সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
সুব্রতবাবু সাহেব ছিলেন৷ এখনো তাই আছেন৷ এক সময় বনিবিভাগে বড় চাকরি করতেন৷ এখন একটা বিশাল অ্যালসেশিয়ান কুকুর নিয়ে রিটায়ার করেছেন৷ আমাদের পাড়াতেই তাঁর ছোটমতো হলদে রঙের সেই বাড়ি৷ বারান্দায় কুকুরটাকে নিয়ে প্রায় সারাদিনই একভাবে বসে থাকেন৷ কখনো তাঁকে ধুতি পরতে দেখিনি৷ বেশির ভাগই খাঁকি হাফপ্যান্ট আর গেঞ্জির কাপড়ের বুকখোলা এক ধরনের জামা পরে থাকেন৷ বুকে চুল৷ তার ওপর সোনালি রঙের ছোট্ট ক্রশ ঝোলে৷ সুব্রতবাবু কিন্তু খ্রিস্টান নন৷ তাঁর বাবা ব্রাহ্মণ ছিলেন৷ তাঁর ছেলে ব্রাহ্মণ, সুব্রতবাবুর গলায় কিন্তু পৈতে নাই৷ সারা জীবন জঙ্গলে ঘুরে সব কুসংস্কার নাকি কেটে গেছে!
পায়ে হাওয়াই চটি, মুখে একটা পাইপ৷ সেটা কখনও ধোঁয়া ছাড়ে৷ কখনও নিভে থাকে৷ কোলে থাকে একটা ইংরেজি ম্যাগাজিন৷ বইটা পড়েন বলে মনে হয় না৷ কারণ তাঁর বিশাল ভুঁড়িটা সেই ম্যাগাজিন ঢেকে রাখে৷ লেখাটেখা কিছুই দেখা যায় না৷ কোলের ওপর ম্যাগাজিন৷ ম্যাগাজিনের ওপর ভুঁড়ি৷ তার ওপর আফ্রিকার জঙ্গলে ঢাকা থলথলে একটা বুক৷ সেই বুকের ওপর যিশুখ্রিস্ট৷ তার ওপর তিন থাক ঘাড়৷ ঘাড়ের ওপর বুল ডগের মতো ভীষণ একটা মুখ৷ সেই মুখে মোটা একটা পাইপ৷ চোখে এই পুরু ফ্রেমের একটা চশমা৷
সুব্রতবাবু পাড়ায় কারুর সঙ্গে মেশেন না৷ বলেন, আমার স্ট্যান্ডার্ডের লোক কোথায়! প্রতিবেশীরা বলেন, তা ঠিক? এটা তো জঙ্গল নয়৷ জঙ্গলী মানুষ ছাড়া ও জিনিস মিশবে কার সঙ্গে৷ সুব্রতবাবুর আসল নাম চাপা পড়ে গেছে৷ সকলে তাঁকে জাঁদরেল বলে উল্লেখ করেন৷ জাঁদরেলের বাড়ি, জাঁদরেলের কুকুর, ছেলে, মেয়ে ও স্ত্রী৷
সুব্রতবাবুর কুকুরের নাম অ্যালবার্ট৷ এই অ্যালবার্টের জ্বালায় সকালে আমরা কেউ ঘুমোতে পারি না৷ ভোরের ঘুমটা কত মিষ্টি৷ পাশবালিশ বুকে জড়িয়ে ধরে ফিকে অন্ধকারে একবার চোখ মেলেই কি ভালো লাগে আর একবার ঘুমিয়ে পড়তে! দিনের প্রথম পাখিটি তখন হয়তো সবে ডাকতে শুরু করেছে৷ সেই সুখের ঘুমটা আমাদের গেছে৷ সুব্রতবাবু আর তাঁর কুকুর অ্যালবার্ট সেই কাকভোরে আমাদের বাড়ির সামনের রাস্তায় প্রাতভ্রমণে বেরোন! সে কী এলাহি ব্যাপার!
জাঁদরেল সাহেবের হাতে কালো লিকলিকে ছড়ি৷ হাফপ্যান্ট, ফুল মোজা, হান্টার বুট পরে, মুখে পাইপ লাগিয়ে সুব্রতবাবু, সামনে অ্যালবার্ট৷ জিভটা ঝুলছে হ্যা—হ্যা করে৷ পেছন পেছন আসছে গোটা কতক নেড়িকুকুর৷ দূর থেকেই তাদের ঘেউ ঘেউ৷ কাছে যাবার সাহস নেই৷ অ্যালবার্ট থামে তো তারাও থামে৷ অ্যালবার্ট চলে তো তারাও চলে৷
প্রথমে বাড়ি থেকে বেরিয়েই অ্যালবার্টের প্রাতঃকৃত্য৷ বিলিতি কুকুর আবার বাংলা বোঝে না৷ প্রথম ল্যাম্পপোস্টে সে মূত্র ত্যাগ করবে৷ এই কাজটি সহজে করবে না৷ পাড়ার অর্ধেক মানুষের ঘুম ভাঙিয়ে তবে কাজটি সমাধা করবে৷ সুব্রতবাবু সামনে চিৎকার করবেন, পিস্ পিস্৷ কুকুরের গলা আর মালিকের গলা প্রায় সমান৷ কুকুরের গলার তবু একটা বিউটি আছে, মালিকের গলা যখন চড়ার দিতে ওঠে ভেঙে আটখণ্ড হয়ে যায়৷ বেশি চিৎকার আবার সহ্য হয় না৷ পিস্, পিস্, বারকতক পিস্, পিস করেই দমকা কাশতে থাকেন৷ সাংঘাতিক বুনো কাশি৷ চলেছে তো চলেছে, থামতে আর চায় না৷
দাদা আর আমি এক বিছানায় ঘুমোই৷ দাদা একটু বেশি রাত পর্যন্ত পড়াশোনা করে৷ দাদা বিছানায় উঠে বসে বলল—এ হল বনবিভাগের কাশি, এ জিনিস কি শহরে, লোকালয়ে সহ্য হয়৷ লোকটাকে নিয়ে কী করা যায় বল তো!
—পিস্ মানে কী দাদা?
—পিস্ আর হিস্ এক মানে৷ কুকুরকে ইংরেজি কায়দায় হিসি করানো হচ্ছে৷
কাশার সময় মালিকের মুখ দিয়ে পিস্ পিস্ বেরোয় না৷ অ্যালবার্ট সেই সময়টায় ল্যাম্প পোস্টটাকে খুব ভালো করে শুঁকতে থাকে—ফোঁস, ফোঁস, ফিস৷ তারপর যদি দয়া হয় একটা পা তুলে একটু জল বিয়োগ করে মালিকের দিকে তাকিয়ে ন্যাজ নাড়তে থাকে৷ জাঁদরেল সাহেব তখন বলেন—ভেরি গুড৷ এর পরই শুরু হবে বল খেলা৷ প্যান্টের পকেট থেকে একটা কাঠের বল বেরোবে৷ সামনের বেওয়ারিশ মাঠে সেই বল, কুকুর আর কুকুরের মালিক একেবারে দক্ষযজ্ঞ কাণ্ড৷ বলটাকে দূরে ছুড়ে দিয়েই বলবেন—অ্যালবার্ট ক্যাচ ইট ব্রিং ইট হিয়ার৷ কুকুর অমনি বলটা মুখে করে দৌড়ে আসবে৷ ঘণ্টাখানেক পাড়া একেবারে ফেটে পড়বে—ক্যাচ ইট, হোল্ড, ব্রিং ইট, ব্র্যাভো ব্র্যাভো৷ ইংরেজির ফোয়ারা৷ মাঝেমধ্যে দু-চারটে নেড়ি কুকুর বিলিতি কুকুরের খেলা দেখতে এলে খেল আরও জমে ওঠে৷ অ্যালবার্ট বল ভুলে একবার করে স্বজাতির দিকে বিজাতীয় আক্রোশে তেড়ে যাবে, তারাও দু-কদম পেছিয়ে গিয়ে সামনে ঘেউ ঘেউ করতে থাকবে৷ জাঁদরেল সাহেব নেড়িদের পরিষ্কার বাংলায় বোঝাতে থাকেন—ওরে, তোরা প্রাণটা নিয়ে পালা৷ জার্মানির কুকুরের সঙ্গে বাঙালি কুকুর পারবি না রে বাবা, এর জাতই আলাদা, মাংস, ছাড়া ভাত খায় না, দুধ ছাড়া ব্রেকফাস্ট করে না৷ অ্যালবার্ট চলে এসো, লেট আস প্লে৷ প্লে হোয়াইল ইউ প্লে, ওয়ার্ক হেয়াইল ইউ ওয়ার্ক৷
সত্যবাবু আমাদের পাড়ার আর কে প্রবীণ মানুষ৷ তিনিও বড় চাকরি করতেন৷ অনেকদিন হল অবসর গ্রহণ করেছেন৷ স্পষ্ট-বক্তা এবং সজ্জন ধার্মিক মানুষ৷ ওই খোলা মাঠটাকে তিন দিকে গোল করে ঘিরে যে-ক’টা বাড়ি আছে তার একটায় তিনি থাকেন৷ সত্যবাবু একদিন সকালে প্রতঃভ্রমণের সময় জাঁদরেল সাহেবকে স্পষ্টই বললেন—এই যে আপনি সাত সকালে মাঠে কুকুরের সার্কাস করেন, এর ফলে পাড়ার শিশুদের কত ক্ষতি হচ্ছে জানেন? সকাল হল লেখাপড়ার সময়৷ একটু পরেই সব স্কুলে যাবে, ওই দেখুন জানালায় জানালায় সব কচি কচি মুখ, পড়া ছেড়ে আপনার কুকুরের কেরামতি দেখছে৷
জাঁদরেল সাহেব পকেট থেকে পাইপ বের করে ঠোঁটে লাগালেন৷ পাইপ ছাড়া কথা বলতে পারেন না৷ সাহেবি অভ্যাস৷ তারপর সত্যবাবুর দিকে তাকিয়ে দুবার কাঁধ ঝাঁকালেন৷
সত্যবাবু বললেন—আমার অভিযোগের কিন্তু কোনও জবাব পেলুম না৷
সুব্রতবাবু হেসে বললেন—আমার কাঁধই জবাব দিয়ে দিয়েছে মিস্টার মিস্টার...
সত্যবাবু ধরিয়ে দিলেন—বোস৷
সুব্রতবাবু বললেন—মিস্টার বোস৷ একে বলে রিপ্লাই ইংলিশ স্টাইল৷
—তার মানে? আমি বাংলায় এত কথা বললুম, পশ্চিমবাংলায় দাঁড়িয়ে, বললুম একজন বাঙালিকে, আপনি তার কোনো জবাবই দিলেন না, উল্টে বলছেন—রিপ্লাই ইংলিশ স্টাইল৷ কে মশাই বুঝবে আপনার বিচিত্র কায়দা কানুন? বড় মজার লোক তো আপনি!
সুব্রতবাবু পাইপ চাপা ঠোঁটে বললেন—আপনি শ্রাগিং জানেন না৷ সায়েবরা যেই কাঁধ ঝাঁকায় তখনই বুঝতে হবে জবাবটা হল—হু কেয়ারস? ড্যাম ইচ! শিশুদের যদি ট্রেনিং দিতে না পারেন, দোষটা আমার নয় মিঃ বোস, দোষ আপনাদের আপ-ব্রিগিংগসের৷ সুব্রতবাবু খুব ডাঁটে মুখ ঘুরিয়ে কুকুরকে বললেন, অ্যালবার্ট রান আফটার দি বল৷ পকেট থেকে বল বের করে একটা ঝোপের দিকে ছুড়ে দিলেন৷
সত্যবাবু খুব অপমানিত হয়েছেন৷ মুখটা রাগে লাল৷ তবু বললেন, —আপনি তো মশাই খুব অসামাজিক জীব৷
দূর থেকে সুব্রতবাবু বললেন—হু কেয়ারস ফর ইওর হেলিশ সমাজ৷ উই নিড এ লিটল একসারসাইজ৷ ওপেন এয়ারে ব্যায়াম আমার এবং আমার কুকুরের জন্যে প্রয়োজন৷ নাথিং ক্যান স্টপ ইট৷ অ্যালবার্ট...৷
সত্যবাবু অপমানটাকে সহজে হজম করে নিতে পারলেন না৷ সপ্তাহের শেষে রাত ভোরে আমার আর দাদার ঘুম ভেঙে গেল৷ দাদা বিছানায় বসে বসেই বলল—মাঠে এ আবার কার গলারে৷
কান খাড়া করে শুনলুম—লালি ওঠ, লালি বোস—লালি ওঠ, লালি বোস৷
দাদা মাঠের দিকের জানালাটা খুলেই বললে—দেখে যা, দেখে যা বিল্টু৷
মাঠে সত্যবাবু৷ পরনে মালকোঁচা মারা ধুতি৷ সাদা ফুলহাতা পাঞ্জাবি৷ হাতে একটা স্টিক৷ আর এক হাতে চেনে বাঁধা মাঝারি মাপের বাদামি রঙের একটা কুকুর৷ কুকুরটা ফ্যাল ফ্যাল করে সত্যবাবুর দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ন্যাজ নাড়ছে, আর সত্যবাবু ক্রমান্বয়ে বলে চলেছেন,—লালি ওঠ, লালি বোস৷ লালির ওঠবোস করার সামান্যতমও ইচ্ছে নেই৷
দাদা চিৎকার করে জিগ্যেস করল—জ্যাঠামশাই ওটা কার কুকুর?
—মালিক যার কুকুর তার৷
—কী কুকুর জ্যাঠামশাই?
—নির্ভেজাল নেড়ি৷ চিনতে পারছ না? তোমাদের বাড়ির সামনেই তো ঘুরত৷ কয়েকদিন খাইয়ে, দাইয়ে, চান করিয়ে, চেন পরিয়ে এর ভোল পালটে দিয়েছি৷ এখন চলছে ব্যায়াম আর ট্রেনিং৷ লালি, লালি, লালি ওঠ, লালি বোস৷
সত্যবাবু লালিকে নিয়ে মহা ব্যস্ত হয়ে পড়লেন৷ দাদা আমার দিকে তাকিয়ে বলল—কী হল বল তো, জ্যাঠামশাইয়ের মাথা খারাপ হল না কি? এই বয়েসে একটা নেড়ির গলায় বগলস পরিয়ে এ আবার কী?
খেলাটা জমে উঠল মিনিট পনেরো পরে৷ কুকুর ছাড়াই জাঁদরেল সাহেব তাঁর ইউনিফর্ম পরে মাঠে নেমে এলেন৷ বেশ উত্তেজিত৷ হাত দুটো পেছন দিকের কোমরে৷ একটা হাতে ছোট স্টিক৷ মাঝে মাঝে প্যান্টের পেছন দিকে মেরে ফ্যাট ফ্যাট শব্দ করছেন৷
সত্যবাবু তখন লালিকে নতুন প্যাঁচ শেখাচ্ছেন—জাম্প আপ, জাম্প আপ৷
সত্যবাবুর সব নির্দেশেই লালির এক অ্যাকশান, পটাপট ন্যাজ নেড়ে চলেছে৷
জাঁদরেল সায়েব এগিয়ে এসে বললেন—হোয়াট ইজ দিস্৷
সত্যবাবু নির্বিকার গলায় বললেন—দেখতেই পাচ্ছেন? লালি ওঠ, লালি বোস৷
—এই মাঠে আমি আর আমার কুকুর রোজ সকালে প্র্যাকটিস করি৷
—সো হোয়াট? আজ থেকে আমি আর আমার কুকুর করব৷
—নো, নো, দ্যাট কান্ট বি৷ ইউ আর এ ট্রেসপাসার৷
সত্যবাবু হঠাৎ মাত্রাতিরিক্ত জোর গলায় বললেন,—মাঠটা আপনার?
জাঁদরেল সায়েব একটু থতমত খেয়ে গেলেন৷ স্টিকটা বেশ কয়েকবার ফ্যাট ফ্যাট করে সায়েব বললেন—জানেন একে বলে জেলাসি, ইংরেজিতে বলে জেলাসি৷
—বাংলাটা দয়া করে বলে দিন৷ আমি আবার বাঙালি৷
—হিংসা, হিংসা৷ তা না হলে সাত সকালে কেউ একটা নেড়ির গলায় চেন বেঁধে এসব করে? আরে মশাই, পেডিগ্রিড ডগ ছাড়া কুকুর কখনও কথা শোনে না৷ সে শুনবে আমার কুকুর৷
—পেডিগ্রিটা কী জিনিস?
—ও তাও জানেন না, বংশ, বংশ৷ জাত কুকুর না হলে ট্রেনআপ করা যায় না৷
—দেখাই যাক না৷ ও স্বাধীনতাটা আমারই থাক৷ বিলিতি কুকুরও তো বিলেতের নেড়ি৷ নেটিভরা যদি হাফপ্যান্ট পরে সায়েব হতে পারে, নেড়িও বগলস পরে বিলিতি হতে পারে৷
—আমার কুকুর নিয়ে যদি মাঠে নামি বিপদে পড়ে যাবেন মশাই৷ কামড়ে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে দেবে৷
—নামুন না৷ কে বারণ করছে! সাধারণের মাঠ৷ আপনারও যেমন রাইট আছে, আমারও তেমনি রাইট আছে৷
—তখন কিন্তু আপশোস করবেন না, মাইন্ড ইট?
—চ্যালেঞ্জ তো আমি গ্রহণ করেইছি৷ অনর্থক কথা বাড়িয়ে সময় নষ্ট করছেন কেন? লালি ওঠ, লালি বোস৷
দাদা বলল—বাঃ, বেশ জমেছে৷ কিন্তু নেড়ি কি পারবে রে অ্যালেসেশিয়ানের সঙ্গে? অ্যাঃ, লালির আজ নির্ঘাত মৃত্যু!
জাঁদরেল সায়েব দ্বিতীয়বার মাঠে নামছেন, মুখে পাইপ, হাতে লাঠি, এক হাতে চেনে বাঁধা ইয়া তাগড়া বাঘের মতো বিলিতি কুকুর৷ কুকুরটা জিভ বের করে হ্যাঁ হ্যাঁ করে এগিয়ে চলেছে৷
সত্যবাবুর হাতে ধরা লালি ন্যাজ নাড়া ভুলে করুণ চোখে তাকিয়ে আছে৷
সত্যবাবু জিগ্যেস করলেন—চেন বাঁধা অবস্থায় হবে না খোলা অবস্থায় হবে?
জাঁদরেল সাহেব কী যে ভাবলেন, তারপর জিগ্যেস করলেন—আপনার নেড়িটাকে রোজ চান করান?
—না তো৷
—পাউডার মাখে?
—পাউডার৷ না তো৷ নেড়ির আবার অত কী!
—গায়ে টিক্স আছে?
—থাকতে পারে৷
—অ্যান্টি র্যাবিশ ভ্যাকসিন দেওয়া আছে?
—সে আবার কী?
ধ্যার মশাই, তাহলে লড়াই হবে কী করে! আমার কুকুরকে আমি জেনেশুনে রাস্তার একটা ইতর কুকুরের সঙ্গে লড়তে দিই কোন্ আক্কেলে৷ বলা তো যায় না, এক-আধটা কামড় বসালেই রোগে ধরে যাবে৷
—তাহলে লড়তে দেবেন না, বাড়ি নিয়ে যান৷
—আরে মশাই, আমি তাহলে কোথায় যাব?
—জাহান্নামে৷
—কেস করব৷
—করুন৷
—লড়াই করব৷
—আমার সঙ্গে নয়, আমার কুকুরের সঙ্গে৷ হয় নিজে লড়ুন, না হয় আপনার কুকুরকে লড়তে দিন৷
—দেখে নোবো৷
—নেবেন৷
জাঁদরেল সায়েব তাঁর কুকুরটাকে টানতে টানতে বাড়ির দিকে চললেন৷ সত্যবাবু নির্বিকার মুখে আবার শুরু করলেন, লালি ওঠ, লালি বোস৷
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন