দাদুর দ্বিতীয় ইঁদুর

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

মাঝরাতে দাদু একবার বাথরুমে গিয়েছিলেন৷ প্যানে যতটুকু জল জমে থাকে, সেই জলে তিনি যেন সরু একটা মুখ দেখতে পেলেন৷ জিনিসটা কী, ঘুম-চোখে ঠিক বুঝতেও পারছেন না৷ চোখে চশমা নেই যে, ভালো করে দেখবেন৷ চশমা ছাড়া আজকাল কাছের জিনিস আর দেখাই যায় না৷ পুরো শরীরটা দেখা যাচ্ছে না৷ মুখটাই কেবল উঁচিয়ে আছে জলের ওপর৷ আপ্রাণ চেষ্টা করছে জল ছেড়ে উঠে আসার৷

দাদু ভাবলেন, কী রে বাবা! একবার জগদানন্দের বালিগঞ্জের বাড়িতে দোতলার বাথরুমের প্যান থেকে গোখরো সাপ ফোঁস করে উঠেছিল৷ জগদানন্দ ভীতু মানুষ৷ ভয়ে শাওয়ারের ডান্ডা ধরে পাক্কা পনেরো মিনিট ঝুলে ছিল৷ অবশ্য জগদানন্দ মনে করেছিল ঝুলে আছে! আসলে কিন্তু তা নয়৷ মাটিতেই তার পা দুটো ছিল৷ দেহের ভারে পাইপ বেঁকে ধনুকের মতো নিচে নেমে এসেছিল৷ সাপ বিশেষ করে গোখরোর মতো রাজা-সাপ ভীতুদের ছোবল মারে না৷ একপাশে গোল হয়ে বসে জগদানন্দের নিশ্বাসের ফোঁসফোঁসানি শুনছিল৷ সাপ যেন কী একটা পারে না৷ হয় শুনতে, না হয় দেখতে৷ সে যাই হোক, জগদানন্দকে বাথরুম থেকে কিছুতেই বেরোতে না দেখে সকলের সন্দেহ হল, হার্ট অ্যাটাক নয় তো? বেশির ভাগ হার্ট অ্যাটাকই বাথরুমে হয়৷ দরজাও ভাঙা যাচ্ছে না, জগদানন্দ বাঁকা পাইপ ধরে দরজা ব্লক করে বসে আছে৷ বাইরে চেঁচামেচি শুনে অতি কষ্টে বললে, ‘বেঁচে আছি৷ কতক্ষণ থাকব জানি না৷ সাপ৷’ বাইরে থেকে সাহসীরা বললে, ‘সাপ তো কী হয়েছে, বেরিয়ে আসুন৷’ জগদানন্দ বেরোবে কী করে? বেরোবার পথ তো নিজেই বন্ধ করে বসে আছে৷ বাথরুমের কোণ থেকে দরজার মাথার ওপর দিয়ে শাওয়ারের পাইপ ছিল৷ সেই পাইপ এখন বেঁকে নিচে নেমে এসেছে৷ দরজা কোনওরকমে একটু খুলতে পারে৷ সে ফাঁক দিয়ে ভুঁড়ি গলবে না৷

সেই জগদানন্দ আর বাথরুমে সাপের কথা ভেবে দাদু প্রথমটায় খুব ভয় পেয়েছিলেন৷ তারপর ওকালতি বুদ্ধি খেলিয়ে বুঝতে পারলেন, ওটা সাপ নয়৷ সাপের সরু-সরু গোঁফ থাকে না৷ তাহলে কী? সেপটিক ট্যাঙ্কে পোকা হয়৷ লাখ পোকা৷ সেই পোকা নয় তো? সর্বনাশ! লাখে-লাখে সেই পোকা তেড়ে-মেড়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে নাকি? আঁতকে উঠলেন৷ আর একবার ভালো করে ঝুঁকে দেখতেই মনে হল, চিনি গো চিনি, তুমি নেঙটি ইঁদুর৷ ভিজে বেড়ালের মতো চেহারা হয়েছে মানিক৷ মরতে ওখানে গিয়ে পড়লে কী করে? বেশ তো ছিলে আমার বইয়ের র‌্যাকে৷ যেখানে গিয়ে পড়েছ, সেখান থেকে তো আর উঠতে হবে না৷

দাদু এক বালতি জল নিয়ে হুড়-হুড় করে প্যানে ঢেলে দিলেন৷ চোখ বুঝে প্রার্থনা করলেন, আমার মূল্যবান বই সমূহ কেটে কুঁচি কাটা করলেও ঈশ্বর নির্বোধ প্রাণীর আত্মার সদগতি করে দাও৷ আসচে বার ও যেন পণ্ডিত হয়ে জন্মায়৷ বাথরুমের দরজা বন্ধ করে দাদু বিছানায় এসে শুয়ে পড়লেন৷

মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল৷ এ আমি কী করে ফেললুম? আমার কী দরকার ছিল এক বালতি জল হুড়-হুড় করে বাথরুমে ঢালার৷ পরোক্ষে আমিই হয়ে গেলুম ওই প্রাণীটির মৃত্যুর কারণ৷ একটা জীবন দিতে পারি না, একটা জীবন নিয়ে নিলুম৷ বিছানায় উঠে বসে আবার প্রার্থনা করলেন, ‘ঈশ্বর, এই নির্বোধ বৃদ্ধকে ক্ষমা করো প্রভু! ঝোঁকের বসে জল ঢেলে ফেলেছি৷ ও কি আর ওই গাড্ডা থেকে উঠতে পারত প্রভু? পারত না৷ তাই আমি জল দিয়ে ঢেইয়ে দিয়েছি৷ ওই অপবিত্র শরীরে বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুই কি ভালো নয়? আমি নিজে যদি কখনও ম্যানহোলে পড়ে যাই, কথা দিচ্ছি আমি বাঁচতে চাইব না৷ দমকলের লোককে গর্ত থেকে হেঁকে বলব, হোস দিয়ে আমাকে পদ্মার পাড়ে পাঠিয়ে দাও৷ সত্যি বলছি প্রভু৷ মিথ্যে নয়৷ তুমি আমাকে একবার ফেলেই দেখো৷’

এত করেও দাদু শান্তি পেলেন না৷ ইস, জলটা না ঢাললেই হতো৷ আবার উঠলেন৷ বাথরুমে গিয়ে একবার দেখে আসি৷ মুখটা বেরিয়ে আছে না কি! বেরিয়ে থাকলে আর জল ঢালব না৷ ওর নিজের বরাতের ওপরেই ছেড়ে দোব৷ নাঃ, সে বরাত করিনি আমি৷ কোথায় কী? প্যানের গর্তে পরিষ্কার টলটলে জল৷ সেই ছুঁচলো মুখ অদৃশ্য৷ খুনের দায়েই পড়তে হল৷ মৃত্যুর পর ঈশ্বরের আদালতে বিচার হবে৷ এখানকার আদালতে আমি মানুষের বিচার করি৷ সেখানকার আদালতে আমার বিচার হবে৷ বেলিফ হেঁকে বলবে, আসামি হাজির৷

বিষণ্ণ মনে বিছানায় এসে শুয়ে পড়লেন৷ অনুশোচনায় ঘুম এসে গেল৷ নাক ডেকে উঠল ফুড়ুত-ফুড়ুত৷ এদিকে তলিয়ে যাওয়া ইঁদুর আবার ভেসে উঠল৷ প্রাণপণ চেষ্টা করে উঠে এল ওপরে৷ অদম্য ইচ্ছা-শক্তি, বাঁচতে আমাকে হবেই৷ বুড়োর লাইব্রেরিতে এখন হাজারখানেক বই৷ একেবারে টাটকা৷ দাঁত পড়েনি একবারও৷ ওই বইয়ের একটা পাতায় লেখা আছে, আয়ু অল্প, বহু বিঘ্ন, অগাধ জ্ঞানভাণ্ডার, হাঁসের মতো জল থেকে দুধটুকু টেনে নিতে হবে৷ আমি ইঁদুর৷ আমার আয়ু ওদের চেয়ে আরও কম৷ আমার শত্রু অনেক৷ বেড়াল, কাক, পেঁচা, সাপ, ইঁদুরকল৷ ক’টা ইঁদুর আর স্বাভাবিকভাবে মরে! সবাই তো অপঘাতে শেষ হয়ে যায়৷ এই তো আমিই! এখুনি মরতে-মরতে বেঁচে এলুম আমাদের ভগবানের জোরে৷

ইঁদুরটা বড় ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল৷ সেই রাত বারোটা থেকে ক্রমান্বয়ে সাঁতার কেটে চলেছে৷ এখন প্রায় তিনটে৷ মানুষ হলে রেকর্ড করেছি, রেকর্ড করেছি, বলে গলায় পদক-টদক ঝুলিয়ে বসে থাকত৷ মরতে-মরতে বেঁচে ফিরে আসার অ্যাডভেঞ্চার কাহিনি লিখে ফেলত৷ সিনেমা হতো৷ হিরো বনে যেত৷ ইঁদুরের সংবাদপত্রও নেই, সাংবাদিকও নেই৷ একমাত্র উল্লেখ আছে সেই কবির লেখায় ঃ উই আর ইঁদুরের দেখো ব্যবহার৷

ইঁদুরও ক্লান্ত হয়, ইঁদুরেরও ঘুম পায়৷ এখন একটু বিশ্রাম দরকার ভেবে বাথরুমের ভেতরেই ইঁদুরটা একটা শান্তির জায়গা খুঁজতে লাগল৷ ইঁদুর বলে কি মানুষ নয়? দাদু যে বালতি থেকে জল ঢেলেছিলেন, কলের তলায় সেই বালতিটা ইতিমধ্যে শুকিয়ে এসেছে৷ মানুষেরই মাথামোটা হয়, ইঁদুর বুদ্ধিমান হলেও কোনও কোনও ইঁদুর বেশ গবেট৷ একগুঁয়ে৷ গণ্ডার না হয়ে ইঁদুর হলে যা হয়৷ এই ইঁদুরটাও সেই রকম৷ ভেজা ইঁদুরও লাফাতে পারে৷ সেটা সহজেই বোঝা গেল৷ ইঁদুরটাও বুঝতে পারল৷ যখন সে তিড়িং করে লাফ মেরে ওই খালি বালতিটায় গিয়ে পড়ল৷ মূর্খ জানে না, বালতি-বালতিই৷ বালতিটা খাট নয়৷ তার ওপর মাথার সামনেই কল৷ সেই কল আবার খোলা৷ খোলাই থাকে৷ ভোর ছটার জল এলে কেউ উঠুক না উঠুক বালতি ভরে থাকবে৷ শিয়রে শমন রেখে মানুষ ঘুমোতে না পারলেও ইঁদুর ঘুমোতে পারে৷ ‘বাঃ, কী সুন্দর ঠান্ডা-ঠান্ডা প্লাস্টিকের বাড়ি’ বলে ইঁদুরটা একপাশে শুয়ে পড়ল৷ মাথার ওপর বাথরুমের গোল আকাশ৷ আহা৷ ইঁদুরটার তখনও একটা সন্দেহ ছিল, ভিজে ইঁদুর কি কিছু কাটতে পারে৷ তা না হলে আর একটু লাফিয়ে বেসিনে উঠলে দাদুর পা পরিষ্কার করার স্পঞ্জটা পেত, একটা ছোবড়াও ছিল৷

ইঁদুর ঘুমুলে মানুষের মতোই অসহায়৷ শেষরাতে মানুষ গভীর ঘুমোয়, ইঁদুরও তাই৷ ছঁটার আগে ঘুম থেকে উঠলে ওই অবস্থা হতো না৷ ঠিক ছটায় তেড়ে জল এল৷ ধোঁয়ার মতো৷ ইঁদুর নায়েগ্রাপ্রপাত দাঁতে কেটেছে হয়তো! তাতে তো আর ঠিক ধারণা হয় না জিনিসটা কী! পিরামিডও কাগজের মতো খেতে, নায়েগ্রাপ্রপাতও কাগজের মতো৷ তফাত, কোনওটা আর্ট প্রিন্ট, কোনওটা হোয়াইট প্রিন্ট৷ এখন বুঝল নায়েগ্রা কাকে বলে৷ মাথায় যেন বাজ ভেঙে পড়ল৷ একেই বলে ক্লাউড বার্স্ট৷ ছ’লিটার বন্যা৷ বালতির মাপ ছ’লিটার৷ ছ’লিটার জলে ইঁদুরের আবার হাবুডুবু৷ যেখানে জল পড়ছে সেখানে ঘূর্ণি৷ সেই আকর্ষণে বালতির কানা থেকে থাবা ছেড়ে যাওয়ার মতো হচ্ছে৷ পিছনের পা দিয়ে সাঁতার কাটছে৷ সামনের হাত দুটো দিয়ে বালতির কানা ধরে আছে৷ তোড়ে জল পড়ছে৷ ইঁদুরের মৃত্যু ভয় আছে৷ কান দুটো পিছনে খাড়া৷ চোখ দুটো বেরিয়ে আসছে ঠেলে৷ চোঁচাঁ দৌড়লে মানুষের মুখ যেরকম সরু হয়ে যায়, এর মুখটাও তেমনি সরু দেখাচ্ছে৷

সাড়ে ছঁ’টার সময় দাদুই প্রথমে বাথরুমে ঢুকলেন৷ বেসিনে চোখ-মুখ ধুলেন৷ হাত দিয়ে অ্যা-অ্যা করে জিভ ছুললেন৷ এই শব্দটা শুনলেই বুঝতে হবে প্রভাত হল৷ পাখি ডাকে৷ দাদু অ্যা-অ্যা করেন৷ কলটা বন্ধ করতে গিয়ে দাদুর নজর পড়ল৷ বালতিতে এটা কী রে? অ্যা, সেই ইঁদুর৷ লোম-টোম ভিজে ছাল ছাড়ানো অবস্থা৷ আরে, ছি-ছি৷ তুই ব্যাটা প্যান থেকে উঠে এসে ফের বালতিতে পড়েছিস! তোর দেখছি নির্ঘাত জলে ডোবার ফাঁড়া আছে! একেই বলে মানুষের ভাগ্য৷ আমারও ওইরকম পাতকী যোগ ছিল৷ মাদুলি পরে বেঁচে আছি৷ তোর কোষ্ঠীও নেই, বাপ-মাও নেই৷ এতবড় এই বিরাট বিপদসঙ্কুল পৃথিবীতে এতটুকু একটা শরীর নিয়ে বাঁচা যায়? তার ওপর অত্যাচারী৷ কেউ যে ভালো চোখে দেখবে, সে-পথও রাখেনি৷

ইঁদুরের সঙ্গে কথা বলতে-বলতে দাদুর মনে হল, গল্পটা কত সত্যি৷ জলে ডোবা মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা না করে তীরে দাঁড়িয়ে তিরস্কার করা৷ উদ্ধারের কথা মনে হতেই দাদুর আবার ভীষণ ঘেন্না এসে গেল৷ ইস, প্যান থেকে এসে মুখ ধোওয়ার জলের বালতিতে পড়েছে৷ উত্তেজিত হলেই দাদুর ভাষা ভাবনা সব হিন্দিতে চলে যায়৷ ইসকো হাটাও, আভি হাটাও, সব বাহারমে ফেক দেও৷ রামখেলোয়ান, রামখেলোয়ান৷

দাদু বাথরুমের দরজা খুলে নটরাজের মতো নাচতে-নাচতে বেরিয়ে এলেন৷ সামনেই রামখেলোয়ান৷ হাতে তোয়ালে৷ ভেবেছিল বুড়াবাবু হয়তো তোয়ালে চাইছেন৷ দাদু বালতিটা দেখিয়ে বললেন, বিলকুল বাহার ফেকো৷

দরজা পেরোলেই বাগান৷ দাদুর কথা শেষ হওয়ামাত্রই রামখেলোয়ান পালোয়ানি শরীর নিয়ে এক ঝটকায় বালতিটা তুলে বাইরের বাগানে জলটা ফেলে দিল৷ পরিষ্কার তকতকে কচ্ছপের পিঠের মতো মাটি৷ চারপাশে জল গড়িয়ে গেল৷ রামখেলোয়ান জল ফেলে লাল বালতিটা করবী গাছের তলায় রাখতেই দাদুর খেয়াল হল, আরে, বাইরে তো কাক আছে, ওই তো পাঁচিলে বসে ডাকছে৷ সঙ্গে-সঙ্গে চিৎকার, ‘কাঁহা ফেকা?’

রাম বললে, ‘বাহারমে ফেকিয়ে দিয়েছি, যেমন বলিয়েছেন৷’

‘আরে মূর্খ, উসমে এক চুহা থা৷ কৌয়া লে যায়েগা৷ সর্বনাশ হো গিয়া!’

দু-জনেই ঊর্ধ্বশ্বাসে বাইরে ছুটলেন৷

রামখেলোয়ান বললে, ‘আপ য্যায়সা বোলা৷’

দাদু খুব রেগে বললেন, ‘হাম মুর্খ হ্যায় তো তোম গোমূর্খ হোগা৷’

পরিষ্কার মাটি৷ ঘাস-টাস ঝোপঝাপ কিছুই নেই৷ জল পড়ে ভিজে-ভিজে মাটি৷ ইঁদুরের চিহ্ন নেই৷ তিনটে কাক একটু আগে পাঁচিলে বসেছিল৷ কাক তিনটে আর নেই৷ দাদু হায়-হায় করে উঠলেন৷ ‘তোর জন্যেই প্রাণীটা বেঁচেও বাঁচল না৷ জলে ডোবা থেকে যদিও বা বাঁচল, কাকে নিয়ে গেল৷ পাষণ্ড, আভি নিকালো তোমকো হাম নেহি মাঙতা৷’

রামখেলোয়ান মুখ কাঁচুমাচু করে বাইরের রকে গিয়ে বসে রইল৷ দাদু নিজেই বাগানটা তন্ন-তন্ন করে খুঁজলেন৷ কোথাও নেই৷ আবার আমি৷ আমিই একটা প্রাণীর এতক্ষণের জীবনসংগ্রাম শেষ করে দিলুম৷ আমি এক যমদূত৷ হে প্রভু, আমি যদি জলে ডুবি, তাহলে আমাকে কেউ যেন এইভাবেই তুলে বাঘের মুখে ফেলে দেয়৷ আমি তোমাকে স্ট্যাম্প পেপারে লিখে দিয়ে যাব৷ আমার ওই সাজাই হওয়া উচিত৷

দাদু উদ্ভ্রান্তের মতো বাগান থেকে বাড়ি ঢুকলেন৷ খুব মন খারাপ৷ পা ধুয়ে তোয়ালেতে পা মুছলেন৷ পাশেই বিদ্যাসাগরী চটি৷ প্রথমে বাঁ-পা ঢোকালেন৷ তারপর ডান পা-টা ভালো করে মুছে জুতোতে ঢোকালেন৷ ডগার দিকে নরম মতো কী একটা নড়ে উঠল৷ শুধু নড়লই না৷ চিক করে আওয়াজ করে উঠল৷ পা বের করে উলটে-পালটে পা-টাকেই ভালো করে দেখলেন৷ মানুষের পা তো চিকচিক করে ডাকে না৷ তবে কি জুতো ডাকছে? জুতোর সামনে থেবড়ে বসে পড়লেন৷ সেই ইঁদুর৷ জুতোর ভেতর ঢুকে গুটিসুটি মেরে বসে আছে৷

‘রামখেলোয়ান, এই রামখেলোয়ান৷’ বাজখাঁই চিৎকার৷ একটু আগেই যার চাকরি গিয়েছিল, সে দৌড়ে এল৷ সারাদিনে বেচারার মিনিটে চাকরি যায়, আবার হয়৷ দাদুর নির্দেশে সে সাবধানে চটিটা তুলে নিল৷ দাদু বললেন, ‘সামালকে, উসকা ভিতর সেই বীর চুহা হ্যায়৷ চলো৷’

‘কাঁহা চলেগা বড়া সাব৷’

‘তোমহারা ঘর৷’ বাইরের দিকে রামের ঘরে, সেই ঘরে জুতাসুদ্ধু ইঁদুর থাকবে৷ একদম ডিসটার্ব করা চলবে না৷ সন্ধের দিকে সুস্থ হয়ে নিজেই চলে আসবে দাদুর লাইব্রেরিতে৷

সামনে রামখেলোয়ান চলেছে জুতো হাতে৷ ভেতরে ভিজে ইঁদুর৷ পিছনে দাদু চলেছেন পাহারাদার৷ বলা যায় না, রাম যদি ফেলে দেয়৷ রাম বললে, ‘এ চিজ কাঁহাসে আয়া জি?’

দাদু গম্ভীর গলায় বললেন, ‘মুলুকসে৷’

সকল অধ্যায়
১.
সেই রাত
২.
হেডস্যারের মায়াজাল
৩.
রেখা
৪.
নিরঞ্জন স্যার
৫.
নবেন্দুর দলবল
৬.
জনার্দনের জরদার কৌটো
৭.
হাসি কান্না চুনি পান্না
৮.
রাবণবধ
৯.
হেডস্যারের সমাজসেবা
১০.
এক রাজার গল্প
১১.
রসবড়া
১২.
বাঘের সার্কাস
১৩.
সাইকেল বিভ্রাট
১৪.
দেশি সাহেব,বিলিতি নেড়ি
১৫.
বেত আর বাত
১৬.
এই সেই বাড়ি
১৭.
কাঁঠাল
১৮.
আমি অন্তহীন
১৯.
আনারকলির উপহার
২০.
আছে কোথাও
২১.
ঘুরঘুরে
২২.
অঞ্জলি
২৩.
অঙ্কই ভগবান
২৪.
দিদি
২৫.
সিঁড়ি
২৬.
পেয়ারা গাছ
২৭.
কণ্ঠস্বর
২৮.
সাটিন-ভেলভেট
২৯.
বন্ধু
৩০.
অরণ্যের উপকথা
৩১.
শেষ গোলাপ
৩২.
অনুসন্ধান
৩৩.
শান্তি
৩৪.
অংশীদার
৩৫.
টপ সিক্রেট
৩৬.
প্ল্যাটফর্ম
৩৭.
সাগর
৩৮.
রামুদা
৩৯.
হেডস্যার
৪০.
হেডস্যারের জুতো
৪১.
আলোর নিচেই অন্ধকার
৪২.
সে এক কাণ্ড
৪৩.
দাদুর কাঁঠাল
৪৪.
দাদুর ইঁদুর
৪৫.
দাদুর দ্বিতীয় ইঁদুর
৪৬.
দাদুর দাঁদানো বাঁত
৪৭.
দাদুর বেড়াল
৪৮.
দাদুর বাগান
৪৯.
অহিদার চোরধরা
৫০.
আমি ও টম
৫১.
টম আর দুলী
৫২.
বাবার বাবা
৫৩.
গোল
৫৪.
উদ্ধার
৫৫.
আজও দাঁড়িয়ে আছি
৫৬.
দুখপাইয়ে তো সুখ লাগাইয়ে
৫৭.
জ্ঞানী
৫৮.
দিদি আর পিকলু
৫৯.
শেষ খাওয়া
৬০.
নির্জন বনপথ
৬১.
ঋণ শোধ
৬২.
নতুন ফসল
৬৩.
অরূপ যাত্রা
৬৪.
পয়সার ফয়সালা
৬৫.
ফানুস
৬৬.
বালির ওপর পোল
৬৭.
বাঘমারি
৬৮.
কুশলের সাইকেল
৬৯.
আমিই গোয়েন্দা
৭০.
ফেরা
৭১.
গোলকিপার
৭২.
সন্ধান
৭৩.
ফুল হয়ে ফোটার কালে
৭৪.
কৃপা
৭৫.
বড় বিল
৭৬.
রকেট
৭৭.
দুটো বেজে পাঁচ
৭৮.
সোনার হরিণ
৭৯.
বিচার
৮০.
অনাথ
৮১.
ভোলা
৮২.
আগুন
৮৩.
ডানাকাটা পাখি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%