একাত্তর

প্রীতম বসু

করতালতলীতে সন্ধ্যা হয়ে গেছে। দূরে দেখা যাচ্ছে উদয়নপল্লীতে কালী পুজোর আলোকমালা, ক্ষণে ক্ষণে আকাশে উড়ে যাচ্ছে বাজির আলো। কাল অধিবাস। আশা করা যাচ্ছে কাল সকাল থেকেই প্রচুর ভক্তরা আসা আরম্ভ করবে। মণ্ডপ বানানো হয়েছে, অনেকগুলো সামিয়ানা টানানো হয়েছে। কিন্তু পদাবলীর মনটা কেন যেন কু ডাকছে। চন্দ্রকান্ত, মনু সেন, মুনশি এরা এত সহজে ছেড়ে দেবে?

- জমিদার কুমুদরঞ্জনের বাড়ির উঠোনের আগাছা কেটে সাফ করে দেওয়া হয়েছে। একটা বড় সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে মিউজিয়ামের নাম গীতগোবিন্দ। পরাশর সেনের ছাত্ররা আজ সারাদিন কাজ করে কলকাতা ফিরে গেছে। লেবাররাও চলে গেছে। আবার কাল সকালে আসবে। গোবিন্দ অধিকারী ছিদাম বায়েনের শিয়রের কাছে বসে ছিল। ছিদাম বায়েনের শ্বাসকষ্টটা খুব বেড়েছে তাই গোবিন্দ অধিকারী আজ আর বাবাকে ছেড়ে মণ্ডপের দিকে যেতে পারে নি। গোপাল ঠাকুর আর অঞ্জন বৈরাগীর ওপর দায়িত্ব ছেড়ে আসতে হয়েছে।

বাইরে গ্রিলের দরজা খুলে পদাবলী ঢুকল। পদাবলীকে দেখে গোবিন্দ অধিকারীর মনে যেন অনেক বল এল।

‘মণ্ডপে গেছিলাম। গোপাল ঠাকুরের কাছে শুনলাম দাদুর শরীরটা খারাপ?” পদাবলী উদ্বিগ্ন চোখে ছিদাম বায়েনের দিকে তাকিয়ে কথাটা গোবিন্দ অধিকারীকে বলল।

‘টানটা বেড়েছে,’ গোবিন্দ অধিকারী চিন্তিত।

‘কখন থেকে?”

‘তুমি ভোরে বেরিয়ে গেলে, বাবার ঘুম ভাঙতে অনেক দেরি হল। ঘুম থেকে উঠে বললেন শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। আমার মনে হয় কাল সন্ধ্যার ধকল। তাছাড়া মনের ভিতর সর্বক্ষণ একটা উত্তেজনা হচ্ছে ধুলট নিয়ে, শরীর তার সঙ্গে তাল রাখতে পারছে না। একটা ডাক্তার ডেকে আনা দরকার। তুমি আরেকবার মন্দিরে গিয়ে গোপাল ঠাকুরকে একটু খবর দেবে? ও যদি সাইকেল নিয়ে চলে যায়।’

‘এক্ষুনি যাচ্ছি,’ পদাবলী তাড়াতাড়ি বেরিয়ে গেল। বাইরে বেরোতেই পদাবলী দেখল গ্রিল গেটের বাইরে এক ছায়ামূর্তি জামরুল গাছের নিচে দাঁড়িয়ে। পদাবলী টর্চ মারল - বিশে ড্রাইভার।

“তুমি এখানে দাঁড়িয়ে বিশুদা?’

*একটা খুব খারাপ খবর দেবার ছিল কত্তামশাইকে, কিন্তু ছিদাম গোঁসাইয়ের এই অবস্থায় বুঝতে পারছিলাম না ভিতরে যাব কিনা। তাই ইতস্ততঃ করছিলাম।’

‘কী খবর? পদাবলী টর্চ নেভাল।

*মহাজন আর জমিদারবাবু মিলে একটা সব্বোনাশ করতে চলেছে। পঞ্চাশ টিন ডিডিটি কেনা হয়েছে।

- ভ্রূ কুঁচকে কথাটার গুরুত্ব বোঝার চেষ্টা করল পদাবলী ‘অত ডিডিটি? তুমি জানলে কীভাবে?

“জমিদারের টেম্পো আমিই চালিয়ে নিয়ে এলাম। মাল ঢুকিয়ে দিতে বলল মহাজনের গুদামে। ‘কী করবে অত ডিডিটি দিয়ে?”

বিশে কাঁদোকাঁদো গলায় বলল- ‘জমিদারবাবুর কাছে বাড়ি বন্ধক দিয়েছিল বাবা। ওই কাগজ আমি ছাড়াতে পারি নি। তাই বলে চৈতন্যপুখুরীতে ডিডিটি ঢেলে সব মাছ, পাখিদের মেরে ফেলা আমি দেখতে পারব না। মহাপোভু তাহলে আমায় ক্ষমা করবেন না,’ বিশে ড্রাইভার হাউমাউ করে কাঁদতে লাগল। ‘এখানে ধুলটের ভক্তরা শুনেছি ভক্তিতে চৈতন্যপুখুরীর জলই খায়। কাল –’

“ওদের প্ল্যানটা জানো?”

‘জমিদারের গুণ্ডারা গভীর রাতে ডিঙি নৌকা নিয়ে সব ক’টা জলায় বিষ ঢালবে। জলায় দেখলাম দুটো ডিঙি নৌকা বাঁধা।’

“বুঝেছি। কাল সব মাছ মরে ভেসে উঠবে। বিষের প্রতিক্রিয়ায় অনেক পাখি মরবে। লোকেরা ওই জল খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়বে। এভাবে ওরা অধিবাস বন্ধ করার চেষ্টা করবে। আমি তা হতে দেব না।’

“ওদের কাছে সব সময় ছোরা পিস্তল থাকে। ওদের আটকাতে পুলিশ দরকার।’

‘পুলিশ! পদাবলী বলল। ‘আমি পুলিশের ব্যবস্থা করছি। এখানে একটা এসটিডি বুথে যাওয়া যাবে?’

স্টেশন পেরিয়ে উদয়নপল্লী যাওয়ার পথে স্টেশন রোডে এসটিডি বুথ পাবে। “আমার সাইকেলটা নিয়ে যাও, বিশে বলল।

‘কিন্তু ছিদাম দাদুর টান উঠেছে। ডাক্তার ডাকতে হবে যে।” “আমি ভিতরে যাচ্ছি। এখন কোনও ডাক্তার এদিকে আসবে না। কত্তামশাইয়ের ওই কাচভাঙা টেম্পোভ্যানেই ছিদাম গোঁসাইকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।’

‘হাসপাতাল খুব দূরে?” ‘না না কাছেই। বিডিও অফিসের পাশে। তুমি ওদিকটা দেখ, আমি এদিক সামলাচ্ছি।’

‘ঠিক আছে, পদাবলী বলল। ‘তবে গোবিন্দকাকাকে এই বিষের কথা বলার দরকার নেই। এমনিতেই উদ্বেগে আছে। এসব শুনলে ভয়ে ওঁর গা-হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যাবে। আমি ফোনটা করেই এক্ষুনি ফিরে আসব।’

বিশু ড্রাইভারের সাইকেল নিয়ে ঊর্ধ্বশ্বাসে চালিয়ে পদাবলী রেল লাইন পেরিয়ে স্টেশন রোডের এসটিডি বুথে পৌঁছাল। আশেপাশে বাচ্চারা পটকা ফাটাচ্ছে, রঙমশাল, ফুলঝুরি, চরকি জ্বালাচ্ছে। স্টেশনরোডের বুথ খালি। পাশে ক্যাশে বসে ওর বয়সী একটা ছেলে, চোখ লাল, মুখে মদের গন্ধ। পদাবলী টেলিফোন বুথে ঢুকে ফোন লাগাল মুক্তাকে।

‘মুক্তা, আমি করতালতলী থেকে পদাবলী বলছি। এখানে একটা বিপদ হতে চলেছে।’ ‘বিপদ? কী বিপদ?”

“ওই সেদিনের মস্তানগুলো, যারা আমায় স্টেশনে থ্রেট করেছিল “হ্যাঁ, হ্যাঁ মনে আছে, ওরা কী করেছে?”

‘ওরা পঞ্চাশ টিন ডিডিটি কিনেছে। আজ মাঝরাতে ওরা চৈতন্যপুখুরীর জলে ডিডিটি ঢেলে সব মাছ পাখি মেরে ফেলে আমাদের কাল সকালের ধুলট বানচাল করার প্ল্যান এঁটেছে। ধুলট তো বন্ধ হবেই, সঙ্গে সঙ্গে অত পাখি আর মাছ মারা পড়বে।’

‘ও মাই গড়! গোটা বার্ড সাংচুয়ারিটা ডেস্ট্রয় হয়ে যাবে। সামনের শীত থেকে আর সেন্ট্রাল এশিয়ান ফ্লাইওয়ের পাখিরা কিছুতেই আসবে না। এলাকার ইকোসিস্টেমই পালটে দেবে শয়তানগুলো। ত ছাড়া কালাগলা মানিকজোড়ের মেয়েটা ডিম পেড়েছে। আমি কিছুতেই এটা হতে দেব না। আমি বাপিকে বলছি।’

‘কিন্তু জমিদার ডেঞ্জারাস লোক —’

‘জমিদার কেন, কুইন এলিজাবেথ এলেও আমাদের আটকাতে পারবে না। তুমি আমাকে দশ মিনিট পরে ফোন করতে পারবে? জাস্ট টেন মিনিটস।’

‘পারব,’ পদাবলী ফোন রেখে দিল। দশ মিনিট পর পদাবলী আবার মুক্তাকে ফোন করল।

‘বাপি ওখানকার পুলিশের সঙ্গে কথা বলবে। পুলিশ ফোর্স সারা রাত পাহারা দেবে চৈতন্যপুখুরী।’

“থ্যাঙ্ক ইয়ু মুক্তা।’ পদাবলী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।

“থ্যাঙ্ক ইয়ু। তুমি এই এন্ডেঞ্জারড পাখিগুলোকে বাঁচালে। আমি কাল খুব ভোরে পৌঁছাব করতালতলীতে। আজই চলে যেতাম। বাপি বলল গুলিগোলা যদি চলে, আজ যাওয়াটা সেফ না। তবে বাপি প্রমিস করেছে যে করতালতলীর পাখিদের গায়ে একটাও আঁচড় কাটতে দেবে না।”

আরেকটা কথা। গোবিন্দকাকার বাবা অসুস্থ। কাল ওঁকে নাও পেতে পার। তুমি কি বিশ্বনাথ ড্রাইভারের ঠিকানা জান?”

‘হ্যাঁ জানি। আমি কাল ওনার সঙ্গে যোগাযোগ করে নেব।’

‘গুড নাইট, মুক্তা,’ পদাবলী ফোন রাখল। অনেক হালকা লাগছে এখন। পদাবলী সাইকেল নিয়ে ফিরে এল করতালতলীতে। গোবিন্দ অধিকারীর বাড়ির পাশে টেম্পোভ্যানটা নেই। তার মানে বিশে ড্রাইভার একদম দেরি করেনি। হয়তো ছিদামদাদুর অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গেছিল। পদাবলী সাইকেল নিয়ে মন্দিরের কাছে এল। মন্দিরের সামনে সামিয়ানা টানানো হয়ে গেছে। লোকজন কেউ নেই। পদাবলী মন্দিরের সিঁড়ির গায়ে সাইকেল রেখে মন্দিরে ঢুকল।

ধুলটের জন্য মন্দিরের গায়ে আজি মেরে ইটের ফাঁক বন্ধ করে কলি ফেরানো হয়েছে। মন্দির জুড়ে রঙয়ের গন্ধ। বাঁশের ভারা এখনও সরানো হয় নি। মন্দিরের দরজা খোলা। পদাবলী মন্দিরের ভিতরে ঢুকে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিল। ভিতরে নীলমাধবের বিগ্রহের সামনে প্রদীপ জ্বলছে। পদাবলী রাধার চরণতল স্পর্শ করল। সেখানে খাঁজকাটা ছোট ছোট লৌহশলাকায় হাত লাগল। নীলমাধবের মূর্তির মাথায় হাত বোলাল পদাবলী। মাথা অমসৃণ। সেখানে অনেকগুলো ছিদ্র। আজ একবার দেখে নিতে হবে সত্যি সত্যি পাতালপথ এই চাবিতে খোলে কিনা।

এবার বিগ্রহের দিকে তাকাল পদাবলী। নীলমাধব হাসছেন। ঠিক এইস্থানে নীলমাধবকে সাক্ষী রেখে প্রাণনাথ কীর্তনীয়া আর মন্দিরার বিবাহ হয়েছিল। দু‘জনেই কালের গর্ভে মিলিয়ে গেছে। কত অজানা ইতিহাস রোজ হারিয়ে যায় পৃথিবী থেকে। জগতের এই নিয়ম, না হলে ইতিহাস এত থিকথিক করত যে বর্তমানের শ্বাস রুদ্ধ হয়ে যেত। পদাবলীর মনে হল প্রাণনাথ কীর্তনীয়ার ইতিহাসকে পাতাল খুঁড়ে জগতের সামনে নিয়ে আসা কি ঠিক হবে? থাক না একটা ইতিহাস এই নীলমাধবের মন্দিরের পাতালে। নাইট্রোজেন ক্লাসে পড়াবেন সনাতন কীর্তন। ছাত্র-ছাত্রীরা অনুপ্রাণিত হয়ে চেষ্টা করবে সেই রহস্য ভাঙতে, আর সেই রহস্য অনুসন্ধান করতে গেলে ওদের শিখতে হবে পদাবলী কীর্তন। আর তার মাধ্যমেই নতুন প্রজন্ম জানবে আমাদের বাংলার গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে। পদাবলী মন্দির থেকে নেমে এল। কাল এখানে বিকেলে শুরু হবে কীর্তনের অধিবাস। রতি গাইবে গৌরচন্দ্রিকা। আরেকজন পিতার মনোবাসনা পূর্ণ হবে। জায়গাটা অন্ধকার। পদাবলী সাইকেলে উঠে এক হাতে টর্চ ধরে রাখল। আচমকা পাশ থেকে চার-পাঁচজন ছায়ামূর্তি ওকে ঘিরে ধরল। পদাবলী সাইকেল থেকে নামতেই একজন ওকে সাপের মত হিসহিস করে বলল, ‘মনু সেন প্রতিজ্ঞা করেছিল করতালতলী থেকে কীর্তন মুছে দেবে। সে ব্যবস্থা আমি প্রায় পাকা করে ফেলেছি। তবে চাষের জমিতে একটাও আগাছা রাখতে নেই, সেই আগাছা চারদিকে ছড়িয়ে যায়। পুলিশ ডাকার জন্য ফোন করেছিলি? জানিস না এ এলাকায় কত কিছু বিজনেসের মালিক এই মনু সেন। তোকে এই কালীপুজোর রাতেই বলি দেব। রক্তবীজের ঝাড়কে শিকড় থেকেই উচ্ছেদ করব। আর মাঝরাত পর্যন্ত ওয়েট করব না। পুলিশ আসার আগেই জলে বিষ মিশিয়ে দেব।’ পদাবলী কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওর মাথার পিছনে সজোরে একটা ধাতব আঘাত নেমে এল। পদাবলী চোখে অন্ধকার দেখল। সাইকেল শুদ্ধু পদাবলী মাটিতে আছাড় খেয়ে পড়ল। ছায়ামূর্তিরা ওকে পাঁজাকোলা করে তুলে চৈতন্যপুখুরীর পাড়ে নিয়ে গেল। পাড়ে দুটো ডিঙি নৌকো ছাতিম গাছের সঙ্গে বাঁধা। ওকে একটা নৌকায় তুলল ওরা। অন্য নৌকা থেকে মনু সেন বলল, ‘চল, এবার এক ঢিলে দুই পাখি মেরে আসি।’

ডিঙি-দুটো অনেকক্ষণ ধরে জলার মধ্যে চলার পর একটা দ্বীপ মত জায়গায় এসে ঠেকল। পদাবলীর জ্ঞান এল, কিন্তু শরীরে জোর নেই চোখ খুলে তাকায়। মাথার পিছনে খুব জ্বালা করছে। মনে হচ্ছে রক্ত বেরাচ্ছে। ও আর তাকিয়ে থাকতে পারল না। চোখ বন্ধ হয়ে শরীর নিস্তেজ হয়ে এল।

‘নামা এটাকে,’ পাশের ডিঙি থেকে মনু সেন বলল। ‘আগে এটার সদ্গতি করি, তারপর জলে বিষ।’

দু‘জন পদাবলীকে চ্যাংদোলা করে ডিঙি থেকে উলুখাগড়ার বনে ছুঁড়ে দিল। পদাবলীর সর্বাঙ্গ যন্ত্রণায় ছিঁড়ে গেল। পদাবলী তাকিয়ে দেখল পাশে জঙ্গলের মধ্যে হিজল গাছের গোড়ায় একগাদা টিন ডাঁই করে রাখা।

ডিডিটি!

পদাবলী অসহায়ের মত চেতন-অচেতনের মধ্যে দুলতে লাগল। পাশের ডিঙি থেকে একজন একটা বস্তা ছুঁড়ে দিল। বস্তাটা পদাবলীর বুকের ওপর ধপ করে এসে পড়ল। একজন পদাবলীর মাথা ধরে ওকে বস্তায় ঢোকাতে গিয়ে বলল, *এঃ! শালার মাথা দিয়ে রক্ত চুইয়ে পড়ছে, হাত চ্যাট চ্যাট করছে।’ পদাবলী চিনল এটা হুলোর গলা।

‘টিনগুলো ডিঙিতে তোল, মনু সেন অর্ডার দিল।

“আর এটাকে?”

“বস্তার মুখ বেঁধে জলে ফেলে দে।’

হুলো আর আরেকজন পদাবলীর পা মুড়িয়ে, ওকে মোটা দড়ি দিয়ে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে বস্তায় ঢুকিয়ে দিল। পদাবলীর চোখের সামনে সব কিছু অন্ধকার হয়ে গেল।

হঠাৎ পুলিশের সাইরেনের আওয়াজ অন্ধকারে জেগে উঠল। বস্তার ভিতর থেকে পদাবলী বুঝল পুলিশ আসছে।

“পালা, মনু সেন বলল। ‘কোন দিকে?’ একজন বলল। মনু সেন বলল, ‘স্টেশনের দিক থেকে আরও পুলিশের ভ্যান আসছে। ডিঙি নদীর দিকে নিয়ে চল।

মনু সেনের দলবল ধুপধাপ শব্দে ডিঙির দিকে দৌড়োল। পদাবলীর কানে ভেসে আসছে কিছু অপসৃয়মান শব্দ - ছেলেটার কী হবে?”

“ও ব্যাটা এমনিই আধমড়া। যেভাবে পা-মুড়ে বাঁধা হয়েছে দাঁড়াতেও পারবে না। এভাবেই পড়ে থেকে রক্তক্ষয় হয়ে মরে যাবে। কেউ জলার ভিতরে এদিকে ধারেকাছেও আসে না। টেরই পাবেনা যে বস্তার ভিতর এটা পড়ে আছে।’

কিছুক্ষণ পর পুলিশের সাইরেন থেমে গেল। বস্তার ভিতরে যন্ত্রণায় পদাবলী গোঙাচ্ছিল। শরীরে বারবার কাঁপুনি আসছে। খুব শীত করছে। বাইরে এক নাগাড়ে ঝিঁঝি পোকার ডাক। রাতের একটা ট্রেন চারদিক কাঁপিয়ে অন্ধকারে হুইসল ছুঁড়ে দিয়ে ছুটে চলে গেল। রক্তক্ষরণ হয়েই চলেছে। পদাবলীর শরীর ধীরে ধীরে নিঃসাড় হয়ে গেল।

সকল অধ্যায়
১.
প্রাককথন
২.
এক
৩.
দুই
৪.
তিন
৫.
চার
৬.
পাঁচ
৭.
ছয়
৮.
সাত
৯.
আট
১০.
নয়
১১.
দশ
১২.
এগার
১৩.
বারো
১৪.
তেরো
১৫.
চোদ্দ
১৬.
পনের
১৭.
ষোলো
১৮.
সতের
১৯.
আঠারো
২০.
ঊনিশ
২১.
কুড়ি
২২.
একুশ
২৩.
বাইশ
২৪.
তেইশ
২৫.
চব্বিশ
২৬.
পঁচিশ
২৭.
ছাব্বিশ
২৮.
সাতাশ
২৯.
আটাশ
৩০.
ঊনত্রিশ
৩১.
ত্ৰিশ
৩২.
একত্রিশ
৩৩.
বত্রিশ
৩৪.
তেত্রিশ
৩৫.
চৌত্রিশ
৩৬.
পঁয়ত্রিশ
৩৭.
ছত্রিশ
৩৮.
সাঁইত্রিশ
৩৯.
আটত্রিশ
৪০.
ঊনচল্লিশ
৪১.
চল্লিশ
৪২.
একচল্লিশ
৪৩.
বিয়াল্লিশ
৪৪.
তেতাল্লিশ
৪৫.
চুয়াল্লিশ
৪৬.
পঁয়তাল্লিশ
৪৭.
ছেচল্লিশ
৪৮.
সাতচল্লিশ
৪৯.
আটচল্লিশ
৫০.
ঊনপঞ্চাশ
৫১.
পঞ্চাশ
৫২.
একান্ন
৫৩.
বাহান্ন
৫৪.
তিপ্পান্ন
৫৫.
চুয়ান্ন
৫৬.
পঞ্চান্ন
৫৭.
ছাপ্পান্ন
৫৮.
সাতান্ন
৫৯.
আটান্ন
৬০.
ঊনষাট
৬১.
ষাট
৬২.
একষট্টি
৬৩.
বাষট্টি
৬৪.
তেষট্টি
৬৫.
চৌষট্টি
৬৬.
পঁয়ষট্টি
৬৭.
ছেষট্টি
৬৮.
সাতষট্টি
৬৯.
আটষট্টি
৭০.
ঊনসত্তর
৭১.
সত্তর
৭২.
একাত্তর
৭৩.
বাহাত্তর

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%