দীনেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

ইন্দিরা দেবী
এসব কথা শুনে শুনে সুসীমার অভ্যাস হয়ে গেছে, তবুও সকলে মিলে যখন আক্রমণ করে তখন খুব কষ্ট পায় মনে। আর এই আক্রমণ, রং তামাসা হামেশাই লেগে আছে।
বৃহৎ একান্নবর্তী পরিবার, কাজেই জ্যাঠতুত-খুড়তুত ভাইবোন দাদাদিদি মিলে অনেকগুলি। সব সময় কলরব বাড়ীতে। তবে ঠাকুমার পরিচালনা খুব নিয়মে চলে, তাই অকারণ গণ্ডগোল হয় না। পাশের বাড়ীর মমতা একদিন সুসীমাকে বলে বসলো : জানিস সুসী, আমাদের বাড়ীতে সব বলছিল, তোদের বাড়ীতে এত লোকজন ছেলেমেয়ে যেন একটা গ্রাম, একটা বাড়ী নয়। আমার ছোড়দিদু বললেন, ছি: ছি:। ওকথা বলো না, কি সুন্দর বাড়ীটা আর ছেলেমেয়েরাও কি সভ্য।
সুসীমা তখন একমনে মাটিতে চক দিয়ে লাইন কেটে চলেছে আর মমতা একভাবে বলেই চলেছে। খানিক পরে মমতা আবার বলে, শুনেছিস, কি বললাম, না মাথামুণ্ডু এঁকেই চলেছিস? বাবা: তুই একটু স্থির থাকতেও পারিস না!
সুসীমা হেসে বলে, দাঁড়া এই কাগজটায় তোর মুখ এঁকে দিই।
—ওমা সত্যি তো তুই আমাকে আঁকলি, আমার ঝাঁকড়া চুল, ভোঁতা নাক—সবই তো ঠিক ঠিক হয়েছে।
—যা, নিয়ে যা কাগজটা।
শুধু মমতা কেন—সকাল থেকে যা সে দেখে তাই তখনি আঁকা হয়ে যায়। বাথরুমের জলের টব, তোয়ালে ঝুলছে, দাঁত মাজার বুরুশ, সাবান ইত্যাদি; দুধের বাটি, বিস্কুট, পড়বার টেবিল, বই-খাতা-কলম, কলার বকস; ছোটন, নানকু কেমন করে বই পড়ছে, কে কাকে মুখ ভেঙ্গাচ্ছে, তারপর ইস্কুলে যাওয়া, গাড়ী ভর্তি মেয়ে, স্কুল বোর্ড, টীচারদের মুখ, টিফিন খাওয়া, বাড়ী ফেরা, খেলাধূলো, পড়তে বসা; সন্ধ্যায় ঠাকুমাকে ঘিরে বারো চোদ্দটা ভাইবোন, তারপর সারি সারি খেতে বসা, থালাবাটি; বাবা বাড়ী ঢুকছেন, মা চা দিয়ে গেলেন,—সব আঁকা হয়ে যায়, বাদ যায় না কিছুই।
দিস্তা দিস্তা কাগজ,শ্লেট-পেনসিল কিম্বা মাটির উপর চক দিয়ে আঁকা।
মা বলেন, সুসী, তুমি বড্ড ঘর নোংরা করো।
মেজদা ঠাট্টা করেন, সুসী ইজ এ গ্রেট আর্টিস্ট।
ঠাকুমা বলেন, সেই যে ছোট্ট থেকে শুরু করেছ— এক চিলতে কাগজ পেলেই পেনসিল যোগাড় করা আর সঙ্গে সঙ্গে লাইন টানা—বাবা: এটা আর গেল না। ভারী খারাপ অভ্যেস।
মাসতুত ভাই বিকাশদা মাঝে মাঝে আসে আর বলে, কি সুসী কতদূর এগোলে? তেল রং জল রং? না শুধু চকখড়ি আর পেনসিল?
ছোটবোন প্রতিমা বলে, তার মানে? বাবা তো কতই রং-এর বাকস আনছেন, আর অফিস থেকে, না কিনে জানি না, রোজ দিস্তে দিস্তে কাগজ!
—বলো কি সুসী? তাহলে আর্টিস্ট না হয়েই ছাড়ছো না?
সুসীমা কম কথা বলে, তাছাড়া ছোট থেকে এসব ঠাট্টা তামাসা এত শুনেছে সে, প্রস্তুত হয়েই থাকে। দু:খ কি হয় না? কিন্তু তা হোক, তার ভাল লাগে এই রকম আঁকতে।
মা বলেন, সুসীর কি যে নেশা আঁকায়।
কেবল বাবা তার সহায়,—নিশ্চয়! নিশ্চয় আঁকবে। ছোটদের যার যেদিকে মনের ইচ্ছা যায় তাকে বাধা দিতে নেই। আমরা এই করে ছোটদের নষ্ট করি।
ঐ মনটা পড়ায় দিলে ভাল হয়, স্কুলে যখন সুনাম আছে। —আস্তে আস্তে মা বলেন।
বাবা জোরে ডাকেন, সুসী, এসো তো কি এঁকেছ? বা:! খুব সুন্দর হয়েছে।
বাবা উঠে গেলে রাঙাদা বলে, ছোটকাকু কি বলেছেন, বেশ হয়েছে? সুসী আঁকলে, থুড়ি লাইন টেনে হিজিবিজি খেললেই, ছবি হয়? তাহলে সেটা কি ছবি হলো তার নীচে লিখে দিতে হবে, না হলে কেউ বুঝতে পারবে না। সুসী, লিখে দিস—ইহা একটি বিড়াল, ইহা একটি চায়ের কাপ।
সকলে হাসে, কিন্তু সুসীর মন সেই পেনসিল চক আর সম্প্রতি পাওয়া সরু-মোটা নিবের কলমে চলেই।
ঠাকুমা কিছু কাজ করাবেন—হয় ঠাকুর ঘরে চন্দন ঘষা কিম্বা মালা গাঁথা কিম্বা হিসাব লেখানো—তাই সুসীমার ডাক পড়ে; কিন্তু যখন শোনেন সে লেখাপড়ার নামে লাইন টানছে, তখন রেগে ওঠেন।
—ওই ছাই ভস্ম খেলা কি যাবে না? বাবা আদর দিয়ে মেয়েটির মাথা খেয়েছে। দেবো সব টান দিয়ে ফেলে। বারো-তেরো বছরের মেয়ে এখনও ঐ খেলা হচ্ছে! আমরা এ বয়সে পরের বাড়ী চলে গেছি।
মা তাড়াতাড়ি বলেন, যাওনা সুসী, ঠাকুমা কি বলছেন। সময় নষ্ট করো না।
—যাই ঠাকুমা, বলো কি করতে হবে।
স্কুলের দিদিরাও তার আঁকার প্রশংসা করেন। বিশেষ করে ড্রয়িং-এর ললিতাদি বলেন, হাত ভাল আছে সুসীমা, যদি মন দাও, ভাল হবে।
মন তো দিয়েই আছে—যাকে বলা হয় স্বত:স্ফূর্ত টান। রাগ করে, বকে, ঠাট্টা করে কিছুতেই থামানো যায় না।
ড্রয়িং-এ ক'বার সর্বোচ্চ নম্বরও পায়—তবু দাদা আর দাদার দেখে ভাইবোনেরা সব সময় বলে, ইহা একটি বিড়াল, ইহা একটি চায়ের কাপ।
সেদিন স্কুল ছুটি। দুপুরে সকলেই বিশ্রাম করছেন। চাকরটা পর্যন্ত চাদর ঢাকা দিয়ে ঘুমোচ্ছে। ভাইবোনদের কারুর সাড়া পাওয়া যাচ্ছেনা, মা কাকিমাদের ঘরে বোধ হয় বন্দী হয়েছে সব।
দুপুরের নিস্তব্ধতায় নিজের পড়ার টেবিলে হাত রেখে সুসীমা বসেছিল। সামনের খোলা বড় জানলাটা দিয়ে পাশের বাড়ীর খোলা সদর দরজাটা দেখা যাচ্ছে। বাড়ীটা শেষ হয়েছে আর দুটো ঝাঁকড়া মাথা গাছ আরম্ভ হয়েছে। কত পাখী এসে বসে, কত পাখী বাসা বাঁধে, কত পাখী কত সুরে ডাকে—তার কতরকম শব্দ। পাখীগুলো নানারকম রঙের আর তাদের চলাফেরা, ঠুকরে ঠুকরে কথা বলা, মনের কথা বোঝানোর ভাব কি সুন্দর! সুসীমা একবার করে দেখছে আর কাগজের উপর কলম টানছে। এমনি করে কতক্ষণ আঁকা হলে সে চুপ করে বসলো।
কিছুক্ষণ পরে সুসীমা দেখলো, সামনের বাড়ীর খোলা দরজার কাছে তিনটে লোক দাঁড়িয়ে আছে। ওরা নতুন লোক, এ বাড়ীতে কোনো দিন দেখেনি। তিনজনে দাঁড়িয়ে আস্তে আস্তে কথা বলছিল আর বাড়ীর উপর দিকে, ভিতর দিকে বারে বারে তাকাচ্ছিল।
সুসী ভাবলো : সবাই তো ঘুমোচ্ছে তাদের বাড়ির মত, মন্টুটা যদি আশেপাশে কোথাও থাকতো, তাহলে পাঠিয়ে দিলে ওদের ভিতরে পৌঁছে দিয়ে আসতে পারতো। কিন্তু এখন ডাকতে গেলে কাকিমা ভীষণ রেগে যাবেন আর বেচারী মন্টু বকুনী খাবে। কি আর হবে। থাকগে। তার চেয়ে...
সুসী আবার কলম তুললো। সামান্য আয়াসে লোক তিনটি তার খাতার মধ্যে স্থান পেলো। একটা লোক বেঁটে মত, একটার বেশ তাগড়াই চেহারা আর একজনকে বেশ ভাল করে দেখা না গেলেও মুখটা বেশ দেখা যাচ্ছে; মাথায় একটা কাপড়ের টুপি, খুব পান খায় লোকটা।
কত অল্প সময়ের মধ্যে জানলার ফাঁক দিয়ে দেখা তিনজনের ছবি এঁকে ফেলেছে মনে করে সুসীর মনে মনে হাসি পেলো। খাতা বন্ধ করে উঠে আর একবার জানলার বাইরে তাকালো। সুন্দর পাখীটা উড়ে গেছে, অন্য পাখীও নেই। লোক তিনটেও নেই। যাকগে, তাহলে ভিতরে গেছে। অনেকক্ষণ ওদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল। মন্টুটা এত ঘুমুতে পারে— কিন্তু স্কুলের দিন তো ঘুম পায় না। আজ যেন তারও আলস্য লাগছে। মার পাশে একটু শুয়ে পড়লে বেশ হয়। মনে যেই ভাবা আর সেই কাজ—আর একটু পরেই চোখের পাতা দুটি ভারী হয়ে এলো।
বিকেল বেলা সব ভাইবোন গোল হয়ে বসে খাবার খাচ্ছে। অনেকগুলি ভাইবোন, কাজেই নি:শব্দে কিছু হবার উপায় নেই। পরোটা, আলুভাজা, রুটি, মুড়ি, দুধ গুড়, কলা—কিছু ছড়ানো কিছু খাওয়ার পর্ব চলেছে, এমন সময় হন্তদন্ত হয়ে পুরনো চাকর গোবর্ধন একটা ঠোঙ্গা হাতে নিয়ে মার হাতে দিয়ে বললে, এই নাও গো বড়মা, ধর শীগগীর। আমি যাই, সামনের বাড়ীতে পুলিশ এসেছে, বাড়ীর কর্তাদের অফিস থেকে অনিয়েছে—কি হয়েছে দেখে আসি গে।
কি হয়েছে, ও গোবর্ধনদা? —সমবেত কণ্ঠে ছেলে মেয়েরা বলে উঠলো।
দেখে এসে বলছি। একদম বাড়ির বাইরে আসবে না কেউ, মনে থাকে যেন। কথা না শুনলে পুলিশের গাড়ীতে তুলে দেবো। —গোবর্ধন ধমকে উঠলো।
ছেলেমেয়ের দল ভিড় করে জানলার ধারে গেল তারপর আবার ফিরে এলো।
সন্ধ্যা হয়ে গেছে। সুসী পড়বার টেবিলে গিয়ে বসলো। জানলা দিয়ে দেখা যাচ্ছে, তখনও পুলিশের ভ্যানটি দাঁড়িয়ে আছে, আর অনেক লোকজন ঘোরাফেরা করছে। সুসী আপন মনে সেইগুলো এঁকে চলতে লাগলো।
বাবা এসে ঘরে ঢুকে মাকে বললেন, তোমরা কি বাড়ী ছিলে না, আজ দুপুরে সাংঘাতিক চুরি হয়ে গেছে সামনের বাড়ীতে।
—ওমা কখন? আমরা তো বাড়ীতেই ছিলাম। কোথাও যাইনি। দিনের বেলা চুরি হলো?
—চুরি বলে চুরি—সাংঘাতিক! তবে মেরে কেটে রেখে যায়নি। পুরুষরা বাড়ী নেই তা জানে তো। মেয়েরা ঘুমুচ্ছে। ইস! এই দিনে-ঘুমুনো কি যে বিশ্রী ব্যাপার! সুসী, তুমি বড় হয়ে দিনে ঘুমুবে না। আমি যাই দেখি, পুলিশ অফিসার ভদ্রলোক আমায় সব জিজ্ঞাসা করছিলেন, আসছি বলে চলে এসেছি।
জানলা দিয়ে সুসীমা দেখলো, বাবা সেই পুলিশ অফিসারের সঙ্গে কথা বলতে-বলতে তাদের বাড়ীর বৈঠকখানা ঘরেই এলেন যেন। সুসী উঠে বাইরে এলো। মন্টুর দলরাও এসে গেছে তখন—চঞ্চল হয়ে ঘর বার করছে সবাই।
বাবা বললেন, সুসী, চা পাঠিয়ে দিতে বলো গে। এইটি আমার মেয়ে, খুব আঁকতে পারে। সব সময় আঁকে।
—তাই নাকি? আজ যদি তুমি মা একটু দেখতে—
—কি দেখতাম?
—দুপুরে ও বাড়ী চুরি হয়েছে, আর সর্বস্ব চুরি। নগদে-অলঙ্কারে হাজার পনেরো-কুড়ি টাকা হবে।
সুসী ভিতরে চলে গেল। মাকে চা দেবার কথা বলে ফিরে এসে বাবার সামনে ড্রয়িং-এর খাতাটা রেখে বললে, আজ দুপুরে তিনটে লোক ঐ বাড়ীতে এসে অনেকক্ষণ বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল। আমি ভেবেছি ওরা দেখা করতে এসেছে—আমি তখন আঁকছিলাম। ভাল হয়নি, তবু এই যে এঁকেছি। এই দেখ।
অফিসার ভদ্রলোক লাফিয়ে উঠলেন,—দেখি, দেখি! হবে হবে, এতেই কাজ হবে চেষ্টা করলে। আপনার মেয়ের খাতাটি নিয়ে যাই, মি: রায়, যদি কাজে লাগে।
—নিশ্চয়ই! নিশ্চয়ই!!

দেখি, দেখি! হবে হবে, এতেই কাজ হবে চেষ্টা করলে।
কাজে লাগলো। অনেক চেষ্টা-চরিত্র করে চোর ধরা পড়লো। সুসীর আঁকা চেহারার সঙ্গে তাদের একেবারে হুবহু মিল রয়েছে।
সবাই তো অবাক।
পাড়ার সকলে, বাড়ীর সকলে, পুলিশের যত লোক ছিল সবাই সুসীমাকে দেখতে এলো ভিড় করে।
বড়দা যদিও খুশি হয়েছিলেন, তবু বলতে লাগলেন, বাড়ীতে এই ভিড় দেখে লোকে মনে করবে, আবার বুঝি আমাদের বাড়ীতে চুরি হলো।
ঠাকুমা নিদন্তে হাসলেন, ওমা সুসী, এত বড় কাণ্ডের তুমি ফয়সালা করলে? আঁকার জন্য কত বকেছি যে। আহা কি লক্ষ্মী গো। আমাদের বাড়ীর কত নাম হয়ে গেল। আজ আমি হরির লুট দেবো সন্দেশের, ছেলেমেয়েরা সব তুলসীতলায় আসিস।
নানকু বললে, সন্দেশ তুমি কোথায় পাবে ঠাকমা? বন্ধ গো বন্ধ। তার চেয়ে নারকেল নাড়ু তৈরী করো অনেক করে।
সংবাদপত্র অফিস থেকে লোক আসতে লাগলো। সুসীমার ছবি উঠছে ক্লিক ক্লিক করে আর জিজ্ঞাসা—কি দেখেছিলে বলো। বলতে বলতে সুসীমার কণ্ঠতালু শুষ্ক হয়ে উঠতে লাগলো।
মন্টু চুপি চুপি বলে গেল, ছোটদি, তুই আমায় ডাকলি না কেন? আমারও তোর সঙ্গে ছবি উঠতো!
কথাটা রাঙাদার কানে গিয়েছিল। বললেন, সুসীর ছবি বেরোবে আর চোরেরা ওর উপর রেগে কি কাণ্ড বাধাবে, দেখ। তখন আর ওকথা বলতে হবে না।
—চিনে রাখবে বুঝি?
—তা রাখতে পারে।
পরের দিন শহরের সব সংবাদপত্রে সুসীমার ছবি, তার আঁকা ছবি আর পরিচয় বেরোলো। আবার বাড়ীতে ফোন আর লোকের ভিড় আরম্ভ হলো। সকলের মুখেই সুসীর কথা।
বাবা বললেন, দেখলে তো কি হলো! সবাই সুসীর উপর রাগ করতো, কেবল আমি ওকে উৎসাহ দিতাম। ছোট্ট মেয়ে চোর ধরে দিয়েছে—একি কম কথা!
টেলিফোন বেজে উঠলো। পুলিশ অফিসার ফোন করছেন—জিনিসপত্র সমেত চোরেরা ধরা পড়েছে। সুসীর জন্যে পুরস্কার আসছে।
সুসী বড় হলো। স্কুল থেকে কলেজ, তারপর বিশ্ববিদ্যালয় —আর্ট কলেজ। দেশ-বিদেশে তার নাম ছড়িয়ে পড়লো। কত ছবি পুরস্কারে ধন্য হলো।
কিন্তু সেই যে কবে তাদের বাড়ীতে পুলিশ অফিসার এসেছিলেন, আর নেহাৎই খেলার ছলে আঁকায় চোর ধরা পড়েছিলো, তখন থেকেই তাকে পথে দেখলে নীচু গলায় সবাই বলে উঠতো—'সেই মেয়েটি'। আর একমনে আঁকছে বা কিছু করছে, মাঝে মাঝে হঠাৎ মেজদার কণ্ঠস্বর সুসীর কানে ভেসে আসে এখনও—সুসী ইজ এ গ্রেট আর্টিষ্ট!
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন