সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
আমি আর শঙ্কর হস্টেলে একই ঘরে দুজনে থাকতাম। দোতলায় লম্বাটে একটি ঘর। মাঝারি মাপ। ঝকঝকে লাল মেঝে। বড় বড় চারটে জানলা। দুপাশে দুটো তক্তপোশ। সামান্য বিছানা। দুটো টেবিল, দুটো হাতল ছাড়া চেয়ার। জামা-প্যান্ট ইত্যাদি রাখার জন্যে দুটো আলনা। দেওয়ালে দুটো বুক শেল্ফ। দুর্দান্ত ব্যবস্থা। নিজেদের বাড়ির চেয়েও যেন সুন্দর।
হস্টেলের সুপার কুসুমদি। ‘দিদি’ বলার মতোই তাঁর চেহারা। টকটকে ফর্সা। বাঁশির মতো নাক। টানা টানা দুটো আলো ভর্তি চোখ। মাথায় কালো চুলের ঢেউ। এতটাই পরিচ্ছন্ন যে পরিচ্ছন্নতাই হার মেনে যাবে। পৃথিবীর সমস্ত স্নেহ তাঁর স্নেহের কাছে পরাস্ত। খুব এলোমেলো স্বভাবের ছেলেও তাঁর কাছে কিছুদিন থাকলে, তার স্বভাব পাল্টে যাবে। তখন তার অস্বস্তি হবে বিছানার চাদরটা কেন কুঁচকে-মুচকে আছে। মাথার বালিশটা কেন ঠিক জায়গায় নেই? শেলফে, টেবিলে বইগুলো কেন সাজানো নেই? খোলা বই কেন উপুড় করে রেখেছ? খোলা খাতার পাতা বাতাসে ফড়ফড় করে উড়ছে কেন? আলনায় জামা-প্যান্ট ভাঁজ ভাঁজ করে কেন রাখোনি!
মশারি খুলে পাট করে রাখতে হবে। ঘর পরিষ্কার করতে হবে। মাসে একবার ঝুল ঝাড়া। নিজেদের জামাকাপড় কাচা। এক মাসের মধ্যে আমাদের সব আলসেমি কেটে গেল।
জমিদার প্রসন্নকুমার রায়, একেবারে অন্যরকমের জমিদার ছিলেন। লেখাপড়া জানা পণ্ডিত মানুষ। নবদ্বীপে তাঁর জমিদারি ছিল। ধার্মিক মানুষ। প্রাসাদের মতো তাঁর বাড়িতে এই স্কুল। তাঁর অতিথি ভবন এখন আমাদের হস্টেল। আর এই কুসুমদি তাঁর একমাত্র নাতনি।
প্রসন্নকুমার চাইতেন—দেশের মানুষ লেখাপড়া শিখুক, শরীর গঠন করুক, চরিত্র তৈরি করুক। সভ্য মানুষ হোক। কোনো রকমে তালগোল পাকিয়ে বাঁচা নয়। প্রত্যেকটা বাড়ি হয়ে উঠুক পরিচ্ছন্ন এক একটা মন্দির। ছবির মতো এক একটি গ্রাম। স্বপ্ন।
কুসুমদিদিকে শঙ্করের খুব ভালো লেগেছিল। আমাকে বলত, ‘বুঝলি ভবা, কুসুমদি একই সঙ্গে জ্যান্ত সরস্বতী, জ্যান্ত লক্ষ্মী। পা-দুটো দেখেছিস, অমন পা মানুষের হয় না—যেন পদ্মফুল।
শঙ্কর একেবারে অন্য রকমের একটা ছেলে। সে যেন আমার গুরু। যা বলে, আমি বিশ্বাস করি। বিছানায় চিৎ হয়ে শোয়। মাথায় বালিশ নেয় না, একবারও পাশ ফেরে না। বলে—শবাসন। এক ঘুমে রাত কাবার।
প্রথম পাখি ডাকল, শঙ্কর উঠে বসল। আর তার একটু পরেই কুসুমদির ঘুম ভাঙানি ঘণ্টা! তার একটু পরেই পাখিদের কোরাস। কত রকমের পাখি, ডাকাডাকি, হাঁকাহাঁকি। দিন এসেছে দিন, মাত্র ঘণ্টা বারো সময়। কত দিকে, কত দূরে উড়ে উড়ে যেতে হবে।
আমাদের স্কুলবাড়ির পেছনের বাগানে বিশাল একটা শিমূল গাছ ছিল। সে নাকি তিনশো বছরের প্রাচীন। সবাই বলত—রাজা। সেই গাছের মাথায় দুধ সাদা বকের বাসা। সারা রাত বকের বাচ্চারা চিঁ-চিঁ করে কাঁদত। তাদের মায়েদের ঘুমোতে দিত না—এত খিদে। ভোর হতে না হতেই মায়েরা উড়ে যেত দূরের একটা নদী থেকে মাছ ধরে আনতে।
ছোট্ট একটা নদী। কোথা থেকে আসছে কে জানে! নদীটার নাম ভৈরবী। কখনো অনেক জল, কখনো অল্প জল। এখানকার মানুষের সঙ্গে নদীটা যেন খেলা করে। নদীর ওপারে ছোট একটা সবুজ গ্রাম। সেখানে খুব নাম সংকীর্তন হয়। মাঝে মাঝে ভোরবেলা সানাই বাজে। সেখানে মজার মজার কত কাণ্ড। গাছের সঙ্গে গাছের বিয়ে। বকুলের সঙ্গে সজনের, চাঁপার সঙ্গে কল্কের। সেই গ্রামে এক রাজা আর রানি ছিল। বটগাছের তলায় মস্ত এক পাথর, সেইটাই রাজার সিংহাসন।
শঙ্করের ভীষণ ভাবনা, বকেদের মায়েরা রাতে ঘুমোতে পারে না। এক ঝুড়ি মাছ রাখলে কেমন হয়। আমাদের ম্যানেজার হরিদা বললেন, ‘তুমি চিন্তা কোরো না। ওরা সারারাত ওইভাবেই ঘাড় গুঁজে দিব্যি ঘুমোয়, আর ভোর হলেই পোঁ করে উড়ে গিয়ে ছোঁ মেরে মাছ ধরে এনে ছেলে-মেয়েদের খাওয়ায়। তুমি ভেবো না শঙ্কর। ভগবানের চমৎকার ব্যবস্থা। যত গোলমাল এই মানুষদের নিয়ে। এটা পড়ো, ওটা পড়ো, এটা শেখো, ওটা শেখো। যা কিছু দরকার পয়সা দিয়ে কিনতে হবে। পয়সা আবার আসবে কোথা থেকে? রোজগার করতে হবে। সে আবার কত কি—মাথায় বিদ্যেবুদ্ধি থাকলে চেয়ার-টেবিলে বসে বুদ্ধি হাঁকাও, না থাকলে মাথায় মোট চাপাও। কেউ বাবু, কেউ নোকর। কেউ চাপবে গাড়ি, কেউ টানবে গাড়ি? কেউ থালা বাটি সাজিয়ে খাবে, কেউ মাজবে বাসন। কেউ টিপবে পা, কেউ মাখাবে তেল। আরে ভাই, বাজাও তালি। বোলো রাম, রাম। হরিদার কাছে পৃথিবীটা খুব সহজ। তেড়ে খাটো, পেট ঠুসে খাও, ভোঁস ভোঁস ঘুমোও। ভগবানের পৃথিবী। যেমন চালাবেন, সেই রকম চলবে? পরের ব্যাপারে নাক গলাবার দরকার কি?
শঙ্কর সকলের সব কথা শোনে। কখনো গম্ভীর, কখনো মুচকি হাসি। ওকে বোঝা খুব শক্ত। মাঝে মাঝে বলে, ‘যাই একটু বেড়িয়ে আসি।’
যায় না কোথাও। জানালার সামনে চেয়ারটা টেনে নিয়ে চোখ বুজিয়ে বসে থাকবে বেশ কিছুক্ষণ। তারপর এক সময় চোখ খুলে হয়তো বলবে, ‘আজ শ্রীনগরে খুব বরফ পড়েছে, ডাল লেকটা জমে গেছে।’
রোজ ভোরবেলা একটা ছড়ি হাতে ছাদে উঠে ছড়িটা আকাশের দিকে তুলে নানারকম আঁকিবুঁকি কাটতে থাকে? ‘কী করছিস?’ ‘আকাশের পটে ছবি আঁকছি। রাতে স্বপ্ন হয়ে ফিরে আসবে। ভালো ভালো স্বপ্ন।’
কুসুমদি শঙ্করকে খুব পছন্দ করেন। না, আমার তাতে হিংসে হয় না। আমি জানি, আমি একটা ক্যাবলা। দুর্বল, ভীতু! বেশ বোকা। প্রচুর পড়ি, মনে থাকে না। শঙ্কর যেন ঝকঝকে একটা ছুরি। আমি মরচে ধরা।
সেদিন ন্যাকা ন্যাকা গলায় শঙ্করকে এই সব বলছিলুম। সপাটে এক চড়, ‘পৃথিবীতে ইয়ার্কি মারতে এসেছিস? নাকে কাঁদতে? তোর বাপের কত পয়সা আছে, আদুরে গোপালকে বসে বসে খাওয়াবেন। ভগবান কি তোর মামা? এটা কি তোর মামার বাড়ি!’
শঙ্করের সে কী মূর্তি! আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলুম। একেবারে অচেনা একজন কেউ। কিছুক্ষণ পরে আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না জড়ানো গলা বলেছিল, ‘হেরে যাস না কুন্তল, হেরে যাস না। তরোয়ালটা কাছে রাখ, খোলা রাখ। বুকটাকে চওড়া রাখ, মুঠোটা শক্ত। আমার বাবা...’
শঙ্করের গলা ধরে এল। কথা আটকে গেল৷ নিজেকে সামলে নিয়ে বললে, ‘বাবা আমাকে এই সব কথা বলে গেছেন। শঙ্কর মনে রেখেছে। শঙ্কর করে দেখাবে, শঙ্কর হয়ে দেখাবে।’
শঙ্কর সেই দৃশ্যটা ভুলতে পারে না। রান্নাঘরে আগুন লেগে গেছে। গ্যাসের সিলিন্ডার ফেটে। সেদিন ছিল রবিবার। রবিবার আনন্দের বার। বাবার ছুটি। কাছাকাছি কোথাও বেড়াতে যাওয়া অবশ্যই হবে। শঙ্কর দেখছে, রান্নাঘরে দাউ দাউ আগুন, বাবা মাকে জড়িয়ে ধরে আছেন, কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। পায়ের দিক থেকে আগুন শরীরে বেড় দিয়ে ওপর দিকে উঠছে। মায়ের অনেক চুল ছিল। পিঠ ছাপিয়ে ঢেউয়ের মতো কোমর ছাপিয়ে চলে যেত নীচের দিকে। পোড়া চুল জ্বলন্ত গ্রাসের টুকরোর মতো গরম বাতাসে নেচে নেচে উড়ছে। মৃত্যুর স্বরলিপি। আলোর পটে কালো অক্ষর।
দেখতে দেখতে দুজনেই, পোড়া কাঠের মতো হয়ে গেলেন। সুন্দর, সুন্দর দুটো মুখ হয়ে গেল কয়লা রঙের মুখোশ। দু-জোড়া চোখ আগুনের হলহলে কুণ্ডে ভেসে বেড়াচ্ছে।
শঙ্করকে মহাযোগী স্বামী সত্যানন্দ ভীষণ ভালোবাসেন। বলেন, ‘ছেলেটা বৈশ্বানরকে জেনেছে। মহতী হোমে জনক-জননীকে উৎসর্গ করেছে। আমি ওকে নিত্য হোমের দীক্ষা দিলাম। ঋষিপুত্রের মতো ও সাগ্নিক হল। শঙ্কর রোজ ভোরবেলা হস্টেলের ছাতের এক নির্জন জায়গায় হোমকুণ্ডে হোম করে। আমি সামনে বসে থাকি। আবাহনের মন্ত্রটি ভারি সুন্দর,
ওঁ অগ্নিং প্রজ্জ্বলিতং বন্দে।
জাতবেদং হুতাশনম্
সুবর্ণবর্ণমমলং সামর্দ্ধং বিশ্বতোমুখম্।
ভোরের আকাশ, আগুনের শিখা। শঙ্কর বলত, সপ্ত জিহ্বা, সাতটি আগুনের জিভ, মা কালী। আহুতির পর বিসর্জন। বেলকাঠ। পুড়ে ছাই হল, কিছু ঝলসে কালো। সেই কালো পোড়া কাঠের দিকে স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকত। প্রথম সূর্যের নরম আলো, চারপাশের গাছ সেই আলোয় আকাশের নীল মেখে স্নান করছে? এক সঙ্গে অনেক পাখি দিনের দেবালয়ে সমস্বরে বন্দনা গাইছে। কিছু দূরে হংসেশ্বরী মন্দিরে সকালের আরতির বাদ্য বাজনা। সেই সময় মনে হতো, পৃথিবীতে আছি, না স্বর্গে!
শঙ্কর ছিল খুব ফর্সা, ভীষণ সুন্দর! মুখ-চোখ অদ্ভুত একটা আলোয় ভাসছে। মাথাভর্তি কালো রেশমের মতো চুল। লম্বা লম্বা দুটো হাত। দেবতাদের মতো দুটো চোখ। কোনো কোনো দেবতার আশীর্বাদে এমন সুন্দর হয়! ওর পাশে দাঁড়াতে আমার লজ্জা করত। বিশ্রী একটা মানুষ, জল না পাওয়া শুকনো একটা গাছের মতো? শঙ্কর জন্মেছে দেবতার অংশে, আমি একটা প্রেত।
কী আর করা যায়। আমি তো, আমি তো আর আমাকে তৈরি করিনি! কুসুমদি কেন, শঙ্করকে যে দেখবে সে-ই পছন্দ করবে। সকলের মাঝখানে ও যখন দাঁড়ায় কেউ চোখ ফেরাতে পারে না। ওকে যত দেখি, নিজের ওপর নিজের ঘৃণা ততই বাড়তে থাকে। বিশ্রী, বিশ্রী, বিশ্রী, একটা যাচ্ছেতাই। শঙ্কর বুঝতে পারত, আমি ক্রমশই তার থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। পাশাপাশি থাকলেও অনেক দূরে। আমার মনে বিষ ঢুকেছে।
আমাদের হস্টেল থেকে মাইল খানেক দূরে ভৈরবী নদী, যেখানে উত্তরে বাঁক নিয়েছে। পরপর তিনটে কদম গাছে প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে। সেখানে একটা চালাঘর। সেই ঘরের ভেতর একটা মাটির ঢিবি। সবাই বলে, ‘সতীমার ঢিবি’। ভেতরে আছে সতীমার দেহ।
বছরে একবার কালীপূজার মাঝরাতে সেই দেহ বাইরে বেরিয়ে আসে। সাহস করে যে যা চায় তাকে তাই দিয়ে থাকেন। একটা খ্যাপাটে লোক সারা বছর এই সব সামলায়। তার একটা লজঝড়ে ভ্যান গাড়ি আছে। সেই গাড়িতে করে মৃতদের শ্মশানে নিয়ে যায়। গাড়িটাকে সে বলে স্বর্গের রথ। শঙ্করের ধারণা, ওই জায়গাটায় গভীর কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে। খ্যাপার ওটা ছদ্মবেশ। সতী মায়ের আসল পরিচয় কী!
শঙ্করের সঙ্গে সতীমার ঢিবিতে এসেছি। খ্যাপা তার ভ্যানের ওপর একটা চট বিছিয়ে শুয়ে আছে, মসৃণ একটা তেঁতুল গাছের ছায়ায়। ভ্যানের তলায় কুণ্ডলী পাকিয়ে শুয়ে আছে একটা সাপ।
আমার ভয়। আমার মতো ভিতু দুনিয়ায় আর কে আছে! শঙ্কর বললে, ‘কীসের ভয়! ও একটু আগে একটা ব্যাং গিলে ঘুমোচ্ছে। খ্যাপার অনেক সাপ আছে। খ্যাপা কে জানিস?’
‘কী করে জানব?’
‘খ্যাপা স্বয়ং মহাদেব।’
‘কী বলছিস?’
‘ঠিক বলছি। আমি দেখে ফেলেছি। এইবার চল, ঘরে ঢোক, তোকে একটা অদ্ভুত ব্যাপার দেখাবো।’
শঙ্করের বাবা আগুন লাগার আগের দিন একটা দামি পকেট ঘড়ি কিনেছিলেন। সেই ঘড়িটা শঙ্করের কাছে রয়েছে। পিতার স্মৃতি। পকেট থেকে ঘড়িটা বের করে সেই ঢিবিটায় রাখতেই ঘড়িটা বন্ধ হয়ে গেল।
আমি বললুম, ‘দম নেই।’
‘এই দ্যাখ, ঘড়িটা ঢিবি থেকে তুলে নিতেই চলতে শুরু করল? শঙ্কর বললে, ‘কী বুঝলি?’
‘বুঝতে পারছি না।’
শঙ্কর বললে, ‘এই জায়গাটুকু সময়ের বাইরে। যদি সাহস করে উঠে বসিস তোর হার্ট বন্ধ হয়ে যাবে। ডাক্তার দেখে বলবেন, তুই মরে গেছিস। এই ঢিবির তালায় সতীমা আছেন, ঠিক যেভাবে রাখা হয়েছিল, সেই ভাবেই আছেন, যেন ঘুমোচ্ছেন।’
‘যদি বের করে আনা হয়?’
‘হয়তো উঠে বসবেন, কথা কইবেন। কিন্তু সে সাহস কার আছে?’
‘কেন? ওই খ্যাপার!’
‘কে জানে, ও কী করে, না করে! আপনি একদিন গভীর রাতে লুকিয়ে লুকিয়ে এখানে এসেছিলুম, দেখি ত্রিশূল হাতে মহাদেব বসে আছেন ঢিবির ওপর, সারা ঘরে কিলবিল করছে বড়, ছোট এক গাদা সাপ! খ্যাপার দেখা কোথাও পেলুম না। আমার কানে খিল খিল হাসির শব্দ। কে যেন বলতে লাগল, ‘বাঁচতে যদি চাস, তা হলে তুই এখুনি এখানে মরে যা। ওই খ্যাপার গাড়িটায় গিয়ে শুয়ে পড়। কে যেন আমাকে ঝড়ের বাতাসের বেগে ঠেলছিল। তুলে নিয়ে যেতে চাইছিল। শঙ্কর ভয় কাকে বলে জানে না। সেদিন ভয় পেয়েছিল। মরে যাওয়ার ভয়, শব হয়ে যাওয়ার ভয়। খ্যাপা, অমাবস্যার রাতে শব সাধনা করে। সে নিজে শব হয়ে যায়, বুকের ওপর মা কালী।’
‘তুই রক্ষা পেলি কী করে?’
দুটো প্রদীপের শিখা অন্ধকারে ভাসতে ভাসতে এল আমার সামনে। চারপাশে জ্বলে উঠল আগুন। সেই রান্নাঘরের আগুন। কালো পোড়া দুটি মূর্তি। আমার বাবা, চোখে সোনার ফ্রেমের চশমা, মায়ের মাথায় আগুনের চুল, পোড়া কপালে সোনার টিপ। অদ্ভুত সেই আগুন। কোনো উত্তাপ নেই, যেন একটা বেড়া, বাতাসের ঝটকা৷ আমি জ্ঞান হারিয়ে এই ঢিবিটার ওপর মুখ থুবড়ে পড়ে গেলুম।’
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন