চুয়াল্লিশ

প্রীতম বসু

যত দিন যেতে লাগল, ইংরেজ পুলিশ তাদের ধর-পাকড় বাড়াতে লাগল। বিপ্লবীদের গোপন ডেরাগুলি থেকে অজস্র আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হতে লাগল। অস্ত্রের অভাবে বিপ্লবীদের মনোবল অনেকটাই ভেঙ্গে যেতে লাগল।

ছিদাম একদিন উত্তেজিত হয়ে বাড়িতে ঢুকল। বাজারে শুনে এলাম পুলিশ প্রাণনাথদাদার মাথার দাম ছ’হাজার টাকা ঘোষণা করেছে। তুমি একদম বাইরে যাবে না, প্রাণনাথদাদা, ছিদাম আদেশের সুরে বলে গেল। ‘তুমি ধরা পড়লে আমরা সক্কলে বিপদে পড়ব।’

প্রাণনাথ সেটা বোঝে। প্রাণনাথের মাথায় কোনও পরিকল্পনাও আসছে না যে এখান থেকে বেরিয়ে তার কোথায় যাওয়া উচিত? মনে হচ্ছে এই করতালতলীর আশ্রয় তার কাছে সবচেয়ে সুরক্ষিত আশ্রয়। তার উচিত এখানে লুকিয়ে থাকা, অন্ততঃ যতদিন এই ধর-পাকড় ব্যাপারটা থিতিয়ে না যাচ্ছে।

করতালতলীতে দিনগুলো অলস ভাবে গড়িয়ে গড়িয়ে এগিয়ে চলল। প্রাণনাথের মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি-গোঁফ ফিরে আসছে, মাথায় কালো চুলের অঙ্কুর। দিনের অধিকাংশ সময় প্রাণনাথকে একলা কাটাতে হয়। কুমুদরঞ্জন ভক্তিতে ডুবে থেকে বাস্তব ভুলতে চাইছেন। সারাদিন মন্দিরে পড়ে থাকেন। মন্দিরা মৃদঙ্গমের যত বই ছিল এক এক করে প্রাণনাথকে দিচ্ছে। প্রাণনাথের আজকাল পড়তেও ভাল লাগে না। হতাশা ঘিরে থাকছে সর্বক্ষণ। মন্দিরা ছিদামকে দিয়ে নতুন বই আনাতেও পারছে না, কেননা পুলিশের গুপ্তচর জানতে পারলেই সন্দেহ করবে। ওদের বাড়িতে আজকাল বৈষ্ণব ভিখিরিদের আসা যাওয়া বেড়ে গেছে। ভুবনকাকার রাতে ঘুম আসে না। আজকাল ওর মাথায় চেপেছে গোরা-দানো। ভুবনকাকা মাঝরাতে চুপিচুপি ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যায়। সেদিন অনেক রাতে জলায় আলো দেখে গোরা-দানো মারতে ছুটে গেছিল চৈতন্যপুখুরীতে। গিয়ে দেখে দু‘জন লাল পাগড়ি সেপাই লণ্ঠন নিয়ে পুকুর পাড়ের ঝোপগুলো খুঁজে খুঁজে দেখছে।

বাড়িতে সেদিন একজন বিধবা অল্পবয়সী বোষ্টমি এল। সদর দরজায় ভিখিরিদের সঙ্গে মন্দিরার টুকটাক কথাবার্তা প্রাণনাথের কানে আসে। প্রাণনাথ কান খাড়া করে শুনে বোঝার চেষ্টা করে এই ভিখিরি পুলিশের টিকটিকি কিনা। দরজায় মন্দিরা ওকে সিধে দিয়ে বিদায় করার সময় বোষ্টমি বলল, “চারদিকের গ্রামে খবর ছড়াচ্ছে যে জমিদারগোঁসাইয়ের ছেলেকে নাকি ইংরেজরা কলকাতার জেলখানাতে মেরে ফেলেছে। শুনে এত দুঃখ পেলুম যে চলে এলুম। বড় ভাল মানুষ ছিলেন গো মৃদঙ্গমগোঁসাই। কী ভাল কীর্তনের গলা! আমি কি ওর সমাধিতে দু‘দণ্ড বসতে পারি?”

সমাধি? এই মেয়ে কীভাবে জানল মৃদঙ্গমের এখানে সমাধি দেওয়া হয়েছে?

প্রাণনাথের সন্দেহ হল। মন্দিরা বলল, ‘ওর মৃতদেহ আমরা পাই নি।’ মেয়েটি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, ‘আমায় একঘটি জল দেবে?” ‘আসছি দাঁড়াও।”

- মন্দিরা ভিতরে চলে গেল, একটু পরেই মন্দিরার গলা পাওয়া গেল “এ্যাই মেয়ে, তুমি ভিতরে চলে এলে কেন? ওখানে তুমি কী করছ?”

প্রাণনাথের মাথায় বিপদঘন্টি বেজে উঠল। প্রাণনাথ লাঙলের ফাল হাতে তুলে উঠোনের দিকের জানলার ফাঁক দিয়ে তাকাল। প্রাণনাথ দেখল এক অদ্ভুত দৃশ্য – বিধবা বোষ্টমি মৃদঙ্গমের সমাধির পাশে হাঁটু মুড়ে বসেছে, মাথার খোলা চুল দিয়ে সে সমাধির ধুলো পরিষ্কার করছে আর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে নিঃশব্দে কাঁদছে।

মন্দিরা ঘটি হাতে স্থাণুবৎ দাঁড়িয়ে রইল। বোষ্টমি উঠে দাঁড়াল, মেয়েটার বিষণ্ণ মুখে এক ফেলে আসা আভিজাত্যের ছাপ। মেয়েটা দু‘হাতের তালু আঁজলা করে দাঁড়াল। মন্দিরা ওর হাতে জল ঢেলে দিল, বোষ্টমি সেই জল আঁজলা ভরে ভরে খেয়ে মুখে জলের ঝাপটা দিয়ে সদরের দিকে এগিয়ে গেল।

‘দাঁড়াও!’

মন্দিরার ডাকে বোষ্টমি থমকে দাঁড়াল।

‘তুমি কে? তুমি মনে হচ্ছে আমাদের সম্বন্ধে অনেক কিছু জান?”

বোষ্টমি মলিন হাসল - ‘এখন সব জানা অজানার বাইরে। মৃদঙ্গম-গোঁসাই ওর গোষ্ঠী নিয়ে আমাদের চন্দননগরের আখড়ায় এসে কীর্তন শোনাতেন। আমাদের বাবাজী জমিদারগোঁসাইকে চেনেন। তোমাদের অনেক ছোটবেলা থেকে দেখেছেন। তোমাদের ভাই-বোনের অনেক গল্প শুনেছি। এবার চোখের দেখা দেখে গেলুম। আমি যাই। যদি কখনো মন চায় চন্দননগরে আমাদের আশ্রমে এস। বলরাম গোঁসাইয়ের আশ্রম বললেই লোকে দেখিয়ে দেবে। যতদিন মন চায় আমাদের আশ্রমে থেকো। চলি।’

বাইরের দরজায় খিল বন্ধ হল। আবার নীরবতা ফিরে এল। প্রাণনাথের মনে হল বাইরের নীরবতা ভেঙে একটা বউ-কথা-কও পাখি উড়তে উড়তে যেন ডেকে গেল। সেই ডাকের বিরহ বেদনার সুর অনেকক্ষণ প্রাণনাথের কানে বাজতে থাকল।

আজকাল মন্দিরা ভোররাতের পরও নিয়মিত দিনে দু‘বার যায় প্রাণনাথের কাছে। মন্দিরের ভোগারতি করে বাড়ি ফিরে প্রাণনাথকে প্রসাদ খাওয়ায়। প্রাণনাথ যতক্ষণ খায় ততক্ষণ মোড়ায় বসে বসে প্রাণনাথের সঙ্গে নিচু গলায় গল্প করে। কথা প্রাণনাথই বেশি বলে, মন্দিরা অবাক হয়ে শোনে। মন্দিরার নিজের পৃথিবীটা হল বদ্ধ জলার পাড়ের দু‘কদম জমি। বাইরের পৃথিবীর খবর যে মানুষটা এনে দিত, সে অন্য কোন জগতে চলে গেছে। এখন প্রাণনাথ তার সেই অভাব পূরণ করছে। সেই সব গল্পের আকর্ষণেই মন্দিরা এসে বসে প্রাণনাথের কাছে। প্রাণনাথের কলেজের গল্প, কলকাতা শহরের গল্প ট্রামগাড়ি, ট্যাক্সি, জাহাজ এলে হাওড়ার ব্রিজ খুলে উপরে উঠে যায়, কলকাতার পথে হাতকাটা নীল জামা পরে কোমরে লাল শালু জড়ানো ভিস্তি মোষোকে জল ভরে রাস্তা ধোয়, এসব সাধারণ গল্প। -

“মোষের পেটে জল ভরে রাস্তার কল থেকে?” মন্দিরা অবাক।

- “মোষের চামড়ার বিরাট থলি, প্রাণনাথ দু‘হাত দু‘দিকে ছড়িয়ে কত বড় থলি তা দেখায়। তারপর আরও গল্প বলে - কলকাতার রাস্তায় পিচ হলেও পাশের ফুটপাথ কাঁচা, বর্ষায় হাটতে গেলে কাদায় পা মেখে যায় - আরো কত কি। মন্দিরার বলার মত গল্প খুবই কম। ওর গল্প শুধু ঠাকুর দেবতার গল্প নীলমাধবের গল্প, কীর্তনীয়াদের গল্প, পদাবলীর মহাজনদের জীবনী এইসব। সেদিন খেতে খেতে প্রাণনাথ বলল – “তোমার রান্নার খুব স্বাদ হয়, মন্দিরা।’ -

“নীলমাধবের প্রসাদ হলেই ব্যঞ্জনের স্বাদ বেড়ে যায়।’

“মানে?’

‘নীলমাধবের স্পর্শে সামান্য অন্ন-ব্যঞ্জনও যেন অমৃতোপম স্বাদু হয়ে ওঠে।’ “যাঃ, সেরকম আবার কখনো হয় নাকি?”

“অবশ্যই হয়,’ মন্দিরা খুব বিশ্বাসের সঙ্গে জোর দিয়ে বলল। ‘তা নাহলে গোবিন্দদাসের মা কালীর প্রসাদের স্বাদ বাড়ল কীভাবে?”

বিষয়টা প্রাণনাথের একদমই অজানা। এ বাড়িতে এসে প্রাণনাথ ঈশ্বর ভক্তির পরাকাষ্ঠা দেখে চলেছে। এরা যা বিশ্বাস করে তার অনেক কিছুই প্রাণনাথ ভাবে গল্পকথা। প্রাণনাথ বিশ্বাস না করলেও এদের মনে আঘাত দেয় না। প্রাণনাথ মন্দিরার চোখে দৃঢ় বিশ্বাস দেখতে পেল। খাওয়া থামিয়ে প্রাণনাথ বলল, ‘কী হয়েছিল গোবিন্দদাসের মা কালীর প্রসাদে?”

“বৈষ্ণব পদাবলীর বিখ্যাত পদকর্তা গোবিন্দদাস কবিরাজের নাম জানো তো?’

“হ্যাঁ, কয়েকটা পদ পড়েছি।’

“ওঁর বাড়ি ছিল মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলার কাছে তেলিয়াবুধুরি গ্রামে। গোবিন্দদাসের দাদা রামচন্দ্র কবিরাজ ছিলেন নিষ্ঠাবান বৈষ্ণব, কিন্তু গোবিন্দদাস কবিরাজ ছিলেন শক্তির উপাসক। বড় ভাই রামচন্দ্র শ্রীরাধাগোবিন্দের পূজা করতেন আর গোবিন্দদাসের ছিল কালীমন্দির। একদিন গোবিন্দদাসের খুব জ্বর হয়, তখন তিনি তাঁর দাদাকে বলেন, দাদা তুমি আজ আমার মা কালীর পুজো করে মা কালীকে ভোগ নিবেদন করে দিও। দাদা তাই করল। পুজোর পর মা কালীর প্রসাদ খেতে গিয়ে গোবিন্দদাস দেখে আজ প্রসাদের অমৃতোপম স্বাদ। গোবিন্দদাস ভাবলেন, এ কীভাবে হল? রাতে মা কালী স্বপ্ন দেখালেন কবিকে। তাঁকে মা বললেন, তোর দাদা রামচন্দ্র আজ আমাকে রাধাগোবিন্দের প্রসাদ এনে আমার খাওয়ার জন্য ভোগ হিসাবে নিবেদন করেছে। আমি সেই প্রসাদ খুব তৃপ্তি করে খেয়েছি। তাই আমার প্রসাদের স্বাদ বেড়ে গেছে। সেই তত্ত্ব বুঝতে পেরে সেদিন থেকে গোবিন্দদাস শ্রীকৃষ্ণের চরণে নিজেকে সমর্পণ করলেন, আর লিখলেন প্রার্থনা পদ -

ভজহু রে মন শ্রীনন্দনন্দন

অভয় চরণারবিন্দ রে।’

খাওয়া শেষ করে প্রাণনাথ বলল, ‘তোমার মত এতসব ঠাকুর-দেবতার গল্প জানি না, তবে স্বামী বিবেকানন্দ একবার এক শিষ্যকে বলেছিলেন - যে ভাল রাঁধতে পারে না, সে ভাল সাধু হতে পারে না মন শুদ্ধ না হলে সুস্বাদু রান্না হয় না।’ -

মন্দিরা বলল, ‘পরশু কালীপুজো।’

‘পুজো হয় না তোমাদের গ্রামে?”

‘এখানে জমিদার বাড়িতে খুব ধুমধাম করে পুজো হয়। অনেক বাজি পোড়ে, আলোর বড় বড় ফানুস ওড়ানো হয়। আমরা বৈষ্ণব, আমাদের অন্নকূট উৎসব হয়।’

‘অন্নকূট? কার পুজো?”

‘এদিন শ্রীকৃষ্ণ গিরি গোবর্ধন ধারণ করে বৃন্দাবনের মানুষদের প্রবল বৃষ্টি থেকে রক্ষা করেছিলেন। কালীপুজোর পরদিন আমাদের অন্নকূট পুজো। তোমরা নিশ্চয়ই শহরে খুব বাজি ফাটাতে?’

আমাদের গ্রামের বাড়িতে খুব ঘটা করে কালীপুজো হত। সারা বাড়ির সবকটা দালান প্রদীপের আলোয় উজ্জ্বল। আমরা তুবড়ি, রংমশাল, মহাতাপ, হাউই, আতশবাজি জ্বালাতাম। আর কালীপুজোর আগের দিন ছিল চোদ্দ শাক। আমার মনে আছে, আমার মা প্রত্যেকবার বাজার সরকারকে বকাঝকা করত কয়েকরকম শাক যদি কম পড়ত।’ প্রাণনাথ হাসল। ‘মহাভারতে বনপর্বে আছে, যক্ষ যখন যুধিষ্ঠিরকে প্রশ্ন করল – সুখী কে? যুধিষ্ঠির উত্তর দিয়েছিলেন - যে মানুষ অঋণী, অপ্রবাসী এবং দিবসের অষ্টমভাগে মানে সন্ধ্যাকালে স্বগৃহে শাক রন্ধন করে খায় সেই সুখী। দেশসেবা করতে গিয়ে ঘর ছাড়লাম, সেই থেকে শাকও ছেড়ে গেল।’ -

পরদিন একটু বেলার দিকে ছিদাম আর মন্দিরার কথোপকথন প্রাণনাথের কানে এল। প্রাণনাথ জানলায় উঁকি মেরে দেখল ছিদাম দাওয়ায় একগাদা শাকপাতা জড়ো করেছে, সেখান থেকে জল গড়িয়ে উঠোনে পড়ছে। ছিদাম পাতাগুলো সরিয়ে সরিয়ে দেখাচ্ছে – ‘এটা কলমী, এই হেলেঞ্চা - - এগুলো চৈতন্যপুখুরীতে পেয়ে গেলাম। এই ছোলা, মটর, সর্ষে এসব তো চাষের মাঠ থেকে ছিঁড়ে এনেছি। সজনে, পুঁই, পালং, নটে তোমার বাগানের। ক’টা হল?”

“বলে যা। অনেক বাকি আছে, মাত্র ন’টা হয়েছে।’

*এই নাও কচুর শাক। দশ।’

“শুষনি কোথা থেকে পেলি?”

‘বুড়িকোশীর ওপর যেখানে বালির চর পড়েছে ওখানে সবুজ ঘাসের মত শুষনি গজিয়েছে এটা আমি সাঁতার কাটতে যাবার সময় দেখেছিলাম। এগারটা হল। এই নাও বেথো, এটা কুমড়োর ডগা, আর এটা চুকো। আমি চললাম, আমায় ডাকঘরে যেতে হবে। ছিদাম বেরিয়ে গেল। মন্দিরা শাকগুলো গুছিয়ে তুলতে লাগল। প্রাণনাথ জানলা থেকে ভিতরে গিয়ে তোষকের ওপর বসল। মন ভরে গেছে ওর। ও একটু ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, মেয়েটা সেটা পূরণ করার জন্য ছিদামকে কোথায় না কোথায় পাঠাল!

দীপাবলীর রাতে দূরের উদয়নপল্লীর ঘরে ঘরে প্রদীপ জ্বলছে, প্ৰাণনাথ জানলা দিয়ে অন্ধকারে দূরের আলোকমালার দিকে তাকিয়ে দেখছিল। করতালতলী থেকে সে দৃশ্য বড় সুন্দর লাগে। তুবড়ি, আতশবাজির শব্দ ভেসে আসছে। হিন্দুদের দীপাবলীর পরদিন বৈষ্ণবদের অন্নকূট পূজা। পরদিন সকালে প্রাণনাথ খডুটি ঘরের ভিতর বসে বসে দেখছিল মরা শ্যামাপোকা দাওয়ায় থিকথিক করছে। মন্দিরা শাড়ি গাছকোমরে বেঁধে নারকেল ঝাঁটা দিয়ে দাওয়া ঝাঁট দিল। তারপর অন্নকূট পূজার জন্য দাওয়ায় ব্যাঞ্জন সেবা করতে বসল। এবাড়িতে এরা তরকারি কাটা বলে না, বলে ব্যাঞ্জন সেবা করা।

প্রতিপদের পরদিন ভাতৃদ্বিতীয়া। প্রতিবছর এই দিন মৃদঙ্গম আর ছিদামকে ভাইফোঁটা দেয় মন্দিরা। বাড়ির ভিতর কুশাসন পেতে, দু‘জনকে বসিয়ে সামনে প্রদীপ জ্বালে। পিতলের রেকাবিতে চন্দন বাটা, কলাপাতায় ঘি পোড়ানো কাজল, ধান-দুব্বো। বৈষ্ণবদের বিশ্বাস যে কৃষ্ণের গিরিগোবর্ধন ধারণের পর যখন গিরিগোবর্ধন পুজো শুরু হল তখন বর্ষানার রাজা বৃষভানুর কন্যা রাধারানি শ্বশুরবাড়ি থেকে এসে সেই পূজায় যোগ দিয়েছিলেন। সেই অন্নকূট উৎসবের পরদিন ভাতৃদ্বিতীয়ায় রাধা তাঁর ভাই কৃষ্ণসখা শ্রীদামের কপালে চন্দনের ফোঁটা দিয়েছিলেন ভাইয়ের মঙ্গলকামনায়। প্রতি বছর মন্দিরা মৃদঙ্গম আর ছিদামের কপালে চন্দনের টিপ পরায়, তার ওপর কাজলের টিপ, আর বলতে থাকে

ঢাক বাজে ঢোল বাজে আরও বাজে কাড়া

যাইও না যাইও না ভাইরে যমেরি পাড়া

আজ ছিদাম চুপচাপ উঠোনে এসে দাঁড়াল। মন্দিরা আঁচল দিয়ে চোখ ঢেকে দাওয়ায় বসে আছে। ছিদাম স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল, মুখে কোনও ভাষা নেই। তারপর ছিদাম চুপচাপ বাইরে বেরিয়ে গেল।

সকল অধ্যায়
১.
প্রাককথন
২.
এক
৩.
দুই
৪.
তিন
৫.
চার
৬.
পাঁচ
৭.
ছয়
৮.
সাত
৯.
আট
১০.
নয়
১১.
দশ
১২.
এগার
১৩.
বারো
১৪.
তেরো
১৫.
চোদ্দ
১৬.
পনের
১৭.
ষোলো
১৮.
সতের
১৯.
আঠারো
২০.
ঊনিশ
২১.
কুড়ি
২২.
একুশ
২৩.
বাইশ
২৪.
তেইশ
২৫.
চব্বিশ
২৬.
পঁচিশ
২৭.
ছাব্বিশ
২৮.
সাতাশ
২৯.
আটাশ
৩০.
ঊনত্রিশ
৩১.
ত্ৰিশ
৩২.
একত্রিশ
৩৩.
বত্রিশ
৩৪.
তেত্রিশ
৩৫.
চৌত্রিশ
৩৬.
পঁয়ত্রিশ
৩৭.
ছত্রিশ
৩৮.
সাঁইত্রিশ
৩৯.
আটত্রিশ
৪০.
ঊনচল্লিশ
৪১.
চল্লিশ
৪২.
একচল্লিশ
৪৩.
বিয়াল্লিশ
৪৪.
তেতাল্লিশ
৪৫.
চুয়াল্লিশ
৪৬.
পঁয়তাল্লিশ
৪৭.
ছেচল্লিশ
৪৮.
সাতচল্লিশ
৪৯.
আটচল্লিশ
৫০.
ঊনপঞ্চাশ
৫১.
পঞ্চাশ
৫২.
একান্ন
৫৩.
বাহান্ন
৫৪.
তিপ্পান্ন
৫৫.
চুয়ান্ন
৫৬.
পঞ্চান্ন
৫৭.
ছাপ্পান্ন
৫৮.
সাতান্ন
৫৯.
আটান্ন
৬০.
ঊনষাট
৬১.
ষাট
৬২.
একষট্টি
৬৩.
বাষট্টি
৬৪.
তেষট্টি
৬৫.
চৌষট্টি
৬৬.
পঁয়ষট্টি
৬৭.
ছেষট্টি
৬৮.
সাতষট্টি
৬৯.
আটষট্টি
৭০.
ঊনসত্তর
৭১.
সত্তর
৭২.
একাত্তর
৭৩.
বাহাত্তর

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%