ষাট অধ্যায়

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

ষাট

এই যে প্রাণের তত্ত্ব শাস্ত্রে এত বলা আছে, তা সেই প্রাণটা কোথায় থাকে এই দেহপিঞ্জরে সেটাই তো আজ অবধি ঠাহর পাওয়া গেল না। প্রাণ কি বিন্দু, না শিখা, নাকি বুদ্বুদ? জিনিসটা খুব একটুখানি। এই শরীর আর মনের নিউক্লিয়াস। তাকে ঘিরেই কি শরীরের অণুপরমাণু আবর্তিত হয়? কে জানে বাবা কী, কিন্তু আছে একটা কিছু। চোখের দেখা, কানের শোনা, বুদ্ধি-শুদ্ধি, বুকের ধুকপুকুনি এইসব তার জন্যই হচ্ছে-টচ্ছে। অথচ তার হদিশ করাই মুশকিল।

আজকাল কফি খাওয়ার ঝোঁক হয়েছে মহিমের। জিনিসটা ভাল। শীতে বেশ গা গরম হয়। শরীরটা চনমনে লাগে। তার নাতনি সোহাগ জিনিসপত্র সব এনে দিয়েছে তাকে। শিখিয়েছে কালো কফি খেতে। বলেছে, দুধ দিয়ে খেও না দাদু, ওতে খারাপ হয়।

সন্ধের পর নিজের ঘরে স্টোভ জ্বেলে নিজেই এক কাপ কফি করে মহিম খুব তৃষ্ণার্তের মতো খায়। ওই এক কাপই। লোভে পড়ে একবার তিন কাপ খেয়ে বিপদ হয়েছিল। রাতে কিছুতেই ঘুম আসতে চায় না। উগ্র জিনিস, সাবধানে খেতে হয়।

সন্ধের পর কারেন্ট থাকলে মুকুল এসে তাকে হাত ধরে একরকম টেনে তাদের ঘরে নিয়ে যায়, চলো দাদু, সিরিয়াল দেখবে। মুকুল হল মুকুলিকা, কমলের ছোট মেয়ে। ওদের ঘরে এখন রঙিন টিভি এসেছে, কে কানেকশন নেওয়া হয়েছে। লোকে আজকাল খাক না খাক, টিভি না দেখলে বেজার হয়ে পড়ে। ওয়ান ডে ক্রিকেট থাকলে তো ও-ঘরে ঘেঁষাঘেঁষি ভিড় হয়। সিরিয়াল দেখার তেমন আগ্রহ বোধ করে না মহিম। সবই কৃত্রিম লাগে। বানানো গল্প, বানানো রিঅ্যাকশন। যাত্রা বা নাটকে যে একটা উচ্চগ্রামের ব্যাপার থাকত এসব সেরকম নয়। তবু গিয়ে মাঝে মাঝে ওদের আসরে বসতে হয়।

সেদিন সন্ধেবেলাতেও মুকুল এসে ডেকে গেছে। যাবে বলে তৈরি হয়ে মহিম তার বরাদ্দ কফিটা তৈরি করে সবে ঘুরে চেয়ারের দিকে আসছিল। হঠাৎ মাথায় একটা প্রবল চক্কর। গোটা ঘর যেন টালমাটাল হয়ে দোল খেয়ে গেল, মেঝেটা যেন নেমে যাচ্ছিল পাতালে। প্রথমে মনে হয়েছিল বঝি ভূমিকম্প। কিন্তু ভূমিকম্প হলে চারদিকে শাঁখ বাজত। কয়েক মুহূর্তেই মহিম ওই অবস্থাতেও বুঝতে পারল, আশি পেরোনো এই শরীরেরই কোনও অধঃপাত। সে কি মারা যাচ্ছে?

কফির কাপটা পড়ে ভাঙল, গরম কফি ছিটকে লাগল পায়ে। চোখে অন্ধকার, কানে ঝিঁঝির ডাক। জ্ঞান হারানোর আগে সে টের পেল, কাপ ভাঙার শব্দ পেয়েই বোধহয় সন্ধ্যা দৌড়ে আসছিল, ও বাবা! কী হল…

ডাক্তার বদ্যি সারাজীবনে খুব কমই দেখিয়েছে মহিম। একটা জীবনে হোমিওপ্যাথির চর্চা করত। চার পাঁচখানা ইংরিজি এবং বাংলা বই আছে তার। ওষুধের বাক্স আছে। একসময়ে পাড়া প্রতিবেশীরা অনেকেই তার কাছে এসে ওষুধ নিত। তখন গাঁ গঞ্জে ডাক্তার অমিল ছিল খুব। অসুখ হলে দু-তিনজন শখের হোমিওপ্যাথই ভরসা। নইলে বর্ধমান নিয়ে যেতে হত রুগিকে। আজকাল অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। পাশ-করা বড় ডাক্তাররা নিয়মিত আসছে গাঁয়ে। তিন চারজন পাশ-করা হোমিওপ্যাথ ডাক্তারও আছে।

তাকে দেখতে এল অনল বাগচী। মেডিকেল কলেজে নাকি পড়ায়। খুব নাম। ভারী অমায়িক মানুষ, গোমড়ামুখো গেরামভারি নয়।

প্রেশার দেখে বলল, সামান্য বেশি আছে। এর জন্য ওষুধ খাওয়ার দরকার নেই। একটু হাঁটাহাঁটি করলেই কমে যাবে।

মহিম বলল, থোড়ের রস খেলে প্রেশারের উপকার হয় শুনেছি।

অনল ডাক্তার ভারী সুন্দর করে হেসে বলল, টোটকাতে কাজ হতে পারে। ইচ্ছে হলে খেয়ে দেখবেন। আজকাল তো এসব টোটকা ওষুধকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ডাক্তারি শাস্ত্রে থোড়ের কথা অবশ্য নেই। কিন্তু তাতে কী? খাবেন। তবে হাঁটাচলাটা বাদ দেবেন না।

না। হাঁটতে আমার ভালই লাগে।

বয়সের অনুপাতে আপনার শরীর তো বেশ ভালই আছে দেখছি। হার্ট ইজ ওকে, বুকে কোনও কমপ্লিকেশন নেই। তবে মাথার রিলিংটা হয়তো স্পন্ডেলাইটিসের জন্যও হতে পারে। একবার বর্ধমানে গিয়ে ঘাড়ের একটা এক্স-রে করাবেন। আর একটা ব্লাড টেস্ট। সবই প্রেসক্রিপশনে লিখে দিয়েছি।

একটা কথা ডাক্তারবাবু।

বলুন।

আপনারা তো মানুষের শরীরে অনেক কাটাছেঁড়া করেন।

অনল বাগচী মৃদু হেসে বলল, আমি মেডিসিনের লোক। কাটাছেঁড়া সার্জনদের কাজ। তবে ডাক্তারি পড়ার সময়ে ডিসেকশন করতে হয়েছে। যাই হোক, আপনি বলুন।

না, এই মাঝে মাঝে অনেক আবোল তাবোল কথা মনে হত। খুব জানতে ইচ্ছে করে মানুষের আত্মাটা শরীরের ঠিক কোথায় তাকে। ডাক্তাররা শরীর কাটাছেঁড়া করার সময়ে কি সেটা বুঝতে পারে?

অনল বাগচী বিশেষ ভদ্রলোক। এ কথায় একটুও তাচ্ছিল্য প্রকাশ করল না। বরং বেশ সিরিয়াস মুখ করেই বলল, ডাক্তাররা আত্মা দূরে থাক, শরীরেরই বা কতটুকু জানে বলুন। এই তো মানুষের একটুখানি শরীর, কতই বা লম্বা চওড়া। তবু এর মধ্যেই এত অদ্ভুত আর সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি যে তাক লেগে যেতে হয়। এর মধ্যে কত জটিলতা, কত কো-অর্ডিনেটেড সিস্টেম। শরীরকেই তো আজও পুরোপুরি জানি না আমরা। আত্মা তো আরও দুর্ভেয়।

ডাক্তারবাবুটিকে বড় ভাল লেগে গেল মহিমের। সে সাগ্রহে জিজ্ঞেস করল, আপনি কি আত্মা মানেন?

আমি না মানার কে? প্রায় সব ধর্মেই আত্মার কথা বলা আছে। সুতরাং জিনিসটা তো উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। আমরা যে ভাইটাল ফোর্সের কথা বলি সেটাই হয়তো এই আত্মা।

শুনে বড় ভাল লাগল। আজকাল তো এসব কেউ মানতে চায় না।

মানুষ ভাবতে চায় না বলে মানে না। আত্মার অস্তিত্ব আমি অস্বীকার করতে পারি না।

মহিম একটা স্বস্তির দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

আমি একটু হোমিওপ্যাথির চর্চা করি। স্পন্ডেলাইটিসের ওষুধ আছে। খাব কি?

নিশ্চয়ই খাবেন। আমার নিজের কোনওরকম পেন-টেন হলে আমিও তো আর্নিকা খাই।

সত্যি?

অনল বাগচী হেসে বলল, বললাম না আজকাল খুব আনকনভেনশনাল ওষুধের গুরুত্ব বাড়ছে। ভারত সরকার তো আদিবাসীদের ওষুধ নিয়ে রিসার্চ করাচ্ছে। বিদেশেও হারবাল মেডিসিনের চল হচ্ছে। কীসে যে কী হয় তা তো আমরা জানি না।

আপনি বড় উদারচেতা মানুষ।

তা নয়, আই ট্রাই টু বি লজিক্যাল। আমাদের লিমিটেশনগুলোও যে আমি জানি।

মহিমের খুব ইচ্ছে হল ডাক্তারবাবুটিকে আশীর্বাদ করে। মুখে শুধু বলল, ঠাকুর আপনার মঙ্গল করুন। বড্ড অমান্যির যুগ পড়েছে বলে ভারী দুশ্চিন্তা হয়। কেউ কিছু মানতে চায় না।

তা ভাবছেন কেন? কিছু লোক মানে, কিছু লোক মানে না। বরাবরই এরকম চলে আসছে। আপনি যা বিশ্বাস করেন সেটা ছাড়বেন কেন? শুধু অন্ধ কুসংস্কার জিনিসটা ক্ষতিকারক। সেটা পেয়ে বসলে মুশকিল।

ডাক্তার চলে যাওয়ার পর অনেকক্ষণ মহিম লোকটার কথা খুব শ্রদ্ধার সঙ্গে ভাবল।

সন্ধ্যা কাছেই বসেছিল। কেঁদে কেটে চোখ লাল। গলা ধরেছে। ডাক্তারের কথা শুনে এখন একটু মুখটা স্বাভাবিক হয়েছে। বাড়ির সবাই ভিড় করে ছিল এতক্ষণ। কমল এখনও আছে। আর মুকুল পায়ের কাছে বসে একটা হট ওয়াটার ব্যাগ ধরে আছে পায়ের তলায়।

কমল বলল, অমলকে ফোন করে দিয়েছি বাবা।

মহিম অবাক হয়ে বলে, কেন?

তুমি মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়ায় ভয় পেয়ে ওকে জানিয়েছি।

দেখ কাণ্ড! তাড়াহুড়োর কী ছিল? সে কাজের মানুষ, অফিস কামাই করে হয়তো এসে পড়বে। ডাক্তার তো বলেই গেল কিছু হয়নি।

আহা, আসুক না। আজ তো শুক্রবার। আগামীকাল তো এমনিতেই ওদের আসবার কথা।

তাহলেও দুশ্চিন্তা করতে পারে। হ্যাঁ রে, ডাক্তার কোনও ওষুধ দিয়েছে?

হ্যাঁ, প্রেসক্রিপশনে তিনটে ওষুধের নাম দেখছি।

ওসব ওষুধ আর আনিস না যেন। খাওয়ার কথা কিছু বলে গেল?

শুধু বলল, নুনটা কম খেতে। আর তেল মশলা তেমন না খাওয়াই ভাল। তা খাওয়া নিয়ে আবার কবে তোমার মাথাব্যথা ছিল? তুমি এমনিতেও তো একটুখানি খাও। তোমার বউমা তো বলে, বাবার খাওয়া দিনদিন কমে যাচ্ছে। হ্যাঁ বাবা, কফি ধরেছ বুড়ো বয়সে, তাই থেকেই এসব হল না তো!

দুর পাগল। কফি থেকে কী হবে?

নেশার জিনিস তো!

নেশা মানে তো মদ গাঁজা নয় রে বাবা।

সন্ধ্যা বলল, ও তোমার আর খেয়ে দরকার নেই বাবা। কী থেকে কী হয় কে জানে। তোমার কিছু হলে আমার বাপু হার্টফেল হয়ে যাবে। যা ভয় পাইয়ে দিয়েছিলে আজ।

আমার কী মনে হয় জানিস?

কী?

পেটে বায়ু হয়ে এরকমটা হয়েছিল। উর্ধ্বগামী বায়ু থেকে কত কী যে হয়।

আমার কাছে হজমি আছে। দেব? নিজের হাতে যত্ন করে তৈরি করেছি। যারা খাচ্ছে সবারই উপকার হচ্ছে।

দিস খন। ভয়ের কিছু নেই।

চুপটি করে শুয়ে থাকো। আজ রাতে আমি এ-ঘরেই ক্যাম্পখাট পেতে শুয়ে থাকব।

আবার লেপলোশক টানাহ্যাঁচড়া করতে যাবি কেন? আমি তো ভালই আছি।

ভালই যদি আছ তাহলে মাথা ঘুরল কেন?

ওই যে বললুম, বায়ু।

থাক আর নিজের ডাক্তারি নিজে করতে হবে না। তুমি ছাড়া আমার আর কে আছে বলো তো। তোমার কিছু হলে আমার যে কী হবে।

এ কথায় মহিমের বুকের ভিতরটায় যেন একটা মন্থন শুরু হল। তার এই মেয়েটা যে কত অসহায় তা মহিম জানে। ভাগ্য ভাল যে নিজের আর্থিক সংগতিটা নিজেই করে রেখেছে। কাজকর্ম নিয়ে সংসার ধর্মের অভাব ভুলে আছে। কিন্তু এ তো খেলনা, চুষিকাঠি। মেয়েদের রক্তের ভিতরে তো অন্য স্বপ্ন থাকে। যতই জজ ব্যারিস্টার হোক, তার মাতৃত্বে হাহাকার থাকলে সব ছাইমাটি হয়। আজকালকার মেয়েরা হয়তো বুঝতে চাইবে না। কিন্তু সত্যকে আর কত ঢাকাচাপা দিয়ে রাখা যাবে?

মহিম মেয়ের মুখের দিকে চেয়ে বলল, ওসব ভাবছিস কেন? দুনিয়ায় কারও জন্য কিছু আটকে থাকে না।

ওরকম বোলো না। আজ আমি বড্ড ভয় পেয়েছি।

ভাবিস না। শরীর আমার ভালই আছে।

পায়ের কাছ থেকে মুকুল বলল, ও দাদু, টক করে রাত আটটার সিরিয়ালটা দেখে আসব?

দেখে আয়। আর পায়ে সেঁক দিতে হবে না তোকে। পা গরম হয়ে গেছে।

আধঘণ্টা বাদেই ফের আসব।

আসিস।

হ্যাঁ দাদু, মা জানতে চাইল রাতে কী খাবে?

আজ কিছু না খাওয়াই ভাল।

সন্ধ্যা বলে, না বাবা, শরীর দুর্বল হবে। বরং দুধ-খৈ খেও।

তাই পাঠিয়ে দিতে বলিস।

বলে একটু চোখ বুজল মহিম। মাথা ঘোরার ভাবটা একটু আছে। মাথা নাড়া দিলেই টলটলে একটা ভাব। ঘর দুলে উঠছে। বয়স আশির চৌকাঠ ডিঙিয়েছে। এখন কত কী হতে পারে। বেসুর বাজতে লেগেছে।

রাতে গভীর ঘুম হল মহিমের। সকালবেলা সূর্যাস্তের কিছু আগে ঘুম ভাঙল। পুব আকাশ সবে ফর্সা হতে লেগেছে। মহিম রোজ অন্ধকার থাকতে ওঠে। আজ দেরিই হল।

খুব সাবধানে পাশ ফিরে কাত হয়ে হাতের ভর দিয়ে মাথাটা তুলল সে। প্রথমটায় মনে হল, ঠিক আছে। কিন্তু আর একটু খাড়া হয়ে বসতে যেতেই মাথাটায় এমন চক্কর দিল যে মহিম ধপ করে বালিশে ক্লান্ত মাথাটা ফেলে হাঁফাতে লাগল। কী মুশকিল। সকালে প্রাতঃকৃত্য আছে, পুজোপাঠ আছে। এরকম হলে কী করে চলবে?

সন্ধ্যা পাশেই ক্যাম্পখাটে শুয়ে আছে। একবার ভাবল, সন্ধ্যাকে ডাকবে। তারপর ভাবল, এই অবস্থায় ওকে ডেকেই বা কী হবে! কিছু তো করতে পারবে না। বরং চেঁচিয়ে-মেচিয়ে লোক জড়ো করবে।

তার চেয়ে শুয়ে থাকাই ভাল।

মনে পড়ছিল এই মাথা ঘোরার ব্যামো ছিল তার মায়ের। আর সেই ব্যামো নিয়েই মা মরে মরে ঘর-সংসারের কাজ করত। মাঝে মাঝে বাড়াবাড়ি হলে শয্যা নিয়ে পড়ে থাকত। চিকিৎসা বলতে মাথায় ভেজা গামছা চেপে রাখা। স্পন্ডেলাইটিসই হবে বোধহয়। তখন তো লোকে এত জানত না।

বেশ একটু বেলার দিকে মহিম উঠতে পারল। মাথা ঘুরছে বটে তবে সওয়া যাবে। পুজোর ফুল সন্ধ্যাই তুলে দিয়ে গেল। মহিম পুজোপাঠ সেরে রোদে ইজিচেয়ারে বসে রইল ক্লান্ত শরীরে।

বসে ঘুমিয়েই পড়েছিল বোধহয়।

ঘুম ভাঙল সন্ধ্যার চেঁচানিতে, ওম্মা গো, কে এসেছে দ্যাখোসে সব। এতদিনে মনে পড়ল আমাদের, ও জ্যাঠাইমা।

মহিম চমকে চোখ মেলে যাকে দেখল তাকে প্রথম যেন মতের মানবী বলে মনেই হল না তার। শ্বেত শুভ্র বসনে এ যেন শ্বেতপাথরের দেবীপ্রতিমা। বলাকা কদাচিৎ কারও বাড়িতে যান। পাড়া-বেড়ানোর অভ্যাস কোনওকালে ছিল না বলাকার, গাঁয়ের মেয়েদের মতো কূটকচালিও করেননি কখনও। আর সেই জন্যই সারা গাঁয়ে এই মহিলার প্রতি প্রত্যেকের ভীতিমিশ্রিত সম্রমের ভাব আছে।

একবার—জীবনে মাত্র একবার, বহুকাল আগে এক বৈশাখী ঝড়ের দিনে আমবাগানে কিশোরীরবধূ বলাকার প্রতি কামভাব বোধ করেছিল মহিম। সেটা বয়সের দোষ। অমন সুন্দরীর প্রতি কোন পুরুষ না আকর্ষণ বোধ করবে? কিন্তু মহিলা তো মানবী নন, দেবী। চোখ দেখেই কিছু টের পেয়ে এক ছুটে পালিয়ে গিয়েছিলেন বাড়ির ভিতরে। ওই একবারই। তার পর থেকে মহিম এই মহিলাকে সর্বদাই শ্রদ্ধা করে এসেছে। একটু ভয় পেয়েছে।

বউঠান! বলে তড়িঘড়ি উঠতে যেতেই মাথার শত্রুতায় ফের এলিয়ে পড়তে হল মহিমকে।

উঠবেন না। চুপ করে বসে থাকুন তো। বলে বলাকা সন্ধ্যার এগিয়ে দেওয়া কাঠের চেয়ারটায় বসে বলল, আজ সকালে খবর পেয়েই ছুটে এসেছি। কী হয়েছে আপনার?

মহিম ম্লান হেসে বলে, গুরুতর কিছু নয় বোধহয়, ডাক্তার ভরসা দিয়ে গেছে। স্পন্ডেলাইটিস বলে সন্দেহ।

ওসব আজকাল সকলের মুখেই শুনি। রোগটা কী?

ঘাড়ে হাড়ে গোলমাল। তাই থেকে নার্ভের দোষ।

যাক বাবা, সিরিয়াস কিছু না হলেই হয়। আমাদের বয়সিরা তো সব একে একে চলে যাচ্ছে। তাই খবরটা পেয়েই খুব চিন্তা হয়েছিল। কর্তা তো মহিম বলতে অজ্ঞান হতেন।

মহিম ভারী খুশির হাসি হাসল। বলল, দাদা আর আমি ছিলুম হরিহরাত্মা, ছায়া হয়ে ঘুরতুম পিছনে পিছনে উনি গিয়ে অবধি আমার ভারী একা লাগে বউঠান।

তা জানি। দুজনের বন্ধুত্ব তো দেখেছি।

বলাকা এসেছেন খবর পেয়ে বাড়ির সবাই এসে ঘিরে ফেলল। এটা একটা ঘটনাই বটে। বলাকাকে গাঁয়ের অন্য কোনও বাড়িতে যেতে দেখে না কেউ। এই আসাটা তাই এ-বাড়ির পক্ষে একরকম একটা গৌরবজনক ঘটনাই। গৌরহরি যেমন তেজি মানুষ ছিলেন, বলাকাও তেমনি তেজস্বিনী।

বলাকার গায়ে একটা দামি কাশ্মীরি শাল। কী মুখ চোখ, কী গায়ের রঙের জেল্লা। বাড়ি যেন আলো হয়ে গেল।

মহিম কৃশ, দীপশিখার মতো নারীমূর্তির দিকে চেয়ে থেকে বলল, আপনি রোগা হয়ে গেছে বউঠান।

মোটা হলে ভাল হত বুঝি? মেয়েরা যত মোটা হবে ততই রোগের আকর হবে। সেদিন এক ডাক্তার তো বলে গেল, আমার নাকি কোনও রোগই নেই।

রোগা হয়ে ভালই আছেন বউঠান। এরকমই ভাল।

ভাল থাকতে কে চায় বলুন তো! বেঁচে থাকার মতো এমন একঘেয়ে জিনিস আর হয় না। উনি যতদিন ছিলেন কিছুই খারাপ লাগত না। এখন প্রতিদিন সকালে মনে হয়, দিনটা কেমন করে কাটবে। কতদিন যে বেঁচে থাকতে হবে তাই ভেবেই ভয় করে।

মহিম একটু হেসে বলল, বেঁচে কি আপনি আছেন বউঠান? যেদিন গৌরদা মারা গেলেন সেদিন আপনি সহমরণে যেতে চেয়েছিলেন, আমার মনে আছে। সেদিনই বুঝেছিলাম গৌরদার সঙ্গে আপনার শরীরটা না গেলেও সত্তাটা সহমরণেই গেছে। আনন্দে আমার চোখে জল এসেছিল।

এখন চুপ করুন তো, অত কথা বলতে হবে না। ওষুধপত্র কিছু খেয়েছেন?

না। ডাক্তার বলে গেছে ওষুধের তেমন দরকার নেই। হাঁটাহাঁটি করলেই হবে।

আমি আপনাকে চিনি ঠাকুরপো। আপনি অ্যালোপ্যাথি করতে ভয় পান।

তা একটু পাই।

কিন্তু পুরনো অভ্যাস আঁকড়ে থাকলে তো চলবে না। মাথা ঘোরাটা না কমালে অচল হয়ে পড়বেন যে।

মহিম একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, অচল হওয়াতেই তো ভয। মৃত্যুটা তো ভয়াবহ নয়, ভোগান্তিই আসল ভয়ের জিনিস।

তা হলে ওষুধ আনিয়ে আজ থেকেই খান।

বলাকা বেশিক্ষণ বসলেন না। বললেন, একা সংসার আগলানো যে কী বন্ধন তা কী আর বলব। উনি যে কী অচলায়তনের সঙ্গে জুতে রেখে গেলেন আমাকে। ওই রাক্ষুসে বাড়ি যেন সারাদিন আমাকে গিলতে আসে। হ্যাঁ, ঠাকুরপো, মানুষ এমন বিষয় সম্পত্তির জন্য হেদিয়ে মরে কেন বলতে পারেন? আমার কোন কাজে লাগছে বলুন তো বিষয়-আশয়? ছেলেমেয়ে কেউ কাছে থাকে না, কারও ভোগে লাগে না। কী যে জ্বালা!

মহিম ম্লান হেসে বলে, সব জানি বউঠান। গৌরদা তো বলতেন, দ্যাখ মহিম, এই যে বিষয় সম্পত্তি তিল তিল করে করলাম, এ আবার তিন মিনিটে উড়িয়েও দিতে পারি। তবে না পুরুষ!

তিনি পুরুষ ছিলেন, আমি তো তা নই। আমি তো তিন মিনিটে ওড়াতে পারব না। বড় জ্বলছি ভাই। বলাকা উঠে বড়বউয়ের সঙ্গে একটু বাড়িঘর ঘুরে দেখল। যাওয়ার সময় বলল, ভাল থাকবেন আর বেঁচে থাকবেন। বুঝলেন?

এটা কি আশীর্বাদ বউঠান?

আপনি বয়সে বড় না? আপনাকে কি আশীর্বাদ করতে পারি?

দেবীরা পারেন। সে যাক, সহজে মরব বলে মনে হয় না বউঠান। ভাববেন না।

বলাকা চলে যাওয়ার পর সন্ধ্যা এসে বলল, চলো তো বাবা, এবার ঘরে গিয়ে একটু শুয়ে থাকবে।

কেন রে, আমাকে রুগি বানাতে চাস কেন? বেশ তো খোলামেলায় বসে আছি। আমার ভালই লাগছে তো।

চোখমুখ তো সে কথা বলছে না। দেখে মনে হচ্ছে ভারী ক্লান্ত আর দুর্বল হয়ে পড়েছ।

ও তোর মনের ভুল। তেমন খারাপ লাগছে না। বরং একটু কফি করে দে, রোদে বসে খাই। কফি বড্ড ভাল জিনিস। শরীর চনমনে করে দেয়।

ভাল না ছাই। ওটা খেয়েই তো এরকমটা হল তোমার।

দুর পাগলি। তোর শাসনেই আমি কাহিল হয়ে পড়ব।

এইসব কথাবার্তার মাঝখানেই উঠোনের বড় আগলটার কাছ ঘেঁষে নিঃশব্দে অমলের ঝকঝকে গাড়িটা এসে থামল।

মহিম ভারী খুশি হয়ে বলল, ওই তো ওরা এসে গেছে!

খাড়া হতে গিয়ে মাথাটা ফের টলোমলো হল মহিমের। সভয়ে মাথাটা পিছনে হেলিয়ে ইজিচেয়ারে চেপে ধরে রইল সে। কী যে হল মাথায় কে জানে বাবা।

প্রথমেই নেমে দৌড়ে এল সোহাগ। হাঁটু গেড়ে বসে মহিমের হাঁটুর ওপর হাতের ভর দিয়ে মুখের দিকে চেয়ে বলল, কী হয়েছে তোমার?

কিছু হয়নি রে তেমন। মাথাটা কাল থেকে বড় ঘুরপাক খাচ্ছে দিদি।

জেঠু ফোনে বলেছে স্ট্রোক। সেই থেকে আমার কী মনখারাপ।

আরে না। স্ট্রোক নয়। কমল ভয় পেয়ে বলেছে।

মহিম তার দুর্বল চোখে চেয়ে দেখল তার সামনে যেন ঝলমল করছে চারটে মানুষ। অমল, মোনা, সোহাগ আর বুডঢা। কিছু কাল আগেও বড় ম্লান, মলিন, দড়কচা মেরে ছিল ওরা। কোন মন্ত্রে যেন আরোগ্য হয়েছে। সংসারে তো জোয়ার ভাটার বিরাম নেই। মাঝখানে তো অমল আর মোনার ডিভোর্সের কথা চলছিল। আজ ওদের দেখে বুকটা ভরে গেল মহিমের। জীবনের শেষ রাউন্ডে এরকম ছোটোখাটো কিছু আনন্দ পাওয়াই তো অনেক পাওয়া।

অমল রাগ করে বলল, দাদা এমনভাবে খবরটা দিয়েছে যে আমি তো ভাবলাম সকালে এলে আর তোমাকে দেখতেই পাব না। এত ভয় পেয়েছিলাম।

মহিম হেসে বলল, ওর দোষ কী? ঘটনাটা এমন অতি নাটকীয়ভাবে ঘটল যে ওরা ভেবেছিল গুরুতর কিছু। ডাক্তার এসে দেখে-টেখে বলল তেমন কিছু নয়। হার্ট ভাল আছে, লাংস ক্লিয়ার।

যে যাই হোক, এবার কলকাতায় চলো তো আমার সঙ্গে। ভাল করে চেক আপ করিয়ে দেব।

মহিন হেসে বলে আগেই উতলা হওয়ার কী আছে। ডাক্তারবাবটি বেশ ভাল, বিবেচক। মস্ত বিলিতি ডিগ্রি আছে। এরও চিকিৎসা খারাপ নয়। সামান্য ব্যাপার হলে টানা হ্যাঁচড়ার দরকার কী?

মোনার হাতে প্লাস্টিকের ব্যাগে ফলের ঠোঙা।

আপনার জন্য এনেছি।

ভারী আপ্যায়িত হয়ে মহিম বলল, বাঃ! কত কী এনেছ?

শরীরটা তো একটু শুকিয়েছে দেখতে পাচ্ছি।

এই বয়সে একটু শুকোনোই ভাল বউমা। হালকা পলকা থাকলে রোগ বালাই কম হয়। তোমরা যাও, বিশ্রাম করোগে। এতটা পথ গাড়িতে এসেছ।

শুধু সোহাগ রইল কাছে। দাদুর হাঁটুতে হাত রেখে নিলডাউন হয়ে বসে ড্যাবড্যাব করে চেয়ে রইল মুখের দিকে। চোখ দুখানা করুণ।

কেন রে দিদি, অমন করে চেয়ে আছিস? এত সহজে মরব না রে। ভয় পাস না।

সোহাগ অনেকক্ষণ চুপচাপ চেয়ে থেকে হঠাৎ অদ্ভুত একটা কথা বলল, তুমি এতদিন কোথায় ছিলে দাদু? তোমাকে তো ভাল করে চিনতামই না।

মহিম হেসে বলল, সাহেবদের দেশে থাকলে ওরকমই তো হয়। আর সেইজন্যই আমার ওসব দেশ ভারী অপছন্দ। ওরা রক্তের টানটা মানেই না।

সন্ধ্যা কফি করে নিয়ে এসে বলল, এই মেয়ে, আমার ঘরে চল তো। সকালে কিছু খেয়েছিস? মুখটা তো শুকিয়ে গেছে।

খেয়েছি। টোস্ট আর দুধ।

দুর, সে তো কখন হজম হয়ে গেছে। আমার ঘরে আয়, তোকে চন্দ্রপুলি খাওয়াব।

চলো, বলে উঠে গেল সোহাগ।

মহিম চুপচাপ একা বসে রইল কিছুক্ষণ। সংসারের নানা কাজের শব্দ-সাড়া পাওয়া যাচ্ছে এখানে বসে। রোদটা মুখে লাগছে বড়। গাছের ছায়া সরে যাচ্ছে আস্তে আস্তে।

কফিটা শেষ করে খুব সাবধানে ধীরে ধীরে মাথাটা তুলল মহিম। না, ঘুরছে না তো!

খুব সাবধানে উঠে দাঁড়াল সে। না, ঘুরছে না এখনও। বিশ্বজয়ীর মতো একটা হাসি ফুটল তার মুখে। ধীরে ধীরে হেঁটে সামান্য কয়েক পা হেঁটে নিজের ঘরের দরজায় উঠল সে। এখন এইসব ছোটোখাটো অ্যাচিভমেন্টে যুদ্ধজয়ের আনন্দ।

শুয়ে থাকা ব্যাপারটা ভারী অপছন্দ মহিমের। বিছানা জায়গাটা তার কোনওকালেই প্রিয় নয়। সে তাই শুল না। একখানা হোমিওপ্যাথির বই নিয়ে জানালার পাশে চেয়ারে বসল। সন্ধ্যার ঘর থেকে পিসি-ভাইঝির কলকলানি আর হাসির শব্দ আসছে খুব।

মহিম একটু তৃপ্তির হাসি হাসল।

সন্ধেবেলা কম্পিউটার নিয়ে বসেছিল বিজু। অখণ্ড মনোযোগে ই-মেল চেক করছে।

দরজার কাছ থেকে মিহি মেয়েলি গলা এল, ও বিজুদা, তোমার কি ইন্টারনেট কানেকশন আছে?

বিজু ভ্রূ কুঁচকে দরজার দিকে চোখ ফিরিয়ে পান্নাকে দেখে বলল, কেন রে বাঁদর, তোর সে খবরে দরকার কী? কতবার তো বলেছি কম্পিউউটার শিখতে, কথা শুনেছিস?

আহা, শেখার সময় বুঝি চলে গেছে!

গেছে নয়, যাচ্ছে। আজকাল বাচ্চা ছেলে মেয়েরাও কম্পিউটার জানে। তোর তো ওইজন্যই ভাল পাত্র জুটছে না। যখনই পাত্রপক্ষ জানবে যে তুই একটা কম্পিউটার-মূর্খ তখনই সম্বন্ধ বাতিল করে দেবে।

আহা, আজ তো আমি কম্পিউটার শিখতেই এসেছি।

তাই বুঝি? আজ বোধহয় পশ্চিমে সূর্য উঠেছে।

তা বলে তোমার কাছে নয়।

তবে কার কাছে?

আমি তাকে সঙ্গে নিয়েই এসেছি।

সকল অধ্যায়
১.
প্রথম অধ্যায়
২.
দ্বিতীয় অধ্যায়
৩.
তৃতীয় অধ্যায়
৪.
চতুর্থ অধ্যায়
৫.
পঞ্চম অধ্যায়
৬.
ষষ্ঠ অধ্যায়
৭.
সপ্তম অধ্যায়
৮.
অষ্টম অধ্যায়
৯.
নবম অধ্যায়
১০.
দশম অধ্যায়
১১.
একাদশ অধ্যায়
১২.
দ্বাদশ অধ্যায়
১৩.
ত্রয়োদশ অধ্যায়
১৪.
চতুর্দশ অধ্যায়
১৫.
পঞ্চদশ অধ্যায়
১৬.
ষোড়শ অধ্যায়
১৭.
সপ্তদশ অধ্যায়
১৮.
অষ্টাদশ অধ্যায়
১৯.
ঊনবিংশ অধ্যায়
২০.
বিংশ অধ্যায়
২১.
একবিংশ অধ্যায়
২২.
দ্বাবিংশ অধ্যায়
২৩.
ত্রয়োবিংশ অধ্যায়
২৪.
চতুর্বিংশ অধ্যায়
২৫.
পঞ্চবিংশ অধ্যায়
২৬.
ষড়বিংশ অধ্যায়
২৭.
সপ্তবিংশ অধ্যায়
২৮.
অষ্টাবিংশ অধ্যায়
২৯.
ঊনত্রিংশ অধ্যায়
৩০.
ত্রিংশ অধ্যায়
৩১.
একত্রিংশ অধ্যায়
৩২.
দ্বাত্রিংশ অধ্যায়
৩৩.
ত্রয়োত্রিংশ অধ্যায়
৩৪.
চতুর্ত্রিংশ অধ্যায়
৩৫.
পঞ্চত্রিংশ অধ্যায়
৩৬.
ষট্ত্রিংশ অধ্যায়
৩৭.
সপ্তত্রিংশ অধ্যায়
৩৮.
অষ্টত্রিংশ অধ্যায়
৩৯.
ঊনচল্লিশ অধ্যায়
৪০.
চল্লিশ অধ্যায়
৪১.
একচল্লিশ অধ্যায়
৪২.
দ্বিচল্লিশ অধ্যায়
৪৩.
ত্রিচল্লিশ অধ্যায়
৪৪.
চতুর্চল্লিশ অধ্যায়
৪৫.
পঞ্চচল্লিশ অধ্যায়
৪৬.
ষট্চল্লিশ অধ্যায়
৪৭.
সপ্তচল্লিশ অধ্যায়
৪৮.
অষ্টচল্লিশ অধ্যায়
৪৯.
ঊনপঞ্চাশ অধ্যায়
৫০.
পঞ্চাশ অধ্যায়
৫১.
একান্ন অধ্যায়
৫২.
বায়ান্ন অধ্যায়
৫৩.
তিপ্পান্ন অধ্যায়
৫৪.
চুয়ান্ন অধ্যায়
৫৫.
পঞ্চান্ন অধ্যায়
৫৬.
ছাপ্পান্ন অধ্যায়
৫৭.
সাতান্ন অধ্যায়
৫৮.
আটান্ন অধ্যায়
৫৯.
ঊনষাট অধ্যায়
৬০.
ষাট অধ্যায়
৬১.
একষট্টি অধ্যায়
৬২.
বাষট্টি অধ্যায়
৬৩.
তেষট্টি অধ্যায়
৬৪.
চৌষট্টি অধ্যায়
৬৫.
পঁয়সট্টি অধ্যায়
৬৬.
ছেষট্টি অধ্যায়
৬৭.
সাতষট্টি অধ্যায়
৬৮.
আটষট্টি অধ্যায়
৬৯.
ঊনসত্তর অধ্যায়
৭০.
সত্তর অধ্যায়
৭১.
একাত্তর অধ্যায়
৭২.
বাহাত্তর অধ্যায়
৭৩.
তিয়াত্তর অধ্যায়
৭৪.
চুয়াত্তর অধ্যায়
৭৫.
পঁচাত্তর অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%