পঞ্চাশ অধ্যায়

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

পঞ্চাশ

মায়া-দরজায় অকস্মাৎ মৃদু করাঘাত, শুনতে পাচ্ছ?

পাচ্ছি নন্দিন। কী চাও এই অসময়ে?

অসময় কেন হবে? শুনতে পাই তুমি চিরজাগ্রত, চির তৎপর। তোমার কি বিশ্রামের প্রয়োজন হয়?

না। নন্দিন। আমার সময় নেই। এখন বিরক্ত কোরো না।

আমি এলে বুঝি তোমার সময় নষ্ট হয়? এই আমি বসে রইলুম তোমার দোরগোড়ায়। এখানে বসে আমি বারবার তোমার দরজায় করাঘাত করব। চেঁচিয়ে গান গাইব, আপন মনে কথা কইব, যতক্ষণ তুমি দরজা না খোলো।

তোমার বুঝি কাজ নেই? কিন্তু আমার যে অনেক কাজ। মাটির অতল থেকে উঠে আসছে সোনা, থরে বিথরে সেসব আমি সাজিয়ে তুলছি। এই বিপুল সম্পদের দায় তো কম নয়। এখন কি আমার অকাজের কথা বলার অবকাশ আছে? তোমার রঞ্জন আসছে, সে তোমার অবকাশ ভরিয়ে দেবে। আমাকে কাজ করতে দাও।

শোনো রাজা, আমার রঞ্জন আসবে বলে কি তোমার হিংসে হয়?

না নন্দিন। আমার তুচ্ছ কোনও হৃদয়দৌর্বল্য নেই। আমি কাজের লোক।

আজ তোমাকে একটা কথা বলব।

আজ নয়। অন্য দিন এসো।

আজ না বললে যদি আর বলার সময় না হয়?

তা হলে বাইরে থেকে বলো, আমি শুনছি।

আমার রঞ্জন আসবে, তবু আমি বারবার তোমার কাছে কেন ছুটে আসি তা বুঝতে পারো না রাজা?

বুঝবার দরকার কী নন্দিন? বাইরে দখিনা বাতাস বয়ে যায়, পূর্ণিমার চাঁদ ওঠে, ফুলের গন্ধে বাতাস মাতাল হয়, আমি সব টের পাই, কিন্তু আমার যে আনমনা হতে নেই।

শুধু কাজ? শুধু সঞ্চয়? শুধু সোনার গারদে আত্মনির্বাসন?

রাষ্ট্রযন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি হল তার সম্পদ। বস্তুগত সম্পদ হল পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুতর বিষয়। তুমি কি ভুলে যাও নন্দিন, যে আমি দেশের রাজা? অনেক কিছু থেকে মনকে প্রত্যাহার করে নিই আমি।

আগে বলো, রঞ্জনকে তোমার হিংসে হয় না? একটুও না?

হয়তো হয়। আমার হৃদয়বৃত্তি এতই সামান্য যে ঠিক বুঝতে পারি না।

আমি কতবার মালা গেঁথে এনেছি, তুমি পরোনি। শুধু বলেছ, নিজে পরো। আমার মালা ফিরিয়ে দাও তুমি, তবু আমি তোমার কাছে ছুটে ছুটে আসি। মনে আছে তোমার? একদিন তুমি বলেছিলে, আমার সবটুকু দিয়ে যদি তোমাকে ধরতে চাই, ধরা দেবে কি নন্দিন? বলোনি?

বলেছি।

তুমি কি জানো সেই কথা শুনে আমার সারা শরীরে কাঁটা দিয়েছিল? মন নেচে উঠেছিল তিতিরের মতো। সেদিন সারা বেলা আমি যেন মেঘ হয়ে আকাশে ভেসে বেড়ালুম। কিন্তু জানি, ও তোমার মনের কথা নয়।

হয়তো তখনকার মতো ও আমার মনের কথাই ছিল!

ছিল? সত্যি বলো, ছিল?

বললে তুমি খুশি হবে?

হব না! বলো কী? আমার আধখানা মন যে সবসময়ে তোমার কাছে পড়ে থাকে। বলে দেখ, আমি ফের মেঘের মতো ভেসে বেড়াব।

কথাটা তখন সত্য ছিল। কিন্তু এখন যদি সত্য না থেকে থাকে?

সত্য কি বদলে যায়?

যায় নন্দিন। সংসারে সব সত্যই তো আপেক্ষিক, শর্তনির্ভর। এমনকী প্রেম ভালবাসা এসবও।

ওরকম বোলো না তো। ওরকম নিষ্ঠুর কেন তুমি? ভাল করে নিজের মনের ভিতরে খুঁজে দেখ, কথাটা সত্যিই মিথ্যে ছিল কিনা।

আমার যে সময় নেই নন্দিন। আমার অনেক কাজ। ধ্বজাপুজোর সময় এগিয়ে আসছে।

আমি তো তোমার কাছে দিনে শতেকবার ছুটে আসি একটু কথা কইবার জন্যই। একটু মায়া হয় না তোমার?

মায়া হয় নন্দিন। এ-রাজ্যে একমাত্র তুমিই আমাকে একটু দুর্বল করে ফেলেছ। কিন্তু এই দুর্বলতা তামাকে ঝেড়ে ফেলতেই হবে। তুমি যাও নন্দিন।

কথাটা আর একবার বলো।

কোন কথাটা?

ওই যে বললে এ-রাজ্যে একমাত্র আমিই তোমাকে দুর্বল করে ফেলেছি। সত্যি? বলো না!

হ্যাঁ নন্দিন। আমি জানি এ-রাজ্যের কোনও মানুষই আমাকে দু চোখে দেখতে পারে না। শ্রমিকরা আমাকে ঘৃণা করে, প্রজারা আমার মুণ্ডপাত করে। কেউ আমার সঙ্গে কথা কইবার স্পর্ধা অবধি দেখায় না। একমাত্র তোমারই কোনও ভয় নেই, সংকোচ নেই, কুণ্ঠা নেই।

কেন নেই তা কি জানো?

না নন্দিনী, জানি না। ওসব নিয়ে ভাববার সময় নেই। তুমি যাও।

বলেছি তো, আজ আমি সারাদিন তোমার দোরগোড়ায় বসে থাকব।

তা হলে যে আমার কাজের ব্যাঘাত ঘটবে। শ্রমিকেরা তাল তাল সোনা বয়ে আনছে আমার ঘরে। সেসব সাজিয়ে-গুছিয়ে তোলা, হিসেব রাখা, সব যে গণ্ডগোল হয়ে যাবে।

যাক। আমি আজ মান করেছি।

অভিমান তার কাছেই করা ভাল যে তার দাম দিতে পারে।

আমার অভিমানের দাম তুমি কেন দিতে পারো না?

আমি, আমি তো তোমার রঞ্জন নই নন্দিনী!

আমার অর্ধেক মন জুড়ে যদি রঞ্জন, তো বাকি অর্ধেক মন জুড়ে যে তুমি!

ভুল হচ্ছে নন্দিনী। আমি জানি যে হৃদয় রঞ্জনকে ভালবাসে সেই হৃদয় কখনও এই অন্ধকার গর্ভগৃহের অধিপতিকে ভালবাসতে পারে না।

ভালবাসার তুমি কী জানো?

ভালবাসার আমি কিছুই জানি না নন্দিনী। আমার সব ভালবাসা গিয়ে শেষ হয় আমার চারদিকে তিল তিল করে জমে ওঠা এই সোনার পাহাড়ে। আমি অন্ধকার ভালবাসি, একাকিত্ব ভালবাসি, শক্তিমত্তা ভালবাসি। সংগীতের চেয়েও চাবুকের শব্দ আমার অধিক প্রিয়।

না না, ওরকমভাবে বোলো না। তুমি ওরকম নও কিছুতেই।

আমি কীরকম নন্দিনী?

আমাকে মুখোমুখি পেয়ে একদিন আমার অরণ্যের মতো চুলে দুটো শক্তিমান হাত ডুবিয়ে কী গভীরভাবে চেয়ে ছিলে তুমি আমার চোখের দিকে। সেই দৃষ্টি যে আমি ভুলতে পারি না রাজা। হ্যাঁ, তুমি মস্ত মানুষ, নিষ্ঠুর রাজা, তুমি ভয়ংকর। কিন্তু সেদিন তো আমার একটুও ভয় করেনি!

ভয় পাওনি বলেই ভেবে নিও না যে, আমি ভয়ংকর নই।

তোমাকে যে আমার এক নিস্পাপ শিশুর মতো লেগেছিল সেদিন। তোমার দুটি চোখের ভিতরে আমি যেন স্নান করে উঠলাম। কী আশ্চর্য গভীর তোমার চোখ, যেন সমুদ্দর। তোমার চোখের দিকে চেয়ে আমি সমুদ্রের গভীর কল্লোল শুনতে পেয়েছি, যেন অনেক শঙ্খ বেজে উঠেছিল একসঙ্গে। মনে হয়েছিল তোমার মতো বিশাল পুরুষ আমি কখনও দেখিনি! আর কী ভীষণ একা তুমি!

তুমি আমাকে ভয় পাও না নন্দিনী?

না। তোমাকে যে চেষ্টা করেও ভয় করতে পারিনি। ভয় করলে কি ছুটে ছুটে আসতুম তোমার কাছে?

তোমাকে নিয়েই তো আমার বিপদ নন্দিনী।

কীসের বিপদ?

আমাকে এতকাল সকলেই ভয় পেত। কেউ কখনও আমার দিকে মুখ তুলে তাকানোর সাহসটুকুও দেখায়নি। ওই ভয় থেকেই এসেছে শৃঙ্খলা, ওই ভয় থেকেই এসেছে বিনা প্রশ্নে আদেশ-পালন করা, ওই ভয়ই মাটির গভীর থেকে তুলে আনে তাল তাল সোনা। এ রাজ্যে কখনও বিদ্রোহ হয়নি। কিন্তু নন্দিনী, তুমি যে চারদিকে ভয় ভাঙানিয়া হাওয়া বইয়ে দিচ্ছ!

লোকে তোমাকে ভয় পেলে বুঝি তোমার ভাল লাগে?

লাগে নন্দিনী। আমার সামনে এলে মানুষ কুঁকড়ে যায়, পাঁশুটে হয়ে যায়, বাকরোধ হয়, চোখ বুজে ফেলে—আমি তখন বুঝতে পারি যে, সব ঠিক আছে। আমার কোনও বিপদ নেই। কিন্তু একবার ওদের ভয় ভেঙে গেলেই আমার বিপদ। এক মহা বিস্ফোরণে খানখান হয়ে যাবে আমার যতেক নির্মাণ। উবে যাবে সোনা, অন্তর্হিত হবে সিংহাসন, লোপ পাবে আমার সীমাহীন ক্ষমতা। নন্দিনী, আমি তোমাকে শাসন করার আগেই তুমি আত্মসংবরণ করো। ভয় ভাঙানিয়া হাওয়া বইতে দিও না।

শোনো, শোনো। তুমি ওরকম নও! তুমি কিছুতেই ওরকম নও। তোমাকে যে আমি আমার মনের ভিতরে চিনতে পেরেছি।

কী চিনতে পেরেছ নন্দিনী?

তুমি ওরকম নও।

আমি কীরকম?

তুমি এক বিশাল পুরুষ। তুমি মহা শক্তিমান। তোমার শাসনে জড় হয়ে থাকে মানুষ। তোমার অতুল ঐশ্বর্য। তবু আমার কেবলই মনে হয় ও তুমি নও। এসবই তোমার খেলনাপাতি। তুমি যেন এক দুরন্ত বালক, খেলায় মেতে আছ। ভুলিয়ে রাখছ নিজেকে। কিন্তু তুমি আবার এক লহমায় সব খেলনা হুটপাট করে দিয়ে উধাও হয়ে যেতে পার। তোমার চোখের ভিতর দিয়ে তোমার গভীর মনের ভিতরে সেই বৈরাগ্যকেও যে আমি দেখেছি।

ওসব তোমার কল্পনা নন্দিন। তুমি আমাকে তোমার মন দিয়ে গড়ে নিয়েছ মাত্র। ও আমি নই। আমার বেলা বইয়ে দিও না। কাজের সময়ে ফাঁক পড়ছে, আমার সময় নেই। তুমি যাও নন্দিনী।

আমি তো বলেইছি তোমার দোরগোড়ায় আজ আমি সারাদিন বসে থাকব। তোমাকে জ্বালাব, কাজ ভণ্ডুল করব, আনমনা করে দেব তোমাকে।

কেন নন্দিন?

তুমি কেন অন্ধকারের রাজা হয়ে থাকবে? তুমি আলোর কেউ নও, আনন্দের কেউ নও? তোমার বন্ধ দরজায় ঘা দিয়ে দিয়ে ফিরে যায় পৃথিবীর আলো, গান, গন্ধ, কেন এই নির্বাসন তোমার?

আমি যা, আমি ঠিক তা-ই।

আচ্ছা, কী করে তোমাকে দেখাই বলো তো!

কী দেখাতে চাও?

আমার মনের মধ্যে যে-তুমিটা বসে আছ তাকে।

সে অলীক, সে মিথ্যে।

একবার যদি তোমার সামনে তাকে আনতে পারতাম।

বৃথা কথায় সময় নষ্ট হচ্ছে। এবার তুমি যাও নন্দিন। গুপ্তচরেরা আমাকে গোপন তথ্য দেবে বলে অপেক্ষা করছে। সেনাপতি দাঁড়িয়ে রয়েছেন আদেশের অপেক্ষায়। কোটাল এসেছেন পরিস্থিতির পর্যালোচনা করতে।

তোমার সারাদিন শুধু ভারী ভারী কাজ।

আমি যে কাজের লোক নন্দিন। আমি তোমার রঞ্জন নই।

তুমি কি রঞ্জনকে কটাক্ষ করলে?

না নন্দিন। আমি তোমাকে বলছি, তোমার রঞ্জন আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠতর জীব। শঙ্কায়, উদ্বেগে, অনিশ্চয়তায় আমার সময় কাটে। অবসরহীন এই জীবনে মাঝেমধ্যে মনে হয় বটে, অন্য রকম হলেও বোধহয় মন্দ হত না। কিন্তু পরক্ষণেই মনে পড়ে যায়, আমার বিপুল সম্পদ, অমিত শক্তি ও দুর্বার শাসনের কথা। নন্দিন, তোমাদের কত ছুটি, কত অবকাশ, কত গান, কত কথা। কেন আমার কাছে আসো নন্দিন? তোমার জগতে আমার কোনও স্থান নেই। বডড বেমানান।

তাই বুঝি?

রঞ্জনকে নিয়ে স্বপ্নের স্রোতে ভেসে যাও নন্দিন। আমাকে ভুলে যাও।

শোনো, শোনো। শ্রবণের কপাট বন্ধ করে দিও না এখনই। আমার কথা যে শেষ হয়নি।

তোমার মনে বুদ্বুদের মতো কথার জন্ম হয়। আমি কি অত কথা কইতে পারি!

পারতেই হবে। শোনো, তোমাকে আজ আমার একটা কথা বলতেই হবে।

তবে তাড়াতাড়ি বলে ফেল।

তাড়াতাড়ি বলার মতো কথা নয় যে! এক একটা কথা আছে যা খুব ধীরে ধীরে ফুলের পাপড়ির মতো ফুটে ওঠে। তাড়া দিলে হবে না।

আমার সামনে তুলাদণ্ডে সোনার ওজন হচ্ছে। আমার যে এক মুহূর্তও অন্যমনস্ক হওয়ার উপায় নেই। আজ তোমাকে শুনতেই হবে।

বলল, শুনছি।

না, শুনছ না। এক মুহূর্ত তোমার কাজ ফেলে রেখে আমার কাছাকাছি এসো। চুপটি করে বসো৷ রাজকার্য অপেক্ষা করতে পারে। কিন্তু আমার কথার যে তর সয় না। একটা কথা মাথা খুঁড়ে মরছে আমার ভিতরে। কতক্ষণ তাকে আটকে রাখতে পারি বলো!

এই কাছে এলুম। এবার বলো।

আমাকে দেখতে পাচ্ছ?

পাচ্ছি নন্দিন। আমি সবাইকে দেখতে পাই, কিন্তু কেউ আমাকে দেখতে পায় না।

বলো তো আমি আজ কোন সাজে সেজেছি!

বাসন্তী রঙের শাড়ি পরেছ। এলোকেশে আলতো একটি মালা জড়িয়ে রয়েছে। কপালে একটি শ্বেতচন্দনের ফোঁটা। মেয়েদের সাজের কোনও মর্মই আমি জানি না। তবু বলি, তোমাকে আজ অপরূপ দেখাচ্ছে। এ সাজ কার জন্য নন্দিন? রঞ্জন আসবে বলে?

কেউ বুঝি তোমার জন্য কখনও সাজেনি?

রাজ-অবরোবে নারীর অভাব নেই। নৃত্য-গীত পটীয়সীরাও আমার মনোরঞ্জন করতে সর্বদাই তৎপর। তবু তোমাকেই বলি নন্দিন, তারা কেউ আমার জন্য সাজেনি কখনও। সাজতে হয় বলে সাজে মাত্র।

তুমি কি জানো আজ রঞ্জনের জন্য নয়, আমি সেজেছি তোমারই জন্য!

বৃথাই সেজেছ। এই অন্ধকূপ থেকে তোমাকে যে আমার কিছুই দেওয়ার নেই।

আমার আছে।

আমি কৃপণ, সঞ্চয়কারী, লোভী, নৃশংস, মদমত্ত এক যন্ত্র মাত্র। নন্দিন, কী দেবে তুমি আমাকে? এই দুই লোভী হাত শুধু পৃথিবীর সম্পদ কেড়ে নিতে চায়! তুমি আমাকে কী দেবে?

কেন বুঝতে পারো না তুমি, আমার অর্ধেক হৃদয় যদি রঞ্জন জয় করে থাকে, বাকি অর্ধেক আমি তো কবেই তোমার দরজার চৌকাঠে রেখে দিয়ে গেছি।

অর্ধেক! অর্ধেক নন্দিন? আমি কখনও অর্ধেক গ্রহণ করিনি। আমি চাই সবটুকু। সবটুকু চাই, নইলে সবটুকুই প্রত্যাখ্যান করি। নন্দিন, তুমি রঞ্জনের জন্য তোমার সবটুকু হৃদয় তুলে রাখো। মরুভূমিতে সিঞ্চন করার মতো বোকা তুমি নও।

আমার প্রগলভতা ক্ষমা করো। দ্বিধাদীর্ণ এই অসহায় নারীর দিকে একবার ভাল করে তাকাও। আমার সবটুকু তো রঞ্জনেরই ছিল। এই নন্দিনী তো রঞ্জনেরই রচনা। জানতুম রঞ্জনই আমার সব। সে আমার গান, আমার আলো, আমার মুক্তি। রঞ্জন যেখানে যায় সেখানেই চারদিক ফুল্ল হয়ে ওঠে।

জানি নন্দিন। রঞ্জনের কথা তুমি অনেক বলেছ।

তবু দেখ, যেদিন তোমাকে দেখলুম, তরাসে কেঁপে উঠেছিল বুক। কী ভয়ংকর বিপরীত তুমি! কী নিষ্ঠুর! কী কঞ্জুষ! কী স্বার্থপর, আত্মসর্বস্ব! আবার দেখলুম, কী প্রবল তোমার শক্তি! ঐরাবতের মতো সামর্থ্য তোমার! রঞ্জন সুন্দর বটে, কিন্তু কবির মতো সুন্দর। আর তুমি! তোমার সৌন্দর্য যেন অন্ধকার কুঁদে তৈরি করা। কী বিশাল, কী স্থির, কী একাগ্র!

আর বোলো না নন্দিন।

আজ আমাকে বলতেই হবে। রঞ্জন সুন্দর বটে, কিন্তু সে যেন ময়ূরের পালকের মতো পলকা, উড়ে যায়। সে এক বিবাগী পুরুষ, তার কোনও স্থণ্ডিল নেই। পৃথিবীর আনন্দের সঙ্গেই যেন তার সম্পর্ক। কিন্তু তুমি তো তা নও।

জানি নন্দিন।

পৃথিবীর গভীর দুঃখ, গভীর বিষাদ, গৃঢ় অভ্যন্তরের ভিতরে তোমার অবস্থান। এ জীবনকে তুমি মন্থন করেছ ঢের বেশি। মন্থনের হলাহলে জর্জরিত তুমি এক বিষণ্ণ পুরুষ। নন্দিনীকে বিদীর্ণ করেছ তুমি, দ্বিখণ্ডিত করেছ। রঞ্জনকে কী করে আমার সবটুকু দেব আর? বলে দাও।

ক্ষমা করো নন্দিন। এ আমার অজানিত অপরাধ।

তুমি তো লুণ্ঠন করোনি আমাকে। তবে ক্ষমাভিক্ষা কেন?

একদিন কুঁদ ফুলের মালা গেঁথে পদ্মপাতায় ঢেকে এনেছিলে। মনে পড়ে কি নন্দিন?

পড়ে। তুমি বলেছিলে, নিজে পরো। কী অপমান!

আজ বলি, এই সত্যটিও ঢাকা দিয়ে রাখো। ঢাকা থাক, সব বেদনাবহ সত্য আজ ঢাকা থাক।

রঞ্জন আমার চোখের দিকে একপলক তাকালেই বুঝতে পারবে, আমি আর সবটুকু তার নেই। ওগো, রঞ্জনের কাছে যে আমি কিছুই লুকোতে পারি না। আমার বড় ভয় হয়।

কীসের ভয় নন্দিনী?

ভয় হয় যদি আমাকে নিয়ে তোমার আর রঞ্জনের মধ্যে লড়াই বাঁধে।

রঞ্জনের সঙ্গে আমার কোনও লড়াই নেই নন্দিনী। আমি রাজ্য জয় করতে ভালবাসি, আমি খনির গভীর থেকে তুলে আনতে ভালবাসি সোনা, আমি ভালবাসি সম্পদ ও আধিপত্য। তোমাদের মিহিন প্রেমের তৃতীয় কোণ তো আমি নই। যদি তোমাকে লুণ্ঠন করতে চাইতুম তবে সে প্রলয়ঝড়ের মুখে কবেই উড়ে যেত রঞ্জন। আমার লড়াই কার সঙ্গে জানো? পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মল্লবীর, ক্ষ্যাপা ষাঁড়, ক্ষুধার্ত বাঘ, ক্রুদ্ধ সিংহ, মত্ত হাতি কতবার লুটিয়ে পড়েছে আমার পায়ের তলায়। এই সূক্ষ্ম মায়া-দরজার অন্তরাল থেকে তাদের গর্জন আর আর্তনাদ শোনোনি কখনও?

শুনেছি।

কতবার তুমিই বলেছ তোমার রঞ্জন আসবে ভোরের আলোর মতো, বসন্ত সমাগমের মত, ফুলের সুগন্ধের মতো। রঞ্জন যেখানে যায় সেখানে সবাই জেগে ওঠে, শুরু হয় উৎসব, গান। সে কি আমার প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে নন্দিন?

তবু ভয় হয়। কেন জানো?

কেন?

আমার রঞ্জনের সঙ্গে তোমার এক জায়গায় বড্ড মিল।

কীসের মিল?

আমার রঞ্জনের বুকে যে একটুও ভয় নেই। ভয়ের ছায়াটুকু কখনও তাকে স্পর্শ করে না। সে কাউকে ভয় পায় না বলেই তার বিপদ বেশি। শুধু ভাবি, দুজন ভয়হীন মানুষ যখন মুখোমুখি হবে—তুমি আর রঞ্জন—তখন কি প্রলয় হবে!

এই পৃথিবীতে আমি একমাত্র নিজেকেই ভয় পাই। কেন জানো?

কেন?

এই যে আমার বিপুল শক্তি ভিতর থেকে কেবলই ফুঁসে উঠছে, ওই অন্ধ শক্তি সবসময়ে চারদিকটাকে তছনছ করে দিতে চায়। সুন্দর, স্বচ্ছ, শুভ্র, পবিত্র কাউকেই রেয়াত করতে চায় না সে। এই অন্ধ, কাণ্ডজ্ঞানহীন বিপুল শক্তিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন। তোমার রঞ্জন যখন আসবে তখন আমাকে সতর্ক করে দিও।

শুনে আরও ভয় করছে আমার।

রঞ্জনের আগমনের আগাম বার্তা তোমার কাছে তো পৌঁছে যাবেই। তুমি আমার দরজায় করাঘাত করে বলে যেও সে কোন পথ দিয়ে আসবে। আমি সে পথ থেকে প্রহরা তুলে নেব, মসৃণ ও নিরাপদ করে দেব তার আবির্ভাব। বিষাণ বাজবে, প্রতিহারীর ঘোষণা শোনা যাবে। তোমার ভয় নেই নন্দিন। এখন যাও। আমাকে কাজ করতে দাও।

এটা কি ইমপ্রুভমেন্ট অন রবীন্দ্রনাথ? নাকি রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ তার? নাকি বিকল্প রক্তকরবী? সে নিজের লেখাটা পড়ে কিছুতেই বুঝতে পারল না কেন লিখল, কেন লিখতে গেল। লেখাটা বারবার পড়ল সে। এর ভিতরে কে আছে? কেউ কি আছে তার চেনা? মোনা, পারুল, কিংবা আর কেউ? সে নিজে? যাই হোক এই ভুসিমাল নিয়ে তো কেউ আর রিসার্চ করবে না।

এখন কবোষ্ণ দুপুর। তার ভীষণ খিদে পেয়েছে। এই একটা জিনিস সে ভীষণ টের পায়। খিদে, একটা আগ্রাসী খিদে তার শরীরে, পাকস্থলীতে মন্থনদণ্ডের মতো পাক দিয়ে ওঠে। তখন বড্ড মাথা গরম হয়ে যায়। কেন কেউ তাকে খেতে দিচ্ছে না বলে একরকম অবোধ অভিমান হতে থাকে।

ব্লাড সুগার হয়নি তো? সে শুনেছে ব্লাড সুগারের একটা লক্ষণ ঘন ঘন ভীষণ খিদে পাওয়া। শরীরের খবর সে তো রাখে না। কত জট পাকিয়ে আছে ভিতরে কে জানে।

কিছুক্ষণ বিছানায় চিৎপাত হয়ে পড়ে রইল অমল। সে কি আজ সকালে কিছু খায়নি? খিদেটা পেটের মধ্যে বেড়ালের মতো হাঁচোড়-পাঁচোড় করছে কেন? একটু ভাবতেই অবশ্য মনে পড়ল, আজ সকালে সে রুটি আর আলুভাজা খেয়েছিল। ঘড়িতে এখন মোটে সাড়ে এগারোটা। এত তাড়াতাড়ি খিদে পাওয়ার কথা নয়। পেটের খোঁদলটায় হাত রেখে সে কিছুক্ষণ চোখ বুজে রইল।

অমলদা! ডাক শুনে কেঁপে উঠল অমল। এ নিশ্চয়ই বিভ্রম। চোখ চাইলেই এই মধুর বিভ্রম ভেঙে যাবে।

অমলদা, তুমি কি ঘুমোচ্ছ?

অমল চোখ মেলল। মুখে একটু হাসি ফুটে উঠল তার।

না। কী চেহারা হয়েছে তোমার বলো তো! কতকাল দাড়ি কামাওনি? চুল আঁচড়াওনি!

অমল উঠে বসল, বোসস পারুল।

বসবার জন্য আসিনি। ঝগড়া করার জন্য এসেছি।

ঝগড়া! বলে অমল স্মিতমুখে মাথা নেড়ে বলল, আমি কি ঝগড়া করতে জানি? কীসের ঝগড়া পারুল?

কী শুনছি বলো তো!

অমল চোখ নত করে বলল, কী শুনছ?

তুমি আর মোনা নাকি ডিভোর্সের মামলা লড়ছ?

আমি তো মামলা লড়ছি না। মোনা লড়ছে।

কেন?

তা জানি না। মোন আমাকে সহ্য করতে পারছেনা আর।

সেই দোষটা কি মোনার? তোমার নয়?

আমারই তো দোষ।

যদি জানো তোমার দোষ, তবে শোধরাও না কেন?

অমল মাথা নেড়ে বলল, পারি না।

কেন পারো না?

আর নতুন করে কিছু হওয়ার নেই আমার।

ওসব বোলো না। তোমার মেয়ে এসে পান্নার কাছে অনেক দুঃখ করে গেছে তোমাদের সেপারেশন হয়ে যাচ্ছে বলে। ছেলেমেয়ে দুটোর কথা ভেবেও তো নিজেকে একটু বদলাতে পারো।

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে অমল বলে, ওরাই বা আমার কে বলো! আমাদের যে সম্পর্কই গড়ে ওঠেনি তেমন করে। সবাই কেমন ছাড়া-ছাড়া, আলাদা-আলাদা। যে যার নিজের শেল-এর মধ্যে গুটিপোকার মতো আটকে আছি।

তোমাদের কি ইগো প্রবলেম?

কে জানে পারুল! তাই হয়তো হবে।

ঘেন্নার কথা কী জানো? মোনা নাকি বলে গেছে সে তোমাকে আমার জন্যই সন্দেহ করে।

মাথা নেড়ে অমল বলে, হ্যাঁ।

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শত্রু হল সন্দেহ। যদি ওটা এখনই উপড়ে ফেলতে না পারো তা হলে নিউরোসিসে দাঁড়িয়ে যাবে।

তার কি আর কোনও প্রয়োজন আছে পারুল? মোন তো ডিভোর্সের মামলার জন্য তৈরি হচ্ছে।

শোনো, একজন বাঙালি সাদামাটা গৃহস্থঘরের বউ কি সহজে ডিভোর্সের মামলা করে? এদেশে ডিভোর্সি মহিলার ভবিষৎ বলে কিছু কি আছে?

তা তো আমি জানি না।

জানতে তো কেউ বারণ করেনি। তোমার বিয়ে কেন ভেঙে যাচ্ছে তা জানার চেষ্টা না করে তুমি গাঁয়ে এসে পড়ে আছ কেন?

আজ কি আমাকে বকতে এসেছ পারুল?

হ্যাঁ। তোমার দুঃখের সঙ্গে আমার নাম জড়িয়ে থাকলে কি আমার ভাল লাগার কথা?

সেটা মোনার ভুল।

সবটাই ভুল? যদি তাই হয় তা হলে ঠুনকো ভুলটা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করোনি কেন? সাধারণ একটা ঘটনাকে জটিল করে তুলছ অমলদা।

আমি কি জট ছাড়াতে পারি?

কেন পারছ না? কেন চেষ্টা করছ না?

কী করব পারুল?

তুমি কলকাতায় ফিরে যাও।

গিয়ে?

চাকরিটা আছে না গেছে?

সহজে যাবে না। বেতন কাটবে হয়তো।

তা হলে আগে চাকরিতে জয়েন করো। লিভ অর ট্রাই টু লিভ নর্মালি।

আমি আর নর্মাল নেই পারুল। আমার মাথা কাজ করে না, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যাচ্ছে, বিড়বিড় করে কথা কই, হঠাৎ হঠাৎ আচমকা অদ্ভুত সব কথা বলে ফেলি, অদ্ভুত সব আচরণ করি। না পারুল, আমি আর স্বাভাবিক নেই।

পারুল থমকাল, ডাক্তার দেখিয়েছ?

হ্যাঁ। একজন সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে মাঝে মাঝে কাউনসেলিং নিতে যেতাম।

কিছু হয়নি তাতে?

হয়। তারপর ফের যেন সব গোলমাল হয়ে যেতে থাকে। না পারুল, এই গহ্বর থেকে আমার আর ওপরে উঠে আসার উপায় নেই।

তুমি কি বাস্তব থেকে পালাতে চাইছ?

মাথা নেড়ে অমল বলে, জানি না।

তবু কলকাতায় ফিরে যাও অমলদা। এখানে পড়ে থাকলে মোনা আরও ক্ষেপে যাবে। এত অবহেলা ওর প্রাপ্য নয়।

তুমি বললে যাব।

আজই যাও।

যাব। তারপর কী করব?

সেটা ঠিক করে নাও এখন থেকে।

মাথা নেড়ে অমল বলে, ওটা পারি না। আমাকে কেউ যদি চালিয়ে নিয়ে যেতে রাজি থাকে একমাত্র তা হলেই আমি চলতে পারি। সে খেতে বললে খাব, শুতে বললে শোব, চলতে বললে চলব, বলতে বললে বলব, চুপ করে থাকতে বললে চুপ থাকব। আমার এখন ঠিক এরকমই একজনকে চাই।

পারুল হাসল, তা হলে তো তুমি লক্ষ্মী ছেলে!

হ্যাঁ পারুল। আমি যা করতে চাই সব ভণ্ডুল হয়ে যায়। পদে পদে ভুল করে বসি। তাই আই ওয়ান্ট টু বি ডোমিনেটেড বাই সামওয়ান।

সেই সামওয়ান যদি মোনাই হয়!

নয় কেন? কিন্তু মোনা কি হবে? মোনা তো আমাকে চায় না।

বরং বলো, তুমিই তোমাকে চাও না।

সকল অধ্যায়
১.
প্রথম অধ্যায়
২.
দ্বিতীয় অধ্যায়
৩.
তৃতীয় অধ্যায়
৪.
চতুর্থ অধ্যায়
৫.
পঞ্চম অধ্যায়
৬.
ষষ্ঠ অধ্যায়
৭.
সপ্তম অধ্যায়
৮.
অষ্টম অধ্যায়
৯.
নবম অধ্যায়
১০.
দশম অধ্যায়
১১.
একাদশ অধ্যায়
১২.
দ্বাদশ অধ্যায়
১৩.
ত্রয়োদশ অধ্যায়
১৪.
চতুর্দশ অধ্যায়
১৫.
পঞ্চদশ অধ্যায়
১৬.
ষোড়শ অধ্যায়
১৭.
সপ্তদশ অধ্যায়
১৮.
অষ্টাদশ অধ্যায়
১৯.
ঊনবিংশ অধ্যায়
২০.
বিংশ অধ্যায়
২১.
একবিংশ অধ্যায়
২২.
দ্বাবিংশ অধ্যায়
২৩.
ত্রয়োবিংশ অধ্যায়
২৪.
চতুর্বিংশ অধ্যায়
২৫.
পঞ্চবিংশ অধ্যায়
২৬.
ষড়বিংশ অধ্যায়
২৭.
সপ্তবিংশ অধ্যায়
২৮.
অষ্টাবিংশ অধ্যায়
২৯.
ঊনত্রিংশ অধ্যায়
৩০.
ত্রিংশ অধ্যায়
৩১.
একত্রিংশ অধ্যায়
৩২.
দ্বাত্রিংশ অধ্যায়
৩৩.
ত্রয়োত্রিংশ অধ্যায়
৩৪.
চতুর্ত্রিংশ অধ্যায়
৩৫.
পঞ্চত্রিংশ অধ্যায়
৩৬.
ষট্ত্রিংশ অধ্যায়
৩৭.
সপ্তত্রিংশ অধ্যায়
৩৮.
অষ্টত্রিংশ অধ্যায়
৩৯.
ঊনচল্লিশ অধ্যায়
৪০.
চল্লিশ অধ্যায়
৪১.
একচল্লিশ অধ্যায়
৪২.
দ্বিচল্লিশ অধ্যায়
৪৩.
ত্রিচল্লিশ অধ্যায়
৪৪.
চতুর্চল্লিশ অধ্যায়
৪৫.
পঞ্চচল্লিশ অধ্যায়
৪৬.
ষট্চল্লিশ অধ্যায়
৪৭.
সপ্তচল্লিশ অধ্যায়
৪৮.
অষ্টচল্লিশ অধ্যায়
৪৯.
ঊনপঞ্চাশ অধ্যায়
৫০.
পঞ্চাশ অধ্যায়
৫১.
একান্ন অধ্যায়
৫২.
বায়ান্ন অধ্যায়
৫৩.
তিপ্পান্ন অধ্যায়
৫৪.
চুয়ান্ন অধ্যায়
৫৫.
পঞ্চান্ন অধ্যায়
৫৬.
ছাপ্পান্ন অধ্যায়
৫৭.
সাতান্ন অধ্যায়
৫৮.
আটান্ন অধ্যায়
৫৯.
ঊনষাট অধ্যায়
৬০.
ষাট অধ্যায়
৬১.
একষট্টি অধ্যায়
৬২.
বাষট্টি অধ্যায়
৬৩.
তেষট্টি অধ্যায়
৬৪.
চৌষট্টি অধ্যায়
৬৫.
পঁয়সট্টি অধ্যায়
৬৬.
ছেষট্টি অধ্যায়
৬৭.
সাতষট্টি অধ্যায়
৬৮.
আটষট্টি অধ্যায়
৬৯.
ঊনসত্তর অধ্যায়
৭০.
সত্তর অধ্যায়
৭১.
একাত্তর অধ্যায়
৭২.
বাহাত্তর অধ্যায়
৭৩.
তিয়াত্তর অধ্যায়
৭৪.
চুয়াত্তর অধ্যায়
৭৫.
পঁচাত্তর অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%