দীনেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

ইন্দুভূষণ দাস
সেদিন ছিল রবিবার। বালিগঞ্জে গিয়েছিলাম এক বন্ধুর বাড়িতে। বন্ধুর অনুরোধে দুপুরের আহারক্রিয়াটি সেখানেই সম্পন্ন করতে হলো। কথা হলো, বিকেলের 'শো'তে দুই বন্ধুতে 'মেট্রো'তে যাব সিনেমা দেখতে। তিনটেয় শো আরম্ভ। তাই দুটোর কিছু আগেই বেরিয়ে পড়লাম। ট্রাম রাস্তায় এসেই দেখি এক পাল গরু চলেছে রাস্তা দিয়ে। গরুগুলো কোথায় চলেছে বোঝা গেল না। বন্ধুকে বললাম—রাস্তায় এত গরু কেন ভাই?
বন্ধু বললে—গরু নিয়ে গবেষণা করবার সময় নেই। ট্রামে উঠবার জন্যে প্রস্তুত হও।
একটু পরেই ট্রাম এসে পড়ল। বেজায় ভীড় ট্রামে। অতি কষ্টে সেই ভীড় ঠেলে উঠে পড়লাম। বসবার জায়গা হলো না। বাধ্য হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম।
'উজ্জ্বলা' সিনেমার স্টপেজে এসে ট্রাম থামতেই ভীড় পাতলা হয়ে গেল। আমরা বসবার জায়গা পেলাম।
এতক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম বলে রাস্তার দিকে লক্ষ্য করবার সুযোগ পাই নি। এতক্ষণে সে সুযোগ হলো। এবং সুযোগ হতেই দেখলাম রাস্তা দিয়ে পালে পালে গরু চলেছে উত্তর দিকে।
পাশের এক ভদ্রলোক প্রশ্ন করলেন—ব্যাপারটা কি? এত গরু কেন?
কিন্তু কে তাঁর প্রশ্নের উত্তর দেবে? সবার মনেই ঐ প্রশ্ন। উত্তর দেবার কেউ নেই। যাই হোক, গরুর পাল দেখতে দেখতে শেষ পর্যন্ত এসপ্ল্যানেডে এসে হাজির হলাম।
ট্রাম থেকে নামতেই দেখি গুরুতর ব্যাপার। হাজার হাজার গরুতে ভরতি হয়ে গেছে মনুমেন্ট ময়দান। সাদা, কালো, লাল, মেটে প্রভৃতি নানা রঙের এবং নানা শ্রেণীর গরু। মুলতানী, হিসারী, ভাগলপুরী প্রভৃতি বিশালকায় গরুর মধ্যে হাড়-বের- করা ক্ষুদ্রকায় বঙ্গীয় গরু, ধর্মের ষাঁড়, গাই, বলদ মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে।
কিন্তু বিস্ময়ের এখানেই শেষ নয়। চার দিকে তাকিয়ে দেখি আরও গরু আসছে। এসপ্ল্যানেডে আসবার যে কটা রাস্তা আছে, তার প্রত্যেকটা দিয়েই আসছে পালে পালে গরু। আসছে তো আসছেই।
ঘাবড়ে গেলাম গরুর সেই বিশাল জমায়েত আর মিছিল দেখে। বন্ধুকে বললাম—আজ সিনেমা থাক ভাই। চলো, 'মতান্তর' পত্রিকার অফিসে গিয়ে গরুর খবরটা নেওয়া যাক।
বন্ধুবরও ঘাবড়ে গিয়েছিল গরু সমাবেশ দেখে। সে তাই সহজেই সম্মতি দিল আমার প্রস্তাবে। 'মতান্তরে'-এর চীফ রিপোর্টার মতিবাবুর সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল। তাই সোজা মতিবাবুর কাছে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম—গরুর বিষয়ে কিছু জানেন?
—গরু! কার গরু? পাল্টা প্রশ্ন করলেন মতিবাবু।
—কারো গরু নয়। গড়ের মাঠের গরুর কথা বলছি।
—গড়ের মাঠের গরু! ভায়া কি আজকাল নেশাটেশা করছ নাকি?
—নেশা করছি মানে? আপনার টেবিলে তো ফোন রয়েছে, দেখুন না চৌরঙ্গীর কোন হোটেলে ফোন করে!
ফোন করবার আর দরকার হলো না, কারণ তখুনি মতিবাবুর টেবিলের ফোনটা বেজে উঠলো। রিসিভারটা তুলে কানে লাগিয়ে মতিবাবু বললেন—হ্যালো! হ্যাঁ, আমিই মতিবাবু—কী বললে! হাজার হাজার গরু? বলো কি? হ্যাঁ, হ্যাঁ, খোঁজ নেবে বৈকি! স্টাফ ফটোগ্রাফার এখুনি পাঠাচ্ছি।
রিসিভারটা নামিয়ে রেখে আমার দিকে তাকিয়ে মতিবাবু বললেন—তোমার কথাই সত্যি হলো ভাই। আমাদের একজন স্টাফ রিপোর্টার এইমাত্র ফোনে বললে যে, মনুমেন্ট ময়দান গরুতে ভরতি হয়ে গেছে।
—গবেষণার ব্যাপার! মন্তব্য করলেন পাশের এক ভদ্রলোক।
তাঁর কথায় কান না দিয়ে মতিবাবু অনেকটা নিজের মনেই বললেন—এত গরু! ব্যাপারটা কি?
—মিটিং ফিটিং হবে হয়তো! টিপ্পনি কাটলেন আর এক ভদ্রলোক।
—মিটিং! গরুতেও আবার মিটিং করে নাকি? প্রশ্নটি আমার। আমার প্রশ্নের উত্তরে মতিবাবু বললেন—বর্তমান রাজনৈতিক সচেতনার যুগে সবাই মিটিং করে। গরুরাই বা বাদ যাবে কেন?
এই বলে একটু থেমে তিনি আবার বললেন—চলুন, সবাই মিলে আজ 'কাউ কমিটি'র মিটিং দেখে আসা যাক।
মতিবাবুর প্রস্তাব শুনে খুশী হয়ে পাশের ভদ্রলোক বললেন—তাই চলুন দাদা। মানুষের মিটিং-এর রিপোর্ট লিখে লিখে হয়রান হয়ে গেছি। পাঠকরা আর মিটিং-এর বিবরণী পড়তে চায় না আজকাল। এই ডামাডোলের বাজারে গরু সমিতির মিটিং-এর সচিত্র বিবরণ ছাড়তে পারলে আর দেখতে হবে না।
সবাই মিলে অত:পর উঠে পড়া গেল গরু-সমিতির মিটিং-এর উদ্দেশে। বলাবাহুল্য, আমি এবং আমার বন্ধুবরও স্থান পেলাম মতিবাবুর জীপে।
এসপ্ল্যানেডের কাছাকাছি আসতেই দেখি, ব্যাপারটা ইতিমধ্যেই বেশ ঘোরালো হয়ে উঠেছে। বিশাল মনুমেন্ট ময়দান তখন গরু-সমুদ্রে পরিণত হয়ে গেছে।
হঠাৎ একটা বিকট আওয়াজ শুনে চমকে উঠে সামনের দিকে তাকাতেই চক্ষু ছানাবড়া হয়ে গেল আমার। দেখলাম, এক বিরাটকায় বলীবর্দ সাঙ্গ-পাঙ্গ পরিবৃত হয়ে ধীর পদক্ষেপে মনুমেন্ট-এর দিকে অগ্রসর হচ্ছে, আর ময়দানের সেই বিশাল গরুতা (জন থেকে যেমন জনতা, সেই রকম গরু থেকে গরুতা) সমস্বরে,—'গরু সম্মেলন জিন্দাবাদ', 'বলীবর্দ জিন্দাবাদ' আমাদের দাবি মানতে হবে' প্রভৃতি ধ্বনিতে আকাশ বাতাস মুখরিত করে তুলছে। বুঝতে অসুবিধে হল না যে, শ্রী বলীবর্দই এই সভার প্রেসিডেন্ট।
প্রেসিডেন্ট বলীবর্দ আসন গ্রহণ করে (অর্থাৎ মনুমেন্টের নীচের উঁচু জায়গাটায় গিয়ে দাঁড়িয়ে) শিঙ নেড়ে গরুতাকে শান্ত হতে নির্দেশ দিল।
কী ডিসিপ্লিন জ্ঞান গরুদের! প্রেসিডেন্ট-এর নির্দেশের সঙ্গে সঙ্গেই নিস্তব্ধ হয়ে গেল সেই সুবিশাল গরু-সমুদ্র।
একটু পরেই শুরু হয়ে গেল সভার কাজ। একটি লিনলিথগো ষাঁড় (মনে হলো, অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতি) এগিয়ে এসে সভাপতি হিসেবে বলীবর্দের নাম প্রস্তাব করলো। তার সেই প্রস্তাব সমর্থন করলো একটি মেটে রঙের বলদ।
সভাপতি নির্বাচিত হয়ে গেলে অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতি ষণ্ডরাজ ভাষণ দিতে শুরু করলো। গোমুখ নিসৃত সেই বক্তৃতায় যেমন গমক তেমনি ধমক। একেবারে চমক লাগিয়ে দেবার দাখিল।
ষণ্ডরাজ বলতে লাগলো—মাননীয় সভাপতি এবং সমবেত গরু মহোদয়া ও মহোদয়বৃন্দ! আজ আমরা যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই সভায় সমবেত হয়েছি তা আপনারা সবাই জানেন। আমরা আশা করেছিলাম, ভারত স্বাধীন হবার পর আমাদের সর্ববিধ উন্নতি সাধিত হবে। কিন্তু দু:খের সঙ্গে আজ আমাকে বলতে হচ্ছে যে, ভারত সরকার আমাদের উন্নতির জন্যে এ যাবৎ কিছুই করেনি। আমাদের আজ বিশ্বাস করবার কারণ ঘটেছে যে, মনুষ্য-পরিচালিত সরকার আমাদের জন্যে কিছুই করবে না।
(গরুতার 'শেম শেম' ধ্বনি)
কিন্তু সুখের বিষয় এই যে, আজ আমরা আমাদের অধিকার সম্বন্ধে সচেতন হয়েছি। এই শ্রেণী-সংগ্রামের যুগে আমরা যদি শ্রেণী-সচেতনতা বজায় রাখতে পারি, যদি আমরা একতাবদ্ধ হয়ে আমাদের দাবিতে অবিচলিত থাকতে পারি তাহলে আমরা নিশ্চয়ই জয়ী হতে পারবো। আজকের এই রাজনৈতিক সচেতনতার যুগে আমাদের তাই পিছিয়ে থাকা চলবে না। অত:পর আমাদের গরু সমিতিকেও প্রকাশ্য রাজনীতিতে শিঙ গলাতে হবে।
(গরুতার হর্ষধ্বনি ও পা-তালি)
শিঙ নেড়ে গরুতাকে শান্ত হতে বলে ষণ্ডরাজ আবার শুরু করলো—
বন্ধুগণ, আজ আমরা 'গরু' নই। আমরা আজ সমিতিবদ্ধ হয়ে যে বিশাল গরু মহাসভার পত্তন করেছি, আশা করি অচিরেই সেই সমিতি সর্বভারতীয় এক মহা-সমিতিতে পরিণত হবে।

...বলীবর্দের কাছে এগিয়ে এসে গলায় দড়ি পরিয়ে দিল।
(গরুতার হর্ষধ্বনি ও পা-তালি)
আমার আর বিশেষ কিছু বলবার নেই। আশা করি, আমার পরবর্তী বক্তা শ্রী গোবর্ধন গো-মুখ আপনাদের আরও ভালভাবে বুঝিয়ে বলতে পারবেন।
ষণ্ডরাজ সরে যেতেই মূলতানী গরু গোবর্ধন গো-মুখ বক্তৃতা-মঞ্চে এগিয়ে এলো। সে শুরু করলো হিন্দীতে—
ভাইযোঁ ঔর বহিনো!
ইয়ে সভেপর আজ কিঁউ তুলোগ আয়ে হৈ? তুলোগ আচ্ছি তারাসে জানতে হো যে, আজ ভারতমে এক বহুৎ ভারী আন্দোলন চল রহা হৈ। লেকিন উয়ো আন্দোলন—উয়ো যেতনা ভারী ঔর প্রবল ভি হো,—উয়ো হ্যায় মনুষ্য লোগোনকো আন্দোলন, ম্যায়, 'অ্যাইমিন' হমলোগ হো মেহেনতি গরুতা। মেরে, 'আই মিন' হামলোগকা লিয়ে উলোগ ক্যা করনে সেকে? কুছভি নেহি। হমলোগকা ভালাই হমলোগকোই করনা চাহি। কোই বাহারবালা আদমীসে কুছ নেহি হো সেকতা। ইয়ে কাম হামরাহি হৈ।
(গরুতার 'হিয়ার হিয়ার' ধ্বনি)
আজ যেইসি মহতী সভে মে হমলোগ মিলা হুয়ে হৈ, ইসমাফিক সভা গরুকা ইতিহাসমে আগাড়ি কভি নেহি হুয়ে। আজসে হমলোগ সবকোই গরু মিলকর এক সাথ কদম বাঢ়ানা। আজ সে হমলোগ কো যাত্রা হুয়ে শুরু। ইয়ে যাত্রাকো খতম নেহি করনা। যব তক 'গোল'মে নেহি পৌঁছায়গা তব তক হমলোগকো চলনে পড়েগা। আসলি বাত হৈ, উই মাস্ট এ্যাচিভ আওয়ার গোল।
গো-মুখের বক্তৃতা শেষ হতেই সেই বিশাল গরুতা ফেটে পড়লো পা-তালিতে। আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠলো সেই সুবিশাল গরু-সমুদ্র। এর পর বক্তৃতা দিতে এলো শ্রীমতী ধবলী। বিশুদ্ধ বাংলায় শুরু করলো সে।
মাননীয় সভাপতি ও উপস্থিত ভদ্রমণ্ডলী! এইমাত্র আপনারা সুবক্তা গো-মূর্খ মহোদয়ের যে...
সভাপতি তাড়াতাড়ি সংশোধন করে দিলেন—গো-মূর্খ নয়, গো-মুখ।
হ্যাঁ, এইমাত্র সুবক্তা গো-মুখ মহোদয় যে কথা বলে গেলেন আমার বক্তব্যও তাই। এতকাল আমরা শুধু 'পরের জন্য কাষ্ঠহরণ' করে এসেছি। কিন্তু আর নয়। আজ আমাদের নিজেদের ভাল-মন্দ নিজেদেরই দেখতে হবে। সরকার আমাদের সুখ-সুবিধার দিকে দৃষ্টি দেবে বলে যে ধারণা আমরা মনে মনে এতকাল পোষণ করেছি তা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। আজ আমরা ষ্পষ্ট বুঝতে পারছি যে, মানুষদের দ্বারা পরিচালিত সরকার আমাদের জন্যে কিছুই করবে না।
কিন্তু ভাইসব, আজ যদি আমরা একতাবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে পারি, যদি আমরা একযোগে আমাদের দাবি জানাতে পারি, তাহলে কারো সাধ্য নেই সে দাবিকে দাবিয়ে রাখবার।
আমার আর বিশেষ কিছু বলবার নেই। মোট কথা আজ যেভাবে আমরা একতাবদ্ধ হতে পেরেছি, আমাদের দেখতে হবে সে একতা যেন অটুট থাকে। জয় ভারত!
(গরুতার হর্ষধ্বনি ও পা-তালি)
শ্রীমতী ধবলীর বক্তৃতা শেষ হতেই প্রেসিডেন্ট বলীবর্দ দু'পা এগিয়ে এসে দাঁড়ালো। তারপর গরুতার দিকে তাকিয়ে গরু-গম্ভীর কণ্ঠে ভাষণ দিতে শুরু করলো—
সমবেত মহিলাবৃন্দ ও ভদ্রমণ্ডলী!
আজ আপনারা আমাকে যে সম্মানের আসন দিয়েছেন, আমি সে আসনের যোগ্য কিনা জানি না। আমি এমন কিছু করি নি, বা করতে পারি নি যার জন্যে গরু সমিতির প্রেসিডেন্ট-এর মতো দায়িত্বপূর্ণ পদ আমি পেতে পারি। কিন্তু আমার অযোগ্যতা সত্বেও যখন আপনারা আমাকে এ দায়িত্ব দিয়েছেন, তখন যেমন করেই হোক, সে দায়িত্ব আমাকে পালন করতেই হবে।
আমার পূর্ববর্তী বক্তাগণ যে কথা বললেন, তা অক্ষরে অক্ষরে সত্য। অত্যাচারী মনুষ্য-সমাজ আমাদের জন্যে কিছুই করবে না। ওরা আমাদের শোষণ করা ছাড়া আর কিছু করে না। আমাদের নির্দয়ভাবে খাটিয়ে ওরা যে ফসল উৎপন্ন করে তার এক দানাও আমাদের দেওয়া হয় না। ওরা সেই ফসল কালোবাজারে বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করে।
(গরুতার 'শেম শেম' ধ্বনি)
অতএব বন্ধুগণ, আমাদের এখন সর্বতোভাবে চেষ্টা করতে হবে মানুষের দাসত্বপাশ থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন গরু সমাজের পত্তন করা। দরকার হলে আমরা নিজেরাই আমাদের সরকার গঠন করবো।
(গরুতার হর্ষধ্বনি ও পা-তালি)
গোকুল শান্ত হতেই প্রেসিডেন্টকে হঠাৎ কান খাড়া করতে দেখা গেল। মনে হলো, কি যেন উদগ্রীব হয়ে শুনছে সে।
এরপর বার কয়েক এদিক ওদিক তাকিয়ে সে বললো—আমার আর বিশেষ কিছু বলবার নেই। আজকের মতো সভা এখানেই শেষ হলো।
এই কথা বলেই প্রেসিডেন্ট দ্রুতপদে রাজভবনের দিকে ছুটতে আরম্ভ করলো। প্রেসিডেন্টকে এইভাবে সভা ভেঙে দিয়ে চলে যেতে দেখে মঞ্চস্থ গো-নেতাগণ ব্যাপারটা কি হলো জানবার জন্যে তার পেছনে ধাওয়া করলো।
ব্যাপারটা আমাদেরও বোধগম্য হলো না। এতক্ষণ আমরা রীতিমত উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছিলাম চাষ-আবাদ এবং দুধের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে। মতিবাবু তো একটা বিশেষ প্রবন্ধই ফেঁদে বসেছিলেন গরু-সমিতির মিটিংকে উপলক্ষ করে। তিনিও রীতিমত ভ্যাবাচ্যাকা মেরে গেলেন ব্যাপার দেখে। প্রবন্ধ রচনা স্থগিত রেখে তিনি বললেন—ব্যাপারটা কি হচ্ছে দেখা দরকার। চলুন এগিয়ে দেখি।
গাড়ি নিয়ে এগোবার উপায় ছিল না; তাই পদব্রজেই রওনা দিলাম। কিছুটা যেতেই দেখি, চাষীর মত চেহারার একটি লোক একগাছা দড়ি হাতে নিয়ে বলীবর্দের দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলছে,—'আয় আয়, সারাটা দিন তোকে খুঁজে খুঁজে হয়রান হয়ে গেছি।'
'হীজ মাস্টার্স ভয়েস' শুনে বলীবর্দ হঠাৎ সুবোধ গরুর মত স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো। সেই লোকটি তখন বলীবর্দের কাছে এগিয়ে এসে তার গলায় দড়ি পরিয়ে দিল।
এই অভাবনীয় দৃশ্য দেখে গো-নেতাগণ সমস্বরে চিৎকার করে উঠলো—বলীবর্দ নিপাত যাক।
এদিকে গরু সমিতির মিটিং তখন ভেঙে গেছে এবং গরুরা দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে যে যেদিকে খুশি ছুটতে শুরু করেছে। তাদের শিঙ-এর গুঁতো থেকে কোন রকমে আত্মরক্ষা করে জীপে ফিরে এসে মতিবাবুকে প্রশ্ন করলাম—এটা কি হলো মতিবাবু?
মতিবাবু তাঁর সেই বিশেষ প্রবন্ধটা ছিঁড়ে কুটি কুটি করে নীচে ছড়িয়ে ফেলে বললেন—দুত্তোর যত সব।
—
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন