পাঁচ

প্রীতম বসু

পরিত্যক্ত মাটির বাড়িটা নজরে আসতেই মনে কেমন যেন অস্বস্তি হল।

টেম্পোভ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে বাড়িটার চারধারের মাটির পাঁচিল স্থানে স্থানে ধসে গেছে। বাড়ির চাল খসে গেছে। দেওয়ালে নোনা ধরা। গোটা উঠোন ডুবে গেছে কোমর সমান বুনোঘাসে – বনতুলসী, ঘেঁটু, চুতুরা বিছুটির ঝোপ। আগাছা বাড়ির চারপাশে যত্রতত্র। কীর্তন কোম্পানির টেম্পোভ্যান সেই বাড়ির সামনে দিয়ে মেটে রাস্তা ধরে এগিয়ে গিয়ে গোবিন্দ অধিকারীর বাড়ির সামনে দাঁড়াল। -

গোবিন্দ অধিকারীর বাড়ির চারদিকে নিচু পাঁচিল, পাঁচিলের সদর দরজায় লোহার গ্রিল, গ্রিলের ওপরদিক ঝুমকো লতায় ঢাকা, ভিতরে অনেকটা বাগান কাঠগোলাপ, টগর, কাঠমল্লিকা, আরও নানা রকমের গাছের ঝাড়। তারপর দালান। বাড়ির পাঁচিলের পাশে বাঁশের আড়ায় কাঁচা শাপলা ঝুলছে। ঠিক যেমন ধোপারা সারি সারি কাপড় শুকোতে দেয় তেমন। পাশে অনেকটা জায়গা ঘেঁস ফেলা সেখানে তেরপলের ওপর শুকোচ্ছে ছোট ছোট করে কাটা শাপলা। বাড়ির অন্যপাশে এনে আহত টেম্পোভ্যান থামাল বিশে ড্রাইভার। ইঞ্জিন বন্ধ করল। চাবিটা গোবিন্দ অধিকারীকে দিয়ে বিশে বলল, ‘কাল তাহলে মেকানিকের কাছে গিয়ে খোঁজ নেব কাচ-টাচ সারাতে কত নেবে?”

“না।” গোবিন্দ অধিকারীর মুখ থমথমে।

‘হারমোনিয়াম, খোল সব নষ্ট, কাল আমরা রথতলায় কীর্তনের আসরে কী নিয়ে যাব?’ গোপাল ঠাকুর বলল।

“যাব না। আমি ওদের জানিয়ে দেব।’

গোপাল ঠাকুর আর ঘাঁটালো না। বিড়বিড় করে নিজেকে দোষ দিতে লাগল - ‘বাড়ি থেকে ঠিক বেরোবার মুখে হাঁড়িচাঁচা কুক-কুক করে ডাকছে। জানতাম অনর্থ আজ একটা হবেই! হারমোনিয়ামটা তোমার কাছেই রেখে যাচ্ছি গোবিন্দ। দেখো যদি কিছু করা যায়।”

শিবু দোহার একটু ইতস্ততঃ করে বলল, ‘মেয়েটার কিছু খাতা-পত্তর কিনতে হবে, পরীক্ষার দেরি নেই, কত্তামশাই, যদি আগের বাকি পেমেন্টটা -

‘একটা বোতল নিয়ে আয়, ঠাণ্ডা গলায় গোবিন্দ অধিকারী বলল। “আমার রক্ত নিয়ে যা, ওটা বেচে যা ইচ্ছে করিস।’

কারোর আর সাহস হল না কিছু কথা বলার। গোবিন্দ অধিকারী বিশে ড্রাইভারকে বলল, ‘মহাজন টেম্পোটা কিনতে চেয়েছিল না? বলিস আমি পরশু যাব ওর আড়তে। টেম্পো বেচে তোদের মায়না চুকিয়ে দেব।”

‘আর কীর্তন?” বিশে শুকনো মুখে বলল।

“শুনলি না, মুনশি কী বলল? কীর্তন ডেড, মড়া আগলে রাখতে নেই। আমি কীর্তনদল ভেঙে দিচ্ছি। তোমরা সবাই এখন যাও।’ গোবিন্দ অধিকারী এবার পদাবলীর দিকে তাকিয়ে বলল, “চল, তোমার শুশ্রূষা করে দিই, বিকেল চারটের গাড়ি পেয়ে যাবে, হাতে অনেকটা সময় আছে।”

গ্রিলের দরজায় গোবিন্দ অধিকারীকে জিজ্ঞাসা করল পদাবলী – ‘ওই ভাঙা বাড়িটাতে কে থাকত?”

গোবিন্দ অধিকারী একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তারপর উত্তর না দিয়ে গ্রিলের দরজা খুলে গোবিন্দ অধিকারী ভিতরে ঢুকল। পদাবলী আর ও প্রসঙ্গে গেল না। যে কাজে এসেছে সেটা ভেস্তে না যায়। দাওয়ার দিকে তাকাতেই পদাবলীর শরীরে শিহরণ খেলে গেল। একজন অশীতিপর বৃদ্ধ দাওয়ায় বসে একটা খোলের গায়ে ধীরে ধীরে বাঁ-হাত বোলাচ্ছে, আর ডান হাতে সামনে রাখা জামবাটি থেকে খইয়ের উখড়া মুখে ঢুকিয়ে ঢুকিয়ে চুষছে। বৃদ্ধের মাথায় সাদা শনের মত চুল, পাকা ভুরু, দু‘গাল তুবড়ে চোয়ালের ভিতর গিয়ে একে অন্যকে স্পর্শ করেছে, কণ্ঠনালীর চারপাশে চামড়াগুলো কুঁচকে কিলবিল করছে। পদাবলী খেয়াল করল বৃদ্ধের ডান-হাতের আঙুল থেঁতলানো।

‘এটা কে রে?” কৃশতনু বৃদ্ধ ছানি পড়া চোখে ভাঙা গলায় জিজ্ঞাসা করল। ‘কলকাতা থেকে এসেছে প্রাণনাথ কীর্তনীয়ার কাহিনী শুনতে,’ গোবিন্দ অধিকারী এবার পদাবলীকে বলল, ‘তুমি বস, আমি ওষুধ-তুলো নিয়ে আসছি।’ ‘ইনিই ছিদাম বায়েন?’ পদাবলী ফিসফিস করে বলল।

‘হ্যাঁ।’ গোবিন্দ অধিকারী ভিতরে চলে গেল।

‘নাম কী?” বৃদ্ধ ফ্যাসফ্যাসে গলায় বলল।

‘আজ্ঞে, আমার নাম পদাবলী।’ পদাবলী বুঝে পেল না এই থেঁতলানো আঙুল নিয়ে ছিদাম বায়েন কীভাবে সনাতন কীর্তনের সঙ্গে একনাগাড়ে খোল বাজিয়ে চলেছিল।

বৃদ্ধ পদাবলীর দিকে তাকাল। পদাবলীর মনে হল যেন তার সামনে একজন দেবদূত বসে। এই সেই বিখ্যাত ছিদাম বায়েন! পদাবলী ওর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করল। বৃদ্ধ থেঁতলানো আঙুলওয়ালা ডান হাত তুলে আশীর্বাদ করে ক্ষীণকণ্ঠে বলল, ‘বেঁচে থাকো। কী করে লাগল?”

- গোবিন্দ অধিকারী ততক্ষণে তুলো নিয়ে ফিরে এসেছে। রাগ-রাগ গলায় গড়গড় করে সমস্ত কাহিনী বলল ‘বেচারা এই ছেলেটা আমাকে বাঁচাতে গিয়ে এরকম মার খেল। এ না থাকলে জমিদারবাবুর ঐ মাতাল-লম্পট ছেলেটা আমাকে বোধহয় শেষই করে দিত। একটা পয়সা দিল না। আমার এত ধার, দলের কারুক্কে পেমেন্ট করতে পারলাম না। আমি কীর্তন দল ভেঙে দিচ্ছি বাবা, আর আমার দ্বারা সম্ভব হচ্ছে না।’

পদাবলী বৃদ্ধের দু-চোখে হতাশা দেখতে পেল। বৃদ্ধ একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল, তারপর জামবাটি হাতের ঠেলা দিয়ে সরিয়ে উঠে ধীরে ধীরে ঘরের ভিতর চলে গেল।

- গোবিন্দ অধিকারী পদাবলীর হাতে একটা মগে জল দিয়ে বলল ‘নাকটা আগে ভাল করে ধুয়ে নাও।’ তারপর একদলা তুলো ছিঁড়ে তুলসীর আরকে ভিজিয়ে বলল, “তুলোটা নাকে গুঁজে রাখ। কলকাতায় ফিরে গিয়ে একবার ডাক্তার দেখিয়ে নিও, শিরা-টিরা ছিঁড়ে গেছে কিনা পরীক্ষা করিয়ে নিও।’

পদাবলী নাক মুখ ধুয়ে নাকে তুলো চেপে বলল, “ওঁর সঙ্গে একটু কথা বলতে পারি?”

“বাবা আজকাল কারোর সঙ্গে দেখা করে না। তাছাড়া মেজাজটাও রুক্ষ হয়ে গেছে। দেখলেই তো - গোবিন্দ অধিকারী জামবাটিটা দেখাল।

‘একবার দেখা করিয়ে দিন, প্লীজ। ওঁকে একটা জিনিস দেখিয়ে চলে যাব।’ গোবিন্দ অধিকারীর মুখ দেখে পদাবলীর মনে হল কৃতজ্ঞতাবশতঃ না করতে পারছে না। তাই নিমরাজি গোছের কণ্ঠস্বরে বলল – ঠিক আছে, আমি দেখি জিজ্ঞাসা করে।’

গোবিন্দ অধিকারী ভিতরে গেল। বাইরে ভেসে আসা যা কথোপকথন পদাবলীর কানে আসতে লাগল, তাতে পদাবলী বেশ মুষড়ে পড়ল।

“বাবা, এই ছেলেটা তোমার সঙ্গে দেখা করার জন্য কলকাতা থেকে এসেছে।’ “সব জোচ্চোর ! বলে দে দেখা হবে না।’

‘এই ছেলেটাকে সৎ ভদ্রবাড়ির ছেলে বলে মনে হয়।’

‘আগেরটার মুখ দেখে মনে হয়েছিল যেন ভাজা মাছটি উলটে খেতে জানে না। আমায় বিরক্ত করিস না।’

‘আচ্ছা তুমি একটু কথা বলে দেখ। পছন্দ না হলে কথা বোলো না।’ “বড্ড বিরক্ত করিস! পাঠিয়ে দে। পরে বলিস না, তুমি বড় গালিগালাজ কর।’

গোবিন্দ অধিকারী বেরিয়ে এসে বলল, ‘কীর্তন বন্ধ হয়ে যাবে শুনেই বুড়োর মেজাজ তিরিক্ষে হয়ে গেছে। বেশি সময় নিও না।”

পদাবলী রাজি হল। গোবিন্দ অধিকারী পদাবলীকে ঘরের ভিতরে নিয়ে গেল। ঘরে একটা কাঁঠাল কাঠের তক্তপোষ, পাশে ঠাকুরের সিংহাসন, দেওয়ালের পাশে একটা পালিশ চটা কাঁঠাল কাঠের ইজিচেয়ার। একসময় এর বেশ আভিজাত্য থাকলেও এখন হতশ্রী। বৃদ্ধ ছিদাম বায়েন ইজিচেয়ারে বসে, ডান হাত হরিনামের ঝোলার মধ্যে। বুড়ো থেঁতলানো আঙুলে কাঠের মালাছড়া ঘোরাচ্ছে।

‘বাবা,’ গোবিন্দ অধিকারী বলল।

ছিদাম বায়েন বিরক্ত দৃষ্টিতে তাকাল। পদাবলী জানে ছিদাম বায়েনের সঙ্গে কথা বলার এই সুযোগ সে বারবার পাবে না। মোক্ষম ঝটকাটা প্রথমেই দিতে হবে। পদাবলী বুক পকেটে কাগজে মোড়ানো হলদে হয়ে যাওয়া ফটোটা বের করে ছিদাম বায়েনকে দিল। ছিদাম বায়েন শীর্ণ বাম হাতে ছবিটা ধরে ঠিকমত দেখার জন্য চোখের কাছে নিয়ে গেল। আর তৎক্ষণাৎ যেন সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হল। ছিদামের চোখ-মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। ছিদাম ডান হাত মালার ঝোলা থেকে বের করে দু‘হাতে ফোটোটা ধরে দেখতে লাগল।

‘এঁকে আপনি চেনেন?”

- ‘এ্যাঁ, না তো,” ছিদাম ফটো ফিরিয়ে দিল ‘আজকাল চোখের জোর এত কমে গেছে যে লোকজনকে চিনতেই পারি না।” ‘ইনি কি প্রাণনাথ কীৰ্তনীয়া?”

‘কী নাম বললে? দেখি দেখি, গোবিন্দ অধিকারী এবার এগিয়ে এসে ফটোটা হাতে নিয়ে দেখল। ‘কে ইনি?”

‘সেটাই তো আমার প্রশ্ন। ইনিই কি প্রাণনাথ কীর্তনীয়া?”

গোবিন্দ অধিকারী ছবিটার দিকে ঝুঁকে পড়ে ভালভাবে দেখে পদাবলীকে ফেরত দিয়ে হতাশ গলায় বলল, ‘এ তো কোট-টাই-টুপি পরা মানুষ। এ কীর্তনীয়া কীভাবে হবে? কীর্তনীয়ার নাকে রসকলি, চন্দন চর্চিত কপাল, মুণ্ডনকরা মাথা সেসব তো কিছু দেখছি না।’

‘এ ছবি তুমি কোথায় পেলে?’ ছিদাম বায়েন পদাবলীকে জিজ্ঞেস করল। ‘আমার ঠাকুমার কাছে এই ছবি রাখা ছিল,’ পদাবলী আর বিষদ ব্যাখ্যায় গেল না।

‘তোমার ঠাকুমা?” ছিদাম বায়েনের কণ্ঠে বিস্ময়।

‘ইনি,’ পদাবলী এবার মানিব্যাগ খুলে ঠাম্মার ছবিটা দেখাল। ফটোটা দেখে ছিদাম বায়েনের কপাল কুঁচকে গেল। দু‘চোখ আক্রমণোদ্যত বাঘের মত বড় বড় হয়ে গেল - ‘জমিদারগোঁসাইয়ের সম্পত্তি বাগাতে এসেছিস?’ ‘মানে?’

‘আবার মানে জিজ্ঞাসা করছিস?’ ছিদাম বায়েন রেগে আগুন।

পদাবলীর বিস্মিত দৃষ্টির দিকে তাকিয়ে গোবিন্দ অধিকারী এগিয়ে এল ওকে রক্ষা করতে - ‘মাঝে-মধ্যেই লোকজন এসে বিরক্ত করে। আমাদের কাছে এসে বলে যে সে নাকি জমিদারগোঁসাইয়ের বংশের উত্তরাধিকারী। এরকম ফটো অনেকেই এনে দেখিয়েছে।’

‘কিন্তু আমি তো কোনও সম্পত্তি-টম্পত্তি চাইতে আসিনি!’ পদাবলী অবাক। ‘সবাই প্রথমে এ’রকম ভিজে বেড়ালটি হয়েই আসে। তারপর তাদের স্বরূপ প্রকাশ পায়। ছিদাম বায়েন গজগজ করে বলল। ‘এই ছবি মন্দিরাদিদির। জমিদারগোঁসাইয়ের মেয়েই যে এই চৈতন্যপুখুরীর, ধুলডাঙা, নীলমাধবের মন্দিরের একমাত্র দাবীদার সেটা রাজ্যের সমস্ত ঠগ-জোচ্চররা জানে। ধড়িবাজগুলো চেষ্টা করে যদি ভুলিয়ে ভালিয়ে দেবোত্তর সম্পত্তি লিখিয়ে নেওয়া যায়। আমার চোখের সামনে থেকে বিদেয় হ,’ – ছিদাম বায়েন উত্তেজিত হয়ে হাঁফাতে লাগল। -

“কে মন্দিরাদিদি? ইনি আপনার মন্দিরাদিদি নন। আমার ঠাম্মার নাম মধুরিমা বসু। আমার কারোর সম্পত্তিতে কোনও লোভ নেই। আমি তো শুধু এটা জানতে এসেছিলাম যে ইনিই প্রাণনাথ কীর্তনীয়া কিনা?’ পদাবলী আবার প্রশ্ন করল।

“কোত্থেকে গ্যাঁড়ালি ফটোটা?”

“গ্যাঁড়াবো কেন? বললাম তো আমার ঠাম্মা, পদাবলী আবার বলল।

“তোর ঠাম্মা! আবার মিথ্যা কথা? বেশ কাল এনে হাজির কর দেখি এখানে তোর ঠাম্মাকে, দেখি উনি তোরে চেনেন কিনা?’ ছিদাম বায়েন কাঁপা কাঁপা গলায় বলল।

‘উনি মারা গেছেন। ‘

‘জানতাম, পারবি না,’ ছিদাম বায়েনের মুখ কালো হয়ে গেল। ‘মন্দিরাদিদি চিরকালের জন্য কোথায় যে হারিয়ে গেল? আর এই গল্প আমারে শুধিয়ে কেউ বলে সে মন্দিরাদিদির ছেলে, কেউ বলে ছোটরাজাবাবুর ছেলে। সব বুজরুকি। ভাবে আমি জমির মালিকানা লিখে দেব। তুইও নিশ্চয়ই সেরকমই কোনও একটা গল্পই ফাঁদতে বসবি। ভাবিস আমি বুঝতে পারি না? আমি বোকা?”

‘এই গল্প আমি জানতাম না। তবে এই ফটো আমার ঠাম্মার। ঠাম্মা আমায় কখনোই আপনাদের গল্প বলেন নি। তবে ঠাম্মার কাছে একটা নোটবই ছিল তাতে এই কীর্তন লেখা ছিল। আমি লিখে এনেছি। আমি পড়ে শোনাচ্ছি,’ পদাবলী ওর তুরুপের টেক্কাটা এবার বের করে পড়ল -

কর্পূর তাম্বুল চৈতন্যলীলা

নীল বিমানে ধন্য বরিখ পণ্ডিতে জাদু ছুঁইলা।

‘সনাতন কীর্তন,’ বৃদ্ধের মুখ থেকে আচমকা কথাটা বেরিয়ে এল। ছিদাম বায়েন পদাবলীর দিকে তাকিয়ে বলল, ‘এটা মন্দিরা দিদির নোটবইতে লেখা ছিল?’

‘হ্যাঁ।’

‘মন্দিরা দিদি তোর ঠাম্মা হলে, তোর ঠাম্মা কখনো বলেনি করতালতলীর কথা, তোর ঠাকুর্দার কথা?”

‘ঠাকুর্দার কথা বলেছিল। ঠাকুর্দা নাকি অল্পবয়সে ঠাম্মাকে ত্যাগ করে চৈতন্যদেবের মত সন্ন্যাসী হয়ে গেছিলেন। তারপর তার আর কোনও সন্ধান নেই ৷

“তোর বাপ কে?

‘আমার বাবা-মা অনেক ছোটবেলায় মারা গেছে ত্রিপুরায়। গাড়ি অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছিল।’

‘কাছে আয় তো,’ ছিদাম বায়েন ডাকল। পদাবলী ছিদাম বায়েনের কাছে গেল। ছিদাম পদাবলীর দিকে একই রকমের সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, ‘বোস।’

পদাবলী ছিদাম বায়েনের পায়ের কাছে মেঝেতে বসল।

‘একটা কীর্তন শোনা দেখি।’

‘কীর্তন?”

‘সত্যিই যদি তুই মন্দিরাদিদির নাতি হোস তবে কীর্তন নিশ্চয়ই গাইতে পারিস। একদিন শুধু এই কীর্তনের জন্য মন্দিরাদিদির বাবা জমিদারগোঁসাই অত অর্থ-জমিদারী সব ত্যাগ করেছিল। একটা কীর্তন গা তো, দেখি তুই মন্দিরা দিদির নাতি কিনা।’

‘বাবা!’ গোবিন্দ অধিকারীর নালিশের গলা। ‘ছেলেটার এত চোট লাগল,

নাকের ক্ষত এখনো রক্তে ভেজা, আর তুমি ওকে বলছ এখন কীর্তন গাইতে?’ ‘তাতে কী হয়েছে? জমিদারগোঁসাই বলতেন কীর্তনের প্রলেপ সমস্ত ক্ষত জুড়িয়ে দেয়। এ যদি সত্যিই মন্দিরাদিদির নাতি হয় তবে নিশ্চয়ই অনেক কীর্তন শুনে বড় হয়েছে। ওর কীর্তন শুনলেই বুঝতে পারব ওর বংশপরিচয়ে ভেজাল আছে কিনা।’

‘কীর্তন?’ এবার পদাবলী বিপদে পড়ল। ঠাম্মার কাছে বসে কীর্তন সে শুনেছে। কিন্তু সে তো কোন ছোটবেলায়। পদাবলীর মনে আছে শীতের সন্ধ্যায় ঠাম্মা ঠাকুরঘরে বাবু হয়ে বসে পদাবলীকে কোলে বসিয়ে চাদর মুড়ি দিয়ে দু‘হাত দিয়ে ওর কোমল শরীর জড়িয়ে রাখত, আর দু-চোখ বুজে কীর্তন গাইত। ছোট্ট পদাবলী ক্যাঙারুর বাচ্চার মত চাদরের ফাঁক দিয়ে মুখ বের করে দেখত ঠাম্মার দু-চোখের কোনায় জলের ফোঁটা। ব্যাস ওই পর্যন্তই। বাবা-মা‘র মৃত্যুর পর থেকে অভিমানে ঠাকুর দেবতা মানা বন্ধ করে দিয়েছিল পদাবলী। কিন্তু তাও তো অনেকগুলো বছর হয়ে গেল। সব স্মৃতি আবছা হয়ে গেছে। কিন্তু একটা কিছু এখন গাইতেই হবে। নতুবা এখানেই সব খোঁজাখুঁজির ইতি। হঠাৎ সকালের স্টেশনের বৈরাগীর কথা মনে পড়ল। লোকটা ওর ছোটবেলায় গাওয়া গানের কথা মনে পড়িয়ে দিয়েছে। ঠাম্মা ঠাকুরঘরে ওকে সঙ্গে নিয়ে রাধামাধবের সামনে গাইত সেই গান। অরুণিত চরণে রণিত মণিমঞ্জির - ঠাম্মা এই একটা লাইনই গাইত, কিন্তু অ-রু-উ-উ করে লম্বা টান টানত, তারপর চর-অ-অ-ণে করে টানত। এই এক লাইন শেষ করতেই এত সময় লাগত যে পদাবলী বুঝতেই পারত না কেন এত টেনে লম্বা করে করে গান গায়। পদাবলী দু‘চোখ বুজে ছোটবেলায় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করল। ওই লাইনের আগে কিছুই মনে আসছে না। যা থাকে কপালে শুরু তো করা যাক। পদাবলী একটা বড় শ্বাস নিয়ে ঠাম্মার অনুকরণ করে ঐ একটা লাইনই টেনে টেনে শুরু করল। কিন্তু গাইতে গিয়ে নাক ফুলে নাকে খুব যন্ত্রণা হচ্ছে। পদাবলীর ভয় হল, রক্ত এখনো ঠিকমত বন্ধ হয় নি। এ এক আচ্ছা পাগলা পরীক্ষকের পাল্লায় পড়া গেছে! পদাবলী গান থামিয়ে নাক চেপে ধরে বলল, ‘নাকে খুব ব্যথা হচ্ছে।’ দশকোশী, ‘ ছিদাম

‘গড়াণহাটি, বাঃ, শ্রীকৃষ্ণের রূপলীলা কীর্তন। মধ্যম বায়েনের মুখে তৃপ্তির হাসি। ‘আজকাল তো গড়াণহাটি শোনাই যায় না। সবাই মনোহরসাই – ‘ -

‘বাবা!” এবার গোবিন্দ অধিকারীর গলায় অনুযোগ। ‘একে কী সব পরীক্ষা নিচ্ছ? এ বেচারা ক্লান্ত। একে আজ যেতে দাও।’

‘বেশ যা,’ ছিদাম বায়েন বলল। ‘যদি আমার সঙ্গে কথা বলতে চাস তবে তোকে আগে পরীক্ষা দিতে হবে।’

‘পরীক্ষা!’

‘আগে তোকে বাজিয়ে দেখি তুই প্রাণনাথ কীর্তনীয়ার কাহিনী শোনার জন্য উপযুক্ত কিনা। কাল এসে কয়েকটা গড়াণহাটি শোনাস। ফটো দুটো আমার কাছে রেখে যা, কাল এসে নিয়ে যাবি।’

‘এ কলকাতায় থাকে, রোজ রোজ আসবে কীভাবে?’ গোবিন্দ অধিকারী বলল।

‘না না, আমি কাল আসব,’ পদাবলী ফটো দুটো ছিদাম বায়েনের হাতে দিল। ‘আমার এখন কলেজ ছুটি, কোনও অসুবিধা নেই।’

বৃদ্ধ কথা না বলে ইজিচেয়ারে অন্যদিকে পাশ ফিরে চোখ বুজল।

গোবিন্দ অধিকারী ইশারা করল। পদাবলী বাইরে বেরিয়ে এল। দাওয়ায় এসে গোবিন্দ অধিকারী বলল – তুমি যে কথাগুলো বললে সেগুলো কি সত্যি?” “কোন কথাগুলো?’

“তোমার ঠাকুমা

‘হাজার বার সত্যি। তবে উনি কীসের সম্পত্তির কথা বললেন তা আমি বুঝলাম না।”

‘দেখ তুমি আজ আমার প্রাণ বাঁচিয়েছ। তুমি না থাকলে জমিদারের ওই কুপুত্রটা নেশার ঘোরে আজ আমায় মেরেই ফেলত। তাই কৃতজ্ঞতা হিসেবে তোমায় একটা কথা বলি যে তুমি আর কখনো এখানে এসো না।’

“কেন?”

- ‘তোমার সঙ্গে কথা-টথা বলে আমি যা বুঝেছি যে তুমি কীর্তনের কিস্যু জানো না। তুমি এমন কি বাংলার তিনজন কীর্তনীয়ার নামও জানো না। বাবার কাছেও তুমি খুব শিগগিরই ধরা পড়ে যাবে। তারপর বাবা প্রশ্নে প্রশ্নে তোমায় ন্যাংটো করে ছাড়বে। বাবার কাছে একসময় অনেক মানুষ আসতো। অধিকাংশই ধান্ধায় জমিজমা নিজের নামে লিখিয়ে নিতে। কেউ কেউ আবার আসতো সনাতনকীর্তনের মানে উদ্ধার করে সনাতন গোঁসাইয়ের মোহরগুলো খুঁজে পেতে। বাবা একদম হাঁফিয়ে উঠেছিল। বাবার স্বাস্থ্য তুমি তো নিজের চোখেই দেখলে। এখন রাগ-উত্তেজনা এসব এই দেহের পক্ষে খুব ক্ষতিকর। এখন আমি তাই বাবার সঙ্গে কারোকে দেখা করতে দিই না। একজনকে তো বাবা প্রায় বিশ্বাসই করে ফেলেছিল। পাটনার ওই ধড়িবাজ জাতবোষ্টম পণ্ডিতকে সৎ মনে হয়েছিল। কথায় কথায় বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস আওড়াচ্ছিল। কীর্তনের গলাও সুমধুর। বাবার মৃদঙ্গমদাদা নাকি ওর বিধবা মাকে মালা-চন্দনে বিয়ে করেছিল। মৃদঙ্গমদাদার ছবি-টবিও দেখিয়েছিল আমাদের। খুব পড়াশোনা করে তৈরি হয়ে এসেছিল। করতালতলীর সব ইতিহাস নখদর্পণে। কিন্তু বাবার চোখকে ধুলো দেওয়া কঠিন। কোর্টে মামলা করার হুমকি দিতেই লোকটা চুপসে গেল। তারপর থেকে তার আর দেখা নেই। তাই বলছি তুমি ভাই আর কখনো এখানে এসো না।’

মৃদঙ্গমদাদাটা কে তা আর জিজ্ঞাসা করল না পদাবলী, আজ আর ভাল লাগছে না, পদাবলী চিন্তিত মুখে মাথা নাড়ল ‘ঠিক আছে।’ -

‘একটা সত্যি কথা বলতো, তুমি কী শুধুই প্রাণনাথ কীর্তনীয়ার কথা শুনতে এখানে এসেছিলে?’

পদাবলী মাথা নেড়ে বলল হ্যাঁ, শুধু এটুকুই।’ -

গোবিন্দ অধিকারীর চোখে মুখে যেন বাদল মেঘের ফাঁক দিয়ে আসা সূর্যের আলোর উজ্জ্বলতা। ‘তোমার বয়সী ছেলেপুলেরা তো আজকাল কীর্তন ভালবাসে না।’ তারপর গোবিন্দ অধিকারী অন্যমনস্ক হয়ে বলল, ‘কীর্তন যে ধীরে ধীরে বাংলার মাটি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে তা নিয়ে কারও চিন্তা নেই। আমরা আর ক’দিনই বা আছি। তারপর তো এই নীলমাধবের মন্দির, চৈতন্যপুখুরী, ধুলটভাঙা সব চলে যাবে প্রোমোটারদের হাতে।’

পদাবলীর একটা কথা মনে পড়ল। একটু দ্বিধার সঙ্গে বলল, “ওঁর পাশে মৃদঙ্গ রাখা, কিন্তু আমি যখন কীর্তন গাইছিলাম তখন দেখলাম উনি হাওয়ায় আঙুল চালাচ্ছিলেন। ওনার আঙুলগুলো - পদাবলী বলল।

বাবা শেষ মৃদঙ্গ বাজিয়েছিল ধুলটের অধিবাসে প্রাণনাথ কীর্তনীয়ার সঙ্গে। ইংরেজ পুলিশ তারপর বাবাকে কোতোয়ালিতে ধরে নিয়ে গিয়ে বাবার ডানহাতের আঙুল হামান দিস্তায় ছেঁচে দিয়েছিল। বাবা আর কোনওদিন খোল বাজাতে পারে নি। পঁয়ষট্টি বছর ধরে বাবা তাই হাওয়াতেই আঙুল নাড়ায় আর মনে মনে বাজায়। মৃদঙ্গবাদক বাজনা বাজাতে বাজাতে মুখ দিয়ে বোল উচ্চারণ করে, একে আমাদের কীর্তনের ভাষায় পাট রীতি বলে। তুমি যখন গাইছিলে তখন বাবা বিড়বিড় করে পাট রীতি করে যাচ্ছিল – ঝা তাখি নেতা খেতা তা তাখি নেতা খেতা তা উত্তরর তাত তা খিখি তাখি – ‘ গোবিন্দ অধিকারী একটা বড় নিঃশ্বাস ফেলল। - -

“ঠিক আছে আমি আসি তবে?”

‘হ্যাঁ এসো। তোমার গলা মন্দ না। কিন্তু কিছু মনে কোর না, তোমার গানে ভক্তি পেলাম না। কীর্তন হল সাধন সঙ্গীত। যদি সম্ভব হয় তবে কোনও কীর্তনীয়ার কাছে কীর্তন শিখো। নীলমাধব তোমার গলায় কীর্তন রেখেছেন।’

পদাবলী মনে মনে বলল - ভক্তি পাবেন কীভাবে, আমি যে নাস্তিক। ভগবানটগবানে বিশ্বাস নেই। কিন্তু গোবিন্দ অধিকারীকে এত সব বলার প্রয়োজন নেই। তাই মুখ কাঁচুমাচু করে বলল, ‘আপনাদের অনেক বিরক্ত করলাম

‘না না বিরক্ত কীসের?’ গোবিন্দ অধিকারী বলল। ‘তবু তো গড়াণহাটি গাইবার চেষ্টা করলে তুমি। তোমার বয়সী আজকালকার বাচ্চারা তো জানেই না গড়াণহাটি আর মনোহরসাইয়ের তফাৎ।”

পদাবলী বারান্দা থেকে বাগানের ইটের পথে নেমে এল। সনাতন গোঁসাইয়ের মোহরের কথা সে এই প্রথম শুনল। কে এই সনাতন গোঁসাই? যাক ওসব নিয়ে পরে ভাবলেও চলবে। আপাততঃ দরকার ছিদাম বায়েনের পরীক্ষায় উতরানো। কীর্তনের একটা ক্র্যাশ কোর্স ট্রেনিং দরকার। কে দেবে ট্রেনিং? নাইট্রোজেন? আজ রাতেই স্যারের বাড়িতে ঢুঁ মারতে হবে। প্রাণনাথ কীর্তনীয়ার সনাতন কীর্তনের রহস্যভেদ করার জন্য একটা বড় কদম এগোনো গেছে।

বাইরে বেরিয়ে এসে পদাবলী গোবিন্দ অধিকারীকে বলল, ‘আমি আসছি। আপনার সঙ্গে পরিচয় হয়ে খুব ভাল লাগল। অন্য একদিন এসে আমি ফটো দুটো নিয়ে যাব।’

গোবিন্দ অধিকারী গ্রিলের দরজা বন্ধ করতে করতে বলল, ‘আর একটা কথা - গোবিন্দ অধিকারী একটু থেমে কথাগুলো কীভাবে বলবে সেটা ভাবল। ‘আমি প্রাণনাথ কীর্তনীয়াকে কখনো দেখিনি। কিন্তু প্রাণনাথ কীর্তনীয়া করতালতলীর একটা উপকথা। অজস্র বৈষ্ণব ভক্ত বিশ্বাস করে যে উনি নীলমাধবে লীন হয়ে গেছিলেন। তুমি কারও কাছে বলো না এই কোট-টাই পড়া গ্র্যাজুয়েট লোকটা প্রাণনাথ কীর্তনীয়া। তাতে বৈষ্ণব ভক্তদের ভক্তিতে আঘাত পড়ে ভক্তির দেওয়ালে চিরতরে চিড় ধরে যাবে। আর বাবার মন্দিরা দিদি যদি সত্যি সত্যি তোমার ঠাকুমা হন, তবে এই সমস্ত এলাকার মালিকানার দাবী তোমার। তোমার ঠাকুমার পরিচয় করতালতলীতে দিও না। তোমার মারাত্মক বিপদ হতে পারে।’

‘বিপদ? কীসের বিপদ?”

‘এখনকার পরিস্থিতি ভাল না। আমার কানে আসছে জমিদারবাবু চাইছে এইসব দেবোত্তর সম্পত্তি গ্রাস করতে। আমাকে নিজে অবশ্য উনি কিছু বলেন নি। সব উড়ো খবর কানে আসে। তুমি এর মধ্যে পথের কাঁটা হয়ে গেলে তোমাকে সরিয়ে দিতে ওদের কিন্তু এতটুকু হাত কাঁপবে না। তার কিছুটা নমুনা তো তোমার রক্তাক্ত নাক। জমিদার কিন্তু আরও বিপজ্জনক লোক। এসব কথা কিন্তু তুমি কারোকে রটিও না। কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যে কে জানে।’ “আমি আর কারুকে বলব না, পদাবলী বলল। আর মনে মনে

ভাবতে লাগল ঠাম্মা কি তবে এই জমিদারের ভয়েই নাম পালটিয়ে মন্দিরা থেকে মধুরিমা হয়ে গেছিল? ঠাম্মাই কি সত্যিই ছিদাম বায়েনের মন্দিরাদিদি?

সকল অধ্যায়
১.
প্রাককথন
২.
এক
৩.
দুই
৪.
তিন
৫.
চার
৬.
পাঁচ
৭.
ছয়
৮.
সাত
৯.
আট
১০.
নয়
১১.
দশ
১২.
এগার
১৩.
বারো
১৪.
তেরো
১৫.
চোদ্দ
১৬.
পনের
১৭.
ষোলো
১৮.
সতের
১৯.
আঠারো
২০.
ঊনিশ
২১.
কুড়ি
২২.
একুশ
২৩.
বাইশ
২৪.
তেইশ
২৫.
চব্বিশ
২৬.
পঁচিশ
২৭.
ছাব্বিশ
২৮.
সাতাশ
২৯.
আটাশ
৩০.
ঊনত্রিশ
৩১.
ত্ৰিশ
৩২.
একত্রিশ
৩৩.
বত্রিশ
৩৪.
তেত্রিশ
৩৫.
চৌত্রিশ
৩৬.
পঁয়ত্রিশ
৩৭.
ছত্রিশ
৩৮.
সাঁইত্রিশ
৩৯.
আটত্রিশ
৪০.
ঊনচল্লিশ
৪১.
চল্লিশ
৪২.
একচল্লিশ
৪৩.
বিয়াল্লিশ
৪৪.
তেতাল্লিশ
৪৫.
চুয়াল্লিশ
৪৬.
পঁয়তাল্লিশ
৪৭.
ছেচল্লিশ
৪৮.
সাতচল্লিশ
৪৯.
আটচল্লিশ
৫০.
ঊনপঞ্চাশ
৫১.
পঞ্চাশ
৫২.
একান্ন
৫৩.
বাহান্ন
৫৪.
তিপ্পান্ন
৫৫.
চুয়ান্ন
৫৬.
পঞ্চান্ন
৫৭.
ছাপ্পান্ন
৫৮.
সাতান্ন
৫৯.
আটান্ন
৬০.
ঊনষাট
৬১.
ষাট
৬২.
একষট্টি
৬৩.
বাষট্টি
৬৪.
তেষট্টি
৬৫.
চৌষট্টি
৬৬.
পঁয়ষট্টি
৬৭.
ছেষট্টি
৬৮.
সাতষট্টি
৬৯.
আটষট্টি
৭০.
ঊনসত্তর
৭১.
সত্তর
৭২.
একাত্তর
৭৩.
বাহাত্তর

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%