প্রীতম বসু
কুমুদরঞ্জন মাঝেমাঝেই তাঁর হাবভাবে বুঝিয়ে দেন যে প্রাণনাথকে তিনি একদম সহ্য করতে পারছেন না। কোনও খুনীকে ক্ষমা করে দেওয়া তাঁর পক্ষে কিছুতেই সহজ হচ্ছে না। উনি সারাদিনে একবারের জন্যও প্রাণনাথের সঙ্গে দেখা করেন না। মৃদঙ্গম তাঁর জীবনের আনন্দের প্রদীপের সলতে ছিল। সেই প্রদীপ নিভে যাওয়ায় তাঁর মনে যে আঁধার সৃষ্টি হয়েছে, তা কাটিয়ে বেরিয়ে আসতে পারছেন না উনি। সারাদিন নীলমাধবের মন্দিরে কাটিয়েও তাঁর মন আলোকিত হচ্ছে না। আর ওঁর এই অবস্থার জন্য প্রাণনাথকেই উনি দায়ী বলে মনে করছেন।
আজ কুমুদরঞ্জনের শরীর ভাল না। তিনি সকালের পুজোর পর মন্দির থেকে মন্দিরা আর ছিদামের সঙ্গে বাড়ি ফিরে এলেন। বাড়ি ফিরে ছিদাম উৎসাহের সঙ্গে বলল, “মন্দিরাদিদি, আজ তুমি তাহলে বাইরে পাহারা দাও, আমি প্রাণনাথদাদাকে সনাতন কীর্তনের তালটা দেখিয়ে দিই?
“ওকে কী দেখিয়ে দিবি?’ বিরক্ত কুমুদরঞ্জনের ভ্রূ কুঞ্চিত।
ছিদাম থতমত খেয়ে গেল। ওকে বাঁচাতে এবার মন্দিরা এগিয়ে এল ‘প্রাণনাথদা এবার ধুলটে দাদার জায়গায় সনাতন কীর্তন গাইবে।’ -
‘কী আবোল-তাবোল বলছিস? তিন হাজার লোকের সামনে কীর্তন গাইবে ওই নাস্তিক? কীভাবে?’ কুমুদরঞ্জন তীব্র আপত্তি জানালেন। ‘ওর গলায় তো একরত্তি ভক্তি নেই। অত ভক্ত আসবে, তারা যদি এই শুকনো ভক্তিহীন কীর্তন শোনে, তবে কী ভাববে বল তো? আমি মনে মনে ঠিক করেই রেখেছি যে অধিবাসে ওই গৌরচন্দ্রিকা কীর্তন এবার তুই গাইবি।’
প্রাণনাথের নিজেকে খুব অপরাধী বোধ হচ্ছিল। ও খড়ুটি ঘরের ভিতর থেকে জানলায় দাঁড়িয়ে অপরাধীর মত বলল, “আমি নিশ্চয়ই পারব।
‘ধুলট নাস্তিকদের উৎসব নয়। ভক্তি চাই। ভক্তের আকুতিতে পরিপূর্ণ বিশ্বাস থাকলে দয়াময় ঈশ্বর সাড়া না দিয়ে পারেন না। নিজের চোখে তো দেখলে, নীলমাধব ভক্তের ডাকে সাড়া দিয়ে কীভাবে নিজেই ধুলটের ব্যবস্থা করিয়ে দিলেন।’
‘তা ঠিক বলেছেন,’ প্রাণনাথ তর্ক করল না। ‘আর তাছাড়া আমার ক্ল্যাসিকাল সংগীতের কোনও তালিমও তো নেই।’
‘কীর্তন গান উচ্চাঙ্গ সংগীত নয়, কুমুদরঞ্জন গলা চড়িয়ে বললেন। ‘মার্গসঙ্গীতের রস ডুবে থাকে ওর তান লয়ে, কথা অতটা গুরুত্বপূর্ণ না। কিন্তু আমাদের কীর্তনে ভাব আর ভক্তি হল আখের রস। আখের কলের চাকা ঘুরিয়ে আখ পিষলে অন্যদিক দিয়ে রস বেরোয়। ঢাকার যতই ক্যাঁচক্যাঁচানি থাকুক, আখে রস থাকলে সে ওই নিষ্পেষণে ঠিক বেরিয়ে আসবে। সেরকম আমাদের মনে ভক্তি থাকলে তার রস আমাদের দু‘চোখ দিয়ে টপটপ করে ঝরিয়ে ছাড়বে।’ কুমুদরঞ্জন শ্বাস নিলেন। ‘গায়ক, বাদক, শ্রোতা ভক্তিরসের টানে ভেসে না গেলে কীর্তন সার্থক হল না। ভক্তের কাছে কীর্তনের মূল্য শুধু গান না, আধ্যাত্মিক খিদে মেটানোও। তোমার গানে সেই ভক্তিরস কোথায়?” কুমুদরঞ্জনের গলায় বিরক্তি।
‘তুমি চিন্তা কোরও না বাবা,’ মন্দিরা অভয় দিল। ‘যদি প্রাণনাথদার কীর্তন তোমার পছন্দ না হয় তাহলে আমি গেয়ে দেব অধিবাসের সনাতন-কীর্তন।’ একথা শুনে কুমুদরঞ্জনের মুখের বিরক্তির ছাপ অন্তর্হিত হল “বেশ। তবে আমি শুনে সে বিচার করব।” -
‘ঠিক আছে বাবা, তাই হবে, তবে প্রাণনাথদাকে সনাতন কীর্তন তালে গাইতে হবে। তাই ওই তাল ওর শিখে রাখা খুব দরকার। ছিদাম, তুই প্রাণনাথদাকে তালগুলো শেখা ৷ ‘
ছিদাম আড়ষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছিল, কে জানে যদি গোঁসাইজ্যাঠা আবার ধমক দেয়। মন্দিরা ছিদামকে এবার তাড়া লাগাল, ‘ছিদাম, দাঁড়িয়ে আছিস কেন? যা তাড়াতাড়ি!”
মন্দিরা বাড়ির বাইরে গিয়ে পাহারায় দাঁড়াল। ছিদাম খড়টি ঘরে ঢুকে প্রাণনাথকে বোঝাতে শুরু করল, ‘অষ্টতালের প্রথম তাল হল আড়। জোড়াছুটের সব তালের মধ্যে সবচেয়ে ছোট হল এই তাল। দ্রুতগতিতে পাঁচমাত্রা ধো দিত্তা ধোগা তি তারপর কোশী।’ ছিদাম খোলে বার বার বাজিয়ে শোনাল আর সেই সঙ্গে মুখে পাট বোল দিতে লাগল। -
প্রাণনাথ বুঝে পেল না এর সঙ্গে সনাতন কীর্তনের রহস্য উদ্ঘাটনের কী সম্পর্ক হতে পারে? তবু ও কাগজে লিখে চলল। এই মুহূর্তে দুপ্লে কলেজের রেকর্ড মার্ক্স পাওয়া ফার্স্টবয়ের মেধা কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে।
‘দ্বিতীয় তাল দ্রুতগতিতে “দোজ”, ছিদাম বলল। ‘আমি বাজাচ্ছি শোনো। ধো গুরর ধোগগা তিঝা তিনিনাও তিনাও তারপর একটা কোশী। ছিদাম দু‘বার খোলে চাপড় দিয়ে বাজিয়ে শোনাল আর মুখে বলে চলল। প্রাণনাথ ওর কাগজে লিখে চলল। এভাবে সকল তালের সঙ্গে পরিচয় হয়ে গেল। প্রাণনাথ ওর কাগজের দিকে তাকাল। ও তালাঘাতগুলোকে যোগ আর কোশীগুলোকে বিয়োগ চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত করেছে –

“ব্যাস ব্যাস, অনেক হয়েছে তোর মাস্টারি,’ বাইরের দাওয়ায় কুমুদরঞ্জনের বিরক্ত গলা। বেরিয়ে গিয়ে তোর বাপের দেখাশোনা কর। সেটা কাজের কাজ হবে। অকাজে সময় নষ্ট করিস নে।’
ছিদাম বাইরে চলে গেল। এবার প্রাণনাথ নোটবই থেকে সনাতন কীর্তনের পাতাটা খুলে বসল। মোট চারটে লাইন। প্রাণনাথ তালগুলোর যোগ-বিয়োগ চিহ্নগুলো লিখে তার নিচে নিচে সনাতনের কীর্তনের অক্ষরগুলো লিখে লিখে বসাল –

প্রাণনাথ এবার নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে লাগল। প্রাণনাথের মনে হল শুধু “+” চিহ্ন ধরে ও যদি এগিয়ে যায় তাহলে কী পায়? প্রথম লাইনটা সেভাবে সাজিয়ে পড়তেই প্রাণনাথের গায়ের রোম খাড়া হয়ে গেল।

করতালতলী ! তার মানে সনাতন কীর্তনের এই সাংকেতিক ভাষা সে ধরতে পেরে গেছে?
প্রাণনাথ পরের লাইনগুলোতেও লিখে ফেলল যোগ-বিয়োগের চিহ্ন।

+
প্রাণনাথের সারা শরীর শিউরে উঠল। ও এখন পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছে –
করতালতলী
নীলমাধব খণ্ডিতে দুই
বহির্গমনে চিতার গোপন পাতাল দ্বার
তার মানে করতালতলী নীলমাধব দ্বিখণ্ডিত হলে প্রকাশ পাবে মন্দিরের নিচে গোপন পথ? সেই পাতাল পথ তো প্রাণনাথ নিজের চোখে দেখে এসেছে। কিন্তু কীভাবে সেই পথে ঢুকবে? এখানে তো তা লেখা নেই। নীলমাধবকে কি দ্বিখণ্ডিত করলে সে পথ দেখা যাবে? কিন্তু কীভাবে দ্বিখণ্ডিত করা যাবে?
বহির্গমনে চিতার গোপন পাতাল
হঠাৎ সুড়ঙ্গের তেলের কথাটা মনে পড়ল প্রাণনাথের। প্রাণনাথ মন্দিরাকে ডাকল। ‘নীলমাধবের মন্দিরে ঠাকুরের পুজোয় কি তেল ব্যবহার করা হয়?”
‘ঠাকুরের পুজোয় হয় না,’ মন্দিরা বলল। ‘তবে প্রত্যেক বছর জন্মাষ্টমীর দিন নীলমাধবের মাথায় তেল ঢেলে নীলমাধবকে তেলে স্নান করানো হয়।’ * তেলে স্নান করানো হয়? কেন?”
‘তেমনটাই নাকি সনাতন বায়েন নির্দেশ দিয়ে গেছিল। মন্দির তৈরি করার সময় নীলমাধব নাকি তাকে সেরকমই স্বপ্নে নির্দেশ দিয়ে গেছেন যে কৃষ্ণের জন্মদিনে নীলমাধবের মাথায় তেল ঢেলে তাঁকে স্নান করাতে।
‘আজ সন্ধ্যারতির সময় মন্দিরে গিয়ে একটা কাজ কোরো তো,’ প্রাণনাথ বলল, ‘নীলমাধবের মাথায় একবার ভালভাবে হাত বুলিয়ে এসো তো।’ “কেন? মাথায় হাত বুলিয়ে কী হবে?”
“দেখ তো নীলমাধবের মাথাটা মসৃণ কিনা। তারপর আমায় এসে জানিও।’ মন্দিরা অবাক চোখে তাকিয়ে ঘর থেকে বেরোল, নীলমাধবের মাথাটা মসৃণ কিনা ! মন্দিরার মনে সন্দেহ হচ্ছে। নিঃসঙ্গতায় এই লোকটার মসৃণ মাথাটা বিগড়ে গেল না তো?
***
সন্ধ্যারতির পর মন্দিরা বাড়ি ফিরে এল উত্তেজিত হয়ে - ‘তুমি কীভাবে জানলে প্রাণনাথদা? আমি এত বছর মন্দিরে যাই অথচ আমি জানতামই না!” ‘কী বলছ বুঝতে পারছি না।’
‘নীলমাধবের মাথা মসৃণ না। আমি হাত বুলিয়ে দেখলাম মাথার তালুতে সাত-সাতটা ছিদ্র আছে। খু-উ-ব সরু, হাত না বোলালে বোঝাই যেত না।’
‘ঠিক আন্দাজ করেছিলাম,’ প্রাণনাথ উৎফুল্ল। ‘ওটা সনাতন চাবিওয়ালার তালা। যশোরের রাজবাড়ির ফ্রেমে বাঁধানো ছবির সিন্দুকের মত সনাতন কীর্তনীয়ার হাতের আরেকটা মাস্টারপিস। নীলমাধবের মাথার ওই সাতটা ছিদ্রগুলিতে একসঙ্গে সরু শলাকা দিয়ে ধাক্কা মারলে সেই তালা খুলে যাবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যে সেই তালা খোলার চাবিটা কোথায় পাব?”
‘কিন্তু তেল দিয়ে স্নানের সঙ্গে এর কী সম্পর্ক?”
“তালা চাবি অনেকদিন ব্যবহার না হলে কলকব্জায় জং ধরে যায়। তার এই তালায় যাতে বছরে একবার তেল ঢালা হয় তার ব্যবস্থা সনাতন চাবিওয়ালা এভাবে করে গেছিল। অসাধারণ বুদ্ধিমান লোক!”
“আমার তো সব গুলিয়ে যাচ্ছে গো,’ মন্দিরা বলল।
“তুমি এসব নিয়ে ভেব না। তুমি আমাকে বলতো কীভাবে আমি আমার গলায় ভক্তি আনব, যাতে শ্রোতাদের মনোরঞ্জন করতে পারি?”
‘সেটা আমি বলতে পারি,’ মন্দিরা এবার খুব সরল ভাবে বলল, ‘কীর্তন কখনো শ্রোতার মনোরঞ্জনের জন্য গাওয়া হয় না। কীর্তন গাওয়া হয় ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে, আর শ্রোতারা তা শোনে। দাদা বলত, রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন
এ গীত উৎসব মাঝে -
শুধু তিনি আর ভক্ত নির্জনে বিরাজে।
দাঁড়ায়ে বাহির-দ্বারে মোরা নরনারী
যার উদ্দেশ্যে তুমি কীর্তন গাইবে, তাঁর অস্তিত্বই তুমি মানোনা, তাহলে তাকে তুমি শোনাবে কীভাবে? বাবা বলে আধ্যাত্মিকং হৃদয়াতনমুপাসনম্। হৃদয় দিয়েতাঁর উপাসনা। আর তুমি তো ঈশ্বরই মানো না। তাই ভক্তি আসবে কীভাবে তোমার কীর্তনে? তুমি তিন হাজার দর্শককে খুশি করার চেষ্টা না করে, মাত্র একজন ঈশ্বরকে খুশি করার চেষ্টায় গাও, দেখবে তোমার গানের ভক্তিতে লোকে আপ্লুত হয়ে যাবে।’
মন্দিরা চলে গেলে প্রাণনাথ স্তব্ধ হয়ে বসে রইল। এই গ্রামের মেয়েটা কী সহজভাবে সমাধানের পথ দেখিয়ে দিল!
প্রাণনাথ কম্বলের ভিতর টর্চ জ্বালিয়ে আবার সনাতন কীর্তনে চোখ বোলাল। হাতে একদম সময় নেই। ভূগর্ভে প্রবেশ পথের চাবির সংকেত রয়েছে নিশ্চয়ই কীর্তনের পরের পঙক্তিগুলোতে। সনাতন কীর্তনের শেষ চরণ হল -
হৃদে গাহি পদসি পল্লব শ্যাম গো উদার কমল শিরসি
ছিদাম বায়েন বলেছে মদনদোলা তালে এটা গাওয়া। আগের পঙক্তিগুলোর মত একে মদনদোলার তালের অক্ষরে সাজাল প্রাণনাথ -

এর তো কোনও অর্থই হয় না। তবে? প্রাণনাথ উলটো দিক দিয়ে পড়ল। তাও কোনও অর্থ হয় না। তাহলে? হঠাৎ মনে পড়ল ছিদাম বায়েন বলেছে এসময় কীর্তন মনে মনে করত মৃদঙ্গম। কীর্তন আবার মনে মনে হয় নাকি? মন্দিরা যখন রাতের খাবার নিয়ে এল তখন প্রাণনাথ মন্দিরাকে একথা জিজ্ঞাসা করল। মন্দিরা বলল, ‘কেন হবে না? রূপ গোস্বামী “ভক্তিরসামৃতসিন্ধু”তে বলছেন কীর্তন উচ্চৈঃস্বরে করতে - নামলীলাগুণাদীনামুচ্চৈভাষা তু কীৰ্ত্তনম্। কিন্তু ওঁর দাদা সনাতন গোস্বামী “হরিভক্তিবিলাস” এর টীকায় লিখেছেন – ওষ্ঠ স্পন্দন মাত্রেন কীৰ্ত্তনম্ – মানে কীৰ্ত্তন ওষ্ঠস্পন্দন করে নিঃশব্দেও করা যায়।’
প্রাণনাথ খাওয়া শুরু করল। আজ প্রাণনাথ অন্যমনস্ক। -
‘কিছু ভাবছ প্রাণনাথদা?”
‘চাবিটা কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছি না, মন্দিরা।’
‘নীলমাধবকে এক মনে ডাকো।’ মন্দিরা সহজভাবে বলল।
“আমি নাস্তিক, তাই বোধহয় নীলমাধব আমার ডাক কানেই নিচ্ছে না।’ ‘সন্তান অবাধ্য হলেও সে চূড়ান্ত বিপদে পড়লে, তার ডাক বাপ-মা কখনো উপেক্ষা করতে পারে? তুমি তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ কর। যেমন অরবিন্দ করেছিলেন। তিনিই পথ দেখাবেন।’ প্রাণনাথের খাওয়া শেষ হলে মন্দিরা এঁটো থালা নিয়ে চলে গেল।
আরও কিছুক্ষণ মদনদোলা তাল নিয়ে নাড়াচাড়া করল প্রাণনাথ। দাঁত ফোঁটানো যাচ্ছে না। ধুলটের দিন এসে পড়ল। অনেক চিন্তা মাথায় নিয়ে বিছানায় শুতে গেল প্রাণনাথ।
অনেক রাতে ঘুম এল। আর ঘুমের মধ্যে এক অদ্ভুত স্বপ্ন দেখল প্রাণনাথ। বাইরে নীল আকাশ অথচ মুষলধারায় বৃষ্টি হচ্ছে। নীলমাধব মন্দিরের বাইরে বেরিয়ে এসেছেন। সেই বৃষ্টির মধ্যে নীলমাধব শ্রীখোলে মদনদোলা বাজাচ্ছেন - ঝাগি দাখে ইদা ধেই ঝা গুররর জাবি নাক তেটে তেটে ঝা গুরর ঝা তেটে তেটে খেটা তা গুরর তাক তেটে তেটে খেটা – অদ্ভুত সুন্দর সে বাজনা! সুন্দর কিন্তু কেমন যেন অস্বাভাবিক! প্রাণনাথ ভালভাবে বোঝার চেষ্টা করল কেন অস্বাভাবিক লাগছে? কিছুক্ষণ লক্ষ্য করে ওর খেয়াল হল নীলমাধব যখন খোলে চাপড় দিচ্ছেন তখন কোনও আওয়াজ হচ্ছে না, অথচ যখন হাত তুলে নিচ্ছেন তখন কোশীতেই নীলমাধবের শ্রীখোল স্বর্গীয় ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠছে।
ঘুম ভেঙে ধড়মড় করে উঠে বসল প্রাণনাথ। কম্বল মুড়ি দিয়ে লেখাটা কাছে টেনে টর্চ জ্বালাল। মদনদোলা তাল কিন্তু সরব কোশী, নীরব খোলের ধাঁ। তারমানে এবার ‘ চিহ্নগুলো ধরে পড়তে হবে। প্রাণনাথ তাই করল

গীতগোবিন্দের অমর পদ। সকল কীর্তনীয়াই এর অর্থ জানে। পুলকে প্রাণনাথের সমস্ত শরীর শিহরিত। প্রাণনাথের মনে হচ্ছে ও সনাতন কীর্তন আত্মস্থ করতে পেরেছে। কাল রাতে একবার নীলমাধবের মন্দিরে যেতে হবে।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন