অষ্টাদশ অধ্যায়

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

আঠারো

যেন অতল জল থেকে উঠে আসা। এক ঘোর-ঘোর রূপকথার জগৎ থেকে বাস্তবের চৌকাঠে পা রাখা, কোনটা ভাল তা পান্না বলতে পারবে না। স্বপ্ন আর সত্যের মেলামেশা যে অদ্ভুত জগতে সে ছিল কয়েকদিন—তা তো কই খারাপ লাগছিল না তার। মৃত্যুভয় অবশ্য ছিল, কিন্তু তা তো তার সবসময়েই থাকে। অসুখ হলে একটু বেড়ে যায়, এই যা।

সকালবেলার আলো-ঝলমলে ঘরে দুর্বল শরীরে উঠে বসেছে পান্না। বুক অবধি লেপ টানা দেওয়া ছিল। লেপটা কোলের ওপর খসে পড়েছে। নিজের দুখানা হাত চোখের সামনে তুলে ধরে খুব মন দিয়ে দেখছে সে। একেই সে রোগা। এই অসুখে আরও কি রোগা হয়ে গেছে সে?

জ্বর ছেড়ে গেলে শরীরটা যেন বেশি ঠান্ডা মেরে যায়। খুব শান্ত এক শীতলতায় ভরে আছে শরীর। খুব দুর্বল। মুখে বিস্বাদ।

মা!

হুঁ।

আমি কি আজ চান করব?

পাগল!

গা থেকে বোঁটকা গন্ধ পাচ্ছি যে!

মোটেই কোনও গন্ধ নেই। আমি তো পাশেই শুই, গন্ধ হলে পেতুম না!

আমি পাচ্ছি যে!

গন্ধের নাক একটু কমাও মা। সবতাতেই গন্ধ-গন্ধ বলে নাক সিঁটকোলে তো হবে না। বড্ড গন্ধ বাই তোর।

তাহলে কি নাকটা উকো দিয়ে ঘষে দেব?

আর উকো দিয়ে ঘষতে হবে না, এমনিতেই তো নাকটা একটু চাপা।

কই চাপা? দাও তো আয়নাটা! তুমি তো আমার সবকিছুই খারাপ দেখ।

আয়নায় নিজের নাক মোটেই চাপা বলে মনে হল না তার। একটু ছোট বটে, কিন্তু মোটেই চাপা নয়।

আমি কি খুব কুচ্ছিত মা?

কুচ্ছিত না হলেও ডানাকাটা পরি তো আর নও। জ্বরের আগে তাও যা একটু ছিল, জ্বরের পর তো হাড়গিলে চেহারা হয়েছে।

শুধু বার্লি গিলিয়ে রেখেছ, চেহারা তো খারাপ হবেই। ডাক্তারবাবু ভাত দিতে বলে গেল, তুমি কিছুতেই দিলে না।

আহা, ডাক্তাররা বড় পণ্ডিত কি না। নিদান দিয়ে দক্ষিণা পকেটে গুঁজে পগার পার হল, তারপর যত হ্যাপা সব আমাদের সামলাতে হবে।

ডাক্তারের কথা যদি না-ই শুনবে তবে ডাক্তার ডাকো কেন?

সে ডাকতে হয় বলে ডাকা। ডাক্তার ওষুধ দেবে, পথ্যি আমাদের হাতে।

বাঃ, বেশ মজা তো! ডাক্তারের কথা অর্ধেক শুনবে আর অর্ধেক ফেলে দেবে?

সেটাই রেওয়াজ। ডাক্তারদের কথা পুরো কেউ শোনে না। জন্মে শুনিনি একশো পাঁচ ছয় জ্বরে কেউ ভাত দেয়। মণিরাম ডাক্তার শুনলে মূৰ্ছা যেতেন। ওসব হালফিলের ডাক্তারের ওপর আমার ভরসা হয় না তেমন।

আজ তো জ্বর নেই, দেবে তো চাট্টি ভাত?

আজকের দিনটা থাক না, কাল খাস।

আমি কিন্তু আর বার্লি গিলতে পারব না। বার্লির বাটি ছুড়ে ফেলে দেব জানালা দিয়ে।

আচ্ছা, দুটো পাতলা রুটি দেব খন, আলু বড়ির ঝোল দিয়ে খাস।

রুটি! আমার যে অম্বল হয়ে যায়।

বাবা রে, বায়নাক্কার শেষ নেই তোর।

মুখটা যে কী বিস্বাদ! একটা লঙ্কা দেবে?

লঙ্কা!

লঙ্কা আর নুন খেলে জিবটা বোধহয় পরিষ্কার হবে।

পাগল নাকি? বরং আদাকুচি আর নুন খা। কাশিরও উপকার হবে।

তাই দাও বাবা। তার আগে এক কাপ চা। দেবে তো?

আবার চায়ের বায়না কেন? একেই তো লিভার ভাল নয়।

ওই এক কথা শিখেছ তুমি। লিভার ভাল নয়। কী করে জানলে যে আমার লিভার ভাল নয়? তুমি কি ডাক্তার? লিভার কাকে বলে তাই তো জানো না।

না জানলেও বুঝতে পারি। ওসব শিখতে হয় না আমাদের। তোর কটা শ্বাস পড়ল তারও হিসেব আমার আছে।

কাঁচকলা আছে। বলো তো সকাল থেকে কটা শ্বাস ফেলেছি? অত সোজা না। মা হয়েছ বলে মাথা কিনে নিয়েছ বুঝি!

তাই নিয়েছি। এই যে বৃষ্টিতে ভিজতে বারণ করলুম, শুনলি সেই কথা? মায়েরা সব আগাম খবর পায়, তা জানিস?

পান্না হেসে ফেলে, দুহাত বাড়িয়ে বলে, এসো তো আমার কাছে! একটু আদর করো।

আর আদিখ্যেতায় কাজ নেই মা। জড়াজড়ি করলেই বুঝি আদর হয়? রাত জেগে মুখের দিকে চেয়ে বসে থাকা, মাথায় জলপট্টি বা তালুতে বরফ দেওয়া, ঘণ্টায় ঘণ্টায় ওষুধ খাওয়ানো সেসব বুঝি আদর নয়?

সে তো কেজো আদর। একটু অকাজের আদর করো তো! মুখটা সবসময়ে ওরকম গোঁসাপানা করে রাখো কেন? হাসতে জানো না?

হাসি বুঝি অমনি আসে! কটা দিন তো হাড় ভাজা-ভাজা করে খেলে। একশো পাঁচ ছয় জ্বর উঠে যাচ্ছে, সবাই ভয় দেখাচ্ছে বেশি জ্বরে নাকি মাথায় রক্ত উঠে যায়। ভয়ে মরি। হাসি আমার শুকিয়ে আমসি হয়ে গেছে।

জ্বর বুঝি মানুষের আর হয় না! না হয় মরেই যেতাম। তোমার একটা চক্ষুশূল কমত। হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে।

খুব বুঝেছ।

তুমি সবচেয়ে বেশি ভালবাসো দাদাকে, সেকেন্ড হীরা, আমি লাস্ট। তাই না?

ওই তো বললুম, খুব বুঝেছ।

জ্বরের ঘোরে আমি বারবার কাকে দেখেছি জানো? মণিরাম জ্যাঠাকে। মণিরাম জ্যাঠা এসে পাশে বসে আমার নাড়ি দেখছিল। কী ঠান্ডা হাত!

থাক, ওসব আবার মনে করতে হবে না। অলক্ষুণে সব স্বপ্ন।

মরা মানুষকে স্বপ্ন দেখা ভাল নয়, না?

স্বপ্ন স্বপ্নই। তার কি কোনও মাথামুণ্ডু আছে! জ্বরের ঘোরে কত হাবিজাবি দেখে মানুষ। ওসব নিয়ে ফের ভাবতে বোসো না। একেই তো ভিতুর ডিম!

আমার অত জ্বর দেখে বাবা কেমন করল বলবে?

পুরুষমানুষ বড় নরম হয়। তার ওপর বাপসোহাগী মেয়ে। কেমন আবার করবে। ঘর-বার করেছে, বারবার জ্বর মেপেছে, আর উদ্ভট উদ্ভট সব নিদান দিয়েছে।

কী রকম মা? একটু বলো না!

কোথায় কোন তান্ত্রিকের কাছে যাবে বলে বায়না ধরেছিল। আমি যেতে দিইনি। তান্ত্রিকদের নানা মতলব থাকে। কোন ফকিরবাবার জলপড়ার কথাও যেন বলছিল। তখন কি আর কারও মাথার ঠিক ছিল মা?

আর হীরা?

ও বাবা এমনিতে দু বোনে বনিবনা নেই বটে, কিন্তু যেই দিদির জ্বর হল অমনি হীরা জব্দ, সারাদিন চোখ ছলোছলো, ভাল করে খায় না, ঘুমোয় না। বেশ খেলা দেখিয়েছ।

তাকে নিয়ে যে বাড়িতে একটা ভীষণ টেনশন গেছে এটা জেনে খুব খুশি হচ্ছিল পান্না। এইসব অসুখ-বিসুখ শরীর নিংড়ে নেয় বটে, কিন্তু বিনিময়ে কিছু পুরস্কারও তো দিয়ে যায়। অসুখের ভিতর দিয়ে কি মানুষের একটা নবীকরণও হয়?

কে কে আমাকে দেখতে আসত বলো তো! বড়মা আসেনি?

ওমা! বড়দি, আসবে না? রোজ দুবেলা এসেছে। বকুল, পারুল, জামাইরা সবাই এসে ঘুরেফিরে দেখে গেছে।

আমি কিন্তু টের পাইনি কিছু।

কী করে পাবে? চৈতন্যই তো ছিল না একরকম। মাঝে মাঝে একটু চেতনা এলে দু-চারটে হাবিজাবি কথা বলে ফের ঘোরে ডুবে যেতিস।

ধ্যেৎ! বলে হাসে পান্না, হাবিজাবি বলতাম বুঝি?

বেশিরভাগই অসংলগ্ন কথা। মাথামুণ্ডু নেই।

কেউ শোনেনি তো!

তেমন কেউ নয়। শুধু ওই অমলের মেয়ে সোহাগ। সে সারাক্ষণ তো মুখের ওপরই পড়ে থাকত।

সোহাগ কি কলকাতায় চলে গেছে মা?

জানি না বাপু। কাল থেকে তো আসছে না। আমারও কি পাড়াপ্রতিবেশীর খবর নেওয়ার সময় ছিল?

আজ কি খুব শীত পড়েছে?

তা পড়েছে বাছা। সকালে তো কনকনে হাওয়া দিচ্ছিল।

তা হলে আমাকে উঠোনে একটা চেয়ার পেতে দাও। রোদে একটু বসি। কতকাল বাইরেটা দেখা হয়নি।

আজ থাক না। শরীর দুর্বল, মাথা-টাথা যদি ঘুরে যায়।

কিছু হবে না মা। পেতে দাও।

বাইরে রোদে বসে চারপাশটাকে চোখ নাক ত্বক দিয়ে শুষে নিচ্ছিল পান্না। বাঁ ধারে বড় জ্যাঠাদের তিনতলা বাড়ির ছাদ দেখা যায়, ঘোষবাড়ির মস্ত মস্ত নারকোল গাছে আছাড়ি-পিছাড়ি হাওয়া, পুকুরপাড় থেকে বাসন ধোয়ার শব্দ আসছে, একটা গোরু হাম্বা বলে ডেকে উঠল।

আজ হাওয়ার দিন। বাতাসে লুকোনো ছুরির মতো শীত এসে তার শরীরের আনাচে কানাচে ঢুকে যাচ্ছে। একটা বাটিতে মুড়ি আর আধকাপ চা দিয়ে গেছে মা। মুড়িটা বাতাসের থাবায় অর্ধেক উড়ে গেল। তাড়াতাড়ি জুড়িয়ে গেল চা। গায়ের আলোয়ানটা উড়ে যাচ্ছে বারবার বাতাসের ঝাপটায়। রোদ তেমন গায়ে লাগছে না।

না, এই শীত বাতাসটা সহ্য করা তার উচিত হচ্ছে না। ফের যদি জ্বর আসে।

হাহাকারের মতো শব্দ উঠছে গাছপালায়। বাতাস বড্ড দামাল। রোদের তাপটুকু লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে। উঠোনে এ সময়ে যেসব পুষি বেড়াল বা ভেলু কুকুরেরা বসে থাকে তারাও কেউ নেই।

একটু বসে থাকার ইচ্ছে হয়েছিল পান্নার। সাহস হল না। উঠে ঘরে চলে এল। বিছানায় বসে কোমর অবধি লেপটা টেনে নিল। গলায় জড়িয়ে নিল মাফলার। কোলে পুবের জানালা দিয়ে ঝকঝকে রোদ এসে পড়েছে। তাপটুকু বড় ভাল লাগছে তার। বাইরে লুটেরা বাতাসের দাপাদাপি। শীত করছে।

চোখ জ্বালা করে জল আসছে। বুকে ধুকুরপুকুর। গলায় খুশখুশ। জ্বর আসছে নাকি? ও বাবা, তা হলে মরেই যাবে সে। রোদে রোগা দুখানা হাত মেলে দিয়ে সে ফর্সা চামড়ার নীচেনীল শিরা উপশিরা দেখতে পাচ্ছিল। গায়ে জ্বরের গন্ধ। না, তার ভাল লাগছে না। সে চোখ বুজল, ঠিক তার জ্বর আসবে।

চোখ বুজে ভারী মন খারাপ লাগছিল তার। জ্বর এলে আবার তো পড়ে থাকা। কান্না পাচ্ছে যে!

দাঁতে ঠোঁট কামড়ে যখন এই অলক্ষুণে চিন্তা করছিল পান্না, তখনই ফের মনে হল, জ্বর কি খুব খারাপ? বেশ তো কয়েকটা দিন এক অদ্ভুত আলো-আঁধারের জগতে বাস করে এল সে। স্বপ্নের কত ফুলঝুরি ঝরে পড়ল চোখে। কত কিম্ভুত দৃশ্য দেখল। জ্বর এলে হয়তো সেই ডাক্তারটিও আসবে। তার নাম অনল বাগচী। কী অদ্ভুত নাম। ডাক্তারের মুখটা মনেও পড়ে না তার। কেমন দেখতে কে জানে! ক্যাপসুল-ট্যাবলেট গিলতে পারে না বলে তাকে বকেনি একটুও। আর ভাত খেতে বলেছিল। বেশ ডাক্তার। মণিরাম জ্যাঠার মতো নয়।

মিণরাম জ্যাঠা রুগি দেখতে আসতেন ঠিক ডাক্তারের মতো নয়। অনেকটা আত্মীয়ের মতো। বসে রাজ্যের গল্প ফেঁদে বলতেন। একসময়ে সত্যাগ্রহ করেছেন, জেল খেটেছেন, গান্ধীবাবার কাজ করেছেন—সেসব কথা, বাজারদর, গাঁয়ের পলিটিক্স, তাবিচকবচ, রান্না-বান্না, এমনকী ভূত-প্রেত নিয়েও কথা কইতেন, যার মধ্যে ডাক্তারির নামগন্ধও থাকত না। বেশ ভালই লাগত জ্যাঠাকে। কিন্তু ডাক্তারির রকমটা ছিল বড্ড সেকেলে। জ্বর হয়েছে তো কী? মণিরাম ডাক্তার কিছুতেই চট করে জ্বর কমানোর ওষুধ দেবেন না। তাঁর বক্তব্য, ওরে বাবা, জ্বর যখন শরীরের দখল নিয়েছে তখন তারও একটা মেয়াদ আছে। ঘাড়ধাক্কা দিয়ে তাকে বার করতে গেলে শরীরে তার দাঁত নখের দাগ থেকে যায়। হুড়োহুড়ি করার কিছু নেই। জ্বর ঠিক সময়মতো ছেড়ে যাবে। যাতে খুব জট না পাকায় ডাক্তারের কাজ হচ্ছে তাই দেখা।

মণিরাম দাস্ত বা বমিও চট করে বন্ধ করার পক্ষপাতী ছিলেন না। পেনিসিলিন পারতপক্ষে দিতেন না। এমনকী পান্নার বাবার যখন টাইফয়েড হয়েছিল তখনও টাইফয়েডের নির্দিষ্ট ওষুধ না দিয়ে বাহান্ন দিন ভুগিয়েছিলেন বাবাকে। আর বাবাও মণিরামের অন্ধ ভক্ত ছিলেন বলে অন্য ডাক্তার ডাকেননি। বার্লি গিলেছিলেন, রোগা হয়ে মুরগির ছানার মতো চেহারা হয়েছিল, এত দুর্বল যে হাঁটাচলা করতে দিন পনেরো সময় লেগেছিল।

এটা নিশ্চিত যে মণিরামের যুগ আর নেই। মণিরাম জ্যাঠার সঙ্গে অনল বাগচীর অনেক তফাত।

অনল বাগচী! কী অদ্ভুত নাম! নামটা গুনগুন করছে মনের মধ্যে। মানুষটার নয়, নামটারই প্রেমে পড়ে গেল নাকি সে? নাকের কাছে হাতটি ফেলে সে শ্বাসের তাপ দেখছিল গরম নয় তো!

তার একটু গন্ধ-বায়ু আছে এ কথা ঠিক। যেখানে কেউ কোনও দুর্গন্ধ পায় না সেখানেও দুর্গন্ধ আবিষ্কার করার আশ্চর্য প্রতিভা আছে তার। গেলবার পিকনিকে যে লোকটা মাংস পরিবেশন করছিল তার জামায় আঁশটে গন্ধ পেয়ে ওয়াক তুলে মরে। মানুষের গায়ের গন্ধ, মুখের গন্ধ, হাসপাতালের গন্ধ, লোহার গন্ধ, বিড়ির গন্ধ, জামাকাপড়ে বাসি গন্ধ—কত গন্ধই যে সারাদিন তাকে তাড়া করে তার ঠিকঠিকানা নেই।

এ-বাড়ির রেওয়াজ হল, জ্বর হলে ব্রাশ দিয়ে দাঁত মাজা বন্ধ। সর্ষের তেল আর নুন দিয়ে মাজতে হবে। মাকে কে যে এই নিয়ম শিখিয়েছে কে জানে বাবা! তেল নুন দিয়ে মাজলে দাঁত একটুও পরিষ্কার হয় না, বরং কাঁচা সর্ষের তেল আর নুনে দাঁত ঝিনঝিন করে। নিজের মুখ থেকে যেন বাসি গন্ধ পাচ্ছিল পান্না। আর গা থেকেও বোঁটকা গন্ধ। অপছন্দের গন্ধ সে একদম সইতে পারে না। সে শরীরে ট্যালকম পাউডার ছড়াল। মুখে লবঙ্গ ফেলে চিবোল খানিকক্ষণ। তবু খিতখিত করে তার। কিছু করার নেই বলে উঠে বাসি জামাকাপড় ছেড়ে কাচা শাড়ি পরল। চুল আঁচড়াল। কপালে একটা টিপ সেঁটে নিল। তারপর একখানা গল্পের বই নিয়ে বসল বিছানায়। বিরহের গল্প তার ভীষণ প্রিয়। বিরহের মতো জিনিস আছে! পড়লে চোখে জল আসবে, বুক ভার হয়ে উঠবে, মরে যেতে ইচ্ছে করবে—তবে না গল্প!

এই উপন্যাসটা তার বহুবার পড়া। বামুনের মেয়ে। পড়তে পড়তে উদাস হয়ে মাঝে মাঝে জানলা দিয়ে বাইরে চেয়ে থাকে পান্না। এত সব বিয়োগান্ত ঘটনা যে, এই সুন্দর ঝকঝকে সকালটা যেন আস্তে আস্তে বিবর্ণ পাঁশুটে হয়ে যেতে থাকে।

সরস্বতী গোবর কুড়োচ্ছে। ময়লা কাপড় পরনে, পিঙ্গল চুল, মুখশ্রীতে কোনও আনন্দ নেই। আজকাল দেখা হলে হাসে একটু, কথা বলতে লজ্জা পায়। সরস্বতী তার সঙ্গে পড়ত। কিন্তু মাথায় পড়া ঢুকত না বলে সিক্স থেকে ফেল করতে শুরু করে। তারপর অনেক পিছিয়ে পড়াই ছেড়ে দিল। একটা দীর্ঘশ্বাস পড়ল পান্নার। পৃথিবীতে যে কত ট্র্যাজেডি! সরস্বতীর সঙ্গে এখনও তার তুই তোকারির সম্পর্ক। তবু দুজনের যে কত তফাত!

সরস্বতীর দিকে তাকিয়ে থাকত অমলেন্দু। তাকিয়েই থাকত। শোনা যায় চোখের পলক অবধি পড়ত না। সরস্বতী স্কুলে যাচ্ছে, কদমতলায় ঠিক অমলেন্দু নিষ্ঠার সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে। দুটি চোখ পেতে। সরস্বতী টিফিনের সময় স্কুলের মাঠে খেলছে বা আলুকাবলি খাচ্ছে, উলটোদিকে ঠিক অমলেন্দু দাঁড়িয়ে আছে স্ট্যাচুর মতো।

না, কখনও কথা-টথা বলতে এগিয়ে আসেনি, হাতে চিঠি গুঁজে দেয়নি বা হিন্দি প্রেমের গান গায়নি চেঁচিয়ে। শুধু তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই তেমন করেনি সে।

কিন্তু এতেই ভারী ভয় পেত সরস্বতী। অমলেন্দুকে দেখলেই সে সাদা হয়ে সিঁটিয়ে যেত।

দেখ, দেখ, ছেলেটা আজও দাঁড়িয়ে আছে।

বন্ধুরা বলত, দে না একদিন দু কথা শুনিয়ে।

ও বাবা, সে আমি পারব না, বড্ড ভয় করে।

আহা, ভয়টা কীসের? তুই না পারিস, আমরাই দিচ্ছি শুনিয়ে।

সরস্বতী ভয় খেয়ে বলত, তাতে যদি খেপে গিয়ে আরও কিছু করে?

কী করবে?

কী করবে তা ভেবে পেত না সরস্বতী। মেয়েদের বিরুদ্ধে পুরুষেরা কত কীই তো করতে পারে। অ্যাসিড বালব ছুড়ে মারল, কি কলঙ্ক রটাল বা গুণ্ডা লাগিয়ে টেনে নিয়ে গেল। মেয়েরা কি পারে পুরুষদের সঙ্গে?

বন্ধুরা শেষ অবধি একদিন কদমতলায় ঘিরে ধরল অমলেন্দুকে।

এই যে, আপনি রোজ এখানে দাঁড়িয়ে থাকেন কেন বলুন তো! কী মতলব?

অমলেন্দু ভয়ে লজ্জায় অধোবদন হয়ে, শরীর মুচড়ে সপ্রতিভ হয়ে বলল, এমনি দাঁড়িয়ে আছি। মতলব কিছু নেই।

মতলব নেই বললেই হল! সরস্বতী আপনার ভয়ে স্কুলে যেতে পারছে না। ফের যদি এরকম করেন তা হলে কিন্তু আমরা তোক ডাকব।

অমলেন্দু অপমানিত হয়ে চলে গেল।

প্রকাশ্যে আর সে দেখা দিত না বটে, কিন্তু ঘাপটি মারার সুযোগ তো কম নেই। এই ঘটনার পর সে পুরনো শিবমন্দিরের ভাঙা পাঁচিলের আড়াল থেকে একটা ফুটো দিয়ে সরস্বতীকে রোজ দেখত।

আর কেউ টের না পেলেও সরস্বতী ঠিকই টের পেত অমলেন্দুকে। প্রকাশ্যে একরকম ছিল। তাতে গা-ছমছম করত না। কিন্তু অমলেন্দু যখন আড়াল হল তখন উৎকণ্ঠা আর ভয় বেড়ে গেল সরস্বতীর।

বন্ধুরা এবারও অমলেন্দুকে ধরল। তাদের দেখে সে পালাতে যাচ্ছিল। স্কুলের সাহসী মেয়ে বনলতা দৌড়ে গিয়ে তাকে ল্যাঙ মেরে ফেলে দেয়।

অতগুলো মেয়ের মারমুখী ভাব দেখে অমলেন্দু ভয়ে কেঁদেই ফেলেছিল।

আমি তো কিছু দোষ করিনি!

দোষ করেননি মানে! আপনি রোজ গা ঢাকা দিয়ে সরস্বতীকে ফলো করেন। আপনার মতলব খারাপ।

বিশ্বাস করুন, আমার খারাপ মতলব ছিল না।

তবে ওরকম করেন কেন?

কী জানি! ওকে না দেখলে আমার ভীষণ মন খারাপ হয়।

বাঃ, বেশ তো কথা! দাঁড়ান, আপনার বাড়িতে বলে দেবো।

না না, বলবেন না। আমি আর আসব না।

অমলেন্দু ভয় পেয়ে কদিন সত্যিই আর সরস্বতীর যাতায়াতের পথে আসত না।

দেখতে সরস্বতী বরাবরই ভাল। সুন্দরী না হলেও মিষ্টি লাবণ্য আছে। ঢলঢলে গোলপানা মুখ, বড় টানা চোখ। কিন্তু ভারী ভিতু। কোনও ছেলের সঙ্গে প্রেম করার কথা ভাবতেই পারত না।

পান্না ওকে বলেছিল, ছেলেটা যখন ওরকম হ্যাংলামি করে তখন একটু-আধটু কথা বললেই তো পারিস। কথাটথা বললে আর ওরকম ছোঁকছোঁক করবে না।

কথা! ও বাবা, ভাবতেই বুক ধড়াস ধড়াস করে। আমি পারব না।

তোর বুক ধড়াস ধড়াস করে কেন? তুই তো আর ওর প্রেমে পড়িসনি।

প্রেম! দুর, কী যে বলিস! বুক ধড়াস ধড়াস করে ভয়ে।

অমলেন্দুরা গাঁয়ের পুরনো লোক হলেও ওরা থাকত বাইরে বাইরে। ওর বাবা শান্তনু ঘোষাল মধ্যপ্রদেশে কলিয়ারিতে চাকরি করতেন। রিটায়ার করে গাঁয়ের পৈতৃক বাড়িতে এসে থিতু হয়েছেন। কাজেই অমলেন্দুর তেমন বন্ধুবান্ধব, দল বা ক্লাব নেই যারা তার পেছনে দাঁড়াবে, শ্যামলা রোগা লাজুক ছেলেটিকে খারাপ বলেও মনে হত না পান্নার।

শান্তনু ঘোষালও নিরীহ সজ্জন মানুষ। রিটায়ার করার পর গাঁয়ে ফিরে সকলের সঙ্গে আলাপ-সালাপ করে পুরনো সম্পর্ক ঝালিয়ে নিতেন। পান্নাদের বাড়িতেও এসেছেন কয়েকবার। তাঁর মেয়ে বড়, ছেলে ছোট। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে অমলেন্দু অঙ্কে অনার্স নিয়ে বি এসসি পাশ করে বসে আছে। কলিয়ারিতে তার একটা চাকরি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু শান্তনু ঘোষাল ছেলেকে মধ্যপ্রদেশে একা ফেলে রাখতে চান না।

পান্না একদিন সরস্বতীকে বলল, হ্যাঁ রে সরস্বতী, অমলেন্দু তো খারাপ ছেলে নয়। তুই ওকে অপছন্দ করিস কেন?

ও এরকম কেন? গাঁয়ে আর মেয়ে নেই?

ওর যে তোকে পছন্দ!

না না বাবা, ওসব আমার ভাল লাগে না।

অমলেন্দু এরপর যেটা করেছিল সেটা একটু বাড়াবাড়ি। স্কুলের পথে দিনের বেলা সরস্বতীকে দেখার যে অসুবিধে আছে সেইটে বুঝতে পেরে সে এরপর রাতের দিকে সরস্বতীর বাড়ির আনাচে কানাচে ঘোরা শুরু করে। সুবিধে হল, সরস্বতীদের বাড়ি একতলা। চারদিকে বাগান আর গাছগাছালি আছে। পাগল প্রেমিক সেইসব গাছপালার মধ্যে সাপ-খোপ উপেক্ষা করে ঘাপটি মারতে পাগল।

একদিন পড়ার ঘরের জানালা দিয়ে সন্ধেবেলা সরস্বতী লক্ষ করল, জানালার বাইরে পাতিলেবুর গাছটায় হঠাৎ সরসর শব্দ হল।

কে? কে ওখানে? বলে আর্তনাদ করে উঠতেই কে যেন দুড়দাড় দৌড়ে পালায়। লোকটা যে অমলেন্দু তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ ছিল না সরস্বতীর। বাড়ির লোককে সে ভয় পেয়ে সব বলে দেয়।

বোকা ছেলেটা ধরা পড়ল পরদিনই। বাড়ির লোক ওত পেতে ছিল। লেবু গাছের আড়ালে ছায়ামূর্তির আবির্ভাব হতেই টর্চ জ্বলল, লাঠিসোঁটা বেরিয়ে এল।

তারপর কী মার! মাথা ফেটে রক্ত পড়ল, ঠোঁট ফুলে গেল, কোমরে চোট হল। উঠোনে দাঁড়িয়ে এই রঙ্গের দৃশ্যটা লোক দেখল। অমলেন্দু মাটিতে পড়ে থর থর করে কাঁপছে। চোখে পশুর মতো বোবা দৃষ্টি।

সেই দৃশ্য দেখতে শান্তনু ঘোষালকে টেনে আনা হল। ভদ্রলোক ছেলের দশা দেখে কেঁপেকেঁপে অস্থির।

অমলেন্দুর বিরুদ্ধে যে সব নালিশ করা হল তার কোনও জবাব দেওয়ার মতো অবস্থায় ছিলেন না শান্তনু ঘোষাল। তিনি শুধু হাতজোড় করে সকলের কাছে ক্ষমা চাইতে লাগলেন। অমলেন্দুর মুখ থেকে কোনও কথাই বেরোয়নি।

ঘটনার দিন দুই বাদেই ছেলেকে নিয়ে শান্তনু ঘোষাল মধ্যপ্রদেশে চলে গেলেন। ফিরলেন প্রায় মাসখানেক পর। নিজের ছেড়ে আসা কলিয়ারিতে ধরে করে অমলেন্দুকে চাকরিতে ঢুকিয়ে দিয়ে এসেছেন তিনি। ছেলে মুখে চুনকালি মাখিয়েছে বলে গাঁয়েও আর থাকলেন না ভদ্রলোক। শ্বশুরবাড়ি শ্রীরামপুরে বাড়ি কিনে চলে গেলেন।

অমলেন্দু যেদিন মার খায় তার পরদিনও স্কুলে সরস্বতীর সঙ্গে দেখা হল পান্নার। সরস্বতীর মুখচোখ ফুলে আছে কান্নায়। পান্নাকে বলল, জানিস পান্না, আমি কিন্তু সবাইকে বলেছিলাম ওকে মারধর না করতে।

তবে মারল কেন?

বাড়ির লোক সবাই খুব রেগে গিয়েছিল, কেউ কথা শুনল না।

পান্না খুব দুঃখের সঙ্গে বলল, ভালবাসা জিনিসটা খুব সেনসিটিভ, দু-চারটে ধমক বা অপমান করলেই যথেষ্ট হত। কেন যে তোর বাড়ির লোকেরা বাড়াবাড়ি করল!

আমার বুকের ভেতরটা পুডে যাচ্ছে।

এখন আর কী করবি! যা হওয়ার হয়ে গেছে।

সরস্বতীর চোখ ফের ছলছল করে উঠল। বলল, আমি ওকে ভয় পেতাম ঠিকই, কিন্তু দেখলাম ও কিছু খারাপ মানুষ তো নয়।

কী করে বুঝলি?

চুপচাপ মার খেয়ে গেল। প্রতিবাদ করেনি।

এখন কি তোর একটু অনুশোচনা হচ্ছে?

ভীষণ। সবসময়ে মনটা খারাপ লাগছে আর কান্না পাচ্ছে।

ক্ষমা চাইবি ওর কাছে?

ইচ্ছে তো করে। কিন্তু ওরা নিশ্চয়ই এখন আমাকে ভাল চোখে দেখবে না।

তা ঠিক। তাহলে?

তুই একটা কাজ করবি পান্না? আমার হয়ে ওর কাছে যাবি?

গিয়ে?

বলিস আমি ঠিক এরকমটা চাইনি। আমি অত নিষ্ঠুর মেয়ে নই।

বলে কী হবে?

অন্তত জানুক যে, সব দোষ আমার নয়।

তোরই দোষ সরস্বতী। তুই অত ভয় পেতে গেলি কেন? আর কেনই বা বাড়িতে নালিশ করলি? আড়াল থেকে তোকে দেখত। ভাল লাগে বলেই দেখত। সেটা কি খুব বড় অপরাধ?

আর বলিস না। আমার ফের কান্না পাচ্ছে।

পরদিন স্কুলে এসে গোপনে একটা মুখ আঁটা খাম পান্নার হাতে দিয়ে সরস্বতী বলল, তুই এ চিঠিটা ওকে দিস।

কী লিখেছিস চিঠিতে?

যা লেখার লিখেছি।

আমাকে খুলে বল।

লিখেছি আমি ক্ষমা চাই।

আর কিছু?

সরস্বতী মৃদু লাজুক হাসি হেসে বলল, লিখেছি ও যা চায় তাই হবে।

অমলেন্দু কী চায় তা জানিস?

জানব না কেন? আমাকে চায়।

সে তো ঠিক। কিন্তু এখনও চায় কি? এত মারধর অপমানের পরও?

খুব দৃঢ় গলায় সরস্বতী বলেছিল, এখনও চায়।

কী করে বুঝলি?

আমার মন বলছে।

ঠিক আছে, ও যদি তোকে বিয়ে করতে চায়, করবি?

হ্যাঁ। চিঠিতে সে কথাই তো লিখেছি।

তুই তো একদম পালটি খেয়ে গেছিস দেখছি।

হ্যাঁ। ওর জন্য আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।

কিন্তু মনে রাখিস, ওরা বামুন, আর তোরা কায়েত।

তাতে কী?

বিয়ে করতে চাইলে দু পক্ষেরই আপত্তি হবে।

আমি মাকে রাজি করাব। আর আমার বাবা তো নাস্তিক।

চিঠিটা নিয়ে পান্না সত্যিই গিয়েছিল। ছেলেটার সঙ্গে একান্তে একটু কথা বলারও ইচ্ছে ছিল তার। এরকম লাগামছাড়া প্রেম সে বড় একটা দেখেনি।

গিয়ে দেখে সামনের ঘরে স্যুটকেস বিছানা বাঁধা ছাঁদা হচ্ছে সন্ধেবেলা। শান্তনু ঘোষাল তাকে দেখে বললেন, লজ্জায় মুখ দেখাতে পারছি না মা। আমার দুর্ভাগ্য। কী যে সব হল?

পান্না বলল, তেমন কিছু তো হয়নি। ওরা বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে।

না মা, ওরা ঠিক কাজই করেছে। উপযুক্ত হয়েছে।

শান্তনু ঘোষাল বলতে বলতে কেঁদেই ফেললেন। অপমানটা বড্ড লেগেছিল ভদ্রলোকের।

অমলেন্দু পাশের ঘরেই শুয়ে ছিল। কপালে, গালে স্টিকার, মাথায় ব্যান্ডেজ। ঘরে ওর মা আর এক পিসি ছিলেন। তাই একান্তে কথা বলার সুযোগ হল না। তাকে দেখে অমলেন্দু এমন লজ্জা আর সংকোচ বোধ করতে লাগল যে, চোখ তুলে তাকাতেই পারল না।

পান্না বলল, ওরকম লজ্জা পাওয়ার মতো কিছু হয়নি আপনার। যারা এ-কাজ করেছে তারাও অনুতপ্ত। হয়তো ক্ষমা চাইতে আসবে।

অমলেন্দু মুখ ঢাকা দিয়েছিল দু হাতে।

ওর মা বলল, প্রাণটা যে বেঁচেছে সে-ই ঢের। গাঁয়ে এসে থাকার সাধ ঘুচেছে মা।

চিঠিটা অনেকবারের চেষ্টায় ওর হাতে গুঁজে দিয়ে চলে এসেছিল সে।

পরদিন সরস্বতী উন্মাদিনীর মতো তাকে ধরল, দিয়েছিলি চিঠি?

হ্যাঁ। কিন্তু ওরা তো শুনলুম মধ্যপ্রদেশে যাচ্ছে।

সে কী! কেন?

ওরা আর এখানে থাকবে না।

যাঃ, হতেই পারে না। থাকবে না কেন?

ওঁরা খুব অপমানিত বোধ করছে। ভয়ও পাচ্ছে।

থম ধরে রইল সরস্বতী। তারপর পান্নার আঁচল চেপে ধরে পাগলের মতো বলতে লাগল, কেন চলে যাবে? কেন চলে যাবে?

পান্না মৃদু স্বরে বলল, অত উত্তেজিত হচ্ছিস কেন? চিঠিটা তো পেয়েছে। ও যদি সত্যিই তোকে চায় তাহলে ঠিক জবাব দেবে।

সেই জবাবের জন্য দুবছর অপেক্ষা করে আছে সরস্বতী। জবাব আসেনি। হয়তো সরস্বতী ওর ঠিকানায় আরও চিঠি পাঠিয়েছে। কে জানে! কিন্তু জবাব আসেনি।

সরস্বতীকে দেখে আজ সকালটায় তার ভারী ভাল লাগল। বিয়ে হল না, কেউ কাউকে পেল না, কিন্তু ভিতরে ভিতরে টানটা রয়ে গেল। বিরহই ভাল। পান্না উঠে তার প্রেমপত্রের ঝাঁপি নামিয়ে বসল আজ। লেপের তলায় লুকিয়ে পড়তে লাগল।

সকল অধ্যায়
১.
প্রথম অধ্যায়
২.
দ্বিতীয় অধ্যায়
৩.
তৃতীয় অধ্যায়
৪.
চতুর্থ অধ্যায়
৫.
পঞ্চম অধ্যায়
৬.
ষষ্ঠ অধ্যায়
৭.
সপ্তম অধ্যায়
৮.
অষ্টম অধ্যায়
৯.
নবম অধ্যায়
১০.
দশম অধ্যায়
১১.
একাদশ অধ্যায়
১২.
দ্বাদশ অধ্যায়
১৩.
ত্রয়োদশ অধ্যায়
১৪.
চতুর্দশ অধ্যায়
১৫.
পঞ্চদশ অধ্যায়
১৬.
ষোড়শ অধ্যায়
১৭.
সপ্তদশ অধ্যায়
১৮.
অষ্টাদশ অধ্যায়
১৯.
ঊনবিংশ অধ্যায়
২০.
বিংশ অধ্যায়
২১.
একবিংশ অধ্যায়
২২.
দ্বাবিংশ অধ্যায়
২৩.
ত্রয়োবিংশ অধ্যায়
২৪.
চতুর্বিংশ অধ্যায়
২৫.
পঞ্চবিংশ অধ্যায়
২৬.
ষড়বিংশ অধ্যায়
২৭.
সপ্তবিংশ অধ্যায়
২৮.
অষ্টাবিংশ অধ্যায়
২৯.
ঊনত্রিংশ অধ্যায়
৩০.
ত্রিংশ অধ্যায়
৩১.
একত্রিংশ অধ্যায়
৩২.
দ্বাত্রিংশ অধ্যায়
৩৩.
ত্রয়োত্রিংশ অধ্যায়
৩৪.
চতুর্ত্রিংশ অধ্যায়
৩৫.
পঞ্চত্রিংশ অধ্যায়
৩৬.
ষট্ত্রিংশ অধ্যায়
৩৭.
সপ্তত্রিংশ অধ্যায়
৩৮.
অষ্টত্রিংশ অধ্যায়
৩৯.
ঊনচল্লিশ অধ্যায়
৪০.
চল্লিশ অধ্যায়
৪১.
একচল্লিশ অধ্যায়
৪২.
দ্বিচল্লিশ অধ্যায়
৪৩.
ত্রিচল্লিশ অধ্যায়
৪৪.
চতুর্চল্লিশ অধ্যায়
৪৫.
পঞ্চচল্লিশ অধ্যায়
৪৬.
ষট্চল্লিশ অধ্যায়
৪৭.
সপ্তচল্লিশ অধ্যায়
৪৮.
অষ্টচল্লিশ অধ্যায়
৪৯.
ঊনপঞ্চাশ অধ্যায়
৫০.
পঞ্চাশ অধ্যায়
৫১.
একান্ন অধ্যায়
৫২.
বায়ান্ন অধ্যায়
৫৩.
তিপ্পান্ন অধ্যায়
৫৪.
চুয়ান্ন অধ্যায়
৫৫.
পঞ্চান্ন অধ্যায়
৫৬.
ছাপ্পান্ন অধ্যায়
৫৭.
সাতান্ন অধ্যায়
৫৮.
আটান্ন অধ্যায়
৫৯.
ঊনষাট অধ্যায়
৬০.
ষাট অধ্যায়
৬১.
একষট্টি অধ্যায়
৬২.
বাষট্টি অধ্যায়
৬৩.
তেষট্টি অধ্যায়
৬৪.
চৌষট্টি অধ্যায়
৬৫.
পঁয়সট্টি অধ্যায়
৬৬.
ছেষট্টি অধ্যায়
৬৭.
সাতষট্টি অধ্যায়
৬৮.
আটষট্টি অধ্যায়
৬৯.
ঊনসত্তর অধ্যায়
৭০.
সত্তর অধ্যায়
৭১.
একাত্তর অধ্যায়
৭২.
বাহাত্তর অধ্যায়
৭৩.
তিয়াত্তর অধ্যায়
৭৪.
চুয়াত্তর অধ্যায়
৭৫.
পঁচাত্তর অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%