দীনেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সুখলতা রাও
শিহরে তামসী নিশি
আকাশ-বাতাস মিশি
হানিছে বাজ।
দারুণ বরষা-মাঝে,
প্রকৃতি করাল সাজে
সাজিছে আজ।
ফেনিল তটিনী জল
ছুটিয়াছে কলকল
দু কূল ছাপি,
মাটির প্রাচীর টলে
প্রচণ্ড স্রোতের বলে,
উঠিছে কাঁপি।
ভাঙিল ভাঙিল বাঁধ!
জাগিল আর্তনাদ
গ্রামের বুকে,
প্রবাহ মহোচ্ছ্বাসে
লাফায়ে ঝাঁপায়ে আসে,
কে তারে রুখে?
যা ছিল নিকটে দূরে,
দুখীর খামার-কুঁড়ে,
ভাসাল তারা,
অথই প্লাবন মাতে,
মানুষ যুঝিছে সাথে
পাগলপারা।
মা ভাবে ব্যাকুল হয়ে,
কেমনে সকলে লয়ে
পরান রাখে;
তনয়ে টানিল পাশে,
এক হাতে দুহিতা সে,
শিশুটি কাঁখে।
কে জানে ভাসিল কেবা,
বাঁচিয়া রহিল কেবা
আপন জন,
প্রভাতে ফেরে গো খুঁজি
কাহার কি আছে পুঁজি
কি গেছে ধন।
চমকি দেখিল লোকে,
অশ্রু ঝরিল চোখে,
কথা না সরে;
দেখিল হারায়ে গেহ,
শয়ান চারিটি দেহ
স্রোতের পরে;
শিশুরা জননীসনে
নিবিড় আলিঙ্গনে
রয়েছে লীন;
প্রলয় বারিধি-কোলে
প্রেমের মূরতি দোলে
মরণহীন।
—
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন