গানের কথা

দীনেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

নারায়ণ চৌধুরী

গান তোমরা সকলেই ভালোবাস। গানের সুরের এমন একটা আবেদন আছে যা সহজেই মনকে বিমোহিত করে তোলে। এমন লোক খুব কমই পাওয়া যাবে যে গান পছন্দ করে না। তেমন লোক কেউ থাকলে বুঝতে হবে তার রাগ-বিরাগ স্বাভাবিক পর্যায়ের নয়। সেকশপীয়র বলেছেন, যে মানুষ গান ভালোবাসে না তার দ্বারা অনেক অপকর্ম সম্ভব। শরৎচন্দ্র তাঁর 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসে কোনো এক বিশেষ দেশবাসীর সুরবোধের অভাব নিয়ে তাঁর অনন্য ভঙ্গীতে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেছেন। আমাদের অতোদূর যাওয়ার দরকার নেই। আমরা শুধু সংগীতরসবোধহীন লোকের প্রতি মমতা প্রকাশ করতে পারি এবং তার চিত্তে সুরের উন্মেষ হোক এই কামনা জানাতে পারি।

গান তোমরা সবাই ভালোবাস। কিন্তু সবাই কি সব জাতের গান ভালোবাস? অনুমান করি তোমাদের কারও সবচেয়ে পছন্দ রবীন্দ্র-সংগীত, কারও আধুনিক বাংলা গান, কারও বা বাউল ভাটিয়ালি জাতীয় লোক-সংগীত; আবার কেউ কেউ বা এ সব গানের চেয়েও রাগসংগীত অর্থাৎ ধ্রুপদ খেয়াল টপ্পা ঠুংরি ইত্যাদি সমধিক পছন্দ কর। কার কোন শ্রেণীর গান বেশী ভালো লাগবে সেটা তার রুচির উপর নির্ভর করে, এই নিয়ে বাদ-বিবাদ করার কোন অর্থ হয় না। এ ক্ষেত্রে পরিবেশেরও একটা ভূমিকা আছে। যে বাড়ীতে রবীন্দ্র-সংগীতের বিশেষ চর্চা হয় সে বাড়ীর ছেলেমেয়ে রবীন্দ্র-সংগীত ভালোবাসবে সে কথা না বললেও চলে। আবার যে বাড়ীর বাপ-কাকা-দাদারা খেয়াল-ঠুংরি গানে আসক্ত, সে বাড়ীর বড়োদের অনুরাগ ছোটদের মধ্যেও বর্তাবে এ অবধারিত বলা যায়। এ তো বাড়ীর কথা বললুম, এ ছাড়া যে পাড়ায় বাস সে পাড়ার আবহাওয়া যাদের সঙ্গে মেলামেশা নিত্য ওঠাবসা তাদের প্রভাব,—এ সবও ছেলে-মেয়েদের সাংগীতিক রুচিনির্ণয়ে অনেকখানি সহায়তা করে।

কিন্তু গোড়াতেই একটা কথা বলে রাখা ভালো। তোমরা যে যে-শ্রেণীর গানই বেশী পছন্দ কর না কেন, তোমাদের ভালো-লাগা মন্দ-লাগায় যেন অহেতুক পক্ষপাতিত্ব প্রকাশ না পায়। সব শ্রেণীর গানকেই ভালোবাসবার চেষ্টা করবে, যদি অবশ্য তাতে সুর খুঁজে পাও। সুরই তোমাদের ভালো-লাগা মন্দ-লাগার একমাত্র মানদণ্ড হওয়া উচিত। পূর্ব নিরূপিত পছন্দ-অপছন্দের ধারণা মন থেকে মুছে ফেলে, খোলা মনে সব রকমের গান শোনবার চেষ্টা করবে। যে গানে সুর পাবে সেই গানেরই তারিফ করবার মত মনের প্রসার থাকা চাই। রবীন্দ্র-সংগীত ভালোবাস বলে তোমার খেয়াল-ঠুংরি আদৌ ভালো লাগবে না এটা কোন কথা নয়, আবার খেয়াল ঠুংরি ইত্যাদি গানের সুরে তোমার মন মজে আছে বলে অন্য কোন শ্রেণীর গান হতে দেখলেই কানে কুলুপ এঁটে বসে থাকবে এরও কোন মানে হয় না। সব রকমের গানকেই পছন্দ করবার ক্ষমতা অর্জন করা চাই। কেবল শর্ত এই যে, যা-ই পছন্দ কর না কেন, তাতে সুরমাধুর্য থাকা চাই এবং গানের বাণী সুললিত, রুচিসম্মত হওয়া চাই। তোমার বিশেষ শ্রেণীর গানের প্রতি পক্ষপাত থাকতে পারে, কিন্তু তাই বলে গোঁড়ামিকে প্রশ্রয় দিতে নেই। কেবল এক জাতের গানই পছন্দ করব, অন্য কোন ধরনের গানকে আমল দেব না—এইজাতীয় সংকল্প উপভোগের ক্ষেত্রকে সংকুচিত করে আনে, ফলে সুরবোধের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।

যাই হোক, যে যে-জাতের গানই সমধিক পছন্দ কর, এ বিষয়ে নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে মতভেদ নেই যে, গান বস্তুটি অতি উত্তম। সুরের জাদুতে তোমাদের সকলেরই প্রাণ আনন্দে নেচে ওঠে। আমাদের মাতৃভূমি এই বাংলা দেশের অনেক ঐশ্বর্যের কথা তোমরা জান, গানও তার অন্যতম ঐশ্বর্য বলে জেনো। এ দেশ গানের দেশ। বাংলার আকাশে-বাতাসে জলে-স্থলে সুর ভেসে বেড়ায়। এর উন্মুক্ত মাঠে-প্রান্তরে বাউল গানের উদাস সুর সদাসঞ্চরমাণ, এর জলপথে মাঝিমাল্লার মুখে ভাটিয়ালি সারি ভাওয়াইয়া প্রভৃতি লোকগীতির উচ্ছ্বাস। শহরের বৈঠকখানায় ও আসরে রাগসংগীত, রবীন্দ্র-সংগীত, আধুনিক গান, গজল গীত, ইত্যাদি বিচিত্র ধরনের গানের সুরপ্রবাহ নিয়ত বয়ে চলেছে। এ বাদে আছে বাংলার নিজস্ব গান কীর্তন—বৈষ্ণব ভাবরসে মাখা, অনবদ্য মধুর তার সুর। এ একেবারেই বাংলার ঘরোয়া জিনিস, বাংলা ভিন্ন অন্য কোন অঞ্চলে এর প্রতিরূপ খুঁজে পাওয়া যাবে না। আজকাল অবশ্য অবাঙালী সুরকারেরা তাদের সুর রচনায় কীর্তনের ঢঙ আমদানী করবার চেষ্টা করছেন। এতে কীর্তনের জনপ্রিয়তারই প্রমাণ মেলে।

বাংলাদেশে যে কত বড়ো বড়ো সুরকার গাইয়ে বাজিয়ে কীর্তনীয়া জন্মেছেন তার সীমাসংখ্যা নেই। ধ্রুপদ গানের চর্চায় বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর শহরের নাম সবচেয়ে প্রসিদ্ধ। বিষ্ণুপুরের বন্দ্যোপাধ্যায় ও গোস্বামী পরিবার বংশপরম্পরায় ধ্রুপদ সংগীতের চর্চা করে আসছেন। সংগীতনায়ক গোপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম অনেকেই তোমরা শুনে থাকবে। মাত্র কয়েক বছর হল তিনি দেহরক্ষা করেছেন। তিনি এই বন্দ্যোপাধ্যায় বংশের সন্তান। এই বংশের আরও কয়েকজন কৃতী সংগীতজ্ঞ হলেন অনন্তলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, রামপ্রসন্ন বন্দ্যোপাধ্যায়, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, রমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় প্রভৃতি। রমেশচন্দ্র গোপেশ্বরের সুযোগ্য পুত্র। তিনি বর্তমানে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের ডীন পদে নিযুক্ত আছেন। বিষ্ণুপুরের গোস্বামী পরিবারের দুইজন প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ হলেন রাধিকাপ্রসাদ গোস্বামী ও তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র জ্ঞানেন্দ্রপ্রসাদ গোস্বামী। জ্ঞানেন্দ্রপ্রসাদ গোস্বামীর অপূর্ব সুরেলা কণ্ঠের খেয়াল ভঙ্গিম বাংলা গান গ্রামোফোন রেকর্ডে তোমরা অনেকেই শুনেছ নিশ্চয়।

বিষ্ণুপুর বাংলার পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত। আবার পূর্ব প্রান্তে রয়েছে শিবপুর। অধুনা পূর্ব-পাকিস্তানের অন্তর্গত ত্রিপুরা জিলার অন্ত:পাতী এই গ্রাম বাংলার সংগীত মানচিত্রে একটি বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। এই গ্রামে ভারত প্রসিদ্ধ ওস্তাদ 'মাইহার-ব্যাণ্ড' খ্যাত আলাউদ্দীন খাঁ সাহেবের জন্ম। এক সাধারণ মুসলমান চাষী পরিবারের সন্তান আলাউদ্দীন। বাদ্যকর বৃত্তি ছিল তাঁদের পেশা। নিতান্ত বালক বয়সেই উচ্চতর সংগীতশিক্ষার প্রেরণায় আলাউদ্দীন গৃহত্যাগ করেন। তার পর কতো বিচিত্র অবস্থান্তর ও কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে তাঁকে যেতে হয় সে কাহিনী উপন্যাসের মতোই চিত্তাকর্ষক। অনমনীয় ইচ্ছাশক্তি আর সাধনার নিষ্ঠা থাকলে যে জীবনে কোনো বাধাই বাধা নয় এবং নিতান্ত নগণ্য অবস্থা থেকেও যে মানুষ সাফল্যের উচ্চতম শিখরে আরোহণ করতে পারে, ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁর জীবনকাহিনী তার জ্বলন্ত নির্দশন। ওস্তাদের বয়স বর্তমানে প্রায় একশোর কাছাকাছি। তাঁর পুত্র আলী আকবর খাঁ সাহেবও একজন প্রসিদ্ধ ওস্তাদ—বিশ্ববিশ্রুত সরোদ বাজিয়ে। তাঁর অন্যান্য কৃতী শিষ্যদের মধ্যে আছেন পণ্ডিত রবিশঙ্কর, তিমিরবরণ, নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়, শরদরাণী প্রভৃতি। কোনোদিন সময় পেলে আলাউদ্দীন খাঁ সাহেবের জীবনকথা তোমাদের শোনাবার ইচ্ছা রইল।

রাগসংগীতে আরও বহু বহু বাঙালী প্রতিভার পরিচয় দিয়ে প্রখ্যাত হয়েছেন। সংগীত আলোচনায়, সুরযোজনায় কণ্ঠের কৃতিত্বে ও যন্ত্রবাদননৈপুণ্যে তাঁদের নাম স্মরণীয় হয়ে আছে। তাঁদের মধ্যে মৃত ও জীবিত দুই বর্গের মানুষই আছেন। সকলের নামকরণ সম্ভব নয়, এখানে মাত্র সর্বাধিক কৃতী বিশিষ্ট কয়েক জনের নাম উল্লেখ করেই ক্ষান্ত থাকতে হল—সৌরীন্দ্রমোহন ঠাকুর, ক্ষেত্রমোহন সেন, দক্ষিণাচরণ সেন, কৃষ্ণধন বন্দ্যোপাধ্যায়, যদু ভট্ট, বিষ্ণু চক্রবর্তী, অঘোরনাথ চক্রবর্তী, লালচাঁদ বড়াল, গোপাল বন্দ্যোপাধ্যায় ('কুঠে গোপাল'), যোগীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, অমর ভট্টাচার্য, নগেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, নগেন্দ্রনাথ দত্ত, ললিত মুখোপাধ্যায়, দুর্লভ ভট্টাচার্য, সতীশচন্দ্র দত্ত (দানিবাবু), অরুণপ্রকাশ অধিকারী (কেবলবাবু), গিরিজাশঙ্কর চক্রবর্তী, ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়, তারাপদ চক্রবর্তী, চিন্ময় লাহিড়ী, হীরেন্দ্রকুমার গঙ্গোপাধ্যায়, শ্যাম গঙ্গোপাধ্যায়, রাধিকাপ্রসাদ মৈত্র, শচীন দাস মতিলাল, মালবিকা কানন, মীরা বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণী রায় প্রভৃতি।

রাগসংগীতের কথা হল। এবার আধুনিক গানের পর্ব। আধুনিক গান অর্থাৎ পুরাতন বাংলা গানের ধারায় যুগরুচির বিবর্তনে নতুন যে শ্রেণীর গানের জন্ম হয়েছে এই কালে, সেই গান। এই শ্রেণীর গানের সবচেয়ে সার্থক রূপকার হলেন রবীন্দ্রনাথ, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, রজনীকান্ত সেন, অতুলপ্রসাদ সেন, কাজী নজরুল ইসলাম, দিলীপকুমার রায় প্রভৃতি। সংগীত জগতে এঁদের প্রত্যেকেরই দান এতো সমৃদ্ধিময় যে সে সম্বন্ধে বিশদ আলোচনা করতে গেলে এঁদের প্রত্যেকেরই বিষয়ে আলাদা নিবন্ধ লিখতে হয়। এখানে তার অবসর কম, কাজেই স্বল্প কথায় তাঁদের গানের পরিচয় দেবার চেষ্টা করব।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ প্রায় সওয়া দুই হাজারের মতো গান রচনা করে গেছেন। রচনা বলতে এখানে পদ রচনা এবং সুর যোজনা দুইকেই বোঝাচ্ছে। অপরিসীম কর্মব্যস্ত এবং কাব্য নাটক উপন্যাস ছোট গল্প প্রবন্ধ ইত্যাদি বহুমুখী রচনার ভারে পরিপূর্ণ জীবনে রবীন্দ্রনাথ এত অসংখ্য গান লিখে যেতে পেরেছিলেন—এইটেই এমন একটা কীর্তি যা তাঁর স্মৃতি জনমনে অবিনশ্বর করে রাখবে। শ্রীযুক্তা সরোজিনী নাইডু রবীন্দ্রনাথের তিরোধানের পর বলেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ যদি জীবনে আর কিছু না-ও লিখতেন, শুধু গানই যদি তাঁর সৃষ্টির একমাত্র পরিচয় হত, তা হলেও রবীন্দ্রনাথ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকতেন। শুধু পরিমাণ দিয়েই তো রবীন্দ্র সংগীতের বিচার নয়, গুণগত উৎকর্ষেও সে গান অনবদ্য। কতো সূক্ষ্ম সুরের লীলা তাঁর গানে প্রকাশ পেয়েছে। যেমন পদের ভাবগাঢ়তা ও ধ্বনিলালিত্য, তেমনি সুরের সহজ স্বচ্ছন্দ গতি। নানা বিচিত্র উৎস থেকে সুর চয়ন করে কবি তাঁর গানের ডালি সাজিয়েছেন। হিন্দুস্থানী ক্লাসিকাল গান অর্থাৎ রাগসংগীত, বিশেষ করে রাগসংগীতের ধ্রুপদ ও টপ্পা ভঙ্গিমার গান, বাংলার বাউল ও কীর্তন, এবং প্রথম জীবনে বিদেশী সুর এবং শেষ জীবনে ভারতের অন্যান্য কয়েকটি অঞ্চলের সুর-সমবায়ে তিনি বাংলা গানের প্রচলিত সুর-শরীরে এমন একটা সচলতা ও গতিভঙ্গী এনেছিলেন যা শুধু তাঁরই প্রতিভার দান।

রবীন্দ্রনাথ তাঁর আত্মপরিচয়মূলক গ্রন্থ 'জীবনস্মৃতি'তে ছোটবেলাকার সংগীত-অভিজ্ঞতা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেন, বালককালে তাঁদের গৃহে—জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ীতে—উচ্চাঙ্গ সংগীতের জমাট আবহাওয়া বর্তমান ছিল। আসতেন যদু ভট্ট, আসতেন রাধিকা গোঁসাই, ব্রাহ্মসমাজের গায়ক বিষ্ণু চক্রবর্তীরও যথেষ্ট আনাগোনা ছিল। এঁরা দাদাদের গান শেখাতেন, সেই অবসরে জানলার আড়ালে লুকিয়ে-গান- শুনতে-পাওয়া বালক রবীন্দ্রনাথেরও অনেক কিছু শেখা হয়ে যেত। বড়ো হয়ে গোপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের কাছ থেকেও তিনি অনেক সুর সংগ্রহ করেন। যে ক'জনের নাম করা হল তাঁদের সকলেই ছিলেন সেই কালের প্রসিদ্ধ ধ্রুপদ গাইয়ে; এই কারণে রবীন্দ্রনাথের গানের বাঁধুনিতে ধ্রুপদের বিশেষ প্রভাব দেখতে পাওয়া যায়। প্রথম জীবনের গানগুলি তো পুরাপুরিই ধ্রুপদের ছায়ায় রচিত। যেমন, 'তোমারে করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা', 'তোমারি রাগিনী জীবনকুঞ্জে বাজে যেন সদা বাজে গো', 'আজি প্রণমি তোমারে চলিব নাথ সংসার কাজে', 'সত্যমঙ্গল প্রেমময় তুমি, ধ্রুবজ্যোতি তুমি অন্ধকারে' ইত্যাদি। এগুলি মূলত: ভক্তিভাবের গান—সচরাচর ব্রহ্মসংগীত নামে পরিচিত। রবীন্দ্রনাথ শাস্ত্রীয় ধ্রুপদের চালে প্রথম জীবনে অজস্র ব্রহ্মসংগীত রচনা করেছিলেন। পরে মধ্য বয়সে শাস্ত্রের বাঁধাবাঁধি ছেড়ে গানের ভিতর বাংলা লোকসংগীতের সুরের খোঁচ মেশাতে থাকেন। বাউলের সুরই বেশী গ্রহণ করেন। বাউল সুরাশ্রিত কয়েকটি গানের নমুনা—'বিধির বাঁধন কাটবে তুমি এমন শক্তিমান', 'আজি সবার রঙে রঙ মেশাতে হবে', 'কোন আলোতে প্রাণের প্রদীপ জ্বালিয়ে তুমি ধরায় আসো', 'যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে' ইত্যাদি।

দ্বিজেন্দ্রলাল ও রজনীকান্ত রবীন্দ্রনাথেরই প্রায় সমসাময়িক সুরকার। দ্বিজেন্দ্রলালের গানে পাই আমরা হিন্দুস্থানী খেয়াল গানের সচেতন ঢঙ। তাছাড়া, চমৎকার সুর ও ভাবের আশ্রিত কয়েকটি বিশুদ্ধ কাব্যগীতিরও তিনি রচয়িতা। যেমন, 'নীল আকাশে অসীম ছেয়ে ছড়িয়ে গেছে চাঁদের আলো', 'ওই মহাসিন্ধুর ওপার হতে কী সংগীত এক ভেসে আসে', 'সকল ব্যথার ব্যথী আমি হই, তুমি হও সব সুখের ভাগী' ইত্যাদি। কিন্তু দ্বিজেন্দ্রলাল সবচেয়ে প্রসিদ্ধি অর্জন করেন তাঁর দেশাত্মবোধক কোরাস গানগুলির জন্য। এই গানগুলি বাস্তবিকই বাংলা গানের এক মস্ত সম্পদ—কি সুরভঙ্গি কি ভাবের গরিমার দিক দিয়ে। সুরে কিঞ্চিৎ বিদেশী আমেজ আছে কিন্তু তা কেবলমাত্র উচ্চারণ আর স্বরপ্রক্ষেপের ভঙ্গিমায়, নইলে গানগুলি ষোল আনা স্বদেশী রাগরাগিনীর আশ্রয়ে রচিত। ইমন-কল্যাণ, কেদারা, ভূপালী, ঝিঁঝিট এই কটি রাগই বেশী ব্যবহার হয়েছে দেখতে পাই।

দ্বিজেন্দ্রলালের কোরাস গান স্বদেশপ্রেম শিক্ষার একটি উৎকৃষ্ট স্থল। অতি ভাবলেশহীন মানুষের মনেও এই গানগুলি দেশপ্রীতি জাগাতে বাধ্য—এমনি অনবদ্য এদের সুর ও বাণী। তোমরা তো সকলেই দেশকে ভালোবাস, সেই ভালোবাসা আরও গাঢ়তা প্রাপ্ত হবে যদি দ্বিজেন্দ্রলালের স্বদেশী গানগুলি একটু মনোযোগ দিয়ে অনুধাবন করবার চেষ্টা কর। আয়ত্ত করতে পারলে তো কথাই নেই। দ্বিজেন্দ্রলালের কয়েকটি প্রসিদ্ধ কোরাস গানের প্রথম লাইন এখানে তুলে দিচ্ছি, তোমাদের অনেকেরই জানা থাকতে পারে, তা সত্বেও। এ সব গানের কথার মূর্তি মনের পটে যতো উজ্জ্বলরেখায় অঙ্কিত হয় ততই ভাল।—'ধনধান্য পুষ্পেভরা আমাদের এই বসুন্ধরা, 'বঙ্গ আমার! জননি আমার! ধাত্রি আমার! আমার দেশ', 'যে দিন সুনীল জলধি হইতে উঠিলে জননি! ভারতবর্ষ!' 'আজিকে তোমার চরণে জননি! আনিয়া অর্ঘ্য করি মা দান', 'কিসের শোক করিস ভাই—আবার তোরা মানুষ হ'। 'ধাও ধাও সমরক্ষেত্রে—গাও উচ্চে রণজয়গাথা!' ইত্যাদি। কোরাস গান ছাড়া দ্বিজেন্দ্রলালের হাসির গানও বিশেষ বিখ্যাত।

কান্তকবি রজনীকান্ত সেনও কিছু-কিছু কোরাস গান এবং অনেক হাসির গান রচনা করেছেন, তবে তাঁর ভক্তিভাবের গানগুলিই সর্বোৎকৃষ্ট। এ-জাতীয় প্রতিটি গানের বাণী প্রাণস্পর্শী। আন্তরিকতা তাদের একটি লক্ষণীয় সম্পদ। প্রায় প্রতি গানের কথাতেই ঈশ্বরের প্রতি ঐকান্তিক আত্মসমর্পণের আকূতি ফুটে উঠেছে। সুরও তাদের তেমনি আকুলতায় ভরা। রজনীকান্তের গানের আর আগের মতো প্রচলন নেইঃ তবে রেডিওর কল্যাণে ইদানীং কিছু কিছু শুনতে পাওয়া যাচ্ছে। তোমরা এসব গান শুনেছ কিনা পরখ করে দেখ।—'তুমি নির্মল করমঙ্গল করে মলিন মর্ম মুছায়ে', 'কবে তৃষিত এ মরু ছাড়িয়া যাইব', 'আমি তো তোমারে চাহিনি জীবনে তুমি অভাগারে চেয়েছ', 'কেন বঞ্চিত হব চরণে' ইত্যাদি। রজনীকান্তের পরিচিত হাসির গান—'বুয়রে ইংরাজে যুদ্ধ বেধে গেছে খবর আসিছে নিত্য তার', 'যদি কুমড়োর মতো চালে ধরে রত পান্তুয়া শত শত' ইত্যাদি।

অতুলপ্রসাদ সেনের গানের ধারা কিছু স্বতন্ত্র। যদিও তিনি কয়েকটি উৎকৃষ্ট কোরাস গান লিখে দ্বিজেন্দ্রলালের ধারার অনুবর্তন করেছিলেন (যেমন, 'হও ধরমেতে ধীর, হও করমেতে বীর, হও উন্নতশির, নাহি ভয়', 'মোদের গরব মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা', 'উঠ গো ভারতলক্ষ্মী! উঠ আদি জগতজনপূজ্যা', 'বল বল বল সবে শতবীণা বেণুরবে, ভারত আবার জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে' ইত্যাদি), তা হলেও যে জন্য তাঁর সমধিক নাম ও বিশিষ্টতা তা এই কারণে যে, তিনি বাংলা গানের সুরে হিন্দুস্থানী ঠুংরির আস্বাদ এনেছিলেন। অতুলপ্রসাদ ছিলেন লক্ষ্ণৌপ্রবাসী ব্যারিস্টার আর হিন্দুস্থানী ক্লাসিক্যাল গানের যারা কিছু খোঁজখবর রাখে তারা নিশ্চয় জানে যে, লক্ষ্ণৌ শহর বরাবরই ঠুংরি গানের চর্চার জন্য বিশেষ প্রসিদ্ধ। লক্ষ্ণৌর ঠুংরিকে বলা হয় 'লছা ঠুংরি'। অতুলপ্রসাদ লছা ঠুংরির চাল আয়ত্ত করে তাকে সচেতনভাবে বাংলা গানে প্রয়োগ করেন। তাঁর এই ঢঙয়ের কয়েকটি গান, যথা, 'কে আবার বাজায় বাঁশি এ ভাঙা কুঞ্জবনে', 'কত গান তো হল গাওয়া', 'চাঁদিনি রাতে কে গো আসিলে', 'সবারে বাস রে ভালো, নইলে মনের কালো ঘুচবে না রে'। ইত্যাদি। তোমরা সাহানা দেবীর কণ্ঠে অতুলপ্রসাদের গান গ্রামোফোন রেকর্ডে শুনে থাকবে।

কাজী নজরুল ইসলাম একজন শক্তিশালী সুরকার। তিনি নানা ধরনের গান রচনা করেছেন—কাব্যগীতি, শ্যামা-সংগীত, কীর্তন, নবীর গান, লোকসংগীত, ঝুমুর, খেয়াল-ভাঙা বাংলা গান, রাগপ্রধান, অপ্রচলিত রাগ-রাগিনীর গান, বিদেশী সুর ভঙ্গীর গান, গজল, মার্চ সংগীত, নাত কাওয়ালি লাওনি, ছাদ পেটানো গান ইত্যাদি। বাংলা গানে গজলের সুর তিনিই প্রবর্তন করেন—দিলীপকুমার রায় সে সব গান জনপ্রিয় করেন। নজরুলী গজলের দু-একটি নমুনা, 'কে বিদেশী মন উদাসী বাঁশের বাঁশী বাজায় বনে', 'আমারে চোখ ইসারায় ডাক দিলে হায় কে গো দরদী', 'এত জল ও কাজল চোখে পাষাণী আনলে বল কে' ইত্যাদি। নজরুলের কাব্যগীতির ভিতর এ গানটি সবচেয়ে প্রসিদ্ধ : 'মার ঘুমঘোরে এলে মনোহর নমো নম নমো নম'। কীর্তন (পদাবলী ঢঙয়ের) 'আমি কি সুখে লো গৃহে রব'। নজরুলের মার্চ সংগীত একদা খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। যেমন, 'টলমল টলমল পদভরে, বীরদলে চলে সমরে'। 'ঊর্ধ্বে গগনে বাজে মাদল নিম্নে উতলা ধরণীতল' ইত্যাদি। হিন্দী খেয়াল ভেঙে যে সব বাংলা গান তিনি রচনা করেন জ্ঞানেন্দ্রপ্রসাদ গোস্বামী তার কিছু কিছু রেকর্ডে জনপ্রিয় করেন। পরে লুপ্ত-অর্ধলুপ্ত একাধিক রাগরাগিনীর ভিত্তিতেও গান রচনা করেছিলেন। কর্ণাটী অর্থাৎ দক্ষিণী সুরের গানও তাঁর আছে। যথা, 'হে পার্থ সারথি, বাজাও বাজাও পাঞ্চজন্য তব শঙ্খ' (শিবরঞ্জনী)। বিদেশী সুরভঙ্গীর গান : 'দূরদ্বীপবাসিনী চিনি তোমারে চিনি'। লাওনি সুরের নমুনা : 'পাষাণের ভাঙালে ঘুম কে তুমি সুরের ছোঁয়ায়'।

নজরুল বাংলায় যতো বিচিত্র ধরনের সুরের গান রচনা করেছেন এমন বোধ হয় আর কেউ করেন নি। তাঁর গানের সংখ্যাও অগুনতি। শোনা যায় প্রায় তিন হাজারের মতো গান তিনি বেঁধেছেন। এই ক্ষেত্রে তিনি রবীন্দ্রনাথেরও রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন—কারও কারও মতে তাঁর রেকর্ড বিশ্বেরও সর্বোচ্চ রেকর্ড।

বাংলাদেশের অশেষ দুর্ভাগ্য, এমন একজন গুণী শিল্পী আজ আমাদের মধ্যে থেকেও জীবন্মৃতের ন্যায় বাস করছেন। কঠিন মস্তিষ্কের ব্যাধিতে তাঁর কণ্ঠ স্তব্ধ হয়ে গেছে। দুই বঙ্গের অগণিত জনসাধারণ নজরুলকে ভালোবাসে। তিনি সাম্প্রদায়িক মৈত্রীর এক মূর্ত প্রতীক।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের সুযোগ্য পুত্র সুর-সুধাকর দিলীপকুমার রায় একজন বিশিষ্ট গায়ক, সুরকার এবং বিদেশে ভারতীয় সংগীতের প্রচারক। পূর্বেই বলেছি নজরুলের গজল গানকে একদা তিনিই বাংলাদেশে জনপ্রিয় করেন। পিতৃদেবের কোরাস গানসমূহের প্রভূত জনপ্রিয়তার মূলেও দিলীপকুমার। তিনি এই গানগুলি ইংরেজি, জার্মান ইত্যাদি বিদেশী ভাষায় তর্জমা করে ইউরোপ-আমেরিকায় পরিবেশন দ্বারা বাংলা গানের বিশ্ব-প্রচারে যথেষ্ট সহায়তা করেছেন। বিদেশী গানের সুরও তিনি একাধিক বাংলা গানের ছাঁচে ভরে বাংলায় পরিবেশন করেছেন। যেমন, রুশ সুরের অবলম্বনে 'বুলবুল মনফুল সুরে ভেসে চল নীল মঞ্জিল উদ্দেশে'। অথবা 'আভে মারিয়া' সুরের অনুকরণে : 'আঁধার ঘায় চোখে, থেকো মোর পাশে'। অধ্যাত্ম সাধনায় বিশ্বাসী দিলীপকুমার অসংখ্য ভজন ও ভক্তিভাবের গানের রচয়িতা। তাঁর ভজনের উপর মীরার ভজনের ছাপ স্পষ্ট। কীর্তন তাঁর সবিশেষ প্রিয়। তাঁর আরেকটি কীর্তি কীর্তনের ঢঙে আধুনিক গানে আখর যোজনা। আগুনের ফুলকির মতো অক্ষরের ফুলকির সাহায্যে সুরকে নানা মুখে ছিটোনো ও ছড়ানোর নাম আখর। দিলীপকুমারের আখরসমন্বিত কীর্তনভঙ্গিম বাংলা গানের সবচেয়ে সুপরিচিত নমুনা : 'বৃন্দাবনে লীলা অভিরাম সবি'। এই গানটি গ্রামোফোন রেকর্ডে ও রেডিওতে তোমরা শুনে থাকবে।

আজ আর নয়। গানের বিষয়টি এত বিস্তৃত ও ব্যাপক যে এ সম্বন্ধে অনেক কিছু লেখা যায়, কিন্তু এক সংখ্যার পক্ষে যথেষ্ট খোরাক তোমাদের সামনে মেলে ধরা হয়েছে বলে মনে করি। তোমাদের যদি এ সব প্রসঙ্গ ভালো লাগে, সম্পাদক মশাইকে তোমাদের ফরমায়েস জানিও, ফরমায়েস পূরণের সাধ্যমতো চেষ্টা করা যাবে।

ছোটোর রোষ

অঞ্জলি রায়

সকাল সকাল উঠলে শুনি

স্বাস্থ্য ভালো হয়,

কাজের বেলায় কেউ তো দেখি

উঠতে রাজি নয়।

খালি পেটে চা খেও না

সবাই বলে জানি,

বাবা জেঠু উঠেই চা খান

চলেন কি তা মানি?

সিনেমাতে গেলে পরে

মন্দ স্বভাব হবে,

মা, কাকিমা নিত্য কেন

দেখেন সেসব তবে?

নভেল, নাটক কেউ প'ড় না

পড়ার বইটি ছেড়ে,

কিন্তু দেখি দাদা পড়েন

রোজ দু'খানা করে।

তাসের মতো আর কিছু নাই

সর্বনাশের গোড়া,

ওসব দিকে নজর গেলে

লক্ষ্মী হবে ছাড়া।

বড়রা সব খেলেন যখন

হয় না কিছু দোষ?

আমরা কিছু করলে পরে

সবার দেখি রোষ।

দোষ যদি হয়, সবার বেলা

দোষ হবে না কেন?

ছোট বলেই দোষ আমাদের?

দোষ কর না যেন?

তোমরা বকো, আমরা মানি,

ছোট আছি বলে,

তোমরা যা সব করছো দেখি,

করব বড় হ'লে।

সকল অধ্যায়
১.
মাটি
২.
ভুতের গল্প
৩.
হর্ষবর্ধনের অশ্বরোগ
৪.
সেই মেয়েটি
৫.
বিদ্যাসাগরের ছেলেবেলা
৬.
গোয়েন্দা
৭.
ইতিহাস ছাড়িয়ে
৮.
যমালয়ে জীবন্ত মানুষ
৯.
ডাকিনীর ডাক
১০.
শত্রুতা
১১.
রেলে
১২.
অতু
১৩.
এক যে ছিল বাঘিনী
১৪.
দাওয়াই
১৫.
বিশ্বের বিস্ময় হেলেন কেলার
১৬.
ফুলের বিবাহ
১৭.
মংলুফলায় সোনা
১৮.
একটি গল্প করার মত গ্রাম
১৯.
লালমণি পাখি
২০.
প্লাবন
২১.
ছাত্র-সঙ্গীত
২২.
জয়-পরাজয়
২৩.
এখন শিউলি-বেলা
২৪.
আশ্বিনে
২৫.
ছড়া
২৬.
পোড়ো কুঁড়ে
২৭.
মা (উপন্যাস)
২৮.
গোর্কির ছেলেবেলা
২৯.
সেয়ানে সেয়ানে
৩০.
সুড়ঙ্গের রহস্য
৩১.
এক ঝাঁক গল্প
৩২.
কঙ্কাল
৩৩.
নতুন করে জাগো মা
৩৪.
বেতাল-পঞ্চবিংশতি
৩৫.
ভবঘুরের চিঠি
৩৬.
নিলাম দামী চশমা
৩৭.
শরৎ এল
৩৮.
কৈশোর
৩৯.
আলোর ডাকে
৪০.
অগ্রদূত
৪১.
টাকার কথা
৪২.
সাহস চাই!
৪৩.
ভোজবাড়ীর ব্যাপার
৪৪.
আবাহনী
৪৫.
এবার পূজায়
৪৬.
বামুনের স্বর্গবাস
৪৭.
মজার ধাঁধা
৪৮.
আংটির পাথর
৪৯.
মনমঞ্জুষা
৫০.
নিখিল বঙ্গ গরু সম্মেলন
৫১.
মিকি ডাক আর দিসনে
৫২.
মেঘনাদবধ
৫৩.
চৌধুরী-বাগ
৫৪.
জাদু বিদ্যা
৫৫.
বাবার চিঠি
৫৬.
গানের কথা
৫৭.
আমার প্রথম শিকার আভিযান
৫৮.
বিশ্বক্রীয়া ওলিম্পিক
৫৯.
বাংলার বন্যা
৬০.
শরতে
৬১.
আনন্দ আশ্বিনে
৬২.
টোটকা কিছু
৬৩.
জলদি করুন দাদা
৬৪.
কিশোর বিজ্ঞানীর আসর
৬৫.
সঙ্গীতের মৃত্যু
৬৬.
ছত্রপতি
৬৭.
মেঘ ও বৃষ্টি
৬৮.
মধুপালের আবির্ভাব

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%