-ছ গজ দূর থেকে গুলি করলে ওর নিশ্চিত মৃত্যু। কিন্তু আগন্তুক দরজা ভেঙ্গে ভেতরে এলো না; এমন কি আর তার সাড়াও পাওয়া গেল না। ঘড়িতে দেখলাম, রাত শেষ হয়ে আসছে, কাঁটায় কাঁটায় চারটে। তারপর আরও আধঘণ্টা কাটাবার পর আবার মুষলধারায় বৃষ্টি নামলো। যেজন্য বাংলোয় একা একটা ভয়ঙ্কর রাত কাটালাম, সেই ছবি তোলা আমার ভাগ্যে নেই। হায় ডাকিনী! বৃথাই তোমার ডাক শুনলাম! তোমার রূপ দেখতে পাবো না!

''ক্রমে রাত শেষ হলো। কিন্তু বৃষ্টি থামলো না। তবু প্রতীক্ষায় রইলাম। তারপর থেকে পুরো আড়াই ঘণ্টা বসে রইলাম। ডাকিনীর স্পষ্ট ডাক আমার কানে আসতে লাগলো—আও—আও। কিন্তু তার দেখা পেলাম না। সেই দুর্যোগে তার কাছে যাবার পথও যে হারিয়ে গেছে। আর প্রতীক্ষায় লাভ কী?

''কীট-ব্যাগ বন্দুক ক্রস-বেলটের মতো পিঠে ঝুলিয়ে পলিথিন সীট মুড়ি দিয়ে নিচে নামতে লাগলাম। ব্যর্থতা, ক্ষুধা-তৃষ্ণা আর অনিদ্রায় স্নায়ুগুলো তখন নিস্তেজ। না জানি কইরু কী ভাবছে। কিন্তু মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম, এই শীতকালেই আবার একদিন আসবো। তবে একা নয়। ওর ডাক এখনও আমার কানে বাজে। সুতরাং ওকে দেখতেই হবে।

''বিশ্বস্ত কইরু বেলা দশটা অবধি অপেক্ষা করতে পারেনি। লোকজন নিয়ে সেই বৃষ্টিতেই আমার খোঁজে বেরিয়ে পড়েছিল। মাঝপথে তার সঙ্গে দেখা। সে সেলাম করে বিনা বাক্যব্যয়ে আমায় বোঝামুক্ত করলে। পাশে চলতে চলতে একবার শুধু বললে, 'হজুর ডাকনীকে দেখছেন?'

'না। তার ডাক শুনেছি। এই শীতকালে আবার যাবো। ওকে দেখবোই।'

''ক্লান্ত দেহ-মনে রেস্ট-হাউসে ফিরে এলাম। সেদিনটা সেখানে বিশ্রাম করে খিচুড়ি-মাংস খেয়ে চাঙ্গা হয়ে পরদিন অফিসে ফিরে এলাম। মনিব তখনও ফেরেননি।

''এই ব্যাপারটার কথা আমি এতদিন কাউকে বলিনি, কিন্তু কইরু তার ইচ্ছামতো বাড়িয়ে-কমিয়ে লোকের কাছে বলেছে। আজ তোমাদের কাছে প্রথম বলে প্রশ্ন করছি, 'শীতকালে তোমরা কেউ আমার সঙ্গী হয়ে ডাকিনীকে দেখতে যাবে কী?'' বলে জটেদা চুপ করলো।

তখন আমরা সকলে মনে মনে সমস্ত ঘটনাটার বিশেষ করে ডাকিনীর ডাকের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খুঁজছি। কিন্তু কেউ কোন সমাধান খুঁজে পেলাম না। সকলেই এক সঙ্গে বলে উঠলাম, ''অদ্ভুত রহস্য।''

''আমিও বলি তাই।'' বলতে বলতে জটেদা উঠে দাঁড়ালো এবং একটা সিগারেট ধরিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

বৃষ্টি তখন থেমে গেছে।

সকল অধ্যায়
১.
মাটি
২.
ভুতের গল্প
৩.
হর্ষবর্ধনের অশ্বরোগ
৪.
সেই মেয়েটি
৫.
বিদ্যাসাগরের ছেলেবেলা
৬.
গোয়েন্দা
৭.
ইতিহাস ছাড়িয়ে
৮.
যমালয়ে জীবন্ত মানুষ
৯.
ডাকিনীর ডাক
১০.
শত্রুতা
১১.
রেলে
১২.
অতু
১৩.
এক যে ছিল বাঘিনী
১৪.
দাওয়াই
১৫.
বিশ্বের বিস্ময় হেলেন কেলার
১৬.
ফুলের বিবাহ
১৭.
মংলুফলায় সোনা
১৮.
একটি গল্প করার মত গ্রাম
১৯.
লালমণি পাখি
২০.
প্লাবন
২১.
ছাত্র-সঙ্গীত
২২.
জয়-পরাজয়
২৩.
এখন শিউলি-বেলা
২৪.
আশ্বিনে
২৫.
ছড়া
২৬.
পোড়ো কুঁড়ে
২৭.
মা (উপন্যাস)
২৮.
গোর্কির ছেলেবেলা
২৯.
সেয়ানে সেয়ানে
৩০.
সুড়ঙ্গের রহস্য
৩১.
এক ঝাঁক গল্প
৩২.
কঙ্কাল
৩৩.
নতুন করে জাগো মা
৩৪.
বেতাল-পঞ্চবিংশতি
৩৫.
ভবঘুরের চিঠি
৩৬.
নিলাম দামী চশমা
৩৭.
শরৎ এল
৩৮.
কৈশোর
৩৯.
আলোর ডাকে
৪০.
অগ্রদূত
৪১.
টাকার কথা
৪২.
সাহস চাই!
৪৩.
ভোজবাড়ীর ব্যাপার
৪৪.
আবাহনী
৪৫.
এবার পূজায়
৪৬.
বামুনের স্বর্গবাস
৪৭.
মজার ধাঁধা
৪৮.
আংটির পাথর
৪৯.
মনমঞ্জুষা
৫০.
নিখিল বঙ্গ গরু সম্মেলন
৫১.
মিকি ডাক আর দিসনে
৫২.
মেঘনাদবধ
৫৩.
চৌধুরী-বাগ
৫৪.
জাদু বিদ্যা
৫৫.
বাবার চিঠি
৫৬.
গানের কথা
৫৭.
আমার প্রথম শিকার আভিযান
৫৮.
বিশ্বক্রীয়া ওলিম্পিক
৫৯.
বাংলার বন্যা
৬০.
শরতে
৬১.
আনন্দ আশ্বিনে
৬২.
টোটকা কিছু
৬৩.
জলদি করুন দাদা
৬৪.
কিশোর বিজ্ঞানীর আসর
৬৫.
সঙ্গীতের মৃত্যু
৬৬.
ছত্রপতি
৬৭.
মেঘ ও বৃষ্টি
৬৮.
মধুপালের আবির্ভাব

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%