দীনেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
পরমানন্দ সরস্বতী
টাকায় দশ মাথা গজায়, ভোগে গজায় পা,
দুপুর রাতে পাড়া বেড়ায়, পুষে শখের ছা।
টাকার গলা বড় গলা শুধু নিজের সুখে—
টাকার চাকা ফাঁকা বুলি ছড়ায় পরের ভুখে।
টাকার গরম বড় গরম মানে না ছোটো-বড়,
যার ঘরে যায় তাকে বানায় মস্ত গবেট জড়।
টাকা হলে ঘোলা জলে লাফায় ট্যাংরা চ্যাং,
হাতীর দিকে ছাতি ফোলা ব্যাঙ দেখায় ঠ্যাং।
অনেক ভেল্কি জানে টাকা, ভুলায় পুত্র-শোক
শনি ঠাকুর এক টাকায় পড়েন তিনশ' শ্লোক।
ভোটের হাটে শাদা-কালো দশ দালাল ঘোরে,
লাখ টাকার মানুষ বিকায় সস্তা টাকার দরে।
টাকায় গড়া রাজা উজির চলেন টাকার চালে,
টাকা পেলে মাথার মণি ডুবেন তারা খালে।
কেউ বউ আনতে বিলাত যায়, মৌ চাখতে মাঠে,
টাকার মানুষ সাঁতার কাটে শতেক মুখের ঘাটে।
হাঁচি দিলে বদ্যি ডাকে, ক্ষিধে পেলে খায়,
ইচ্ছামত নুন ছিঁটায় পরের কাটা ঘায়।
পাকা হয় টাকা থাকলে আধ-বয়সে ছেলে,
বুড়োর কাছে খুড়োর মত তত্বকথা বলে।
ঘুঘু হয় সে রাজনীতির, মাৎস্যন্যায়ের গুরু—
টীকা-ভাষ্য লিখতে নাকে চশমা আটে পুরু।
টাকার লোভ, বড় লোভ ঘুষের ঘৃত চাটে,
পাঁচটা করে কুকুর পোষে, ঘুমায় রূপোর খাটে।
টাকা হলে বাঁকা মনে ঘোরেন দুষ্ট রাহু,
চতুর্দিকে বাড়ান তিনি ইষ্ট-নাশের বাহু।
টাকার কোপ ভীষণ কোপ কাটে জ্ঞানীর মাথা,
টাকার ঘরে অকাতরে গজায় ব্যাঙের ছাতা।
বাঘের মত টাকার দাপট হাড়ে বসায় দাঁত,
পাপকে বানায় ভোগের প্রসাদ, দিনকে করে রাত।
টাকার মায়া বড় মায়া শান্তি সুখ কাড়ে—
টাকার বাতাস লাগলে গায় ভূত লাফায় ঘাড়ে।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন