দীনেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

কিশোর জাদুকর
জাদুবিদ্যা বা ম্যাজিক কে না পছন্দ করে! আমরা সবাই ম্যাজিক দেখতে বা দেখাতে কমবেশী ভালবাসি। তোমার হয়তো কয়েকটা ম্যাজিক জানা আছে। তারই কয়েকটা যদি কোন ছোটখাট অনুষ্ঠানে ঠিকমতো দেখিয়ে দাও, তাহলে অবস্থাটা কি দাঁড়াবে ভাবতে পার? উপস্থিত দর্শকবৃন্দ তাজ্জব বনে যাবে। সেই সঙ্গে বাহবা আর হাততালি তো আছেই। কিন্তু সমস্যা হলো, ভাল ম্যাজিক কে কোথায় কখন শেখাবে?
তোমাদের এই অসুবিধা বুঝতে পেরে 'কিশোর ভারতী' পত্রিকায় ভাল ভাল ম্যাজিক শেখবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রত্যেক সংখ্যায় সুন্দর সুন্দর ম্যাজিক কিছু না কিছু থাকবে। সেসব ম্যাজিক শিখে তোমরা আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবাইকে তাক লাগিয়ে দিতে পারবে। কিন্তু ম্যাজিক বা জাদুবিদ্যা শেখার আগে কয়েকটা কথা তোমাদের বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার।
প্রথমত:, একই জাদুবিদ্যা একজনের কাছে দু-একবারের বেশী দেখাবে না। কারণ প্রত্যেক ম্যাজিকের কোন-না-কোন জায়গায় একটি ফাঁক বা কারসাজি করা থাকে। দর্শকরা সাধারণত ঐসব ফাঁক বা কারসাজি ঠিকমত লক্ষ্য করতে বা ধরতে পারে না। কি করেই বা পারবে? জানলে তো? জাদুকরেরা তারই সুযোগ নিয়ে নানা কারসাজির মাধ্যমে ম্যাজিক দেখিয়ে থাকে। কিন্তু একই ম্যাজিক একই সময়ে বারবার দেখালে সেই কারসাজি বা ফাঁক দর্শকদের ধরে ফেলার সম্ভাবনা থাকে।
দ্বিতীয়ত:, খেলা দেখাবার সময় সুন্দর অঙ্গভঙ্গিমা সহকারে নানারকম মিষ্টি কথা বলা বা বক্তৃতা দেওয়া তোমাদের শিখতে হবে। তার ফলে দর্শকরা যেমন আনন্দ পাবে, তেমনি ম্যাজিকের ফাঁক বা কারসাজি থেকেও তাদের দৃষ্টি সরিয়ে রাখা সম্ভব হবে। একে ''শোম্যানশিপ'' বলে।
১. খালি বাকসে প্রচুর টাকা
প্রথমে জাদুকর একটা কাঠের ছোট হাত-বাকস এনে দর্শকদের সামনে উপুড় করে দেখাল। বাকসটি অনেকটা হোমিওপ্যাথি ওষুধের বাকসের মতো। একদম খালি। তার মধ্যে কোথাও কিছু নেই। জাদুকরের হাতে আছে হাতখানেক লম্বা ছোট একটা নিকষকালো রঙের কাঠের লাঠি। এই সেই ম্যাজিক-ওয়ান্ড, যা দিয়ে জাদুকরেরা অসম্ভবকে (!) সম্ভব করে থাকেন। জাদুকর বাকসটা বন্ধ করে তার ম্যাজিক-ওয়ান্ডটাকে বাকসটার চারধারে বোলাতে লাগল। আর মনে মনে মন্ত্র পড়ার মতো বিড় বিড় করে বকতে লাগল।
কয়েক মিনিট এই সব করার পর জাদুকর দর্শকদের বললে, ''মাননীয় দর্শকবৃন্দ, আপনারা আমার কাছে যে বাকসটা দেখছেন, এটা মোটেই সাধারণ বাকস নয়। এই আশ্চর্য বাকসটি আমি একজন অলৌকিক শক্তিসম্পন্ন সাধুর কাছ থেকে পাই। হিমালয়ের পাদদেশে তাঁর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ। তিনি আমাকে এই বাকসটা দান করে বলেন, 'বেটা, তোর এবং তোর দেশের আর্থিক অবস্থা মোটেই ভাল নয়। তাই তোকে এই বাকসটা দিলাম। যখনই যত টাকা চাইবি এইভাবে মন্ত্র পড়ে বাকসটা খুললেই প্রচুর টাকা পাবি।'—এই কথা বলে সাধু আশ্চর্যজনকভাবে হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেলেন। তাই, মাননীয় দর্শকবৃন্দ, আপনাদের সামনে আমি আজ এই অত্যাশ্চর্য বাকসটি এনেছি। এর গুণাগুণ সর্বসমক্ষে দেখাতে ইচ্ছা করি।''
একথা বলেই জাদুকর বাকসটার ভিতরে ডান হাতটা ঢুকিয়ে প্রথমে কিছু এক-টাকার নোট, তারপর পাঁচ-টাকার নোট এবং সবশেষে দশ-টাকার নোট বের করতে শুরু করে। উপস্থিত দর্শকমণ্ডলী বিস্ময়ে হতবাক! খালি বাকস থেকে এত টাকা!
এবার তোমাদের এই অত্যাশ্চর্য জাদুবিদ্যার আসল কৌশলটা শিখিয়ে দিচ্ছি। খেলাটা খুবই বিস্ময়কর সন্দেহ নেই, কিন্তু এর কৌশলটা খুবই সোজা। আমাদের দেশে পথে-ঘাটে যে বেদেরা ম্যাজিক দেখায়, তারা হামেশাই এই খেলাটা দেখিয়ে থাকে।
কোন কাঠের মিস্ত্রীকে দিয়ে একটা ছোট কাঠের বাকস তৈরী করিয়ে নেবে। খেলাটা আসলে বাকসটা তৈরীর উপর নির্ভর করছে। অতএব, ঠিকমতো বাকসটা কিভাবে তৈরী করা যায়—সেটা ভালভাবে লক্ষ্য কর।

বাকসের উপরের ডালা এবং নীচের ডালার উচ্চতা সমান মাপের হবে, যাতে বাকসটাকে উল্টে বসালে যেন বোঝা না যায় যে, বাকসটা উল্টে বসেছে। এইবার বাকসের বাইরে উপর ডালার ডাইনে নীচের দিকে মুখ করে এবং নীচের ডালার বাঁয়ে উপর দিকে মুখ করে অর্থাৎ দুটো ডালার বাইরে সোজা ও উল্টো করে দুটো হুক বাকসটার মুখ আটকানোর জন্য লাগিয়ে দাও। এই হুকদুটো এইভাবে লাগানোর আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে, দর্শকরা যাতে বাইরে থেকে বাকসের সোজা ও উল্টোপিঠ কোনও ভাবেই ধরতে না পারেন। হুক দুটো অবশ্য না লাগিয়েও খেলাটা দেখান যায়।
এবার বাকসটার ভিতরের তলার মাপ মতো দুটো ভারী লোহার চারকোণা পাত কোন ভাল কারখানা থেকে কাটিয়ে নিয়ে এস। এর একটা পাত বাকসটির ভিতরে উপরের ডালায় কোন adhesive paste দিয়ে ভালভাবে লাগিয়ে দাও। Adhesive paste একরকম আঠা—স্টেশনারী দোকানে খোঁজ করলে পাবে। অপর পাতটি ভিতরে নীচের ডালায় কোন আঠা না লাগিয়ে এমনি রাখ। এইবার ঐ দুটো পাতসমেত সম্পূর্ণ বাকসটার ভিতরে ও বাইরে ভালভাবে কালো রং করে নিলে তোমার ম্যাজিকের বাকসটা ঠিকমত তৈরী হয়ে গেল।
এখন যদি বাকসটা সম্পূর্ণ খুলে দুই ডালার জোড়া জায়গায় চেপে ধরে (বাঁদিকের চিত্রের ন্যায়) উপুড় করে দাও, তাহলে ঐ আলগা লোহার পাতটা পড়ে যাবে না—তোমার আঙুলে ঠেকে থাকবে। তাই নয় কি?
এবার তো ম্যাজিক দেখান খুবই সোজা। ঐ আলগা লোহার পাতটার নীচে কিছু টাকা এধার-ওধার করে সাজিয়ে রেখে তুমি যদি বাকসটা উপুড় করে দর্শকদের দেখাও, তাহলে কেউ-ই বুঝতে পারবেন না যে, ওই বাকসে টাকা থাকতে পারে। ঐ ভাবে দর্শকদের দেখিয়ে বাকসটা টেবিলে রাখবার সময় বাকসটাকে উল্টে দেবে অর্থাৎ তলার দিকটা উপরে আর উপরটা নীচে যাবে। এ কাজটা একটু সতর্কভাবে করবে —যাতে দর্শকরা বুঝতে না পারেন যে, বাকসটা উল্টে দেওয়া হল। এইসব করার সঙ্গে-সঙ্গে অবশ্য তোমার মনমাতানো বক্তৃতা ও অঙ্গ-ভঙ্গি সমানে চলেছে। বাকসটা এইভাবে উল্টে দেবার ফলে, আলগা লোহার পাতটা আঠা দিয়ে লাগানো পাতটার উপর এসে পড়বে। এবং তার উপর সমস্ত টাকাগুলো দেখা যাবে।
তারপর আগে যেমন বলা হয়েছে, তেমনিভাবে বাকসের ভিতরে ডান হাত ঢুকিয়ে এক-একখানা করে নোট বের করে দর্শকদের দেখিয়ে টেবিলের উপর রাখবে। এর ফলে দর্শকমণ্ডলী খুবই আশ্চর্যান্বিত হবেন, সন্দেহ নেই।
২. অত্যাশ্চর্য কাগজের খেলা
জাদুকর প্রথমে একটা দৈনিক খবরের কাগজ এনে উপস্থিত দর্শকদের দেখাল। দর্শকরা দেখলেন, অতি সাধারণ একটা খবরের কাগজ, তাতে কোন কারসাজি থাকতে পারে না।
জাদুকর এবার ঐ খবরের কাগজ থেকে মধ্যের একখানা কাগজ নিয়ে তার ভাঁজ বরাবর ছিঁড়ে দু-আধখানা করে ফেলল। এবং তারই একখণ্ড অর্থাৎ এক-আধখানা পরের পৃষ্ঠার ছবির মতো মুড়ে ঠোঙা করে দর্শকদের বললে, ''উপস্থিত মাননীয় দর্শকবৃন্দ, আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন—এই ঠোঙাটার ভিতরে কিছুই থাকতে পারে না। আপনাদের সামনেই একখানা কাগজ ছিঁড়ে এই ঠোঙাটা বানিয়েছি। অবশ্য উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে কারো কারো মনে হয়তো সন্দেহ জাগছে যে, ঠোঙাটার মধ্যে কিছু থাকতে পারে। আবার আপনারা দেখে নিন—কিছুই নেই, একেবারে খালি।''
জাদুকর এরপর দর্শকদের কাছে গিয়ে ঠোঙাটা সম্পূর্ণ উপুড় করে দেখাল। দর্শকরা দেখলেন, সত্যি ভিতরে কিছুই নেই।
জাদুকর তখন বললে, ''কিন্তু, মাননীয় দর্শকবৃন্দ, আপনারা জানেন, জাদুকরেরা যে কোন অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারেন। আমিও তাই এই খালি ঠোঙা থেকে আপনাদের নানারকম জিনিসপত্র বের করে দেখাতে চাই।''
এই কথা বলে জাদুকর ঠোঙাটাকে বাঁ হাতে ধরে তার কালো রঙের ম্যাজিক-ওয়ান্ডটাকে ঠোঙার চারপাশে বুলিয়ে নিল। তারপর ডান হাতটা ঠোঙার ভিতরে ঢুকিয়ে দিয়ে প্রথমে লাল রঙের ফিতে, তারপর নীল রঙের ফিতে, এমনিভাবে একের পর এক রঙবেরঙের ফিতে বের করে যেতে লাগল। ফিতের পালা শেষ হলে, বেরোতে শুরু করল রংবেরঙের লাল নীল সবুজ হলদে রুমাল। তারপর শুরু হলো নানা রঙের নানান আকারের কাগজের ফুল।
দর্শমমণ্ডলী তো হতবাক! খেলাটা খুবই চমৎকার!—তাই না?
তোমরাও খুব তাজ্জব বনে গিয়েছ, বুঝতে পারছি। ভাবছ, এ আবার কী ধরনের ম্যাজিক রে বাবা!
ম্যাজিকটা কিন্তু খুবই সোজা। একটু চেষ্টা করলে অতি অল্প খরচেই এটা তৈরী করা যায়। কিন্তু এ ধরনের ম্যাজিক দেখানোর আগে একটা কথা বিশেষভাবে খেয়াল রাখবে—ভাল করে নিজে প্র্যাকটিস করে তারপর দর্শকদের এ খেলা দেখাবে। নতুন শিখে কখনই দেখাতে যাবে না।
এবার এই ম্যাজিকের কৌশলটা শোন। একখানা খবরের কাগজের মধ্যের পাতাটা অর্থাৎ ৫নং ও ৬নং পৃষ্ঠাটা নাও। এই পাতাটা দিয়েই ঠোঙা বানাতে হবে। এবার ৫নং পৃষ্ঠায় আগে থেকে কিছু লাল, নীল ফিতে, কিছু লাল, নীল ছোট রুমাল আর কিছু ছোট ছোট কাগজের ফুল অতি যৎসামান্য আঠা দিয়ে সুবিধামতো বিভিন্ন জায়গায় লাগিয়ে নাও।
এবার আগের কোন দিনের ঐ একই কাগজের ঐ একই পাতা অর্থাৎ ৫নং ও ৬নং পৃষ্ঠাটা বাঁদিকের ভাঁজ বরাবর ভালোভাবে কাঁচি দিয়ে কেটে নাও। তারপর এই কাগজখানা তুমি যে কাগজে ফিতে, রুমাল ইত্যাদি লাগিয়েছ, তার চারধারে আঠা দিয়ে খুব সুন্দরভাবে জুড়ে দাও। এমনভাবে জুড়বে, যেন কোন খুঁত না থাকে। যে কাগজটা জুড়লে, তার তারিখটা যাতে দর্শকদের নজরে না পড়ে, তারজন্য ব্লেড দিয়ে ঘষে তারিখটা অস্পষ্ট করে দেবে।

এখন তুমি যদি আট পৃষ্ঠার কাগজ দর্শকদের দেখাও, তাহলে দর্শকদের পক্ষে বোঝা শক্ত—ঐ কাগজের কোন পৃষ্ঠায় কোন কারসাজি আছে কিনা।
এইভাবে দর্শকদের পুরো আট পৃষ্ঠার খবরের কাগজ দেখিয়ে নিজের তৈরী করা ওই ৫নং ও ৬নং পৃষ্ঠার কাগজটা তুমি ভাঁজ বরাবর ছিঁড়ে বের করে নেবে। আগে থেকে ছিঁড়ে রাখলে দর্শকরা সন্দেহ করতে পারেন। সেইজন্যেই এই ব্যবস্থা। এবার কাগজখানাকে চানাচুর-ওয়ালাদের ঠোঙার মতো করে, বাঁ হাতে সেটা ধরে ডান হাতটা ভিতরে ঢুকিয়ে দাও। দুটো কাগজ এক সঙ্গে আঠা দিয়ে লাগানো আছে। ঠোঙাটার ভিতরের উপরের কাগজখানার কিছুটা অংশ দর্শকদের অজান্তে ছিঁড়ে ফেললেই, ভিতরে তুমি ফিতে, রুমাল ইত্যাদি পাবে। তারপর এক-একটা করে ওইগুলো ধীরে-সুস্থে বের করে দেখাতে থাক।
খেলাটা শেষ হওয়ামাত্র ঠোঙাটাকে অবশ্যই ভাল করে কুচি-কুচি করে ছিঁড়ে ফেলবে। না হলে ওটা যদি কেউ দেখতে চান, তাহলে কিন্তু এই ম্যাজিকের আসল কারসাজি ফাঁস হয়ে যাবে।
৩. অঙ্কের জাদুবিদ্যা
অঙ্কের জাদুবিদ্যা বা অঙ্কের ম্যাজিকের কথা শুনেছ কখনো! শুনলে হয়তো অবাক হবে যে, অঙ্কের সাহায্যে নানারকম ম্যাজিক দেখান যায়। যেমন, ধর—তোমার সঙ্গে এক ভদ্রলোকের টেলিফোনে কথা হচ্ছে। এই ভদ্রলোককে তুমি জীবনে কখনও দেখনি। অঙ্কের ম্যাজিক জানা থাকলে, শুধুমাত্র টেলিফোনে কয়েকটা প্রশ্ন করেই ভদ্রলোকের বয়সটা তুমি বলে দিতে পারবে। শুধু বয়সই বা বলি কেন? মাস, তারিখ, বার—এসবও বলতে পারবে। আর তার ফলে ওই ভদ্রলোকের মতো অনেকেই খুব ঘাবড়ে যাবেন।
ম্যাজিকটা এবার বলছি, শোন। তার আগে একটা কথা মনে রেখ,—এই ধরনের অঙ্কের ম্যাজিকে বার এবং মাসকে সংখ্যা দিয়ে গণনা করতে হবে। যেমন রবিবারকে ১, সোমবারকে ২, ইত্যাদি এইভাবে শনিবারকে ৭ ধরতে হবে। তেমনি আবার জানুয়ারিকে ১, ফেব্রুয়ারিকে ২, মার্চকে ৩ ইত্যাদি করে ডিসেম্বরকে ১২ ধরতে হবে। এবার মনে কর, এক অপরিচিত ভদ্রলোকের সঙ্গে তোমার টেলিফোনে কথা হচ্ছে। তাঁর বয়স ৫৭ বছর আর ১৯শে নভেম্বর বুধবারে তাঁর জন্ম। অবশ্য ভদ্রলোক কিন্তু তোমাকে তাঁর বয়স এবং জন্ম তারিখ ইত্যাদি কখনই ফোনে বলবেন না কি কি লিখছেন, তা-ও জানাবেন না। ম্যাজিকটা শিখবার সুবিধার জন্যই তোমাকে বয়স ইত্যাদি আগে থেকে জানিয়ে রাখছি। তুমি ভদ্রলোককে তাঁর জন্মবার মাস ইত্যাদি অনুযায়ী প্রথমে বার, তারপর মাস এবং শেষে তারিখটা পাশাপাশি সংখ্যায় লিখতে বললে। এক্ষেত্রে তিনি বুধবারের বদলে লিখবেন ৪, নভেম্বর মাসের বদলে ১১ এবং তারিখটা ১৯। অঙ্কটা তাহলে দাঁড়ালো ৪ ১১ ১৯। এই সংখ্যাটাও কিন্তু তিনি তোমাকে বলবেন না। এবার তাঁকে বল—তিনি যে সংখ্যা লিখলেন তাকে ২ দিয়ে গুণ করতে। (গুণ করে হল ৮২২৩৮)। এরপর তাঁকে ৫ যোগ করতে বল। (৮২২৩৮+৫ = ৮২২৪৩)। যে সংখ্যা হল তাকে ৫০ দিয়ে গুণ করতে বল। (৮২২৪৩ x ৫০ = ৪১১২১৫০)। এখন ভদ্রলোককে বল ওই সংখ্যার সঙ্গে তাঁর বয়সটা যোগ করতে। (৪১১২১৫০ + ৫৭ = ৪১১২২০৭)। যে সংখ্যা পাওয়া গেল, ভদ্রলোককে বল তা থেকে ৩৬৫ বাদ (বিয়োগ) দিয়ে কত হল তোমাকে জানাতে। (৪১১২২০৭—৩৬৫ = ৪১১১৮৪২)। এতক্ষণ তুমি তাঁকে শুধু গুণ, যোগ, বিয়োগ ইত্যাদি করতে বলেছ। কিন্তু তিনি যে কি কি লিখলেন তা কিছুই জানতে পারনি। এসব করার পর যে ফলটা হল, সেইটাই শুধু তিনি তোমাকে জানাবেন। তিনি সংখ্যাটি (৪১১১৮৪২) বলামাত্র তুমি মনে মনে ওই সংখ্যার সঙ্গে ১১৫ যোগ কর। অঙ্কটা দাঁড়াল : ৪১১১৮৪২ + ১১৫ = ৪১১১৯৫৭। এবার তুমি মনে মনে হিসাব করে সহজেই বলতে পারবে, প্রথম সংখ্যাটা ৪ অর্থাৎ বুধবার, তারপর ১১ অর্থাৎ নভেম্বর মাস, তারপর ১৯ দিন এবং ৫৭ বৎসর।
সব সময় কিন্তু মনে রেখ—এই সব অঙ্কের ম্যাজিক একজনের কাছে দু-একবারের বেশী কখনই দেখাবে না। এবং বয়সটা সব সময়েই ৯৯ বছরের মধ্যে থাকা চাই।
এ রকম ম্যাজিক বেশ মজার,—তাই না? এ ধরনের অঙ্কের জাদুবিদ্যা তোমাদের ভাল লাগলে আমাদের চিঠি দিয়ে জানাতে ভুলো না যেন। তাহলে আরও অদ্ভুত মজার মজার অঙ্কের ম্যাজিক তোমাদের জন্য আমরা 'কিশোর ভারতী'-তে পরে দিতে পারব।
—
হাসলে মানিক! হাসো খানিক!!
হর্ষবর্ধন
ইস্কুলে মন্টু একটা চিঠি নিয়ে এলো বাড়ীর থেকে।
'মাষ্টারমশাই, দেখুন, মন্টুকে বাড়ীতে করার জন্য কোনো আঁকের টাসক দিবেন না আর। গোলদীঘির চার দিকে পঞ্চাশবার ঘুরতে কত সময় লাগবে, কর্তা তার এই আঁক কষতে গিয়ে, গোলদীঘির চারধারে ঘুরপাক খেয়ে প্রেসার বাড়িয়ে এখন একেবারে বিছানা নিয়েছেন।'
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন