সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
কথা হচ্ছে, যাকে বলে গাল-গপ্প৷ চার বন্ধু বসেছে আড্ডায়৷ চিমার ফরেস্টের ডাকবাংলোয়৷ চারজনে এসেছে পুজোর ছুটি কাটাতে৷ প্রতি বছরই এই চারজন কোথাও না কোথাও যাবেই৷ নদীতে, পাহাড়ে, বনে, জঙ্গলে৷ সব ক’জনেরই পায়ে ডানা বাঁধা৷ ঘরে মন টেকে না৷ চারজনেরই বয়স চল্লিশের কোঠায়৷ চারজনই বড় চাকরি করে৷ শরীর স্বাস্থ্য-ভালোই৷ একই স্কুলে চারজন একই ক্লাসে পড়ত৷ সবই ভালো৷ একটাই যা গোলমাল, চারজনই বড়-বড় কথার মাস্টার৷ বোলচালের শেষ নেই৷ এ হাতি মারে তো, ও মারে বাঘ৷ এ আল্পস পাহাড়ে উঠেছে তো, ও চড়ে বসে আছে এভারেস্ট৷ এ কুমিরের লেজ ধরে টেনেছে, তো ও ধরেছে অজগর৷ রাজা-উজির মারায় চারজনই ওস্তাদ৷ কেউ কারো কাছে হারতে রাজি নয়৷
চারজনের নাম হল, অমল, বিমল, কমল, পরিমল৷
বেলা চারটে-টারটে হবে৷ দুপুরের খাওয়াটা বেশ টাইট হয়েছে, ডাকবাংলোর চৌকিদার গজানন৷ তার বউয়ের নাম চম্পা৷ রান্নার হাত খাসা৷ এমন মাংস রাঁধে, যেন কথা বলছে৷ পরোটায় এমন প্যাঁচ মারে আঙুল ঠেকালেই মুচুর-মুচুর শব্দ৷ বিরিয়ানিতে অ্যায়সা দম লাগায় ঢাকনা খোলা মাত্রই গন্ধে মানুষ আধপাগলা৷ লুচির সঙ্গে কাবাব অ্যায়সা লড়িয়ে দেয়, কেয়া বাত, কেয়া বাত! খাওয়ার পর একঘণ্টা আর বাংলায় বাতচিত করা যায় না, স্রেফ উর্দু, মায়সাল্লা, হাল হকিকৎ, মরহুম, এই সব বুলি অটোমেটিক বেরোতে থাকে৷
সকালে বিরাট একটা ওয়াক হয়ে গেছে৷ বিকেলে আর নো ওয়াকিং৷ স্রেফ আড্ডা৷ শীতটাও জমিয়ে পড়েছে৷ পাহাড়-টাহাড়গুলো সব জবুথবু৷ অস্ত-সূর্য শীতে কাঁপতে-কাঁপতে বনের ওপারের পাহাড়ের আড়ালে জঙ্গলের কম্বলে তাড়াতাড়ি শুতে যাচ্ছে৷ চম্পা এক রাউন্ড চা দিয়ে গেছে৷ সন্ধের পর কফি দেবে৷
গজানন একটু আগে সাবধান করে দিয়ে গেছে, ‘ঝোরার পাশে নরম বালিতে বাঘের পায়ের ছাপ দেখা গেছে৷ বাবুরা হুঁশিয়ার৷ বেশি রাত পর্যন্ত বাইরে বসে-বসে ওই যে কী যেন দেখেন আজ আর দেখবেন না৷ ওই যে নেচার না কী! বাঘ দেখে ফেললে বিপদ আছে৷ এটা না কি মানুষ খায়৷ আগে একটা এসেছিল, সেটা খুব ভালো মানুষ ছিল, শুধু ফুলকপি খেতো৷’
অমল বললে, ‘কী যা-তা বলছ! বাঘ কখনো ফুলকপি খেতে পারে! বাঘ মানুষ খায়৷’
অমল বললেই তো বিমল বিনা প্রতিবাদে মেনে নিতে পারে না৷ বললে, ‘কে বলেছে বাঘ হিংস্র প্রাণী! প্রাণীজগতে মানুষই সব চেয়ে হিংস্র৷’
কমল বললে, ‘হতে পারে, তার মানে এই নয়, বাঘ গোরুর মতো ঘাস খাবে৷’
পরিমল বললে, ‘আমি নিজে বাঘকে আলোচালের হবিষ্য খেতে দেখেছি৷’
অমল কুঁকু-কুঁকু করে এক রাউন্ড হেসে বললে, ‘তুমি বাঘ দেখেছ৷ শুধু দেখনি, সেই বাঘ তোমার সামনে আলোচালের ভাত খেয়েছে, ডালভাতে আর কাঁচকলা দিয়ে! গাঁজাখুরি গপ্প আমি সহ্য করতে পারি না৷’
—‘এই দেখ, সত্যি কথাটাকে তোমরা মিথ্যে ভাবছ৷ আমি যদি, যুক্তি-তর্ক দিয়ে বোঝাতে পারি তাহলে মানবে তো!’
—‘এর আবার যুক্তি-তর্ক কী! বাঘ মাংস খায়৷ শ্রীচৈতন্যের আমলেও খেত, আজও খায়৷’
—‘আমি যে-বাঘটার কথা বলছি, সেটা ছিল বিধবা বাঘিনী৷ কপুরথালার মহারাজার গুলিতে তার স্বামী মারা গিয়েছিল৷ আমি যে সময়ের কথা বলছি, সেই সময় এদেশের বিধবারা মাছ-মাংস খেত না৷ এর ওপর আর কোনও কথা চলে!’
গজানন বললে—‘না, চলে না৷ বিধবা হলে মাছমাংস খাবে কী করে! আমার মা বিধবা, আমি জানি৷’
—‘তুমি সব জান! বাঘের আবার বিধবা-সধবা কী! বাঘ কি টোপর মাথায় দিয়ে বিয়ে করে!’
অমল রেগে গেছে! গজানন চলে গেল৷ রাতের রান্নার জোগাড় দিতে হবে৷ বাবুরা ভালো-মন্দ খায় আর খুব খায়৷ গজানন চলে যাওয়ার পরে, অমল বললে, ‘বাঘ তোমরা সেভাবে কেউ দেখনি, আমি যেভাবে দেখেছি৷ আমি নেলকাটার দিয়ে বাঘের নখ কেটেছি৷’
পরিমল বললে, ‘কেন, তোমার কি সেলুন ছিল!’
—‘ঝট করে, একটা কমেন্ট করলে! আসল কথাটা শুনলে না! আমার দাদু ছিলেন মস্ত ডাক্তার৷ দিশেরগড় রাজ স্টেটের চিফ মেডিকেল অফিসার হয়ে গেলেন৷ আমরাও গেলুম৷ মহারাজা খুশি হয়ে দাদুকে একটা বাঘের বাচ্চা উপহার দিলেন৷ বেশ হৃষ্টপুষ্ট একটা বেড়াল বাচ্চার মতো৷ হবে না কেন! বেড়াল তো বাঘেরই মাসি৷ কী তার ওজন! হাসি-হাসি মুখ৷’
—‘গায়ে বোটকা গন্ধ ছিল না?’
—‘বোটকা গন্ধ থাকবে কেন! মহারাজার বাঘ৷ রোজ চান করে আতর মাখে৷’
—‘বাঘটা যখন বড় হল, তখন কি একে-একে সব খেয়ে ফেললে! তোমার দাদুকে, দিদাকে, তোমাকে!’
—‘আজ্ঞে না! একটা কথা জেনে রাখো, বাঘের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার না করলে বাঘও তোমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করবে না৷ বাঘ মানুষ নয়৷’
—‘তা বাঘটা বড় হল, না বনসাই গাছের মতো চিরকাল ছোটই রয়ে গেল!’
—‘রীতিমতো বড় হল৷ আমরা ভাইয়েরা সেই বাঘের পিঠে চেপে বাগানে ঘুরতুম৷’
—‘তারপরে চেপেই রইলে, চেপেই রইলে, কারণ শুনেছি, বাঘের পিঠে চাপলে আর নামা যায় না৷’
—‘ওটা একটা ইংরেজি প্রবাদ, রাইডিং এ টাইগার৷ ওটার সঙ্গে এটার কোনও সম্পর্ক নেই৷ বাঘটা ছিল ইংরেজদের মতোই, ম্যানারস আর এটিকেট জানা ভদ্রলোক৷ রাতে বিছানায় আমাদের পায়ের কাছে ঘুমোত৷ সকালে উঠে টুথব্রাশ দিয়ে দাঁত মাজত৷’
—‘খবরের কাগজ পড়ত?’
—‘ইয়ারকি কোরো না, এইরকম সিভিলাইজড বাঘ আমি আর দুটো দেখিনি৷’
—‘কী করে দেখবে, ওটা তো বাঘ ছিল না, ব্যাঘ্রচর্মাবৃত মানুষ ছিল৷’ বিমল বললে, ‘শেষ পর্যন্ত বাঘটার কী হল! মানুষ হয়ে গেল?’
—‘দাদু, দিশেরগড় থেকে চলে আসার সময় বাঘটাকে অনেক দামে একটা সার্কাস কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দিয়ে সেই টাকায় একটা জাগুয়ার গাড়ি কিনেছিলেন৷’
বিমল বললে, ‘আমার সঙ্গে একবার একটা বাঘের মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয়েছিল৷’ পরিমল বললে, ‘তাহলে, আসল বিমলটা গেল কোথায়?’
—‘ঠিক বুঝলুম না!’
—‘যে-বিমলের সঙ্গে বাঘের দেখা হয়েছিল, সে তো বাঘের পেটে গেছে৷’
—‘বাঘটা খুব অন্যমনস্ক ছিল, আমাকে গ্রাহ্যই করেনি, আমিও বাঘ বলে চিনতে পারিনি৷ আর চিনতে পারিনি বলেই বাঘটা আমার সঙ্গে বাঘের মতো ব্যবহার করেনি৷’
—‘কোথায় দেখা হল! ময়দানে?’
—‘ঘটনাটা ঘটেছিল মান্দার হিলে৷ বিকেলে বেড়াতে বেরিয়েছি৷ হাঁটছি-হাঁটছি৷ হাঁটতে-হাঁটতে ফল্গু নদীর ওপর লম্বা একটা ব্রিজে এসে গেছি৷ দেখি কী! উলটো দিক থেকে আসছে৷ বেশ হেলতে-দুলতে৷ সূর্য ডুবছে৷ নদীর বালি চিকচিক করছে৷ গাছপালার মাথায় শেষবেলার রোদ৷ আমি ভেবেছি, একটা কুকুর৷ জল-বায়ু ভালো৷ মানুষ চেঞ্জে আসে৷ হতেই পারে৷ স্বাস্থ্যবান কুকুর! ব্রিজের শেষ মাথায় তিন চারজন লোক, হাতে লাঠি৷ আসছে৷ আমাকে জিগ্যেস করছে, দেখা, ইধার কোই শের গিয়া! এক শের নিকালা৷ সঙ্গে-সঙ্গে ধরেছি, ওটা স্বাস্থ্যবান কুকুর নয়, বড় একটা বাঘ৷ মার দৌড়৷ দৌড়তে-দৌড়তে সোজা গয়ায়৷ একটা দোকানে ঢুকেই এক সের প্যাঁড়া খেয়ে ফেললুম৷’
—‘কতটা বেশি হল জানি না৷ তবে অনেকটাই কাটতে হবে৷ মান্দার হিল থেকে দৌড়ে গয়া যাওয়া যায় না, দু-নম্বর, এক সের প্যাঁড়া খেলে মানুষ মারা যায়৷’
—‘মান্দার হিলে এক সের কেন তিন সের হজম হয়ে যাবে৷ জলের গুণ৷ পাথর খেলে পাথর হজম৷ একজন ফলওয়ালা বাইচানস একটা বাটখারা খেয়ে ফেলেছিল৷ তিন-চার গেলাস জল খেতেই বিলকুল হজম৷’
—‘ফল থাকতে বাটখারা খেল কেন?’
—‘কম ওজনের বাটখারা ছিল, ওয়েটস অ্যান্ড মেজারসের লোক ধরতে এসেছিল, বাটখারাটা স্রেফ গিলে ফেললে৷ ইনস্পেকটার বোকা বনে চলে গেল৷’
পরিমল বললে, ‘তোমরা বাঘ শিকার করেছ কোনও দিন? আমি করেছি কুমায়ুন ফরেস্টে ইন-দি-ইয়ার নাইনটিন-সেভনটি-টু৷ সে একটা থ্রিলিং ব্যাপার৷ আমি এখানে বাঘটা দশহাত দূরে৷ দুজনে মুখোমুখি৷ চোখে-চোখে তাকিয়ে আছি৷ বাঘটা আমাকে দেখে জিভ বের করে ঠোঁট চাটছে৷ ভাবছে, কোন দিক থেকে খাবে!’
—‘বাঘ সজনে ডাঁটা খায়?’
—‘মানে?’
—‘মানে, তোমার যা চেহারা! অনেকটা ডাঁটার মতো৷’
—‘বাঘ সম্বন্ধে তোমাদের কোনও জ্ঞান নেই৷ বাঘ হাড়-হাড় চেহারার মানুষ খুব পছন্দ করে৷ ওই যাকে বলে হাড়ে-মাসে৷ বাঘটাকে আমার মারার কোনও ইচ্ছেই ছিল না৷ ওর ফচকেমি দেখে রাগ ধরে গেল৷ একটা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের ভাব৷ বললুম, ইয়ারকি হচ্ছে! একটা মাত্র গুলি, কপালের মাঝখানে৷ মেরেই বললুম, সরি৷ বাঘটা, থ্যাঙ্ক ইউ, বলে শুয়ে পড়ল৷’
—‘তাহলে সেই বাঘের ছালটা কী হল?’
অমল বললে—‘কেন! ওটা শ্রীমহাদেবকে দুর্গাপুজোর সময় দিয়ে দিয়েছে৷ বাবা তো কৈলাসে ইদানীং ওইটা পরেই ঘুরছেন৷’
পরিমল রেগে গিয়ে বললে, ‘তোমাদের চরিত্রের একটাই দোষ, কোনও কিছু বিশ্বাস করতে চাও না৷ বাঘ মারাটা এমন কিছু কঠিন কাজ নয়৷ যে কলকাতার রাস্তায় গাড়ি চালাতে পারে সে বাঘও মারতে পারে৷ দুটোর জন্যেই প্রয়োজন সাহস আর প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব৷’
—‘শেষের শব্দটা কী বললে! ওটা শুনলেই বাঘ সেনসলেস হয়ে যাবে৷ মুখে বাঘ সব বাঙালিই মারতে পারে৷ সত্যি বাঘ এলে কী হবে, বলা শক্ত৷’
—‘দুঃখ একটাই, সত্যি বাঘের দর্শন মেলে না৷’
বাইরে থকথকে অন্ধকার৷ গাছের পাতায় বাতাসের ঝুপুর-ঝাপুর শব্দ৷ হঠাৎ দূরে খুব একটা হইহই শোনা গেল৷ সঙ্গে টিন, ক্যানেস্তারা পেটানোর শব্দ৷
অমল বললে, ‘আজ মনে হয় টাইব্যালদার কোনও উৎসব আছে৷’
পরিমল বললে, ‘আমার সন্দেহ অন্য, এ তোমার গিয়ে বাঘ তাড়ানোর শব্দ৷’
বিমল বললে, ‘হাতিও হতে পারে৷ বুনো হাতিরা বহুত অত্যাচারী৷’
কথাটা শেষ হয়েছে কী হয়নি, চারজনের মাথার ওপর দিয়ে বিশাল একটা কী জাম্প করে খোলা দরজা দিয়ে সোজা ঘরে৷ সেখানে যা কিছু ছিল সব দুদ্দাড় করে পড়ে গেল৷ বিশ্রী একটা বোটকা গন্ধ৷
চারজনেই একটা কিছু বলার চেষ্টা করছে, ভয়ে বাক্য সরছে না, বা বা বা৷ সত্যিই বাঘ৷ বাঘটা নিজেকে একটু সামলে-সুমলে বেশ রাজকীয় ভঙ্গিতে দরজার সামনে এসে বসল৷ হাঁড়ির মতো গম্ভীর মুখ৷ চোখ দুটো জ্বলছে৷ লেজটা পেছন দিকে অনেক দূর চলে গেছে৷ প্রায় খাট পর্যন্ত৷ বাঘটা যেন পর্যবেক্ষণ করছে৷ চারটের মধ্যে কোনটাকে খাওয়া যায়! অমলই সবচেয়ে লোভনীয়৷ বেশ মোটাসোটা৷ রেওয়াজি শরীর৷ চারজনেই স্থানু হয়ে গেছে৷ শরীর পাথরের মতো ভারী৷ চোখ বুজিয়ে চারজনেই সরু মোটা সুরে মন্ত্রোচ্চারণের মতো বলে চলেছে—বাবা-বাবা৷
লাঠি, সড়কি, বল্লম নিয়ে দলটা বাইরে এসে দাঁড়িয়েছে৷ দৃশ্য দেখে থমকে গেছে৷ বাঘটা যেন টেররিস্ট৷ বাবু চারজন তার হোস্টেজ৷ ভাবটা এই, হয় আমাকে যেতে দাও, নয় তো এই চারটেকে চিবোই৷ দুপক্ষই থমকে আছে৷ কী হয়, কী হয়! বাঘটা একটু এগিয়ে এসে অমলের চেয়ার ঘেঁষে কুকুরের মতো বসল৷
সাহস বটে চম্পার৷ রান্নাঘরে তিন কেজি মাংস মশলা মাখিয়ে রেখেছিল৷ চাঁপ তৈরি করবে বলে৷ সেই থালাটা নিয়ে, একেবারে বাঘের সামনে৷ বাঘটা যেন তার বনবাসী ছেলে,
—‘খোকা! তুই এসেছিস বাবা?’
বাঘটা যেন হাসল৷ খুশিতে লেজ নাড়াতেই ঘরের ভেতরের সেন্টার টেবিলটা দেশলাইয়ের খোলের মতো ছিটকে এধার থেকে ওধারে চলে গেল৷
চম্পা বলছে, ‘ওরে আমার সোনা! কত দিন ভালো-মন্দ খাওয়া হয়নি৷ গোরু, ছাগল, মোষ খেয়ে-খেয়ে অরুচি হয়ে গেছে৷ এই নাও, কাবাব খাও!’
বাঘের সামনে থালাটা রাখতেই সব চেটেপুটে সাফ৷ ঝাল লেগেছে৷
চম্পা বললে, ‘এইবার কি একটু দুদু খাবে! না, মাংসর সঙ্গে দুধ খায় না৷ বদহজম হবে৷ জল খাও৷ বাবুদের জন্য ফোটানো জল আছে ক্লোরিন দেওয়া, সেই জল খাও৷’
গজানন এক গামলা জল নিয়ে এল৷ বাঘ চক-চক করে পুরো জলটা খেয়ে বিশাল একটা হাই তুলল৷ চম্পা বললে, ‘বুঝেছি-বুঝেছি, সোনার আমার ঘুম পেয়েছে৷ আজ আর বনে-জঙ্গলে শুয়ে কাজ নেই, যাও বাবুদের খাটে গিয়ে শুয়ে পড়৷’
বাঘটা কী বুঝল কে জানে, সত্যি-সত্যিই একটা খাটে উঠে শুয়ে পড়ল৷ চম্পা বাইরে থেকে দরজাটা টেনে বন্ধ করে দিল৷ তাকিয়ে দেখল, বাবু চারজন প্রায় অজ্ঞান৷
—‘এই বাবু৷’
ঘড়িতে দম দিলে টিক-টিক শব্দ৷ বাবু চারজন সেইরকম আবার শুরু করল, বাবা-বাবা!
—‘ঘ লাগাও, ঘ৷ বাবা নয়, বাঘ-বাঘ৷’
অমল উঠে দাঁড়াল৷ ট্রাউজারটা ঢিলে হয়ে কোমরের নিচে ঝুলে গেল৷
—‘এ কী, আমার ভুঁড়ি! আমার ভুঁড়িটা কোথায় গেল!’
—‘চুপসে গেছে বাবু!’
—‘এতকাল যোগাসনে যা হয়নি!’
বিমল বললে, ‘রাতে আমরা কোথায় থাকব?’
—‘ভি আই পি এলে সাধারণ মানুষকে বাংলো ছেড়ে দিতে হয়৷ আজ আপনারা জঙ্গলে থাকবেন৷’ গজানন বললে—‘ওই যে কি দেখেন আপনারা সেইসব দেখবেন, নেচার৷’
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন