সপ্তচল্লিশ অধ্যায়

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

সাতচল্লিশ

বিশু চলে গেল কলকাতায়, আর বাড়িটা কী ফাঁকাই না হয়ে গেল। সব যেন ঝিমিয়ে পড়ল। চারদিকটা কেন মলিন লাগছে। পান্নার সঙ্গে তার দাদা বিশুর যেমন ভাব, তেমনই ঝগড়া, তেমনই খুনসুটি। বালিশ নিয়ে মারপিটও কত হত আগে। বালিশ ফেটে তুলো উড়ত আর মা বকে বকে হয়রান হত। এবার আর সেই আগের মতো হল না। বিশুর এখন পড়ার চাপ বাড়ছে, গম্ভীর হয়েছে, বড় হয়েছে। আর পান্নাও সংসার নিয়ে হিমসিম খাচ্ছে। মায়ের বকুনিও আছে সঙ্গে। এটা ঠিকমতো হল না, ও কাজটা পড়ে রইল। ওর মধ্যে মধ্যেই প্রিয় দাদাটির সঙ্গে যা-একটু ইয়ার্কি ঠাট্টা গল্প। সেটাও কি কম? দাদাটাকে আর সহজে পাওয়াও যাবে না। পাস-টাস করে যদি চাকরি পায় বা বিদেশে চলে যায় তাহলে তো হয়েই গেল। আর তা করতে এদিকে তো পান্নার বয়সও বসে থাকবে না। হয়তো বাবা পাত্র জুটিয়ে এনে বিয়ে দিয়ে দেবে। ঘোরো সংসারের ঘানিতে। সংসার কেমন তা মায়ের অসুখ হওয়ার পর কয়েক দিনেই বুঝে গেছে পান্না। এমন সংসারে তার দরকার নেই বাপু। কিন্তু সে জানে, তার জন্য এই হাঁড়িকুড়িই অপেক্ষা করছে ভবিষ্যতে।

আজ সকালেই চলে গেল দাদা। সেই থেকে মনটা খারাপ। আর বড্ড ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। পারুলদির কাছে যখন-তখন যাওয়া যেত। তা পারুলদিকে আজই নিতে আসছে তার বর। পান্নার কিছুদিন এসব সয়ে নিতে হবে। সয়েও যায় সব কিছু।

মায়ের নাকি হার্টের দোষ ধরা পড়েছে। খুব ভয়ের কিছু নয়। তবে সাবধানে থাকতে হবে। সংসার-যুদ্ধ থেকে একটু আলগোছ হতে হবে।

বাবা তাই কদিন ধরে রান্নার জন্য বামুনঠাকুর বা বামনি খুঁজে বেড়াচ্ছে। অবশেষে পাওয়া গেছে একজনকে। বড়মার বাড়ির বামুনঠাকুরের সম্পর্কে ভাই। সে আজ কাজে আসবে। এলে বাঁচে পান্না। একটু হাঁফ ছাড়তে পারে। কদিন হারমোনিয়াম নিয়ে বসেনি, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা নেই। লেখাপড়ায় ফাঁক পড়ছে। মুখ তুলে চারদিকটা দেখারও যেন ফুরসত ছিল না।

ছেলে চলে যাওয়ার পর মা ছেলের ঘরে ঢুকে সব দেখে-টেখে বলল, ওই দেখ, কত করে বললুম, ফুলহাতা সোয়েটারটা নিয়ে যাস। ভুলে ঠিক ফেলে গেছে। দাড়ি কামানোর খুর পড়ে আছে, নতুন মোজা, তিনটে গেঞ্জি, খুঁজলে আরও বেরোবে। আমি যেটা না গুছিয়ে দেব সেটাই ঠিক ফেলে যাবে। বলি ও পান্না, দাদার জিনিসগুলো গুছিয়ে দিবি তো! কী যে করিস তোরা।

সব দোষ এখন পান্নার।

আচ্ছা মা, আমি আবার কবে দাদার জিনিস গুছিয়ে দিই? ওটা তো বরাবর তুমিই করো!

আহা কী কথার ছিরি। আমি করতে পারলে কি আর তোদের ঠ্যাঙের তলায় যাই? আমি গুছিয়ে দিইনি বলেই ছেলেটা এত সব ফেলে গেল, তোরা একটু দেখবি না? সোয়েটারটা নিল না, কলকাতায় গিয়ে শীতে কষ্ট পাবে।

পান্নার চোখে জল এল। ভগবান বলে কিছু নেই। থাকলে এত অবিচার সইতেন কি? দাদার প্রতি মায়ের পক্ষপাত এত প্রকট যে কোনও চক্ষুলজ্জা অবধি নেই। দাদার যে নিজেরই সব গুছিয়ে নেওয়া উচিত ছিল এই সত্যটা মা স্বীকারই করবে না। ছেলেদের প্রতি এই আসকারা মায়েদের চিরকাল চলে আসছে। দাদাকে পান্না ভালবাসে বটে, ভীষণ ভালবাসে, কিন্তু সে একচোখো হতে পারে না।

পান্না মৃদুস্বরে সাহস করে বলেই ফেলল, দাদা নিজে কেন গুছিয়ে নেয়নি বলবে?

মা এমন অবাক হয়ে তাকাল যেন এরকম অদ্ভুত কথা জন্মে শোনেনি। বলল, বিশু গুছিয়ে নেবে? তার কত মাথার কাজ জানিস? আনমনা আলাভোলা ছেলে, তার কি অত সংসারবুদ্ধি আছে? নিজেরা চোখে ঠুলি পরে থাকিস আর অন্যের দোষ খুঁজিস।

ছেলের পক্ষ নিয়ে কী সুন্দর গুছিয়ে কথা বলতে পারে মা। আনমনা, আলাভোলা ছেলে, সংসারবুদ্ধি নেই! পান্নার বেলায় এই দরদটা মার কেন যে উবে যায় কে জানে! গত পরশু পান্নার হাতে গরম ভাতের ফেন পড়ে গিয়েছিল, মায়ের কোনও উদ্বেগই দেখা গেল না। শুনে বলল, এত বড় ধিঙ্গি মেয়ে ভাতের মাড়টা পর্যন্ত গালতে শিখল না এখনও।

দাদাকে ভীষণ ভালবাসে ঠিকই পান্না, কিন্তু মায়ের এই একচোখোমি দেখলে দাদার ওপরেও রাগ হতে থাকে।

ব্যাপারটা দাদাও জানে। পোড়া হাতে কী সব ওষুধ-টষুধ লাগাতে লাগাতে দাদা বলল, কাঁদছিস কেন, সব ঠিক হয়ে যাবে।

মায়ের ব্যাপারটা দেখলি দাদা?

বিশু হেসে বলল, আরে, মা তো ওরকমই। তা বলে তোকে যে কম ভালবাসে তা কিন্তু নয়। সব সময়ে কাছে থাকিস বলে চোখে-হারাই ভাবটা নেই। কিন্তু বিয়ে হয়ে যখন শ্বশুরবাড়ি যাবি দেখিস তখন কীরকম আপলা-চাপলা খাবে।

অবাক হয়ে পান্না বলল, ও দাদা! ওটা কী বললি রে? আপলা-চাপলা না কী যেন।

হ্যাঁ তো! আপলা-চাপলা মানে হল আছাড়ি-পিছাড়ি না কী যেন বলে!

এমা! ও তো বাঙাল কথা! কোথ্থেকে শিখলি?

বিশু হেসে ফেলে বলে, আরে হয়েছে কী জানিস, আমার রুমমেট বীরভদ্র বলে একটা ছেলে আছে। সে হল কাঠ-বাঙাল। সে আমার বেস্ট ফ্রেন্ডও বটে। তার সঙ্গে মিশতে মিশতে অনেক টার্ম শিখে গেছি। এখন মুখে এসে যায়।

খুব হেসেছিল দুজনে।

সেদিন রসিক বাঙাল বড়মার কাছে কার্টসি ভিজিটে এসেছিল। অনেক ফল-টল মিষ্টি সব নিয়ে এসেছিল। এসেই বলল, ঠাইরেন, আমারে পোলার লাহান দ্যাখবেন। যখন যা মনে লয়, যা খাইতে ইচ্ছা করে একবার আমারে কইয়া পাঠাইয়েন। বুড়া কর্তার কর্জ তো আমি জীবনেও শোধ দিতে পারুম না। এইসব হাউমাউ করে বলছে আর বড়মা হাঁ করে চেয়ে আছে। পরে রসিক বাঙাল চলে যাওয়ার পর আমাকে বলল, বাঙালের সব কথা বোঝা যায় না বটে কিন্তু লোকটা বড় ভাল।

বাঃ! তুই তো বেশ বাঙাল কথা বলতে পারিস। উইথ কারেক্ট অ্যাকসেন্ট।

পান্না হেসে গড়িয়ে পড়ে বলে, মোটে পারি না। আমি আসলে অন্যকে খুব ভাল নকল করতে পারি।

তাই দেখছি।

তারপর শোন না, বড়মা যেই বলেছে বাঙাল খুব ভাল লোক অমনই আমি বড়মার সঙ্গে ঝগড়া লাগালুম। বললুম, ও বড়মা, যারা দুটো বিয়ে করে তারা আবার ভাল লোক হয় কী করে? বড়মা বলল, দুর পোড়ারমুখি, দুটো বিয়ে করেছে বলে কি পচে গেছে? বড়মা কিছুতেই মানবে না, আমিও ছাড়ব না। তখন বড়মা হার মেনে বলে, কী জানি বাপু, একালের ছেলেমেয়েরাও তো দুটো-তিনটে করে বিয়ে বসছে শুনি। একটাকে ছেড়ে আর একটাকে ধরে। তোর জ্যাঠা সেইজন্য ডিভোর্সের মামলা নিতে চাইত না। ডিভোর্স করে ফের বিয়ে করাও তো বাপু, বহু বিবাহই, তোরা যার নিন্দে করিস। বরং ডিভোর্স আরও খারাপ, একটাকে তাড়িয়ে আর একটাকে আনে।

ইস, তুই তো বড়মার কাছে গো-হাৱা হেরে গেছিস তাহলে। হারারই কথা, বড়মা কত বড় উকিলের বউ জানিস? তুই গেছিস তার সঙ্গে লাগতে!

ইল্লি! মোটেই হারিনি। আমি তখন বড়মাকে বলেছি, ও বড়মা, বড় জ্যাঠা যদি আর একটা বিয়ে করে বউ আনত তাহলে কী করতে? তখন বড়মা বলল, ও বাবা, সে আমার সহ্য হত না। গলায় দড়ি দিতুম তাহলে। ব্যস, বড়মা সারেন্ডার করে ফেলল।

এইভাবে হাসিঠাট্টায় সেদিনকার মন-খারাপটা উড়িয়ে দিয়েছিল দাদা। কিন্তু নিজের অনাদরটা আজ বড় টের পাচ্ছে পান্না।

আজ আবার মনটা মেঘলা হয়ে আছে। দাদা চলে গেল, আজ আবার পারুলদিও চলে যাবে। ভাল খবরের মধ্যে একটাই। আজ রান্নার লোক আসবে। যদি আসে তাহলে বেঁচে যায় পান্না। একটু আপনমনে থাকতে পারে। মা অবশ্য বলে দিয়েছে, ছেলেছোকরা বামুন হলে চলবে না, বাড়িতে বয়স্কা মেয়ে রয়েছে। বাবুবাবু চেহারা হলেও রাখা যাবে না। মায়ের কি বায়নাক্কার শেষ আছে? রান্না করতে তো আর রাজপুত্তুর আসবে না। আর আজকালকার মেয়েরা আগের দিনের মতো বোকা নয় যে, কাজের লোকের সঙ্গে পালিয়ে যাবে। কিন্তু মাকে কে বোঝাবে সে কথা! মা সেই গত শতাব্দীর চৌকাঠে আটকে আছে। হ্যাতান্যাতা পুরুষ দেখলেও সোমথ্‌থ মেয়ের জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।

আগে চড়াতে হয় ডাল। এ-বাড়ির নিয়ম। পরিমাণও বড় কম নয়। এ-বাড়ির চারজন আর কতটুকুই বা খায়? কাজের লোক তো কম নয়। তিনজন কাজের মেয়ে, দুটো মুনিশ, একটা রাখাল। সকালে ডাল-ভাত সবার বরাদ্দ। কলাইয়ের ডাল হলে তিন হাতার জায়গায় পাঁচ হাতা নেবে। আজ কলাইয়ের ডালেরই হুকুম হয়েছে। চারপোয়া ডাল মেপে দিয়েছে মা, কাজের মেয়ে ধুয়ে দিয়েছে। পান্না গ্যাসের উনুনে ডাল চাপিয়ে মৌরির কৌটোটা খুঁজছিল, এমন সময়ে বাইরে থেকে কে যেন বলল, হাই।

ভারী চমকে উঠল পান্না। তারপর অবাক হয়ে বলল, ও মা! সোহাগ! কবে এলে?

মুখখানায় হাসি আছে বটে সোহাগের, কিন্তু ভারী শুকনো দেখাচ্ছে। পোশাক ঠিক আগের মতোই বাড়তি শুধু একটা চমৎকার রংদার ঢিলা ফিটিং-এর পুলওভার। বোধহয় বিদেশি জিনিস। সোহাগ বলল, কাল এসেছি। তুমি কি বান্না করো আজকাল?

আর বোলো না। মায়ের অসুখ, এ-বাড়িতে আবার খুব শুচিবায়ু। বামুন ছাড়া হেঁসেল ছুঁতে দেওয়া হয় না। তাই খুব খাটুনি যাচ্ছে। চলো, ঘরে বসবে। ডাল সেদ্ধ হতে সময় লাগবে।

দরকার কী ঘরে যাওয়ার। ওই ছোট টুলটা দাও না, এখানেই বসি। ভাল কথা, আমি বসলে আবার তোমাদের কোনও পাপ-টাপ হবে না তো! যদি ছোয়া-টোয়া লাগে।

ধ্যাত। তুমি একটা কী বলল তো! তোমরাও তো বামুন।

ভারী অবাক হয়ে সোহাগ বলে; ও হ্যাঁ, তাই তো! আসলে আমার ওসব একদম খেয়াল থাকে না। ঠিকই তো, আমিও তো শুনেছি যে, আমরা ব্রাহ্মণ। তবে ভাই, আমি কিন্তু গোরুর মাংস, শুয়োরের মাংস সব খেয়েছি। তাতে দোষ হবে না তো!

চোখ বড় করে পান্না বলে, খেয়েছ?

অনেক। বিদেশে তো ওসবই রোজ খেতাম।

তোমার মা?

সবাই। দোষ হচ্ছে না তো এখানে বসলে?

আরে না। মা তো আর জানে না যে তুমি ওসব খাও। না জানলে কিছু নয়। কেমন লাগে বলো তো গোরুর মাংস! খুব শক্ত হয়, না? তেতো নাকি?

না না, খেতে খুব ভাল। ভেরি প্যালেটেবল।

ঘেন্না করত না খেতে?

অবাক হয়ে সোহাগ বলে, না তো! ঘেন্না করবে কেন? মিট ইজ মিট, গোরুরই হোক, পাঁঠারই হোক।

আমি বাবা মরে গেলেও খেতে পারব না। আগে তো শুনতাম গোরুর মাংস নাকি ভীষণ শক্ত, তেতো আর এমন গরম যে খেলে গায়ে ফোসকা বেরোয়।

সোহাগ হেসে ফেলে বলে, যাঃ, ওসব কিছু হয় না।

তুমি হঠাৎ এলে যে! একা নাকি?

না। মায়ের সঙ্গে এসেছি। বাবা চার-পাঁচ দিন আগে কাউকে কিছু না বলে হঠাৎ চলে এসেছে এখানে।

ওমা! কেন?

ঠোঁট উলটে সোহাগ বলে, গড নোজ।

তাই হঠাৎ সেদিন অমলদার মতো কাকে যেন দেখলাম জানালা দিয়ে। একবার ভাবলাম, অমলদা। তারপর ভাবলাম আর কেউ হবে।

সোহাগ একটু উদাস হয়ে গিয়ে বলল, আমার মা আর বাবা সেপারেট হয়ে যাচ্ছে।

অবাক হয়ে পান্না বলে, সে কী! ডিভোর্স নাকি?

হ্যাঁ।

ওমা! কেন?

মা আর বাবার আন্ডারস্ট্যান্ডিং হচ্ছে না।

পাংশু মুখে পান্না বলল, কী হবে তাহলে সোহাগ?

উই আর ইন এ জ্যাম নাউ।

এ বাবা! ডিভোর্স তো বিচ্ছিরি ব্যাপার!

সোহাগ মলিন মুখেও একটু হাসল, বিচ্ছিরি কেন বলো তো!

মা আর বাবা আলাদা হয়ে যাওয়া কি ভাল? কী হবে তাহলে।

জানোই তো, আমাদের ফ্যামিলিতে কোনও আঠা নেই। যে যার নিজের মতো থাকে। কেউ কারও পরোয়া করে না। কেউ কাউকে ভাল-টালও বাসে না। তবু যদি ডিভোর্স হয় তাহলে আমাদের লাইফ প্যাটার্নটা ভীষণ আপসেট হয়ে যাবে।

তাই তো! কিন্তু হঠাৎ কী হল বলো তো! হঠাৎ ডিভোর্স হচ্ছে কেন?

হঠাৎ হচ্ছে না। অনেকদিন ধরেই ব্যাপারটা তৈরি হচ্ছিল। আমরা আন্দাজ করছিলাম এরকম একটা কিছু হতেই পারে।

দুজনের ঝগড়া হয়েছিল বুঝি?

না। ঝগড়া আজকাল হয় না। তোমাকে তো বলেইছি আমাদের মধ্যে কেমন যেন একটা ঘেন্নার সম্পর্ক। কেউ যেন জোর করে আমাদের একটা কৌটোয় পুরে রেখেছে। আমাদের মধ্যে আসলে কোনও রিলেশনই যেন তৈরি হয়নি। মাঝে মাঝে আমার তো মনে হয় আমরা চারজনই যেন চারজনের কাছে টোটাল স্ট্রেঞ্জার। কেউ কাউকে যেন চিনিই না। তোমার খুব অদ্ভুত লাগছে, না?

হ্যাঁ। আমরা তো কেউ কাউকে ছাড়া থাকতেই পারি না। এই তো আমার দাদা আজ কলকাতায় চলে গেল বলে সকাল থেকে কী ভীষণ মন খারাপ লাগছে।

তোমরা খুব ভাল আছ, তাই না?

পান্না করুণ মুখেও ফিক করে হেসে ফেলে বলল, ঠিক তাও নয়। এই তো একটু আগে মায়ের ওপর ভীষণ রাগ হচ্ছিল। কেঁদেছিও একটু। মা তো ভীষণ পার্শিয়ালটি করে দাদার জন্য। তাই খুব রাগ হয়। কিন্তু ধরো, মাকে ছাড়াও তো আমার চলে না। অসুখ-সুখ হলে আবার ওই মা-ই তো এসে রাত জেগে পাশে বসে থাকে। আবার দেখ মা আর বাবার মধ্যেও তো মাঝে মাঝে খিটিমিটি হয়, তবু মায়ের হাতের রান্না ছাড়া বাবার মুখে রোচে না। কদিন ধরে আমি যে এত যত্ন করে রাঁধছি তা বাবার মুখ দেখেই বুঝতে পারছি মনের মতো হচ্ছে না।

উই আর লাইক অ্যালিয়েনস। আমি আজকাল খুব আমাদের নিয়ে ভাবছি। আগে ভাবতাম না, কিন্তু এখানে এসে যখন কিছুদিন ছিলাম তখন আমার জ্যাঠামশাই, জেঠিমা, তোমার মা বাবা, তারপর পারুলদের বাড়ির সবাইকে দেখে ভারী অদ্ভূত লাগত। কই, এরা তো আমাদের মতো নয়। দে আর কোয়াইট ডিফারেন্ট পিপল! সেই থেকে ভাবি।

সোহাগ, তুমি কিছু করতে পারো না?

ঠোঁট উলটে সোহাগ হতাশ গলায় বলল, কী করার আছে বলো তো? ফাদার উইল নট চেঞ্জ, মাদার উইল নট চেঞ্জ। তাহলে কী করে কী হবে! আমার বাবাকে রিসেন্টলি দেখেছ?

ভাল করে লক্ষ করিনি। কেন বলো তো!

কেমন যেন পাগলামিতে পেয়ে বসেছে।

কিন্তু অমলদা কত ভাল ছাত্র ছিল বল। স্কুল ফাইন্যালে স্ট্যান্ড করেছিল।

সেসব বাবা ভুলে গেছে। একদিন মায়ের সঙ্গে কী নিয়ে কথা হচ্ছিল, বাবা কাউকে কিছু না বলে নীচে নেমে গাড়িতে উঠে চুপচাপ ঘুমিয়ে রইল। আর আমরা চারদিকে খুঁজে খুঁজে হয়রান। শেষে রাত দুটো নাগাদ বাবাকে লক করা গাড়ি থেকে বের করা হয়। সাফোকেশনে হয়তো-বা মরেই যেত।

ও বাবা!

বাবার ভিতরে একটা সেলফ ডেস্ট্রাকশনের টেন্ডেন্সি দেখতে পাচ্ছি।

পান্নার চোখ ছলছল করছিল। বলল, ডিভোর্স হলে তো তাহলে অমলদা সত্যিই সুইসাইড করে বসবে।

সেসব কথাও ভাবি। আমার মনে হয় আমাদের পরিবারে একটা ডেথ-টেথ কিছু হবে। ইট ইজ ইমিনেন্ট।

যাঃ, ও কথা বোলো না। শুনলেই ভয় করে।

মলিন মুখে একটু হাসল সোহাগ। বলল, ওরকম কিছু না হলে কি আমাদের ফ্যামিলিটা বদলাবে?

যাঃ, কেউ মরলেই বুঝি সবাই বদলে যায়?

কোনও কোনও সিচুয়েশনে বোধহয় যায়।

ওসব বোলো না তো, আমার ভীষণ মন খারাপ হয়ে যায়।

সোহাগ একটুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, ইট মাস্ট এন্ড সামহোয়ার। ইট হ্যাজ টু। আমি দাদুকেও কথাটা বলেছিলাম।

মহিম জ্যাঠাকে!

হ্যাঁ।

জ্যাঠা কী বলল?

দাদুর মনটা খুব খারাপ। শুধু বলল, দিদিভাই, আমি তো ওল্ড টাইমার, এ-যুগের মানুষের কাছে আমাদের দাম নেই।

শুধু এই কথা!

হ্যাঁ। অ্যান্ড দাদু ওয়াজ রাইট। আমি দেখেছি, দাদুকে কেউ বেশি মানে-টানে না। কিন্তু দাদু ইজ এ নাইস কুল হেডেড ম্যান।

তাহলে কী হবে সোহাগ?

মা ভীষণ অ্যাডামেন্ট। মা সন্দেহ করে বাবা এখনও ভেরি মাচ ইন লাভ উইথ পারুল। পারুল এখন এখানেই আছে। আর সেই জন্যই বাবা পালিয়ে এসেছে এখানে। মায়ের এমনও ধারণা হয়েছিল যে, দুজনে হয়তো একটা ষড়যন্ত্র করেছে।

পান্না সবেগে মাথা নেড়ে বলে, এ মাঃ! না না, একদম বাজে কথা সোহাগ। পারুলদি ওরকম মেয়েই নয়। তার ওপর পারুলদি এখন প্রেগন্যান্ট।

মাই গড! আর ইউ সিওর?

হ্যাঁ। পারুলদি আজই ফিরে যাচ্ছে জামশেদপুরে। আমি তো রোজ ওবাড়িতে যাই। আমি জানি অমলদার সঙ্গে পারুলদির দেখা-সাক্ষাৎও হয় না।

সোহাগ ম্লান মুখে বলল, কিন্তু মা কি আর ওসব বিশ্বাস করবে? এখন মায়ের হচ্ছে ওয়ান ট্র্যাক মাইন্ড। আমার কী মনে হয় জান?

কী?

শী উইল ডেস্ট্রয় হিম অ্যান্ড হি উইল ডেস্ট্রয় হার। দুজনেই দুজনকে ধ্বংস করবে। তারপর জুড়োবে।

ফের ওরকমভাবে কথা বলছ! ওসব শুনতে আমার ভাল লাগে না।

দেন লেট আস টক অ্যাবাউট সুইট থিংস। বলে হাসল সোহাগ।

পান্নাও হেসে ফেলল, বলল, আচ্ছা, আমরা কিছু করতে পারি না, না?

তুমি! তুমি কী করবে?

আমার কী ইচ্ছে হয় জান? খুব ইচ্ছে হয় পৃথিবীর সকলের সব দুঃখ দূর করে দিই।

সোহাগ হেসে বলে, তোমার শত্রুরও?

হ্যাঁ তো। তবে আমার কোনও শত্রু নেই যে!

সোহাগ বলল, এবার এসে কী দেখলাম জাননা?

কী?

বাবার গলায় পৈতে। আর বাবা নাকি আজকাল গায়ত্ৰীমন্ত্র জপ করে দুবেলা।

ওমা! সে তো বামুনরা করেই। বাবা করে, জ্যাঠারা করে, এমনকী বিজুদা যে নাস্তিক, সেও কিন্তু করে। অমলদার পৈতে ছিল না বুঝি!

না। কখনও দেখিনি।

সেইজন্যই তোমাদের এমন হচ্ছে। গায়ত্রীমন্ত্রের জোর জান? গায়ত্রী জপ করলে ভূতপ্রেত সব পালিয়ে যায়। আরও অনেক কিছু হয়।

সোহাগ হেসে বলে, তাই বুঝি? আমার মা-বাবার রিলেশান খুব স্ট্রেইন্ড হলেও এতদিন সম্পর্কটা টিকে ছিল। গায়ত্রী জপ করার পর তো ডিভোর্স হয়ে যাচ্ছে। সেটাও কি মন্ত্রের জন্যই?

না বাবা, তা নয়।

তাহলে?

হতাশ হয়ে পান্না মাথা নেড়ে বলে, আমি কিছু বুঝতে পারছি না। এ মা, ডালটা পোড়া লাগল নাকি? গন্ধ বেরোচ্ছে যে!

বলে ছুটে গেল পান্না। ডালটার তলার দিকটা একটুখানি ধরেছে মনে হয়। তাড়াতাড়ি ঘটি উপুড় করে জল ঢেলে হাতা দিয়ে তলাটা ভাল করে নেড়ে দিল সে। জল শুকিয়ে চড়চড় করছিল এতক্ষণ।

এই সোহাগ, পোড়া গন্ধ পাচ্ছ?

সোহাগ বাতাস শুঁকে বলল, একটু একটু অ্যাক্রিড স্মেল পাচ্ছি।

এমা! তাহলে আজ মায়ের কাছে আবার বকুনি খেতে হবে। আমার কপালটাই বকুনি খাওয়ার।

একটু ভিনিগার দিয়ে দেখ না!

ভিনিগার! ও বাবা, ওসব মা হেঁসেলে ঢুকতে দেয় না। ভিনিগার নাকি মদ থেকে তৈরি হয়।

রান্নায় মাঝে মাঝে ওয়াইন দিলে তো খেতে চমৎকার হয়।

সে তোমাদের হয়, আমাদের হয় না।

মল্টেড ভিনিগারে অ্যালকোহল থাকতে পারে, সিনথেটিক ভিনিগারে তা থাকে না।

কাঁদো কাঁদো হয়ে পান্না বলে, কিন্তু ভিনিগার তো নেই, কী করি বল তো! বেশি করে হিং দিয়ে ফোড়ন দিলে হবে না?

মাথা নেড়ে সোহাগ বলে, আই নো নাথিং অ্যাবাউট কুকিং। আমি ওমলেট বা চাওমিন বানাতে পারি, আর বার-বি-কিউ। হিং আমাদের বাড়িতে কেউ পছন্দ করে না।

একটু পরে ডাল ফোটার যে গন্ধটা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ল সেটা কলাই ডালের মিষ্টি গন্ধই বটে।

সোহাগ বলল, না, এখন আর অ্যাক্রিড স্মেলটা নেই তো।

বাঁচা গেল বাবা! যা ঘাবড়ে গিয়েছিলাম।

আমি এসে তোমার কাজ নষ্ট করছি পান্না। আজ বরং আমি যাই।

আহা, বোসো না। রান্নাঘরে আমি যে বড্ড একলাটি হয়ে থাকি।

আচ্ছা, পরে আসব। আজ আমরা কলকাতা যাচ্ছি না। হয়তো কাল যাব।

বিকেলে আসবে?

আমার তো সবসময়ে তোমার কাছে আসতে ইচ্ছে করে।

এসো কিন্তু বিকেলে। আচ্ছা।

সোহাগ চলে যাওয়ার পর অনেকক্ষণ ভাবল পান্না। ভেবে ভেবে চোখে জল এল। ইস্, মা-বাবা আলাদা হয়ে গেলে কী করে থাকবে ওরা? কেন যে ডিভোর্স জিনিসটা উঠে যাচ্ছে না পৃথিবী থেকে? কেন যে মা-বাবারা চিরকালের মতো মিলেমিশে যাচ্ছে না?

লোকটা এল এগারোটা নাগাদ। রোগা, লম্বাপানা, রংটা ফর্সার দিকেই, বয়স চল্লিশ-পঁয়তাল্লিশ হবে। পরনে হাঁটু অবধি ধুতি, গায়ে একটা ফতুয়া, গলায় খুব মোটা সুতোর পৈতে। মুখখানা লম্বা মতো, তাতে একটু বোকা বোকা ভাব আছে। বামুন বলে বাইরের ঘরে বসতে একটা জলচৌকি দেওয়া হয়েছে। নিচুতে বসায় লম্বা হাঁটু দুটো উঠে আছে জোড়া উটের মতো। পাশে একখানা মলিন পুঁটুলি রাখা। নাম সুদর্শন মিশ্র।

মা-বাবা দুজনেই বসল তার ইন্টারভিউ নিতে।

পান্নার বাবা তেমন বলিয়ে কইয়ে মানুষ নয়। যা বলার মা-ই বলছিল, তা হ্যাঁ বাপু, বামুন তো বলছ, গায়ত্ৰীমন্ত্রটা জান তো!

হ্যাঁ মা, সে আর বলতে! ওঁ ভূর্ভুবঃ স…

সঙ্গে সঙ্গে কানে হাত চাপা দিয়ে মা ককিয়ে উঠল, থাক থাক। ও মন্তর মেয়েমানুষের শুনতে নেই। কেমন বামুন তুমি, মেয়েমানুষের সামনে গায়ত্রী উচ্চারণ করো!

কী করব মা! যারা ব্রাহ্মণ চায় তারা তো যাচাই করেই নেবে!

বলি রান্না-বান্না কী জান?

গেরস্তঘরের রান্না জানি মা, বিরিয়ানি-টিরিয়ানি পেরে উঠব না। সাহেবি কেতার রান্নাও শিখিনি।

আগে কোথায় কাজ করেছ?

রান্নার কাজ নয় মা। এক পাথর ভাঙা কলে ছিলাম, তা সেখানে থেকে অসুখ বাধিয়ে বসলাম।

সে কী গো! টি-বি নাকি?

না। পেটের রোগে ধরেছিল।

দ্যাখ বাপু, রোগ-টোগ থাকলে তা গোপন করে কাজে ঢুকে পোড়ো না আবার।

গরিবের কথা কেউ বিশ্বাস করে না মা, তবে খারাপ রোগ কিছু হয়নি। আমাশা হয়েছিল। খাদানের কাজ তো, শরীর চুঁইয়ে দিতে হয়। ব্রাহ্মণের ধাত তো শক্ত ধাত নয়, সইবে কেন?

আমাদের বাপু, একটু পরিষ্কার বাতিক আছে। হেগো, বাসি কাপড়-চোপড় ছাড়তে হয়। ঠিকমতো হাতমাটি করতে হয়। পেচ্ছাব করে জল নিতে হয়।

ওসব বলতে হবে না মা। আমাদের বাড়িতে রোজ নারায়ণসেবা হত। আজও শরিকদের ভাগে হয়।

তোমাদের ভাগে হয় না বুঝি?

আমাদের আর ভাগ-টাগ নেই মা। বেচেবুচে পেটায় নমঃ করতে হয়েছে।

বউ-টউ সব কোথায়?

বিয়ে আর করা হল কই? নিজেরই জোটে না।

বিয়ে করনি, সেও তো এক চিন্তার কথা।

চিন্তা কীসের মা? বিয়ে করিনি বলে পিছুটানও নেই। ঘরের ছেলের মতো যদি রাখেন তাহলে থেকে যাব।

থাকবে তো বাছা, কিন্তু মাইনে কত নেবে?

এ বাজারে কি কমে কিছু হয়? পাঁচশোটি টাকা দেবেন।

বল কী? পাঁচশো টাকায় তো কেরানি রাখা যায়।

সে যুগ আর নেই মা। এই বর্ধমান জেলাতেই এখন পাঁচ-ছ টাকার নীচে মোটা চালটাও পাবেন না। তাও পাইকারি দরে। সর্ষের তেলের কেজি কত জানা আছে তো মা!

তিনশো টাকা দেব। ভেবে দ্যাখ।

মাথা নেড়ে লোকটা বলল, আমারও তো একটা ভবিষ্যৎ আছে। আখেরে টাকা ছাড়া কে আমাকে দেখবে বলুন!

বিস্তর ঝোলাঝুলির পর লোকটা চারশো টাকায় রাজি হল।

সখেদে বলল, কলকাতায় হলে হাজার টাকা হাঁকতাম। এ গ্রামদেশ বলে মাথা নোয়াতে হল।

পুষিয়ে দেব গো সুদর্শন। বছরে একবার ধুতি-জামা পার্বণী তো পাবেই।

ও সবাই দেয় মা, নতুন কথা কী?

রান্না-বান্না বুঝেশুনে কোরো বাপু। আবার আমার জন্য আঝালি মশলা ছাড়া রাঁধতে হবে। ডাক্তার পোড়ামুখোরা বলছে আমার রক্তে চকলেট না কী যেন বেড়েছে।

রামহরি বলে উঠল, কী যে ছাই বল। চকলেট হবে কেন, ও হল কোলেস্টোরাল।

ওই হল বাপু। তা আজ থেকেই লেগে পড়। আমার মেয়েটার রাঁধতে গিয়ে পড়ায় ফাঁক পড়ছে।

পুকুর থেকে হাত-পা ধুয়ে মুড়ি খেয়ে সুদর্শন কাজে লাগবার পর ছুটি পেয়ে হাঁফ ছাড়ল পান্না। এবার তার ছুটি।

মাকে গিয়ে বলল, একটু বড়মার বাড়ি থেকে ঘুরে আসছি মা।

যে-ই রান্নার লোক এল অমনি পাখা মেললে!

অমন করছ কেন? আজ পারুলদি চলে যাচ্ছে না!

মা তবু একটু গজগজ করতেই থাকে। ওসব কানে তুললে বেঁচে থাকাই মুশকিল। পান্না আর দাঁড়াল না, এক ছুটে হাজির হয়ে গেল বড়মার বাড়িতে।

ঢুকতেই থমকাতে হল তাকে। কী সুন্দর ঝকঝকে একখানা গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে সদরের সামনে। রং-টা স্টিল গ্রে। চ্যাপটা, লম্বাটে কী যে সুন্দর ডৌল গাড়িটার। কাচগুলো তোলা। ভিতরে নরম, নিচু গদির ওপর টারকিশ তোয়ালের ঢাকনা। একজন অল্পবয়সি ড্রাইভার পালকের ঝাড়ন দিয়ে যত্ন করে বনেট পরিষ্কার করছে। নাঃ, সত্যিই পারুলদিদের অনেক টাকা। যেমন সুন্দরী, তেমনই ভাগ্যবতী। ভগবান যেন ওকে ঢেলে দিয়েছেন। সাধে কি আর সোহাগ ওকে “গডেস” বলে! পারুলদিকে আজকাল তারও যেন ঈশ্বরী ভাবতে ইচ্ছে করে।

গাড়ির পিছনে রূপালি অক্ষরে ‘টয়োটা’ নামটা একবার দেখে নিল পান্না। জাপানি গাড়ি। তার তো হবে না এসব কখনও। তবু পারুলদির তো হয়েছে।

পারুলের চোখে জল দেখে অবাক হল না পান্না। বাপের বাড়ি ছেড়ে যেতে কোন মেয়ের না কষ্ট হয়! পাশের ঘরে জামাইবাবু আর ছেলেমেয়েদের গলা পাওয়া যাচ্ছিল। অনেকদিন পর বাবাকে পেয়ে ছেলেমেয়েদের কথা শেষ হচ্ছে না। এ-ঘরে একলাটি পারুল।

তাকে দেখে হেসে স্নিগ্ধস্বরে বলল, আয়, কাছে বোস এসে।

গাড়িটা নতুন কিনলে বুঝি তোমরা! কী সুন্দর গাড়ি।

তোর জামাইবাবু কিনেছে। বেশি শখশৌখিনতা তো নেই, তাই বেশি আপত্তি করিনি। এককাঁড়ি টাকা অবশ্য বেরিয়ে গেল।

তা যাক পারুলদি। তোমার তো অভাব নেই।

পারুলের চোখে জল, মুখে মিটি মিটি হাসি। একটু চুপ করে থেকে বলল, কাউকে বলতে নেই, কিন্তু কথাটা চেপে রাখতে পারছি না।

কী কথা গো?

পারুল এক অপরূপ চোখে তার দিকে চেয়ে বলল, কাল রাতে কী স্বপ্ন দেখলাম জানিস?

কী গো?

বাবা আমার পেটে এসেছে।

সকল অধ্যায়
১.
প্রথম অধ্যায়
২.
দ্বিতীয় অধ্যায়
৩.
তৃতীয় অধ্যায়
৪.
চতুর্থ অধ্যায়
৫.
পঞ্চম অধ্যায়
৬.
ষষ্ঠ অধ্যায়
৭.
সপ্তম অধ্যায়
৮.
অষ্টম অধ্যায়
৯.
নবম অধ্যায়
১০.
দশম অধ্যায়
১১.
একাদশ অধ্যায়
১২.
দ্বাদশ অধ্যায়
১৩.
ত্রয়োদশ অধ্যায়
১৪.
চতুর্দশ অধ্যায়
১৫.
পঞ্চদশ অধ্যায়
১৬.
ষোড়শ অধ্যায়
১৭.
সপ্তদশ অধ্যায়
১৮.
অষ্টাদশ অধ্যায়
১৯.
ঊনবিংশ অধ্যায়
২০.
বিংশ অধ্যায়
২১.
একবিংশ অধ্যায়
২২.
দ্বাবিংশ অধ্যায়
২৩.
ত্রয়োবিংশ অধ্যায়
২৪.
চতুর্বিংশ অধ্যায়
২৫.
পঞ্চবিংশ অধ্যায়
২৬.
ষড়বিংশ অধ্যায়
২৭.
সপ্তবিংশ অধ্যায়
২৮.
অষ্টাবিংশ অধ্যায়
২৯.
ঊনত্রিংশ অধ্যায়
৩০.
ত্রিংশ অধ্যায়
৩১.
একত্রিংশ অধ্যায়
৩২.
দ্বাত্রিংশ অধ্যায়
৩৩.
ত্রয়োত্রিংশ অধ্যায়
৩৪.
চতুর্ত্রিংশ অধ্যায়
৩৫.
পঞ্চত্রিংশ অধ্যায়
৩৬.
ষট্ত্রিংশ অধ্যায়
৩৭.
সপ্তত্রিংশ অধ্যায়
৩৮.
অষ্টত্রিংশ অধ্যায়
৩৯.
ঊনচল্লিশ অধ্যায়
৪০.
চল্লিশ অধ্যায়
৪১.
একচল্লিশ অধ্যায়
৪২.
দ্বিচল্লিশ অধ্যায়
৪৩.
ত্রিচল্লিশ অধ্যায়
৪৪.
চতুর্চল্লিশ অধ্যায়
৪৫.
পঞ্চচল্লিশ অধ্যায়
৪৬.
ষট্চল্লিশ অধ্যায়
৪৭.
সপ্তচল্লিশ অধ্যায়
৪৮.
অষ্টচল্লিশ অধ্যায়
৪৯.
ঊনপঞ্চাশ অধ্যায়
৫০.
পঞ্চাশ অধ্যায়
৫১.
একান্ন অধ্যায়
৫২.
বায়ান্ন অধ্যায়
৫৩.
তিপ্পান্ন অধ্যায়
৫৪.
চুয়ান্ন অধ্যায়
৫৫.
পঞ্চান্ন অধ্যায়
৫৬.
ছাপ্পান্ন অধ্যায়
৫৭.
সাতান্ন অধ্যায়
৫৮.
আটান্ন অধ্যায়
৫৯.
ঊনষাট অধ্যায়
৬০.
ষাট অধ্যায়
৬১.
একষট্টি অধ্যায়
৬২.
বাষট্টি অধ্যায়
৬৩.
তেষট্টি অধ্যায়
৬৪.
চৌষট্টি অধ্যায়
৬৫.
পঁয়সট্টি অধ্যায়
৬৬.
ছেষট্টি অধ্যায়
৬৭.
সাতষট্টি অধ্যায়
৬৮.
আটষট্টি অধ্যায়
৬৯.
ঊনসত্তর অধ্যায়
৭০.
সত্তর অধ্যায়
৭১.
একাত্তর অধ্যায়
৭২.
বাহাত্তর অধ্যায়
৭৩.
তিয়াত্তর অধ্যায়
৭৪.
চুয়াত্তর অধ্যায়
৭৫.
পঁচাত্তর অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%