বাইশ

প্রীতম বসু

স্টেশনের নাম বিষ্ণুদাসপুর। ট্রেন থেকে নিচু প্ল্যাটফর্মে বুড়িকে ধরে ধরে নামাল প্রাণনাথ কীর্তনীয়া। স্টেশনে অনেকে নামল প্রায় সকলেই হাটুরে। তাদেরঝাঁকায় শহরের জুতো, কাগজের বাক্সে সেমিজ, ধুতি, ফতুয়া আরও কত কি। ভসভস করে ট্রেন স্টেশন ছেড়ে চলে গেল। স্টেশনের বাইরে গরুর গাড়ির গাড়োয়ান হাঁকছে – ধুতরোহাট খেয়াঘাট। হাটুরেরা গরুর গাড়িতে মাল চাপাতে লাগল। ট্রেনে অন্য টিকটিকিও থাকার সম্ভাবনা ছিল তাই বুড়িকে সঙ্গে রাখতেই হল। বুড়ির হাত ধরল প্রাণনাথ। খসখসে শিউলি পাতার স্পর্শ। হাড্ডিসার আঙুলগুলো রক্তহীন ফ্যাকাসে। পাশে বাঁশঝাড় থেকে পচা বাঁশপাতার গন্ধ আসছে। মাঠের মধ্যে দূরে একটা অজ্ঞাত গণ্ডগ্রাম দেখা যাচ্ছে। সূর্যের তাপ বাড়ছে।

‘দিদিমা, ফিরতি ট্রেনে চন্দননগর একা একা ফিরে যেতে পারবে তো?” “আমি কাল ফিরব।’

“আজ রাতে কোথায় থাকবে?’

“ধুতরোহাটে আমার সোয়ামীর কবীন্দ্র পরিবারের কয়েকঘর গুরুভাইয়ের বাস।’

‘দাদু কবি ছিল?”

“আমার সোয়ামী ছিল নিরক্ষর কুমোর। বললাম কবীন্দ্র সম্প্রদায়। খুব ছোট সম্প্রদায়।’ ”

“বৈষ্ণব?

গোরুর গাড়ি দুটো হ্যাট হ্যাট করতে করতে পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেল। প্রাণনাথ সরে গিয়ে রাস্তা দিল। তারপর আবার এগিয়ে চলল।

‘বৈষ্ণবদের মতই এদের আচার আচরণ। তবে সকলেই গৃহস্থ। এই যে স্টেশনের নাম দেখলি বিষ্ণুদাসপুর, এই বিষ্ণুদাস শ্রীচৈতন্যমহাপ্রভুর একজন অনুরাগী ছিলেন। শ্রীচৈতন্যমহাপ্রভুর পাতের ভুক্তাবশেষ প্রসাদ খুব নিষ্ঠাভরে খেতেন। কণামাত্র হলেও তা প্রণাম করে খেতেন। একদিন প্রভুর থালায় কোনও ভুক্তাবশেষ ছিল না। মহাপ্রভু যেখানে খেয়ে কুলকুচি করে গেছেন সেই নিষ্ঠীবনে প্রসাদান্ন-কণা দেখতে পেয়ে বেচারা বিষ্ণুদাস তা ভক্তিভরে প্রণাম করে খেয়ে ফেললেন। কিন্তু সেই প্রসাদ কণায় রক্তের ছিটে লেগে ছিল। বিষ্ণুদাস মহাপ্রভুর প্রিয় বলে অন্য একজন শিষ্য ওকে খুব হিংসা করত। বিষ্ণুদাসকে হেনস্থা করার জন্য সে মহাপ্রভুকে বলল - প্রভু, কোনও শিষ্য যদি তার গুরুর রক্তপান করে তবে তার সঙ্গে কেমন ব্যবহার কর্তব্য? চৈতন্যদেব অত না ভেবে বললেন তাকে সম্প্রদায় থেকে বের করে দেওয়াই কর্তব্য। গুরুবাক্য মানতে বিষ্ণুদাস বৈষ্ণব সম্প্রদায় থেকে বেরিয়ে গেলেন, আর নিজে একটি সম্প্রদায় খোলেন। এই সম্প্রদায় হল কবীন্দ্র সম্প্রদায়।’

বুড়ির সঙ্গে গল্প করতে করতে ধীরে ধীরে প্রাণনাথ মাঠের আল ধরে চলতে লাগল। সামনে গ্রাম দেখা যাচ্ছে। প্রাণনাথ বুড়িকে বলল, ‘এবার তুমি চলে যাও দিদিমা। আমি খেয়া ধরে করতালতলী চলে যাব।’

‘এইটে রাখ প্রাণনাথ, বুড়ি সিকিটা প্রাণনাথের হাতে দিল। ‘এত পয়সা আমায় মানায় না। শোন, আজ হাটবার। একটু পরেই খেয়াঘাটে ভাঙাহাটের দোকানিরা তরকারীর ধামা, দুধের হাঁড়ি, গুড়ের নাগরি এসব নিয়ে বাড়ি ফেরার খেয়া ধরবে। তুই একটু রয়ে সয়ে তারপর বেলা পড়লে খেয়াঘাটে যা। এই সব ভিন্ন তালুকমুলুকের লোক তোকে যত কম দেখে ততই মঙ্গল।’

বুড়ি ধীরে ধীরে গ্রামের দিকে এগিয়ে গেল। মাঠের আলের পাশে একটা দল-দামে ঢাকা এঁদোপুকুর, পুকুরের চারদিকে কলাগাছ। পুকুর পাড়ে মান্দার গাছের নিচে দাঁড়াল প্রাণনাথ। পুকুরের ওপারে একটু উঁচু জমিতে বিস্তৃত বরোজ। পানপাতা এখনও পুরুষ্টু নয়, পাতা তুলতে আরও মাস দুয়েক লাগবে। প্রাণনাথ মাটিতে খোল নামিয়ে বিবর্ণ জীর্ণ ক্যাম্বিসের ঝোলা থেকে গামছা বের করে পাতল তরুচ্ছায়ায়। গামছায় বসে ঝুলি থেকে মুড়কি বের করে খেল। কে বলবে এই ছেলের বাবা দাপুটে জমিদার, ব্রিটিশদের রায়সাহেব, এ আবাল্য দুগ্ধফেননিভশয্যার আয়েসে লালিত।

প্রাণনাথ পুকুরের আঘাটায় জলে নেমে দাম সরিয়ে আঁজলা ভরে ভরে জল খেল। তারপর টানটান হয়ে শুয়ে পড়ল। কাল রাতে ঘুমের অবকাশ হয় নি, শরীর টানছে।

প্রাণনাথ যখন চোখ খুলল তখন পশ্চিমের মাঠে দিকচক্রবালে রং লেগেছে। ঠাণ্ডা হাওয়া বইছে, শীত শীত করছে। ঝোলা গুছিয়ে প্রাণনাথ খেয়াঘাটের দিকে রওনা দিল। রাস্তার দু‘পাশে বনতুলসীর ঝাড়ে ফড়িং উড়ছে, শিয়ালকাঁটার পায়ের কাছে ডাঁই হয়ে আছে কচুরিপানার বেগুনি ফুল। জল অগভীর, নিচের পাঁক তোলা হয়েছে, গন্ধ ছড়াচ্ছে। বকগুলো এখনও সাবধানী পা ফেলে ফেলে তে-চোখা, বেলে মাছ খুঁজছে। হিজলের ডালে বসে সুযোগের অপেক্ষা করছে মাছরাঙা। পানকৌড়ি দূরে দূরে ডুব দিচ্ছে। প্রাণনাথ খেয়াঘাটে পৌঁছাল।

কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর করতালতলীর খেয়া এল। প্রাণনাথ বসল গলুইএর কাছে।

খেয়ায় নদী পেরিয়ে করতালতলী ঘাটে পৌঁছোতে পৌঁছোতে সূর্য ডুবে রাত্রি হয়ে গেল। বেতের জঙ্গলে ঝিঁঝিঁ ডাকতে শুরু করে দিয়েছে। জলের পাড়ের ছৈলা বনের পাতায় ঝাঁকে ঝাঁকে জোনাকির আলো। আকাশে সন্ধ্যাতারা। আরও দু‘জন যাত্রী নামল। প্রাণনাথ অন্ধকারে মেঠো পথে একলা হাঁটতে থাকল। চৈতন্যপুখুরীর কাছে এসে মেঠো রাস্তা দু‘ভাগে ভাগ হয় গেছে। লোকদুটো সোজা পথে এগিয়ে গেল, প্রাণনাথ সঙ্কীর্ণ আলপথে বাঁদিকে চলল। আলের দু‘পাশে ঝোপঝাড় – আশস্যাঁওড়া, কালকাসিন্দে, লাল ভেরান্দার ঝোপ আধো অন্ধকারে একে অপরের সঙ্গে ছায়া মাখামাখি হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। দূরে জলার মাঝামাঝি দপ করে আলেয়ার ভূত জেগে উঠে আবার অন্ধকারে হারিয়ে গেল। কিছুক্ষণ চলার পর প্রাণনাথ ঝুরি নামা বট গাছের নিচে দাঁড়াল। সামনের বাড়িটা মৃদঙ্গমদের। প্রাণনাথ গত দু‘বছর ধরে আসছে এই বাড়িতে শীতে করতালতলীর ধুলটের সময়। -

অন্ধকারে ডুবে আছে বাড়িটা। শিউলি ফুলের গন্ধ বাতাসে ভেসে আসছে। আর সঙ্গে ভেসে আসছে নারীকণ্ঠে অপূর্ব সুন্দর কীর্তন

হাথক দরপণ, মাথক ফুল,

নয়নক অঞ্জন, মুখক তাম্বুল

হৃদয়ক মৃগমদ, গীমক হার,

দেহক সরবম্ব, গেহক সার,

পাখীক পাখ, মীনক পানি,

জীবক জীবন হাম তুহুঁ জানি।

‘বিদ্যাপতির পদাবলী,’ প্রাণনাথের কানে তৃপ্তি ঢালছে মন্দিরার সুললিত কণ্ঠ। প্রিয়তম, তুমি আমার হাতের আয়না, মাথার ফুল, আঁখির কাজল, অধরের তাম্বুল, হৃদয়ের মৃগমদ চিত্রপাঁতি, গলার হার, দেহের সর্বস্ব, সংসারের সার, পাখির পাখা, মাছের জল, জীবের জীবন। এই বাড়িতে দিনরাত কীৰ্তন চলে। প্রাণনাথ গতবার এসে দেখেছে এই পরিবারের মানুষদের বাইরের জগৎ সম্বন্ধে কোনও মাথাব্যথা নেই, এরা অহর্নিশি ডুবে আছে ভক্তিরসে। নীলমাধবের মন্দিরসর্বস্ব এই বাড়ি। প্রাত্যহিক ঋত্বিকধর্মের অপরিহার্য্য নিয়মে এরা স্বেচ্ছাআবদ্ধ। এদের দিনযাপন হয় শুধু মন্দিরের দেবসেবায়। গতবার এসে দেখেছে সে প্রতিদিন সূর্যোদয়ের পূর্বেই এই বাড়ি জেগে ওঠে। স্নান সেরে পুজোর জন্য প্রস্তুত হয়ে এরা চলে যায় নীলমাধবের মন্দিরে। প্রত্যুষে বৃদ্ধ কুমুদরঞ্জন নীলমাধবের মন্দিরের জাগরণ আর মঙ্গলারতি করেন। পঞ্চপ্রদীপ, ধূপ, কর্পূর, জলশঙ্খ, আচ্ছাদন, পাখা, ফুল, চামর দিয়ে অনেকক্ষণ ধরে চলে সেই আরতি, ঈশ্বরকে উপলভোগ নিবেদন করা হয়। প্রাণনাথ ঈশ্বর বিশ্বাস করে না, প্রথম একদিন গেছিল মৃদঙ্গমের সঙ্গে, তারপর থেকে সকালে গ্রাম ঘুরতে যেত কিংবা নদীর পাড়ে গিয়ে বসত। শুনতে পেত মন্দির থেকে ভেসে আসছে মন্দিরার ভৈরব রাগ -

বৃন্দাবন কুঞ্জহি ভুবন উজোর

মূরতি মনোহর যুগল কিশোর

‘যদি অগাধ ভক্তি দেখতে হয় তবে লোকের আসা উচিত করতালতলী, মৃদঙ্গম হেসে বলেছিল প্রাণনাথকে। ‘সকালে খোল-করতাল বাজিয়ে মঙ্গলারতি দিয়ে তো শুরু। তারপর দুপুর বেলা হবে ভোগ-আরতি। মন্দিরা রান্না করবে নীলমাধবের জন্য। বারকোশে অন্ন, ব্যঞ্জন আর তার ওপর তুলসীমঞ্জরী দিয়ে বাবা মন্দিরে প্রভুর ভোগ নিবেদন করবে আর বাইরে মন্দিরা কীর্তন গাইবে – এস এস মহাপ্রভু করি নিবেদন, ভোগমন্দিরে প্রভু করহ পয়ান। আরতি শেষ হলে বাবা শাঁখ হাতে শান্তিজল ছিটিয়ে দেবে, আর তারপর প্রভুর ভোগের প্রসাদই হল আমাদের বাড়িতে দুপুরের দানাপানি। তার আগে খিদেয় নাড়ী ছিঁড়ে গেলেও কপালে ভাত জুটবে না।’

প্রাণনাথ দেখেছে সন্ধ্যাবেলায় আবার কাঁসর ঘন্টা বেজে ওঠে মন্দিরে। শুরু হয় সন্ধ্যা আরতি। মন্দিরা গায় – গোঘৃত আরতি কর্পূর বাতি, হেরত মধুমুখ একেক দিন একেক পদ। তারপর দেবতাকে শীতলভোগ খাইয়ে, শয়ন দিয়ে মন্দিরের কবাট বন্ধ করা হয়।

গান ভেসে আসছে। প্রাণনাথ চুপচাপ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুনল। কী আবেগ ! কিন্তু কিছুক্ষণ পর এই গৃহ শোকে নিমজ্জিত হয়ে যাবে। মৃদঙ্গম ওকে এ পদ শিখিয়েছে - রাধা তার সর্বস্ব কৃষ্ণের পায়ে সঁপে দিয়েছে। খুব মিষ্টি কণ্ঠস্বর, আর তার সঙ্গে খোলের সুমিষ্ট আওয়াজ। ছিদাম খোল বাজাচ্ছে। বাড়ির সদরের দিকে এগিয়ে গেল প্রাণনাথ অন্ধকারে। তুষ-পাথুরে মাটির দেওয়াল দিয়ে ঘেরা মৃদঙ্গমদের বাড়ি। বাইরের কাকজ্যোৎস্নায় কাঠের দরজার পাল্লার ফাঁক দিয়ে বাড়ির অঙ্গন আর আগচালি দালান আবছা দেখা যাচ্ছে। যেন জ্যোৎস্না এসে কৃষ্ণনামের জন্য কুটীরের দালান ধুয়ে-মুছে দিয়েছে। ‘মন্দিরা,’ প্রাণনাথ গলা উঁচু করে ডাকল।

ভিতরের কীর্তন থেমে গেল। ছিদাম বাইরে বেরিয়ে এল, পরনে ধুতি আর হাতকাটা পিরান। সে প্রাণনাথের দিকে আয়তচোখে তাকিয়ে বলল, ‘কে আপনি? রাধেকৃষ্ণ! এ যে প্রাণনাথদাদা! এ কী বেশ গো তোমার! তুমি কবে ভেক নিলে? দাড়ি-গোঁফ কামিয়ে ফেলেছ? তোমায় তো চেনাই যায় না গো।’ তারপর ঘরের দিকে তাকিয়ে গলা চড়িয়ে বলল, ‘মন্দিরাদিদি, প্রাণনাথদাদা এসেছে।’

ছিদাম ভুবনকাকার ছেলে। সতের-আঠার বছরের ছেলে, পেটা চেহারা। এ বাড়ির ছেলের মতই ওকে দেখে সকলে। ‘রাধেকৃষ্ণ,’ প্রাণনাথ প্রতিনমস্কার করল। কাল মাঝরাত থেকে প্রাণনাথ বাড়ির বাইরে। সে এখন ক্লান্ত, অন্যমনস্ক। আজ সারাদিন মনে প্রশ্ন ঘুরে চলেছে কীভাবে সে এদের দেবে মৃদঙ্গমের মৃত্যু সংবাদ?

সকল অধ্যায়
১.
প্রাককথন
২.
এক
৩.
দুই
৪.
তিন
৫.
চার
৬.
পাঁচ
৭.
ছয়
৮.
সাত
৯.
আট
১০.
নয়
১১.
দশ
১২.
এগার
১৩.
বারো
১৪.
তেরো
১৫.
চোদ্দ
১৬.
পনের
১৭.
ষোলো
১৮.
সতের
১৯.
আঠারো
২০.
ঊনিশ
২১.
কুড়ি
২২.
একুশ
২৩.
বাইশ
২৪.
তেইশ
২৫.
চব্বিশ
২৬.
পঁচিশ
২৭.
ছাব্বিশ
২৮.
সাতাশ
২৯.
আটাশ
৩০.
ঊনত্রিশ
৩১.
ত্ৰিশ
৩২.
একত্রিশ
৩৩.
বত্রিশ
৩৪.
তেত্রিশ
৩৫.
চৌত্রিশ
৩৬.
পঁয়ত্রিশ
৩৭.
ছত্রিশ
৩৮.
সাঁইত্রিশ
৩৯.
আটত্রিশ
৪০.
ঊনচল্লিশ
৪১.
চল্লিশ
৪২.
একচল্লিশ
৪৩.
বিয়াল্লিশ
৪৪.
তেতাল্লিশ
৪৫.
চুয়াল্লিশ
৪৬.
পঁয়তাল্লিশ
৪৭.
ছেচল্লিশ
৪৮.
সাতচল্লিশ
৪৯.
আটচল্লিশ
৫০.
ঊনপঞ্চাশ
৫১.
পঞ্চাশ
৫২.
একান্ন
৫৩.
বাহান্ন
৫৪.
তিপ্পান্ন
৫৫.
চুয়ান্ন
৫৬.
পঞ্চান্ন
৫৭.
ছাপ্পান্ন
৫৮.
সাতান্ন
৫৯.
আটান্ন
৬০.
ঊনষাট
৬১.
ষাট
৬২.
একষট্টি
৬৩.
বাষট্টি
৬৪.
তেষট্টি
৬৫.
চৌষট্টি
৬৬.
পঁয়ষট্টি
৬৭.
ছেষট্টি
৬৮.
সাতষট্টি
৬৯.
আটষট্টি
৭০.
ঊনসত্তর
৭১.
সত্তর
৭২.
একাত্তর
৭৩.
বাহাত্তর

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%