হ্যাংলা

শৈলেন ঘোষ

এক যে ছিল বেড়ালছানা। কালো-কালো কুচকুচে।

দ্যাখো ল্যাজটি কেমন ওপর বাগে উঁচিয়ে, সামনের দিকে তাকিয়ে আছে!

তাকিয়ে কী দেখছে?

একটা কাঠবিড়ালি মাটিতে থুপসি মেরে বসে কী খাচ্ছে, তা-ই দেখছে।

দেখতে দেখতে বেড়ালটির টুসটুস করে নোলার জল গড়িয়ে পড়ল।

মনে মনে ভাবল, কাঠবিড়ালিটা যা খাচ্ছে, তাকেও যদি একটু দেয়।

কিন্তু এও ভাবল, না-চাইলে কি দেবে?

তাই দূর থেকেই চেঁচিয়ে-চেঁচিয়ে বেড়ালছানা ডাক দিল:

“কাঠবিড়ালি, কাঠবিড়ালি ভাই, কী খাচ্ছিস? একটু দে না! মিউ!”

কাঠবিড়ালি চমকে গেল। পেছনে তাকাল। দেখল, একটা বেড়ালছানা তাকে দেখছে। কাঠবিড়ালি খেতে খেতে থামল। চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বলল:

“আহা, মরে যাই রে! আবদার! আমি খাচ্ছি খাবার, উনি দিচ্ছেন নজর। যাকে দেখতে কালো ভূত, তাকে খাবার কে দেয় ধুত!” বলে মুখ ঘুরিয়ে আবার খেতে লাগল।

বেড়ালছানা আবার ডাকল, “কাঠবিড়ালি, কাঠবিড়ালি ভাই, কী খাচ্ছিস? একটু দে না! মিউ মিউ!”

কাঠবিড়ালি উত্তর দিল, “খোঁচা-খোঁচা নখ যার, ড্যাবড্যাবে চোখ তার। তাকে কে দেয় খাবার! যাঃ, ভাগ!”

বেড়ালছানা তবু ছাড়ে না:

“কাঠবিড়ালি, কাঠবিড়ালি ভাই কী খাচ্ছিস? একটু দে না। মিউ মিউ মিউ!”

কাঠবেড়ালি এবার খুব রেগে গেল। বলল, “এই বেড়াল, তোর খাড়া-খাড়া গোঁফ, খাবারের গন্ধ তুই দূর থেকেই শোঁক! হ্যাংলা কোথাকার!”

বেড়ালছানা গোঁ ধরেই আছে:

“কাঠবিড়ালি, কাঠবিড়ালি ভাই, কী খাচ্ছিস? একটু দে না! মিউ-উ-উ।”

ভারী ত্যাঁদড় তো বেড়ালছানাটা! তখন থেকে জ্বালাচ্ছে! এবার ভীষণ চটে গেল কাঠবিড়ালি। কানের কাছে অমন ঘ্যানঘ্যান করলে কে না চটে? কাঠবিড়ালি এবার বেশ চোটপাট করেই বলে উঠল, “এ্যাই, বেশি ফ্যাঁচ-ফ্যাঁচ করিস না তো। আমি দেব না, দেব না, দেব না।” বলে, পিছু ফিরে আবার চিবোতে লাগল, কুটুস, কুটুস, কুরকুর। এবার সেই কালো-কুচকুচে বেড়ালছানা করল কী, আলতো পায়ে ডিঙি মারল। কাঠবিড়ালির পেছন দিকে চুপচাপ এগিয়ে এল—।

আসছে—

আসছে—

আসছে—

এই বুঝি ধরল কাঠবিড়ালিকে!

ওই দ্যাখো, কাঠবিড়ালি দেখতে পেয়েছে। দেখতে পেয়েই যা খাচ্ছিল, সেই খাবারের একমুঠো খাবারের খোসা বেড়ালছানার মুখে ছুড়ে দিয়েছে। দিয়েই তিড়িং! মারল এক লাফ। সামনেই মস্ত গাছ। তরতর করে গাছের ওপর উঠে পড়ল। একেবারে মগডালে।

এম্যা, ছি-ছি, এ তো বাদামের খোসা! বেড়ালছানার মুখময় ছড়িয়ে পড়েছে। ভাগ্যিস তার চোখে পড়েনি।

বেড়ালছানা লাফিয়ে ঝাঁকিয়ে বাদামের খোসা মুখ থেকে ঝেড়ে ফেলল। তারপর বেশ রেগে মেগে বলল:

“উঁঃ! খাচ্ছেন ভারী বাদাম, তার জন্যে এত বড়াই! বাদাম আমি খাই না। ছোলা-মটর খাই না। মুড়কি-মুড়ি খাই না। আমি মায়ের কাছে যাই। দুধ-ভাত খাই। মাছের মুড়ো খাই। তুই যত পারিস বাদাম চিবো। ধুস!” বলে কাঠবিড়ালিকে মুখ ভেঙিয়ে বেড়ালছানা সেখান থেকে চলে গেল।

সকল অধ্যায়
১.
কাক্কাবোক্কার বিয়ের পদ্য
২.
ইতিমিচিসাহেবের স্বপ্নের গাধা
৩.
কাক্কাবোক্কার টোক্কা ফক্কা
৪.
কাক্কাবোক্কার কান্নাকাটি
৫.
কাক্কাবোক্কার গানের জলসা
৬.
ইতিমিচিসাহেবের ছাগলি-মা
৭.
কাক্কাবোক্কার বায়নাক্কা
৮.
কাক্কাবোক্কার ঘাড়ে ভূত
৯.
পিঠ নিয়ে পিঠোপিঠি
১০.
কাক্কাবোক্কার কাণ্ড বটে
১১.
গল্পের নাম ফিক
১২.
কাক্কাবোক্কার ভুতুড়ে কাণ্ড
১৩.
ইতিমিচিসাহেবের ঘোড়া
১৪.
রাজা বাপ্পাহুহুর দাড়ি
১৫.
ছি ছি, এ কী কাণ্ড
১৬.
ইতিমিচিসাহেবের নাচানাচি কাণ্ড
১৭.
আচ্ছা আজব ইচ্ছে বটে
১৮.
রগড় নিয়ে কাণ্ড জবর
১৯.
ইতিমিচিসাহেবের আম্মা বিল্লি
২০.
ভগবানের হাত
২১.
তাক্কাদুম
২২.
চ্যাং ঝোলা
২৩.
স্বপ্ন দেখি রূপকথায়
২৪.
দস্যি সেই ছেলেটি
২৫.
পাখিমের আকাশ
২৬.
সোনা-ঝুরঝুর হাসি
২৭.
ছুম আর ছবি
২৮.
টুক্‌কির ফুলবাগানে
২৯.
চাঁদ আর পাপুই
৩০.
কালো বেড়ালের গুপ্তধন
৩১.
মায়ের সোনা ছেলে আফজল
৩২.
এক বুড়ো আর একটি পাখি
৩৩.
আজবদেশের নাচন-পাখি
৩৪.
একলা ডিঙি যখন একা
৩৫.
সেই যে আলো নীল
৩৬.
আকাশের দুই বন্ধু
৩৭.
তিনটে বুড়োর গল্প
৩৮.
ভেলকির নাম ঘোড়া
৩৯.
বন্ধুর নাম কাকের ছানা
৪০.
টুং-এর বন্ধু ঝুমঝুমি
৪১.
উড়ুক্কু ভূত
৪২.
ঘণ্টা বাজে টুংটাং
৪৩.
সময়ের জাদুখেলা
৪৪.
আমি শূন্য
৪৫.
কেউ জানে না কে চোর
৪৬.
একটি মেয়ের গল্প
৪৭.
শুধুই গল্প অদ্ভুতুড়ে
৪৮.
আলোর সন্ধান
৪৯.
সোনার ঘণ্টা
৫০.
সে এক ভেলকি
৫১.
সুন্দর যাকে বলি
৫২.
সর্দার
৫৩.
বেড়াল-বাঁদর-গাধা আর লোকটা
৫৪.
রুমঝুম নূপুরের রূপকথা
৫৫.
হো-বুড়োর খুদে বন্ধু
৫৬.
ভালবাসি পশুপাখি
৫৭.
বুক্কুটা তা বলে বোক্কা নয়
৫৮.
ছোট্ট পাখি আর কেঁদো বাঘ
৫৯.
যার যা সাজে না
৬০.
কানকাটা বাঘ
৬১.
একটা গান শেখাবে
৬২.
হ্যাংলা
৬৩.
কুক্কু আর হাঁসছানা
৬৪.
ছোট্ট পাখি টুনটুন
৬৫.
ছাগল-বুড়োর মামা
৬৬.
চাচার গানে নাচানাচি
৬৭.
একটা ছিল নেংটিছানা
৬৮.
টুক্কুর হাসি
৬৯.
হুম-চক্‌কা
৭০.
কাণ্ড বটে আজব
৭১.
পিড়িং-পিড়িং গঙ্গাফড়িং
৭২.
একটা বুদ্ধু নেংটি
৭৩.
বনমানুষ না ভালুক
৭৪.
তিড়িং-তিড়িং পাখিটা
৭৫.
কীসের থেকে কী
৭৬.
গল্পের রং রকম রকম
৭৭.
দাদু ভুলে গেছে
৭৮.
মুক্তো আছে কোন ঝিনুকে
৭৯.
নীল গোলাপের গল্প
৮০.
ডাকু
৮১.
অদ্ভুত সেই ঘোড়ার গল্প
৮২.
সে কী আনন্দের দিন
৮৩.
আলোর ভোর
৮৪.
রাংতা
৮৫.
মুক্তো-আঁকা
৮৬.
ইয়াসিনের চিঠি
৮৭.
গুড়িয়া
৮৮.
ছই একটি মেয়ের নাম
৮৯.
মায়ের জন্য একটি গোলাপ
৯০.
এই সুন্দর পৃথিবীতে
৯১.
স্বপ্নের ঝলমলে আলো
৯২.
সাগরের বন্ধু জানলা
৯৩.
রহস্য
৯৪.
ফিকির ভাবনা
৯৫.
নির্দোষ দুই বন্দি
৯৬.
রতন
৯৭.
রোদ ঝিলমিল
৯৮.
রহস্যের নাম সুন্দরী
৯৯.
ঝড়ের বনে আতঙ্ক
১০০.
কুয়াশার তিন সঙ্গী
১০১.
মায়ের ডাকা নামটি
১০২.
ভোরের আলো ফুটছে
১০৩.
ভালবাসার পৃথিবী
১০৪.
এ সময়ের গল্প
১০৫.
উত্তর পাইনি এখনও
১০৬.
অরুর বিকেল হারিয়ে গেল
১০৭.
মিষ্টি হাসির খেলনা
১০৮.
ম্যাজিক
১০৯.
বন্ধ ঘরে কান্নার শব্দ
১১০.
পাকা ধানের গন্ধ
১১১.
সেতুপারের বন্ধুরা
১১২.
সুলতান
১১৩.
তুসি জাদু জানে
১১৪.
তিত্তি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%