উদ্ধার

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

হঠাৎ আমাদের অবস্থাটা কী কারণে যেন খারাপ হয়ে গেল৷ অষ্টম শ্রেণির ছাত্র৷ অতশত বুঝি না৷ শুধু দেখলুম, আমাদের মোটরগাড়িটা বিক্রি হয়ে গেল৷ আর আমার বাবা আর জ্যাঠামশাইয়ের মুখ কেমন যেন থমথমে৷ আর দেখলুম কাজের লোকের সংখ্যা কমে গেল৷ একে-একে সবাই বাক্স-প্যাঁটরা নিয়ে চোখ মুছতে-মুছতে চলে গেল৷

একটি বিহারী ছেলে রামু, দশ-এগারো বছর বয়সে আমাদের বাড়িতে এসেছিল৷ তার দাদা এসে রেখে গিয়েছিল৷ বাড়ি মুঙ্গেরে৷ চার বছর আমাদের বাড়িতে রয়েছে৷ দেখতে ভারি সুন্দর হয়েছে৷ পনেরো বছর বয়েস৷ সুন্দর চেহারা৷ পরিষ্কার বাংলা বলে৷ ভীষণ কাজের৷ সকলের খুব প্রিয়৷

সেদিন, রাত দশটা হবে৷ ছেলেদের খাওয়া-দাওয়া হয়ে গেছে৷ লম্বা বারান্দায় বাবা আর জ্যাঠামশাই বসে আছেন৷ নতুন শীত৷ দু-জনেরই গায়ে পাতলা চাদর৷ বাবা খাওয়ার ঘরের বাইরে চটি ফেলে এসেছিলেন৷ রামু ঠিক লক্ষ রেখেছে৷ মেঝে বেশ ঠান্ডা হতে শুরু করেছে৷ রামু চটি দু-পাটি বাবার পায়ের কাছে রেখে বললে, ‘পরে বসুন৷ পায়ে ঠান্ডা লাগছে৷’

রামু মাথা নিচু করে চটি রাখছিল, বাবা তার মাথার পিছন দিকে হাত রেখে বললেন, ‘তুই কবে যাচ্ছিস?’

রামু সোজা হয়ে একপাশে সরে গিয়ে বলল, ‘আমি যাচ্ছি না৷’

বাবা বললেন, ‘মাসে-মাসে মাইনে কে দেবে?’

রামু বলল, ‘মাইনে আমার চাই না৷ এই বাড়ি ছেড়ে, আপনাদের ছেড়ে আমি কোথাও যাব না৷’

বাবা আর জ্যাঠামশাই অবাক হয়ে অনেক রাত পর্যন্ত বারান্দায় বসে রইলেন৷ রাত বারোটার সময় নেপাল মাতাল বাড়ির সামনের পথ দিয়ে মা-কালীর গান গাইতে-গাইতে বসাক বাগানের দিকে চলে গেল৷ রোজই যায়৷

রামুদা আর আমি দক্ষিণ দিকের একটা ঘরে শুই৷ এ দেওয়ালে একটা চৌকি, ও দেওয়ালে একটা৷ বাইরে ছোট মতো বাগান৷ ঝোপঝাপ গাছাপালা৷ যত রাত বাড়ে ততই আমার ভূতের ভয় বাড়ে৷ রামুদার মাথার দিকের দেয়ালে একটা ক্যালেন্ডার৷ মহাবীরের ছবি৷ রামুদা বলে বিপদে পড়লে মহাবীরকে ডাকবে৷ মহাবীরের খুব পাওয়ার৷ মুঙ্গেরে রামুদাকে একবার ভূতে ধরেছিল৷ সন্ধেবেলা৷ ডাকবাংলোর মাঠ থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল গঙ্গার ধারের ভাঙা একটা গড়ে৷ সেদিন মেরেই ফেলত৷ রামুদা মনে-মনে মহাবীরকে ডাকছে৷ হঠাৎ হুপ করে একটা শব্দ হল৷ তারপর সে-কী দাপাদাপি৷ অনেকক্ষণ লড়াই হল, তারপর সব চুপচাপ৷ রামুদাকে রামুদার মা বলেছিলেন, ভয় পেলেই ঘুমিয়ে পড়বি৷ ভোরবেলা রামুদার ঘুম ভাঙল৷ ভাঙা পাথরের মেঝের ওপর পড়ে আছে৷ সারা শরীর ভূতে আঁচড়েছে৷ রামুদা রয়েছে গড়ের ওপরে৷ সে-অনেক উঁচু৷ অনেক নিচে গঙ্গা৷ রামুদা আবার মহাবীরকে ডাকছে৷ তখন দেখছে, নিচে তার বাড়ির লোকজন, সঙ্গে লাঠি হাতে থানার হাবিলদার৷ সব শুনে হাবিলদার বললেন, মহাবীরের কৃপা৷ ছেলেটা মরেই যেত৷ যাও, মহল্লার মহাবীরের মন্দিরে গিয়ে পুজো দাও৷ আর এতোয়ার বারে কুস্তি চড়াও৷

মহাবীর কুস্তি দেখতে ভালোবাসেন৷ কুস্তি দেওয়ার খরচ আছে৷ মা কালীর কাছে ছাগল দেওয়ার চেয়েও বেশি খরচ৷ যাঁরা লড়বেন তাঁদের খাওয়া তো সাংঘাতিক৷

রামুদার বাবা নেই, আছেন এক চাচা৷ কুস্তি আর হল না৷ এককাঁদি কলা চড়ানো হল৷ মহাবীর তাইতেই খুশি৷ রামুদা যাই বলুক, কী-শীত, কী-গ্রীষ্ম, আমি আপাদমস্তক একটা পাতলা চাদর মুড়ি দিয়ে শুই৷ সাদা চাদর মুড়ি দেওয়া মানুষ দেখলে ভূতেরও ভয় হয়৷

রামুদা আমার বাবাকে বলল, ‘ছোটবাবু, রাস্তার দিকের ঘরটা চাবি বন্ধ হয়ে পড়ে আছে, ঘরটা আমাকে দেবেন৷’

‘কী করবি?’

‘ব্যবসা করব, ব্যবসাটা যদি দাঁড়িয়ে যায়, তাহলে আবার আমরা গাড়ি কিনব৷ সংসারটা আবার আগের মতো হয়ে যাবে৷ রাত্তিরে আবার লুচি হবে৷ আমি দেখেছি, আপনাদের রুটি খেতে খুব কষ্ট হয়৷’

বাবা অবাক হয়ে রামুদার দিকে তাকিয়ে রইলেন৷ চোখে জল৷ জ্যাঠামশাইকে বললেন, ‘মেজদা! শুনছ? এ-ছেলেটা তো আমাকে অবাক করে দিলে৷’

জ্যাঠামশাই বললেন, ‘নিজের লোকও এমন কথা বলে না৷ সব তো সুখের পায়রা৷ আমাদের বড়লোক আত্মীয়, বন্ধুরা তো আর খবরটবর নিচ্ছে না অনেকদিন৷ এইটাই তো জগতের নিয়ম৷ মনে আছে সেই কবিতা—

সুসময়ে অনেকের বন্ধু বটে হয়,

অসময়ে হায় হায় কেহ কারও নয়৷

দেখবি, এই ছেলেটা একদিন বিরাট হবে৷’

বাবা ব্যবসা খুব পছন্দ করেন৷ স্বাধীন ব্যবসা৷ আমাকে প্রায়ই বলেন, চাকরি নয় ব্যবসা৷ রামুদাকে জিগ্যেস করলেন, কী ব্যবসা করবি?’

‘গুড়৷’

‘গুড়? কী ভেবেছিস, আর একটু বল৷’

‘আমার দেশের একজন বড়বাজারে গুড়ের ব্যবসা করে৷ পাইকিরি৷ এখানে অনেক মুদির দোকান৷ সবাই আমাকে ভালোবাসে৷ আমি সেইসব দোকানে সাপ্লাই দোব, খুচরোও বিক্রি করব৷ আখের গুড়, ভেলি গুড়৷’

বাবা বললেন, ‘মেজদা! কী বুঝছ?’

‘ছেলেটার মাথা আছে৷ এক নম্বর মাথা৷’

বাবা জিগ্যেস করলেন, ‘রামু, টাকার কী হবে?’

‘আমার কাছে দু-হাজার জমেছে৷’

বাবা বললেন, ‘আমরা তোকে হাজার দেব৷’

রামুদা গুড়ের দোকান করবে৷ কী আনন্দ৷ ‘আমাদের দুপুরটা যারপরনাই জমিয়া যাইবে৷’ বললে, আমার দুপুরের বন্ধু অমর৷ রবীন্দ্রনাথের মতো কবিতা লেখার চেষ্টা করছে সাধু ভাষায়৷ সেদিন বাংলার ক্লাসে একটা নমুনা বের করে স্যারকে দিয়েছিল৷ বিধান স্যার এইসবে খুব উৎসাহ দেন৷ ইংরিজিতে বলেন, ‘ক্রিয়েটিভ জিনিয়াস’৷ স্যার বললেন, পড়ে শোনাও৷ কবিতা আবৃত্তি না করলে বোঝা যায় না, ছন্দ মিল ঠিক আছে কি না!

অমর পড়েছিল,

আকাশে বাতাসে ক্রন্দন

ছিঁড়িয়া ফেল সব বন্ধন,

গাহ গান শ্রতিনন্দন

দুঃখই জীবনের ইন্ধন৷

স্যার, অমরের পিঠ চাপড়ে বলেছিলেন, ফ্যান্টাস্টিক৷ সেই থেকে স্কুলে অমরকে আমরা কবি বলে ডাকি৷ আর কী আশ্চর্য কাণ্ড, অমরের বাবা একজন বিখ্যাত কবিরাজ৷ দুপুরবেলা মনটা যখন খুব খাই-খাই করে, অমর সমস্যার সমাধান করে, দাঁড়া, ফ্রেশ একতাল চ্যবনপ্রাশ নিয়ে আসি৷ দুজনে জামতলায় বসে গুলিগুলো চুষে-চুষে খাই৷

অমর বললে, ‘গুড়ের দোকান হলে আমাদের দুপুরের ভাবনা চলে যাবে৷ কাঁচা তেঁতুলের ছড়া ঝোলা গুড়ে কিছুক্ষণ চিৎ করে ফেলে রাখব, একটু নুন আর এক চিমটে লঙ্কা গুঁড়ো৷ টেস্টটা একবার ভেবে দেখ৷’

ভাবতে গিয়ে জিভে জল এসে গেল৷ অমর সঙ্গে-সঙ্গে কবিতা নামিয়ে ফেলল,

ওরে! আর ভাবনা নাই,

গুড়েতে তেঁতুল ফেলি,

নুন আর লঙ্কা দলি,

এপাশ-ওপাশ করি,

ছুটির দুপুরে বসি,

টকাস-টকাস টক,

হুসহাস্ ডোন্ট টক৷৷

রাস্তার দিকের ঘরটা নেহাত ছোট ছিল না৷ একসময় বাবুরা ওই ঘরে দরবার করতেন৷ একবার একটা দাতব্য চিকিৎসালয় হয়েছিল৷ তারপরে এক ভবঘুরে কিছুদিন ছিলেন৷ তারপর বন্ধই পড়েছিল৷ রামুদা খেটেখুটে পরিষ্কার সুন্দর করে ফেললে৷ খাটতে পারে বটে৷ একাই চুনকাম করে ফেললে৷ বাইরে ছোট্ট একটা বোর্ড লাগিয়ে ফেললে৷ দোকানের নাম ঠিক করার জন্যে বারান্দায় মিটিং হল৷ অনেক আলোচনার পর নাম ঠিক হল, ‘গুড়ের দোকান’ প্রথম যে নাম এসেছিল, ‘মহাবীর শর্করা’৷ বাবা বললেন, ‘খদ্দের ডিকশনারি দেখে আসবে নাকি? শর্করা! নাম হবে সহজ সরল৷’

ভালো দিন দেখে পুজো হল৷ আমরা সবাই প্রসাদ খেলুম৷ পরের দিন ঠেলায় চেনে টিন-টিন আখের গুড় আর বস্তা-বস্তা ভেলি গুড়ের ডেলা এল৷ মিষ্টি-মিষ্টি গন্ধ৷ কিছুক্ষণের মধ্যেই এসে গেল দুটো বোলতা, তিন-চারটে মৌমাছি৷ ওরা ঠিক খবর পায়৷ বাবা রামুদাকে কড়া হুকুম দিলেন, বাড়ির কেউ গুড় চাইতে গেলে বলবি, ধার-বাকি চলবে না৷ পয়সা ফেলো, গুড় নাও৷

দুপুরবেলা দোকান যখন বন্ধ থাকে রামুদা তখন বাড়ির সব কাজ ঝটপট করে ফেলে৷ আগে দুপুরে খাওয়ার পর একটু ঘুমোত৷ ঘুম বন্ধ৷ অমর একদিন বললে, ‘আমাদের লজ্জা হওয়া উচিত৷ আমরা কুঁড়ে, অলস, যাচ্ছেতাই৷ লেখাপড়াটাও কি ভালোভাবে করি?’

অমর আমার প্রাণের বন্ধু৷ অনেক সময় আমরা দুজনে পাশাপাশি শুই রাত্তিরে৷ অমর প্রায়ই বাড়ি যায় না৷ ভীষণ গোলমেলে বাড়ি৷ অনেক লোকজন৷ কাকা, জ্যাঠা, দাদা, দিদি, গোটা চারেক বাচ্চা৷

একদিন আমরা দুজনে শিবমন্দিরে গিয়ে শপথ করলুম, আমরা রামুদার মতো হব৷ পরিশ্রম আর লেখাপড়া দুটোই করব৷ কেউ জানতে পারবে না, চুপি-চুপি আমরা নিজেদের বদলে ফেলব৷ কোনওরকম বাবুগিরি থাকবে না৷ বায়না থাকবে না৷ রামুদার মতো ভোরবেলা চান করে নোব৷ ওসব টোস্ট, পাঁউরুটি, জেলি ডিম খাব না৷ ছোলা, মুড়ি, রুটি, তরকারি৷ ভাজা জিনিস, ঝাল-তরকারি ছোঁব না৷ পেয়ারা, শসা, শাঁকালু, দুধ, চিঁড়ে৷ নিজেদের জামাকাপড় নিজেরা কাচব৷ ঘর পরিষ্কার করব৷

অমর সাবধান করে দিলে, ‘দু-দিন করব, তিন দিনের দিন যে-কে সেই তা যেন না হয়৷’

আমি বললুম, ‘পড়া ভুলে গেলে যেমন বই দেখি, সেইরকম প্রতিজ্ঞা ভুল হলে রামুদা তো সামনেই রয়েছে, দেখে নোব৷’

রামুদার ব্যবসা হইচই করে জমে গেল৷ সবাই বলতে লাগল ছেলেটার ব্যবহার যেমন সুন্দর, সেইরকম পরিশ্রমী৷ ভালো মাল, নায্য দাম৷ গুড়ের দানা দেখেছ, আর গন্ধ! কেন, রং! যেন কাঁচা সোনা৷

আমাদের সংসারে অনেক কিছু কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যেমন দুধ৷ রোজ মাছ হবে না৷ সপ্তাহে তিনদিন৷ এইসব৷ তাতে আমারে দুঃখ ছিল না৷ সবসময় এত আনন্দ! কথায়-কথায় আনন্দ৷ রাগ নেই, কথা কাটাকাটি নেই৷ সবাই যেন কাজ করার জন্যে মুখিয়ে আছে৷

রাত দশটার সময় রামুদা ঘরে আসত, চানটান করে, আসনে বসে পুজো করত আধঘণ্টা৷ তারপর চলে যেত রান্নাঘরে, মেয়েদের সাহায্য করতে৷ শোনা যেত, রামুদা হাসছে, গল্প করছে৷ ঝপাঝপ কাজ সারছে৷ পরের দিনের রান্নার বাটনা বাটছে৷ খাওয়ার জল তুলছে৷ মাঝে-মাঝে আমার আমুদে জ্যাঠাইমা দু-একটা চড়চাপড় মেরে দিচ্ছেন৷ এটা দেখেছি, রামুদা যেখানে, আনন্দে সেখানে৷

রাত বারোটার সময় আমার ঘরে আসবে৷ তখন আমি ঘুমে কাতর৷ একটা টেবল ল্যাম্প জোগাড় করেছে৷ নিজের মশারিতে একটা চাদর ঝোলাবে, যাতে আমার চোখে আলো না পড়ে৷ তারপর ইংরিজি শিখতে বসবে৷ দিনের বেলা সময় পেলেই আমার কাছে দেখে নেয়৷ বেশ ভালোই এগোচ্ছে৷ খুব বুদ্ধি৷ মুখে-মুখে অঙ্ক কষে৷ বিরাট-বিরাট হিসেব সব মুখে৷

আমার বাবা অঙ্কে খুব স্ট্রং৷ রামুকে খুব পছন্দ করেন৷ সেদিন বলেছিলেন, এ ছেলেটা যদি লেখাপড়া করার সুযোগ পেত তাহলে বিলেত যেত৷ আমার মুখভার দেখে অমর বলেছিল, ‘কাকাবাবু ঠিকই বলেছেন, রামুদার কী মেধা!’

রামুদা খুব সুন্দর বাদামি রঙের নধর একটা গোরু কিনে আনল৷ বললে বিলিতি গোরু৷ অনেক দুধ হবে৷ দই হবে, ছানা হবে, ঘি হবে৷ ঘি শুনে দাদু খুব খুশি৷

বাবা বললেন, ‘রামু গোয়ালের কাজ যে অনেক৷ কে সামলাবে?’

‘ছোটবাবু! সে ব্যবস্থা আমি করে ফেলেছি৷ একজন গোয়ালা আসবে৷’

জ্যাঠামশাই পরে বলেছিলেন, ‘ভগবানের কী অপার করুণা৷ রামু আমাদের বাড়িতে এসেছিল, কাজের লোক, সেই এখন লোক রাখছে৷

রামুদার গুড়ের ব্যবসার সঙ্গে যোগ হয়েছে আর একটা ব্যবসা—গোরুর খাবার৷ এরপরে একদিন একজন মালি এলেন৷ বাড়ির চারপাশে যে জায়গাটা অবহেলায় পড়েছিল, সেখানে সুন্দর বাগান হবে৷ শীত আসছে৷

একদল মিস্ত্রি এসে বাড়ি মেরামতের কাজ লেগে গেলেন৷ সব রং হবে৷ ভেতরে, বাইরে৷ রামুদা বললে, ‘দিদির বিয়ের সম্বন্ধ হচ্ছে, তার আগে বাড়িটার চেহারা পালটাতে হবে৷’

আমার দিদির বিয়ের কথা চলছে৷ আমার জাঠতুতো দিদি৷ বি. এ. পাশ করেছে খুব ভালোভাবে৷ চারিদিক থেকে সম্বন্ধ আসছে৷ মা বললেন, ‘রামু আমাদের লক্ষ্মীকে ফিরিয়ে এনেছে৷ একদিন সত্যনারায়ণ দেওয়া হোক৷’

জ্যাঠাইমা বললেন, ‘ঠিক বলেছিস তুলসী৷’

আমাদের এক কুচুটে আত্মীয়, সে কারো ভালো সহ্য করতে পারে না, একদিন এসে বলতে লাগলেন, ‘হচ্ছে ভালোই, তবে কী জানো, পরের ছেলে, যখন সরে পড়বে, তখন বুঝবে ঠ্যালা৷’

রামুদার কানে কথাটা গেল৷ রাত্তিরবেলা আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে অদ্ভুত একটা কথা বললে, ‘আমি মহাবীরের পুজো করি৷ মহাবীরের ছিল দাস ভাব৷ শ্রীরামচন্দ্রের দাস৷ আমিও সেইরকম এই বাড়ির বাবুদের, মায়েদের দাস৷ আমাকে তাড়িয়ে দিলেও যাব না৷’

এরপর সেইদিন এল৷ বাড়ির বাইরে গাড়ির হর্ন৷ আমাদের সেই প্রিয় গাড়ির পরিচিত হর্ন৷ সবাই ছুটে এসেছি৷ রামুদা সামনের দরজা খুলে নামছে৷ সকলের দিকে তাকিয়ে হাসতে-হাসতে বললে, ‘উদ্ধার করে এনেছি৷ এ-আমার সীতা উদ্ধার!’

সকল অধ্যায়
১.
সেই রাত
২.
হেডস্যারের মায়াজাল
৩.
রেখা
৪.
নিরঞ্জন স্যার
৫.
নবেন্দুর দলবল
৬.
জনার্দনের জরদার কৌটো
৭.
হাসি কান্না চুনি পান্না
৮.
রাবণবধ
৯.
হেডস্যারের সমাজসেবা
১০.
এক রাজার গল্প
১১.
রসবড়া
১২.
বাঘের সার্কাস
১৩.
সাইকেল বিভ্রাট
১৪.
দেশি সাহেব,বিলিতি নেড়ি
১৫.
বেত আর বাত
১৬.
এই সেই বাড়ি
১৭.
কাঁঠাল
১৮.
আমি অন্তহীন
১৯.
আনারকলির উপহার
২০.
আছে কোথাও
২১.
ঘুরঘুরে
২২.
অঞ্জলি
২৩.
অঙ্কই ভগবান
২৪.
দিদি
২৫.
সিঁড়ি
২৬.
পেয়ারা গাছ
২৭.
কণ্ঠস্বর
২৮.
সাটিন-ভেলভেট
২৯.
বন্ধু
৩০.
অরণ্যের উপকথা
৩১.
শেষ গোলাপ
৩২.
অনুসন্ধান
৩৩.
শান্তি
৩৪.
অংশীদার
৩৫.
টপ সিক্রেট
৩৬.
প্ল্যাটফর্ম
৩৭.
সাগর
৩৮.
রামুদা
৩৯.
হেডস্যার
৪০.
হেডস্যারের জুতো
৪১.
আলোর নিচেই অন্ধকার
৪২.
সে এক কাণ্ড
৪৩.
দাদুর কাঁঠাল
৪৪.
দাদুর ইঁদুর
৪৫.
দাদুর দ্বিতীয় ইঁদুর
৪৬.
দাদুর দাঁদানো বাঁত
৪৭.
দাদুর বেড়াল
৪৮.
দাদুর বাগান
৪৯.
অহিদার চোরধরা
৫০.
আমি ও টম
৫১.
টম আর দুলী
৫২.
বাবার বাবা
৫৩.
গোল
৫৪.
উদ্ধার
৫৫.
আজও দাঁড়িয়ে আছি
৫৬.
দুখপাইয়ে তো সুখ লাগাইয়ে
৫৭.
জ্ঞানী
৫৮.
দিদি আর পিকলু
৫৯.
শেষ খাওয়া
৬০.
নির্জন বনপথ
৬১.
ঋণ শোধ
৬২.
নতুন ফসল
৬৩.
অরূপ যাত্রা
৬৪.
পয়সার ফয়সালা
৬৫.
ফানুস
৬৬.
বালির ওপর পোল
৬৭.
বাঘমারি
৬৮.
কুশলের সাইকেল
৬৯.
আমিই গোয়েন্দা
৭০.
ফেরা
৭১.
গোলকিপার
৭২.
সন্ধান
৭৩.
ফুল হয়ে ফোটার কালে
৭৪.
কৃপা
৭৫.
বড় বিল
৭৬.
রকেট
৭৭.
দুটো বেজে পাঁচ
৭৮.
সোনার হরিণ
৭৯.
বিচার
৮০.
অনাথ
৮১.
ভোলা
৮২.
আগুন
৮৩.
ডানাকাটা পাখি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%