সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
নাম, নাম, এসে গেছে, এসে গেছে৷’
মাল-পত্তর, বাক্স-প্যাঁটরা নিয়ে দমাস করে প্ল্যাটফর্মে৷ তালগোল পাকানো অবস্থা৷ সেই রকম ঠান্ডা৷ হাড় হিম করা বাতাস আসছে উত্তর থেকে৷ জগাদার বড় বড় চুল বাতাসে কপালের দিকে ঝুলিয়ে দিচ্ছে৷ লম্বা-চওড়া ডাকসাইটে চেহারা৷ জগাদা বললে, ‘পৃথিবীর উত্তর দিকটা যদি না থাকত বেশ হত৷’
‘তা হলে হিমালয়টা যেত কোথায়!’
পরেশ এতক্ষণে একটা কথা বলতে পারল৷ পরেশ এইরকমই৷ কথা ভেতরে অনেকক্ষণ ধরে রেখে তারপর ছাড়ে, সিগারেটের ধোঁয়ার মতো৷
নামা তো হল কিন্তু আমরা যাচ্ছি কোথায়! বেড়াতে এসেছি বললে ঠিক বলা হল না৷ আমরা অদ্ভুত একটা কাজে এসেছি৷ মানুষ গুপ্তধনের সন্ধানে, সোনার খোঁজে কত না কত জায়গায় যায়৷ আমরা এসেছি প্রায় একশো বছর আগের একটা ভিটের খোঁজে৷ দলিল-দস্তাবেজ কিচ্ছু নেই৷ একশো বছর আগের ব্যাপার৷ জগাদার ঠাকুরদা এখানকার একজন নামকরা ডাক্তার ছিলেন৷ সেই ইংরেজ আমলে৷ বিলেত গিয়েছিলেন৷ সায়েবি কেতার মানুষ ছিলেন৷ বাংলো টাইপের বাড়ি৷ মন্দিরে না গিয়ে চার্চে যেতেন৷ সুন্দর দেখতে ছিলেন৷ জগাদা সেই ধাঁচটাই পেয়েছে, তবে খুব ধার্মিক৷ মা কালীর পুজো করে৷ রাত জাগে৷ খুব ভালো গান গায়৷
রাত হয়েছে৷ স্টেশনটা তেমন বড় নয়৷ নির্জন৷ স্টেশন-মাস্টার চা খেতে খেতে একজনের সঙ্গে হাত নেড়ে নেড়ে কিছু একটা বোঝাতে চাইছেন৷ একটা কথাই থেকে থেকে বাইরে আমাদের কানে আসছে—আলবাত, আলবাত৷ জগাদা বললে, ‘এখানে হোটেল আছে রে?’
আমরা কী করে বলব! জগাদা প্রশ্নটা নিজেকেই করেছে৷
দুজন রেলের কর্মচারী আমাদের পাশ দিয়ে মাস্টারের ঘরের দিকে যাচ্ছেন৷ একজন আর একজনকে বলছেন, ‘হতচ্ছাড়া জায়গা৷ এখানে মানুষ থাকে! তিন দিন হয়ে গেল ডাক্তারের পাত্তা নেই৷ কাঁহাতক বই দেখে হোমিওপ্যাথি করি৷’
মাথায় গামছা জড়ানো একজন কিছু দূরে দাঁড়িয়ে৷ জগাদা বললে, ‘চল, জিগ্যেস করি৷ সত্যিই বাজে জায়গা রে৷ এতক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি কেউ গ্রাহ্যই করছে না৷ স্বার্থপরের দেশ৷’
জগাদা খুব সহবত মেনে চলে৷ বনেদি বাড়ির ছেলে৷ গুরুজনের গায়ে পা ঠেকে গেলে প্রণাম করে৷ বড় কেউ ডাকলে ‘আজ্ঞে’ বলে৷ সকালবেলা বাবা আর মাকে প্রণাম করে দিন শুরু করে৷ জগাদা নমস্কার করে কথা শুরু করতে যাচ্ছে৷ লোকটি উত্তেজিত হয়ে বললেন, ‘আমাকে আবার নমস্কার? বাইরের লোক৷ পরদেশী৷ জানে না আমি কে? আমি একটা চোর৷ ভেরি ব্যাডম্যান৷ এই যে দেখছ গামছাটা, এটা ওই স্টেশন-মাস্টারের৷ একটু আগে চুরি করেছি৷ এটা অবশ্য ওর নিজেরও নয়৷ গঙ্গাসাগর থেকে চুরি করে এনেছে৷ লোকটা আমার চেয়েও বদ৷ ওর ভেতরটা কালো কোটের চেয়েও কালো৷ তোমার চেহারা দেখে মনে হচ্ছে ডাকাত৷ ব্যাঙ্ক ডাকাতি করতে জানো? না জানলে শিখিয়ে দেব৷ আমার কাছে একটা ভালো ডিটেকটিভ বই আছে৷ প্রথম পাতাটা ছিঁড়ে গেছে৷ কার লেখা বলতে পারব না৷ অমাবস্যার রাতে আমার বাগান বাড়িতে এলে দেখাতে পারি৷ অমাবস্যর রাতে আমার বাগানে দেশ-বিদেশের ডাকাতরা ভূত হয়ে আসে৷ তোমার ঘড়িটা দেখো তো৷ আজ যদি অমাবস্যা হয় তা হলে রঘু আসবে৷ আমি যখন পল্টনে ছিলুম রঘুর বাপ আমার বাবুর্চি ছিল৷’
জগাদা মহা ফাঁপরে পড়েছে৷ দৌড়ে পালিয়ে এল৷ লোকটি বললেন, ‘নভিস নভিস৷ দৌড়োলেই তো ধরা পড়ে যাবে৷ আমি দৌড়োচ্ছি! কারও বোঝার ক্ষমতা আছে আমি চোর!’ স্টেশনের বাইরে কোনও গাড়ি নেই৷ একপাশে মালবোঝাই একটা ঠেলা নামানো৷ একটা খাবারের দোকান৷ উনুনের আগুন গমগম করছে৷ হিঙের কচুরির গন্ধ আসছে৷ জগাদা বললে, ‘এই গন্ধটা আমাকে পাগল করে দেয়৷ চল, রাতের খাওয়াটা সেরে নিই৷ দোকানটা ভালো৷ ভেতরে অনেকটা জায়গা৷’
পরেশ আবার একটা কথা বললে, ‘বুঝলি! ভেবে দেখলুম লোকটা পাগল৷’
আবার কখন কথা বলবে কে জানে? সব সময় ভাবছে৷ ভেবেই চলেছে৷ কলকাতার বিখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা ‘পত্র ভারতী’র মালিক ত্রিদিববাবু বলেছেন, ‘পরেশ, তোমার মধ্যে একটা প্রকাশ, ভুড়ভুড় করে ভুড়ভুড়ি কাটছে৷ কাগজ পেলেই কলম বাগিয়ে বসে পড়ো৷ চেপে রাখলেই ভুঁড়ি হয়ে যাবে৷ তিন রকম কালি ব্যবহার করবে—কালো, নীল আর লাল৷ মাঝে মাঝে সবুজ, কচি কচি ঘাসের রেখা৷ ছবিও আঁকতে পারো৷ মাঝে মাঝে ‘ননস্টপ’ লিখে যাবে, যেন ‘দুরন্ত এক্সপ্রেস’৷ ননস্টপ৷ হাওড়া টু হরিদ্বার৷ প্রকাশ করল কি করল না—একদম ভাববে না৷ একটা জলের ট্যাঙ্ক কিনে তার মধ্যে ফেলে দেবে৷ এক ট্যাঙ্ক, দু’ট্যাঙ্ক, তিন ট্যাঙ্ক—ট্যাঙ্ক ট্যাঙ্ক লেখা৷ তারপর কোনও একদিন এই সব লেখা কলের জলের মতো হুড়হুড় করে বেরোতে থাকবে— যেমন গোমুখ থেকে নেমে এসেছিলেন গঙ্গা৷ শুধু একটাই সাবধানতা—ওই লেখার ট্যাঙ্ককে কেউ যেন জলের ট্যাঙ্ক ভেবে না বসে৷ স্কাল অ্যান্ড ক্রসবোন এঁকে লিখে দেবে ‘ছুঁইলেই শাস্তি৷’ কিচ্ছু ভেব না৷ শুধু লিখে যাও৷’
ফ্যান্টাসটিক কচুরি৷ গরম গরম৷ ছোলার ডাল যেন কথা বলছে৷ জগাদার চোখ বুজে এসেছে৷ দোকানে মধ্যবয়সি মালিক দিগবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে কচুরি নির্মাণ করে চলেছেন৷ দোকানের সামনের দিকটা কিছু নয়৷ পেছন দিকটাই দিক৷ ওই দিকেই শহর৷ বাড়ি, ঘর, গাড়ি, আরও দোকান, লোকজন৷ খদ্দেররা সব ওই দিক দিয়েই আসছেন৷
স্টেশানের সেই ‘মাথায় গামছা জড়ানো’ ভদ্রলোক দোকানে ঢুকলেন৷ ঢুকেই বললেন, ‘সাবধান, সাবধান! আজ একটা বড় ডাকাতি হবে৷ দেখে এলুম ট্রেন থেকে নামল রঘু ডাকাতের নাতি৷ সঙ্গে রামদা, কাটারি, কুড়ুল৷ সাবধান, সাবধান! আমি দস্যু রত্নাকরকে খবর দিতে চললুম৷’
দোকানের মালিক আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘ইস! এত বড় একজন লেখক ডিটেকটিভ উপন্যাস লিখতে গিয়ে পাগল হয়ে গেল৷ এমন একটা জায়গায় আটকে গেল—ডিজেল মোবিলেও খুলল না৷ এ তো আর পেট আটকানো নয় যে কচুরি দিয়ে খুলে দেব৷ আমার কচুরি ডাক্তাররা প্রেসক্রিপশনে লেখেন৷ জোলাপও হার মানে৷’
জগাদা ঘাবড়েছে৷ ভদ্রলোককে জিগ্যেস করল, ‘কোথায় থাকা যায়?’
‘আমার মাথায়!’
‘রাগবেন না৷’
‘হুঁ, ধরতে পারলেন না৷ দোতলায় ব্যবস্থা আছে৷ ‘পান্থপাদপ৷’
ভদ্রলোক হাঁক পাড়লেন, ‘খোকা৷’
একজন প্রবীণ মানুষ সামনে এসে দাঁড়ালেন৷
‘এঁদের তুলে দাও৷ রাতের আহার?’
‘দরকার হবে?’
‘অবশ্যই৷ কচুরিতে হিং দেওয়া আছে৷ ঘণ্টাখানেক৷ তারপর?’
‘আপনি যা দেবেন৷’
খোকাবাবু আমাদের মালপত্তর নিয়ে উঠতে চাইছিলেন৷ আমরা জগাদার চেলা৷ হই হই করে নিরস্ত করা হল৷ নিজের কাজ নিজে করবে৷ আমাদের প্রত্যেকের কাছে একটা করে কাগজ আছে নির্দেশাবলী ঃ
১. ভোরবেলা শয্যা ত্যাগ
৩. স্নান
৪. যোগাসন
৫. আয়নায় মুখ দেখবে না
৬. কাঠের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়াবে
৭. পিতা-মাতাকে প্রণাম
৮. পাখিদের খাবার দেওয়া
৯. বৃক্ষ বন্দনা
১০. রাগ হলে দেওয়ালের দিকে মুখ করে বসে পড়বে৷
মোট কুড়িটা৷
ঘরটা বেশ ভালো৷ দুপাশে দুটো বারান্দা৷ একটায় দাঁড়ালে স্টেশন, রেললাইন, সিগন্যাল সব দেখা যায়৷ আর একটায় দাঁড়ালে সুন্দর একটা গির্জা, বাগান, আলো-ছায়া ঘেরা পথ, যেন স্বপ্ন৷ বিশাল একটা আলোকিত ঘড়ি৷
খোকাদা বললেন, ‘ঘরটার সব কিছু ভালো কেবল দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ করা যাবে না৷ ভেঙে গেছে৷ সারানো হয়নি৷’
জগাদা বললে, ‘দরজা না দিলে কোনও ভয় আছে?’
‘না, ভয় আর কি? ওই সিঁড়িটা একেবারে রাস্তা থেকে উঠেছে তো৷ যে কেউ যে-কোনও সময় বারান্দায় উঠে আসতে পারে৷ ডাকাতিটা তো কমছে না৷ আমরা যখন ডাকাতি করেছি তখন এক রকম৷ আমাদের একটা ডাঁট ছিল৷ বড়লোকের বাড়ি, বিয়ে বাড়ি৷ একটা মান-ইজ্জত ছিল৷’
‘আপনি ডাকাতি করেছেন?’
‘আমরা তিন পুরুষে ডাকাত৷ আমার পিতার পিতা তস্য পিতা শ্রদ্ধেয় ভুবন সামন্ত মোহর ছাড়া কিছু ছুঁতেন না৷ রাজা মান সিংহ রাজস্থান থেকে আতর পাঠাতেন৷ নবাব আলিবর্দির সঙ্গে দাবা খেলতেন৷ দুধে-আলতা গায়ের রং৷ টানাটানা চোখ৷ ভোলা ময়রার সন্দেশ খেতেন৷ অ্যান্টনি ফিরিঙ্গিকে ঘোড়ায় চড়া শিখিয়েছিলেন৷ পরম বৈষ্ণব৷ ডাকাতি করতে গিয়ে কীর্তন গাইতেন৷ আর সবাই যার যা গয়নাগাঁটি আছে সব সাদা একটা চাদরের ওপর সাজিয়ে রাখত৷ সেই কীর্তন এমন কীর্তন, সবাই হাউ হাউ করে কাঁদত৷ বিষয়-টিষয় ভুলে যেত৷ এক জমিদার তাঁকে গুরু করে তিন-খানা গ্রাম দান করে দিল৷ আমি সেই বংশের ছেলে৷ আমার যা বুদ্ধি ছিল আমি জজ সাহেব হতে পারতুম৷ কিন্তু কী করব আমাদের ডাকাত ঘরানা৷ তিনি ভাগ্য গণনা করতে পারতেন৷ যা বলতেন তাই মিলে যেত৷ ক্লাইভকে বলেছিলেন তোমাকে আত্মহত্যা করতে হবে৷ তাই হল৷’
‘তা ডাকাতি ছাড়লেন কেন৷’
‘হাঁপানি হল৷ তখন এই মিশিরজির কাছে এলুম৷ মিথিলার বিখ্যাত কবিরাজ৷ গুণী মানুষ৷ সাচ্চা মানুষ৷ আমাকে বললেন, ডাকাতি ছাড় তবে ওষুধ পাবি৷ লোকটাকে ভালো লেগে গেল৷ দলে ভিড়ে গেলুম৷ এই যে দোকানটা দেখছেন এর সব কিছু ‘হার্ব্যাল’৷ কচুরি ফর কনস্টিপেশন৷ গরম জিলিপিতে বুদ্ধি বাড়বে, ছোলার ডালে শক্তি, ঘুমপাড়ানি রসগোল্লা, রাগ কমানো সন্দেশ, বিলকুল হার্ব্যাল৷ পাঁচটার পর কালো কোট পরা উকিলরা প্যাঁচালো বুদ্ধি বাড়াবার জন্যে গরম জিলিপি খেতে আসে৷ গপাগপ দশটা-বারোটা৷ একটা স্পেশ্যাল ছানার জিলিপি তৈরি হয়—ছানার নামগন্ধ নেই৷ কচুরিপানা দিয়ে তৈরি৷ রোজ দুটো করে খেলে থাইরয়েড ভালো থাকবে৷ ধুমসো মোটারা দেখতে দেখতে কঙ্কাল৷’
যত রাত বাড়ছে তত শীত৷ খোকাদা বললেন, ‘রাতে দরজার কাছে ওই গোদা চেয়ারটা ঠেকিয়ে দেবেন৷ উত্তরে বাতাস ছেড়েছে৷ ঘুমোতে পারবেন না৷ স্পেশাল হার্ব্যাল প্যাঁড়া আছে, দুটো এক সঙ্গে জোড়া৷ সবাই বলে নন্দী-ভৃঙ্গী৷ এক জোড়া খেলে এই শীতেও গলগল করে ঘাম বেরোবে৷’
সামনেই বড় দিন৷ চার্চটাকে আলোর মালায় সাজিয়েছে৷ গাছের পাতার আড়ালে আড়ালে আলোর চুমকি৷ স্বপ্নের রাত৷ ওদিকটায় ছায়া ছায়া মানুষের জটলা৷ অরগ্যানের সুর৷ সমবেত কণ্ঠে ‘ক্যারল’ গাইছে৷
জগাদা বললে, ‘চল, জগিং করে আসি৷ শীত কমবে৷ এখানে ঘটের মতো বসে থেকে কী হবে! জায়গাটাকে দেখা হবে৷’
‘ওয়ান-টু-থ্রি—স্টার্ট জগিং৷ মনে মনে কী বলতে হবে মনে আছে?
‘মাম্ মা, মা, মা, মাম্ মা, মা, মা৷’
মাথায় গামছার ফেট্টি বাঁধা সেই লোকটি অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এলেন৷
গায়ে চট জড়ানো৷ এতক্ষণে শীত ধরেছে৷ কিছুটা স্বাভাবিক৷ জিগ্যেস করলেন,
‘তোমরা কী জন্যে এসেছ? দেখে তো মনে হচ্ছে ভদ্রঘরের ছেলে৷’
জগাদা বললে, ‘আপনি কে?’
‘মাই নেম ইজ স্যামুয়েল বাটলার, সান অফ সখারাম৷ মাই গ্রেট গ্র্যান্ডাফাদারস নেম কালাচাঁদ কার ফরমা, এল এম এফ কম্পাউন্ডার অফ এ গ্রেট ডকটর ভৈরব ভট্চাজ৷ ওই দেখো, আলোর মালা দুলিয়ে কেমন দাঁড়িয়ে আছেন ডকটর বি বি৷ ওই জায়গায় ছিল ডাক্তার সায়েবের গ্রেট বাংলো৷ মাই ফাদার টোলড মি দি স্টোরি৷ বাংলো ওয়াজ লুটেড বাই দি ডেকয়েটস, অ্যান্ড দেন জেসাস খ্রাইস্ট অ্যাপিয়ারড৷ লুক, লুক, স্টারস অফ বেথলেহেম, সিঙ্গ সিঙ্গ, ড্যানস ড্যানস৷’ পাগলের নাচ৷
আর তক্ষুনি চার্চের গেট দিয়ে বেরিয়ে এল ক্যারল গানের দল৷ সাদা আলখাল্লা পরা ফাদাররা, নীল পোশাক পরা নান, একদল বড়, ছোট বাচ্চার দল৷ ফাদারের হাতে সোনার ক্রস৷ ফাদারের চওড়া সাদা বুকে দুলছে সোনার ক্রস৷ অপূর্ব সুর ও সঙ্গীত৷ আর মাত্র কয়েকঘণ্টা—রাত বারোটা—২৫ ডিসেম্বর, আকাশে একটি অচেনা তারা, পৃথিবীতে এক নতুন শিশু—জিসাস, জিসাস৷ সেই দল আমাদেরও টেনে নিল অদৃশ্য হাত বাড়িয়ে চলেছি, চলেছি৷ কাচের আধারে মোমবাতি৷
জগাদা একটু জোর গলাতেই বললে, ‘ডক্টর বি বি! ইও আর স্টিল অ্যালিভ৷ লুক অ্যাট ইওর গ্রেট গ্রেট গ্র্যান্ড সান৷
ফাদার ক্রশটা ওপর দিকে তুললেন৷ চতুর্দিকে শব্দ চিংলিং চিংলিং৷
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন