দীনেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
প্রসাদরঞ্জন দাস
পুরনো দেওয়ালগুলো নড়বড়,
বাঁশের আগড় ভেঙ্গে পড়পড়—
মেঝেতে জমেছে ধূলো,
সুখে থাকে উইগুলো,
আরশুলা উড়ে চলে ফরফর!
চারিদিকে ঘন বন নিঝঝুম;
পাশে বুড়ো বটগাছ ঘুমঘুম।
পানাভরা ডোবাটার
আশে পাশে ঝোপঝাড়,
রঙ চঙ ফুলেদের মরশুম।
মাটির দেওয়ালে ফাট ধরছে!
চাল থেকে পচা খড় ঝরছে!
ফাটা ঘর, ফুটো চাল
আগাছার জঞ্জাল।
ইঁদুরেরা মেঝে ফুটো করছে।
চালা বেয়ে বুনোলতা উঠছে;
তার গায়ে কত ফুল ফুটছে!
বাঁশের বেড়ার কাছে
মাথাভাঙ্গা তালগাছে
কাঠঠোকরাটা কাঠ ঠুকছে!
এককালে ছিল কত লোকজন,
গ্রামময় হাসিখুশি সারাখন।
মড়কে হয়েছে শেষ!
বাকী ছেড়ে গেছে দেশ—
চুপচাপ পড়ে আছে এই বন।
ঝাঁকড়া বটের শাখা দুলছে;
কাঁপা কাঁপা আলোছায়া তুলছে।
তামাকটা হাতে নিয়ে
ঝিমধরা চোখ চেয়ে
বুড়ো কুঁড়েঘর যেন ঢুলছে।
নুয়েপড়া বুড়ো ঘর চুপচাপ।
শুধু কিছু ফুল ঝরে টুপটাপ!
ঝোপঝাড় নিয়ে কাছে
কুঁড়ে বুড়ো সুখে আছে;
নেই কোন লাফালাফি দুপদাপ।
কেটে গেছে কত কত কল্প!
ভাঙা বুকে নেই কথা অল্প—
পাখীরা যখন ভোরে
উঠানে জটলা করে,
তাদের শোনায় বুড়ো গল্প।
—
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন