শ্যামা নন্দী
— “পূর্ণিমা, ঠাকুরের বাসন মাজিসনি কেন? আমার পুজোর সময় হয়ে এল।”
— “পারব না মাসিমা।”
— “মরণ! আবার তোর পারব না? আজ বৃহস্পতিবার, এত পুজোর বাসন। এদিকে হাতটায় অসহ্য যন্ত্রণা। বউমা-আ-আ।”
— “কী আর করবেন মা, মিনুর মতো আমিও পারব না যে।”
— “যত্তসব অনাসৃষ্টি কাণ্ড।”
— “ভুল বললেন মা। অনাসৃষ্টি না, মাসিক হওয়া মানে সৃষ্টির সূত্রপাত। মান্ধাতার আমল থেকে কুসংস্কারের অন্ধ ধারণা আপনাদের মনে চেপে বসেছে। এখনও সময় আছে, বন্ধ করুন এইসব।”
— “অনাচার! মাসিক নিয়ে ছোঁয়াছানি! ছি ছি, কী ঘেন্না!”
— “ঋতুমতী হওয়া ঘেন্না নয়, পবিত্রতা। মাসিক একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। মল মূত্র ত্যাগের মতো। এই মানসিকতা বন্ধ করুন। নইলে ব্যথা হাতে আপনাকেই যে বাসনগুলো মাজতে হবে।”