অষ্টত্রিংশ অধ্যায়

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

আটত্রিশ

সে কেন দেখা দিল রে, না দেখা ছিল যে ভাল। অন্তত আবছায়া দেখাটুকু না হয় থাকত তার!

মায়ের কখনও প্রেশার ছিল না। অন্তত টের পাওয়া যায়নি এতদিন। আশ্বিনের শেষে যখন বেশ শীত শীত ভাব পড়ছিল তখনই হঠাৎ শিলাবৃষ্টি হয়ে একদিন বেশ হু হু হাওয়া দিল। তখন শীতের ঠকঠকানি উঠে গেল। তার বীর বাবা রামহরি পর্যন্ত মোটা খদ্দরের হলুদ রঙের চাদরটা বের করে গায়ে জড়িয়ে ফেলল সকালবেলা। তাকে চা দিতে এসেছিল মা। রামহরি স্ত্রীর দিকে চেয়ে যা কখনও করে না তাই করে ফেলল হঠাৎ। বলল, তোমার কপালে ঘাম দেখছি যেন! ঘেমেছ নাকি?

মেয়েদের শরীর-টরীরের খোজখবর নেওয়া পুরুষদের রেওয়াজ নয়। যেন মেয়েমানুষের শরীর খারাপ হতে নেই। আর হলেও সেসবের খোঁজখবর নেওয়া পুরুষের পক্ষে আত্মাবমাননাকর। রামহরিও কদাচিৎ তার স্ত্রীর শরীরের খবর নিয়েছে।

আর মহিলাও সেরকমই। শরীর খারাপকে কোনওদিনই খারাপ বলে মানে না, কাউকে বলে না ও কিছু কখনও। স্বামীর প্রশ্ন শুনে ভারী অবাক হয়ে বলল, ওমা! ঘামব না। যা গরম!

রামহরিও অবাক হয়ে বলে, গরম! সত্যি বলছ?

গরম না তো কী! আমার তো বাপু হাঁসফাঁস লাগছে।

রামহরি চিন্তিতভাবে বলে, তাহলে কি আমারই শরীর খারাপ হল নাকি! আমার যে বেশ শীত করছে! জ্বর-টর আসছে নাকি? দেখো তো গাটা।

মাধুবী স্বামীর কপালে হাত দিয়ে বলল, না! গা তো ঠান্ডা!

তাহলে! তোমার গরম লাগছে, কিন্তু আমার শীত করছে কেন?

শীত! শীত কোথায়! তা বাপু, রাতে ভাল ঘুম হয় না বলে বোধহয় আমার মাথাটা একটু গরম হয়েছে।

রামহরি হা করে চেয়েছিল! মাধুরীর ঘুম হয় না এ একটা আশ্চর্য কথা বটে। বরাবর মাধুরীর ঘুম ছিল বিখ্যাত। বেশি রাতে তাদের বিয়ের লগ্ন ছিল। আর কেউ টের না পাক, পাশেই বরের পিঁড়িতে বসা বামহরি বউয়ের হাতে হাত রেখে যখন অং বং মন্ত্র পড়ে যাচ্ছিল তখন সে পরিষ্কার টের পেয়েছিল বউ ঘুমে তার গায়ে ঢলে পড়ছে। কী লজ্জা! সবাই জানে বালিশে মাথাটা রাখলেই মাধুরী নেই। সেই মাধরীর ঘুম হচ্ছে না শুনে রামহরি তো রামহরি, গোয়ালের গোরুটা পর্যন্ত জাবর ভুলে অবাক হয়ে চেয়ে থাকবে।

সংসারের পাচটা কাজ এসে কথা ভণ্ডুল করে দেয়। তাই স্বামী-স্ত্রীর কথা ওই পর্যন্তই হয়ে রইল।

পরদিনই দুপুরে রান্নাঘরে গ্যাস উনুনের বদলে কয়লার আঁচে ময়লা জামাকাপড় সেদ্ধ বসিয়েছিল মাধুরী। গোলা সাবানের কুচি জলে দিয়ে, জামাকাপড় খুন্তি দিয়ে উলটে-পালটে দিতে গিয়ে এমন শরীর অস্থির করল যে, উঠে এসে পান্নাকে কোনওক্রমে ‘একটু যা তো মা, জামাকাপড়গুলো একটু দেখ, শরীরটা কেমন করছে যেন’ বলেই শুয়ে পড়ল বিছানায়। বড় বড় শ্বাস ফেলছে, হাঁফ ধরা ভাব।

পান্নার সঙ্গে এমনিতে মাধুরীর একটু আড়াআড়ি আছে। পান্নার ধারণা, মা সবচেয়ে বেশি দাদাকে আর তার পরেই হীরাকে ভালবাসে। সে হল মায়ের কুড়িয়ে পাওয়া মেয়ের মতো। অসুখ-বিসুখ হলে একটু-আধটু আদিখ্যেতা করে বটে, অন্য সময়ে নয়। মাধুরীর মুখে জীবনে কখনও শরীর খারাপের কথা শোনেনি পান্না। ওই এক ধরনের মহিলা যারা মরে গেলেও নিজের শরীরের কথা কয় না। তাই পান্না গিয়ে প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়ল মায়ের মুখের ওপর, কী হয়েছে মা! কেমন লাগছে?

কিছু নয় তেমন! বোধহয় পেটে একটু বায়ু হয়েছে। সেদ্ধটা গিয়ে দেখ মা।

মাধুরীর মুখটা টকটক করছে লাল। সারা গা ঘামে ভিজে জবজব করছে।

চুলোয় যাক সেদ্ধ, পান্না ছুটে গিয়ে তার বাবাকে দুপুরের ভাত-ঘুম থেকে টেনে তুলে আনল।

রামহরি যথেষ্ট ভ্যাবাচ্যাকা। সত্যি বটে, স্ত্রীলোকের স্বাস্থ্য বিষয়ে ভাবনার অবকাশ তার হয় না। কিন্তু এই স্ত্রীলোকটা গত হলে এই গড়ানে বয়সে যে তার অঙ্গহানির মতো একটা কিছু ঘটনা ঘটবে এটা বুঝতে তার লহমাও লাগল না।

কী হয়েছে? অ্যাঁ! কী হয়েছে! বলতে বলতে কী করতে হবে বুঝতে না পেরে রামহরি তাড়াতাড়ি কুঁজো থেকে হিমঠান্ডা জল গেলাসে গড়িয়ে এনে মাধুরীর চোখে-মুখে ঝাপটা দিতে লাগল।

মাধুরী চমকে উঠে বলল, উঃ, কী করছ কী! আমি কি মুর্ছো গেছি নাকি? কিছু হয়নি আমার। একটু চোখ বুজে থাকলেই ঠিক হয়ে যাবে। অবেলায় খেয়েছি তো, তাই বোধহয় কেমন করছে।

অবেলায় তো তুমি রোজই খাও।

মাধুরী আঁচলে মুখ মুছতে মুছতে বলল, ওরে বাবা, আর তোমাকে আমার সেবা করতে হবে না গো। একটু জিরোতে দাও দয়া করে, তাহলেই হবে।

রামহরিরও তাই মনে হল। রোদে-জলে, কাজে-কর্মে পোক্ত শরীর, মরার বয়সও কিছু হয়নি। তার একাত্তর চলছে, মাধুরীর মেরেকেটে বাষট্টি। তত ভয়ের কিছু নেই।

একটু নার্ভাস হেসে শিয়রের কাছে বসা পান্নার দিকে চেয়ে বলল, পেটে গ্যাস হয়েছে, বুঝলি!

আজকাল মানুষের একটা গ্যাস-বাতিক হয়েছে খুব। ভাল-মন্দ কিছু হলেই বলে পেটে গ্যাস। এই গ্যাসের থিয়োরিটা পান্নার ভাল লাগে না মোটেই। সে বলল, বাবা, তুমি বরং ডাক্তারকে খবর দাও।

ডাক্তার! বলে রামহরি যেন আকাশ-পাতাল ভাবল খানিক। তারপর বলল, আজ অনল বাগচীর আসার দিন। তবে সন্ধের আগে তো নয়। কুঞ্জ ফার্মেসিতে একজন ডাক্তার বসেন বটে, তবে সবাই বলে হাতুড়ে।

মাধুরী বলল, ডাক্তার লাগবে না। আমার কিছু হয়নি। পান্না একটু হাতপাখা দিয়ে মাথায় বাতাস করুক, তাহলেই হবে। বড্ড হাঁসফাঁস লাগছে। চোখে মাঝে মাঝে অন্ধকার দেখছি যেন। জামাকাপড় সেদ্ধ বসিয়ে এসেছি, ও পান্না, হাঁড়িটা নামিয়ে রেখে আয় মা। নইলে সব পুড়ে ঝামা হয়ে যাবে। সাবানজল আছে, সাবধানে ধরে নামাস, নইলে হাত পিছলে পড়ে গেলে পুড়ে মরবি।

সংসারের আসল খুঁটিটা নাড়া খেলে কী হয় তা কয়েক মিনিটের মধ্যেই সবাইকে বুঝিয়ে ছাড়ল মাধুরী। মা দুর্গার দশটা হাত আছে, কিন্তু তার মায়েরও যে বড় কম নেই, তা বুঝতেও পান্নার দেরি হল না বড় একটা।

দুপুরটা এপাশ ওপাশ করে কাটাল মাধুরী। স্বাসকষ্টের ভাব, মাথা অস্থির, গরম, ঘাড়ে অসহ্য ব্যথা।

সন্ধেবেলা রামহরি গেল ডাক্তার অনল বাগচীকে ডেকে আনতে।

মায়ের কাছে স্কুলফেরত হীরাকে বসিয়ে ঠাকুরের আসনে ফুলজল দিয়ে ঘরে ঘরে জলছড়া আর ধুপধুনো দিতে দিতে ভারী লজ্জা-লজ্জা করছিল পান্নার। জ্বরের ঘোরে রাজপুত্রের মতো একজন মানুষকে দেখতে পেয়েছিল সে। যেন ডাক্তার নয়, রাক্ষসপুরীতে বন্দি রাজকন্যাকে উদ্ধার করতে এসেছে।

পান্না টুক করে এক ফাঁকে একটু সেজেও নিয়েছে। একখানা ভাল শাড়ি, মুখে একটু প্রসাধন, কপালে টিপ, চুলে এলো খোঁপাটি সাবধানে রচিত, চোখে একটু কাজল আর ঠোঁটে ন্যাচারাল লিপস্টিকও। এইটুকুতে দোষ নেই। রাজার দুলাল যাবে আজি মোর ঘরের সুমুখপথে…

জীবনে এই প্রথম মাধুরী বিছানা নিয়েছে। জ্ঞানবয়স থেকে সে কখনও মায়ের শরীর খারাপ দেখেনি, এখন এই প্রথম মা শয্যা নেওয়াতে পান্না মায়ের জায়গা নিতে হাড়েহাড়ে বুঝছে এই মহিলা কী পরিমাণ ওয়ার্কলোড নিজের ঘাড়ে নিয়ে এ-বাড়ির অন্য সব মানুষকে নিষ্কর্মা সময় কাটাতে দিয়েছে। রান্নাঘর থেকে গোয়ালের সাঁজাল, ঝি-এর কাজ তদারকি থেকে মুনিশদের সামাল দেওয়া, ঘরদোর সারা থেকে বাড়ির লোকের বায়নাক্কা সামলানো—অফুরন্ত কাজ। পান্না হাঁফিয়ে উঠেছে এক দিনেই। এ ছাড়াও আছে সংসারের আয়-ব্যয়ের হিসেব রাখা, বাজারের ফর্দ করা, ধোপার হিসেব, মুদির হিসেব, ধান-চাল বিক্রির হিসেব। ভাগ্যিস সেগুলো করতে হচ্ছে না এখনও। বিয়ের পর সংসার হলে যদি তাকে তার মায়ের মতোই জীবনযাপন করতে হয় তাহলে সে তো মরেই যাবে! বাবার চায়ের চিনি বেশি হয়েছিল। মুখে কিছু বলেনি, কিন্তু অর্ধেকের ওপর চা ফেলে দিয়েছিল। স্কুল থেকে ফিরে ভাত পাতে মাছ-ভাজা হয়নি বলে মুখ গোঁজ করে ছিল হীরা। রোজ নাকি তাকে মা গরম মাছ-ভাজা দেয় পাতে। কে জানবে বাবা অত।

শুয়ে শুয়ে অসুস্থ শরীরেও মা মাঝে মাঝে বকুনি দিচ্ছিল তাকে, ধিঙ্গি মেয়ে একটা কাজ যদি ঠিকমতো করতে শিখেছে। পটের বিবি সেজে ঘুরে বেড়ালেই হবে! একদিন শুয়ে থাকার জো নেই। অমনি সব বেসামাল করে ফেলল। আমি মরলে কী যে হবে তোদের! সংসার উড়ে পুড়ে যাবে।

বাঁধা গৎ। কানে না তুললেও চলে। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়। সে যে এক স্বপ্নের পুরুষের অপেক্ষায় আছে সেও কি আসলে ওই বাপ-জ্যাঠাদের মতোই নিতান্তই স্বার্থপর, আত্মকেন্দ্রিক, গদ্যময় পুরুষ মাত্র? আর কিছু নয়? অন্য কিছু নয়? ধুস, তাহলে স্বপ্ন দেখাটার মানে কী? আর স্বপ্ন ছাড়া পান্না কি বাঁচে?

তবু অনল বাগচী আসবে আজ। জ্বরের ঘোরে স্বপ্নের মিশেল দেওয়া চোখে দেখা এক পুরুষ। কতটা লম্বা? খুব ফর্সা? স্বপ্ন-স্বপ্ন মেদুর চোখ না? আর গলার স্বরটা কী গম্ভীর গমগমে!

একটু সেজেছে তাই পান্না। একজন ডাক্তারকে বিয়ে করার খুব শখ হয়েছে আজকাল তার। ডাক্তারই ভাল। কারণ ডাক্তারদের সে একটু ভয় পায়। সেই ভয় ভাঙানোর জন্যই একজন ডাক্তারকে কাছে পেলে তার ভাল হয়।

সন্ধের পর একখানা ছোট্ট মিষ্টি মারুতি গাড়ি এসে যখন বাড়ির সামনে থামল তখন পানার বুকের মধ্যে স্পষ্ট ধুকুর-পুকুর। দরজার আড়াল থেকে সে দেখল, একজন নামছে। হাতে ডাক্তারি ব্যাগ, গলায় স্টেথোস্কোপ। বাইরে তত আলো নেই। অস্পষ্টতার মধ্যে মনে হল, লম্বা, বেশ লম্বা।

রামহরি ভারী আপ্যায়িত ভঙ্গিতে, ‘আসুন আসুন’ বলে ঘরে নিয়ে এল তাকে।

জুতো ছাড়তে হবে নাকি?

রামহরি তাড়াতাড়ি বলল, আরে না, না, জুতো থাক। আপনি আসুন।

একটু বিরক্ত হল পান্না। এ বাড়িতে জুতো ছেড়েই শোওয়ার ঘরে ঢোকার নিয়ম। বাবা যে কেন জুতো ছাড়তে বারণ করল। তার মানে ডাক্তার চলে গেলে শোওয়ার ঘর থেকে বৈঠকখানা অবধি তাকে জল-ন্যাকড়া দিয়ে মেঝে মুছতে হবে।

স্পষ্ট আলোয় যখন অনল বাগচী ঘরে এসে দাঁড়াল তখনই যেন তার স্বপ্নের গোটা ইমারতটা হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে গেল। সেই ভাঙচুরের শব্দও যেন শুনতে পেল পান্না।

অনল বাগচীর বয়স চল্লিশের ওপর।

শুধু তা-ই নয়। তেমন সুপুরুষই বা কোথায়? ফর্সা নয় না-ই হল, মুখশ্রীও কি তেমন ভাল কিছু? মাথার চুল উঠে গিয়ে কপালটা বড্ড চওড়া দেখাচ্ছে। হাসলে দাঁতের সেটিং বিশ্রী দেখায়। ধুস।

গোমড়ামুখো ডাক্তার মাধুরীকে পরীক্ষা করতে করতে হঠাৎ মুখ তুলে বলল, আগে ডাক্তার দেখেননি?

রামহরি মাথা নেড়ে বলে, না তো। দরকার পড়েনি।

রোগটা তো আজকের নয়, বেশ পুরনো।

রোগটা কী ডাক্তারবাবু?

গম্ভীর ডাক্তার বলল, প্রেশার একশো নব্বইয়ের ওপর, নীচেরটা একশো কুড়ি৷ যে কোনও সময়ে একটা স্ট্রোক হয়ে যেতে পারত। হার্টেরও প্রবলেম আছে মনে হচ্ছে। ওষুধগুলো এখুনি এনে শুরু করে দিন। আর পারলে কালকেই ই সি জি আর ব্লাড টেস্ট করিয়ে নিন।

অবস্থা কি সিরিয়াস?

চিকিৎসা না করালে সিরিয়াস তো বটেই। অনেক আগেই ডাক্তার দেখানো উচিত ছিল।

উনি ডাক্তার দেখাতেই চান না যে!

তা বললে তো হবে না। সময়মতো ডাক্তার না দেখালে অবস্থা জটিল হয়ে দাঁড়াতে পারে!

মাধুরী ক্ষীণ কণ্ঠে বলল, আমার তো তেমন কিছু হয়নি ডাক্তারবাবু, শুধু একটু বায়ু হয়ে কেমন যেন লাগছিল।

ডাক্তার একটু হেসে বলল, আপনার কী হয়েছে তা যদি আপনিই বুঝবেন তাহলে তো আমাকে ডাকার দরকারই ছিল না। আপনি এখন চুপচাপ বিছানায় শুয়ে থাকবেন কয়েকদিন। ফুল রেস্ট।

তাই কি হয়। ওই তো এক ফোঁটা রোগা মেয়েটা আমার। ও কি পারে সংসার সামলাতে?

কিন্তু আপনি যদি একেবারে বেড রিডন হয়ে পড়েন তাহলে তো ওর ওপর আরও প্রেশার পড়বে। সংসারের কথা যে এখন কিছুদিন আপনার ভাবা চলবে না!

কতদিন শুয়ে থাকতে হবে?

পাঁচ-সাত দিন তো বটেই।

অসহায় গলায় মাধুরী বলে, কী যে হবে!

দুশো টাকা ভিজিট নিয়ে ডাক্তার চলে গেল। পান্নার দিকে ফিরেও তাকাল না।

পান্না খোঁপা খুলে ফেলল, টিপ তুলে ফেলল, মুখটায় জল দিয়ে পরিষ্কার করল। দুস!

রাত্রিবেলা তার রান্না মাছের ঝোল খেয়ে বাবা খুব প্রশংসা করল। বাবারা যেমন করেই থাকে।

হীরা মুখ বেঁকিয়ে বলল, নুন কম হয়েছে। পানসে স্বাদ।

ভাতটা একটু বেশি সেদ্ধ হয়ে গেছে বটে, কিন্তু কেউ সে নিয়ে উচ্চবাচ্য করল না। তবে এসব যে থ্যাঙ্কলেস জব সে বিষয়ে পান্নার কোনও সন্দেহ নেই। বিবাহিত জীবনের স্বপ্ন শত খও হয়ে এখন তার চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আছে।

সকালে খবর পেয়ে এল পারুল।

ছোটমা, তুমি আবার কী বাধিয়ে বসেছ!

আর বসিস না মা, ডাক্তারগুলো পয়সা লোটার জন্য কত কী যে বলে যায়। ডাক্তারি না শিখলে কী হবে, আমাদের বয়স কি আর কম হল, অভিজ্ঞতা বলে একটা জিনিসও তো আছে। আমার শরীর আমি বুঝলুম না, বুঝল কিনা বাইরের ডাক্তার! তাও পাঁচ মিনিটে!

তাই তো! এ যে ভারী অন্যায়। তোমার শরীর নিয়ে ডাক্তারের অত মাথাব্যথা কীসের? সংসারের মুষলপর্বের মধ্যেই যে তুমি ভাল থাক তা কি আর ডাক্তাররা জানে! যাও না, উঠে গিয়ে একটু ঢেঁকিতে পাড় দিয়ে এস, না হয় পাহাড়প্রমাণ খার কাচতে বসে যাও।

মাধুরী হেসে ফেলে বলে, আর ঠাট্টা করতে হবে না। ওই তো পান্নার ছিরি। কাজকর্ম কোনওদিন করেছে! শুনলুম তো ভাত গলিয়ে ফেলেছে, কাঁচা তেলে ডাল ফোড়ন দিয়েছে, আরও কত কী। ও কেন পারবে বল! শেখেওনি তো কিছু।

যা পারে করবে, সবাইকে ওই গলা ভাত আর এই কাচা তেলের ডালই খেতে হবে। এখন তো আর বায়নাক্কা চলবে না।

আজ সকালে শরীরটা তো বেশ ঝরঝরেই লাগছে রে! কিন্তু উঠতেই সবাই এমন খা-খা করে তেড়ে এল যে ভয়ে আবার শয্যা নিতে হল। যাই বলিস বাপু, পাঁচ-সাত দিন বিছানায় পড়ে থাকা আমার পোষাবে না। কর্তার মুখ দেখেই বুঝতে পারছি খাওয়া-দাওয়া ঠিকমতো হচ্ছে না। হীরারও পেট ভরছে না।

পারুল হাসছিল। বলল, আমাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দাও ওদের। কদিন না হলে ওখানেই খেয়ে আসুক। মা সেটাই বলে পাঠিয়েছে।

তেমন আতান্তরে পড়লে না হয় যাবে। কিন্তু তা বলে মেয়েরা সংসার সামাল দিতে শিখবে না, এটাই বা কেমন কথা বল! দুদিন পরে যখন বিয়ে হয়ে শ্বশুরবাড়ি যাবে তখন কী হবে বল তো!

শ্বশুরবাড়ি যাওয়া মানেই বুঝি উদয়াস্ত সংসারের ঘানি টানা তোমার মতো?

ও মা! ঘানি না টানলে সংসারে কি লক্ষ্মীশ্রী থাকে? কোনটা না দেখলে চলে বল তো! পঁয়তাল্লিশ বছরের ওপর সংসার করছি। আজও মনে হয়, সংসারের কত কিছুই এখনও শিখিনি।

একটা শ্বাস ফেলল পারুল। ছোটমাকে বুঝিয়ে কিছু লাভ নেই। যেমন বুঝিয়ে লাভ হয় না তার মাকেও। পৃথিবী দ্রুত পালটে যাচ্ছে বাইরের দুনিয়ায়। তার ঢেউ এখনও এসে পৌঁছায়নি এখানে। সেদিন কেবল টিভি-তে একটা হিন্দি সিরিয়াল চলছিল। তাতে একটা মেয়ে বোধহয় তার মাকে বলছিল, তোমাদের যুগ চলে গেছে। আমার জীবন নিয়ে আমি কী করব তা আমাকেই ভাবতে দাও। বা ওরকমই কিছু কথা। তার মা বিরক্ত হয়ে বলল, বন্ধ কর তো। ও আর ভাল লাগে না। মেয়েটা একটা স্বামী ছেড়ে আর একটার সঙ্গে লটরপটর করছে। মা ভাল কথা বলতে এসেছে। অমনি লেকচার দিচ্ছে দেখ। টিভিগুলোও হয়েছে আজকাল, উলটো-পালটা শেখাচ্ছে লোককে।

রামহরি গাড়ি ভাড়া করে এনেছে। বর্ধমান নিয়ে যাবে স্ত্রীকে। মুখখানা গম্ভীর। বউ নামক বস্তুটি নিয়েও যে এরকম মাথা ঘামাতে হবে, অপচয় করতে হবে এত টাকা, সময় ও শ্রমের, এটা যেন তার স্বপ্নেরও অগোচর ছিল।

দেখ তো, কী ঝামেলাই বাধাল তোর ছোটমা!

পারুল হাসল, ঝামেলা বলছ কেন? শরীর থাকলে খারাপও তো হবেই।

ডাক্তার তো স্ট্রোকেরও ভয় দেখিয়ে গেল।

অত ভয় পেয়ো না ছোটকাকা, প্রেশার তো মায়েরও আছে। রেগুলার ওষুধ খেলে কিছু হবে না। ঘাবড়ানোর কিছু নেই। সঙ্গে কে যাচ্ছে?

বিজু, তার সব চেনাজানা আছে বর্ধমানে।

দঙ্গলটা বর্ধমানে রওনা হওয়ার পর পারুল পান্নার দিকে ফিরে বলল, কী রে মুখপুড়ি, খুব নাকি কাজকর্ম করছিস?

আর বোলো না পারুলদি। আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। সংসার যে এরকম বিচ্ছিরি তা তো জানা ছিল না!

দুর পাগল, সংসার বিচ্ছিরি হবে কেন? তুই আসলে ঘাবড়ে গেছিস।

পান্নার চোখ ছলছল করছিল। বলল, হ্যাঁ পারুলদি, ভীষণ ঘাবড়ে গেছি। খুব মন দিয়ে রান্না করলাম, তবু ভাত গলে গেল, ডালে কাঁচা তেলে ফোড়ন দিয়ে ফেললাম। এত করছি তবু মা বকুনি দিচ্ছে।

আচ্ছা, এবেলাটা চালিয়ে নে। রাত থেকে আমাদের ওখানে সবাই খাস। আমাদের তো রান্নার বামুন আছে, প্রবলেম হবে না।

তাহলেই কি মা কথা শোনাতে ছাড়বে? বলবে ধেড়ে মেয়ে বাড়িতে থাকতে ও-বাড়িতে সবাই খাচ্ছে, পাঁচ জনে বলবে কী?

যা খুশি বলুক, কান না দিলেই হয়। ছোটমাকে আমি বুঝিয়ে বলবখন। আয়, গল্প করি।

এক গাল হেসে পান্না বলল, তুমি এসে বাঁচালে আমাকে। কাল থেকে এত মন খারাপ লাগছিল! একে মায়ের অসুখ তার ওপর ডাক্তারটা বেরোল বুড়ো।

কে ডাক্তার রে? অনল বাগচী?

হ্যাঁ তো!

ও মা সে বুড়ো হবে কেন? চল্লিশের বেশি তো নয়! তা তার বয়স দিয়ে তোর কী হবে রে মুখপুড়ি?

কঁদো কাঁদো হয়ে পান্না বলল, বলব তোমাকে? কাউকে বলে দেবে না তো!

পারুল হাসছিল, প্রেমে পড়েছিলি নাকি?

দেখ না কাণ্ড! পুজোর ভাসানে গিয়ে ঠান্ডা লেগে আমার কীরকম জ্বর হয়েছিল মনে আছে? তা থাকবে না কেন?

তখন তো ওই অনল বাগচীই দেখতে এল আমাকে।

হ্যাঁ, তা জানি। খুব নামকরা ডাক্তার। বর্ধমান মেডিকেল কলেজে পড়ায়।

হ্যাঁ তো। জ্বরের ঘোরে আমি দেখেছিলাম ভারী সুন্দর দেখতে একটা ছেলে যেন। খুব লম্বা, ছিপছিপে, ফর্সা, গম্ভীর আর কী গমগমে গলা। খুব পারসোনালিটি, দেখে এত ভাল লাগল যে অসুখের মধ্যেও গা সিরসির করছিল।

পারুল হেসে গড়িয়ে পড়ছিল, এত কাণ্ড?

আর বোলো না। আমার তো মনে হয়েছিল যাকে এতকাল মনে মনে খুঁজছি এ-ই সে। একজন ডাক্তারকেই তো আমার বিয়ে করার ইচ্ছে ছিল, তাই বোধহয় ভগবান ঠিক লোকটিকে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

ও মা! কোথায় যাব রে! কী পাগল তুই?

তাই তো বলি। তারপর অনল বাগচী নামটা শুনলেই কেমন যেন শিহরন হতে লাগল। নামটাও কী সুন্দর বলো!

তারপর কী হল?

তারপর আর কী! অসুখ-টসুখও করছে না যে অনল বাগচি আবার আসবে। ভিতরে ভিতরে চাইছি একটা অসুখ-টসুখ কিছু করুক আমার। তাহলে আসবে।

তোর বদলে শেষে অসুখ হল কিনা ছোটমা-র!

হ্যাঁ। বিশ্বাস করবে না কাল বাবা ডাক্তারকে ডাকতে গেলে আমি একটু সেজেগুজেও গিয়েছিলাম। তারপর যখন ডাক্তার এল তখন এক গাল মাছি। ধুস!

পারুল মুখে আঁচল চাপা দিয়ে খানিকক্ষণ হেসে নিয়ে বলল, আজ কতদিন পর এত হাসলাম।

পান্না কান্না-হাসি মেশানো মুখে বলল, তুমি তো হাসছ! আমার অবস্থাটা ভাব তো! কত রোমান্টিক চিন্তা করে রেখেছিলাম। মাথায় ঠান্ডা জল ঢেলে দিয়ে গেল এক ঘটি। এত রাগ হচ্ছে লোকটার ওপর।

ওমা! লোকটার দোষ কী বল! সে তো কিছু করেনি!

আহা, করেনি আবার! অত বয়স হওয়ার কী দরকার ছিল লোকটার! আর একটু সুন্দর হলেই বা কী ক্ষতি ছিল বলো! বারেন্দ্র হওয়ারও কোনও দরকার ছিল না।

শুধু বারেন্দ্র? শুধু বয়স? আর কিছু নয় বুঝি রে মুখপুড়ি?

আরও কিছু আছে বুঝি?

নেই! ওর যে মেম বউ!

জিব কেটে পান্না বলে, ওই যাঃ, বিয়ের কথাটা তত একদম ভুলে গিয়েছিলাম! তাই তো! বিয়ে তো হতেই পারে। জ্বরের ঘোরে সেসব কি আর খেয়াল ছিল? পরেও আর মনে হয়নি কথাটা।

কেন মনে হয়নি?

মনে হয়েছিল ওকে ভগবান আমার জন্যই পাঠিয়েছে।

আহা রে! তাহলে বুক ভেঙে গেছে বল!

না সেরকম কিছু তো হচ্ছে না। শুধু রাগ হচ্ছে। লোকটা একদম যাচ্ছেতাই।

তুইও একটা যাচ্ছেতাই। পছন্দ করতেও সময় লাগে না, নাকচ করতেও না।

আসলে কী জান! বলব?

বল না।

আমার বড্ড নাক-উঁচু তো। কোনও পুরুষকেই তেমন পছন্দ হয় না। মনটা কেবল খুঁতখুঁত করে। ওর দাত উঁচু, এ বেঁটে, সে কেমন ম্যাদামারা, কেউ হয়তো একটু বেশি পুতুল-পুতুল। ঠিক মনের মতো কেউ নয়।

তাই তো রে! তাহলে তো মুশকিল!

ভীষণ মুশকিল। আমার বন্ধুরা তো বলে, তুই যেমন খুঁতখুঁতে, হয় তোর বরই জুটবে না, না হয় তো একটা কালো মোটা ঘেমো জাম্বুবান জুটবে।

ইস! তা কেন? তোর বর আমি খুঁজে দেব।

ডাইনে বাঁয়ে মাথা নেড়ে পান্না বলে, পাবে না। আমি যাকে চাই তাকে আমিই ভাল বুঝতে পারি না। রোজ তার চেহারা পালটে যায়।

এই রে, তাহলে কী হবে?

কাঁচুমাচু হয়ে পান্না বলে, সেটাই তো হয়েছে মুশকিল। আজ একরকম ভাবি কালই যে অন্যরকম হয়ে যায়। চেহারা পালটায়, স্বভাব, চরিত্র, গুণ তাও কি আর এক রকম থাকে? আমার এক সময়ে মনে হত আমার পুরুষটা খুব ভাল রবীন্দ্রসংগীত গাইতে পারবে। তারপর হল কী একদিন বিজুদা বলছিল, পুরুষমানুষ হারমোনিয়াম নিয়ে বসে প্যানপ্যানে রবীন্দ্রসংগীত গায় ও আমার একদম সহ্য হয় না। ব্যস, পরদিন থেকেই আমি রবীন্দ্রসংগীত জানা পুরুষ বাতিল করে দিলাম।

আচ্ছা পাগলি যা হোক। যাকে পাবি তার দোষগুণ নিয়েই তো সেই মানুষটা, একদম মনের মতো কি হয়?

আমার হবে না পারুলদি। আমি বড্ড ন্যাকা।

ভ্যাট, তুই একটুও ন্যাকা নোস। ন্যাকা হলে কখনও অনল বাগচির কথা আমাকে অত সরলভাবে বলতে পারতিস না।

তোমাকে যে আমার সব বলতে ইচ্ছে করে। তোমার যা বুদ্ধি। কী করব বলল তো! মা একটা দিন শুয়েছিল, আমাকে একটু সংসারের কাজ করতে হয়েছে, অমনি আমার মন বিগড়ে বসে আছে। কাল রাত থেকে কেবল ভাবছি বিয়ে করলে আমাকে তো মায়ের মতোই জীবন যাপন করতে হবে! সে আমি পারব না। থাক বাবা দরকার নেই আমার বিয়ের। স্বপ্নের পুরুষ স্বপ্নেই থাক।

বিয়ে করলে একটু স্বপ্নভঙ্গ তো হয়ই। কিন্তু তোর যে বিয়ের আগেই হয়ে বসে আছে।

হবে না! এত কিছু করলুম, তার কারও মন উঠল কি? সংসারটা ভারী অকৃতজ্ঞ। মাও কথাটা বলে।

সে তো বটেই। কিন্তু ছোটমা সেরে উঠলে জিজ্ঞেস করিস তো এই সংসার ছেড়ে যদি তাকে অন্য একটা সুখের জীবন দেওয়া যায়, যেখানে কাজকর্ম করতে হয় না, কারও দায় ঘাড়ে নিতে হয় না, চারদিকে চোখ রাখতে হয় না তাহলে ছোটমার কেমন লাগবে।

কেন পারুলদি, ভালই তো লাগবে।

জিজ্ঞেস করে দেখিস না। এইসব ঝামেলা ঝঞ্ঝাট দায়িত্ব এসব নিয়ে যতই চেঁচামেচি করুক না এই খোঁট ছাড়া ছোটমা এক মুহূর্ত থাকতেও পারবে না। নিজেকে দিয়ে তো বুঝি।

কী বোঝো বলো না পারুলদি, বলো।

বিয়ের পর মেয়েদের একটা স্বপ্নভঙ্গ হয়। সে তুই এখন ঠিক বুঝবি না। ভীষণ প্রেম-ট্রেম করে বিয়ে করলেও হয়। জীবনটা তো স্বপ্নের মতো নয়। কিন্তু স্বপ্নভঙ্গের পরও দেখবি দিব্যি বেশ আছিস দুজনে। বয়সে ভারভাত্তিক হলে দেখবি কিছু খারাপ লাগছে না। নতুন একটা ইমপেটাস পাওয়া যায়।

কিন্তু আমার কী হবে পারুলদি?

তুই কি আলাদা? ওরকম মনে হয়। তারপর দেখিস তুইও যা আমিও তা।

কিন্তু পারুলদি।

বল।

একটা কথা বলব, কিছু মনে করবে না?

না রে, বল না, এখন বড় হয়ে গেছিস, লজ্জা কীসের?

অমলদার কথাই বলছি, তোমার প্রেমে পড়েছিল তো?

হদ্দমুদ্দ। বলে হেসে ফেলল পারুল, শুধু অমলদা নয়, আমিও তো।

কীরকম প্রেম ছিল তোমাদের?

গাঁ-দেশে তো আর হাত ধরাধরি করে ঘুরিনি। একটু ভাব হয়েছিল, দুপক্ষের মা বাবারা বিয়েও ঠিক করে ফেলেছিল। অমলদা আমাদের বাড়ি আসত, আমি ওদের বাড়ি যেতাম।

তারপর কী হল?

অমলদা যদি ভালবাসাটাকে গলা টিপে মেরে না ফেলত তাহলে বিয়ে হত। তারপর কী হত জানি না।

তোমার কথা শুনে কী মনে হয় জানো?

কী?

মনে হয় তোমার সেই ভালবাসার স্মৃতিও আর নেই।

একটা শ্বাস ফেলে পারুল বলল, থাকার কথা নাকি?

