প্রীতম বসু
ঘুম ভাঙল আজ পদাবলীর মনে একরাশ চিন্তা নিয়ে।
দু‘দিন ধরে মন খুব খারাপ। মৃদঙ্গমের মৃত্যু পদাবলীকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।
অনেক বেলা হয়ে গেছে। ডেস্কে অর্ধসমাপ্ত সাদা-কালো কালাগলা মানিকজোড়। কাল রাতে শুতে অনেক দেরি হয়ে গেছিল।
এই ক’দিনেই সে এমন একটা জগতে জড়িয়ে গেছে যেখানে শুধু দুশ্চিন্তা আর দুঃখের ঢেউ বারবার মনের তটে এসে আছড়ে পড়ছে। এত করুণ কাহিনীর নীরব দর্শক করতালতলী!
মৃদঙ্গমদাদার কাহিনী বলতে বলতে বৃদ্ধ ছিদাম বায়েনের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ হয়ে গেছিল। মনে ঘুরছে মৃদঙ্গমের কথা। লোকটাকে ইংরেজরা মেরে ফেলল অথচ লোকটার বাড়িতে খবর দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করল না? এত নিষ্ঠুরতা। তার ওপর গীত বায়েনের মৃত্যু, শ্মশান ঘাট, এসবের মধ্যে তো পদাবলীর জড়িয়ে পড়ার কথা না। কিন্তু এখন যেন মনে হচ্ছে এরা তার একান্ত আপন।
গীত বায়েনের কথা মনে পড়তেই ধড়মড় করে উঠে বসল পদাবলী। . স্যারকে খবরটা দিতে হবে। স্যারের বন্ধুর মায়ের শ্রাদ্ধে মাথুর গাওয়ার জন্য করতালতলীর কীর্তনদল যেতে পারবে না।
পদাবলী তাড়াতাড়ি বিছানা ছেড়ে মুখ-টুখ ধুয়ে তৈরি হয়ে রাস্তায় নামল। তারপর বাস ধরে নাইট্রোজেনের বাড়ি।
নাইট্রোজেন দরজা খুলে পদাবলীর দিকে ভ্রূ কুঁচকে তাকালেন।
“কী হয়েছে?” প্রফেসর জিজ্ঞেস করলেন। ‘মন খারাপ মনে হচ্ছে?”
‘স্যার, ইংরেজরা জেলের মধ্যে কারুকে মেরে ফেলল অথচ তার বাড়িতে একবারও খবর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করল না, এরকম কখনো হতে পারে? এত সুসভ্য জাতি।’
‘চা খাবে?” প্রফেসর বললেন। ‘আছে। আমি নিজের জন্য দু‘কাপ বানাই।’ ‘হ্যাঁ,’ পদাবলী খুশি হল।
প্রফেসর চা আর পাউরুটি টোস্ট মাখন মাখিয়ে ডাইনিং টেবিলে রেখে বললেন, “এখানে চলে এস। মৃদঙ্গমের জন্য মন খারাপ লাগছে তো?’ প্রফেসরের মুখে ম্লান হাসির রেখা।
‘আপনি কীভাবে জানলেন?” পদাবলী অবাক। এই লোকটা তান্ত্রিক নাকি?
‘বসো, আমি এটাও জানি যে তুমি সকালে কিছু না খেয়েই দৌড়োতে দৌড়োতে এসেছ। তুমি খাও। আমি তোমার প্রথম প্রশ্নের উত্তর দিই।’
পদাবলী পাউরুটি টোস্টে কামড় লাগাল। নাইট্রোজেন পাউরুটিতে ছিটেফোঁটা মাখন লাগিয়েছে। বললে কী হবে, লোকটা খুবই কঞ্জুষ। নাইট্রোজেন বললেন, ‘আমাদের রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সদর দপ্তরের বিল্ডিঙয়ের নাম জান?’
‘না।’
‘ভবানী ভবন। আলিপুরে। আগে ওই বাড়িটার নাম ছিল অ্যাণ্ডারসন হাউস। অ্যাণ্ডারসন ছিলেন বাংলার গভর্ণর। ইনি নিষ্ঠুর ভাবে আয়ারল্যাণ্ডের সিনফিন আন্দোলন দমন করেছিলেন, তাই একে ব্রিটিশ সরকার ভারতে নিয়ে আসে। ষোল বছর বয়সী স্বদেশী বিপ্লবী ভবানীপ্রসাদ ভট্টাচার্য দার্জিলিং এর কাছে লেবং এ অ্যান্ডারসনকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে গিয়ে ধরা পড়ে। ভবানীপ্রসাদের ফাঁসি হয়। অথচ ফাঁসির কথাটা ব্রিটিশ ভবানীপ্রসাদের বাড়ির কারুকে জানায় নি। ভবানীপ্রসাদের বাড়ির লোকেরা খবরের কাগজে খবরটা পড়ে তবে জানতে পারে।’ প্রফেসর চুপ করে রইলেন, তারপর শেষের স্বরে বললেন ‘সুসভ্য জাতি! জার্মান কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের অত্যাচারে সারা দুনিয়া ধিক্কার দেয়। কিন্তু আমাদের শুধু বহরমপুর জেলেই ইংরেজ সে যুগে যা অত্যাচার করে গেছিল তা শুনলে * কথা অসমাপ্ত রাখলেন নাইট্রোজেন। তারপর বললেন, ‘কত কিশোরদের ফাঁসির নামে আগেই জেলে অত্যাচার করে হত্যা করে তারপর মৃতদেহটা ফাঁসিকাঠে ঝোলানো হয়েছিল তার হিসেব কে রেখেছে। তুমি নিশ্চয়ই মৃদঙ্গমের গল্প শুনে এসেছ করতালতলী থেকে, তাই মন খারাপ।’ -
‘আপনিও জানেন সেই গল্প?’ পদাবলী বলল।
‘হ্যাঁ, আমার মনে গেঁথে রয়েছে মৃদঙ্গমের গল্প,’ নাইট্রোজেন বললেন। ‘মৃদঙ্গমের গল্প একজন বোষ্টমির থেকে শুনেছিলাম। তবে এ গল্প শুনিয়ে আমি তোমার মন ভারাক্রান্ত করতে চাইনি।’
‘আচ্ছা স্যার, ছিদাম বায়েন বলল যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি জোড়াসাঁকোতে শিবু কীর্তনীয়াকে এনে রোজ কীর্তন শোনাতেন বাড়ির লোকেদের। জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়ির পৃষ্ঠপোষকতা সত্ত্বেও কীর্তন বাংলায় পায়ের নিচে শক্ত মাটি পেল না কেন?”
‘ব্রাহ্মসমাজ কীর্তনের প্রচারক ছিল না। তাছাড়া জোঁড়াসাকোর সব সময় নতুন কিছুতে ঝোঁক। জোঁড়াসাকো কিছুদিন পর কীর্তন থেকে বাউলের দিকে ঝুঁকে গেল। তখন কীর্তনের প্রচার শুরু করলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস ও তাঁর স্ত্রী বাসন্তী দেবী। তারপর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, কালীপ্রসন্ন ভট্টাচার্য, সতীশচন্দ্র বিদ্যাভূষণ, প্রমথনাথ তর্কভূষণ, নীলরতন মুখোপাধ্যায়, রাজকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, প্রফুল্লকুমার ঠাকুর, মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী, অর্ধেন্দু কুমার গাঙ্গুলী, দীনেশচন্দ্র সেন, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী, অতুলকৃষ্ণ গোস্বামী প্রভৃতি স্বনামধন্য মানুষ তোড়জোড় করেছিলেন যাতে কীর্তনের প্রসার হয়, দেশের শিক্ষিত সম্প্রদায় যাতে কীর্তনকে হেয় না করে। দেশবন্ধু তো ব্যয়ভারের এক বড় অংশ নিজে নিতে রাজী ছিলেন। কিন্তু আমার মনে হয় কী জানো, নৌকা তখনই চলতে পারে যখন তার নিচে জল থাকে। সেরকম কীর্তনের নৌকা ভাসে ভক্তির নদীতে। বাঙালির ঈশ্বরভক্তিতে কোথাও একটা বড় রকমের ফাটল ধরতে শুরু করেছিল। যাক সেসব তত্ত্বকথা রাখ। তোমাদের করতালতলীর কীর্তন দল শ্রাদ্ধে মাথুর গাইবার জন্য তৈরি?”
‘নাঃ,’ পদাবলীর কণ্ঠস্বরে হতাশা। ‘সেটাই তো বলতে এলাম। জমিদার এমন ভয় দেখিয়েছে যে কেউ ওদের দলে গাইতেই রাজি হচ্ছে না।’ তারপর পদাবলী সমস্ত ঘটনা বলল। ‘এবার মনে হচ্ছে গোবিন্দ অধিকারী পাগল হয়ে যাবে। একদিকে জমিদার আর তার ছেলে শাসাচ্ছে, অন্যদিকে বিডিও একটা বিশাল দেওয়াল-ম্যাপের সামনে দাঁড় করিয়ে ওর মাথা ঘুরিয়ে দিচ্ছে, তার ওপর গীত বায়েনের মৃত্যু, মন্দিরের এত খরচের চিন্তা, কীর্তনীয়া পাওয়া যাচ্ছে না। লোকটা আর কত সহ্য করবে!’
‘হরি প্রফেসর সমস্ত কিছু শুনে কিছুক্ষণ মৌন থেকে তারপর বললেন বায়েনকে আমি জানি। এককালের বিখ্যাত খোলবাদক ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ রাস্তায় গাড়ি এসে ধাক্কা মেরেছিল আর তাই কাঁধের হাড় সরে গেছিল। তারপর থেকে লোকটা আর খোল কাঁধে তুলতে পারেনি। তবে আমি ওঁর খোল শুনেছি। অদ্ভুত হাত। ভাগ্যের কী করুণ পরিহাস!’
‘স্যার, হরি বায়েনকে কোথায় পাওয়া যেতে পারে আপনি বলতে পারবেন?” ‘হরি বায়েন কোথায় থাকে তা আমি জানিনা। তবে সোনাগাছিতে রতি নামে একজন গণিকা থাকে। মেয়েটি আমার চেনা। বাড়িটা যে ভদ্রলোক ওকে কিনে দিয়েছেন তিনি সমাজের একজন সেলিব্রিটি। তাই নামটা বলছি না। রতির সঙ্গে হরি বায়েনের কেমন যেন একটা আত্মীয়তা আছে। হরি বায়েনের দুরবস্থা দেখে রতিই হরি বায়েনকে অর্থ সাহায্য করে। রতি খুব ভাল গান গায়। কিন্তু পাবলিকের জন্য না। শুধু সেই মানুষটির মনোরঞ্জনের জন্যই গায়। হরি বায়েন রতির সঙ্গে তবলা বাজায়। প্রায়ই রতির বাড়ি আসে হরি বায়েন। দাঁড়াও আমি একটা ফোন করে দেখি।’
ফোনে কথা শেষ করে নাইট্রোজেন বললেন, ‘তোমার গোবিন্দ অধিকারীকে নিয়ে তোমরা পরশু দুপুরের দিকে একবার চলে যেতে পারবে? ও সময়টাতে হরি বায়েন রতির কাছে আসবে।’
“চলে যাব স্যার।’
‘কিন্তু গোবিন্দ অধিকারীর আপত্তি নেই তো গণিকার বাড়িতে যেতে?’ “গোবিন্দ অধিকারী এখন নরকেও যেতে রাজি যদি ও হরি বায়েনের মত
একজন ভাল বায়েন পায় ওখানে। ওর দল ভেঙে গেছে। ও খুব মুষড়ে আছে।’ “ঠিক আছে, তোমরা চলে যেও,’ নাইট্রোজেন বললেন। ‘আর কী চাই বল?” ‘স্যার, আখর কী? সেদিন ছিদাম বায়েন বলল আখর ধরতে, আমি তো বুঝলামই না।’
‘আখর?” নাইট্রোজেন হাসল। ‘কীর্তনের বেসিকস। কীর্তনগান যদি একটা দেহ হয়, তবে তার পাঁচটি অঙ্গ - কথা, আখর, তুক, ছুট আর ঝুমুর। প্রথম হল “কথা”, এটা খুব সোজা। লীলাকীর্তনের মাঝখানে কীর্তনীয়া নিজের ভাষায় মাঝে মাঝে কথা বলে বিষয়টা শ্রোতাকে বুঝিয়ে দেয় একে বলে কথা। যেমন মনে কর, এক পদে রাধিকার বর্ণনা, আর পরের পদেই তা দেখে চন্দ্রাবলীর ঈর্ষার পদ। এটা তো শ্রোতা জানবে না। তাই কীর্তনীয়া “কথা” বলে সেটা ব্যাখ্যা করে দেয় যে রাধিকার রূপে চন্দ্রাবলীর ঈর্ষা হয়েছে; তারপর কীর্তনীয়া এবার গানের পদে ফিরে যায়।”
‘আর আখর?”
‘বলছি,’ পদাবলীর উৎসাহ প্রফেসরের ভাল লাগল। ‘আখর অনেকটা “কথা”র মতই মূল গান থামিয়ে বলা হয়, তবে “কথা”য় সুর ও তাল থাকেনা, কিন্তু আখর সুর ও তালে বলা হয়। বাংলার বৈষ্ণবদের কাছে ব্রজবুলি দেবভাষার তুল্য, কিন্তু বাঙালি এই ভাষায় কথা বেশি বুঝতে পারে না। তাই ব্রজবুলির কীর্তন যাতে লোকে বুঝতে পারে সেজন্য লীলাকীর্তনে গানের ফাঁকে ফাঁকে কীর্তনীয়া সহজভাবে আখর, কথা, তুক দিয়ে অর্থ বুঝিয়ে দেন। সুর ও তাল দিয়ে কীর্তনীয়া যখন বোঝান তখন তাকে বলে আখর। আর সুর তাল না দিয়ে নিজের ভাষায় গদ্যে বোঝালে তাকে বলে কথা যেমন সখী কী বলল, সখা কী উত্তর দিল, দূত এসে কী বলল এসব। তবে এই আখর দেখা যায় ঠুংরী, ভজন আর হিন্দুস্থানী ক্লাসিকাল গানে। বাংলা লীলাকীর্তনে আখর সম্ভবতঃ সেখান থেকেই এসেছে।’ -
“যদি লোকে বুঝতেই না পারে তবে পদাবলী ব্রজবুলিতে কেন লেখা হত?”
‘ভাষাগত দূরত্বের মধ্যে একটা রোম্যান্সের সৃষ্টি হয়। প্রকাশ অধিক ব্যঞ্জনাময় হয়ে ওঠে। সম্ভবতঃ সেজন্যই ব্রজবুলির মত কৃত্রিম ভাষার সৃষ্টি। কিন্তু সাধারণ মানুষের মরমে ঢোকাবার জন্য কীর্তনীয়াকে আখরে তার ব্যাখ্যা করতে হত।’
‘একটা উদাহরণ দিন না স্যার, পদাবলী বলল।
‘মনে কর ব্রজবুলিতে কীর্তনীয়া রাধার রূপ বর্ণনা করলেন
অপরূপ পেখলু রামা
কনকলতা অবলম্বনে উওয়ল হরিণী হিম ধামা
তারপর এর অর্থ বোঝাতে কীর্তনীয়া মিল দিয়ে দিয়ে আখর গেয়ে ব্যাখ্যা করতে লাগল এমন রূপ কে দেখেছে? যেন স্বর্ণলতায় চাঁদের ছবি এঁকেছে। ভাগ্যে ছিল দেখলাম তাই, মনে আর দুখ নাই। দেখেছে-এঁকেছে, তাই-নাই এভাবে মিলিয়ে মিলিয়ে বলা।”
“এটা তো খুবই সোজা, পদাবলী বলল। ‘কবিতা মিলিয়ে মিলিয়ে বলা।”
“যত সোজা ভাবছ তত সোজা না, প্রফেসর হাসলেন। ‘আখর মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে কীর্তনের ভক্তিভাব নষ্ট হয়ে যায়। তাই আখর মেপে মেপে লিখতে হয়। দর্শক কে, কোথায় কীর্তন হবে, এসব জেনে আখর ব্যবহার করতে হয়। গড়াণহাটি আর মনোহরসাহী কীর্তনে খুব আখর চলে কিন্তু রেনেটি কীর্তনে আখর খুবই কম। ‘
‘আর ছুট?”
‘ছুট হল হালকা ধরনের গান। কীর্তনীয়া অনেক সময় ভারী পদাবলী গাইতে গাইতে একটু সহজ কিছু পদ গেয়ে দিলেন, একে ছুট বলে। আর ঝুমুর হল কীর্তনের পঞ্চম অঙ্গ।’
‘ঝুমুরটা আমায় গোবিন্দ অধিকারী বুঝিয়েছে,’ পদাবলী বলল। ‘অন্ততঃপক্ষে আখর শব্দটাকে এখন আর ল্যাটিন বা হিব্রু লাগছে না।’
‘আখর ল্যাটিন ও না হিব্রুও না। আখর আসলে আরবী শব্দ আখেরি। ঠুংরি ও ভজনে মূল গান থেকে সরে ভাবের দু-এক পদ গাইলে তাকে আখেরি বলা হত। কীর্তনে আখর বোধহয় সেভাবেই এসেছে। এবার যখন কীর্তন শুনবে, তখন খেয়াল কোরো যে কীর্তনীয়া কীর্তনের পাঁচ অঙ্গের কোন অঙ্গ গাইছে।’
পদাবলী উঠল। ‘আমি কাল একবার করতালতলী যাব। পরশু গোবিন্দ অধিকারীকে নিয়ে সোনাগাছি যাব। ’
নাইট্রোজেনের বাড়ি থেকে বেরোবার সময় পদাবলী ভাবল নাইট্রোজেন মৃদঙ্গম সম্বন্ধে জানে, হরি বায়েনের সম্বন্ধেও জানে! পদাবলীর সমস্ত প্রশ্নের উত্তর যেন লোকটা পকেটে নিয়ে বসে আছে। পদাবলীর মনে প্রশ্ন জাগছে নাইট্রোজেন এত কিছু জানতে গেল কেন?
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন