একচল্লিশ অধ্যায়

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

একচল্লিশ

ন্যাড়ামাথা ব্রাহ্মণটি ধীরে ধীরে উঠে আসছেন। সর্ব অঙ্গে ব্রহ্মচর্যের দীপ্তি। অঙ্গজ্যোতিতে চারদিক রাঙা হয়ে যাচ্ছে ক্রমে। চারদিকে তার অভ্যর্থনা। পাখি ডাকে, গাছপালাতেও নীরব কোলাহল ওঠে যেন। মাটি থেকে আকাশের মধ্যবর্তী যা-কিছু সকলকেই যেন স্পর্শ করে সেই আলোর শিহরন।

সূর্যকে কেন ব্রাহ্মণ বলে মনে হয় বলাকার কে জানে। রোজ সকালে সে গৌরহরির পাশে দাঁড়িয়ে সূর্যকে প্রণাম করত। আজও করে। এক দীপ্ত ব্রাহ্মণকেই যেন নিবেদিত হয় সেই প্রণাম। পুবের জানালায় দাঁড়িয়ে সে কিছুক্ষণ সম্মোহিত চোখে চেয়ে থাকে মুণ্ডিত মস্তকটির দিকে। এই সময়টায় বড় পবিত্র মনে হয় নিজেকে। তারও হয়তো তেমন কোনও কারণ নেই। হয়তো সবই কল্পনা করে নেওয়া, ধরে নেওয়া। তা হোক, তবু এইটুকুই তার লাভ।

আজকাল বলাকার নানা প্রশ্ন ওঠে মনের মধ্যে। তার মধ্যে একটা হল ভগবান। ভগবান বলে কেউ কি আছে? থাকলে কেমন দেখতে? ভগবানকে দিয়ে কী হয় মানুষের? কত মানুষ তো ভগবান-টগবান না মেনেও দিব্যি হেসেখেলে বেড়াচ্ছে। তাহলে কি সকলের ভগবান দরকার হয় না? না মানলেও চলে?

গৌরহরি সন্ধ্যাআহ্নিক নিয়মিত করত। কখনও ভুল হত না। প্রায় সময়েই গীতা খুলে বসত। গুরুগম্ভীর গলা আর চমৎকার উচ্চারণে একটু সুরের ওপর যখন পাঠ করত তখন যেন বাড়িটায় একটা ঢেউ খেলে যেত।

একবার এক ঘোর নাস্তিক মক্কেল গৌরহরিকে প্রশ্ন করেছিল, আচ্ছা চাটুজ্জেমশাই, আপনি তো একজন শক্ত মনের মানুষ, প্রবল আপনার পারসোনালিটি, টাকাপয়সা, স্বাস্থ্য, সম্পদ সব আপনার আছে। তার ওপর আবার ঈশ্বরবিশ্বাসের দরকার কী? ঈশ্বরবিশ্বাস তো ধান্দাবাজি। ভগবানকে পটিয়ে-পাটিয়ে নিজেরটা গুছিয়ে নেওয়ার জন্য মতলববাজরা ওসব করে।

গৌরহরি বিন্দুমাত্র উত্তেজিত না হয়ে মিটিমিটি হেসে বলেছিল, ওরে বাবা, নাস্তিক হওয়া যে খুব কঠিন কাজ।

কেন মশাই, কঠিনটা কীসের? বিশ্বাস না করলেই হয়।

সে তোমার মতো মুখ্যুর হয়। ভাল নাস্তিক হতে গেলে মহাজ্ঞানী হওয়া লাগে। বিজ্ঞান, দর্শন, শাস্ত্র, তপস্যা সব গুলে না খেলে কি নাস্তিক্য দাঁড়ায়? সবটা জেনে বুঝে তবে বুক ফুলিয়ে বলতে পারা যায়, ওহে বাপু, আমি সাধনা-টাধনা সব করে দেখেছি, কিচ্ছু নেই। বুঝলে মক্কেল, নাস্তিক হওয়া বিস্তর ঝঞ্ঝাটের ব্যাপার। তার চেয়ে আস্তিক হওয়া সোজা।

আপনি কি সেই জন্যই আস্তিক?

সেই মিটিমিটি হাসি হেসেই গৌরহরি বলল, আমি কেন আস্তিক তা আমি জানি। কিন্তু বাপু, তুমি কেন নাস্তিক তা কি তুমি জানো? ভগবান আছে, এ বিশ্বাস যদি হাইপথেটিক্যাল হয় তাহলে ভগবান নেই, এই বিশ্বাসও হাইপথেটিক্যাল। সুতরাং লড়াই ছেড়ে মামলার কথায় এসো, তাতে সময় কম নষ্ট হবে।

মক্কেল চুপসে গিয়েছিল।

কিন্তু আজকাল বলাকারও ওরকম সব বিপজ্জনক কথা মাথায় আসে। গৌরহরি কাছে থাকতে এসব প্রশ্ন মনে উদয় হত না। আজকাল হয়। একদিন তো স্বপ্ন দেখল, গৌরহরি শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্ম হাতে দাঁড়িয়ে আছে সামনে।

হ্যাঁ গা তুমি নাকি নারায়ণ! ও মা! টের পাইনি তো কোনওদিন।

গৌরহরি মিটিমিটি হেসে বলল, টের পাবে কী করে? কাছে পেলে কি আর টের পাওয়া যায়? যদি পাওয়ার জন্য কষ্ট করতে হত তাহলে ঠিক টের পেতে!

তা এখন কী করব তোমাকে? পুজো করব?

ভালবেসো, তাতেই হবে।

ভালবাসার কথা আর বোলো না। ভালবেসেই তো মরেছি। তুমিও গেলে আর আমারও যেন অর্ধেক প্রাণবায়ু বেরিয়ে গেল। আরও ভাল কী করে বাসা যায় বল তো?

তা বটে। তোমার আমার ভালবাসার কথা সবাই বলে। কত কষ্ট দিয়েছি তোমাকে, কোনওদিন রাগ করলে না আমার ওপর।

কষ্ট! কষ্ট বলে বুঝতেই পারলুম না তো কখনও। তোমার মুখখানা খুশি দেখলেই বুক ভরে যেত। আর তুমিও কি কম কষ্ট করেছ আমার জন্য? সেই টাইফয়েডের কথা মনে নেই? তখন আমার এগারো-বারো বছর বয়স। শ্বশুর-শাশুড়ি দেওর-ননদ সব দল বেঁধে তীর্থ করতে গেছে। ফাঁকা বাড়িতে রুগি আগলে শুধু তুমি। ঘণ্টায় ঘণ্টায় দাস্ত হচ্ছে, এলিয়ে পড়ছি, তখন কম করেছ তুমি? কোলে করে পায়খানায় নিয়ে গেছ। পথ্যি বেঁধে খাইয়েছ। মাথার কাছে ঠিক বাবার মতো বসে থেকেছ দিন রাত।

ও কিছু নয়। আমি ছাড়া তোমাকে দেখার তো কেউ ছিল না।

অন্য কেউ হলে বউকে তার বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দিত, নইলে শাশুড়িকে এনে সেবার কাজে বহাল করত। তাই তো নিয়ম। পুরুষেরা তো ওরকমই হয়। তুমি তো তা করোনি। হ্যাঁ গা, কেন করেছিলে আমার জন্য অত কষ্ট?

দুর! আমার তো কষ্ট বলে মনেই হয়নি।

আমার খুব ইচ্ছে হয় ফের সেই সময়টায় ফিরে যাই। ফের আমার টাইফয়েড হোক আর শিয়রে তোমার মুখখানা জ্বলজ্বল করুক। জ্বরের ঘোরে মাঝে মাঝে চেয়ে তখন তোমাকে দেখতুম, আর ভারী নিশ্চিন্ত লাগত। তখন তো আমার একটুখানি বয়স, গা থেকে বাপের বাড়ির গন্ধ যায়নি, তবু মা নয়, বাবা নয়, তখন দিনরাত শুধু তোমাকেই চাইতুম।

মিটিমিটি হাসছিল গৌরহরি, বলাই, তুমি নাকি সহমরণে যেতে চেয়েছিলে আমার সঙ্গে!

চেয়েছিলুম তো। মনেপ্রাণে চেয়েছিলুম।

কেন বলাই, আমার সঙ্গে মরতে চেয়েছিলে কেন?

এখনই কি বেঁচে আছি! কবে মরব, কবে তোমার কাছে যাব শুধু সে কথাই ভাবি।

মরার কথা ভাবতে নেই বলাই। ভগবানের দেওয়া জীবন, তাঁর কাজ করতেই তো আমরা আসি।

আমার ভগবানও যেন তোমার সঙ্গেই ছেড়ে গেছে আমাকে। মাঝে মাঝে ভাবি, বোধহয় আমার ভগবান তোমার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল। তাই কি আজ অমন নারায়ণের মতো দেখছি তোমাকে! হ্যাঁ গা, সত্যি তুমি ভগবান?

এক হিসেবে আমরা সবাই ভগবান। কম বেশি। তুমি তো দেখতে পাও না, তোমার মধ্যে আমি কতবার ভগবতীকে দেখেছি।

যাঃ, কী যে বলো। আমি পাপিষ্ঠা মেয়েমানুষ।

যার অত স্বামীর ওপর টান, পাপ তার ধারেকাছে ঘেঁষতে পারে না যে। বলাই, তুমি জানো না, বেঁচে থাকতে তোমাকে আমার কতবার প্রণাম করতে ইচ্ছে হয়েছে।

ও মা গো! ওসব কথা বলতে আছে? আমার পাপ হয় না ওতে?

তখন আমার মক্কেল জুটত না। কোর্টে যাই আসি, দু-চার টাকার বেশি আয় হত না দিনে। আমার বোন পুঁটির বিয়ে ঠিক হল। বাবা আমার কাছে দশ হাজার টাকা চেয়েছিল। মনে আছে?

থাকবে না কেন?

মুখ শুকনো করে বসেছিলুম একদিন, তুমি তোমার সব গয়না বের করে দিয়েছিলে। সিনেমায় ওসব দেখা যায় বা শরৎচন্দ্রের নবেলে। বাস্তবে তো হয় না। সেদিন তোমাকে আমার প্রথম প্রণাম করতে ইচ্ছে হয়েছিল।

আহা, ভারী তো গয়না। তার দশগুণ তুমি আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছ। সেই গয়নাই বা কোন কাজে লাগল বলো! দু হাতে বিলিয়ে দিলুম তো। ওসব বলে আর আমার পাপের বোঝা বাড়িও না।

শুধু গয়নাই তো নয় বলাই, সে সময়ে তোমার মুখে যে অহংকার দেখেছি তার দাম দিই কী করে? স্বামীর গর্বে তোমার বুকখানা তখন ঝকঝক করছে, মুখে উপচে পড়ছে খুশি। অবাক হয়ে ভেবেছি সব গয়না দিয়ে দিচ্ছে, তবু ও এত খুশি কেন? এত আনন্দ কেন ওর চোখে মুখে? ভেবে কূল পাইনি। তখন কী করেছিলুম মনে আছে?

উঃ মা গো! ফের লজ্জা দিচ্ছ আমায়।

মনে নেই?

কেন থাকবে না? ভাবলে আজও শরীর শিউরে ওঠে। বুকে জড়িয়ে ধরে—ইস—

কতক্ষণ ধরে যে আদর করেছিলুম তোমায়। আদর যেন আর ফুরোয় না। আর সেই আদরের ভিতর দিয়েই বুঝি পারুল এল তোমার পেটে। তাই ভারী সুন্দর হল মেয়েটা।

হ্যাঁ গো, ঠিক তাই।

জানালার কাছে দাঁড়িয়ে সূর্য প্রণামের পর নিঝুম হয়ে বলাকা প্রত্যক্ষ করছিল এইসব দৃশ্য। গায়ে শীতের কাঁটার মতো রোমাঞ্চ। মানুষটা নেই, না থেকেও কী ভীষণ জীবন্ত হয়ে আছে।

মা!

বলাকা ফিরে তাকায়।

ও মা, তোমার চোখে জল কেন? কাঁদছিলে নাকি?

লজ্জা পেয়ে বলাকা আঁচলে চোখ মুছে একটু হেসে বলে, দুঃখের কান্না নয় রে, পুরনো কথা মাঝে মাঝে বড্ড মনে পড়ে যায় তো।

পারুল হেসে বলে, মাঝে মাঝে নয় মা, তুমি এখনও পুরনো কালেই রয়েছ যে! তোমাকে আর আমাদের এই সময়ে টেনে আনতে পারলাম কই!

পুরনো নতুন কোনওটাকে বাদ দিয়ে কি এই বেঁচে থাকা! জীবনটা তো কোনওটাকে বাদ দিয়ে নয়। যে ভুলে যায় সে অভাগা। হ্যাঁ রে, কাল রাত থেকে তো তোর উপোস চলছে। এভাবে কি চলে?

কী করব বলো! খাওয়ার কথা ভাবতেই যে অরুচি। খাবারের গন্ধে পা গুলোয়।

এ সময়টায় অখাদ্য-কুখাদ্য খেতে ইচ্ছে যায়। তা অখাদ্যই বা কী দি-ই তোকে। চালভাজা খাবি?

ম্যা গো।

রোজ রাতে বমি হচ্ছে, এসব তো ভাল নয়। চেহারাটা তো সিঁটকে মেরে গেছে। অমন রূপ যেন কালিঢালা।

জামশেদপুরে গেলে হয়তো এটা কেটে যাবে। তোমার জামাই তো কাল আসছে নিয়ে যেতে। তোমার মন খারাপ হচ্ছে না মা?

ওমা! তা আর হবে না। কটা দিন কাছে ছিলি, ভরে ছিলুম।

মোটেই তোমার মন খারাপ হচ্ছে না।

তাই বুঝি?

একাই তুমি ভাল থাকো, আমি জানি।

খুব বুঝেছ মা! একা যেন তোকে থাকতে না হয়, থাকলে বুঝতিস।

তাহলে চলো না আমাদের সঙ্গে। তোমার জামাই ভাল গাড়ি নিয়ে আসছে। দামি এ সি গাড়ি। ঝাঁকুনি-টাকুনি লাগবে না। বাড়ির দরজায় চাপবে, একদম জামশেদপুরের বাড়িতে গিয়ে নামবে।

প্রস্তাব তো আর খারাপ নয়। কিন্তু তোর বাবা যে-গন্ধমাদন আমার মাথায় চাপিয়ে গেছে তা কি আর ঝেড়ে ফেলে যেতে পারি। বিষয়- আশয় দিয়ে বেঁধে রেখে গেছে। কিন্তু এসব খেলনাপাতি কি আর ভাল লাগে বল!

পারুল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। মাকে আর নড়ানো যাবে না এখান থেকে, সে জানে। বিষয়-আশয় নয়, এখানে তার বাবার স্পর্শ আর গন্ধ আজও পায় তার মা। লোকটা বেঁচে নেই, তবু কী ভীষণ বেঁচে আছে।

শাঁকালু নেই মা?

বাগানে আছে বোধহয়। কেন, খাবি?

চেষ্টা করে দেখতে পারি।

দাঁড়া, দুখুরিকে বলি, এনে দেবে।

বেলার দিকে ভটভটি চেপে বিজু যখন এল, তখন নীচের বড় ঘরের চওড়া বারান্দায় রোদে বসে শাঁকালু চিবোচ্ছে পারুল। মুখ বেঁকিয়ে বলল, কী খাচ্ছ? শাঁকালু! দুর, ও কি মানুষে খায়?

পারুল হেসে বলল, তবে কি গোরুতে খায়?

তোমার কী হয়েছে বলো তো, ফের ডায়েটিং করছ নাকি? অমন ডিহাইড্রেটেড চেহারা করেছ কেন?

ছোট ভাই, তাকে তো আর বলা যায় না কিছু। পারুল বলল, রোগা হওয়া কি খারাপ?

তা বলে এত রোগা! বাঁশপাতার মতো হয়ে যাচ্ছ যে!

মোটরবাইকটা স্ট্যান্ডে দাঁড় করিয়ে সিঁড়িতে এসে বসল বিজু।

তোর প্র্যাকটিস এখন কেমন রে?

খারাপ নয়। তবে সেটা আমার গুণে তো নয়।

তবে কার গুণে?

জ্যাঠামশাই আমাকে ল পড়তে বলেছিলেন। পাস করার পর জুনিয়র করে নেন। তাঁর মক্কেলগুলোই পেয়ে গেছি। বেশি কষ্ট করতে হয়নি।

তোকে দেখে তো ফচ্কে ছোঁড়া মনে হয়। মক্কেলরা তোকে বিশ্বাস করে?

যখন উকিলের ধরাচুড়ো পরে বেরোই তখন তো দেখনি। রীতিমতো গুরুগম্ভীর চেহারা তখন। জজরা পর্যন্ত সমীহ করে।

ইস রে! একদিন দেখাস তো পোশাক পরে। দেখব কেমন গুরুগম্ভীর।

এখন তো কোর্ট বন্ধ। পুজোর ছুটি ফুরোয়নি। না হলে দেখাতাম।

বিটনুনের টাকনা দিয়ে একটা-দুটো শাঁকালুর টুকরো খেতেও যেন কত পরিশ্রম হচ্ছে পারুলের। পেটের নতুন অতিথির সঙ্গে মনে মনে অনেক ঝগড়া করে পারুল। কেন রে দুষ্ট, মাকে এত কষ্ট দিস? লক্ষ্মী ছেলের মতো থাক না চুপটি করে।

আবার ভাবে, এই কষ্টটুকুর মধ্যেও তো সুখ আছে। একটা শরীরের মধ্যে আর একটা শরীর জন্মাচ্ছে, বাড়ছে, সোজা কথা? এই আশ্চর্য ঘটনা তো সাদামাটাভাবে ঘটা উচিত নয়। যে আসছে সে জানান দিচ্ছে, করাঘাত করছে দরজায়।

কাল রাতে অমলদাকে দেখলাম, বুঝলে পারুলদি?

অবাক হয়ে পারুল বলে, অমলদা! আবার এসেছে বুঝি?

হ্যাঁ। বেশ রোগা হয়ে গেছে। মাধবের ওষুধের দোকানে দেখা। প্রথমটায় আমাকে চিনতেই পারল না, কেমন ভ্যাবলার মতো চেয়ে রইল। কী যে হয়েছে লোকটার কে জানে!

পারুল বলল, বোধহয় বউয়ের সঙ্গে ঝগড়া।

তাই হবে হয়তো। আমার কী মনে হয় জানো?

কী?

লোকটা দুম করে মরে-টরে না যায়। সুইসাইডাল টেন্ডেন্সি বলেই কেন যেন সন্দেহ হচ্ছে।

চমকে উঠে পারুল বলে, ওমা! সে কী রে?

কাল কথা বলতে বলতে অনেকক্ষণ হাঁটলাম একসঙ্গে। কী বলছিল জানো?

কী?

বলল, আমি কেন এসেছি জানো? নিজেকে খুঁজতে। এই যে এইসব মাঠঘাট, এই যে গাছপালা, এর মধ্যেই আমি যেন ছড়িয়ে রয়েছি। বুঝলে, সময় বলে কিছু নেই। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব কিছু ঘটে আছে। একদিন ঠিক আমার সঙ্গে আমার দেখা হয়ে যাবে। শুনে তো আমি হাঁ। লোকটা কি শেষে পেগলে গেল নাকি পারুলদি?

পারুল স্তব্ধ হয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপর বলল, এরকম অবস্থা হয়েছে বুঝি? জানতাম না তো?

আমাকে পেয়ে আর ছাড়তেই চায় না। হেঁটে হেঁটে আমার বাড়ি অবধি গেল। চা খেল। মায়ের সঙ্গে গল্প করল।

তখন পাগলামির লক্ষণ কিছু দেখলি?

না। মাঝে মাঝে নরমাল, কিন্তু মাঝে মাঝেই অন্যমনস্ক চোখে কেমন যেন উদাস ভাব, যেন কাউকেই চিনতে পারছে না। পরনে একটা আধময়লা পায়জামা, গায়ে হলদে রঙের একটা দোমড়ানো পাঞ্জাবি, তার ওপর খয়েরি সোয়েটার। শীতে জড়সড়। বললাম, গ্রামে বড্ড শীত, গায়ে চাদর দেননি কেন? জবাবে বলল, চাদর! ও হ্যাঁ একটা চাদরও তো গায়ে দেওয়া যেত। খেয়ালই হয়নি।

মুখে মদের গন্ধ পাসনি?

না।

একটা শ্বাস ফেলে পারুল বলল, পাগলামি নয়। অনেক রকমের অবসেশনে ভুগছে।

ওরকম একটা ব্রাইট লোক কেমন হয়ে গেল বল তো!

পারুলের জিভে শাঁকালু আরও বিস্বাদ ঠেকছিল। দুর্বল গলায় সে বলল, সেটাই তো ভাবছি, বোধহয় অত ব্রাইট হওয়ার দরকার ছিল না ওর। সাদামাটা হলে বেঁচে যেত।

অনেকে বলে, তোমার জন্যই নাকি অমলদা ওরকম হয়ে গেছে। সত্যি পারুলদি? এ আমলে তো ওরকম প্রেম দেখি না আমরা।

পারুল লজ্জা পেয়ে বলে, দুর পাগলা! সেসব কত দিনের কথা! এতদিন কেউ এসব মনে পুষে রাখতে পারে নাকি? কত মৃত্যুশোকও ভুলতে হয় মানুষকে, আর এ তো প্রেমশোক!

প্রেমশোক! এটা কি বানালে নাকি?

মনে হল, তাই বললাম। না রে, আমার জন্য নয়। অমলদার অনেক গার্লফ্রেন্ড ছিল শহরে গঞ্জে। পারুলকে ভুলতে ওর সময় লাগেনি। অমলদার প্রবলেম প্রেম-ট্রেম থেকে নয়। হয়তো ফ্যামিলি বা ক্যারিয়ারে কিছু গণ্ডগোল আছে।

কিংবা জিন! এসব তো জেনেটিক ব্যাপারও হতে পারে।

ওসব আমি জানি না বাপু।

লোকটার জন্য ভারী কষ্ট হল। একসময়ে লোকটাকে খুব ডাঁটে ঘুরে বেড়াতে দেখেছি। এখন একদম জবুথবু। এই লোকটাই যে সেই লোকটা তা মনে হয় না। অমলদা যে নিজেকে খুঁজে বেড়াচ্ছে সেটা বোধহয় সত্যি। সেই অমলদা তো এ নয়।

অত ভাবিস না। যে যেরকম কপাল করে আসে তার তো তাই হবে।

কপাল! তাই হবে। আমি তো কপাল মানি না। লোকটার সব থেকেও কিছু নেই কেন সেটাই ভাবছি।

তুই কমিউনিস্ট, না?

এক সময় ছিলাম।

এখন নোস?

দুর। সাচ্চা কমিউনিস্ট হওয়া কি সোজা কথা? যখন দেখলাম আমাকে ক্যারিয়ার-ট্যারিয়ারের পিছনে ছুটতে হবে, টাকা কামাতে হবে, সংসার প্রতিপালন করতে হবে তখনই কমিউনিজমকে নমস্কার করে পাশ কাটিয়ে এসেছি। পিছুটান থাকলে ওসব হয় না। সব ছেড়ে আদাজল খেয়ে লাগতে হয়। হাফ কমিউনিস্ট হয়ে লাভ নেই।

দুপুরে মা আজ নিজে রাঁধল। গোলমরিচ আর মাখন দিয়ে আলুমরিচ, সঙ্গে কলাইয়ের ডাল আর এক বাঙাল বাড়ি থেকে রাঁধিয়ে আনা শুঁটকি মাছ।

খেতে বসিয়ে বলল, আজ অখাদ্যই দিয়েছি মা। মুখে দিয়ে দেখ, দুটি খেতে পার কি না। নইলে অনল ডাক্তারকে ডাকতে হবে।

পারুল আজ খেতে পারল। এবং খাওয়ার পর বমিও পেল না। বলাকা ছাঁচি পান সেজে রেখেছিল, বমি পেলে দেবে। তার দরকার হয়নি। দুপুরে লেপমুড়ি দিয়ে কিছুক্ষণ ঘুমিয়েও নিল পারুল।

বিকেলে শরীর ঝরঝরে লাগছিল যেন। দুর্বল, তবে সাংঘাতিক কিছু নয়।

সন্ধেবেলা শরীরটা ভাল থাকায় ছেলে আর মেয়েকে নিয়ে পড়াতে বসেছিল পারুল।

হঠাৎ কেমন একটা সূক্ষ্ম অস্বস্তি বোধ করছিল পারুল। স্পষ্ট কিছু নয়, কেমন একটা ভয়-ভয়, ছমছম অনুভূতি। শীত পড়লেও বাগানের দিকটায় পুবের জানালার একটা পাল্লা খুলে রাখে পারুল। সব বন্ধ থাকলে তার মাথা ঝিমঝিম করে। খোলা পাল্লার ওপাশে অন্ধকার বাগান। সেই দিকে চেয়ে পারুল কিছুক্ষণ আনমনা রইল। অস্বস্তিটা কীসের তা বুঝতে পারল না। পেটে বাচ্চা আসায় যে নানা রকম বৈজ্ঞানিক পরিবর্তন হয়েছে তার শরীরে এটাও কি তাই?

তার ছেলেমেয়ে দুটিই লক্ষ্মী। মাথাও পরিষ্কার। ওরা নিজেরাই পড়ে, নিজেরাই বোঝে। মা কাছে থাকলে একটু খুশি হয় ঠিকই, কিন্তু পারুল ওদের পড়ায় না। পড়ানোর দরকার হয় না বলে। সময় পেলে শুধু কাছে বসে থাকে। এ দুজন লক্ষ্মী ঠিকই, কিন্তু পেটে যেটা এসেছে সেটা যে দস্যি হবে তাতে পারুলের সন্দেহ নেই। খুব দস্যি হবে, এই বয়সে পারুলকে ছুটিয়ে মারবে, হয়রান করে দেবে। ভেবে গায়ে কাঁটা দেয় পারুলের। ভয়ও পেটেরটাকে নিয়েই। এ সময়ে খারাপ হাওয়া-বাতাস লাগাতে নেই। গাঁয়ে খারাপ হাওয়া-বাতাসের কথা খুব শোনা যায়। খারাপ আত্মা তো কম নেই। তারাই খারাপ নজর দেয়। এসব এমনিতে বিশ্বাস করে না পারুল। কিন্তু এখন এক অপার্থিব মায়ায় আচ্ছন্ন মন বড্ড নরম আর দুর্বল। এখন কেবলই ভয়, কেবলই অমঙ্গলের ছায়া।

উঠে গিয়ে জানালার খোলা কপাটটা বন্ধ করে দিল পারুল। জানালার ওপাশের গাঢ় অন্ধকারটাকে ভাল লাগছে না তার।

জানালা বন্ধ হল, তবু অস্বস্তিটা গেল না পারুলের। অনেকদিন আগে কুমারী অবস্থায় তার এরকম অনুভূতি কখনও কখনও হত। তখন ঠিক বুঝতে পারত, আড়াল থেকে কেউ তাকে দেখছে।

রোজ স্কুলে যাওয়ার পথে বসাক-বাড়ির ধার দিয়ে যাওয়ার সময় এরকম হত। পরে ধরা পড়েছিল সুধীর বসাকের ছোট ছেলে পল্টু রোজ জানালার আড়াল থেকে দেখত তাকে।

কিন্তু এখন তাকে কে দেখবে? সে দুই ছেলেমেয়ের মা, পেটে আরও একটা। চল্লিশের কাছাকাছি বয়স। তবু এরকম হচ্ছে কেন?

লোডশেডিং-এর জ্বালায় এখানে সন্ধের পরই হাতের কাছে টর্চ রাখে পারুল। এ-বাড়িতে উঁচু উঁচু চৌকাঠ, জিনিসপত্রে আর ভারী ভারী আসবাবে ঠাসা সব ঘর। অন্ধকারে কোথায় হোঁচট খায়, কোথায় ধাক্কা লাগে সেই ভয়ে মা বলেছে সঙ্গে সবসময় টর্চ রাখতে।

টর্চটা নিয়ে উঠল পারুল।

মেয়ে মুখ ফিরিয়ে জিজ্ঞেস করল, কোথায় যাচ্ছ মা?

বারান্দায়। এখনই আসছি।

একতলার অন্ধকার বারান্দায় পারুল চুপ করে টর্চ না জ্বেলে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। না, ভুল নেই। অস্বস্তিটা হচ্ছে। খুব সূক্ষ্ম, খুব মৃদু, কিন্তু বিভ্রম নয়।

বারান্দার ধারে এসে পট করে টর্চটা জ্বেলে বাগানের দিকে ফেলল পারুল। শীতে গাছপালা মরে এসেছে একটু। এখন আর নিবিড় নয় গাছপালা। আলোটা অবধি দেখা যায়।

কাউকে দেখা গেল না অবশ্য।

পারুল ভ্রূ কুঁচকে চেয়ে রইল। তারপর টর্চের আলো ফেলল চারদিকে। কাউকে দেখা গেল না।

ঘরের দিকে ফিরে পা বাড়াতেই হঠাৎ মৃদু একটা কাশির শব্দ পেয়ে দাঁড়াল পারুল।

কে? কে ওখানে?

আমি পারুল।

টর্চটা জ্বেলে পারুল দেখল বাগানের বেড়ার ধারে ঝুপসি বাবলা গাছটার পাশে একজন দাঁড়িয়ে।

কে?

আমি অমল।

পারুল ভারী অবাক হয়ে বলে, অমলদা! তুমি ওখানে কী করছ?

অমল খুব ধীর পায়ে এগিয়ে এল। ভারী করুণ মুখে বলল, কিছু করছি না পারুল। এমনি ঘুরে ঘুরে জায়গাটা দেখছি।

ঘুরে দেখছ! আচ্ছা মানুষ যা হোক! এই শীতে, অন্ধকার রাতে কেউ ঘুরতে বেরোয় বুঝি?

আমাকে দেখে ভয় পাওনি তো!

ভয় পাওয়ার দোষ কী? ওখানে দাঁড়িয়েছিলে কেন? ঘরে আসতে পারতে তো!

অমল উঠোনে বারান্দার নীচে এসে দাঁড়াল। মুখে ম্লান একটু হাসি। বলল, আজকাল আমার কেমন মনে হয়, আমাকে কেউ পছন্দ করে না। কারও কাছে গেলে সে বিরক্ত হয়।

যাঃ, ওসব তোমার মনের ভুল। এসো, ঘরে এসো।

আসব?

আসতে বাধা কীসের? এসো, গরম কফি খাও এক কাপ। চেহারার অমন ছিরি হয়েছে কেন?

অমলের গালে কয়েকদিনের দাড়ি, চুল বড় হয়েছে এবং ঝাঁকড়া হয়ে আছে। পরনে পাজামা, পাঞ্জাবি আর একটা হাতকাটা সোয়েটার। বিজু যেমন বলেছিল ঠিক তেমনি। টর্চের আলোয় তেমন বোঝা গেল না, তবে মনে হল চোখের দৃষ্টিও কেমন ঘোলাটে।

এই লোকটাকে একদিন ভালবাসত পারুল। সেই ভালবাসা এখন আর নেই। কিন্তু মায়া তো আছে। কষ্ট তো আছে।

এই ভীষণ শীতে এ কী পোশাক তোমার অমলদা? শীত করছে না?

শীত! হ্যাঁ, শীত করে খুব। আমার রক্তের জোরও তো কমে আসছে।

তাহলে গরম চাদর বা ফুলহাতা সোয়েটার পরোনি কেন?

খেয়াল থাকে না।

ইস! আবার পায়ে চটি! পায়েই সবচেয়ে বেশি শীত লাগে, জানো না?

বললাম তো, ওসব খেয়ালই থাকে না।

খেয়াল কর না কেন? এত অন্যমনস্কতা কীসের?

অমল লাজুক ভঙ্গিতে মাথা নামিয়ে একটু হাসল।

এসো, ঘরে এসো।

পড়ার ঘরের পাশের ঘরটিতে এনে অমলকে বসাল পারুল।

কী হয়েছে তোমার বল তো। এই তো দশ-বারো দিন আগে কলকাতায় গেলে, আবার আসতে হল কেন?

অমল মাথা নেড়ে বলে, ভাল লাগছে না। কিছু ভাল লাগছে না।

বউয়ের সঙ্গে ঝগড়া করে আসনি তো? পুরুষদের বীরত্ব দেখানোর তো ওই একটাই জায়গা।

ঝগড়া! না পারুল, আমি ঝগড়া করতে পারি না। ইচ্ছেও হয় না।

তাহলে কী হল?

মন ভাল লাগছিল না। কেবল মনে হচ্ছে, সব ভুলভাল কাজ করছি। কিছু মনে থাকছে না, সবসময়ে আবোলতাবোল কী যেন সব ভাবছি। আজকাল ভীষণ ভীষণ ভয়ের স্বপ্ন দেখি।

ডাক্তার দেখাও না কেন?

সাইকিয়াট্রিস্ট?

তাই দেখাও।

অমল একটু চুপ করে থেকে বলল, এক সময়ে তাও দেখিয়েছি। ওষুধ খেয়েছি, তাতে ফল ভাল হয়নি। আমার সমস্যাটা বোধহয় মনোরোগ বা পাগলামি নয়। তা হলে কাজ হত।

লোকে কী বলে জান?

কী বলে?

আমি অবশ্য বিশ্বাস করি না। কিন্তু কারও কারও ধারণা আমার জন্যই তুমি এমন হয়ে যাচ্ছ। শুনলে আমি কষ্ট পাই, তা জানো?

এ কথাটা আগেও বলেছ পারুল। কিন্তু একজন মানুষের কাছে নশ্বর এক নারীই তো সর্বস্ব হতে পারে না। পারে কি?

কোনও কোনও মানুষের কাছে হতেও পারে।

অমল মাথা নেড়ে বলে, তুমি আমার কাছে অন্য রকম। হারিয়ে যাওয়া প্রেমিকা তো তুমি নও।

ওটা তোমার আর একটা পাগলামি। আমাকে দেবী বানিয়ে কী মজা পাও বল তো!

তোমার কথা থাক পারুল। তোমাকে নিয়ে তোমার সঙ্গে আলোচনা করার অর্থই হয় না।

বেশ তো! তোমার এ দশা কেন সেইটেই বলো।

আমার মনে হয় এতকাল যে অমল বেঁচে আছে সে ভুল অমল। ভুল তার মেধা, তার লেখাপড়া, তার চাকরি, তার বিয়ে। সব ভুল, ওটা আসল আমি নয়।

ওমা! সে কী কথা?

আমি আমার আসল আমিকে খুঁজে বেড়াই পারুল। তোমার কাছে পাগলামি মনে হবে হয়তো। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে আমার ভিতরে একটা বিস্ফোরণ হবে একদিন। তারপর আসল আমির জন্ম হবে।

সকল অধ্যায়
১.
প্রথম অধ্যায়
২.
দ্বিতীয় অধ্যায়
৩.
তৃতীয় অধ্যায়
৪.
চতুর্থ অধ্যায়
৫.
পঞ্চম অধ্যায়
৬.
ষষ্ঠ অধ্যায়
৭.
সপ্তম অধ্যায়
৮.
অষ্টম অধ্যায়
৯.
নবম অধ্যায়
১০.
দশম অধ্যায়
১১.
একাদশ অধ্যায়
১২.
দ্বাদশ অধ্যায়
১৩.
ত্রয়োদশ অধ্যায়
১৪.
চতুর্দশ অধ্যায়
১৫.
পঞ্চদশ অধ্যায়
১৬.
ষোড়শ অধ্যায়
১৭.
সপ্তদশ অধ্যায়
১৮.
অষ্টাদশ অধ্যায়
১৯.
ঊনবিংশ অধ্যায়
২০.
বিংশ অধ্যায়
২১.
একবিংশ অধ্যায়
২২.
দ্বাবিংশ অধ্যায়
২৩.
ত্রয়োবিংশ অধ্যায়
২৪.
চতুর্বিংশ অধ্যায়
২৫.
পঞ্চবিংশ অধ্যায়
২৬.
ষড়বিংশ অধ্যায়
২৭.
সপ্তবিংশ অধ্যায়
২৮.
অষ্টাবিংশ অধ্যায়
২৯.
ঊনত্রিংশ অধ্যায়
৩০.
ত্রিংশ অধ্যায়
৩১.
একত্রিংশ অধ্যায়
৩২.
দ্বাত্রিংশ অধ্যায়
৩৩.
ত্রয়োত্রিংশ অধ্যায়
৩৪.
চতুর্ত্রিংশ অধ্যায়
৩৫.
পঞ্চত্রিংশ অধ্যায়
৩৬.
ষট্ত্রিংশ অধ্যায়
৩৭.
সপ্তত্রিংশ অধ্যায়
৩৮.
অষ্টত্রিংশ অধ্যায়
৩৯.
ঊনচল্লিশ অধ্যায়
৪০.
চল্লিশ অধ্যায়
৪১.
একচল্লিশ অধ্যায়
৪২.
দ্বিচল্লিশ অধ্যায়
৪৩.
ত্রিচল্লিশ অধ্যায়
৪৪.
চতুর্চল্লিশ অধ্যায়
৪৫.
পঞ্চচল্লিশ অধ্যায়
৪৬.
ষট্চল্লিশ অধ্যায়
৪৭.
সপ্তচল্লিশ অধ্যায়
৪৮.
অষ্টচল্লিশ অধ্যায়
৪৯.
ঊনপঞ্চাশ অধ্যায়
৫০.
পঞ্চাশ অধ্যায়
৫১.
একান্ন অধ্যায়
৫২.
বায়ান্ন অধ্যায়
৫৩.
তিপ্পান্ন অধ্যায়
৫৪.
চুয়ান্ন অধ্যায়
৫৫.
পঞ্চান্ন অধ্যায়
৫৬.
ছাপ্পান্ন অধ্যায়
৫৭.
সাতান্ন অধ্যায়
৫৮.
আটান্ন অধ্যায়
৫৯.
ঊনষাট অধ্যায়
৬০.
ষাট অধ্যায়
৬১.
একষট্টি অধ্যায়
৬২.
বাষট্টি অধ্যায়
৬৩.
তেষট্টি অধ্যায়
৬৪.
চৌষট্টি অধ্যায়
৬৫.
পঁয়সট্টি অধ্যায়
৬৬.
ছেষট্টি অধ্যায়
৬৭.
সাতষট্টি অধ্যায়
৬৮.
আটষট্টি অধ্যায়
৬৯.
ঊনসত্তর অধ্যায়
৭০.
সত্তর অধ্যায়
৭১.
একাত্তর অধ্যায়
৭২.
বাহাত্তর অধ্যায়
৭৩.
তিয়াত্তর অধ্যায়
৭৪.
চুয়াত্তর অধ্যায়
৭৫.
পঁচাত্তর অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%