কিন্তু অমলদার অবস্থা দেখেছ?

কী অবস্থা?

তোমার জন্যই কিন্তু বেচারা একদম সুখী হতে পারল না।

কে বলল তোকে?

তাই তো মনে হয়। মদ খায়, কেমন ভ্যাবলার মতো চেয়ে থাকে, বউয়ের সঙ্গে নাকি সবসময়ে খিটিমিটি। সোহাগ বলে সব তোমার জন্যই।

বাজে কথা।

তোমার জন্য নয়?

আমি তা জানি না। আমার মনে হয় আমি ওকে বিয়ে করলেও অমলদা এরকমই হত যেমনটা এখন আছে। যা হয়েছে ভালই হয়েছে।

একটু হেসে পান্না বলল, আমারও বিরহটাই ভাল লাগে।

তার মানে?

আই লাইক ট্র্যাজিক এন্ডিং। প্রেম-ট্রেম হয় তোক বাবা, কিন্তু তারপর যেন শরৎচন্দ্রের মতো একটা বেশ সেন্টিমেন্টাল ট্র্যাজেডিও ঘটে যায়। নইলে প্রেমটা একদম আলুসেদ্ধ হয়ে যাবে।

সকল অধ্যায়
১.
প্রথম অধ্যায়
২.
দ্বিতীয় অধ্যায়
৩.
তৃতীয় অধ্যায়
৪.
চতুর্থ অধ্যায়
৫.
পঞ্চম অধ্যায়
৬.
ষষ্ঠ অধ্যায়
৭.
সপ্তম অধ্যায়
৮.
অষ্টম অধ্যায়
৯.
নবম অধ্যায়
১০.
দশম অধ্যায়
১১.
একাদশ অধ্যায়
১২.
দ্বাদশ অধ্যায়
১৩.
ত্রয়োদশ অধ্যায়
১৪.
চতুর্দশ অধ্যায়
১৫.
পঞ্চদশ অধ্যায়
১৬.
ষোড়শ অধ্যায়
১৭.
সপ্তদশ অধ্যায়
১৮.
অষ্টাদশ অধ্যায়
১৯.
ঊনবিংশ অধ্যায়
২০.
বিংশ অধ্যায়
২১.
একবিংশ অধ্যায়
২২.
দ্বাবিংশ অধ্যায়
২৩.
ত্রয়োবিংশ অধ্যায়
২৪.
চতুর্বিংশ অধ্যায়
২৫.
পঞ্চবিংশ অধ্যায়
২৬.
ষড়বিংশ অধ্যায়
২৭.
সপ্তবিংশ অধ্যায়
২৮.
অষ্টাবিংশ অধ্যায়
২৯.
ঊনত্রিংশ অধ্যায়
৩০.
ত্রিংশ অধ্যায়
৩১.
একত্রিংশ অধ্যায়
৩২.
দ্বাত্রিংশ অধ্যায়
৩৩.
ত্রয়োত্রিংশ অধ্যায়
৩৪.
চতুর্ত্রিংশ অধ্যায়
৩৫.
পঞ্চত্রিংশ অধ্যায়
৩৬.
ষট্ত্রিংশ অধ্যায়
৩৭.
সপ্তত্রিংশ অধ্যায়
৩৮.
অষ্টত্রিংশ অধ্যায়
৩৯.
ঊনচল্লিশ অধ্যায়
৪০.
চল্লিশ অধ্যায়
৪১.
একচল্লিশ অধ্যায়
৪২.
দ্বিচল্লিশ অধ্যায়
৪৩.
ত্রিচল্লিশ অধ্যায়
৪৪.
চতুর্চল্লিশ অধ্যায়
৪৫.
পঞ্চচল্লিশ অধ্যায়
৪৬.
ষট্চল্লিশ অধ্যায়
৪৭.
সপ্তচল্লিশ অধ্যায়
৪৮.
অষ্টচল্লিশ অধ্যায়
৪৯.
ঊনপঞ্চাশ অধ্যায়
৫০.
পঞ্চাশ অধ্যায়
৫১.
একান্ন অধ্যায়
৫২.
বায়ান্ন অধ্যায়
৫৩.
তিপ্পান্ন অধ্যায়
৫৪.
চুয়ান্ন অধ্যায়
৫৫.
পঞ্চান্ন অধ্যায়
৫৬.
ছাপ্পান্ন অধ্যায়
৫৭.
সাতান্ন অধ্যায়
৫৮.
আটান্ন অধ্যায়
৫৯.
ঊনষাট অধ্যায়
৬০.
ষাট অধ্যায়
৬১.
একষট্টি অধ্যায়
৬২.
বাষট্টি অধ্যায়
৬৩.
তেষট্টি অধ্যায়
৬৪.
চৌষট্টি অধ্যায়
৬৫.
পঁয়সট্টি অধ্যায়
৬৬.
ছেষট্টি অধ্যায়
৬৭.
সাতষট্টি অধ্যায়
৬৮.
আটষট্টি অধ্যায়
৬৯.
ঊনসত্তর অধ্যায়
৭০.
সত্তর অধ্যায়
৭১.
একাত্তর অধ্যায়
৭২.
বাহাত্তর অধ্যায়
৭৩.
তিয়াত্তর অধ্যায়
৭৪.
চুয়াত্তর অধ্যায়
৭৫.
পঁচাত্তর অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%