বাহাত্তর

প্রীতম বসু

পরদিন ভোররাতে কলকাতা থেকে রওনা দিয়েছিল মুক্তা। করতালতলীতে যখন পৌঁছাল, তখন সকাল হয়েছে। স্টেশনের পাশে গাড়ি রেখে, চায়ের দোকানে জিজ্ঞেস করে, পাশের গলির ভিতর বিশ্বনাথ ড্রাইভারের বাড়ির সামনে যখন পৌঁছাল, তখন বিশে হন্তদন্ত হয়ে বাড়ি থেকে বেরোচ্ছিল। “আপনি বিশ্বনাথ ড্রাইভার!”

‘হ্যাঁ।’

‘আমার নাম মুক্তা, আপনার সঙ্গে একটু দরকার - ‘আমি এখন খুব ব্যস্ত আছি।’ মুক্তার কথা শেষ হওয়ার আগেই বিশু ড্রাইভার মুক্তাকে থামিয়ে দিল। ‘আমার হাতে একদম সময় নেই।’ বিশে রাস্তায় নেমে প্রায় ছুটতে লাগল।

‘পদাবলী বলেছিল আপনার সঙ্গে দেখা করতে।”

“পদাবলী? কোথায় সে?’ বিশে থমকে দাঁড়াল। আমি তো তাকেই হন্যে হয়ে খুঁজছি! ওকে দেখেছেন?”

‘না। কাল রাত্তিরে আমায় ফোন করে জানিয়েছিল এখানে খুব বিপদ। আমি তাই বাপিকে বলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। আপনারা জানেন না ও কোথায়?” এবার মুক্তার ভয় ভয় করতে লাগল।

‘পুলিশ এসেছিল কাল রাতে। স্থানীয় দুষ্কৃতকারীদের একটা গ্যাঙকে পুলিশ অ্যারেস্ট করেছে। কিন্তু পদাবলীকে পাওয়া যাচ্ছে না।’

“ওকে আজ সকালে দেখেনই নি?’

‘না। কাল রাতে ও টেলিফোন বুথে যাচ্ছিল। আমার সাইকেল নিয়ে গেল। সেই শেষ দেখা। আমি কাল রাতে ছিদাম গোঁসাইকে হাসপাতালে নামিয়ে ওর খোঁজে টেলিফোন বুথে গেছিলাম। বুথের ছেলেটা বলল ও নাকি রাতের গাড়িতে একটা বিশেষ কাজে কলকাতা ফিরে যাবে বলেছিল। সাইকেলটা স্টেশনের পাশের সাইকেল স্ট্যাণ্ডে জমা রেখে যাবে বলেছিল। বলেছে আমি খোঁজ করলে যেন আমাকে সাইকেলের কথাটা বলে দেয়।’

‘সাইকেল ওই স্ট্যান্ডে আছে?”

“হ্যাঁ। কিন্তু বুথের মালিক বদমাশ মনু সেন। আমার কেমন সন্দেহ হল। আমি হাসপাতালে ফিরে গিয়ে গোবিন্দ কীর্তনীয়ার থেকে পদাবলীর মেসের ফোন নম্বরটা নিয়ে রাখলাম।’

‘ফোন করেছিলেন?

‘হ্যাঁ, সকালে ফোন করলাম। পদাবলী কাল রাতে মেসে ফেরেনি। আমার ভয় হচ্ছে ওকে মেরে ওরা ডহরের জেগে ওঠা ওই জংলা ডাঙায় ফেলে রাখেনি তো? খুঁজতে যাচ্ছি। আমি চলি-‘

বিশে ড্রাইভার প্রায় ছুটতে ছুটতে স্টেশন রোডে এসে পৌঁছাল। মুক্তাও এল বিশের পিছন পিছন। রাস্তার ধারে কাচ ভাঙা টেম্পোভ্যান দাঁড়িয়ে। বিশে ভ্যানের ড্রাইভারের দরজা খুলল।

*আমার কাছে গাড়ি আছে,’ মুক্তা বলল। ‘তাড়াতাড়ি পৌঁছে দেবে। কোথায় যাবেন?’ মুক্তা ওর দাঁড় করানো গাড়িটা দেখাল।

*ডহরের পাশের কাঁচা পথ ধরে যেতে হবে। অত বড় গাড়ি ওই সরু কাঁচাপথে ঢুকবে না।’ বিশে টেম্পোভ্যান স্টার্ট দিল।

‘আমিও সঙ্গে আসছি,’ মুক্তা বিশে ড্রাইভারের অনুমতির অপেক্ষা না করে টেম্পোভ্যানে উঠে বসল।

বিশে জলার পাড়ে রেল লাইনের পাশের সরু কাঁচাপথ দিয়ে অভ্যস্ত হাতে স্টিয়ারিং ধরে অনেক দূর নিয়ে গেল টেম্পোভ্যান। সত্যি, এখানে অত বড় গাড়ি আসতে পারত না। জলায় খুঁটি বাঁধা একটা ডিঙি। টেম্পোভ্যান বন্ধ করে বিশে জলের দিকে দৌড়োল। মুক্তাও কালবিলম্ব না করে বিশের পিছন পিছন ডিঙিতে চড়ে বসল। বিশে লগি ঠেলে ডিঙি নিয়ে চলল জলার ভিতরে।

জলে আজ খুব কুয়াশা। কুয়াশায় আবছা দেখা যাচ্ছে ডাঙার জঙ্গলগুলো। বিশে একটা জঙ্গলে ডিঙি ভেড়ালো। জায়গাটাতে মানুষ সমান মরা কাশগাছের জঙ্গল। ডিঙি থেকে লাফ দিয়ে নেমে বিশে ড্রাইভার কাশগাছ দু‘হাতে সরিয়ে সরিয়ে খুঁজে আবার ফিরে এল ডিঙিতে।

‘পেলেন?’

‘নাঃ, বিশে লগি ঠেলতে লাগল। ‘পরেরটা দেখি।’

পরের জংলা জায়গাটা ঠিক স্থল না, মধ্যে মধ্যে কাদাজলের মধ্যে জেগে উঠেছে বনাঞ্চল নলখাগড়া, উলু, বল্লুয়া, চাল্লিয়া। এখানে নেমে খোঁজা মুশকিল। ডিঙি ভিতরে ঢোকালে আটকে যাওয়ার ভয়। কিন্তু বিশে এখন মরিয়া। ও হাতের লগি দিয়ে বুনো গাছপালা সরিয়ে সরিয়ে খুঁজে দেখতে লাগল। কিছুক্ষণ পর বিশে ব্যর্থ হয়ে হতাশ স্বরে বলল, ‘এখানেও নেই।’

সামনে কুয়াশা আরও ঘন। বেশ কিছুক্ষণ ধরে আরও অনেকগুলো জঙ্গলে অনুসন্ধান চালিয়ে ব্যর্থ বিশে হতাশ হয়ে বলল, ‘নাঃ। মনে হচ্ছে এত গভীরে ওকে আনেনি। আমাদের ফিরে যাওয়া উচিত। নদীর পাড়ের দিকটা ভালভাবে খুঁজতে হবে।’

বিশে ড্রাইভার ডাঙার দিকে ডিঙির মুখ ফেরাল।

আর তখনই পিছনের দূরের কুয়াশায় পাখির ডানা ঝটপটানি শুনে মুক্তা উপরের দিকে তাকাল।

কুয়াশার উপরে সুউচ্চ হিজল, করচ ডালপালা মেলে ঠাসাঠাসি করে জেগে রয়েছে। সেখানে হিজলের আগডালে দুটো পাখি।

কালাগলা মানিকজোড়!

মুক্তা পাখিদুটোর দিকে তাকিয়ে রইল। এদের ফটো তোলার জন্য ও কত খোঁজাখুঁজি করেছে। আজ এরা একদম হাতের কাছে! ছে। আজ এর

‘দাঁড়ান, ডিঙি থামান!’ মুক্তা বিশেকে বলল।

‘আমাদের এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করলে চলবে না, বিশে বলল।

‘পাখিদুটো অত অস্থির কেন? বারবার উড়ে উড়ে আগডালে বাসায় এসে বসছে। মনে হচ্ছে ওরা ভয় পেয়েছে। ডিঙি নিয়ে চলুন তো ওদের কাছাকাছি। সামনের কুয়াশার ভিতর এক মানুষ উঁচু শন ঘাস, আঁশস্যাওড়া, বেতসের বন জলে পা ডুবিয়ে রয়েছে, বিশে লগি ঠেলে ডিঙি এগিয়ে নিয়ে চলল।

***

অনেকক্ষণ বেহুঁশ হয়ে থাকার পর সারা শরীরে ঝাঁকুনি দিয়ে জ্ঞান এল পদাবলীর। খুব শীত করছে। ব্যথায় মাথা ছিঁড়ে যাচ্ছে। দু‘হাত পিছমোড়া করে বাঁধা, মুখে একটা কাপড় এত শক্ত করে বেঁধেছে যে শ্বাস নিতে অসুবিধা হচ্ছে। বস্তার ভিতর থেকে বুঝতে পারছে যে বাইরের অন্ধকার কেটে সকাল হয়েছে। সারা গা-হাত-পায়ে ব্যথা। ভয়ে শিউরে উঠল পদাবলী। এভাবে পড়ে থাকতে থাকতে ও তো মরেই যাবে! কেউ তো জানবেই না শয়তানগুলো ওর কী অবস্থা করেছে!

হঠাৎ মানুষের গলা পেল পদাবলী। ও উঁচুস্বরে গোঁ গোঁ আওয়াজ করার চেষ্টা করল। কিন্তু চিৎকার করার মত শক্তি গলায় তো নেই-ই, গলা দিয়ে এতটুকু আওয়াজ বেরালো না। তাহলে?

মানুষগুলো কি ফিরে যাবে?

কী হবে ভাবার মত শক্তি পদাবলীর মস্তিষ্কে নেই। ও যেন ক্রমশঃ মরণঘুমে তলিয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু মানুষের গলার আওয়াজ ক্রমশঃ কাছে এগিয়ে আসছে।

গলার আওয়াজ আরও কাছে। আরও কাছে।

ওরা তাহলে দেখতে পেয়েছে? পদাবলীর চেতনা তলানিতে এসে ঠেকেছে। পায়ের শব্দ এগিয়ে এল। কেউ একজন বস্তাটা খুলল। কিন্তু মাথার পিছন থেকে বস্তা ছাড়ানো গেল না রক্তক্ষরণের ফলে আধ শুকনো রক্তে মাথার পিছন দিক বস্তার সঙ্গে আটকে গেছে। যন্ত্রণায় পদাবলী কোনওরকমে চোখ মেলে তাকাল। বিশে ড্রাইভার আর তার পিছনে মুক্তা। -

‘কী রক্ত বেরিয়েছে গো!’ বিশে বলল। ‘এক্ষুনি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।’

বিশে ড্রাইভার আর মুক্তা বস্তা শুদ্ধ পদাবলীকে পাঁজাকোলা করে ডিঙিতে তুলল। বিশে যত দ্রুত সম্ভব ডিঙি নিয়ে এল ডাঙার ধারে। তারপর পদাবলীর অচৈতন্য শরীরটাকে ধরাধরি করে বিশে আর মুক্তা ডিঙি থেকে নামিয়ে টেম্পোভ্যানে তুলল। মুক্তা ভ্যানের মেঝেতে বসে পদাবলীর মাথা কোলে তুলে নিল। বিশে ড্রাইভার ভ্যান স্টার্ট করল।

‘হাসপাতাল কত দূর?” মুক্তা উদ্বিগ্নস্বরে জিজ্ঞাসা করল।

“বাস রাস্তায়,” বিশে অ্যাকসিলারেটরের ওপর সর্বশক্তি দিয়ে পা চাপল। টেম্পোভ্যান গোঁ গোঁ করতে করতে কাঁচাপথে দুলে দুলে এগিয়ে চলল।

মুক্তা পদাবলীর মুখের গাঁজলা সোয়াটারের হাতা দিয়ে মুছে দিল। পদাবলী ঘোলাটে চোখে যেন দেখল কুয়াশার মধ্যে কাতারে কাতারে লোক চলেছে নীলমাধবের মন্দিরের দিকে। ঝোড়ো হাওয়া ঝরা পাতাকে যেমন এলোমেলো ভাবে চারদিকে উড়িয়ে নিয়ে যায় তেমনিভাবে করতালতলীতে আবার ধুলট উৎসব শুরু হচ্ছে এই খবর চারিদিকে গ্রামে গ্রামে উড়ে বেড়িয়েছে। পঁয়ষট্টি বছর পরে আবার হচ্ছে ধুলট। যাদের আগের ধুলট দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল তাদের অধিকাংশই আজ পরলোকে, কিন্তু প্রাণনাথ কীর্তনীয়ার গল্প তাদের পরিবারে উপকথা হয়ে বেঁচে আছে। আর সেই উপকথার টানে কাতারে কাতারে ভক্ত অধিবাসের দিন সকাল থেকেই ভিড় করে আসছে ধুলডাঙায়।

পদাবলী চোখ বন্ধ করে দেখতে পাচ্ছে চৈতন্যপুখুরীর পাশে ধুলডাঙায় টানানো সামিয়ানার এ মাথা থেকে ও মাথা পর্যন্ত ঝুলছে আমপাতা সুতলিতে বেঁধে বিরাট লম্বা লম্বা পত্রমালা। সামিয়ানার নিচে আর জায়গা হচ্ছে না, আবালবৃদ্ধ-বনিতা সকলে যে যেখানে পারে ভাল জায়গা নিয়ে চাদর, গামছা পেতে বসে যাচ্ছে কীর্তন শুনবে বলে। দর্শকদের হৈ চৈ বাড়ছে, সকলের মনে উদ্দীপনা - - - • ধুলটমেলা বলে কথা। গোবিন্দ অধিকারীকে আজ অন্য রকম লাগছে। ঝুঁকে পড়া মানুষটার মেরুদণ্ড আজ টানটান, উন্নত মস্তক, হাতে ঝকঝক করছে পিতলের করতাল। উত্তরীয় বুকের ওপর কিছুটা নেমে দুই স্কন্ধ বেয়ে পিঠে ঝুলে আছে, চোখেমুখে এক স্বর্গীয় আনন্দের দীপ্তি। তিন ঋণ – ঋষি ঋণ, পিতৃ ঋণ, দেব ঋণ – আজ শোধ করে সে মুক্তি পাবে। হরি বায়েন হাতুটি বাজাচ্ছে। হরি বায়েনের মৃদঙ্গ থেকে যেন অমৃত অক্ষর জেগে আহ্বান জানাচ্ছে শ্রীচৈতন্যমহাপ্রভুকে। সোনাগাছিতে তবলা বাজিয়ে ওকে আর খেতে হবে না। পাশে রতি গৌরচন্দ্রিকা গাইছে, বিষ্ণুপ্রিয়ার বেদনা ছড়িয়ে পড়ছে ধুলডাঙায়। নীলমাধবের সামনে তারও প্রতিজ্ঞা রক্ষা হল। ভজন ডোম নিয়ে এসেছে ইন্দুমতি বাঈকে। মা মেয়ের মিলন অবশ্যই হবে। চৈতন্যপুখুরী পুণ্যতোয়াই থাকবে, ধুলডাঙায় পুণ্যাহে কীর্তনে মুখরিত হবে বাতাস, নীলমাধবের দেউলে সন্ধ্যায় শঙ্খ-ঘন্টা বাজবে - পদাবলীর এখন খুব ঘুম পাচ্ছে। পদাবলীর মাথা কোলে নিয়ে বসে মুক্তা ঝুঁকে পড়ে ওর কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলছে পদাবলী, পদাবলী, প্লীজ জেগে থাকো। বিশ্বনাথদা, একটু জোরে চালান প্লিজ। হি ইজ সিংকিং।

বিশে ড্রাইভার বিড়বিড় করে বলল করতালতলীর কীর্তনের জন্য তুমি এত করলে। তোমায় নীলমাধব কিছুতেই মরতে দেবে না।

স্টেশন রোডে এসে পদাবলীকে মুক্তা নিজের গাড়িতে তুলল। এবার পদাবলীর মনে হল চারদিক অন্ধকার হয়ে আসছে। মুক্তার গায়ের পারফিউমের গন্ধ, বাহ্যিক জগৎ সব মিলেমিশে এক হয়ে যাচ্ছে। চারদিক থেকে রঙ মুছে গেল। চোখের সামনের রঙিন জগৎটা গ্রাফাইট স্কেচ হয়ে গেল। ব্ল্যাক অ্যাণ্ড হোয়াইট। সব অন্ধকার হয়ে গেল। পদাবলী প্রাণনাথ কীর্তনীয়ার মত কথা দিয়েছিল করতালতলীতে ধুলট হবে। সে কথা রেখেছে। মনু সেনরা থাকবেই, কিন্তু বাংলার মাটিতে কীর্তনকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব নিতে হবে বাঙালিকেই। যুগে যুগে দাঁত কামড়ে লড়তে হবে আমাদেরই। এ যে আমাদের পূর্বপুরুষদের আবেগে মথিত গান। কীর্তনের ঘাসের শিকড় অনেক গভীরে। রৌদ্র-দহনের পর দরকার শুধু কিছুটা বারি সিঞ্চনের।

সনাতন কীর্তন। পদাবলীর কাছে সে রহস্য এখন উন্মুক্ত। ছিদাম বায়েন শরীরের জন্য কীর্তন দেখতে আসতে পারবে না। সে হয়তো কল্পনায় কুমুদরঞ্জনের বাড়ির উঠোনে ফিরে গিয়ে বিড়বিড় করে বলছে – কুয়া ভাঙ্গুম, কুয়া ভাঙ্গুম। মন্দিরাদিদি, প্রাণনাথদাদা, গোঁসাইজ্যাঠা এই উঠোনের ধুলোতে একদিন পা রেখেছে, ছিদাম বায়েন অবচেতনে উঠোনের ধুলোয় হাত বুলিয়ে সেই ধূলিধূসর হাত বারবার মাথায় ঘষছে। এটাই তার জীবনের পবিত্রতম ধুলট।

পদাবলীর শরীর ক্রমশঃ স্থির, শান্ত হয়ে আসছে দু‘চোখের পাতা ভারী হয়ে বুজে আসছে - তলিয়ে যেতে যেতে অবচেতনে অন্ধকার হাতড়াচ্ছে পদাবলী। ঘন অমানিশা থেকে উত্তরণে আলোকরশ্মির আলম্বন চাই। পাতালগহ্বরের অতল থেকে দেখা যাচ্ছে অনেক উচ্চতায় শুধু এক চিলতে ঝুলন্ত আলোর রশ্মি। গভীর ঘুমে ঢলে পড়তে পড়তে অসহায় পদাবলী উপরদিকে হাত বাড়াল। কেউ আমায় টেনে তোল, পদাবলী বাঁচতে চায়। কেউ ওর হাত ধরল। এই স্পর্শ পদাবলীর একান্ত আপন। ঠাম্মা। সন্ধ্যায় ঘুমন্ত শিশু পদাবলীর শরীরটা বিছানা থেকে নিজের বুকে তুলে নিল। ঠাকুরঘরে গিয়ে বসল ঠাম্মা। পদাবলীকে কোলে বসিয়ে দু‘হাত দিয়ে ওর কোমল তনু জড়িয়ে ধরল। ঠাম্মার চোখ ভেজা। ঠাম্মা চোখ বুজে গড়াণহাটি গাইছে। কীর্তনে ঘুম কাটছে পদাবলীর। আধো জাগরণে পদাবলীর কানের ভিতর দিয়ে মরমে প্রবেশ করছে এক নারীর অবিনশ্বর আকুতি যা তাঁর দগ্ধজীবনে অচ্ছেদ্য প্রাণসখা হয়ে তাঁর মনে সুধারস ঝরিয়ে গেছে-

জীবনে মরণে জনমে জনমে প্রাণনাথ হৈও তুমি

সমাপ্ত

অধ্যায় ৭৩ / ৭৩
সকল অধ্যায়
১.
প্রাককথন
২.
এক
৩.
দুই
৪.
তিন
৫.
চার
৬.
পাঁচ
৭.
ছয়
৮.
সাত
৯.
আট
১০.
নয়
১১.
দশ
১২.
এগার
১৩.
বারো
১৪.
তেরো
১৫.
চোদ্দ
১৬.
পনের
১৭.
ষোলো
১৮.
সতের
১৯.
আঠারো
২০.
ঊনিশ
২১.
কুড়ি
২২.
একুশ
২৩.
বাইশ
২৪.
তেইশ
২৫.
চব্বিশ
২৬.
পঁচিশ
২৭.
ছাব্বিশ
২৮.
সাতাশ
২৯.
আটাশ
৩০.
ঊনত্রিশ
৩১.
ত্ৰিশ
৩২.
একত্রিশ
৩৩.
বত্রিশ
৩৪.
তেত্রিশ
৩৫.
চৌত্রিশ
৩৬.
পঁয়ত্রিশ
৩৭.
ছত্রিশ
৩৮.
সাঁইত্রিশ
৩৯.
আটত্রিশ
৪০.
ঊনচল্লিশ
৪১.
চল্লিশ
৪২.
একচল্লিশ
৪৩.
বিয়াল্লিশ
৪৪.
তেতাল্লিশ
৪৫.
চুয়াল্লিশ
৪৬.
পঁয়তাল্লিশ
৪৭.
ছেচল্লিশ
৪৮.
সাতচল্লিশ
৪৯.
আটচল্লিশ
৫০.
ঊনপঞ্চাশ
৫১.
পঞ্চাশ
৫২.
একান্ন
৫৩.
বাহান্ন
৫৪.
তিপ্পান্ন
৫৫.
চুয়ান্ন
৫৬.
পঞ্চান্ন
৫৭.
ছাপ্পান্ন
৫৮.
সাতান্ন
৫৯.
আটান্ন
৬০.
ঊনষাট
৬১.
ষাট
৬২.
একষট্টি
৬৩.
বাষট্টি
৬৪.
তেষট্টি
৬৫.
চৌষট্টি
৬৬.
পঁয়ষট্টি
৬৭.
ছেষট্টি
৬৮.
সাতষট্টি
৬৯.
আটষট্টি
৭০.
ঊনসত্তর
৭১.
সত্তর
৭২.
একাত্তর
৭৩.
বাহাত্তর

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%