প্রীতম বসু
কাল প্রাণনাথের কথা বলতে বলতে ছিদাম বায়েন হাঁফিয়ে যাচ্ছিল কিন্তু একটু জিরিয়ে আবার বলছিল। এখন ট্রেনের জানলায় বসে কলকাতা ফেরার সময় বাইরের ছুটে চলা অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে আছে পদাবলী, মনে ভাসছে প্রাণনাথ কীর্তনীয়ার কাহিনী -
কাঁকিনাড়া স্টেশনে প্রাণনাথ টের পেল এখানেও ওর পিছনে ইংরেজ পুলিশের টিকটিকি লেগে গেছে। প্ল্যাটফর্মে একটু খালি জায়গা দেখে কাঠের বেঞ্চিতে বসল প্রাণনাথ। কোলে শ্রীখোল, মাথা ন্যাড়া, কপালে চন্দনের প্রলেপ, নাকে রসকলি, মাঝে মাঝে ঠোঁট না ফাঁক করে গুনগুনিয়ে দু‘কলি কীর্তন কেউ ধরিয়ে না দিলে কে বলবে এই লোকটা একজন কীর্তনীয়া নয়। হাসি হাসি মুখে একজন বাউল প্রাণনাথের পাশে এসে বসল - ‘গোঁসাই, কলকাতায় কীর্তন গাইতে চললে বুঝি?” -
বাউল দুহাতে একতারা ধরেছে? প্রাণনাথ সাবধান হল। ‘নাঃ,’প্ৰাণনাথ বলল। ‘ইট-পাথরের মধ্যে কীর্তন গাইতে মন চায় না, ভাই।’ “কেন?” বাউল বলল।
“শহরের লোকের মনে ভক্তিই নেই। ভক্তি থাকলে তো কীর্তনের রস বুঝবে।
‘তা ঠিক, বাউল বলল।
বাউলের দৃষ্টি অস্বস্তিকর লাগল প্রাণনাথের। সামনে একজন গুঁফো হাটুরে মানুষ এসে দাঁড়াল। প্ল্যাটফর্মে এরকম কৌতূহলী লোকের আগমন অস্বাভাবিক কিছু নয়, কিন্তু এই লোকটা ওর দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে যেন মাছের বাজারের খদ্দের মাছটা কিনবে কিনা দেখছে।
“তা, তোমার ঘরানাটা কী? গড়াণহাটি?’ বাউল আবার প্রশ্ন করল। ‘মনোহরসাই বেশি গাই।’
উত্তর শুনে টিকটিকিটা একটু দমে গেল। হিসেবে মিলছে না। প্রাণনাথ ততক্ষণে বলে চলেছে - ‘হিজলতলায়, ভাঙা আলে, বটের শিকড়ে, খাল-বিলে বেতন ঠেলা জেলে-নৌকার পাটায় বসে দেহাতি লোকের মাঝে কীর্তন গান গেয়ে বেড়াই আমরা। এখানে কি আর গড়াণহাটি চলে?” প্রাণনাথ দু‘কলি গুনগুন করে গাইল – -
‘না পুড়াইও রাধা অঙ্গ
না ভাসাইও জলে
মরিলে বান্ধিয়া রেইখো তমালেরি ডালে … গো’
তারপর এক ভুবনমোহিনী হাসি দিল প্রাণনাথ। এই হাসি দেখলে কে বলবে এই ছেলে ক’দিন আগে পার্ক স্ট্রীটে ম্যাকেঞ্জি লিয়াল অ্যাণ্ড কোং অকশন হাউসের সামনে বোমা ফাটিয়ে সাহেব মেরেছে। ‘তবে হ্যাঁ, রসজ্ঞ শ্রোতৃসমাজ আর মজলিস পেলে গড়াণহাটি যে দু‘কলি গাইতে পারব না তা না। গুরুর কাছে গড়াণহাটি শিখেই তো কীর্তনের হাতেখড়ি।’ ‘গুরু’ শব্দটা বলার সময় কানের লতিতে দু-আঙুল ছোঁয়াল প্রাণনাথ। ‘তা তুমি এই গাবগুবাগুবটাতে লাগাও না ঝংকার ভাই, তোমার মিঠে গলাটা শুনি।’
বাউল যেন পড়ল বিপাকে। ‘আজ না পরে একদিন’ করে এড়াল আর চোখে চোখে যে তার ইশারা হয়ে গেল সামনের গুঁফো হাটুরে লোকটির সঙ্গে তা প্রাণনাথের ঝানু নজর এড়াল না।
চন্দননগর থেকে বেরোনো খুব একটা সহজ ব্যাপার ছিল না। পুলিশ খুব সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অকশন হাউসে ড্যানিয়েল সাহেবের ভাইয়ের হত্যার পর থেকে ড্যানিয়েল নাকি পাগলা কুকুরের মত ক্ষেপে গেছে। একটু সন্দেহ হলেই জেলে পুরছে। স্টেশন, বাসস্ট্যাণ্ড, গঙ্গার খেয়াঘাট সর্বত্র পুলিশের টিকটিকি। কাল রাতে ঝুলফি, গোঁফ, দাড়ি, বাবরি চুল চেঁচে কীর্তনীয়ার ছদ্মবেশ ধরে মাঝরাতে রওনা দিয়ে চুঁচুড়ার লঞ্চঘাট। সেখানে থেকে খেয়া পার হয়ে নৈহাটি। ট্রেনের কামরায়ও টিকটিকি! বাধ্য হয়ে কাঁকিনাড়ায় ট্রেন থেকে নেমে পড়তে হয়েছিল। কিন্তু এই সাত সকালেও টিকটিকিটা পিছন ছাড়ছে না। বাউলটার সন্দেহ যে যায় নি সেটা ওর কপালের রেখাতে স্পষ্ট পড়তে পারছে প্রাণনাথ।
কয়লার ধোঁয়া উড়িয়ে ভসভস করতে করতে ট্রেন এসে থামল প্ল্যাটফর্মে। খোল গলায় ঝুলিয়ে প্রাণনাথ যে কামরায় উঠল, বাউলও একই কামরায় উঠল। ওদের পশ্চাদনুসরণ করে ট্রেনে উঠল সেই গুঁফো হাটুরে। ট্রেন চলতে শুরু করায় বাউল এবার নাড়ির খবর নিতে লাগল-‘তোমার বাড়ি কোথায়, গোঁসাই?”
প্রাণনাথ লোকটাকে এড়ানোর জন্য চোখ বুজে জপ করার ভান করল। কিন্তু লোকটা ঘাঘু। প্রাণনাথকে বলল - ‘এতক্ষণ ধরে জপ করছ?”
প্রাণনাথ চোখ খুলে প্রশান্ত মুখে বলল, ‘যে বৈষ্ণব লক্ষ বার হরিনাম না করতেন, চৈতন্য মহাপ্রভু তার ঘরে অন্নগ্রহণ করতেন না। জগাই মাধাই বৈষ্ণব হয়ে প্রতিদিন দু‘লক্ষ বার জপ করতেন, হরিদাস ঠাকুর তিন লক্ষ।’
‘তুমি কত লক্ষ বার কর?’
“আগে অনেক বার নাম-জপ করতাম,’ প্রাণনাথের ঠোঁটে স্মিত হাসি। কিন্তু কীর্তনের রসের আস্বাদ যেদিন থেকে পেলাম সেদিন মনে হল নাম-জপ বড় শুকনো। কীর্তন যেন গরমের দিনের কালবোশেখির মত সব শুকনো পাতা উড়িয়ে মনে বাদলধারা ঢেলে দিলে গো, একদম ভিজিয়ে দিলে। সেই ভেজা গা আর শুকালো না। তারপর প্রাণনাথ গেয়ে উঠল –
‘না জানি কতেক মধু, শ্যাম নামে আছে গো
বদন ছাড়িতে নাহি পারে।”
“কোথায় যাচ্ছ সেটা বলবে না গোঁসাই?”
‘কেন বলব না?” প্রাণনাথ বলল। ‘এক বুড়ি কীর্তনীয়া রাগ-অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে পথে নেমে নাকি মরতে বসেছে। তাকেই খুঁজতে যাচ্ছি গো। শুনলাম তাকে নাকি শেয়ালদায়ে দেখা গেছে। দেখি পাই কিনা ওকে। তারপর দেখি শ্রীকৃষ্ণ কী আদেশ দেন।
উত্তরটা মনঃপূত হল না বাউলের। বাকি রাস্তাটা সে অন্যমনস্ক। শিয়ালদায় ট্রেন থামল। প্রাণনাথের পিছন পিছন নামল বাউল। প্রাণনাথ বুঝল এ ব্যাটার সন্দেহ খুব গাঢ় হয়ে উঠেছে। বাউল ওর গায়ে পিরীতি কাঁঠালের আঠার মত সেঁটে গেছে। একে ছাড়ানো খুব মুশকিল।
প্ল্যাটফর্মে এবার বাউলের পরিচিত দু‘জন মানুষ বাউলের সঙ্গ নিল। টিকটিকিদের দল ভারী হচ্ছে। বাউল এবার প্রাণনাথের কাছে এগিয়ে এসে বলল, “চল তোমার সঙ্গে আমিও খুঁজি তোমার বুড়ি কীর্তনীয়াকে। ‘
ওদের সন্দেহ ঘনীভূত হয়েছে, প্রাণনাথ ভাবল। পিছনে অন্ততঃ চারজন আসছে। এখন পালাবার কোনও পথ নেই। একে বারণ করলে এর সন্দেহ আরও বাড়বে। এরা এখন প্রাণনাথের মুখ চোখের ভাব দেখে ধরে ফেলবে সে মেকি কীর্তনীয়া কিনা। প্রাণনাথ হেসে বলল, ‘তাহলে তো খুব ভাল হয়, ভাই। এ শহরে এত ভিড়ে কোথায় খুঁজব?” বাউল
বাউলের সঙ্গে প্রাণনাথ এগোতে লাগল। প্রাণনাথের চোখ চারদিকে ঘুরছে। উৎকণ্ঠায় গলা শুকিয়ে গেছে। বুড়ি গেল কোথায়? বাউল একটু এগিয়ে গেল। এবার সেই গুঁফো হাটুরে প্রাণনাথের পাশে পাশে এসে বিড়বিড় করে বলল, ‘ওই বাউলটা টিকটিকি, ওকে সাবধান।’ প্রাণনাথ ভালই জানে যে কে টিকটিকি আর কে টিকটিকি না। ও অবাক চোখে তাকাল হাটুরের দিকে ‘এই পেলাটফর্মে টিকটিকি আসতে যাবে কেন? টিকটিকি তো থাকে দেওয়ালে।’ প্রাণনাথ জানে ওদের এই অস্ত্র বিফলে গেল, এবার ওরা হয়তো ওকে সোজা থানায় আসতে বলবে। বুড়ি ঠাকুমা গেল কোথায়? -
প্ল্যাটফর্ম যেখানে শেষ হয়েছে সেখানে একটা থামের পাশে দেখা গেল একটা হাড় জিরজিরে বুড়ি ভিখারিনীকে। বুড়ির গলা থেকে চিঁ চিঁ আওয়াজ আসছে। প্রাণনাথের হাড়ে বাতাস লাগল। ‘পেয়েছি,’ প্রাণনাথ খুশিতে বলল। ‘এই বুড়ি?”
‘হ্যাঁ গো, প্রাণনাথ হাওয়ায় প্রণাম করে বলল, জয় রাধেকৃষ্ণ।
‘কী হয়েছে বুড়ির? কাঁদছে?’ বাউল জিজ্ঞেস করল প্রাণনাথকে
‘কাঁদবে কেন গা, কীর্তন গাইছে,’ প্রাণনাথ ভুবনমোহিনী হাসি দিল - এ গানের কলি হল রোদনরসে চোবানো। কিন্তু সেই রোদন হল রুরুদুঃ সুস্বরং গোপীদের কৃষ্ণবিরহের করুণ রোদন গান - আহা মরি, সহচরি, হায় কি করি, কেন এ কিশোরীর সুশর্বরী প্রভাত হল - প্রাণনাথ এগিয়ে গেল বুড়ির দিকে। ইতস্ততঃ পায়ে পিছনে পিছনে বাউল।
বুড়ির সামনে এসে প্রাণনাথ থামল। প্রাণনাথ বাউলকে ফিসফিস করে বলল, ‘কবি কৃষ্ণকমল।’ প্রাণনাথ এত নিচু গলায় বিড়বিড় করল যে বাউল শুনতে পেল না।
“আজ্ঞে?”
“পাঁচটা “রি” কেমন বিনিয়ে বিনিয়ে গাইছে দেখছ, মনে হচ্ছে বিরহী কোকিল তার সঙ্গীকে ডেকে চলেছে।’
“পাঁচটা রি?”
“ওই যে মরি, সহচরি, করি –
‘আচ্ছা আচ্ছা, বুঝেছি,’ বাউলের এখন কাব্যে বিরক্ত লাগছে।
বুড়ির সামনে তোবড়ানো হিণ্ডালিয়ামের বাটিতে পথচারীদের দয়া মাখানো কিছু খুচরো পয়সা। প্রাণনাথ বুড়ির সামনে উবু হয়ে বসল। ‘দিদিমা, ও দিদিমা, ‘ প্রাণনাথ বৃদ্ধার শীর্ণ কাঁধ স্পর্শ করল। ‘এত ভাল কীর্তন কোথা থেকে শিখলে গা?”
বুড়ি এবার চোখ মেলে তাকাল। ঘোলাটে দৃষ্টি। অধর ফাঁক হল, বুড়ির ওষ্ঠে ক্লান্ত হাসি, সামনের উপরের সারির দুটো মাত্র দাঁত অবশিষ্ট। নিচের সারিতে তাও নেই। ‘এট্টু জল দেবে?”
- প্রাণনাথ বুড়ির ঘটি নিয়ে উঠে গেল প্ল্যাটফর্মের কলে। সেখান থেকে ঘটি ভরে জল এনে বলল ‘খাও।’ প্রাণনাথ বুড়ির আঁজলায় জল ঢালল। বুড়ি চোঁ চোঁ করে জল টেনে নিল, তারপর ছেঁড়া ন্যাতার মত আঁচল দিয়ে মুখ মুছে বলল, “আঃ, বেঁচে থাক বাছা।’
বাউল এবার পকেট থেকে পয়সা বের করে বুড়ির বাটিতে ফেলল। বুড়ি পয়সাটা তুলে ওর ঘোলাটে চোখের কাছে এনে বলল, ‘সিকি! বাবা, তুমি তো উচ্চকোটি বাউল হে। তোমায় দেখে তো মনে হয় না চারিচন্দ্র-ভেদ খাওয়া লোক তুমি?’
‘কী খাওয়া?’ বাউল অপ্রস্তুত হল।
‘ক্যামন বাউল হে তুমি? পদ্মবীজের মালা গলায় ধারণ করেছ অথচ চারিচন্দ্র জানো না?” বুড়ি অনুযোগের স্বরে বলল।
প্রাণনাথ মনে মনে হাসল। ঝুলি থেকে কাগজে মোড়ানো চারটে নারকোলনাড়ু বের করে দিল, “খাও দিদিমা।’
বুড়ি লোলুপ দৃষ্টিতে দেখল আর পরক্ষণেই দুটো দাঁত দিয়ে নাড়র ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। তাড়াতাড়ি গিলতে গিয়ে গলায় আটকে বুড়ি কাশতে লাগল। প্রাণনাথ বুড়ির পিঠে ধীরে ধীরে থাপ্পড় মারতে লাগল। ‘জল খাও।’
‘ভোকছানি লেগে গেছে,’ বুড়ি কাশতে কাশতে বলল। কিছুক্ষণের মধ্যে বুড়ি ধাতস্থ হল। শরীরে কিছু গুড় গিয়ে মনে হল যেন বুড়িকে একটু চাঙা করে তুলল। বুড়ি এবার ওর খঞ্জনিতে ঝিনঝিন আওয়াজ তুলে বলল, ‘একটা কীর্তন গাই?’
টিকটিকিটাকে তাড়াতে প্রাণনাথ বলল, ‘তোমার কষ্ট হবে না?’
‘কীসের কষ্ট?” বুড়ি বলল। ‘জপিতে জপিতে নাম অবশ করিল গো, গেয়ে দিল বুড়ি। ‘কৃষ্ণ নামে আমার সকল ইন্দ্রিয় অবশ হয়ে যায়। তখন সব ব্যথাযন্ত্রণা-ক্ষুধা সব কিছু যেন প্রভু ভুলিয়ে দেয়। অলৌকিক পরমানন্দ। আহা। আমার বাকরুদ্ধ হয়ে যায়, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়। ভয় হয় কৃষ্ণ দরশন অভিলাষী এই পোড়া দু‘চোখ যেন নষ্ট না হয় -
‘সর্ব অঙ্গ খেয়োরে কাক, না রাখিও বাকি
কৃষ্ণ দরশন লাগি রেখো দুটি আঁখি।’
বাউল ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে। প্রাণনাথ সেদিকে আড়চোখে তাকিয়ে বুড়ির দিকে মনোযোগ দিল - ‘থাক থাক আর মাথুর গাইতে হবে না। তোমার জন্য সেই নৈহাটি থেকে আসছি গো।’
‘আমার জন্য? কেন গা?”
‘অভিমান করে বাড়ি ছেড়েছ, তোমার মেয়ে-জামাই তোমায় কোথায় কোথায় না খুঁজছে। তারপর নবদ্বীপে এক আখড়ায় তোমার জামাই আমায় ধরে বললে সে শুনেছে তোমায় নাকি শেয়ালদা ইস্টিশনে দেখা গেছে। বললে গোঁসাই তুমি মা‘রে এট্টু ফিরিয়ে আন। আমি গেলে মা কিছুতেই আসবে না। তাই তো এলুম।
চল তো এখন বাড়ি, অনেক হয়েছে।’ তারপর প্রাণনাথ বাউলটাকে বলল, ‘ভাই, আপনি আমার সঙ্গে চলুন না, দিদিমাকে গ্রামে পৌঁছে দিই।’
বুড়ি ফোকলা কালচে মাড়ি বের করে হেসে বলল, “তাহলে খুব ভাল হবে। রেলগাড়িতে বসে বাউল গান শুনব। চল ভাই, তুমিও আমাদের সঙ্গে চল।’
তারপর সুর করে এক কলি গেয়ে দিল বুড়ি – ‘চল সজনী যাই গো নদীয়ায়’ এবার বাউল বড় ব্যস্ত হয়ে পড়ল “না ভাই, আজ আমার শহরে কিছু দরকারি কাজ আছে। তুমি যাও।’ বাউল তাড়াতাড়ি অন্যদিকে হাঁটা লাগাল। বাউলের পিছনে যারা জুটেছিল তারাও এদিকে ওদিকে অন্তর্হিত হল। -
‘কী মিষ্টি গলা তোমার দিদিমা!” প্রাণনাথ বলল। ‘চল তোমায় ট্রেনে তুলে দিই।’ প্রাণনাথ বুড়িকে ধরে ধরে তুলল। নিমেষে বুড়ির মুখে এক স্বর্গীয় হাসি ফুটে উঠল। প্রাণনাথের কানের কাছে মুখ নিয়ে নিচু গলায় বলল, ‘পিস্তলটা ঠিকমত আছে তো খোলের ভিতর?”
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন