সাতান্ন

প্রীতম বসু

টক-টক-টক-টক !

অনেক রাতে প্রাণনাথের খড়ুটি ঘরের বাইরের জানলায় সাবধানী টোকা! প্রাণনাথ চমকে উঠল। ঘুম ভেঙে গেল।

বাইরে থেকে কেউ ফিসফিস করে ওর নাম ধরে ধরে ডাকছে। প্রাণনাথ ধড়মড় করে উঠে বসে রাস্তার দিকের জানলার পাল্লার ফাঁকে চোখ রাখল। ভুবনকাকা দাঁড়িয়ে। পরনে পুলিশের ইউনিফর্ম। বুকের কাছে হুইসল ঝুলছে, মাথায় লাল পাগড়ি, পায়ে পুলিশের ভারী জুতো, হাঁটু পর্যন্ত উঁচু মোজা, বাঁ হাতে টর্চ। প্রাণনাথ জানলা অল্প ফাঁক করল। প্রাণনাথকে দেখে বুক টানটান করে ডান হাত দিয়ে স্যালুট ঠুকল ভুবনকাকা।

‘ভুবনকাকা!” প্রাণনাথ ফিসফিস করে বলল। ‘তুমি কোথায় ছিলে আজ সারাদিন? তোমায় ছিদাম আর মন্দিরা সারা সন্ধে কোথায় কোথায় না খুঁজে বেরিয়েছে।”

‘গোরা-দানোর বাসা খুঁজে পেয়েছি!’ ভুবনকাকা উত্তেজিত।

‘কোথায় পেলে দানোর বাসা?”

“চল দু‘জনে মিলে দানো মেরে আসি। যাবে?”

‘বাইরে কীভাবে যাব? কেউ দেখে ফেললে?”

‘এই ঠাণ্ডার রাতে কেউ বাইরে নেই। চারদিক দেখেই তবে তোমায় ডাকতে এলাম। যাবে?’

‘না, তুমি এখন বাড়ি যাও ভুবনকাকা। ছিদাম খুব চিন্তা করছে। ‘ঠিক আছে, তাহলে আমি

একাই যাই গোরা-দানো মারতে।’

বিপদে পড়ল প্রাণনাথ। লোকটাকে যেতে দিলে ও আবার কোথায় গিয়ে লুকোবে কে জানে। ওকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

‘দাঁড়াও। আমি আসছি,’ প্রাণনাথ ফিসফিস করে বলল।

আলোয়ান গায়ে জড়িয়ে চাবিটা হাতে নিয়ে দরজাটা টানল প্রাণনাথ। খুট করে শব্দ হল। দরজা ফাঁক হল। দরজার তালা খুলে পা টিপে টিপে উঠোনে নামল প্রাণনাথ। তারপর সদর দরজা খুলে ভেজিয়ে দিয়ে পথে নেমে এল।

‘চল চল, তাড়াতাড়ি,’ ভুবনকাকা ফিসফিস করে বলল। ‘সকাল হওয়ার আগে ফিরে আসতে হবে।’ বলেই ভুবন জমাদার আলপথে দৌড় লাগাল। বাইরে কনকনে ঠাণ্ডা। আলোয়ানে শীত মানে না। ভুবনকাকা এই ঠাণ্ডাতেও গরম জামাকাপড় পরে নি। কয়েকমাস পর বাইরের খোলা হাওয়ার স্পর্শ। প্রাণনাথ ভুবনকাকার পিছনে দৌড়োতে লাগল। খালি পায়ে কাঁকর বিধছে। প্রাণনাথ ছুটছে পাগলের পিছনে পিছনে। ভুবনকাকা নীলমাধবের মন্দিরের দিকে দৌড়োতে লাগল। প্রাণনাথ ঊর্ধশ্বাসে দৌড়ে ভুবনকাকার হাত ধরল। ভুবনকাকার হাত ঠাণ্ডা, শক্ত। প্রাণনাথ হাঁফাতে হাঁফাতে বলল ‘আস্তে চল, ভুবনকাকা। হাঁফিয়ে গেছি।’ -

প্রাণনাথ ভেবেছিল ভুবন জমাদার মন্দিরে ঢুকবে, কিন্তু মন্দিরকে বাঁ-হাতে রেখে ভুবন জমাদার নদীর পাড়ে উঠে গেল।

‘কোথায় যাচ্ছ?” প্রাণনাথ পিছনে পিছনে এসে বলল।

‘পুরোনো শ্মশান।’

“ওখানে কী করবে?”

“ওখানেই তো গোরা-দানোর বাসা।’

এদিকে বহুকাল জনমানুষ যে আসেনা তা পরিত্যক্ত শ্মশানের চার পাশের আগাছা দেখেই বোঝা যাচ্ছে। বনতুলসী, ঘেঁটু, বিছুটির ঝোপ ছড়িয়ে গেছে। একটা গন্ধগোকুল দূরের উলুবনে হো-হো-হো করে চিৎকার করে গেল। ভুবন জমাদার চিতার কাছে গিয়ে পুলিশের পাঁচ ব্যাটারির টর্চটা জ্বালল। একটা ফাটা কংক্রিটের স্ল্যাব। ‘এটার ওপর চিতা বানিয়ে তার ওপর মড়াকে শুইয়ে মড়া পোড়ানো হত। এটাকে অনেক কষ্টে সরিয়েছি।’

প্রাণনাথ স্তম্ভিত হয়ে দেখল ঢালু হয়ে নিচে নেমে গেছে একটা সুড়ঙ্গ। প্রাণনাথ টর্চের আলো ফেলল নিচে, বেশ বোঝা যাচ্ছে সুড়ঙ্গটা অনেকটা নিচে নেমে গেছে।

‘নিচে চলো,’ ভুবন জমাদার বলল। ‘দানো নিশ্চয়ই এর ভিতরে আছে।’ ‘এই সুড়ঙ্গে! যদি সাপ-টাপ থাকে?”

‘ভয় পেও না। আমি তো আছি। ধপ ধপ শব্দ করতে করতে চল। কিছুটা হামা দিয়ে নামতে হবে। চল চল তাড়াতাড়ি ফিরে আসতে হবে। সকাল হতে না হতেই সবকটা টিকটিকি হামলে পড়বে।’

‘এই সুড়ঙ্গ কোথায় গেছে?”

‘আমি জানিনা। আমার মনে হয় তুমি যে গোপন সুড়ঙ্গের কথা জিজ্ঞাসা করছিলে এটাই সেই সুড়ঙ্গ। তাড়াতাড়ি কর।’ ভুবন জমাদার টর্চ হাতে সাবধানে সুড়ঙ্গের ঢালে হামা দিয়ে নামতে শুরু করল। প্রাণনাথও এবার ভুবন জমাদারের পিছনে পিছনে নামতে লাগল। ভিতরে ঠাণ্ডা খুব। কিছুদূর গিয়ে ঢালু সুড়ঙ্গ এক সমতল স্থানে পৌঁছোল।

ভিতরে সুড়ঙ্গটা এবার এক মানুষ উঁচু। কিছুটা সোজা চলে গেছে। টর্চ হাতে

সামনে ভুবন জমাদার। পিছনে প্রাণনাথ সাবধানে চারদিক দেখে চলতে লাগল। কিছুটা চলার পর সামনে একটা বাঁধানো কুয়ো। কুয়োর পাড়ে এসে নিচে টর্চের আলো ফেলল ভুবন জমাদার। প্রাণনাথ নিচে তাকাল। অতল অন্ধকারে দেখা যাচ্ছে না কুয়োর নিচ কোথায় হারিয়ে গেছে। পায়ের কাছে চটচট করছে তেল। এত তেল কোথা থেকে এল? টর্চ এবার উপরে তুলে ধরল ভুবন জমাদার। এখানে সুড়ঙ্গের ছাতটা তিন মানুষ উঁচু। আর সেখানে দেখা যাচ্ছে দুটো কাঠের বাটাম একটা পাটাতন ধরে রেখেছে। খাঁজে খাঁজে আটকে আছে কাঠ দুটো, আর তাছাড়াও রয়েছে ঘড়ির মত খাঁজকাটা কয়েকটা লোহার চাকা একে অন্যের সঙ্গে লাগানো কিন্তু আকারে অনেক বড়। আর রয়েছে বিশাল লম্বা আর মোটা মোটা স্প্রিং। ছাদের মাঝামাঝি অনেকটা জায়গা তেলে সিক্ত। এবার ব্যাপারটা কিছুটা স্পষ্ট হল প্রাণনাথের কাছে।

মাথার ওপর তাহলে নীলমাধবের মন্দির! কিন্তু এত তেল কীভাবে মন্দিরের মেঝে চুঁইয়ে নামছে? ওখানে কি কোনও ছিদ্র আছে? থাকলে কোথায়? কেন কেউ সেই ছিদ্র খুঁজে পেল না?

কুয়োর পাশের দেওয়ালে আলো ফেলল ভুবন জমাদার। একটা কুলুঙ্গি। তার নিচে পাথরের মেঝেতে একটা কাঠের কফিন। কুলুঙ্গিতে একটা চামড়ার থলি। ‘এই কফিনে কী আছে?’ প্রাণনাথ নিচু গলায় জিজ্ঞাসা করল।

‘সাবধান,’ ভুবন জমাদার তর্জনী ঠোঁটের কাছে এনে ফিসফিস করে বলল। ‘টর্চটা ধর।’

- পাশে একটা বড় পাথর। সেটা দু‘হাতে তুলে নিল ভুবন জমাদার - ‘এর ভিতরে গোরা-দানো ঘুমোচ্ছে। কফিন খুলেই ওর মাথায় মারতে হবে। না হলে ও বাইরে পালিয়ে যাবে। তাহলে আবার ওকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল হবে।’

ভুবন জমাদার দু‘হাত মাথার ওপর তুলে পাথর উঁচিয়ে ধরল। প্রাণনাথ কফিনের ঢাকনা তুলে ভিতরে টর্চের আলো ফেলল। প্রাণনাথ চমকে উঠল। রড্ডা কোম্পানির অনেকগুলো পিস্তল আর অজস্র কার্তুজ! মৃদঙ্গম!

প্রাণনাথ তাড়াতাড়ি কফিনের ঢাকনা বন্ধ করে দিল। জমিদারগোঁসাইয়ের বড় গর্ব যে মৃদঙ্গম অহিংস আন্দোলন করে। এই আগ্নেয়াস্ত্রের কথা জানতে পারলে জমিদারগোঁসাই ভগ্নহৃদয়ে প্রাণত্যাগ করবেন। যে মন্দির প্রেমের আশ্রয়স্থল সেখানে মানব হত্যার আয়ুধ তাঁরই পুত্র মৃদঙ্গম লুকিয়ে রেখেছে এর চেয়ে হিংস্রতর খবর জমিদারগোঁসাইয়ের কাছে আর কিছু হতে পারে না।

ইংরেজরা যদি জানতে পারে এই গোপন আগ্নেয়াস্ত্রের কথা ওরা জমিদার গোঁসাইকে গ্রেফতার করবে। ওরা বিশ্বাসই করবে না জমিদারগোঁসাই এসব জানেন না। এ খবর সে কিছুতেই বাইরে আসতে দেবে না। ‘ভুবনকাকা চল। তোমার গোরা-দানো এখানে নেই।’

‘নেই?” ভুবন জমাদার মনঃক্ষুন্ন। ‘তাহলে? ভেবেছিলাম এই কফিনেই - ‘এক কাজ করা যাক। এই কফিনটা কুয়োয় ফেলে দিই। তাহলে গোরাদানো আর এই কফিনে ফিরে আসতে পারবে না।’

কথাটা ভুবন জমাদারের খুবই পছন্দ হল। দু‘জনে ধরাধরি করে ভারী কফিনটা অন্ধকূপের অন্ধকারে ছেড়ে দিল। ঝপ্ করে শব্দ হল। কফিনটা কুয়োর জলে গিয়ে পড়ল। মৃদঙ্গম বলেছিল পুলিশের লঞ্চ ওদের চ্যালেঞ্জ জানাতে আসছিল তাই ওরা পিস্তল আর কার্তুজের বাক্স নদীর জলে ফেলে দিয়েছিল। এবার প্রহেলিকার জট খুলল। এই অস্ত্রই মৃদঙ্গম ও তার দল ব্যবহার করে। ওর কীর্তনের দল আসলে সশস্ত্র বিপ্লবী দল। গ্রামে কীর্তন করার নাম করে ওরা চন্দননগর ছেড়ে বেরিয়ে আফিমের ক্ষেত জ্বালাত রাতের অন্ধকারে। তখন জমিদারের লেঠেল বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের সময় এই আগ্নেয়াস্ত্রগুলো ব্যবহার করত। বাইরের পৃথিবীর কাছে রড্ডার পিস্তল আর কার্তুজ নদীর জলের নিচে থাকার কথা। এবার এদের সত্যি সত্যিই সলিল সমাধি হল। আর তার সঙ্গে সে সকলের অজান্তে মন্দিরার পরিবারকে লজ্জাজনক পরিস্থিতি থেকে বাঁচাল।

এবার কুলুঙ্গির থলেটা খুলল প্রাণনাথ। ভিতরে অনেকগুলো সোনার মোহর! রূপ সনাতন গোস্বামীর মোহর! সনাতন চোর এটা রেখে গেছিল। প্রাণনাথের মুখে হাসি ছড়িয়ে গেল। নীলমাধব তার ধুলটের খরচার ব্যবস্থা করে দিলেন। এবার সে বুঝতে পারল কোথা থেকে মৃদঙ্গম ধুলটের অর্থ জোগাড় করত। মাধুকরী? ম্লান হাসি খেলে গেল ওর ঠোঁটে। মৃদঙ্গম ইতিহাসে গমন করে মাধুকরী করত। এতটা লাগবে না। প্রাণনাথ দুটো স্বর্ণমুদ্রা বের করে বাকিটা চামড়ার থলেতে ভরে রাখল।

আজ রাতে অনেক কিছু জেনে গেল প্রাণনাথ। এখন উপরে নীলমাধবের মন্দিরের থেকে নিচে নামার পথের তালা-চাবি খুঁজে পেতে হবে।

‘এই সুড়ঙ্গের কথা তুমি কীভাবে জানলে ভুবনকাকা?”

‘আমার বাবা তো এই শ্মশানেরই ডোম ছিল। অনেক ছোটবেলায় বাবার থেকে গল্পটা শুনেছিলাম। সনাতন যখন নীলমাধবের মন্দির বানায় তখন ওকে সাহায্য করেছিল শ্মশানের ডোম। সে আমাদেরই পূর্বপুরুষ। আমি ভুলেই গেছিলাম এর কথা। ছিদাম যখন জিজ্ঞাসা করল তখন আমার আবছা আবছা মনে পড়ল। এই সুড়ঙ্গের মুখে ঢাকা দেওয়া স্ল্যাবের ওপর সাজানো হত চিতা। এখন তো শ্মশান সরে গেছে।”

‘তুমি কি জানো, কীভাবে মন্দিরে থেকে নিচে নেমে আসতে হয়?” “তা জানিনা।”

“নিচে এত তেল কোথা থেকে এল ভুবনকাকা?”

“তেল? তাইতো। আমি তো সেটা বলতে পারব না।’

প্রাণনাথের মাথায় পরিকল্পনাটা ঝলসে উঠল। ‘ভুবনকাকা, তুমি এক সেট পুলিশের পোশাক, লাল পাগড়ি, জুতো, মোজা, হুইসল, লাঠি এখানে রেখে দিতে পারবে?’

‘কেন?’

‘আমি করতালতলী থেকে পালাবার সময় ছদ্মবেশ ধরব। আমাকে যাতে ইংরেজ পুলিশ চিনতে না পারে।”

‘এটা ফিট করে?” ভুবন জমাদার নিজের পুলিশের জুতো খুলে ফেলল। প্রাণনাথ জুতোটা পায়ে গলাল। একদম মাপে মাপে বসে গেছে পায়ে। ‘ওটা কী করছ?”

‘জানিনা কবে আবার সময় সুযোগ পাব,’ ভুবন জমাদার ওর পুলিশের ইউনিফর্ম খুলে ফেলল, লাল পাগড়ি পাশে খুলে রাখল, হুইসল রেখে মোজা খুলতে খুলতে বলল, ‘জুতোটা ফিট হয়েছে সেটাই সব কিছু সহজ করে দিল। সব নীলমাধবের দয়া।’ দু‘হাত কপালে ঠেকিয়ে প্রণাম করল ভুবন জমাদার। ‘এখানে রইল। জুতোটা এখানে রেখে দাও। টর্চটা এখন সঙ্গে রাখি।’

ভুবন জমাদার আদুল গায়ে শুধু কৌপীন পরে শীতে দাঁড়িয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলল, ‘চল বাড়িতে টের পেয়ে যাওয়ার আগে এবার ফেরা যাক।’

* ‘আমার আলোয়ানটা গায়ে জড়িয়ে নাও,’ নিজের আলোয়ান ভুবনকাকাকে দিয়ে ভুবন জমাদারের পিছন পিছন আবার হামা দিয়ে উপরে শ্মশানে উঠে এল প্ৰাণনাথ।

বাইরে এসে হি-হি করে কাঁপতে কাঁপতে আবার দৌড় লাগাল ভুবন জমাদার। প্রাণনাথও পিছনে। শীতে কেঁপে যাচ্ছে প্রাণনাথ। মন্দিরাদের বাড়ি দেখা যাচ্ছে। প্রাণনাথ পিছন থেকে বলল, ‘কেউ যেন না জানতে পারে, এসব কথা ভুবনকাকা। আমরা আবার আসব এই গোরা-দানো খুঁজতে। তুমি এখন বাড়ি যাও।’

বাড়ির কাছে এসে ভুবন জমাদার থামল।

‘তোমার পুলিশের টর্চটা একদিনের জন্য দেবে ভুবনকাকা? অনেক কিছু পড়ার আছে কিন্তু আমি পুলিশের টিকটিকির ভয়ে আলো লম্ফ জ্বালাতে পারি না। কম্বলের ভিতরে গিয়ে পড়তে পারি।’

‘এটা তুমি রাখ। কাল সকালে দিয়ে দিও।’

বাড়ির কাছাকাছি আসতেই প্রাণনাথের বুকটা ছ্যাঁৎ করে উঠল। অন্ধকারে সদরের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে দুই ছায়ামূর্তি। ছিদাম আর মন্দিরা!

ভুবনকাকা দু‘হাত বুকের কাছে জড়ো করে কাঁপতে কাঁপতে অপরাধীর মত মাথা নিচু করে চুপচাপ নিজের বাড়ির দিকে হাঁটা লাগাল। প্রাণনাথ স্বপক্ষে যুক্তি খাড়া করার চেষ্টা করল। মন্দিরা একটাও কথা না বলে হন হন করে উঠোন পেরিয়ে নিজের ঘরে ফিরে গেল।

ছিদাম কিন্তু নিজের বাড়িতে গেল না। ও প্রাণনাথকে নিচু গলায় বলল, প্রাণনাথদা, তুমি আজ মন্দিরাদিদিকে কত কষ্ট দিলে তা জান?” “ছিঃ!

প্রাণনাথ অবাক। তার বাবা আজ সারাটা দিন এবং এত রাত অবধি বাইরে কোথায় ছিল সে সম্বন্ধে ছিদাম উদ্বেগ দেখিয়ে কোনও প্রশ্ন করল না, কীভাবে প্রাণনাথ ভুবনকাকার সঙ্গে একসঙ্গে ফিরছে সে প্রশ্নও করল না, ওর মুখ্য দুশ্চিন্তা যে মন্দিরাদিদি কষ্ট পেয়েছে?

সকল অধ্যায়
১.
প্রাককথন
২.
এক
৩.
দুই
৪.
তিন
৫.
চার
৬.
পাঁচ
৭.
ছয়
৮.
সাত
৯.
আট
১০.
নয়
১১.
দশ
১২.
এগার
১৩.
বারো
১৪.
তেরো
১৫.
চোদ্দ
১৬.
পনের
১৭.
ষোলো
১৮.
সতের
১৯.
আঠারো
২০.
ঊনিশ
২১.
কুড়ি
২২.
একুশ
২৩.
বাইশ
২৪.
তেইশ
২৫.
চব্বিশ
২৬.
পঁচিশ
২৭.
ছাব্বিশ
২৮.
সাতাশ
২৯.
আটাশ
৩০.
ঊনত্রিশ
৩১.
ত্ৰিশ
৩২.
একত্রিশ
৩৩.
বত্রিশ
৩৪.
তেত্রিশ
৩৫.
চৌত্রিশ
৩৬.
পঁয়ত্রিশ
৩৭.
ছত্রিশ
৩৮.
সাঁইত্রিশ
৩৯.
আটত্রিশ
৪০.
ঊনচল্লিশ
৪১.
চল্লিশ
৪২.
একচল্লিশ
৪৩.
বিয়াল্লিশ
৪৪.
তেতাল্লিশ
৪৫.
চুয়াল্লিশ
৪৬.
পঁয়তাল্লিশ
৪৭.
ছেচল্লিশ
৪৮.
সাতচল্লিশ
৪৯.
আটচল্লিশ
৫০.
ঊনপঞ্চাশ
৫১.
পঞ্চাশ
৫২.
একান্ন
৫৩.
বাহান্ন
৫৪.
তিপ্পান্ন
৫৫.
চুয়ান্ন
৫৬.
পঞ্চান্ন
৫৭.
ছাপ্পান্ন
৫৮.
সাতান্ন
৫৯.
আটান্ন
৬০.
ঊনষাট
৬১.
ষাট
৬২.
একষট্টি
৬৩.
বাষট্টি
৬৪.
তেষট্টি
৬৫.
চৌষট্টি
৬৬.
পঁয়ষট্টি
৬৭.
ছেষট্টি
৬৮.
সাতষট্টি
৬৯.
আটষট্টি
৭০.
ঊনসত্তর
৭১.
সত্তর
৭২.
একাত্তর
৭৩.
বাহাত্তর

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%