দ্বাবিংশ অধ্যায়

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

বাইশ

আগে পাড়াপ্রতিবেশীরা ভাবত বাঙালবাড়িতে বুঝি ঝগড়া লেগেছে। ঝগড়া দেখতে চলেও আসত কেউ কেউ। আজকাল সবাই জেনে গেছে, হাঁকডাক আর চেঁচামেচি হল বাঙালের স্বভাব। ভাল কথাটাও উঁচু গলায় না বললে তার সুখ হয় না। বিষয়ী কথাই হোক, আদুরে কথাই হোক পাঁচবাড়ি জানান দেওয়া চাই। হাঁকডাক শুনলেই পাড়া-প্রতিবেশীরা নিজেদের মধ্যে কওয়াকওয়ি করে, ওই বাঙাল এয়েছে, কদিন এখন ভূত-প্রেতও তফাত থাকবে।

ধীরেন কাষ্ঠ কিন্তু খুশিই হয়। বাসন্তীকে একবার বলেছিল, যারা চেঁচিয়ে কথা কয় তাদের মনে ময়লা নেই। তারা সরল মানুষ।

জিজিবুড়ি বলে, ও হচ্ছে মাগী নাচানো গলা। খোঁজ নিয়ে দেখগে, আলকাপ না বউ মাস্টারের দলে যাত্রা থিয়েটার করে বেড়াত। ও কী গলা বাবা, বাঘের অবধি পিলে চমকে যায়। জন্মের পর মা মাগী বোধহয় তেঁতুলগোলা গিলিয়ে দিয়েছিল।

কথাটা ঠিক যে, হাঁকডাকে বাঙাল খুব দড়। সকালবেলা রসিক বাঙাল তার বাজখাঁই গলায় হাঁকডাক করতে করতেই দোতলা থেকে নামছিল, কই রে, হারু কই গেলি? মরইন্যাটা কইরে? আরে তুমি কই গ্যালা…?

বাঙালের বাঁ কোলে হাম্মি, ডান হাতে এক গোছা ভাঁজ করা রুটি। সকাল আটটা সাড়ে আটটায় বাঙাল রোজ কাককে রুটি খাওয়ায়। বাঁধা নিয়ম।

উঠোনের কোণে রান্নাঘর থেকে বাসন্তী হাসিমুখে বেরিয়ে এল।

কী বলছ?

বেহানবেলায় পাকঘরে ঢুইক্যা করটা কী?

জলখাবার করছি তো।

পোলাপানগুলি কই?

একটা তো তোমার কোলে। মরণ পড়তে বসেছে, আর সুমন এখনও ঘুমোচ্ছ।

তাই কও।

আসলে এই ডাকখোঁজ করাটা বাঙালের স্বভাব। আপনজনরা কে কোথায় কী করছে সে খবরটা সবসময়ে চায়। বড্ড মায়া লোকটার। যা করবে তা সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে করবে। জন না হলে যেন বাঙালের এক মুহূর্ত চলে না।

কাউয়া খাওয়াইতে যাইতাছি। আইবা নাকি?

উনুনে যে তরকারি হচ্ছে। পুড়ে যাবে।

আইচ্ছা মাইয়্যালোক, বান্ধন-বান্ধন লইয়াই থাক গিয়া।

দুড়দাড় করে উঠোন পেরিয়ে গেল লোকটা। বাসন্তী হাসিমুখে চেয়ে রইল। বড্ড ছেলেমানুষ তার এই মানুষটা। মানুষটার আধখানামাত্র সে পেয়েছে। তাইতেই ভরে গেছে বাসন্তীর। পুরোটা যদি পেত! না, থাক। ওসব ভাবতে নেই।

উঠোনের পুব-দক্ষিণ কোণে গোয়ালঘরের পিছনে সবজিবাগান ঘেঁষে একটা ফর্সা জায়গা আছে। সেখানে রাজ্যের কাক বাঙালের জন্য ওত পেতে থাকে। বাঙাল রুটির টুকরো ছুড়ে ছুড়ে দেয় আর কাকগুলো নানা কায়দায় শূন্যে পাক খেয়ে খেয়ে এরোপ্লেনের মতো গোঁত্তা মেরে শূন্য থেকেই লুফে নেয় ঠোঁটে। দৃশ্যটা খুব উপভোগ করে বাঙাল। খুব হাসে, খা, খা, ভাল কইরা খা।

বাপের কোল-সই হয়ে হান্মিও দৃশ্যটা খুব মন দিয়ে দেখে আর নানা শব্দ করে চেঁচায়। দুই শিশুর কাণ্ড।

রান্নাঘরে গা-ঢাকা দিয়ে জিজিবুড়ি বসা। রোজ সকালেই এ সময়ে একবারটি আসে সে। লুকিয়ে বসে এক কাপ দুধ-চা খেয়ে যায়। বাসন্তী মায়া করে তাকে ওটুকু দেয়।

চাপা গলায় জিজিবুড়ি বলে, ওই চললেন কাককে ভোজ খাওয়াতে। ওই করে করেই ঘটিবাটি সব চাঁটি হবে বলে রাখছি বাপু। শেষে কৌপীনসম্বল। বলি কাকের মতো নিঘিন্নে জীব আছে? সারাদিন অখাদ্য সব জিনিস খেয়ে বেড়ায়, পচা-ঘচাবাসি-ত্যাতা কোনটায় অরুচি দেখেছিস? কেলেকুষ্টি, ছিষ্টিছাড়া কাককে কেউ নেমন্তন্ন করে পয়সার জিনিস খাওয়ায় আহাম্মক ছাড়া? আড়াইশো তিনশো আটা জলে গেল। কত দাম হয় হিসেব করেছিস কখনও?

তুমি চুপ করো তো মা। তার ইচ্ছে হয়, তাই খাওয়ায়। ভূতভূজ্যি বলেও তো একটা কথা আছে, নাকি?

তুই আর বাঙালের পোঁ ধরিসনি তো! দশ বারোখানা আটার রুটি কি কম কিছু হল? দুটো মনিষ্যির খোরাক। তোর ভালর জন্যই বলি৷ নইলে দিক না সব উড়িয়ে পুড়িয়ে, আমার তাতে কী?

দুধ খেতে এসেছ চুপচাপ বসে দুধ খাও। এ-সংসারের ব্যাপারে তোমার অত নাক গলানোর দরকার কী?

ওলো আমার সংসারী লো! দুদিনের বৈরিগী ভাতকে বলে মালসাভোগ। বলি সংসারটার সুসার হয় কীসে তা বুঝি দেখার দরকার নেই?

আমার সংসারে সুসারের অভাব কবে দেখলে? ওসব বোলো না তো! ভাল লাগে না। ও মানুষ সবাইকে খাওয়াতে ভালবাসে।

খেয়ে খেয়েই তো বাঙালগুলো গেল। পেছনের কাপড় তুলে দিনরাত কেবল গিলছে। অমন রাক্ষুসে খাঁই দেখিনি বাপু। আড়াইটি লোকের সংসার, তা বাপু ফি শনিবারে দেখি গন্ধমাদন বয়ে নিয়ে আসছে। মাছ রে, মাংস রে, ঘি রে, তেল রে…যেন মচ্ছব লেগেছে। এই বলে দিচ্ছি এখন থেকে একটু লাগামে টান দে, নইলে তোর দশাও শেষে আমার মতো হবে। সেই মিনসে আমাকে যে দশায় ফেলে গেছে এখন সামনে পেলে তার মুখে মুড়ো জ্বেলে দিতুম।

বাসন্তী ঝাঁঝিয়ে উঠে বলে, খাওয়া নিয়ে খোঁটা দেবে না তো মা! তোমাদের মতো স্বার্থপর মানুষ তো নয়। খেতে জানে, খাওয়াতেও জানে।

খাওয়াতে জানে ওই কাক-বক শ্যালকুকুরকে। দুটো শালা, শাউড়ি এদের যে পেটে পাটকেল সিদিকে খেয়াল আছে? কত বড় দাতাকর্ণ এলেন রে? আবার বলে খেতে জানে, খাওয়াতেও জানে!

দেখো মা, সোজা বলে দিচ্ছি কাল থেকে আর এসো না। আমি আর তোমার আফিং-এর দুধ জোগাতে পারব না। যারটা খাবে তারই নিন্দে করে বেড়াবে সেটা আমি আর সহ্য করব না।

জিজিবুড়ি একটু মিইয়ে গেল। জুল জুল করে মেয়ের মুখপানে একটু চেয়ে দেখল। হাতের গেলাস থেকে চায়ের লিকার মেশানো দুধ সুড়ুৎ সুড়ুৎ করে কয়েক চুমুক খেয়ে গলাটা মোলায়েম করে বলল, বাব্বা, কী এমন বললুম যে, তোর আঁতে লাগল। ভালর জন্যই বলা। বাঙাল কি আর মনিষ্যি খাবাপ! হাতটাই যা একটু দরাজ। তাই তো বললুম, নাকি?

যা বলেছ সে আমি বুঝেছি। কাল থেকে তোমার দুধ বন্ধ রইল।

জিজিবুড়ি একটু তোম্বা মুখ করে বসে থেকে বলে, আফিং খাই বলেই আতান্তরে পড়েছি মা, নইলে কি আর মান খোয়াতে আসি। তা সেই আফিংটাই বা জোটে কোথায়? কানাই আফিং-এর খোসা এনে দেয়, তাই জলে সেদ্ধ করে খাওয়া। বাঙালকে বলে পপা টাক আফিং-ও তো আনিয়ে দিতে পারিস। দশ মাস গর্ভে ধরেছিলুম, সে কথা কি ভুলে গেলি যে, খুঁড়ছিস!

গলা উঁচুতে তোলা যাচ্ছে না, তবু তার মধ্যেই যতটা সম্ভব দ্বেষ মিশিয়ে বাসন্তী বলে, তোমাকে হাড়ে হাড়ে চিনি মা। ছেলেরা লাথিঝাটা মারলেও তুমি তাদের দোর ধরে পড়ে থাকবে। তাদের খোঁট ছাড়বে। না। তা এনে দিক না তারা তোমার আফিং। তার বেলা আমার বাঙাল বরকে দরকার হয় কেন? তাও তিন-চার মাস আগে দু ভরি আফিং আনিয়ে দিয়েছিলাম। অত মুখ মুছে ফেল কী করে বলল তো! বেইমান আর কাকে বলে?

জিজিবুড়ি দুধ-লিকারের শেষটুকু গিলে ধপাৎ করে গেলাসটা মেঝেতে রেখে বলল, ইঃ, বড় যে বেউলো হলি। বলি বাঙাল কি তোর আর জন্মের স্বামী নাকি লা? বে বসেছিল লোক দেখাতে। ও মোটে বে-ই নয়। রাঁড়ের মতো আছিস, তাই থাকবি। ও তোকে বউ বলে বড় গেরাহ্যি করে কি না। তুই বোকার বেহদ্দ বলে দুধের বদলে পিটুলিগোলা খেয়ে নাচছিস। চোখ থাকলে সব দেখতে পেতিস। ভারী তো এক পো দুধ খাওয়াস তার জন্য এত কথা!

বাসন্তী জিজিবুড়ির দিকে এমনভাবে তাকাল যেন ভস্ম করে ফেলবে। তারপর দাঁতে দাঁত পিষে বলল, তোমাকে মা বলে ডাকতে আজকাল ঘেন্না হয়। যাও তো, এখন বিদেয় হও। আর এ-মুখো হয়ো না।

তোম্বো মুখ করে জিজিবুড়ি উঠে পড়ল। বলল, আমাকে তাড়ালে কি আর দাগ উঠে যাবে? যা বললুম ভাল করে ভেবে দেখিস। দুটো পয়সার মুখ দেখেছিস বলে বড্ড অহংকার তোর।

জিজিবুড়ি বিদেয় হওয়ার পর বাসন্তী চুপ করে বসে রইল। তার দু চোখের জলের ধারায় ভেসে যাচ্ছিল গাল। কড়াইয়ে তরকারি পোড়া গন্ধ ছাড়তে লাগল। খেয়ালই করল না সে।

তার বুকের মধ্যে ঝুলকালির মতো ভয়টা তো আছেই। সত্যিই সে রসিক সাহার কতখানি বউ? কতখানি অধিকার তার ওই মানুষটার ওপর? টাকাপয়সার অভাব রাখেনি, বাড়িঘর জমি-জমা সব তার নামে। কিন্তু সেটাই তো আর স্বামীত্ব প্রমাণ করে না। লম্পট লোকেরা তাদের রক্ষিতাদের তো কত কিছু দেয়, তাতে তো রক্ষিতা বউ হয়ে যায় না। সে ভাবতে চায় না, তবু মাঝেমাঝে প্রশ্নটা হঠাৎ ছোবল তোলে মনের মধ্যে, আমি ওর কতখানি বউ?

তার মায়ের বুকে গরল, মুখে গরল। ঠিক কথা। কিন্তু কখনও কখনও এমন কথা কয় যে বড্ড চমকে যায় বাসন্তীর ভিতরটা। নিশ্চিন্ত, সুখী মনটা যেন কাচের গেলাসের মতো ঝনঝন করে ভেঙে শতখান হয়ে পড়ে। তখন বড় দিশাহারা লাগে। এখন বড় পাগল-পাগল লাগে। এখন ইচ্ছে হয়, ছুটে কোথাও পালিয়ে যায়।

মাঝে মাঝে আদর সোহাগের সময় সে রসিকের বুক ঘেঁষে মাথাটা সাপটে দিয়ে বলে, এত সুখে রেখেছ কেন আমায় বলো তো! এত সুখ কিন্তু ভাল নয়।

ক্যান গগো, তোমারে কি সুখে থাকতে ভূতে কিলায়?

হুঁ, কিলোয়। আমার বড় ভয়-ভয় করে যে! ছেলেবেলা থেকে আদর-সোহাগ পাইনি তো কখনও। অভাবের সংসার, নিত্যি খিটিমিটি, কথায় কথায় চড়চাপড়, আধপেটা খাওয়া এইসব নিয়েই বড় হয়েছি। তাই মনে হয় ভগবান আবার সব কেড়ে না নেন। বড্ড ভয় যে!

তুমি একখান আজব মাইয়ালোক। অত ডরাও ক্যান?

ভয় কি সাধে পাই! আমাকে বিয়ে করে তোমারও তো কত ঝঞ্জাট গেল। আমার দাদারা তোমার পেছনে গুণ্ডা লাগিয়েছিল, ধান চাল চুরি করত, গাঁয়ের লোককে তোমার পিছনে লাগাত। আমি যে কী ভয় পেতুম!

আরে ওইসব কথা বাদ দেও তো! মাইর আমি অনেক খাইছি।

কিন্তু সবচেয়ে বড় ভয়ের কথাটা সে মুখ ফুটে বলতে পারে না।

সে কি বাঙালের সত্যিকারের বউ, না রক্ষিতা?

হ্যাঁ, তাদের পুরুত ডেকে বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু সে শুনেছে, আইনে নাকি ও বিয়ে গেরাহ্যি হয় না। তা হলে কি ইহজন্মে সে বাঙালের বউ হবে না?

এই চিন্তাটা ছাইচাপা আগুনের মতো তার বুকের মধ্যে সবসময়ে থাকে। মাঝমাঝে তার মা এসে সেটাকে ফুঁ দিয়ে গনগনে করে দিয়ে যায়। ঝাঁপিতে যেমন সাপ নিশ্চিন্তে ঘুমোয়, সাপুড়ে তাকে খুঁচিয়ে জাগায়।

চোখের জল আজ বড় উথলে পড়েছে। জমি-বাড়ি-গাড়ি-গয়না ছেলেমেয়ে সব মিথ্যে মনে হচ্ছে। পায়ের তলায় বুঝি ধরণী নেই তার। ওই একটা লোককে ঘিরে তার লতিয়ে ওঠা জীবন যে মিথ্যে হয়ে যায় তা হলে। সেই মিথ্যে নিয়ে বাঁচবে কী করে বাসন্তী?

ফুলে ফুলে কাঁদছিল বাসন্তী। কাণ্ডজ্ঞান লুপ্ত হয়ে আকুল কান্নার নদী হয়ে যাচ্ছিল সে। তরকারি পুড়ল, কড়াই পুড়ল, তপ্ত লোহার গন্ধে ঘর ভরে গেল।

ও বউদি! ও কী গো! ঘরে যে অগ্নিকাণ্ড হবে! ইঃ বাবা…

দৌড়ে এসে উনুন থেকে কড়াই নামিয়ে তাতে ফ্যাঁস করে জল ঢেলে দিল হিমি, পাশের বাড়ির অক্ষয়বাবুর মেয়ে। সুমন আসার পর থেকে এ মেয়েটার যাতায়াত বেড়েছে। নানা ছুতোয় এসে হানা দেয়। একদম পছন্দ করে না বাসন্তী।

একটা উলের ডিজাইন দেখাতে এসেছিলাম। এসে দেখি কী কাণ্ড! কী হয়েছে বউদি, কাঁদছ কেন?

বাসন্তীর চেতনা ফিরল। আঁচলে ঢাকা মুখ সহজে তুলল না। মাথা নেড়ে ধরা গলায় বলে, কিছু না।

ঝগড়া হয়েছে বুঝি? তোমাদের তো কখনও ঝগড়া হয় না।

ফোঁপানিটা কিছুতেই লুকোনো যায় না। হেঁচকির মতোই বেসামাল জিনিস।

কড়াইটা ঝামা হয়ে গেছে বউদি। ওঠো তো, মুখেচোখে জল দাও।

লজ্জা করছিল বাসন্তীর। এই কান্না নিয়ে পাঁচটা কথা উঠবে। এমনিতেই সে একজনের দুনম্বর বউ বলে দুটো চারটে উড়ো কথা কানে আসে তার। গাঁ হচ্ছে কূটকচালির এঁদো পুকুর। চোখ মুছে বাসন্তী বলে, তুই এখন যা হিমি। আমার মনটা আজ ভাল নেই।

খুব ভাল মানুষের মতো হিমি রাজি হয়ে বলে, আচ্ছা বউদি, পরে আসবখন ডিজাইনটা দেখিয়ে নিতে।

ডিজাইন না ছাই। এসে নানা ফাঁকে সুমনের দিকে চেয়ে থাকে। ইশারা ইঙ্গিতের চেষ্টা করে। সুমন অবশ্য আনমনা ছেলে। কিন্তু বয়সটা খারাপ, কখন কী হয়ে যায়। বদনাম যা হওয়ার বাসন্তীরই হবে। বড়গিন্নি বলে বেড়াবে, ছেলেটার মাথা খাওয়ার মূলে এই হতভাগী বাসন্তী। তারই ষড়যন্ত্র।

কড়াই বের করে নিয়ে ফের নতুন করে রাঁধতে বসল বাসন্তী। জলখাবার দিতে আজ দেরি হয়ে যাবে একটু।

ধীরেন কাষ্ঠ ওঠে সেই কাকভোরে। ওঠা বলতে শয্যাত্যাগ। নইলে ঘুমও কি আর তেমন হয় আজকাল। মাঝরাত্তিরেই চটকা ভেঙে এপাশ ওপাশ। ঘড়ি ঘড়ি পেচ্ছাপও পায় এই শীতকালটায়। ঘুমের জো কী?

কাকভোরে উঠে লোকে ইষ্টনাম-টাম করে। ধীরেনের ইষ্ট-টিস্ট নেই। যৌবনকাল পেরিয়ে আধবুড়ো বয়স অবধি ধর্মে মতি ছিল না। আর এখন বুড়ো বয়সে মনে হয় ওসব করে আর হবেটা কী? তার যা পাহাড়প্রমাণ পাপ জমা হয়ে আছে তা ক্ষয় হওয়ার নয়। মাথায় তাই ভগবানকে আর ঢোকায়নি কাষ্ঠ, তাতে মনের জ্বালা আরও বাড়বে। পাপ নিয়ে নরক নিয়ে চিন্তা বাড়বে। তার চেয়ে নাস্তিক হওয়া ভাল। তা হলে আর ওসব ল্যাঠা থাকে না।

আলো ফুটি-ফুটি হলেই বেরিয়ে পড়ে ধীরেন। তার গরম জামাকাপড় বিশেষ নেই। যা আছে তাই চাপিয়ে নেয় গায়ে। মোটা গেঞ্জি, জামা, একটা আড়ে বহরে ধুতি, মোজা, চটি। শীতটাও ওখানেই বেশি লাগে।

ঘরে চা জোটে না তা নয়। তবে বেলা হয়। আর সে অখাদ্য চায়ের জন্য বসে থাকার মানে হয় না। যে বাড়িতে হানা দেবে সে বাড়িতেই একটু চা জুটেই যায় সকালবেলাটায়।

এ-গাঁয়ে বাঙালের বাড়িটাই তার সবচেয়ে পছন্দের। বাঙাল থাকলে তো কথাই নেই। দিলদরিয়া লোক। গিয়ে দুদণ্ড বসলে চা জোটে, খাবার-দাবারও জুটে যায়। বাঙাল বলে, খান খুড়া, খান। দুনিয়ায় খাওনের মতো বস্তু নাই।

তা খাওয়ার পরিপাটি আছে বাঙালের। সেজন্য খরচও করে দেদার।

এই সকালবেলায় বাঙাল কাককে রুটি-টুটি খাওয়ায়। ধীরেন প্রথমটায় যায় মহিম রায়ের বাড়ি। মহিমা ওঠে খুব সকালে। পুজোপাঠ সেরে উঠোনের রোদে বসে চা খায়। মহিমদার বাড়ির চা-টি বড় ভাল। ঘন লিকার, ভাল দুধের চা। সঙ্গে বিস্কুট। পুরনো কথা-টথা হয় কিছুক্ষণ।

গৌরহরি চাটুজ্জে বেঁচে থাকতে সেখানেও একটা ঠেক ছিল বটে ধীরেনের। গৌরহরিদা পগারপার হওয়ায় সেখানকার পাট একরকম উঠেছে। ক্রমে ক্রমে ঠেক কমে আসছে।

বেলা একটু গড়ালে ধীরেন কাষ্ঠ এ-পাড়া ও-পাড়া ঘুরে নানা ছোটখাটো দৃশ্য দেখে তারপর বাঙালবাড়িতে হানা দেয়।

দৃশ্যটা বড় ভাল। বাগানের এক কোণে বাঙাল জলচৌকিতে সেঁটে বসে রুটি ছিঁড়ে ছিঁড়ে শূন্যে তুলে ছুড়ে দিচ্ছে আর কাকেরা একটা অন্যকে এড়িয়ে কপাকপ তুলে নিচ্ছে ঠোঁটে।

ভারী আহ্লাদ হয় ধীরেনের। সব দৃশ্যেরই একটা সৌন্দর্য আছে। কাকেদের উড়ে উড়ে উড়ন্ত রুটির টুকরো ছিনতাই করাটার মধ্যেও একটু আর্ট থাকে।

কাক বককে আর কে খাওয়ায় আজকাল!

খুড়া নাকি? আরে আহেন আহেন। বহেন জুইত কইর‍্যা। আরে কে আছস, খুড়ারে একখান চেয়ার দে।

মুনিশ কামলার অভাব নেই। একজন দৌড়ে কেঠো চেয়ারখানা এনে পেতে দেয় আতাগাছের তলায়।

কাক রুটি খাচ্ছে—এই দৃশ্যটা হাসিমুখে খুব মন দিয়ে দেখে ধীরেন।

কাউয়ারা যে কথা কয় তা বোঝেন খুড়া?

ধীরেন হেসে বলে, না হে বাপু, কাকের ভাষা কি কেউ বোঝে? কিন্তু কিছু কয়, নাকি?

কাউয়ারা কথা কয় খুড়া, কান্দে, নালিশ করে।

সে কি তুমি বোঝো?

না খুড়া, তবে বুঝনের চেষ্টা করি। দুই একখানা কথা বুইঝ্যাও ফালাই।

সত্যি? কী বোঝ বলো তো!

ক্ষুধার কথা কয়, আহ্লাদের কথা কয়।

ধীরেন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, শুনেছি, আগে নাকি এসব নিয়ে চর্চা হত। আজকাল গাঁজাখুরি বলে সবাই উড়িয়ে দেয়।

উড়াইয়া দিলে সবই উইড়্যা যায়। থাকে কী কন তো!

কাকের ভাষা ধীরেন কাষ্ঠ বুঝতে পারে না ঠিকই। কিন্তু বাঙালের ভাষাটা বুঝতে পারে। শুধু মুখের ভাষা নয়, বাঙালের ওই যে মায়াদয়া, কাক কুকুর খাওয়ানো, দরাজ হাবভাব ওরও একটা ভাষা আছে। ওসব দিয়ে ভিতরের মানুষটাকে দেখা যায়। হাবভাব, আচার-আচরণেরও একটা ভাষা আছে। মুখের বুলি অনেক সময় সত্যি কথা কয় না। কিন্তু হাবভাব আসল মানুষটাকে ঠিক চিনিয়ে দেয়। একখানা মুচকি হাসি কখন যে লক্ষ কথাকে ছাড়িয়ে যায়, একখানা চোখের চাউনি যে কখন শত ছুরিকাঘাতের চেয়েও বেশি মারক হয়ে ওঠে। কী বলে যেন ব্যাপারটাকে আজকাল? বডি ল্যাংগুয়েজ না কী যেন!

বেহানবেলা কী খাইয়া আইছেন খুড়া?

হ-হ-হ করে লজ্জার হাসি হাসে ধীরেন। ভারী অপ্রস্তুত হয়ে বলে, কী আর খাব! সকালে বিশেষ খাই-টাই না। ওই একটু চা-বিস্কুট।

গরম রুটি-ব্যঞ্জন খাইবেন? আহেন, আহেন, আমার বউ রুটিটা বড় ভাল বানায়। পাতলা, নরম লাহান। আহেন।

ঘটনাটা নতুন কিছু নয়। বাঙালের বাড়িতে বাঙাল থাকলে এরকম প্রায়ই ঘটে। তবু ধীরেন আজও খুব লজ্জা পায়। এই লজ্জাবোধটুকুই যা এখনও আছে অবশিষ্ট। লোভ কি আর বশ মানতে চায়?

উঠোনে পা দিয়েই বাঙাল হাঁক মারল, কই গো, তোমার রুটি-মুটি হইছে নাকি? কয়েকখান বেশি কইরো। খুড়া আর আমি খামু।

রান্নাঘর থেকে বাসন্তী বলল, রুটি হচ্ছে। একটু দেরি হবে। বোসো।

ক্যান গো, আইজ দেরি ক্যান?

তরকারিটা পুড়ে গিয়েছিল। আবার চাপিয়েছি নতুন করে।

শোনো কথা! বলে বাঙাল খুব হাসল, শোনলেন খুড়া, ব্যঞ্জন নাকি পুইড়া গেছে। বহেন, জুইত কইরা রৌদ্রে বহেন। হইয়া যাইব। আমার বউ খুব কর্মিষ্ঠা রমণী।

একজন মুনিশ দৌড়ে গিয়ে কাঠের চেয়ারটা এনে উঠোনের রোদে পেতে দিল। রসিক বাঙাল কোলের মেয়েটাকে উঠোনে হামা দিতে ছেড়ে দিয়ে বলল, খেজুরের রস খাইবেন খুড়া?

কিছু খেতেই আপত্তি নেই ধীরেনের। এই বয়সে নাকি খাওয়া-দাওয়ার কাটছাঁট করে লোকে। তারা নমস্য মানুষ। ধীরেনের কাটছাঁট করার কিছু নেই। খিদে সেই যে খাপ পেতে বসে থাকে পেটের মধ্যে, সারাদিন তার নট নড়ন, নট চড়ন। তবু লাজুক মুখে বলে, তা খেতে পারি একটু।

কই রে, খেজুর রসের পাতিলটা লইয়া আয় দেখি। দেইখেন, ঘৎ কইর‍্যা গিল্যা ফালাইয়েন না। সারা রাইত গাছে ঝুইল্যা পাতিল এক্কেবারে ঠান্ডা কাল হইয়া আছে।

এক মুনিশ রসের হাঁড়ি নিয়ে এল।

দু গেলাস চোঁ চোঁ করে মেরে দিল ধীরেন। বুক পেট যেন জুড়িয়ে গেল একেবারে। হ্যাঁ, ঠান্ডা বটে। গলায় আর বুকে যেন চিড়িক মেরে গেল। তা হোক, ধীরেনের এতে কিছু হবে না।

হাম্মি হামা দিয়ে তকতকে উঠোনে খানিক দূর যায়, আবার ফিরে এসে বাঙালের হাঁটু ধরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। ওই যে ঝুব্বুস চেহারার একটা লোকের সঙ্গে তার বাবা কথা কইছে এটা তার পছন্দ নয়। লোকটা মাঝে মাঝে তাকে একটু আদর করার চেষ্টা করে। হাম্মি তাতে মোটেই খুশি হয় না। ছিটকে সরে যায়।

কাজের মেয়েরা উঠোনে চাটাই পেতে লেপ, কম্বল বালিশ রোদে দিচ্ছে। হাম্মি গিয়ে ছড়ানো একটা লেপের ওপর উঠে বসল।

রান্নাঘর থেকে বাসন্তী চেঁচিয়ে বলল, ওরে, মুতে দেবে লেপের ওপর। হাম্মিকে নামা।

রসিক হাঁ-হাঁ করে ওঠে, আহা, মুতুক, মুতুক। অর মুত তো গঙ্গাজল।

আহা, কীসব কথা। মা গঙ্গার অভক্তি হয় না বুঝি?

বাঙাল দরাজ একখানা হাসি হেসে বলে, তোমাগো গঙ্গার কথা আর কইও না গো, নিত্যি তিরিশদিন মাইনষে গুয়েমুতে গঙ্গারে নান্দিভাস্যি করত্যাছে। হাম্মির মুত আর কী দোষ করল?

ওসব কথা বলতে নেই। পাপ হয়।

দক্ষিণের বারান্দায় চারজন মুনিশ খেতে বসেছে। কোনও দিন ভাত, কোনও দিন মুড়ি। আজ মুড়ি। কাজের মেয়ে শীতলা ধামা ভর্তি মুড়ি নিয়ে এল ভাঁড়ারঘর থেকে। অ্যালুমিনিয়ামের থালায় ঢেলে দিচ্ছে দেদার পরিমাণে। মুনিশদের পাশে ঘটি ভর্তি জল। মুড়ি পাতে পড়তেই দু মুঠো মুখ-সই করে ঘটির জল হিছে মেরে মুড়ি নরম করে ফেলতে লাগল।

বাসন্তী রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে বলল, আজ তরকারি পুড়ে গেছে গো বাবারা, গরম চপ আনিয়েছি বটতলা থেকে, পেঁয়াজ লঙ্কা দিয়ে খেয়ে নাও আজ।

বুড়ো মুনিশ হারাধন একগাল হেসে বলল, চপ কি কিছু খারাপ জিনিস মা? ও মেরে দেবোখন, চিন্তা কোরো না। পোড়া তরকারি থাকলে তাও একটু দিও। আমাদের সব চলে।

না বাবা, সে খাওয়ার জো নেই। পুড়ে ঝামা।

গরম চপ পাতে পড়তেই তা ভেঙে মিয়োনো মুড়ির সঙ্গে মেখে নিতে লাগল মুনিশেরা। সঙ্গে পেঁয়াজ আর লঙ্কা।

এই দৃশ্য চোখ গোল করে মুগ্ধ হয়ে দেখে ধীরেন। মানুষ খাচ্ছে, এর চেয়ে ভাল ঘটনা আর কী হতে পারে তা তার মাথায় আসে না। পরিপাটি করে খাচ্ছে, তৃপ্তি করে খাচ্ছে, ভগবান যেন সামনেই দাঁড়িয়ে আছেন।

হঃ হঃ করে খুব হাসে ধীরেন। তার ভিতর থেকে আনন্দ যেন উথলে আসতে থাকে। ছোটখাটো এরকম কত ঘটনাই ঘটে যাচ্ছে দুনিয়াতে। দেখার লোক নেই, চোখ নেই। এইসব ঘটনার ভিতরেও কত রস, কত সৌন্দর্য। একেবারে টইটম্বুর।

বাবার এই উঠোনে বসে থাকাটা মোটেই ভাল চোখে দেখছে না মরণ। সামনে পড়ার বই খোলা রেখে সে হাঁ করে বসে বাইরেটা দেখছে। ওই বাইরেটা তাকে খুব ডাকাডাকি করে সবসময়ে। কিন্তু উঠোনে জ্যান্ত বাঘ বসা। কী করে বেরোবে সে?

তার পড়ার ঘরের পিছনেই রান্নাঘর। আজ মায়ে আর জিজিবুড়িতে খুব একচোট হয়েছে, তা অবশ্য প্রায়ই হয়। জিজিবুড়িকে কতবার মা বের করে দিয়েছে, আবার জিজিবুড়িও শাপশাপান্ত করতে করতে এ-বাড়িতে কোনওদিন আসবে না বলে প্রতিজ্ঞা করে চলে গেছে এবং ফের পরদিন এসেছে। সুতরাং সেজন্য চিন্তিত নয় মরণ, যেটা চিন্তার কথা সেটা হল মা আজ খুব কেঁদেছে। সহজে কাঁদে না তো মা!

ওই দাদা নামছে দোতলা থেকে! দাদাকে দেখলেই একটা আশাভরসা হয় মরণের। দাদাকে কেউ শাসন করে না। বাবা অবধি যেন সমঝে চলে। মরণ জানে সে যখন দাদার মতো বড় হবে তখন তাকেও সবাই খাতির করবে। এমনকী বাবাও। সেই দিনটা যে কবে আসবে তারই প্রহর গোনে মরণ।

সুমন দক্ষিণের বারান্দার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। মুনিশদের খাওয়া দেখতে দেখতে বলে, তোমরা বুঝি মুড়ি জলে ভিজিয়ে খাও?

বুড়ো মুনিশ একগাল হেসে বলে, হাঁ বাবা, মুড়ি ভিজিয়ে নিলে ও ভাতের সমান।

আরও বড় এক ধামা মুড়ি নিয়ে এল শীতলা। চুড়ো করে ঢেলে দিল পাতে পাতে। সঙ্গে চপ।

সবাই কথা থামিয়ে চারটে লোকের খাওয়া দেখছে।

রসিক ভারী আহ্লাদের গলায় বলল, খাও হে, ভাল কইর‍্যা খাও।

বুড়ো মুনিশ শীতলার দিকে চেয়ে বলে, আরও দুধামা নিয়ে এসো তো। ওরে, তোরা থামিস না। বাবুরা দেখছে।

তা খেলও মুড়ি চারজনে। অবিশ্বাস্য। জল মেরে মেরে মুড়ি ভিজিয়ে চপ দিয়ে এক একজন মুড়ির গন্ধমাদন তুলে ফেলল। বাসন্তীর তরকারিও নেমে গেছে। তাই শেষ পাতে মুলো-পালং-বেগুন-বাড়ির চচ্চড়িও দু হাতা করে জুটে গেল তাদের।

রসিক বাঙাল হেসে বলে, মাল অন্যের হইলে কী হইব, নৌকা তো তোমাগর। এই যে ঠাইস্যা খাইলা, শ্যাষে ক্ষ্যাতের কামে গিয়া গাছতলায় গামছা পাইত্যা ঘুমাইবা না তো!

বুড়ো মুনিশ বলে, না কর্তা, মুড়ি হালকা জিনিস, নেমে যাবে। খোরাকটা একটু দেখিয়ে রাখলাম আর কী।

ভাল ভাল।

চারদিকে সম্পন্নতার চেহারাটা দুচোখ ভরে দেখছিল ধীরেন কাষ্ঠ। চারদিকে লক্ষ্মীর অদৃশ্য পায়ের ছাপ। সম্পদ উথলে উঠছে। ভারী খুশি-খুশি ভাব সকলের মুখে। নাঃ, বাঙালের বাড়িতে মনটা ভাল হয়ে যায়।

দুখানা করে গরম ধোঁয়া ওঠা রুটি আর গরম চচ্চড়ির এক খাবলা। স্টিলের রেকাবে সাজিয়ে নিয়ে এল বাসন্তী।

ধীরেন খুড়ো, এই নিন।

ধীরেন খুশিতে লজ্জায় গলে গিয়ে বলে, দিলি আমাকে?

ওমা! দেবো না কেন? আমরা তো রান্নায় একটু মিষ্টি খাই, কিন্তু ওঁরা পছন্দ করেন না। তাই চচ্চড়ির হয়তো স্বাদ পাবেন না।

হ্যাঁ, ধীরেন শুনেছে বটে, বাঙালরা রান্নায় চিনি বা গুড় দেওয়া পছন্দ করে না। তাতে রান্নাটা একটু তাহা-তাহা লাগে বটে, কিন্তু ধীরেনের বাছাবাছি নেই। আজকাল তার সবই অমৃত বলে মনে হয়। একটু ধনে-পাতা ছড়ানো চচ্চড়িটার দিব্যি বাস বেরিয়েছে।

কী খুড়া, কেমন খান?

আহা, বড় চমৎকার স্বাদ হয়েছে।

সুমন মরণের জানালাটার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে একটু হেসে বলল, পড়ছিস না হাঁ করে তাকিয়ে আছিস?

মরণ এক গাল হেসে বলে, বাইরে আসব দাদা?

আয়।

বাবা বকবে না তো!

না বোধহয়। মুড ভাল আছে। আয়।

মরণ এক লম্ফে বেরিয়ে এল।

ঠিক তক্ষুনি বাঁশের আগল ঠেলে হিমি এসে ঢুকল। হাতে উলের কাটা। সুমনের দিকে চোখ হেনে মুচকি একটু হেসে রান্নাঘরে গিয়ে ঢুকে পড়ল। সুমন একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। গাঁয়ের মেয়েগুলো বড্ড বোকা হয়।

সকল অধ্যায়
১.
প্রথম অধ্যায়
২.
দ্বিতীয় অধ্যায়
৩.
তৃতীয় অধ্যায়
৪.
চতুর্থ অধ্যায়
৫.
পঞ্চম অধ্যায়
৬.
ষষ্ঠ অধ্যায়
৭.
সপ্তম অধ্যায়
৮.
অষ্টম অধ্যায়
৯.
নবম অধ্যায়
১০.
দশম অধ্যায়
১১.
একাদশ অধ্যায়
১২.
দ্বাদশ অধ্যায়
১৩.
ত্রয়োদশ অধ্যায়
১৪.
চতুর্দশ অধ্যায়
১৫.
পঞ্চদশ অধ্যায়
১৬.
ষোড়শ অধ্যায়
১৭.
সপ্তদশ অধ্যায়
১৮.
অষ্টাদশ অধ্যায়
১৯.
ঊনবিংশ অধ্যায়
২০.
বিংশ অধ্যায়
২১.
একবিংশ অধ্যায়
২২.
দ্বাবিংশ অধ্যায়
২৩.
ত্রয়োবিংশ অধ্যায়
২৪.
চতুর্বিংশ অধ্যায়
২৫.
পঞ্চবিংশ অধ্যায়
২৬.
ষড়বিংশ অধ্যায়
২৭.
সপ্তবিংশ অধ্যায়
২৮.
অষ্টাবিংশ অধ্যায়
২৯.
ঊনত্রিংশ অধ্যায়
৩০.
ত্রিংশ অধ্যায়
৩১.
একত্রিংশ অধ্যায়
৩২.
দ্বাত্রিংশ অধ্যায়
৩৩.
ত্রয়োত্রিংশ অধ্যায়
৩৪.
চতুর্ত্রিংশ অধ্যায়
৩৫.
পঞ্চত্রিংশ অধ্যায়
৩৬.
ষট্ত্রিংশ অধ্যায়
৩৭.
সপ্তত্রিংশ অধ্যায়
৩৮.
অষ্টত্রিংশ অধ্যায়
৩৯.
ঊনচল্লিশ অধ্যায়
৪০.
চল্লিশ অধ্যায়
৪১.
একচল্লিশ অধ্যায়
৪২.
দ্বিচল্লিশ অধ্যায়
৪৩.
ত্রিচল্লিশ অধ্যায়
৪৪.
চতুর্চল্লিশ অধ্যায়
৪৫.
পঞ্চচল্লিশ অধ্যায়
৪৬.
ষট্চল্লিশ অধ্যায়
৪৭.
সপ্তচল্লিশ অধ্যায়
৪৮.
অষ্টচল্লিশ অধ্যায়
৪৯.
ঊনপঞ্চাশ অধ্যায়
৫০.
পঞ্চাশ অধ্যায়
৫১.
একান্ন অধ্যায়
৫২.
বায়ান্ন অধ্যায়
৫৩.
তিপ্পান্ন অধ্যায়
৫৪.
চুয়ান্ন অধ্যায়
৫৫.
পঞ্চান্ন অধ্যায়
৫৬.
ছাপ্পান্ন অধ্যায়
৫৭.
সাতান্ন অধ্যায়
৫৮.
আটান্ন অধ্যায়
৫৯.
ঊনষাট অধ্যায়
৬০.
ষাট অধ্যায়
৬১.
একষট্টি অধ্যায়
৬২.
বাষট্টি অধ্যায়
৬৩.
তেষট্টি অধ্যায়
৬৪.
চৌষট্টি অধ্যায়
৬৫.
পঁয়সট্টি অধ্যায়
৬৬.
ছেষট্টি অধ্যায়
৬৭.
সাতষট্টি অধ্যায়
৬৮.
আটষট্টি অধ্যায়
৬৯.
ঊনসত্তর অধ্যায়
৭০.
সত্তর অধ্যায়
৭১.
একাত্তর অধ্যায়
৭২.
বাহাত্তর অধ্যায়
৭৩.
তিয়াত্তর অধ্যায়
৭৪.
চুয়াত্তর অধ্যায়
৭৫.
পঁচাত্তর অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%