ইতিমিচিসাহেবের স্বপ্নের গাধা

শৈলেন ঘোষ

অবশেষে ইতিমিচিসাহেব স্বপ্ন দেখলেন। সাহেব জন্মে ইস্তক স্বপ্ন জিনিসটা কী, তা জানতেন না। স্বপ্ন পেটে খায়, না পিঠে সয়, সেসব নিয়ে তাঁর মাথা ঘামাবার সুযোগ পর্যন্ত আসেনি কখনও। অত কী, তিনি স্বপ্ন কথাটাই শোনেননি আজ পর্যন্ত। কেননা, তা হলে স্বপ্ন নিয়ে অন্তত কিঞ্চিৎ পরিমাণও তো গালগল্প শোনা যেত তাঁর মুখে! অথচ দ্যাখো, মানুষটা তো আর ছেলেমানুষ নয়। বেলা যে বয়ে গেছে অনেকখানি তা তাঁর মাথাখানি দেখলেই মালুম হয়ে যাবে। একেবারে সাফসুরত নিকোনো একটি টাক মাথার ওপর ঝকঝক করছে। এই এতখানি বয়েস অবধি মিস্টার ইতিমিচিসাহেব স্বপ্নের ফুরফুরে খোশবাই অথবা নাক ঘিনঘিনে গন্ধ কিছুই যে পাননি, একথা কেউ বিশ্বাস না করলেও, অবিশ্বাসই বা কে করবে! স্বপ্ন যে দেখে, সে-ই দেখে। কেউ না দেখলে, সে নিয়ে কে আর খেরোর খাতায় হিসেব কষতে বসে!

যাক, বিশ্বাস অবিশ্বাস নিয়ে অত তর্ক-বিতর্ক করে সময় নষ্ট করার কোনও মানে হয় না। বিশ্বাসে মিলায় ঢু-ঢু আর অবিশ্বাসে রসগোল্লা, এর সত্য-মিথ্যে নিয়ে বিচার করতে বসলে গঙ্গা বুজে খাল হয়ে গেলেও বিচার শেষ হবে না। তবে ইতিমিচিসাহেব শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন দেখছেন, এইটাই এখন আসল কথা। কিন্তু আজগুবি কাণ্ডটা হল, তিনি দেখলেন, দেখলেন এমন একটি স্বপ্ন যেটি নিয়ে তিনি পাঁচ-কান করতেও পারলেন না। একেই বলে বরাত। দুনিয়ার মানুষ নিত্যি কত রকমের না-ই স্বপ্ন দেখে। স্বপ্নে কেউ রাজা-উজির হচ্ছে। কেউ বা ঘুঘু হয়ে ঘরে চড়ে বেড়াচ্ছে। কেউ বা লাটবেলাট হয়ে গোঁফে তা দিচ্ছে। কেউ আকাশে উড়ছে। কেউ আইসক্রিম খাচ্ছে। কেউ ক্রিকেটে ছক্কা মারছে। কত বলব। অথচ দ্যাখো, ইতিমিচিসাহেব দেখলেন কিনা একটা গাধার স্বপ্ন। তা, গাধা অবধি ঠিক আছে। গাধা বলে তো আর তুমি তাকে ফেলনা বলতে পারো না। তুমিও যেমন কেষ্টর জীব, আহা, গাধাও তো কেষ্ট ছাড়া নয়! তোমারও যেমন হৃৎপিণ্ডটি দিনরাত বুকের মধ্যে ধুকধুকি বাজাচ্ছে, তেমনি গাধারও তো তা-ই। তোমারও যেমন ভাল-মন্দ খাবার দেখলে নোলা দিয়ে জল গড়ায়, তেমনি নোলা গাধারও তো গড়িয়ে পড়ে। তবে হ্যাঁ, তুমি যেমন হুট বলতেই গাড়ি-ঘোড়া চেপে মাসি, পিসি, মামাবাড়ি করছ, তা অবিশ্যি গাধা করে না। তা ছাড়া, অনেকে যেমন পরীক্ষার হলে এর ওর খাতায় উঁকি মেরে টুকলিফাই করে বছরের পর বছর এক ক্লাস থেকে লাফ মেরে অন্য ক্লাসে উতরে যাচ্ছে, গাধা অবিশ্যি তেমন পারে না। এমনকী, তুমি যেমন টিভি খুলে ‘টুই-ডুস’ ঘুষোঘুষির ছবি দেখছ, গাধা তেমন ছবি দেখে না। কিংবা ধরো চোর যেমন পকেট কেটে অন্যের ধন হাওয়া করে দিচ্ছে, গাধার তা বলে সে বুদ্ধি নেই। তারপর ধরো, খেলার মাঠে খেলতে খেলতে কিংবা খেলা দেখতে দেখতে অনেকে যেমন গোরুর মতো গুঁতিয়ে দিচ্ছে, তা অবিশ্যি গাধা করে না। কেষ্টর জীব হলে কী হবে, গাধা তো আর মানুষ নয়। মানুষ হলে সে তো জিনসের প্যান্ট পরে আর ব্যাগি গায়ে চড়িয়ে মানুষেরই মতো মেকি সাহেব সেজে মেজাজ দেখাত। তাই না?

যাক গে বাবা, কথা বাড়ালে কথা বেড়েই যাবে। আসল কথাটাই চাপা পড়ে যাবে। আসল কথা মানে সেই স্বপ্নের কথা, গাধার স্বপ্ন। হয়েছে কী, সেদিন এমনিতেই শুতে শুতে ইতিমিচিসাহেবের অনেক রাত হয়ে গেছল। অনেক রাত অবধি এপাশ ওপাশ করেছেন ইতিমিচিসাহেব শুয়ে শুয়ে। যখন দেখলেন চোখে ঘুম আসছে না, তখন ইয়া লম্বা একটা নিশ্বাস ছেড়ে উঠে বসেছেন। মাথার বালিশ পেটে নিয়ে খামচা-খামচি করেছেন। ধাঁই-ধপাস করে পা ছুড়েছেন। বিদিকিচ্ছিরি মুখ করে মাথা ঝাঁকিয়েছেন। তারপর বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে ঘরের মেঝেয় বৈঠক মেরেছেন। বৈঠক মেরে হাঁপিয়ে উঠতেই মেঝের ওপর চিৎ হয়ে শুয়ে পড়েছেন। আকাশে ঠ্যাং উঁচিয়ে তুড়তুড়ি কেটেছেন। শেষে কিছু না পেয়ে ছোট্ট আয়নাটার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মুখখানা দেখতে দেখতে ভেংচি কেটে নিজেকেই গাল পেড়েছেন, “ব্যাটা গাধা।”

ব্যাস! ঠিক সেই সময়ে টুপুস!

এই রে ইতিমিচিসাহেবের মাথার ওপর একটা টিকটিকি করে দিল!

কী করে দিল?

এঃ!

ইতিমিচিসাহেব তো রেগে কাঁই। মাথায় হাত দিয়ে তিনি রাগে ঠকঠক করে কাঁপতে কাঁপতে চিৎকার করে উঠলেন, “ইউ ন্যাস্টি টিকটিক।”

তিনি সাহেব বলে সাহেব, খাঁটি দিশিসাহেব। শেষে কিনা তারই মাথায় একটা টিকটিকি ছিঃ! মেরেই ফেলব! ব্যাটা টিকটিকি তোর একদিন কী, আমার একদিন! রাতের অন্ধকারে তিনি নিজের বন্ধ ঘরে টিকটিকির সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু করে দিলেন। এই তিনি হাত ছোড়েন তো, ওই তিনি ঠ্যাং মারেন। এই তিনি খেঁকিয়ে ওঠেন তো, ওই তিনি গাঁকিয়ে কাশেন। আর টিকটিকিটা একবার এদিকে ছোটে আর একবার ওদিকে কাটে। মানে, ঘরের সিলিং-এর ওপর, দেওয়ালের গায়ে টিকটিকির সঙ্গে ইতিমিচিসাহেবের আকাশ-যুদ্ধের পাঁয়তাড়া শুরু হয়ে গেল।

যতই হোক, টিকটিকি সে টিকটিকিই। হোক না সে-ও কেষ্টর জীব। কিন্তু তবুও সে কখনও মানুষের সঙ্গে পারে! তাল বুঝে এক ফাঁকে সে ব্যাটা যখন গর্তের খাঁজে মুখটি ঢুকিয়েছে, ইতিমিচিসাহেব অমনি ধাঁই করে একটা ছেঁড়া পাতার খাতা ছুড়ে দিয়েছে তার গায়ে। টিকটিকি গর্তের ভেতর সেঁদিয়ে পড়ল ঠিকই, কিন্তু খাতার ঘায়ে তার ল্যাজটি টুস করে খসে পড়ল।

কিন্তু এই-ই-ই!

কী-ই-ই?

খসা-ল্যাজটি যে সাহেবের কানের ভেতর ছিটকে পড়ে আটকে গেল! আটকে গিয়ে তিড়িং তিড়িং নাচতে লাগল!

ব্যাস! সাহেবের কানে লেগে গেছে সুড়সুড়ি। তিনি খিলখিলিয়ে হেসে ওঠেন! হাসতে হাসতেই তিনি মাথা ঝাঁকিয়ে দাপাতে লাগলেন। তা, কানের গর্ত, সে আর কতটুকু। দাপাদাপির ঠেলায় খসা ল্যাজটি টপাস করে গর্ত থেকে সিধে ঘরের মেঝেয় গড়িয়ে পড়ল। অমনি সঙ্গে সঙ্গে ইতিমিচিসাহেবের হাসিও থমকে গেল। গম্ভীর মুখে ছেঁড়া ল্যাজটার দিকে চোখ টেরিয়ে দেখতে দেখতে তিনি চোখ ফেরালেন ল্যাজ খসা টিকটিকিটার দিকে। আচমকা তিনি ধমকে উঠলেন, “ইউ উগুর-মাগুর-ম্যাট ফিসফিস ইস্টুপিট! তোর পেছনে ছুঁচো বাজি ছেড়ে দেব।” বলে তিনি গজরাতে লাগলেন। গজরাতে গজরাতে কলসি থেকে জল গড়িয়ে মুখে-চোখে কানে ঝাপটা মেরে আবার শুয়ে পড়লেন।

এবার তাঁকে এপাশ ওপাশ করতে হল না। ধপাস করে শুয়ে পড়তেই তিনি ফুসুর ফুসুর করে নাক ডাকাতে শুরু করে দিলেন। ফুসুর ফুসুর করতে করতেই তিনি ঘুমে ন্যাতা হয়ে গেলেন। নেতিয়ে নেতিয়ে তিনি আচমকা রেলগাড়ির সিঁটির মতো সিঁ-ই-ই-ই করে ফুঁকে উঠলেন। তারপর ঘুমের ঘোরেই তিনি কু-ঝিক-ঝিক করতে করতে রেলগাড়ি ছোটাতে লাগলেন। একটু ছুটিয়েই আবার নির্জীব মেরে গেলেন। বেশিক্ষণ অবিশ্যি নির্জীব থাকলেন না। একটু পরেই তাঁর ঘনঘন নিশ্বাস পড়তে লাগল। তিনি যেন দেখতে পেলেন, টিকটিকির খসে-পড়া সেই ল্যাজটা তিড়িং বিড়িং নাচতে নাচতে হঠাৎ একটা গাধা হয়ে গেল। গাধাটাও ধাই ধপাধপ নাচছে আর ঘরের ভেতর চরকি খাচ্ছে। ঘুমের ঘোরে ইতিমিচিসাহেব আঁতকে উঠে গোঙাতে লাগলেন এ্যাঁ-এ্যাঁ! ঠিক সেই সময়ে গাধাটাও ‘কাংকু কাংকু’ বলে আদর করে ইতিমিচিসাহেবের দাড়িতে নিজের দাড়ি ঘষতে লাগল।

আরে! আরে! এ কীরে! এ যে বড্ড আরাম লাগছে ইতিমিচিসাহেবের। ইতিমিচিসাহেব আরামে গদগদিয়ে গাধার গালটা টিপে ফোঁপাতে লাগলেন, “দে বাবা, আর একটু দে!”

বলতে-না-বলতেই, গাধাটা দাড়ি ছেড়ে ইতিমিচিসাহেবের গাল চাটতে শুরু করে দিল। ইস, গাধার মুখে গেধো গেধো গন্ধ! বয়েই গেছে! ইতিমিচিসাহেব গাধার গলাটি জড়িয়ে সাদা বাংলায় জিজ্ঞেস করলেন, “তুই কার গাধা রে?”

গাধাটা হেঁদো গলায় গ্যাংকু গ্যাংকু করে চেঁচিয়ে উঠে বলল, “কার আবার তোমার। তুমি আমার আংকুল।”

ইতিমিচিসাহেব খুশিতে ডগমগিয়ে বলে উঠল, “বাবা ডাংকু, আংকুল কী রে?”

গাধা বলল, “সে কী, জানো না? আমি যেমন ডাংকু গাধা, তেমন আংকুল হল কাংকু! মানে বাবার ছোট ভাই।” বলেই গাধাটা ইতিমিচিসাহেবের বুকের ওপর লুটিয়ে পড়ে “কাংকু কাংকু” করে আহ্লাদ করতে লাগল। আর ইতিমিচিসাহেব আহ্লাদের ঠেলায় ফিকফিক করে হাসতে লাগলেন।

আহ্লাদ করতে করতে হঠাৎ ভূত দেখলে মানুষ যেমন চমকে ওঠে, গাধাটা চমকে উঠে থমকে গেল। আচমকা জিজ্ঞেস করে বসল, “কাংকু, কাংকু তোমার মাথায় অত বড় টাংকু কেন?”

ইতিমিচিসাহেব থতমত খেয়ে গেলেন। কী বলবেন, কী না বলবেন, ভাবতে ভাবতে তিনি বালিশের নীচে টেকো মাথাটা লুকিয়ে ফেলার জন্যে আঁকপাঁক করতে লাগলেন। কিন্তু গাধাটা এমন ফিচকে, ফট করে বলে বসল, “আর বালিশ চাপা দিলে কী হবে, আমি দেখে ফেলেছি। ছিঃ?”

ইতিমিচিসাহেব তো লজ্জায় একেবারে আধখানা হয়ে গেলেন। ইস, ইস, শেষকালে একটা গাধা তাঁকে এমন করে ছিঃ করে দিল। হায় রে, এই সময়ে যদি টুপিটাও মাথায় থাকত!

তিনি ধড়ফড় করে উঠে পড়লেন।

“কাংকু, কাংকু উঠলে কেন?” গাধাটা ব্যস্ত হয়ে জিজ্ঞেস করল।

ইতিমিচিসাহেব অভিমানে মুখখানা গোমড়া করে বললেন, “নাঃ আমি তোর সঙ্গে খেলব না। তুই আমাকে ছিঃ বললি কেন?”

গাধাটা সঙ্গে সঙ্গে হেসে উঠে বলল, “ও হরিং, তাই বুঝি রাগ করিং। আমি তো তোমায় এমনি এমনি বললুম। এমনি এমনি বললে আবার, কেউ বুঝি অমনি করে রাগ করে। ঠিক আছে রাগ কোরো না, আমার পিঠে বসো, আমি ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।”

“কীসের ব্যবস্থা?” ইতিমিচিসাহেব জিজ্ঞেস করলেন।

“তোমার টাংকুর ব্যবস্থা।” উত্তর দিল গাধা।

“মানে?”

“মানে তোমার মাথায় আর টাংকু থাকবে না; চুল গজাবে।”

ইতিমিচিসাহেবের থমথমে মুখখানা চোখের পলকে ঝলমল করে উঠল। তিনি ঝলমল মুখে অবাক দুটো চোখ ড্যাবড্যাবিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “কী রকম? কী রকম?”

গাধা রহস্য-রহস্য গলায় বলল, “সে একরকম। এখন বলব না। এখন তুমি আমার পিঠে বসো। চলো আমার সঙ্গে। তারপর দেখবে ভেলকি কাকে বলে।”

ইতিমিচিসাহেব বললেন, “সত্যি?”

গাধা বলল, “নিশ্চয়ই।”

অমনই সঙ্গে সঙ্গে ইতিমিচিসাহেব আহ্লাদে আটখানা হয়ে গাধার পিঠে বসে পড়ল। গাধাও অমনই ইতিমিচিসাহেবকে পিঠে নিয়ে ঘরের ভেতর থেকে রাস্তায় নেমে ঠুক-ঠাক, ঠুক-ঠাক করে হাঁটতে লাগল। গাধার পিঠে টেকো মাথায় ইতিমিচিসাহেবকে দেখতে যা লাগছে না, দারুণ।

ইতিমিচিসাহেব খুশি-খুশি গলায় জিজ্ঞেস করলেন, “বাবা ডাংকু, কোন দিকে যাবি বাবা?”

গাধা বলল, “কাংকু, একেবারে শেষদিকে।”

“শেষদিকটা কোন দিকে বাবা?”

“যেদিকে জন্মের মতো কম্ম শেষ।”

ইতিমিচিসাহেব গাধার কথা শুনে তার কানে একটা ছোট্ট টুসকি মেরে, বলল, “ধ্যাত, তুই বড় ইয়ে।”

বলতে না-বলতেই কোথাও কিছু নেই রাস্তার কোনদিক থেকে যে একপাল কুকুর ঘেউ ঘেউ করে গাধাটার দিকে তেড়ে এল, বোঝাই গেল না। ব্যাস! গাধার তো ও কম্ম সারা! সে মারল ছুট।

গাধা ছুটছে।

কুকুরও ছুটছে।

গাধাও ডাকছে ঘ্যাংকু, ঘ্যাংকু।

কুকুরও হাঁকছে ঘেউ-ঘেউ, ঘেউ-ঘেউ।

ইতিমিচিসাহেবের প্রাণ যায় রে বাবা! তিনি চেঁচান, “থামরে ডাংকু, থামরে ডাংকু!”

আর থামে! কুকুরের তাড়া খেয়ে ডাংকু তখন আংকুডাংকু করতে করতে এমন লম্ফ দিল, যে ইতিমিচিসাহেব গাধার পিঠ থেকে একেবারে মাটির ওপর ধপাস। উ-হু-হু-হু!

যাঃ! ইতিমিচিসাহেবের ঘুম ভেঙে গেল। ডিগবাজি খেয়েছেন, সত্যিই ডিগবাজি, স্বপ্ন দেখতে দেখতে খাট থেকে একেবারে ঘরের মেঝে! কোথায় গাধা আর কোথায় কী! তিনি মুখখানা হাঁদা করে এদিক ওদিক জুলুক জলুক দেখতে লাগলেন আর ভাবতে লাগলেন, আমি তো আচ্ছা গাধা!

তারপর তিনি উঠে দাঁড়ালেন। ঘরের জানলার ধারে দাঁড়িয়ে উঁকি মারলেন। দেখলেন সকাল হয়ে গেছে। এক ঝাঁক কাক একটা টিকটিকির ল্যাজ নিয়ে ঝগড়া করছে। কী ক্যারকেরে গলা রে বাবা! ধুত!

সকল অধ্যায়
১.
কাক্কাবোক্কার বিয়ের পদ্য
২.
ইতিমিচিসাহেবের স্বপ্নের গাধা
৩.
কাক্কাবোক্কার টোক্কা ফক্কা
৪.
কাক্কাবোক্কার কান্নাকাটি
৫.
কাক্কাবোক্কার গানের জলসা
৬.
ইতিমিচিসাহেবের ছাগলি-মা
৭.
কাক্কাবোক্কার বায়নাক্কা
৮.
কাক্কাবোক্কার ঘাড়ে ভূত
৯.
পিঠ নিয়ে পিঠোপিঠি
১০.
কাক্কাবোক্কার কাণ্ড বটে
১১.
গল্পের নাম ফিক
১২.
কাক্কাবোক্কার ভুতুড়ে কাণ্ড
১৩.
ইতিমিচিসাহেবের ঘোড়া
১৪.
রাজা বাপ্পাহুহুর দাড়ি
১৫.
ছি ছি, এ কী কাণ্ড
১৬.
ইতিমিচিসাহেবের নাচানাচি কাণ্ড
১৭.
আচ্ছা আজব ইচ্ছে বটে
১৮.
রগড় নিয়ে কাণ্ড জবর
১৯.
ইতিমিচিসাহেবের আম্মা বিল্লি
২০.
ভগবানের হাত
২১.
তাক্কাদুম
২২.
চ্যাং ঝোলা
২৩.
স্বপ্ন দেখি রূপকথায়
২৪.
দস্যি সেই ছেলেটি
২৫.
পাখিমের আকাশ
২৬.
সোনা-ঝুরঝুর হাসি
২৭.
ছুম আর ছবি
২৮.
টুক্‌কির ফুলবাগানে
২৯.
চাঁদ আর পাপুই
৩০.
কালো বেড়ালের গুপ্তধন
৩১.
মায়ের সোনা ছেলে আফজল
৩২.
এক বুড়ো আর একটি পাখি
৩৩.
আজবদেশের নাচন-পাখি
৩৪.
একলা ডিঙি যখন একা
৩৫.
সেই যে আলো নীল
৩৬.
আকাশের দুই বন্ধু
৩৭.
তিনটে বুড়োর গল্প
৩৮.
ভেলকির নাম ঘোড়া
৩৯.
বন্ধুর নাম কাকের ছানা
৪০.
টুং-এর বন্ধু ঝুমঝুমি
৪১.
উড়ুক্কু ভূত
৪২.
ঘণ্টা বাজে টুংটাং
৪৩.
সময়ের জাদুখেলা
৪৪.
আমি শূন্য
৪৫.
কেউ জানে না কে চোর
৪৬.
একটি মেয়ের গল্প
৪৭.
শুধুই গল্প অদ্ভুতুড়ে
৪৮.
আলোর সন্ধান
৪৯.
সোনার ঘণ্টা
৫০.
সে এক ভেলকি
৫১.
সুন্দর যাকে বলি
৫২.
সর্দার
৫৩.
বেড়াল-বাঁদর-গাধা আর লোকটা
৫৪.
রুমঝুম নূপুরের রূপকথা
৫৫.
হো-বুড়োর খুদে বন্ধু
৫৬.
ভালবাসি পশুপাখি
৫৭.
বুক্কুটা তা বলে বোক্কা নয়
৫৮.
ছোট্ট পাখি আর কেঁদো বাঘ
৫৯.
যার যা সাজে না
৬০.
কানকাটা বাঘ
৬১.
একটা গান শেখাবে
৬২.
হ্যাংলা
৬৩.
কুক্কু আর হাঁসছানা
৬৪.
ছোট্ট পাখি টুনটুন
৬৫.
ছাগল-বুড়োর মামা
৬৬.
চাচার গানে নাচানাচি
৬৭.
একটা ছিল নেংটিছানা
৬৮.
টুক্কুর হাসি
৬৯.
হুম-চক্‌কা
৭০.
কাণ্ড বটে আজব
৭১.
পিড়িং-পিড়িং গঙ্গাফড়িং
৭২.
একটা বুদ্ধু নেংটি
৭৩.
বনমানুষ না ভালুক
৭৪.
তিড়িং-তিড়িং পাখিটা
৭৫.
কীসের থেকে কী
৭৬.
গল্পের রং রকম রকম
৭৭.
দাদু ভুলে গেছে
৭৮.
মুক্তো আছে কোন ঝিনুকে
৭৯.
নীল গোলাপের গল্প
৮০.
ডাকু
৮১.
অদ্ভুত সেই ঘোড়ার গল্প
৮২.
সে কী আনন্দের দিন
৮৩.
আলোর ভোর
৮৪.
রাংতা
৮৫.
মুক্তো-আঁকা
৮৬.
ইয়াসিনের চিঠি
৮৭.
গুড়িয়া
৮৮.
ছই একটি মেয়ের নাম
৮৯.
মায়ের জন্য একটি গোলাপ
৯০.
এই সুন্দর পৃথিবীতে
৯১.
স্বপ্নের ঝলমলে আলো
৯২.
সাগরের বন্ধু জানলা
৯৩.
রহস্য
৯৪.
ফিকির ভাবনা
৯৫.
নির্দোষ দুই বন্দি
৯৬.
রতন
৯৭.
রোদ ঝিলমিল
৯৮.
রহস্যের নাম সুন্দরী
৯৯.
ঝড়ের বনে আতঙ্ক
১০০.
কুয়াশার তিন সঙ্গী
১০১.
মায়ের ডাকা নামটি
১০২.
ভোরের আলো ফুটছে
১০৩.
ভালবাসার পৃথিবী
১০৪.
এ সময়ের গল্প
১০৫.
উত্তর পাইনি এখনও
১০৬.
অরুর বিকেল হারিয়ে গেল
১০৭.
মিষ্টি হাসির খেলনা
১০৮.
ম্যাজিক
১০৯.
বন্ধ ঘরে কান্নার শব্দ
১১০.
পাকা ধানের গন্ধ
১১১.
সেতুপারের বন্ধুরা
১১২.
সুলতান
১১৩.
তুসি জাদু জানে
১১৪.
তিত্তি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%