প্রীতম বসু
মন্দিরা বেরিয়ে যেতেই প্রাণনাথ ঘরের কোনায় গিয়ে কাপড় সরিয়ে দ্রুতহাতে খোলের ভিতর থেকে টেনে বের করল কাগজের পৃষ্ঠাগুলো। খুব ক্ষুদে ক্ষুদে অক্ষরে পাতার পর পাতা লেখা -
যুদ্ধকে যদি মানুষ ভয়ঙ্করতম শয়তান বলে, তাহা হইলে দ্বিতীয় ভয়ঙ্কর শয়তান হইল আফিম। আমাদের দুর্ভাগ্য এই যে পৃথিবীতে ভারতেই সর্বাধিক পরিমানে আফিম উৎপাদন করা হয়। ব্রিটিশরা সেই আফিম চীনদেশে এবং পৃথিবীর অন্যান্য কিছু দেশে রপ্তানী করিয়া প্রচুর অর্থ উপার্জন করিয়া থাকে। আফিম চাষের জন্য উহারা কৃষকদের সুদমুক্ত ঋণ প্রদান করে এবং কৃষকদের সই করিতে হয় এক কঠিন চুক্তিপত্রে যে তাহারা আফিম ব্যতীত অন্য কোনও শস্য চাষ করিতে পারিবে না। আফিমের এজেন্সিগুলি স্থানীয় জমিদারগণের সহিত হাত মিলাইয়া কৃষকদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখে। কোনও চাষী যদি আফিম চাষ করিতে অস্বীকার করে তবে তাহার উপর অকথ্য নির্যাতন করা হয়, কিংবা তাহাকে গ্রেফতার করিয়া কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়। এই আফিম চাষ পাঁচ লাখ হাজার বিঘার অধিক জমিকে অন্য ফসল চাষের জন্য অনাবাদী করিয়া তুলিয়াছে। বাংলায় আফিম চাষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করিলে তাহা ব্রিটিশদের ঘোর অপছন্দ।
কিন্তু এই সামান্য আফিম নিয়ে এত বড় ব্রিটিশ সরকার এত মাতামাতি করছে কেন? কতই বা আমদানী হয় এই আফিম থেকে? প্রাণনাথ ভাবল। কিন্তু প্রাণনাথের ভুল ধারণা ভেঙ্গে দিল মৃদঙ্গমের লেখা -
ভারতে প্রতি বৎসর আফিম হইতে গড়ে তিন কোটি টাকার উপার্জন করিয়া থাকে এই ব্রিটিশ সরকার। কোনও স্বাধীনতা যোদ্ধার হস্তে কোনও পুলিশ অফিসার নিহত হইলে খুনীর নাম ইংলণ্ডের রাজপরিবার না জানিলেও, কাহারা তাহাদের আফিম ব্যবসায় বাধা প্রদান করিতেছে তাহাদের পরিচয় ব্রিটেনের উচ্চপদস্থ কর্মচারীরা সকলেই সম্যকভাবে অবগত। আর সেই কারণেই আফিমের প্রতিবাদ যাহারা করিতেছে তাহারা হইল ব্রিটিশদের নিকট ভয়ঙ্কর শত্রু। ভারতে যে পরিমান আফিম উৎপাদন করা হয়, তাহার অর্ধেক ভারতেই খাওয়া হইয়া থাকে আর বাকি অর্ধেক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানী করা হয়।
প্রাণনাথের মনে পড়ল তার বাবার জমিতেও অনেক চাষি আফিম চাষ করত।
প্রাণনাথ একদিন বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিল যে কেন তার কিছু তালুকে আফিম চাষ হয়? প্রাণনাথের মনে আছে ওর বাবা বলেছিল যে এই আফিম ইংলণ্ডে ওষুধের কাজে লাগে। বাবাও স্বদেশীদের হাতে মারা গেছিল। প্রাণনাথ জানতো বাবা দেশ বিরোধী কাজ করে, ব্রিটিশদের গুপ্ত খবর পাচার করে অনেক স্বদেশী স্বাধীনতা সংগ্রামীকে ধরিয়ে দিয়েছিল। প্রাণনাথের ওপর ক্রোধে প্রাণনাথকে ত্যাজ্য পুত্র করেছিল জমিদার রজনীকান্ত বোস। কিন্তু প্রাণনাথ কখনো এটা জানতো না যে কে তার বাবাকে হত্যা করেছিল। এজন্যই কি মৃদঙ্গম প্রাণনাথের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়েছিল? কিন্তু এই সব জমিদারদের সঙ্গে লড়াই করার জন্য লোকবল আর অস্ত্র আবশ্যক। মৃদঙ্গমের কাছে অস্ত্র কীভাবে আসবে? প্রাণনাথ ভেবে পাচ্ছে না কীভাবে মৃদঙ্গম তার লড়াই চালাত। যেভাবেই লড়াই করুক, তবে কি মৃদঙ্গম অহিংস আন্দোলনের মুখোশের অন্তরালে সশস্ত্র বিপ্লব করত? প্রাণনাথের মাথার মধ্যে সব কিছু তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছিল।
বাইরে উঠোনে কুমুদরঞ্জন ডাকলেন – মন্দিরের দেরি হয়ে যাচ্ছে। হেঁসেল থেকে মন্দিরা চেঁচিয়ে বলল, ‘তুমি এগোও, আমি ফুল আর উপলভোগ নিয়ে যাচ্ছি।’
‘আজ ছিদামটার টিকি দেখা যাচ্ছে না, কুমুদরঞ্জনের কণ্ঠস্বর সদরের দিকে এগোল। প্রাণনাথ নিবিষ্টমনে মৃদঙ্গমের লেখা পড়তে লাগল।
উঠোনের জানলায় খটখট শব্দ। প্রাণনাথ জানলার পাল্লা খুলল। মন্দিরা ভেজা
কলাপাতা ঢাকা ভোগের থালা হাতে দাঁড়িয়ে। ‘কিছু পেয়েছ?”
* ‘অনেক কিছু, প্রাণনাথ বলল। ‘তবে অনেকটা পড়া বাকি আছে।”
‘আমি একটু পরেই ফিরে আসছি,’ মন্দিরা থালা নিয়ে ছুটল।
প্রাণনাথ আবার পড়ায় ফিরে গেল -
বিজ্ঞান ও চিকিৎসার জন্য সমগ্র পৃথিবীতে বৈধ উদ্দেশ্যে যে পরিমান আফিম ব্যবহৃত হয়, ভারতে তাহার পাঁচ গুণ আফিম উৎপাদন করা হয়। চার বৎসর পূর্বে ১৯২৬ সালে ইংরাজ সরকার ঘোষণা করিয়াছিল যে প্রতি বৎসর দশ শতাংশ করিয়া আফিমের বিদেশে রপ্তানী কম করা হইবে যাহাতে দশ বৎসরে আফিম রপ্তানী সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হইয়া যায়। তাহা হইলে প্রশ্ন আসে, ব্রিটিশ কেন ভারতে আফিম ব্যবহার প্রতি বৎসর দশ শতাংশ কম করিবার ঘোষণা করিল না? নিজের দেশে ব্রিটিশরা বলিয়া থাকে যে আফিম এক মারাত্মক বিষ, ইহা হইতে নাগরিকদের বাঁচাইয়া রাখিতে হইবে। তাহা হইলে আমাদের দেশে কি আফিম বিষ নয়? আমাদের দেশে কি আফিম খাদ্য? ব্রিটিশ কেন চায় ভারতবাসী যেন ইহার যথেচ্ছ ব্যবহার করে? ব্রিটিশ দাবী করে যে উহারা আমাদের অভিভাবক, আমাদের হিতের উদ্দেশ্যেই নাকি উহারা আমাদের শাসন করিতেছে। এত চরম ভণ্ডামি! তাহাদের দেশে যদি আফিম বিষ হয় তাহা হইলে কেন আমাদের দেশের আফিম ব্যবহারও বন্ধ করিতেছে না ব্রিটিশরা?”
কারণ ওরা চায় যে ভারতীয়রা আফিম খেয়ে নেশায় বুঁদ হয়ে থাকুক আর ওরা আফিম থেকে অর্থ উপার্জন করুক, প্রাণনাথ বিড়বিড় করে বলল।
ব্রিটিশদের গভর্ণমেন্ট রিট্রেঞ্চমেন্ট কমিটি ১৯২৩ সালে একটি রিপোর্ট পেশ করে। তাহাতে তাহারা লেখে যে আফিম বিক্রি হইল ইংরেজ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপার্জন, সেই হেতু আফিম চাষ ও আফিম বিক্রয়ের ব্যবসাকে রক্ষাকবচ প্রদান করিবার প্রয়োজন আছে। যে বা যাহারা এই উপার্জনে বাধা প্রদান করিবে, তাহাকে বা তাহাদের সকল প্রকার প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করিতে হইবে। ওই কমিটি সুপারিশ করে যে আফিম বিক্রয় কম করা হইবে না। তাই আজও ভারতে ব্রিটিশ সরকারের লাইসেন্স প্রাপ্ত সাত হাজার আফিমের দোকান আছে। কলকাতায় আফিমের দোকানের জানালার গরাদের সামনে প্রতিদিন বিশাল ভীড় হয়। প্রতিদিন অন্ততঃপক্ষে দুই আড়াই হাজার মানুষ আফিমের লাইনে দাঁড়াইয়া থাকে। জানালার গরাদের অভ্যন্তরে বসিয়া একজন বিক্রেতা বাদামী আঠালো আফিম শালপাতায় মুড়াইয়া ছেঁড়া খবরের কাগজের মোড়কে জড়াইয়া বিক্রয় করিয়া চলে। প্রত্যেক মোড়কের মূল্য এক আনা। একদিনের খোরাক। আমাদের সমগ্র সমাজ আজ আফিমের নেশায় বুঁদ হইয়া ঢুলিতেছে। গরিব শ্রমিক মায়েরা কলিকাতা বা বোম্বাইতে মিলগুলিতে কাজে যাইবার সময় তাহাদের শিশু সন্তানদের প্রতিদিন সকালে আফিম খাওয়াইয়া যায় যাহাতে সারাদিন সেই শিশু বাড়িতে নিদ্রাচ্ছন্ন থাকে আর ক্ষুধার জ্বালায় মাতৃদুগ্ধের জন্য কান্নাকাটি না করে। এই কথা বোম্বাইয়ের ব্রিটিশ গভর্ণরের স্ত্রী, লেডি উইলসন নিজে বলিয়াছেন। পশ্চিম ভারতের একজন মহিলা ডাক্তার রিপোর্ট লিখিয়াছেন যে তাহার এলাকায় গরিব মানুষদের নব্বই শতাংশ হিন্দু শিশুদের ও পঁচাত্তর শতাংশ মুসলমান শিশুদের জন্মের পর হইতে দুই বৎসর বয়স পর্যন্ত রোজ আফিম দেওয়া হয়। নিউ ইয়র্কে বিশপ এক জনসভায় বলিয়াছেন ভারতের কোনও কোনও স্থানে প্রতি একশত জন শিশুর মধ্যে আটাত্তর জনের দুই বৎসর বয়স অতিক্রম করিবার পূর্বেই মৃত্যু হয়। তাহার একটি কারণ হইল এই আফিম প্রয়োগ। ভাঙা খুপরিতে যে শিশুরা বাঁচিয়া থাকে, তাহাদের মুখের পানে একবার চাহিয়া দেখুন, শুকনো, কুঁচকানো, বুড়োটে মুখ লইয়া অন্ধকার মেঝেতে গড়াগড়ি খাইতেছে। প্রতি বৎসর প্রায় আট লাখ কেজি আফিম শুধু ভারতে বিক্রয় হয়। ভাবিতে কষ্ট হয় যে একটি তথাকথিত সভ্য দেশ তাহার উপনিবেশে আফিমের ন্যায় পদার্থ যাহাকে ব্রিটিশ মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ বিষ বলিয়াছে, সেই বিষ বিক্রয় করিয়া পয়সা উপার্জন করিতেছে? গান্ধীজী বা ভারতীয় নেতৃবৃন্দ ইহার বিরুদ্ধে আন্দোলন করিতেছেন। আসামে গান্ধীজীর সমর্থকগণ মদ্যপানবর্জন ও আফিম বিরোধী আন্দোলন করিয়াছিল, কিন্তু ইংরাজ সরকার ৬৩ জন আন্দোলনকারীর মধ্যে ৪৪ জনকে গ্রেফতার করিয়া কারাগারে নিক্ষেপ করে। ব্রিটিশ আজও অবৈধ ভাবে বিদেশে আফিম পাচার করিয়া চলিতেছে।
প্রাণনাথ ওর প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছে। প্রাণনাথ শেষ পাতায় গিয়ে দেখল একদম শেষে লেখা আমার অবর্তমানে এই কাগজ চন্দননগরের রঘু পটুয়াকে দিও। -
রঘু পটুয়া! সে আবার কে? প্রাণনাথ অনেক ভেবেও মনে করতে পারল না কে এই রঘু পটুয়া।
বাইরের সদর দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। কেউ এসেছে। প্রাণনাথ পা টিপে টিপে জানলার পাল্লার ফাঁকে চোখ রাখল। কাঁধে ঝাঁকা নিয়ে একজন অল্পবয়সী দেহাতি হাটুরে। কিশোরই বলা চলে। পরনে ময়লা পিরান, ধুতি, মাথায় গামছা ছেলেটার কাঁধে একটা লাঠি। লাঠির দু‘পাশে ঝুলছে ঝাঁকা ঝাঁকায় নানা সাইজের কুমড়ো। হাটুরে কিছুক্ষণ বন্ধ দরজা ধাক্কিয়ে তারপর বন্ধ সদরের সামনে বসে পড়ল। প্রাণনাথের এখন সকলকেই সন্দেহ হয়। টিকটিকি না তো? প্রাণনাথ ভালভাবে দেখল। এর মুখটা খুব চেনা চেনা লাগছে। একে ভালভাবে দেখলে দেহাতি হাটুরে বলে মনে হয় না। আঙুলগুলো ফর্সা আর সরু সরু। মনে হয় মা-বাপের যত্নে লালিত সন্তান সদ্য স্বদেশী বিপ্লব করতে নেমেছে।
কিছুক্ষণ সময় কাটল। এবার মন্দিরার গলার আওয়াজ পাওয়া গেল। ‘না না আমাদের কুমড়ো লাগবে না।’ কিন্তু ছেলেটা নাছোড়। ‘বউনির সময় এসেছি। একটা অন্ততঃ নাও। যা হোক কিছু একটা দাম ধরে দাও।’
মন্দিরা বলল, “আমার কাছে পয়সা থাকে না। বাবা মন্দিরে। আর আমাদের সত্যি লাগবে না।’
হঠাৎ বাইরে অনেকগুলো লোকের কণ্ঠস্বর। প্রাণনাথ কৌতূহলে জানলার পাল্লার ফাঁক দিয়ে বাইরে তাকাল। একটা কৌপীন পরা সন্ন্যাসী আর তার সঙ্গে তিনজন শিষ্য দরজায় এসে জমা হয়েছে। সন্ন্যাসীকে দেখেই প্রাণনাথের বুকটা ছ্যাঁৎ করে উঠল। পুলিশের নাগাল থেকে যারা দিনরাত পালিয়ে পালিয়ে বেড়ায় তারা জানে আসল আর নকলের পার্থক্য। সন্ন্যাসীর মাথার জটা, গায়ের ভস্ম, গলায় রুদ্রাক্ষের মালা, বাহুতে তাবিজ, কৌপীন, পায়ে খড়ম সব যেন একটু বেশি নতুন। আর সন্ন্যাসীর চলনে আড়ষ্টতা। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে সন্ন্যাসী খড়মে অভ্যস্ত নয়। -
সন্ন্যাসীটা টিকটিকি, প্রাণনাথ নিশ্চিত। প্রাণনাথ ভাবল ছেলেটা এক্ষুনি ধরা পড়ে যাবে। ওকে বাঁচাতে হলে প্রাণনাথকে মৃদঙ্গমের সমাধি খুঁড়ে রিভলভারটা বের করে আনতে হবে। এই চারজনকে আচমকা আক্রমণে ও গুলিতে শুইয়ে দেবার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু এক অদ্ভুত টানাপোড়েন শুরু হল প্রাণনাথের মনে। প্রাণনাথ খডুটি ঘর ছেড়ে বাইরে গেল না।
দেহাতি ছেলেটাকে সন্ন্যাসী বলল – কোথায় থাকিস রে?” -
“ধুতরোহাট।”
“এখানে কেন?”
‘খেয়ায় এলুম। বাজারের পথে ভাবলুম যদি একটা আধটা বিক্কির “তোর কুমড়ো আমি কিনব। সবক’টা।’
হয়।’
“কেন গরিবের সঙ্গে মস্করা করছেন, ঠাকুর,’ দেহাতি হাত কচলাল।
“মস্করা কেন করবেন গুরুদেব?’ একজন শিষ্য ঝুঁকে একটা কুমড়ো ঝাঁকা থেকে তুলে মাটিতে আছাড় মারল। কুমড়ো ফেটে ছড়িয়ে গেল। দেহাতি হাটুরে কাকুতি মিনতি করতে লাগল – “আমি গরিব মানুষ, ঠাকুর।’
‘সেজন্যই তো তোর সবক’টা কুমড়োর দাম আমি দিয়ে দেব,’ সন্ন্যাসী বেছে বেছে আরেকটা কুমড়ো তুলে সেটাকেও মাটিতে আছাড় মারল। প্রাণনাথ নিশ্চিত এই সন্ন্যাসী ও তার শিষ্যরা সাদা পোশাকে পুলিশ। একজন শিষ্য এবার তৃতীয় কুমড়ো তুলে আছাড় মারতেই ওর ভিতর থেকে ধাতব কিছু একটা মাটিতে ছিটকে গেল। প্রাণনাথ অবাক—
একটা রিভলভার!
এবার দেহাতি লোকটা পাঁচিলের দিকে হামা দিয়ে তাড়াতাড়ি আগ্নেয়াস্ত্রটা তুলে পিছন ফিরল। কিন্তু সাদা পোশাকের পুলিশরা ক্ষিপ্রহস্তে নিজেদের আগ্নেয়াস্ত্র তুলে লোকটার বুকে পর পর কয়েকবার ফায়ার করল। রক্ত ছিটকে পাঁচিলে লাগল। দেহাতি লোকটা চিৎপাত হয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ল। স্পন্দনহীন।
সন্ন্যাসী এবার পা দিয়ে দেহাতি লোকটার থুতনি নাড়িয়ে দেখে মন্দিরাকে জিজ্ঞাসা করল – ‘এটা কি প্রাণনাথ বোস?” -
মন্দিরা থরথর করে কাঁপছে। মেয়েটা জীবনে এই প্রথম কোনও হত্যা দেখল। ও বলল, ‘না। একে আমি চিনি না।’
‘ঠিক আছে। আমরা এর পরিচয় ঠিক বের করব। এ্যাই, তোরা লাশটাকে তোল। থানায় নিয়ে আয়।’
দু‘জন সঙ্গী একটা বস্তা জোগাড় করে এনে মৃতদেহটা ঢুকিয়ে বস্তা কাঁধে তুলে নিল। আতঙ্কগ্রস্ত মন্দিরা বাড়ির ভিতর থেকে বারবার কলসীর জল এনে পাঁচিলে ঢালতে লাগল। ধীরে ধীরে মাঠে গড়িয়ে যাওয়া জলের লালিমা কমতে লাগল। মন্দিরা ভয়ে থরথর করে কাঁপছে।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন