প্রীতম বসু
জমিদার অখিলরঞ্জনের আজকাল রাতে মাঝে মাঝেই ঘুম ভেঙে যায়। বিষয় সম্পত্তির চিন্তা, চারদিকে সবাই তাকে ঠকাবার জন্য মুখিয়ে আছে। একটু সুযোগ পেলেই হিসেবে গরমিল করে হাতিয়ে নেবে। ক্ষেতের থেকে কড়া নজর ওঠালেই চাষিরা ফসল চুরি করে কেটে বাজারে বেচে দেবে। এ সব সামলাতে পারে সে, কিন্তু সবচেয়ে বড় চিন্তা, যা তার রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে, তা হল রায়বাহাদুর খেতাব। ভাঙচি দেওয়ার লোক অনেক, এজন্য মাঝে মাঝেই সাহেব-সুবোদের গিয়ে মোটা রকম উৎকোচ দিতে হয় – কখনো দামি তিব্বতী কার্পেট, কখনো সারাদিন চৈতন্যপুখুরীর পাড় থেকে জলায় সাঁতার কাটা বুনো হাঁস শিকার করে সন্ধ্যায় আগুনে ঝলসে তার সঙ্গে উৎকৃষ্ট বিলিতি সুরা, মজলিসের এলাহি আয়োজন করতে হয় – তবু ইংরেজগুলো ঝেড়ে কাশবে না। অখিলরঞ্জন বুঝে গেছেন এসবে বিশেষ কাজ হয় না আজকাল। আজকাল কাজ হয় গুপ্তসমিতির খবর সাহেবদের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে। নিবারণ দত্তের বাগান বাড়ির মাটির নিচে কুঠুরিতে প্রচুর পিকরিক অ্যাসিডের বোতল এনে লুকিয়ে রাখা হয়েছে এবং স্বদেশীরা ওই অ্যাসিড রাতের অন্ধকারে নিয়ে গিয়ে বোমা বানায় এই গোপন খবরটার বিনিময়ে অখিলরঞ্জন রায়বাহাদুর পদের সুপারিশ করিয়েছিল। প্রচুর বোমার মশলা নারকোলের খোলা, পেরেক, পটাশ, অ্যাসিড, লোহার টুকরো সমেত একদল বোমা প্রস্তুতকারক বিপ্লবী ধরা পড়েছিল।
ইংরেজদের গোয়েন্দাদের কাছে খবর আছে ড্যানিয়েল সাহেবের ভাই রবিনসন সাহেবের হত্যাকারী প্রাণনাথ বোসকে নাকি এ তল্লাটেই দেখা গেছিল। নিজের ভাই কুমুদরঞ্জনের পরিবারের সঙ্গে প্রাণনাথের জানাশোনা আছে। অন্য সময় হলে অখিলরঞ্জন ঠিক একবার ঢু মারত ও বাড়িতে। কথাবার্তা বললেই কিছু আঁচ পাওয়া যেত, কিন্তু এখন তা অসম্ভব। পুত্রশোক লোকটাকে হিংস বানিয়ে দিয়েছে। থানায় যেভাবে চোটপাট করে এল, কুমুদরঞ্জনের সে রূপ অখিলরঞ্জন জীবনে কখনো দেখেননি। দুটো লোককে সে তাই সারাদিন খেয়াঘাটে পাহারায় বসিয়ে রেখেছে যদি প্রাণনাথ ব্যাটাকে পাওয়া যায়।
ভোরের দিকে ঘুমটা জাঁকিয়ে আসে। অখিলরঞ্জনের কড়া আদেশ কেউ যেন তার সকালের ঘুম না ভাঙায়। কিন্তু আজ বাইরে থেকে একটা খ্যানখ্যানে মেয়ের গলায় কীর্তন ওর ঘুম ভাঙিয়ে দিল। খঞ্জনি বাজিয়ে একটা ভিখিরি কেমন যেন বাঁকা বাঁকা সুরে গাইছে –
ভাল হৈল আরে বন্ধু আইলা সকালে
প্রভাতে দেখিলাম মুখ দিন যাবে ভালে
মেজাজটা তিক্ত আর রুক্ষ হয়ে উঠল অখিলরঞ্জনের। একে সকালের ঘুম ভাঙিয়ে দিল, আর তার ওপর কীর্তন! মাথায় খুন চেপে যায়।
‘হুকুমচাঁদ!’ বালাপোষের ভিতর থেকেই উচ্চৈঃস্বরে ডাকলেন অখিলরঞ্জন। লেঠেল হুকুমচাঁদ শয্যাকক্ষে প্রবেশ করল না। ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে বলল, হুকুম মালিক।’
‘ভিখিরিটাকে তাড়াতে পারিস নি!’ অখিলরঞ্জনের গলায় উষ্মা। ‘জানিস তো আমি কেত্তন সহ্য করতে পারি না।’
“চেষ্টা করেছিলাম মালিক। চাল দিতে গেছিল ঝি, কিন্তু নিল না। কাছারি ঘরের দাওয়ার মেঝেতে বসে গেছে। ওর নাকি জমিদারবাবুকে কিছু গোপন কথা বলার আছে।’
“চুলের মুঠি ধরে মাগীটাকে করতালতলীতে দাদার বাড়ির সামনে ছেড়ে আয়। ওখানে যত খুশি কেত্তন গাক।’
এবার নায়েব রামনাথের গলা খাঁকারি। সে হুকুমচাঁদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে – ‘জমিদারবাবু, আমার কিন্তু মনে হচ্ছে আপনি ওই বুড়ির সঙ্গে কথা বললে ভাল করবেন।’ -
“কেন?”
“ও বুড়ি নাকি ঝিকে বলেছে, আমি জানি তোদের জমিদার হৃদয়েশ্বরকে খুঁজছে। যা বল গে আমি জানি হৃদয়েশ্বর কোথায় আছে।’
‘সকাল সকাল তোমাদের কী হল নায়েব? কী উলটো পালটা বকছ? কে হৃদয়েশ্বর?”
“আজ্ঞে জমিদারবাবু, হৃদয়েশ্বর মানে তো প্রাণনাথ –
অখিলরঞ্জন তড়াক করে পালঙ্কে উঠে বসলেন। ‘বুড়িকে মন্ত্রণা ঘরে নিয়ে গিয়ে বসা হুকুমচাঁদ। নায়েবমশাই আপনি ওখানে যান, আমি এক্ষুণি আসছি।’
কিছুক্ষণ পর অখিলরঞ্জন অন্তঃপুর থেকে বেরিয়ে এসে মন্ত্রণালয়ে ঢুকলেন। ছিন্ন মলিন আলোয়ান গায়ে জড়িয়ে ঘাটের মড়া দাঁত ফোকলা এক বুড়ি মেঝেতে বসে। পাশে নায়েব রামনাথ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে। জমিদার ভিতরে ঢুকতেই রামনাথ বলল, ‘জমিদারবাবু, আমি একে বলেছি আপনি এর কীর্তন গান শুনতে চান।’
অখিলরঞ্জন ভাবলেন রামনাথের পাকা বুদ্ধি। এই সব ভিখিরিদের অনেকে স্বদেশীদের চর হয়, ওরা বাজিয়ে দেখে নিতে চায় যে কে ওদের খবর ইংরেজদের কাছে পৌঁছে দেয়। আগে বুড়ির সঙ্গে অন্য কথা বলতে হবে, আগ্রহ দেখালে চলবে না, উদাসীনভাবে খবরটা শুনতে হবে।
* গাও বুড়িমা, যা অপূর্ব গাইছিলে। আহা! আর বিছানায় থাকতে পারলাম না। গাও, তোমার কীর্তন শুনি একবার,” অখিলরঞ্জন চেয়ারে বসলেন।
‘শুনবে কীর্তন?” বুড়ির চোখ খুশিতে ঝলসে উঠল। চণ্ডীদাস। ভৈরব রাগ, কিন্তু রাগ-রাগিনীর দিকে বেশী মনোযোগ দিলে চলবে না।’
‘কেন?’
“ও মা, এ তো খণ্ডিতার গান। এটা ব্যঙ্গ করে গাইতে হয়। কৃষ্ণ সারারাত চন্দ্রাবলীর সঙ্গে লীলা করে সকালে এসেছে রাধার কুঞ্জে। কৃষ্ণের মুখে তখনো চন্দ্রাবলীর সিঁদুর লেপে রয়েছে। রাধা খুব ক্রুদ্ধ, কিন্তু হেসে হেসে ব্যঙ্গ করে বলছে,’ বুড়ি গান ধরল -
‘ভাল হৈল আরে বন্ধু আইলা সকালে
প্রভাতে দেখিলাম মুখ দিন যাবে ভালে
বন্ধু তোমার বলিহারি যাই
ফিরিয়া দাঁড়াও তোমার চাঁদ মুখ চাই
আই আই পড়েছে মুখে কাজরের শোভা।
অধরে সিন্দুরবিন্দু মুনির মনোলোভা।।
অখিলরঞ্জনের পা-থেকে মাথা অবধি চিড়বিড় করে জ্বলে উঠল। মুখে হাসি রেখে বলল, “বাঃ, বেশ হয়েছে। নায়েব মশাই, বুড়িমাকে কম্বল, চাল, আর একটা টাকার সিধে দিন।’ অখিলরঞ্জন উঠে দাঁড়ালেন। ‘একটা গোপন কথা ছিল জমিদারবাবু,’ বুড়ির দৃষ্টি খঞ্জনিতে।
‘কী কথা?” জমিদার এবার স্বস্তি অনুভব করল।
‘আপনাকে একা বলতে চাই। আমি চাই না পাঁচকান হোক।
‘বেশ,’ জমিদার ইশারা করলেন, নায়েব কক্ষত্যাগ করল। বল।’
‘আমি ভিখিরি নই জমিদারবাবু।’
“তবে?” অখিলরঞ্জন ভুরু কুঁচকে তাকাল।
‘আমি খোল বিক্রি করে পেট চালাই।
তা এখানে কেন?”
‘আমি প্রাণনাথের সন্ধান দিতে পারি।’
জমিদারের গায়ের রোম খাড়া হয়ে গেল। ‘কে প্রাণনাথ?’
‘কুখ্যাত স্বদেশী।’
‘আমার কাছে কেন?”
“ওর দলে নাম লিখিয়ে অনেক তাজা ছেলেরা মারা পড়ছে। ইংরেজদের সঙ্গে কি লড়াই করা যায়? আমার নিজের ছেলেপুলে নেই, ভাইপোটাকে পেটে ধরিনি, কিন্তু নিজের ছেলের থেকে কিছু কম ছিল না। প্রাণনাথের দলে বোমা বানাতে গিয়ে বোমা ফেটে মারা গেছে। ওকে ওরা আমাকে দেখতে পর্যন্ত দেয় নি, দেহটা চতুর্দিকে ছড়িয়ে গেছিল – বুড়ি ছেঁড়া আচলে চোখ ঢাকল। ‘আমি চাই আপনি প্রাণনাথকে ধরিয়ে দিন জমিদারবাবু।’
“দেখ, আমি এই স্বদেশী আর ইংরেজদের লড়াইয়ের মধ্যে একদম জড়াতে চাই না। আমি শান্তিপ্রিয় মানুষ, জমিদারি নিয়েই থাকি। তবে হ্যাঁ, তোমার ভাইপো যখন মারা গেছে আমি চাই তার একটা বিচার হোক। ঠিক আছে, বল প্রাণনাথকে কোথায় পাব।’
‘প্রাণনাথ করতালতলীর ধুলটে আসবে।’
‘কিন্তু করতালতলীতে তো ধুলট হচ্ছে না এ বছর।’
‘হচ্ছে না?” বুড়ির মুখে নিরাশার ছায়া। “তাহলে তো প্রাণনাথকে পাওয়া মুশকিল।
*তুমি কীভাবে জানলে প্রাণনাথ ধুলটে আসবে?”
“ও যে ওর বন্ধু মৃদঙ্গমের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিল। প্রাণনাথ আসবেই আসবে।’
মৃদঙ্গমের নাম এই বুড়ি জানল কীভাবে? অখিলরঞ্জন বিস্মিত। ‘কীসের প্রতিজ্ঞা?”
‘সনাতনী কীর্তন বলে একটা কীর্তন মৃদঙ্গম প্রতি বছর ধুলটে যে গায় ‘সনাতন কীর্তন।’
‘হ্যাঁ হ্যাঁ, সনাতন কীর্তন। মৃদঙ্গম প্রাণনাথকে দিয়ে প্রতিজ্ঞা করিয়েছিল যে যদি সে এই পৃথিবীতে না থাকে তবে ধুলটে এসে প্রাণনাথ যেন সনাতন কীর্তন গায়। প্রাণনাথ কথা দিয়েছিল।’
‘এতসব কথা তুমি কীভাবে জানলে?”
‘আমার উঠোনেই তো এসব কথা হয়েছিল।’
“তোমার উঠোনে?”
‘হ্যাঁ গো, দু‘জনে এসেছিল খোল কিনতে। তখন ওদের মধ্যে এসব কথা হচ্ছিল আমার সামনেই। প্রাণনাথ যদি একবার কথা দেয় তবে সেকথা সে রাখবেই। তাই আমি নিশ্চিত যে প্রাণনাথ যদি ধরা না পড়ে তবে সে ধুলটে আসবেই আসবে।’
অখিলরঞ্জন একবার চিন্তা করলেন। এই ধুলট যাতে না হয় সেজন্য সেই ইংরেজদের প্ররোচনা দিয়েছে। কিন্তু প্রাণনাথ বোসকে ধরিয়ে দিতে পারলে তার রায়বাহাদুর উপাধি পাকা। ড্যানিয়েলকে গিয়ে বলে সে ধুলট উৎসবকে টোপ হিসাবে ব্যবহার করতে পারে প্রাণনাথকে ধরবার জন্য। কিন্তু এই ভিখিরি বুড়ির কথায় ভরসা কী। আগে নিশ্চিত হতে হবে।
‘ও কোথায় থাকে এখন?’
“তা জানিনে। তবে এটুকু বলতে শুনেছি যে পাখি এবার কম্বোডি দেশে উড়ে যাবে। ইংরেজরা নাগালও পাবে না।’
কম্বোডিয়া? অখিলরঞ্জন অবাক। কম্বোডিয়া তো ফ্রেঞ্চ কলোনি, এই বুড়ী কীভাবে কম্বোডিয়ার নাম জানল? তার মানে প্রাণনাথ কম্বোডিয়া পালাবার প্ল্যান করছে। খবরটা দিতে হবে ড্যানিয়েল সাহেবকে।
‘কিন্তু আমি তো চিনি না প্রাণনাথকে, কীভাবে বুঝব কে প্রাণনাথ?”
বুড়ি ওর জীর্ণ ঝোলা থেকে একটা ফটো বের করল - এক সদ্য গ্র্যাজুয়েটের ছবি, মাথায় গ্র্যাজুয়েশন হ্যাট, কালো আলখাল্লা পরা - ‘এই দাড়িওয়ালা ছেলেটা, এই হল প্রাণনাথ বোস। তবে ও নানা ছদ্মবেশ ধরতে সিদ্ধহস্ত। কিন্তু আমার চোখকে ফাঁকি দিতে পারবে না। আমি ধুলটে তোমায় চিনিয়ে দেব।’
‘কথা দিতে পারছি না,’ অখিলরঞ্জন বললেন। ‘ফটোটা রেখে যাও আমার কাছে। সাহেবদের সঙ্গে কথা বলে দেখি। যদি ধুলটের সম্মতি পাওয়া যায় আর তোমার ওপর সুবিচার হয়। তবে সাবধান কেউ যেন জানতে না পারে আমি তোমায় সাহায্য করছি।’
‘কেউ জানবে না।’ বুড়ি উঠে দাঁড়াল। ‘তবে ফটো আমি দিতে পারব না। ওদের অনেকেই জানে যে এই ফটো আমার কাছে আছে। আমারও তো প্রাণের মায়া আছে। আমার কাজ শেষ, এবার আমি বিদেয় হই।’
অখিলরঞ্জন ফটোর দিকে তাকিয়ে মনে মনে বললেন, “প্রাণনাথ বোস, তোমার গলায় ম্যানিলা রোপের ফাঁসের ব্যবস্থা এই অখিলরঞ্জন সেন করে ছাড়বে।’ একটা ঝুঁকি নেওয়াই যায়। তারপর বললেন, ‘তোমার বাড়ি কোথায়?”
‘আদি বাড়ি নদীয়ায়। থাকি ভাইপোর কাছে উলুডাঙায়। আজই ফিরে যেতে হবে।’
“আহা - আজ কেন যাবে? আমার এখানে ধুলট পর্যন্ত থেকেই যাও না কেন ? এখানে দেখভাল তোমার ভাল হবে। খাওয়ার কোনও চিন্তা থাকবে না, ওষুধ-পথ্য – ‘
না গো বাছা। ওষুধে আমার এ-শরীর আর সারবে না। শুধু কৃষ্ণ নামেই ‘ তারপর বুড়ি গেয়ে উঠল -
গৌর রূপ দেখে হয়েছি পাগল
ওষুধে আর মানে না,
চল সজনী যাইগো নদীয়ায়।’
বুড়ি মাড়ি বের করে হাসল। দুটো দাঁত মাড়িতে কোনওমতে টিঁকে আছে। জমিদার অখিলরঞ্জনের পাগল পাগল লাগছিল। বুড়িটাকে ধরে রাখার ইচ্ছা ছিল যাতে প্রাণনাথ ফসকে না যায়। এসব উটকো লোকের কথার কি কিছু ঠিক থাকে নাকি? বুড়ি ডাহা মিথ্যে বলছে কিনা তা পরখ করা দরকার। অখিলরঞ্জন নায়েবকে ডাকলেন – ‘এই বৃদ্ধাকে তার বাড়িতে পৌঁছাবার জন্য ব্যবস্থা করুন। মঝিদের বলুন ভাউলিয়া ছাড়তে। বিষ্ণুদাসপুর থেকে রেলগাড়ি। আপনি নিজে সঙ্গে যাবেন, এর যেন এতটুকু অসুবিধা না হয়।’ -
নায়েব কুটিল হেসে বলল, “আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন, জমিদারবাবু। ওঁর আতিথেয়তার আমি সকল খেয়াল রাখব। কোনও অসুবিধা হবে না।’
অল্প কিছুক্ষণ পর, জমিদার অখিলরঞ্জনের চারজন বেহারা তালে তালে সুরেলা “হিং-তাল-হিং-তাল’ ধ্বনিতে জমিদারের পালকিতে বৃদ্ধা আর নায়েব রামনাথকে নিয়ে বুড়িকোশীর ঘাটের দিকে রওনা দিল।
পরদিন অপরাহ্নে নায়েব ফিরে এল। অখিলরঞ্জনকে নায়েব রিপোর্ট দিল বুড়ি যে বলেছে তা সর্বৈব সত্য। উলুডাঙায় বুড়ির বাড়ির উঠোনে বত্রিশটা খোলের চাক শুকাতে দেওয়া তা নায়েব নিজের চোখে দেখে এসেছে। গ্রামে খোঁজ নিয়ে জেনেছে যে কিছুদিন আগে বুড়ির ভাইপোর বোমার আঘাতে মৃত্যু হয়েছে। নায়েব নিজে ভাইপোর বিধবা স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এসেছে। তাদের থেকে একটি খোলও কিনে এনেছে।
‘আদিখ্যেতা!’ নিশ্চিন্ত অখিলরঞ্জন মনে মনে বললেন। নায়েবের একটু গানবাজনার শখ আছে সেটা অখিলরঞ্জনের অজানা নয়।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন