শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
পারুল! বলে থমকে গেল অমল। শুধু পা নয়, থমকাল তার হৃৎপিণ্ড, তার সত্তা, তার স্মৃতি, তার সময়।
না, পৃথিবীর বহুবার আবর্তন, বহু সূর্য প্রদক্ষিণ, ঘড়ির কাঁটায় ঘুরে যাওয়া বা ক্যালেন্ডার পালটে গেলেও সেই বিশ বছর আগেকার জায়গাতেই থেমে আছে তারা। সময় বলে তো কিছু নেই, তাই বয়স বলেও কিছু হয় না।
পারুল একটু হেসে বলল, এত সকালে কোথায় বেরিয়েছ?
অমলের বিভ্রম কাটেনি এখনও। সে এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বিশ বছর আগেকার সেইসব দিনকে প্রত্যক্ষ করছে। সামনে কিশোরী পারুল।
খুব থতমত খাওয়া মুখে অমল চারদিকে চেয়ে একবার দেখে নিল। তারপর বলল, এই একটু বেরিয়েছিলাম।
মর্নিং ওয়াক?
তাই হবে বোধহয়।
আমি তো তোমাদের বাড়ি থেকেই আসছি।
অবাক অমল বলে, আমাদের বাড়ি থেকে?
হ্যাঁ।
ও।
পারুল ফের একটু হেসে বলে, জিজ্ঞেস করলে না কেন?
অমল এখনও প্রকৃতিস্থ নয়। কিছু বলতে পারছে না যেন। বলল, কেন?
তোমার পাগল মেয়েটাকে পৌঁছে দিয়ে এলাম।
সোহাগ! সোহাগের কী হয়েছে?
পারুল মাথা নেড়ে বলল, কিছু হয়নি। ও আসলে কলকাতা যেতে চাইছে না।
হ্যাঁ জানি।
কেন যেতে চায় না বলো তো?
ও কলকাতা পছন্দ করে না।
শুধু তাই?
ও আমাদেরও পছন্দ করে না। সোহাগ ইজ এ প্রবলেম চাইল্ড।
তোমরা ওকে বুঝতে পারো না, না?
না।
সেটা শুধু তোমাদের প্রবলেম বলে ভাবছ কেন? এটা তো আজকাল সব বাবা-মা আর তাদের সন্তানের প্রবলেম।
জেনারেশন গ্যাপের কথা বলছ?
তা ছাড়া আর কী?
সোহাগের বোধহয় আরও কিছু জটিলতা আছে যেটা আমি বুঝতে পারি না।
ওকে একটু ছেড়ে দাও, দড়ি আলগা করো, দেখবে প্রবলেম হবে না।
আমি তো সংসারের মালিক নই পারুল। আমার কথায় সব তো হয় না। সংসার মানেই নিরন্তর বোঝাপড়া, কনফ্রনটেশন, আপসরফা, বিতর্ক, মতান্তর, সম্পর্কের নানা সরল ও জটিল অঙ্ক কষে যাওয়া। সিদ্ধান্ত নেওয়া তো সোজা নয়!
অত শক্ত কথা বুঝতে পারি না।
সুখী মানুষের বুঝবার কথাও নয়।
আমি সুখী কি না কী করে বুঝলে?
তোমার সুখী হওয়ারই তো কথা পারুল!
তাই বা কেন?
তোমার মুখশ্রী দেখলেই বোঝা যায় তোমাকে দিনরাত খারাপ খারাপ চিন্তা করতে হয় না।
তুমি বুঝি খারাপ চিন্তা করো?
হ্যাঁ পারুল। মাথাটা আজকাল আমার বশে নেই। খারাপ চিন্তা, বিটকেল চিন্তা, অদ্ভুত চিন্তা, পাগলাটে চিন্তায় মাথা সবসময়ে গরম হয়ে থাকে। মাঝে মাঝে মনে হয়, পাগল হয়ে যাব।
যাঃ, ও সব ভাবতে নেই, এসো, আমাদের বাড়িতে এক কাপ চা খেয়ে যাও।
সঙ্গে সঙ্গে ঘাড় নেড়ে অমল বলে, চলো।
পারুল আগে আগে হাঁটতে হাঁটতে বলল, তোমার কি পুরনো দিনের কথা মনে করে খারাপ লাগে অমলদা?
অমল একটু ভেবে বলে, পুরনো দিন! মানে সেইসব দিনের কথা যখন তুমি আর আমি—?
হ্যাঁ।
খুব মনে পড়ে।
সেইজন্যই কি ওরকম হয়?
তা তো জানি না।
আমি তোমাকে বিয়ে করিনি বলে তোমার ইগোতে খুব লেগেছিল নিশ্চয়ই।
হ্যাঁ পারুল, লেগেছিল।
তুমি আমাকে ভুলতে তাড়াহুড়ো করে বিয়েও করেছিলে?
হ্যাঁ পারুল।
আমিই কি তোমার অশান্তির কারণ অমলদা?
না পারুল, আমার তা মনে হয় না।।
আমার ওই একটা ভয় আছে। তোমাদের সম্পর্কের মধ্যে যদি আমি কাঁটা হয়ে থাকি তা হলে দুঃখের ব্যাপার হবে।
তোমাকে মোনা কিছু বলেনি তো পারুল?
পারুল মাথা নেড়ে বলল, না।
আশ্চর্যের বিষয় পারুল মোনর ভিতরে কোনও বিদ্বেষ বা ঘেন্না লক্ষ করেনি আজ অবধি। পরিচয় অবশ্য বেশি দিনের নয়। মেলামেশাও যৎসামান্য। তবু তার মধ্যেও কি কিছু বোঝা যেত না?
একটু আগেই সোহাগকে নিয়ে মোনার ঘরে পৌঁছে দিচ্ছিল পারুল।
দরজা খুলে তাকে দেখে ভীষণ অবাক হয়ে মোনা বলল, আরে! আসুন, আসুন। এত ভোরে যে!
এসে অসুবিধে করলাম না তো!
না, না কী যে বলেন! ইউ আর অলওয়েজ ওয়েলকাম।
কথার মধ্যে একটুও কৃত্রিমতা নেই, চোখে ছুরিছোরা ঝলসে উঠল না, গলায় কোনও কাঠিন্য প্রকাশ পেল না। অথচ মহিলা জানেন, পারুলের সঙ্গে তার স্বামীর অ্যাফেয়ার ছিল।
তাকে চেয়ারে বসিয়ে নিজের মেয়ের দিকে একবার চেয়ে মোনা বলল, ও আপনাকে ধরে এনেছে বুঝি?
পারুল মৃদু হেসে বলল, কে কাকে ধরে এনেছে তা বলা যাবে না। দুজনেই দুজনকে ধরে এনেছি।
এসে ভাল করেছেন। আজ আমরা কলকাতা ফিরে যাচ্ছি।
শুনেছি।
কবে যে আপনার সঙ্গে ফের দেখা হবে কে জানে। আপনি কি এখন এখানে থাকবেন?
পাগল? জামশেদপুরে আমার অনেক কাজ। খুব বেশি হলে আর হয়তো দিন পনেরো। মা বড্ড একা, হয়ে পড়েছেন, তাই থাকা। ছেলেমেয়েদের স্কুল খুলে যাবে, আমার স্বামীও একা রয়েছেন।
সকলেরই এক সমস্যা। সোহাগ তো কিছুতেই কলকাতায় যেতে রাজি নয়। এ জায়গাটা ওর ভাল লাগে। শহরের পলিউশনে ওর প্রবলেমও হয়। কিন্তু তা বলে তো আর অনন্তকাল এখানে পড়ে থাকতে পারে না।
পারুল মৃদু একটু হেসে বলল, সোহাগ একটু অন্য ধরনের।
মোনা মেয়ের দিকে ফের তাকাল একবার। বলল, শুধু অন্যরকম বললে কিছুই বলা হয় না। একদম পাগল একটা। সব সময়ে ওকে নিয়ে চিন্তা হয় আমার।
সকলের কি একরকম হওয়া ভাল? আমরা সবাই এক এক রকমের পাগলই তো!
একটু-আধটু হলে চিন্তা ছিল না। কিন্তু ও বড্ড ডাকাবুকো। ভয়ডরও কম। আর আনপ্রেডিক্টেবল।
সেটা কয়েকদিনে টের পেয়েছি।
একটু চা করে আনি?
চায়ের কথায় নাক কোঁচকাল পারুল। চায়ের গন্ধ তার আজকাল সহ্য হয় না। মাথা নেড়ে বলে, চা থাক।
আপনার কি শরীরটা খারাপ? খুব রুখু দেখাচ্ছে আপনাকে। অ্যান্ড স্টিল ইউ আর বিউটিফুল।
আপনারা আমাকে যে কী চোখে দেখেন কে জানে। আমি তত সুন্দরী নই কিন্তু।
মোনা তার দিকে স্নিগ্ধ দৃষ্টিতে একটু চেয়ে থেকে বলল, আমার ছেলে মেয়ে সবাই আপনার ছবি দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমিও, কী জানি কেন, আমাদের ওপর হয়তো আপনার একটা হিপনোটিক স্পেল কাজ করে।
সেটাই তো আমার পক্ষে লজ্জার ব্যাপার।
তা কেন? এতে লজ্জা পাওয়ার তো কিছু নেই। সোহাগ, তুমি একটু বাইরে যাবে?
যাচ্ছি। বলে সোহাগ নিঃশব্দে বেরিয়ে গেল।
মোনা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, আমি সব জানি, জেনেও আপনাকে কখনও হিংসে করতে পারিনি, আপনার ওপর রাগও হয়নি কখনও।
পারুল লজ্জায় একটু লাল হল। তারপর বলল, সেটা এত অস্বাভাবিক যে বিশ্বাস হতে চায় না। আপনি বড্ড ভাল।
আমাকে কেউ ভাল বলে না।
কেন বলে না?
তা তো জানি না। অন্যের চোখে ভাল হতে গেলে নিজেকে যতটা বদলাতে হয় ততটা কি বদলাতে পারি, বলুন? আর নিজেকে বদলাবই বা কেন? সোহাগের বাবাকে তো দেখছেন! কী মনে হয় আপনার?
মাথা নাড়ে পারুল, কিছু খারাপ তো দেখছি না।
বাইরে থেকে বুঝবেন না। ভীষণ ফ্রাষ্ট্রেটেড, ডিপ্রেসড। হয়তো মনে মনে ওর সব কিছুর জন্য আমাকেই দায়ি করে। কারও কারও কপাল থাকে ওরকম, ভিকটিম অফ সারকামস্ট্যান্সেস। আমি হলাম তাই। অনেক কথা বলে ফেললাম আপনাকে। কিছু মনে করবেন না।
পারুলের একটা অপরাধবোধ হচ্ছিল। এদের অশান্তির জন্য কোনও না কোনওভাবে সে দায়ি নয় তো!
মোনা বিষন্ন গলায় বলে, আমাদের কোনও প্রবলেম নেই, অথচ কত প্রবলেম যে রোজ অকারণে তৈরি হয় কে জানে। পারুল একটা দীর্ঘশ্বাস চেপে রেখে উঠল। বলল, সোহাগ সকালে আমার কাছে গিয়েছিল। কেন গিয়েছিল জানেন?
না তো!
সেটা খুব মজার ব্যাপার। ওর খুব ইচ্ছে দিনকতক আমার কাছে থাকবে। শুনে আমার খুব মায়া হয়েছিল। কেন যে আমাকে ওর এত পছন্দ কে জানে! যাই হোক বুঝিয়ে-সুঝিয়ে কলকাতায় যেতে রাজি করিয়েছি।
থ্যাংক ইউ। ওকে কলকাতায় ফেরত নিয়ে যেতে আমরা হিমসিম খাচ্ছি। কিছুতেই যেতে চায় না। আজও ভাবছিলাম অনেক বকাঝকা করতে হবে বোধহয়।
না, বকবার দরকার নেই। ও যাবে।
কী বলে যে আপনাকে ধন্যবাদ দেব।
সত্যিকারের কৃতজ্ঞতা ফুটে উঠল মোনার চোখে।
ফিরে আসতে আসতে সে ভাবছিল, মোনা সব জানে। তাদের প্রেম, দেহগত সম্পর্ক—এত সব জেনেও কী করে তাকে অপছন্দ না করে পারে? খুব সূক্ষ্মভাবে হয়তো আরও একটা ব্যাপার মোনার মধ্যে কাজ করে। সে যে এক কামুক পুরুষকে প্রত্যাখ্যান করেছিল তার ভিতরে হয়তো মেয়ে হিসেবে মোনা একটা জয়ের আনন্দ খুঁজে পায়। কিংবা এসব নাও হতে পারে। হয়তো অন্য কিছু, যার মাথামুন্ডু পারুল জানে না। তবে ভারী অসহায় লাগে তার।
পারুলদের বাড়ি এখন ফাঁকা। তার বাবা জেদ করে ভাইয়েদের অংশ কিনে নিয়ে যে বিশাল বাড়িতে তার মাকে অধিষ্ঠিত রেখে গেছে তাতে থাকার মতো যথেষ্ট লোক কখনওই ছিল না। এখন তো আরও নেই। মা কীভাবে যে এবাড়িতে একা দিনের পর দিন কাটায় তা ভাবতেই পারে না পারুল।
মাঝের দালানের মস্ত বৈঠকখানায় এনে অমলকে বসাল সে। এ ঘরে খুব দামি মোটা গদির সোফা সেট সাজিয়ে রাখা। আগেকার দিনের সব বাঘ আর হরিণের মুভু দেয়ালে মাউন্ট করা। কাশ্মীরি জালি কাজের কাঠের পার্টিশন। খুব আধুনিক রুচিসম্মত ছিমছাম ব্যাপার নয়, একটু যেন লোক-দেখানো জাদুঘর-জাদুঘর ভাব। তা হোক, এ-ঘরটায় তার বাবার গন্ধ আর স্পর্শ আছে।
এক ধরনের বিষন্ন উদাসীন চাউনি নিয়ে বসে আছে অমল। কথা নেই, কৌতূহল নেই, পারুলের দিকেও চাইছে না।
কিছু খাবে অমলদা?
অমল ঘোর অন্যমনস্ক চোখ তুলে বলে, উঁ?
কিছু খাবে? সকালে তো জলখাবার খাওনি!
অমল হঠাৎ একটু হেসে বলল, খাব! হ্যাঁ, আমার তো খুব খিদে পেয়েছে। টের পাইনি এতক্ষণ!
সে কী! খিদে টের পায় না নাকি মানুষ?
মানে, একটা অস্বস্তি হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল কী একটা যেন খুব দরকার। কী যেন ভাবছিলাম বলে ঠিক বুঝতে পারছিলাম না।
আচ্ছা মানুষ যা হোক, বোসো একটু। সকালে আমাদের বাড়িতে লুচি-টুচি হয়। বলে আসি।
অমল ঘাড় কাত করে বলে হ্যাঁ। লুচি আর বেগুনভাজা। তাই হবে।
পারুল বেরিয়ে এল ঘর থেকে। সেই কৈশোরকালে সে এ লোকটিকে ভালবেসেছিল। আজ যেন সেটা অবিশ্বাস্য মনে হয়। কী করে যে ভালবেসেছিল সেটাই আজ বুঝতে কষ্ট হয়।
আসলে মানুষ কখনওই আর একটা মানুষের সবটুকু ভালবাসতে পারে না। অমলের মেধা, স্মার্টনেস ইত্যাদিই হয়তো সম্মোহনের কাজ করেছিল তার কাঁচা মনে। আজ তার চিহ্নমাত্র নেই। শুধু একটু অনুকম্পা আছে, করুণা আছে, মায়াও থাকতে পারে।
তোর সঙ্গে ও কে এল রে, অমল নাকি?
রান্নাঘরের বারান্দায় মা।
হ্যাঁ।
অমন ঝড়ো কাকের মতো চেহারা কেন ওর? কী হয়েছে? মাথার চুল তো কাকের বাসা।
অমলদা আজকাল ওরকমই হয়ে গেছে। কী যেন ভাবে বসে সবসময়ে।
বউয়ের সঙ্গে নাকি বনিবনা নেই! সেদিন সন্ধ্যা এসে অনেক কথা বলে গেল। বউটা কেমন, জানিস?
ভালই তো মা। বেশ ভাল। বুদ্ধি বিবেচনা আছে। খারাপ নয়।
ও মা! তা হলে বনে না কেন? আজকাল বউগুলোই এসে যত ঘোঁট পাকায়। বউ যদি ভাল হয় তাহলে আর ভাবনা কী?
বাঃ, বেশ ভাল কথা তো মা? মেয়েরা ঘোঁট পাকায় আর পুরুষরা বুঝি সব লক্ষ্মীছেলে!
তাই তো। পুরুষদের আবার দোষঘাট কী? পুরুষেরা সংসারের কূটকচালি বোঝেও না, ঘোঁটও পাকায় না। মেয়েরাই তো নষ্টের মূল।
বেশ মা, বেশ পক্ষপাতিত্ব তোমার!
বলাকা হাসেন। বলেন, আচ্ছা আর ঝগড়া করতে হবে না তোকে। কী হয়েছে ছেলেটার বলবি তো!
সে তো জানি না। তবে কেমন যেন ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকে, খুব অন্যমনস্ক, ওর বউ বলে খুব নাকি ডিপ্রেশনে ভোগে।
বেচারা! কত মেডেল-টেডেল পেয়ে শেষে এই দুর্দশা!
বামুনদিকে দিয়ে লুচি বেগুনভাজা আর এক কাপ চা পাঠিয়ে দাও তো ও-ঘরে।
দিচ্ছি। কিন্তু তোর কি খিদে পায় না নাকি? রাতে যা খেয়েছিলি সব তো উগরে দিয়েছিস।
ও বাবা, খাওয়ার কথা বোলো না তো! শুনলেই গা বিড়োয়।
ওরে, নিজের কথা ভেবে নয় না-ই খেলি। পেটেরটার কথা ভাব। তুই শুঁটকি মেরে থাকলে ওটাও যে শুকিয়ে যাবে। মায়ের খাওয়াই তো ওদের খাওয়া।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে পারুল বলল, তা হলে ঝাল-টাল দিয়ে কিছু একটা করে দাও।
বেশি ঝাল খাওয়াই কি ভাল এ সময়ে?
কেন, ঝালে কী দোষ করল? মুখে রুচি নেই যে!
ঝাল খেলে পেটেরটারও যে ঝাল লাগবে!
উঃ, কত কথাই যে জানো! তাহলে নতুন রকমের কিছু করে দাও। চেনা খাবার মুখে তুলতে ইচ্ছে। করে না।
বামুন মেয়ে কি আর নতুন রান্না কিছু জানে? আচ্ছা দেখছি, আমার মাথা থেকেই যদি কিছু বেরোয়। তোর বাবা তো নানারকম খেতে ভালবাসত, তারই কোনও একটা ভেবেচিন্তে বের করি। বাঙাল রান্না খুব ভালবাসত। দেখি একটা বাঙাল দেশের পদই রেঁধে, উতরোয় কি না। এখন বরং দুটো শুকনো মুড়ি খা।
সে আর একা নয়। একা নয়। তার গর্ভে অনাগত সন্তান তাকে ডাকে, তার শরীর শুষে খায়, তার অন্ধকার গর্ভে ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে। ভাবলেই রোমাঞ্চ হয়।
ঘরে ঢুকে পারুল দেখে, ঠিক যেভাবে অমলকে বসিয়ে রেখে গিয়েছিল সেই একইভাবে বসে আছে সে। নড়েনি, চোখের পলকও ফেলেনি বোধহয়। যেন পাথরের মূর্তি।
অমলদা।
উঁ!
কী এত ভাবছ?
অমল হাসল। বলল, কী যে ভাবি বলতে পারি না পারুল। ভাবনার কোনও মাথামুন্ডু নেই।
এত ভাবো কেন?
বললাম তো মাথাটা আমার বশে নেই।
মা বলছিল তোমার চেহারাটা ঝড়ো কাকের মতো হয়ে গেছে।
হ্যাঁ, সেটা আমিও টের পাই।
অনেকদিন চুল কাটোনি, দাড়িও কামাওনি বোধহয় দিন দুয়েক।
হ্যাঁ। ওসব ভালই লাগে না।
তা হলে কী ভাল লাগে?
কিচ্ছু না। বাঁচতেও ভাল লাগে না।
ওসব বলতে নেই অমলদা। ইচ্ছে করলেই মরা যায়। সহজেই। কিন্তু বাঁচাটাই শক্ত।
হ্যাঁ, আমারও বড় কঠিন মনে হয় বেঁচে থাকাটাকে। বড্ড কঠিন।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন